Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

'তথ্য আছে, আ লীগ আবারো ক্ষমতায় আসবে।'

তথ্য আছে, আ লীগ আবারো ক্ষমতায় আসবে।
আ লীগকে আবার ক্ষমতায় আনুন, বাংলার চেহারা পালটে দেব।
বঙ্গবন্ধু, ভাসানি কিংবা সোহরাওয়ার্দী এলেও আওয়ামী লীগ নির্বাচনে পরাজয় এড়াতে পারবেনা।
Awami League - Bangladesh
উপরের ছবিটা আমার একমাত্র মেয়ে লিয়ার। বয়স সাত মাসের কিছু বেশি। জটিল পৃথিবীর কোন জটিলতাই তাকে এখন পর্যন্ত ছুতে পারেনি। আগুন ও পানির পার্থক্য বুঝার বয়স হয়েছে কিনা হয়ত সৃষ্টিকর্তা বলতে পারবেন। তবে খাবারের তাপমাত্রায় সামান্য হেরফের হলে সে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং চোখের পানি ও নাকের পানিতে একাকার হয়ে প্রতিবাদ জানায়। বাবা হিসাবে আমি যা বুঝার তা বুঝে নেই। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর একমাত্র পুত্র এখন সস্ত্রীক দেশে। এসেছেন দেশের ইফতার পলিটিক্সে অংশ নিয়ে রাজনীতির মাঠ গরম করতে। সোজা বাংলায়, প্রধানমন্ত্রী সন্তানকে ডেকে এনেছেন এবং আশা করছেন এ আগমন হয়ত আওয়ামী লীগের ডুবন্ত নৌকার পালে হাওয়া লাগাতে সক্ষম হবে। পুত্র নিজেই ঘোষনা দিয়েছেন প্রতিপক্ষের কথিত মিথ্যাচার ঠেকাতে বাধ্য হয়েছেন আসতে এবং কৌশল হিসাবে সামনের এক মাস মার ’আসমান’ সমান উন্নতির ফিরিস্তি জনগণের সামনে তুলে ধরবেন। দেশের ১৬ কোটি জনগণের প্রায় সবাইকে হয়ত নেতা-নেত্রীর সন্তানরা আমার মেয়ে লিয়ার মতই অবুঝ, নাদান ভেবে থাকবেন। গত চার বছর ধরে তারা যা দেখছে, শুনছে এবং পড়ছে তা বিদেশ হতে উড়ে আসা কল্পলোকের রাজপুত্রের এক মাসের বয়ানে ধুয়ে মুছে পবিত্র হয়ে যাবে, এমনটা ভেবে থাকলে হিসাবে কোথাও গোলমাল হচ্ছে। আমার সাত মাসের মেয়ে আহারে নরম গরমের তারতম্য ধরতে পারলে ৪২ বছর বয়স্ক একটা জাতিও তার প্লেটে রাজপুত্রদের পরিবেশন করা খাবারের পার্থক্য বুঝতে পারার কথা। প্রধানমন্ত্রী অথবা দেশের কোন রাজনীতিবিদের সন্তান-সন্ততি সমালোচনার টার্গেট হওয়ার কথা নয়। তাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে রসালাপও এক ধরণের অনধিকার ও অপ্রয়োজনীয় চর্চা। তবে আমাদের দেশের দুই নেত্রীর দুই সন্তানকে সামাজিক ও মানবিক ক্যাটাগরিতে ফেলে রেহাই দেয়ার কোন অবকাশ আছে বলে মনে হয়না। প্রথমত দুজনই রাজনীতিতে সক্রিয় এবং প্রধানমন্ত্রীর সন্তান তার মার কথিত আইটি বিষয়ক উপদেষ্টা। সরকারী কোষাগার হতে মাসিক ১৫ হাজার ডলারও উত্তোলন করে থাকেন। এসব বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীর যে কোন উপদেষ্টার যে কোন তথ্য সরকারী বক্তব্য হিসাবে সমান গুরুত্ব পাওয়ার কথা। যদি তাই হয় তাহলে আমাদের ধরে নিতে হবে জনাব সজীব ওয়াজেদ জয় সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টের ভিত্তিতেই দাবি করছেন তথ্য থাকার। কিন্তু একই ভাষনে স্ববিরোধী কিছু কথা বলে নিজের দাবিকে নিজেই প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেলেছেন। তিনি আহ্বান জানাচ্ছেন আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় আনতে। দল ক্ষমতায় আসছে এমন তথ্য যদি থেকেই থাকে তাহলে নতুন করে ক্ষমতায় আনার দাবি কিছুটা হলেও জাতিকে বিভ্রান্ত করবে। জনাব জয় হয়ত ভুলে গেছেন এটা ২০০৮-০৯ সাল নয়। এয়ারপোর্ট হতে সুধাসদন পর্যন্ত ফুলের পাপড়ি বিছানোর অধ্যায় পার হয়ে এসেছে জাতি। এটা ২০১৩ সাল। আওয়ামী লুটের ভরা বসন্ত এখন অনেকটাই ম্রিয়মাণ, প্রদীপের মত নিভু নিভু করছে ক্ষমতার তখত তাউস। দলের সব স্তরের নেতা-নেত্রীরা এখন নিজেদের লুটের মাল কি করে নিরাপদ করা যায় সে চেষ্টায় ব্যস্ত। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, বৃটেন, অস্ট্রেলিয়া সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সম্পদ পাচার করার মিছিলে নেমেছে লুটেরা বাহিনী। জনাব জয়ের ঘনিষ্ট আত্মীয়, আওয়ামী নেতা, দলের ১২ সদস্য বিশিষ্ট প্রেসিডিয়ামের সদস্য, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক, জনাব কাজী জাফরুল্লাহ বৃটিশ ভার্জিন আয়ল্যান্ডে নিজ নামে, স্রী ও সন্তানদের নামে ব্যবসা তালিকাবদ্ধ করেছেন। আওয়ামী অন্দর মহল হতে বলা হয় আদর্শের নিবেদিত এই সৈনিক কয়েক হাজার কোটি টাকার মালিক এবং নির্বাচনের রাতেই পালানোর সব রাস্তা পাঁকা করে রেখেছেন।

