সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ মুহূর্তে পলাতক আওয়ামী ডাইনাস্টি যেন ভরা যৌবন পার করছে। হরেক কিসিমের আওয়ামী দাস হরেক রকম আওয়াজ তুলে এটাই বুঝাতে চাইছে তাদের সুসময় আসন্ন। বলছে সুসময় ফেরা হলে কিভাবে দুঃসময়ের প্রতিশোধ নিবে তার গল্প। একেক জন বলছে একেক রকমের গল্প। তবে সবার গল্পে একটা কমন গ্রাউন্ড আছে যা হল কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা। প্রতিশোধ কতটা কঠিন ও ভয়াবহ হবে ইনিয়ে বিনিয়ে রং লাগিয়ে তার চিত্র আকার চেষ্টা করছে সবাই। এসব পড়তে গিয়ে ছোটবেলায় শোনা একটা গল্পের কথা মনে পড়ে গেল...
রমনার ভাই সমনা।
সমনার গায়ে অফুরন্ত শক্তি। এতই শক্তি যে তার দাপট দেখাতে সে গ্রামে-গঞ্জে খালি গায়ে চলাফেরা করে। যাকে খুশি তাকে মারধর করে। রাস্তায় কুকুরদেরও ছাড় দেয়না।
তো একদিন সমনা গেল পাশের গ্রামে। তার শক্তির জোয়ার এতই প্রচণ্ড ছিল যার কারণে ঐ গ্রামে গিয়েও সে হাঙ্গামায় জড়িয়ে গেল। গ্রামবাসী বা ছাড়বে কেন! তারা সবাই মিলে তাকে আটকে ফেলল।
'সাহস থাকলে আমার গায়ে হাত উঠা' গর্জন করে উঠল রমনার ভাই সমনা।
গ্রামবাসীদের একজন এসে প্রচণ্ড একটা থাপ্পড় মারল সমনার গালে। তাতেও দমানো গেলনা সমনাকে।
'মায়ের পুত হয়ে থাকলে আরেক বার গায়ে হাত দিয়ে দেখ' - সমনার গলার স্বর আরও উঁচুতে উঠে গেল।
এবার অন্য একজন এসে সমনার পাছা বরাবর কষে একটা লাথি মারল।
ক্যোঁৎ করে উঠল উদাম শরীরের সমনা।
'সাবধান করছি তোদের, দুইবার হাত তুলেছিস তৃতীয়বার হাত তুলে দেখ কি হয়' - এ যাত্রায় কিছুটা নরম শোনালো সমনার গলার আওয়াজ।
গ্রামবাসীদের তৃতীয় একজন এস ছো মেরে খুলে নিল সমনার পরনের লুঙ্গিটা। বীচি বরাবর ফ্লাইং কিক মেরে মাটিতে ফেলে দিল তাকে।
ফুল নেংটা হয়ে সমনা উঠে দাঁড়াল। লুঙ্গির কথা ভুলে গিয়ে ভো করে দৌড় দিল। গ্রামের পথ দিয়ে নেংটা হয়ে দৌড়চ্ছে আর চীৎকার করছে ... সাহস থাকলে আসিস আমাদের গ্রামে।
নিজ গ্রামে পা রাখার পর একদল দুষ্টু বালক তার পিছু নিল। কারও হাতে লাঠি, কারও হাতে বদনা...ধর ধর বলে চেঁচাচ্ছে সবাই। নেংটা সমনাকে তার নিজ গ্রামের বালকেরা তাড়া করে নদী পর্যন্ত নিয়ে গেল।
সমনা সাতরে নদী পাড় হয়ে সেই যে কোথায় গেল তার খোজ আর কেউ কোনদিন পেলনা!