মরে গেলে মানুষ যদি তার যাপিত জীবনের সবকিছু সাথে নিয়ে যায় তাহলে তোফায়েল আহমদেও তাই করেছেন। নিয়ে গেছেন অন্যায়, অবিচার, অত্যাচার আর জুলুমের লম্বা এক অধ্যায়। জানিনা সাত ফুট লম্বা, আর ৩০ ইঞ্চি প্রস্থের কবর এ অধ্যায় চাপা দেয়ার জন্যে যথেষ্ট কিনা। ৩০ হাজার মৃত মানুষকে সমাহিত করতে মোট কত জায়গার প্রয়োজন হয় অংক কষে দেখা যাতে পারে। তবে এ হিসাব যে তোফায়েল আহমদের লাশ দাফনের জায়গা হতে ৩০ হাজার গুন বেশী হবে এ ব্যপারে কোন সন্দেহ নেই। জীবিত থাকলে তিনি হয়ত প্রতিবাদ করে বলতেন 'আরে মূর্খের দল, ৩০ হাজারের সবাইকে যে আমরা কবর দিয়েছি তা তোমাদের কে বলেছে!'
না, ৩০ হাজারের সবাইকে তেনারা কবর দেননি। হাজার হাজার লাশকে কুকুর আর শকুনের আহার বানিয়ে দাফন ছাড়াই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করতে বাধ্য করেছিলেন তোফায়েল গং। আজ সাড়ে তিন হাত মাটির নীচে শুয়ে তিনি কি সে সব হিসাব মেলানোর ফুসরৎ পাবেন?
মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কাফনে দাফন করলেই তোফায়েল গংদের পাপ সাদা হয়ে যাবেনা, এ পাপ শতাব্দির পর শতাব্দি তাড়া করে বেড়াবে মানুষের মনুষ্যবোধকে। আর কবরে শুয়ে তিনি অনন্তকালের শান্তিতে ঘুমাবেন এমনটা ভাবারও কোন কারণ নেই। এ লেখাটা যখন লিখছি হয়ত ফেরেশতারা আমল নামা হাতে নিয়ে তোফায়েলকে প্রশ্ন করা শুরু করে দিয়েছেন।
বিদায় দুই সহস্রাব্দির অন্যতম কসাই তোফায়েল আহমেদ। এ পৃথিবীতে ফিরে আসার সুযোগ থাকলে যাতে আওয়ামী লীগার হয়ে না ফিরেন এমন দোয়াই করছি আপনার জন্যে।