জনাব সজীব ওয়াজেদ জয়ের শিক্ষাগত যোগ্যতার তালিকাটা অস্বাভাবিক লম্বা। ভারতের নৈনিতলার সেন্ট যোশেফ কলেজ, তামিল নাডুর পালানি হিলস’এর কদাইকানাল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল। ব্যঙ্গালুর ইউনিভার্সিটি হতে কম্পিউটার সাইন্সে ব্যাচেলর ডিগ্রি, টেক্সাসের আর্লিংটন ইউনিভার্সিটি হতে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং, হার্ভার্ডের কেনেডি স্কুল অব গর্ভমেন্ট হতে পাবলিক রিলেসনস মাস্টার্স ডিগ্রি। কেবল পিএইচডিটা বাকি। তা করতে পারলে একাডেমিক শিক্ষার সবকটা সিড়ি ডিঙ্গানো শেষ হয়ে যেত। এত গুলো ডিগ্রি সহ একজন শিক্ষিত যুবকের বাংলাদেশের রাজনীতিতে পা রাখায় জাতি হিসাবে আমাদের আশান্বিত হওয়ার কথা। কিন্তু উচ্চ ডিগ্রিধারী এই প্রবাসী দেশে নেমেই যে ভাষন দিলেন তাতে আর যাই হোক রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় দেননি, বরং অদ্ভুত কথাবার্তা বলে এটাই প্রামাণ করেছেন আওয়ামী হরিলুট নেটওয়ার্কের তিনিও একজন সদস্য। অনেকে আমার সাথে দ্বিমত করবেন, দেশের প্রধানমন্ত্রীর সন্তান সিন্ডিকেটের একজন সাধারণ সদস্য হবেন তা কেবল অসম্ভবই নয়, অপমানজনকও বটে। অন্তত সদ্য সমাপ্ত বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট প্রকল্পের কারিগরী উপদেষ্টা নিয়োগের বিড প্রসেসে সে সব বিদেশি কোম্পানী অংশ নিয়েছিল তারা তাই বলবে। আইটি উপদেষ্টার অন্তরালে গোটা দেশের ভুবনেশ্বর হয়ে মার্কিন মুলুকে ধরাছোঁয়ার বাইরে বাস করছেন তিনি। এক এইচটি ইমামের হাত দিয়েই পাচার করেছেন হাজার কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রীর আরেক উপদেষ্টা জনাব ইমামের কন্যা মাসে দুবার করে নিউইয়র্ক-ঢাকা-নিউইয়র্ক করছেন এবং উঁচুমহলের নির্দেশে বিমানবন্দরের সবাইকে আন্ধা-কানা বানিয়ে অবাধে নিয়ে যাচ্ছেন যা নেওয়ার। অন্দর মহলে আলোচিত হয় সাংবাদিক সাগর-রুণি হত্যার পেছনের কারণও নাকি বড় অংকের পাচারের তথ্য প্রমাণ। প্রমাণ উদঘাটনের নেটওয়ার্কে জড়িত বাকিদেরও ইতিমধ্যে পাঠানো হয়েছে না ফেরার দেশে। যাদের মধ্যে অন্যতম সিলেটের ইলিয়াস আলী ও সৌদি কূটনীতিবিদ। সবটাই গসিপ, সত্যতার পক্ষে কোন প্রমাণ অথবা স্বাক্ষী নেই। বলা হয় প্রধানমন্ত্রী যে করেই হোক ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য বদ্ধপরিকর, কারণ এ যাত্রায় ক্ষমতা ফসকে গেলে যেসব তথ্য বেরিয়ে আসবে তা কেবল রাজনৈতিক কবরই নয়, শারীরিক কবরের রাস্তাও মসৃণ করতে পারে।

