বাংলাদেশ বিক্রি!

Submitted by WatchDog on Tuesday, June 16, 2026

আওয়ামী দলদাসদের কান্নাকাটি না হয় বুঝলাম কারণ সাজানো সংসার তাদের ভেঙ্গে গেছে। যে বাগানে পাখিরা গান গাইতো, কোকিলের দল কুহু কুহু তানে বসন্ত আগমনী বার্তা দিতো সে বাগান এখন সাহারা মরুভূমি। কলিকাতার অলিগলিতে ঘুরতে গিয়ে তারা ক্লান্ত, শ্রান্ত, পকেট শূন্য। সংগত কারণে তাদের কাছে ইউনুস কোন মনুষ্য নাম না, সাক্ষাৎ মা কালি। দিন-রাত ইউনুস গিবত এখন তাদের দৈনন্দিন কাজ। কিন্তু কুড়িয়ে পাওয়া ক্ষমতার ভোক্তার দল কেন ইউনুসকে নিয়ে গিবত করে সেটা বুঝতে কিছুটা অসুবিধা হয়। স্বপ্নে পাওয়া তাবিজের মত ক্ষমতাও দলটার জন্যে এক অর্থে অলৌকিক কিছু পাওয়া, যে পাওয়ার জন্যে কেউ প্রস্তুত ছিলনা।

হ্যাঁ, ২৪'এর গণঅভ্যুত্থানে দেশের সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিল যার কাতারে বিএনপির অনেক নীরব সমর্থক ছিল। কিন্তু সে আন্দোলনে মির্জা ফখরুল, মির্জা আব্বাস, আমির খসরুদের কেউ যে জড়িত ছিলেন না তা তারা নিজেরাই পরিষ্কার করেছিলেন। হাসনাত আবদুল্লাহ, নাহিদ আর 'বেয়াদব' পাটোয়ারির দলই সামনে হতে নেতৃত্ব দিয়েছিল হাসিনা হটানোর আন্দোলনে। এবং এই তারাই প্যারিস হতে মোহম্মদ ইউনুসকে ডেকে এনে সরকার প্রধানের গদিতে বসিয়েছিল। এখানে আমেরিকার কাছে দেশ বিক্রির পুরানো বস্তাপচা ন্যারেটিভ দিয়ে ইউনুস গংদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করার কোন অধিকার নেই 'আই হ্যাভ এ প্ল্যান' প্রবর্তকদের। বরং দীর্ঘ ১৭ বছর হাসিনার চামচামি করা বিএনপির প্রায় শতভাগ কেন্দ্রীয় নেতাদের সকাল বিকাল পূজা দেয়া উচিত যাদের হাত ধরে এই বিকেলে ভোর ফুল পাওয়া।

বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় আওয়ামী ছ্যাঁচোড়দের পাশাপাশি অনেক বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী পণ্ডিতদের কলমে দেখছি সমালোচনা। বলছেন আমেরিকার কাছে দেশ বিক্রির মূল্য হিসাবে আমেরিকা জনাব খলিলকে সভাপতি বানিয়েছে। এখানে গিভ এন্ড টেইক জড়িত।
এখানে একটা জিনিস পরিষ্কার না করলেই নয়। এক বছরের জন্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হওয়া অনেকটাই অর্নামেন্টাল। এই এক বছর এই সংস্থার যত সভা হবে তার সভাপতিত্ব করবেন আমাদের খলিলুর রহমান। ডাল নাই তলোয়ার নাই নিধিরাম সর্দার মার্কা এই ওয়ার্ল্ড বডির কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার নূন্যতম ক্ষমতা থাকেনা একজন সভাপতির। এখানেও আমেরিকার কাছে দেশ বিক্রির ধান্ধা!

