জবাব চীনকেই দিতে হবে...
করোনা যখন থিতু হয়ে আসবে, মানুষ যখন ফিরে যাবে স্বাভাবিক জীবনে, কারও মনে কি প্রশ্ন জাগবেনা মানবতার কেন এই বিপর্যয়! কৌতূহল জাগবেনা চেষ্টা করলে কি ঠেকানো যেত না এই মহামারী! হয়ত এ নিয়ে অনেক আলোচনা, সমালোচনা, গবেষণা হবে।
করোনা যখন থিতু হয়ে আসবে, মানুষ যখন ফিরে যাবে স্বাভাবিক জীবনে, কারও মনে কি প্রশ্ন জাগবেনা মানবতার কেন এই বিপর্যয়! কৌতূহল জাগবেনা চেষ্টা করলে কি ঠেকানো যেত না এই মহামারী! হয়ত এ নিয়ে অনেক আলোচনা, সমালোচনা, গবেষণা হবে।
সব মহামারিই এক সময় বিদায় নেয়, এবং মানুষও ফিরে যায় তার স্বাভাবিক জীবনে। এমনটা হয়ে আসছে হাজার বছর ধরে। মানব সভ্যতার ধাপে ধাপে মহামারি এসেছিল এবং সামনে আরও আসবে। এ ধরণের মহামারী উলট পালট করে দেয় মানব সভ্যতা। উপড়ে ফেলে মানচিত্র।
আলীবাবা চল্লিশ চোরের গল্পের সাথে আমাদের সবার কমবেশি কিছু পরিচয় আছে। এক হাজার এক রাত্রির আরব্য উপন্যাসে এই গল্পের সংযোজন ছিল অভূতপূর্ব। পৃথিবীর দেশে দেশে এ গল্পের পরিচিতি আছে। আছে উপসংহার টানার সংস্কৃতি। বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনীতির গোটা প্রেক্ষাপটটাই দাঁড়িয়ে এই গল্পের ভিত্তির উপর। রাজনীতির মাঠ গরম করা প্রত্যেকটা চরিত্রকে আলীবাবা গল্পের বিভিন্ন চরিত্রের সাথে সহজেই মিলিয়ে দেয়া সম্ভব। বাড়িঘর, ঘটিবাটি
বিলাসিতায় বেড়ে না উঠলেও অভাবে বড় হইনি আমরা। চাহিদার কোনকিছুই অপূর্ণ থাকেনি আমাদের। ৬০'এর দশকে চলাচলের জন্য ব্যক্তিগত গাড়ি ছিল খুবই দুর্লভ। আমাদের ছিল। আব্বা যে বছর পার্লামেন্টের নির্বাচনে গেলেন ব্যবহারের জন্য দ্বিতীয় গাড়ির সংযোজন ছিল অনেকটা বিলাসিতা। যদিও তার আসল মালিক ছিল আমাদের জুটমিল। আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেলের আবিষ্কার তখন ধীরে ধীরে প্রবেশ করছে পৃথিবীর এ অঞ্চলে। ফোন কোম্পানির জোরালো আবেদনে সাড়া
সমাজ, সংসার তথা আন্ত-পারিবারিক ঘাত প্রতিঘাত তখনও ক্ষত-বিক্ষত করেনি আমাদের পরিবারকে। নয় ভাইবোন সাথে ফুফাতো ভাইবোনদের কেউ কেউ, জনসংখ্যার বিস্ফোরণ নিয়েই আমরা বেড়ে উঠেছি। সকাল হতেই চালু হয়ে যেত রান্নার মেশিন। ওখানে মার নেতৃত্বে দুই-তিন জোড়া অতিরিক্ত হাত সার্বক্ষনিকভাবে নিয়োজিত থাকতো আমাদের চাহিদা মেটাতে।
ছোটবেলার অনেককিছুই এখন আর মনে করতে পারিনা। ঝাপসা হয়ে গেছে স্মৃতি। ফিকে হয়ে যাচ্ছে বিচ্ছিন্ন অনেক ঘটনা। অথচ এই সেদিনও চাইলে ফিরে যেতে পারতাম ঝড়ের রাতে আম কুড়ানোর মহোৎসবে। পাড়ার আম্বির মার আম আর কেন্নার বাড়ির বরই গাছ সবার মত আমার কাছেও ছিল লোভের জিনিস।
গ্রীষ্মকালটায় পর্যটকে গিজ গিজ করে ইংলিশ রিভেয়েরার শহরগুলোতে। বিশেষকরে টর্কি ও পেইংগটনে। শরতের শুরুতে জনশূন্য শহরগুলোকে কেউ যদি ভুতের নগরী ভেবে ভুলকরে অন্যায় কিছু হবেনা। আক্ষরিক অর্থেই জীবন থেমে যায় এখানে। স্থানীয়রা বাদে পর্যটকদের কাউকে দেখা যায়না। অথচ পর্যটনই শহরগুলোর প্রাণ।
গোটা ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টকে ঢেলে সাজিয়েছে আমার কোম্পানী। ১২ জনের টীমকে ছেটে ২ জনে নামিয়ে এনেছে। গত ৬ মাস ধরে চলেছে এই নিধন পর্ব। শুক্রবার হলেই আতংকে থাকতো সবাই। এইবুঝি সমন এলো! হাতে ঘণ্টা খানেকের সময় দিয়ে বলতো, নিজের যা আছে গুছিয়ে সীমানার বাইরে যাও।
''এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়, এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়''...হেলাল হাফিজ ভাল কবি সন্দেহ নেই। তবে আমার শ্রেষ্ঠ সময়টায় আমি যেমন মিছিলে যাইনি, তেমনি যৌবনেও যেতে হয়নি যুদ্ধে। বরং যুদ্ধই আমার কাছে এসেছে এবং আমি সে যুদ্ধকেই আমার শ্রেষ্ঠ সময় হিসাবে দাবি করতে এতটুকু কুণ্ঠাবোধ করিনি।
ছেড়ে যাচ্ছি অস্ট্রেলিয়া। পিছুটানার মত এমন কোন স্মৃতি রেখে যাচ্ছিনা। অথচ কোথায় যেন একটা লুকানো কষ্ট, যার কোন স্বরলিপি খুঁজে পাচ্ছিলাম না। চাইলেও বুঝতে পারছিলামনা কষ্টটা কিসের। পাঁচ বছর আগে দেশটায় প্রথম যখন পা রেখেছিলাম বিশেষ কোন স্বপ্ন ছিলনা। ছিলনা চাওয়া পাওয়ার হিসাব মেলানোর কোন অংক।