দলকে আবার ক্ষমতায় আনলে তিনি নাকি বাংলার চেহারা বদলে দেবেন। কথাটা বোধহয় একেবারে মিথ্যা বলেননি। আসলেই বদলে দেবেন। গেল সাড়ে চার বছরে তিনি অনেক কিছুই বদলে দিয়েছেন। ভার্জিনিয়ার সুরম্য প্রাসাদে বসে জাতিকে ঘড়ির কাটা ঘুরাতে বাধ্য করেছেন, আড়িয়াল বিলে জেএফকে এয়ারপোর্ট বানিয়ে বাংলাদেশকে বিশ্ব বিমান চলাচলের সেন্টার বানানোর অলীক, অসার স্বপ্ন গেলাতে বাধ্য করেছেন, দোয়েল নামক ল্যাপটপ চমকের আড়ালে শত শত কোটি টাকা লুটপাটের ব্লুপ্রিন্ট হজম করতে বাধ্য করেছেন। এই তিনিই শোনাচ্ছেন নতুন করে চেহারা বদলানোর কেচ্ছা। আওয়ামী কলেরায় জাতি এমনিতেই জর্জরিত। নতুন কোন মহামারী হজম করার মত শরীর ও স্বাস্থ্য নেই তাদের। তাই মাথায় ভাসানি টুপি আর পিতামহের কায়দায় আঙ্গুল উচিয়ে জনাব জয়ের এসব তত্ত্ব বানি আশার আলো নয়, বরং ভয় ঢুকিয়ে দেয় আমাদের অস্তিত্বে। এতগুলো নামি ডিগ্রি নিয়ে যে ব্যক্তি আজ পর্যন্ত একটা চাকরি যোগার করতে পারেনি, ১৫ কোটি জনসংখ্যার একটা জাতিকে বদলে দেয়ার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে অন্যায় কিছু হবে বলে মনে হয়না। জনাব জয়কে বোধহয় কেউ শেখায়নি মানুষের স্বাধীনতা কেবল তার ভৌগলিক স্বাধীনতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতাই যে কোন স্বাধীনতার শেষ গন্তব্য। ১৯৭১ সাল ছিল ভৌগলিক মুক্তির যুদ্ধ। সে যুদ্ধে গোলাম আজমরা ছিল রাজাকার, খুনি ও ধর্ষক, যার স্থায়িত্ব ছিল মাত্র নয় মাস। আমাদের অর্থনৈতিক মুক্তিযুদ্ধের বয়স ৪২ বছর। জনাব জয় গংরা হচ্ছেন এই ৪২ বছর স্থায়ী মুক্তিযুদ্ধের রাজাকার। আর এদের হাতেই ধর্ষিত হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা, অর্থনৈতিক মুক্তি। নয় মাসের অপরাধে গোলাম আজমদের ফাঁসিতে ঝুলানো গেলে, দশকের পর দশক ধরে যারা দেশকে লুটেপুটে চাটার মত খেয়ে কংকাল বানাচ্ছে তাদের দড়িতে ঝুলানোর দাবির ভেতরও যৌক্তিকতা আছে। সময় হলে নিশ্চয় উঠবে সে দাবি।