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়ার কারণে জাতিসংঘের সাথে আমেরিকার বৈরিতা এখন চরমে। ইউনিএসএফ, ইউনেস্কো সহ অনেক অঙ্গ সংগঠনের অর্থায়ন আমেরিকার বন্ধ করে দিয়েছে। এমন এক মুহূর্তে বাংলাদেশের হয়ে সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদের জন্যে নাক গলাবে এমন সম্ভাবনা একেবারে শূন্য। ইউনুস গং দেশ বিক্রি করতে চাইলে আমেরিকাই বা কিনতে যাবে কেন?

বাংলাদেশের মূল্য কত? বিনিময় মূল্য ছাড়া এক দেশ অন্য দেশকে কিনতে যাবে কোন স্বার্থে? ভেনিজুয়েলার মত তেলের খনি? আফ্রিকার দেশ গুলোর মত হীরা মুক্তার ভাণ্ডার? কোন স্বার্থে বাংলাদেশের মত ১৮ কোটি মুসলমানের দেশে পা রাখবে ইয়াঙ্কিরা?
১৮৬৭ সালে আমেরিকার কাছে রুশরা নিজ দেশের একাংশ বিক্রি করেছিল। আলাস্কা বিক্রি করা তাদের জরুরি ছিল কারণ ক্রিমিয়ার যুদ্ধের পর রাশিয়ার নগদ অর্থের প্রয়োজন ছিল।
১৮০৩ সালে ফ্রান্সের নেপোলিয়ন বেনা পোর্ট যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১৫ মিলিয়ন ডলারে লুইজিয়ানা বিক্রি করে দেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট টমাস জেফারসন এই বিশাল লুইজিয়ানা কেনার জন্য তিনি ব্রিটিশ এবং ওলন্দাজ ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ নেন।
এক সময় আমেরিকার অন্যতম অঙ্গরাজ্য ফ্লোরিডার নিয়ন্ত্রণ ছিল স্পেনের হাতে। ১৮২১ সালে তারাও চাপের কাছে নতি স্বীকার করে ফ্লোরিডা ও ওরিগনকে তুলে দেয় আমেরিকার হাতে।
পুয়ের্তো রিকো ৪০০ বছর ধরে স্পেনের কলোনি ছিল। ১৮৯৮ সালে স্পেনীয়-মার্কিন যুদ্ধের পরে এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করা হলেও পুয়ের্তো রিকোকে অঙ্গরাজ্য হিসাবে স্বীকৃতি দেয়নি আমেরিকা। ৪০ লাখ বাসিন্দার জন্যে আমেরিকার একজন গভর্নর আছে। অনেকটা ডিফ্যাক্টো সম্পর্কে আছে তারা।
এখানে একটাই প্রশ্ন, কোন আগ্রহে বাংলাদেশকে কিনতে যাবে আমেরিকা? অনেকে বলেন সেন্ট মার্টিন দ্বীপের দিকে আমেরিকার চোখ। ওখানে সামরিক ঘাঁটি বানাতে চায় তারা। বিশেষজ্ঞদের মতে এই দ্বীপের দৈর্ঘ্য আমেরিকান যুদ্ধ বিমান উড্ডয়নের জন্যে যথেষ্ট না।

১৮ কোটি মানুষের লায়ালাবিলিটি নেয়ার জন্যে আমেরিকার পা রাখবে এ দেশে? ভিয়েতনাম, আফগানিস্তান, ইরাক, ইরান সহ পৃথিবীর দেশে দেশে ধোলাই খাওয়া আমেরিকা নতুন এক মুসলমান দেশে এসে নিজেদের মাথা গিলোটিনের নীচে রাখবে এতটা বোকা তারা না।
ব্যক্তি খলিলুর রহমানকে সভাপতি বানায়নি জাতিসংঘ, বানিয়েছে বাংলাদেশকে। হয়ত আঞ্চলিক কোটায় এটা সম্ভব হয়েছে। নিশ্চয় তা গৌরবের, কিন্তু এ পদের জন্যে দেশ বিক্রি করতে হয়েছে এসব কথা রাজনীতির মাঠে নয়, বরং হাইকোর্টের মাজারে গাঞ্জার আড্ডায় মানায়।

ভালো লাগলে শেয়ার করুন