সময় এখন আওয়ামী লীগের নয়। পীর হাবিবুর রহমান যথার্থই বলেছেন, ভাসানি, সোহরাওয়ার্দী অথবা খোদ শেখ মুজিবর রহমান এলেও আওয়ামী লীগ নির্বাচনে পরাজয় এড়াতে পারবেনা। জনাব জয় যত দ্রুত সত্যটা উপলব্ধি করবেন ততই মঙ্গল, যেমন দলের জন্য তেমনি উনার ব্যক্তিগত জীবনে। বাংলাদেশে ক্ষমতার রাজনীতি করতে চাইলে দেশেই বাস করতে হবে। দেশের আলো বাতাসের সাথে পরিচিত হতে হবে। রাজনৈতিক খুন, গুম আর অন্তহীন ট্রাফিক জ্যামের ভেতর জীবন কাটাতে হবে। চুরি করলে তা-ও করতে হবে দেশে বসে। বিদেশি স্ত্রী নিয়ে হঠাৎ হঠাৎ উড়ে এসে তত্ত্ব বয়ান প্রসব করলে সে শিশু আলোর মুখ দেখবে না। দুনিয়াটা এখন খুব ছোট। মার্কিন দেশে বিনা চাকরিতে ১০ মিলিয়ন ডলারের স্থাবর সম্পত্তি বানালে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। এ প্রশ্নের যোগ্য জবাব না থাকলে রাজনীতিতে না আসায়ই শ্রেয়।

মার ক্ষমতার মোহের সহায়ক হতে চাইলে ২০১৪ নয়, বরং ২০২০ সালের দিকে চোখ ফেরানো উচিৎ বিশিষ্ট এই বৈজ্ঞানিকের।

Comments

নিউ ইয়র্কে যুবলীগের ইফতারে

নিউ ইয়র্কে যুবলীগের ইফতারে মারামারি

এক পর্যায়ে পুলিশের সহযোগিতায় ইফতারের টেবিলে বসা বিলুপ্ত কমিটির কর্মী-সমর্থকদের বের করে দেয়া হলে ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ করেন।

তাদের অভিযোগ, যুবলীগ কর্মীদের বের করে দিয়ে বিএনপি-জামাতের লোকজন নিয়ে ইফতার পার্টি করেছেন নতুন আহবায়ক তারিকুল হায়দার।

সংশ্লিষ্টরা জানান, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের কার্যকরী কমিটির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার দেড় বছর বাকি থাকতেই কেন্দ্র থেকে নতুন আহবায়ক কমিটির অনুমোদন দেয়ায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই সংগঠনের কর্মীদের মধ্যে বিরোধ চলছে।

এরইমধ্যে রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব আহমেদ ওয়াজেদের জন্মদিন উপলক্ষে নিউ ইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে ‘খাবার বাড়ি’ রেস্তোরাঁয় যুবলীগের ভেঙে দেয়া কার্যকরী কমিটির উদ্যোগে ইফতারের আয়োজন করা হয়। অন্যদিকে পাশেই পালকি পার্টি সেন্টারে ইফতার পার্টির আয়োজন করে নতুন আহবায়ক কমিটি।

স্থানীয় সময় বিকালে আহবায়ক কমিটির আহবায়কসহ জনা পাঁচেক সদস্য পালকি পার্টি সেন্টারে ঢোকার সময় আগের কমিটির সমর্থকদের রোষের মুখে পড়েন। এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ কর্মীরা আহবায়ক কমিটির সদস্যদের কিল-ঘুষি মারতে শুরু করেন বলে প্রতক্ষদর্শীরা জানান।

মারামারির মধ্যেই যুবলীগের সদস্য জামাল হুসেন তেড়ে যান আহবায়ক তারিকুল হায়দারের দিকে। নতুন কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক পদ দেয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে এক হাজার ডলার নিয়েও পদ না দেয়ায় তারিকুলকে মারতে যান তিনি। এ সময় আরো কজন ঝাঁপিয়ে পড়েন তারিকুলের উপর।

অবস্থা বেগতিক দেখে কেউ একজন পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ আসার পর তাদের সহায়তায় পার্টি সেন্টারে ঢোকেন তরিকুলসহ নতুন কমিটির নেতারা। এরপর ইফতারের ৭ মিনিট আগে তরিকুলের অনুরোধে ভেতরে অবস্থান নেয়া যুবলীগের অন্য পক্ষের নেতা-কর্মীদের কয়েকজনকে বের করে দেয় পুলিশ।
এ অবস্থায় ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা পালকি পার্টি সেন্টারের বাইরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন।

বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি মিসবাহ আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের প্রিয়নেতা সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিন পালনের জন্যে এখানে এসেছি। কিন্তু সে অনুষ্ঠানে বিঘ্ন সৃষ্টির জন্যে আহবায়ক কমিটি যে আচরণ করলো তাতে প্রবাসে যুবলীগের ভাবমূর্তিতে কালিমা লেপন করা হলো।

বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আলম বলেন, “যুবলীগের নেতা-কর্মীদের পুলিশ দিয়ে বের করে দেয়ার পর জামায়াত-শিবির আর বিএনপির লোকজন নিয়ে ইফতার পার্টি করল কথিত আহবায়ক কমিটি।

পরে ‘খাবার বাড়ি’ রেস্তোরাঁয় সজীব ওয়াজেদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে কেক কাটেন বিলুপ্ত কমিটির নেতাকর্মীরা। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে নতুন কমিটির আহবায়ক তারিকুল হায়দার চৌধুরী ইফতার পার্টিতে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের পরামর্শ অনুযায়ীই যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের কমিটি গত ২৩ জুন ভেঙে দেয়া হয়েছে।

এ সময় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা জয়নাল আবেদীন মারামারির ঘটনায় প্রতি ইংগিত করে হুমকি দেন, “মাস্তানির জবাব মাস্তানিতেই দেয়া হবে।’
http://bangla.bdnews24.com/bangladesh/article652317.bdnews

ছাত্রলীগতো পেটাবে?

মীর আবদুল আলীম ঃ সংবাদের শিরোনাম ‘হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ শিক্ষককে পেটাল ছাত্রলীগ। জুলাইয়ের শেষভাগে দিনাজপুরে তারা এমন ন্যক্কারজনক কাজটি করেছে। এ আর নতুন কী? শিক্ষকদের ছাত্রলীগই তো পেটাবে? এর আগে বহুবার তারা এহেন কাজ করেছে। ওই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অরুণ কান্তি রায়ের স্ত্রী কাব্যশ্রী পালকে সেকশন অফিসার পদে নিয়োগ না দেয়ায় তারা শিক্ষকদের ওপর এ হামলা চালায়। তাদের আরও একটি ঘটনা উল্লেখ করতে চাই এ লেখায়। চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা এক মহিলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করেছে। হুমকি দিয়ে বলেছে, তারা নাকি ওই লেডি ম্যাজিস্ট্রেটের হাত-পা ভেঙে এক্কেবারে তার হাতে ধরিয়ে দেবে। আর ছাত্রলীগের গুণধর নেতাকর্মীদের এমন হুমকি দানের ছবি পত্রিকায় ছাপাও হয়েছে। আমরা হতভাগ্য দেশবাসী তা চেয়ে চেয়ে দেখেছি। বেশি হতাশ হইনি; কারণ ঘটনাটি বিশ্বজিৎ খুনের চেয়ে বড় ঘটনা নয়। উচ্ছেদ কার্যক্রম থেকে বিরত রাখতে ওই লেডি ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রকাশে এ হুমকি দেয়া হয়েছে। আবার উচ্ছেদ অভিযানে নামলে মানসম্মান নিয়ে আর ফিরতে পারবেন না বলেও হুমকি দেয়া হয়েছে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, চশমার দোকান, মদের দোকান থেকে শুরু করে সর্বত্র ফেতœা-ফাসাদ করা, সাংবাদিক পেটানো, শিক্ষক পেটানো আর শ্লীলতাহানি ঘটিয়ে ছাত্রলীগ বারবারই প্রমাণ করছে, তারা বেশ পারঙ্গম। কিন্তু প্রশ্ন, তাদেন রোধ করা হচ্ছে না কেন?
বেপরোয়া ছাত্রলীগের লাগাম টেনে ধরতে পারছে না সরকার। ঐতিহ্যবাহী সংগঠনটির নাম শুনলে এখন মানুষ আঁতকে ওঠে। প্রায়ই নেতিবাচক খবরের শিরোনাম হচ্ছে সংগঠনটি। সংগঠনটির নেতাকর্মীদের সহিংসতায় ছাত্র, শিশু, সাংবাদিক, পুলিশসহ নিহত হয়েছে বহু লোক। গত সাড়ে ৪ বছরে অভ্যন্তরীণ কোন্দল, টেন্ডারবাজি, দখলদারিত্ব এবং প্রাধান্য বিস্তারে অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে ২ সহস্রাধিক। লাঞ্ছিত করা হয়েছে অগণিত শিক্ষক ও ছাত্রীকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের গায়ে হাত তোলা এমনকি এসিড নিক্ষেপের মতো ভয়ঙ্কর অপরাধের ঘটনাও ঘটিয়েছে সংগঠটির নেতারা। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, এসব ঘটনার কোনো বিচার হয় না। ছাত্রলীগের এক সময়ের নেতা ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না মনে করেন, বর্তমান সরকারের যা কিছু অর্জন তার সবই বিসর্জন দিয়েছে ছাত্রলীগ। জুলুম-অত্যাচারের কোন পর্যায়ে গেলে এক সময়ের নিজ দলীয় নেতা এমন কথা বলতে পারেন। বলা যায় মহাজোট সরকারের সাড়ে চার বছরের পুরো সময়জুড়েই বেসামাল ছাত্রলীগ। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ বিভিন্ন সময় উদ্যোগ নিয়েও নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি তাদের ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের। শেষ মুহূর্তে এসে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। নেতাকর্মীরা বেপরোয়া রূপে আবির্ভূত হলেও রাশ টেনে ধরতে পারছে না সরকার। এই সরকারের সাড়ে চার বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, জগন্নাথ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, হাজী দানেশ, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঁচ শতাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ২২ ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, শিবির নেতাকর্মী, সাধারণ শিক্ষার্থী ও মানুষ। প্রতিবারই এই সহিংসতার পেছনে কাজ করে কখনও চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি, কখনও আধিপত্য বিস্তার-ভর্তি বাণিজ্য, কিংবা দলীয় কোন্দল, পদ না-পাওয়া, খাবার টোকেন ও নারী। ছাত্রলীগ তা-বের সর্বশেষ বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে গত ২৫ জুন চট্টগ্রামে। চট্টগ্রাম রেলের দরপত্র নিয়ে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের গোলাগুলিতে শিশুসহ দু’জন নিহত হয়।
১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয় ছাত্রলীগ। লক্ষ্য ছিল শান্তি, শৃক্সখলা ও প্রগতির চাকা এগিয়ে নেয়া। ৬৪ বছর পর দেখা গেল, ভূতের মতো তারা কেবল পেছনের দিকেই হাঁটছে। আগের বছরের অগ্রগতি ধুলায় মিশিয়ে দিচ্ছে পরের বছরের নানা অপকর্ম। আগের মেয়াদের সব অর্জন ম্লান হয়ে যায় পরের মেয়াদের প্রবল মাস্তানিতে। এখন ছাত্রলীগের সন্ত্রাস-মাস্তানি নিয়ে যারা আফসোস করছেন, আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি, আগামী বছর তাদের সেই আক্ষেপ আর থাকবে না। কেননা, তখন সংগঠনটির সন্ত্রাস-লুটপাট বর্তমানকে অনেক গুণ ছাড়িয়ে যাবে। পাঠক তখন মনে মনে বলবেন, আহ! আগের বছরটি কত না ভালো ছিল! এ কথাও সত্য—৬ দফা, ১১ দফা, শিক্ষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন, সর্বোপরি মহান মুক্তিযুদ্ধে এই ছাত্রলীগের অমূল্য অবদান রয়েছে। দুর্ভাগ্যজনক যে অতীতের সেই গরিমা মুছে ফেলার জন্যই যেন সংগঠনটির বর্তমান নেতাকর্মীরা আদাজল খেয়ে নেমেছে খুন-ধর্ষণ-চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজিতে। যে ছাত্রলীগ ৬৪ বছর ধরে দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে, আজ সেই ছাত্রলীগ নানা কারণে প্রশ্নবিদ্ধ।
দেশের বিশেষ মুহূর্তগুলোতে ছাত্রলীগের ভূমিকা অনস্বীকার্য ছিল। কিন্তু সেই ছাত্রলীগ কই? কোথায় আজ বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া ছাত্রলীগ? তোফায়েল আহমেদদের ছাত্রলীগ এরই মধ্যে গুম হয়ে গেছে নাকি? ছাত্রলীগের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস কি কেবলই ইতিহাস্ত আজ আমরা এ কী দেখছি? রুয়েট, কুয়েট, রাবি, ঢাবি, জাবিতে শুধু নয়—ছাত্রলীগ আর ছাত্রলীগ নামধারীদের দৌরাত্ম্য সারা দেশেই। কীভাবে শিশু অপহরণ করে কোটিপতি হওয়া যায়, কীভাবে শিক্ষকদের মারধর করেও বুক ফুলিয়ে হাঁটা যায়। মানুষকে গরুর মতো পেটাচ্ছে এ সোনার ছেলেরা। শিক্ষক থেকে শুরু করে শিশুরা পর্যন্ত তাদের নির্যাতন থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। সংগঠনটির ছেলেরা সত্যিই সোনা দিয়ে গড়া! এমন সোনার (!) ছেলেরাই পারে শিক্ষকদের মেরে রক্তাক্ত করতে এবং তা এই সোনার দেশেই সম্ভব। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই টেন্ডারবাজি, দখলবাজি, চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তার, ফাও মদ না পেয়ে মদের বারে ভাংচুর, হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তারের ওপর হামলাসহ নানাভাবে বেপরোয়া হয়ে ওঠে ছাত্রলীগ। দেশব্যাপী তা-ব চলছে তো চলছেই। হেন অস্ত্র নেই যা তারা প্রদর্শন করে না। গোলাগুলি ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। নেপথ্যে সেই ছাত্রলীগের টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তার। এসব ঘটনায় অবশ্য ২-১ জনকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কার আগেও হয়েছে। কিন্তু থামানো যাচ্ছে কি ছাত্রলীগের এ বেপরোয়া গতি? ছাত্রলীগের ব্যাপ্তি ও ভয়াবহতায় ক্ষণে ক্ষণে মনের ভেতর একটি প্রশ্নই জাগে—ছাত্রলীগ কি সত্যিই অপ্রতিরোধ্য?
এ মুহূর্তে লাগাম টেনে ধরার বিকল্প নেই। বেপরোয়া ছাত্রলীগ কোনোভাবেই থামছে না। দেশজুড়ে তাদের সন্ত্রাসী তৎপরতা চলছে তো চলছেই। ক্ষমতার পড়ন্তবেলায় এসেও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সংগঠনের নেতাকর্মী কিংবা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ভর্তি ও নিয়োগ বাণিজ্য সর্বোপরি হত্যাসহ নানা ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে তাই নয়; নিজেদের মধ্যেও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে। ছাত্রলীগের ব্যাপ্তি ও ভয়াবহতায় ক্ষণে ক্ষণে মনের ভেতর একটি প্রশ্নই জাগে ছাত্রলীগ কেন এতটা বেপরোয়া? তারা কি প্রধানমন্ত্রীর চেয়েও ক্ষমতাধর? এমনতর প্রশ্ন জাগাটাই স্বাভাবিক। কারণ ছাত্রলীগ এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে, দেশের প্রধানমন্ত্রীরর হুমকি-ধমকিতেও এখন আর কাজ হচ্ছে না। ছাত্রলীগের দানবরূপী লাগামহীন পাগলা ঘোড়া ছুটছে তো ছুটছেই। বেপরোয়া ছাত্রলীগের কারণে সরকারি দলের বিপদ বাড়ছে। আর তাই অপ্রতিরোধ্য ছাত্রলীগকে সামাল দেয়া এখনই প্রয়োজন। সব ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে দেশব্যাপী ছাত্রলীগে শুদ্ধিকরণ অভিযান শুরু হোক, সরকারের কাছে এমনটিই প্রত্যাশা। আমারদেশ ।
লেখক : কলাম লেখক ও সম্পাদক, নিউজ-বাংলাদেশ ডটকম
http://www.amadershomoy1.com/content/2013/07/28/middle0794.htm

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla

JUST VIEWED

Last viewed: