Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

-A A +A

বন্দর খেকো নগরপিতা মহিউদ্দিন চৌধুরী উপাখ্যান....

Mohiuddin
লেখাটা সবার জন্যে নয়। বদহজম সহ গাত্রদাহের কারণ হতে পারে বিশেষ ক্যাটাগরির পাঠকদের। আমরা যারা বিশ্বাস করি তত্ত্বাবধায়ক আমলে দুদক নামের সংস্থাটির রুজু করা মামলার সবটাই আমাদের ফুলের মত পবিত্র রাজনীতিবিদদের সততা ও চরিত্র হননের উদ্দেশ্যে ছিলনা, তাদের জন্যে এ লেখা।

আওয়ামী লীগের হরতাল ম্যারাথনে বিএনপির পাশাপাশি গোটা বাংলাদেশ তখন স্থবির। দাপট আর প্রতিপত্তি জাহির করতে গিয়ে চট্টগ্রামের ’জনদরদি’ মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ঘোষনা দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর অচল করে দিয়েছিলেন। দেশের একমাত্র সমুদ্র বন্দর অচল করে গোটা জাতিকে ভাত আর পানিতে মারার নাম যদি রাজনীতি হয়ে থাকে জনাব চৌধুরী এ রাজনীতির জনক। ভোট চাইতে আবারও মাঠে নেমেছেন তিনি এবং শহরের জনগণকে শোনাচ্ছেন উন্নতির স্বর্গীয় বাণী। বন্দর আবরোধকালীন এ দেশের একটা শিশুরও যদি মৃত্যু হয়ে থাকে জনাব মেয়র পারবেন কি এর দায়িত্ব এড়াতে? সন্দেহ নেই তিনি আবারও নির্বাচিত হবেন। এক কাপ চা আর একটা আকিজ বিড়ির গণতান্ত্রিক রায় নিয়ে দাপিয়ে বেড়াবেন ক্ষমতার লাল ঘোড়া। কিন্তু তাতে কি মুছে ফেলা যাবে অতীত রেকর্ড? তত্ত্বাবধায়ক আমলের পুরানো রেকর্ড ঘাঁটতে গিয়ে চোখ আটকে গেল মেয়রের ব্যাক্তিগত কিছু রেকর্ডে। পত্রিকার খবরে প্রকাশ মেয়র গ্রেফতার হওয়ার পর উনার স্ত্রী হাসিনা মহিউদ্দিন ব্যাঘ্রের ক্ষিপ্রতায় বেসরকারী ব্যাংক হতে কয়েক কোটি টাকা সরিয়ে ফেলেন নিরাপদ আশ্রয়ে। আরও প্রকাশ, ফুলের মতন পবিত্র এই নেতার ব্যাংককের প্রাণকেন্দ্র সুকুমভিত এলাকায় রয়েগেছে হোটেল ব্যবসা, ছেলেদের নামে আছে সুইস ব্যাংক সহ বেশ কটা দেশে ব্যাংক একাউন্ট যার মূল অপারেটর মেয়র নিজে। ২০০৭ সালের মধ্যভাগে মেয়রের মৃত্যু ছিল দিন গোনার ব্যাপার, অন্তত এমনটাই ধারণা দিয়েছিল উনার পরিবার। এটাও কি মিথ্যা ছিল না? উত্থাপিত অভিযোগ মোকাবেলা না করে অসুখের নামে মিথ্যাচার করার অপর নাম কি ভণ্ডামি নয়? আমাদের স্বনামধন্য রাজনীতিবিদদের অতীত সব সময়ই গৌরবের, এবং তা নির্বাচনী প্রচারণার অন্যতম হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। মহিউদ্দিন চৌধুরী নিজের অতীত জাহির করতে গিয়ে নিশ্চয় চেপে যাবেন চাঁদের এ দিকটা!

http://amibangladeshi.org/node/266

Comments

মনজুর মেয়র নির্বাচিত

Fri, Jun 18th, 2010 10:33 am BdST

চট্টগ্রাম, জুন ১৮ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত নাগরিক কমিটির প্রার্থী এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে বন্দরনগরীর মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন বিরোধী দল বিএনপি সমর্থিত চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের প্রার্থী এম মনজুর আলম।

বৃহস্পতিবারের এ নির্বাচনে পরপর তিনবার মেয়র পদে বিজয়ী মহিউদ্দিনকে এক লাখ ৫ হাজার ৫২৮ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন উত্তর কাট্টলি ওয়ার্ডের তিনবারের কাউন্সিলর মনজুর।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘোষণা করা বেসরকারি ফলাফলে আনারস প্রতীক নিয়ে নগর সংস্থার সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র মনজুর আলম পেয়েছেন ৪ লাখ ৮৯ হাজার ১৪৫ ভোট।

বিরোধী দলের প্রার্থী হিসেবে এর আগে দুইবার মেয়র হওয়া মহিউদ্দিন জাহাজ প্রতীকে ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৬১৭ ভোট পেয়েছেন।

চট্টগ্রাম এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের জিমনেসিয়ামে স্থাপিত নির্বাচন কমিশনের অস্থায়ী কার্যালয় থেকে প্রার্থীদের এজেন্ট ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা জেসমিন টুলী।

তিনি জানান, সিসিসি নির্বাচনে ৫৪ দশমিক ৫০ শতাংশ ভোট পড়েছে।

নির্বাচনে বৈধ ভোট পড়েছে ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৬৪টি। বাতিল ও অবৈধ ভোটের সংখ্যা ৩৫ হাজার ৫০৬টি।

নাগরিক কমিটির প্রার্থী মহিউদ্দিনের পক্ষে নির্বাচনী ফলাফল নিতে সেখানে চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা এসহাক মিয়ার থাকার কথা থাকলেও তাকে দখা যায়নি।

মনজুরের পক্ষে ছিলেন তার প্রধান নির্বাচনী সমন্বয়ক বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার রাতে ফলাফল ঘোষণার সময় মহিউদ্দিন ও মনজুর বিপুল সংখ্যক সমর্থক স্টেডিয়ামের বাইরে অবস্থান নেয়। তারা নিজেদের প্রার্থীর পক্ষে স্লোগান দিতে থাকে।

এক পর্যায়ে মহিউদ্দিন ও মনজুর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশের দুটি মটরসাইকেল ও দুটি চায়ের দোকানে আগুন দেয় সংঘর্ষকারীরা। তারা ব্যালট ও পুলিশবাহী গাড়িসহ অন্তত ২০ গাড়ি ভাংচুর।

এতে একজন পুলিশ কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়।

পরে রিটার্নিং কর্মকর্তার আহ্বান এবং পুলিশ, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

রাত সোয়া ১২টার দিকে মহিউদ্দিন কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে মিছিল সহকারে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি সমাবেশ করে ভোট ডাকাতি হতে পারে আশঙ্কা করে এ ধরনের অপতৎপরতা ঠেকাতে কর্মী-সমর্থকদের প্রস্তুত থাকতে বলেন।

ভোট ডাকাতি হলে পুরো চট্টগ্রাম ঘেরাও করে রাখার জন্য প্রস্তুত থাকার জন্য কর্মী-সমর্থকদের নির্দেশ দিয়ে ১টা ২০ মিনিটে স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিউদ্দিন।

এর আগে মনজুরের প্রধান নির্বাচনী সমন্বয়ক বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দাবি করেন, বিপুল ভোটের ব্যবধানে মনজুর জিততে চলেছে। ভোটের ফলাফল বদলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ জন্য ভোটের ফলাফল ঘোষণা করতে দেরি করছে কমিশন।

তবে তার এই অভিযোগকে 'ভিত্তিহীন' বলে নাকচ করে দেন নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন।

বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় শুরু হয় বন্দর নগরীর এই নির্বাচন। বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলে। দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবেই ভোটগ্রহণ শেষ হয়।

এরপর শুরু হয় ভোট গণনা। তবে নির্বাচন কমিশনের অস্থায়ী কার্যালয় থেকে ভোটের ফলাফল ঘোষণা শুরু হয় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর।

রিটার্নিং কর্মকর্তা শুক্রবার বিকালে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ফলাফল ঘোষণার কথা জানালেও মনজুরের এজেন্টরা তাতে রাজি না হয়ে ফলাফলের জন্য নির্বাচন কমিশনের অস্থায়ী কার্যালয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন।

এবারই প্রথম চট্টগ্রাম নগরীর জামাল খান ওয়ার্ডের ১৪টি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে ভোট নেওয়া হয়।

ভোটগ্রহণের সময় পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ করেন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমীর খসরু।

তার এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এটিএম শামসুল হুদা বলেন, নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে কেন্দ্র থেকে মনজুর পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়ার সত্যতা পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, তারা ছয়টি অভিযোগ পেয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মেয়র পদের অপর পাঁচ প্রার্থী ছিলেন- সৈয়দ সাজ্জাদ জোহা, মোহাম্মদ ইব্রাহীম, জানে আলম, মোফাজ্জল হোসেন ভূইয়া ও রফিকুল আলম। মহাজোটের অন্যতম শরীক জাতীয় পার্টির (এরশাদ) মেয়র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিনের পক্ষে সমর্থন ঘোষণা করলেও প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় ব্যালটে থেকে যায় সোলায়মান আলম শেঠ-এর নাম।

২০০৫ সালের ৯ মে সর্বশেষ সিসিসি নির্বাচনে বিএনপি নেতা মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনকে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন মহিউদ্দিন।

তিনি এর আগে ১৯৯৯ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেয়র নির্বাচিত হন। আর ১৯৯৪ সালে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি সমর্থিত মীর নাছিরকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বন্দরনগরীর মেয়র নির্বাচিত হন।

মহিউদ্দিনের এক সময়ের ঘনিষ্ঠজন মনজুর আলম ১৯৯৪ সাল থেকে তিনবার নগরীর উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।

এ নির্বাচনে বিএনপি ছাড়াও মনজুর আলমকে সমর্থন দেয় জামায়াতে ইসলামী। মনজুরের সমর্থনে প্রার্থী প্রত্যাহার করে দলটি। এছাড়া আরো আটটি দল ও সংগঠন মনজুরকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জানায়।

নির্বাচন উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগরীতে বৃহস্পতিবার ছিলো সরকারি ছুটি। ভোটকেন্দ্রসহ নির্বাচনী এলাকায় সেনাবাহিনীসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ২০ হাজার সদস্য নিয়োজিত আছে।

চট্টগ্রাম নগরীর সর্বশেষ তালিকায় মোট ভোটার সংখ্যা ১৬ লাখ ৯৪ হাজার ৯৫৫।

নির্বাচনে একটি অস্থায়ী কেন্দ্রসহ মোট ভোট কেন্দ্র ছিলো ৬৭৪টি; ভোট কক্ষ ৪ হাজার ৭৪৮টি। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ছিলেন ১৪ হাজার ৯১৮ জন। এর মধ্যে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ৬৭৪ জন, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ৪৭৪৮ জন এবং পোলিং কর্মকর্তা ৯৪৯৬ জন।

১৫ জুন মধ্যরাতে এ নির্বাচনের প্রচারণা শেষ হয়। ১৬ জুন মধ্যরাত থেকে অনুমোদিত ছাড়া সব ধরনের যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এর আগে ১৪ জুন থেকে মটরসাইকেল চলাচলেও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়।
বিডিনিউজ২৪.কম

টেলিটক দিয়েই বেশি ভিওআইপি!

অবৈধভাবে বিদেশি কল আদান-প্রদানে (ভিওআইপি) সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে সরকারি মালিকানাধীন টেলিটকের সংযোগ। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) হিসাবে গত ৩৯ দিনে ২২ হাজার ১৬৭ বার টেলিটক সংযোগ দিয়ে অবৈধ ভিওআইপি করা হয়েছে। এ হিসাবে ভিওআইপির অবৈধ ব্যবহারের মোট সংযোগের ৫৯ শতাংশই টেলিটকের।
বিটিআরসির হিসাবে, ৩৯ দিনে টেলিটকের তিন হাজার ৬২টি সংযোগে কথা বলা হয়েছে ২২ হাজার ১৬৭ বার।
তবে টেলিটকের সংযোগ দিয়ে ভিওআইপির অবৈধ ব্যবহারের এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে টেলিটক কর্তৃপক্ষ। টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমান বলেন, শনাক্ত করার মেশিন বসিয়েছে বেসরকারি অপারেটররা। তাই এ হিসাবের পেছনে তাদের কারসাজি থাকতে পারে। ওই মেশিন নিয়ন্ত্রণ করে বেসরকারি অপারেটররাই। নিজেদের সংযোগ কম শনাক্তকরণের জন্য তাদের উন্নতমানের কোনো সফটওয়্যার থাকতে পারে।
তবে মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটবের সভাপতি জাকিউল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘মোবাইল অপারেটররা ভিওআইপির অবৈধ ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত—এ অপবাদ থেকে মুক্ত হতে এবং এ বিষয়ে সরকারকে সহযোগিতার স্বার্থে একটি যন্ত্র বসানোর কাজে সহায়তা করেছে।’
টেলিটকের সিস্টেম-অপারেশনস বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মো. তৌহিদ বলেন, এ পর্যন্ত ভিওআইপি অভিযোগে প্রায় দেড় হাজার সংযোগ বন্ধ করা হয়েছে। প্রয়োজনে আরও বন্ধ করতে আপত্তি নেই, কিন্তু টেলিটক সংযোগ দিয়ে এ হারে অবৈধ ভিওআইপির অভিযোগ ভিত্তিহীন।
টেলিটক কর্তৃপক্ষের অভিযোগ প্রসঙ্গে বিটিআরসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, ‘সিম ডিটেকশন বক্স’ কোনো বেসরকারি মোবাইল অপারেটর বা সরকারি-বেসরকারি কোনো কোম্পানি নিয়ন্ত্রণ করে না। এ যন্ত্রের মাধ্যমে অবৈধভাবে বিদেশি কল আদান-প্রদানে কোন কোন কোম্পানির সংযোগ ব্যবহার করা হচ্ছে, তা সহজেই শনাক্ত করা যায়।
বিশ্বখ্যাত শনাক্তকরণ প্রতিষ্ঠান বেলজিয়ামের এমইইউসিসিআই মেশিনটি নিয়ন্ত্রণ করে। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের এক শর বেশি দেশে অবৈধ বিদেশি কল শনাক্ত করে থাকে। কর্মকর্তারা আরও জানান, সরাসরি আড়াই শ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার লিংক থেকে অবৈধ কল শনাক্ত করে সব তথ্য সংশ্লিষ্ট দেশের টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
কমিশনের চেয়ারম্যান জিয়া আহমেদ বলেন, সিম ডিটেকশন বক্স থেকে প্রাপ্ত নম্বরগুলোর তালিকা সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের পাঠানো হয়েছে। নম্বরগুলো বন্ধ করাসহ সংযোগের বিপরীতে সব তথ্য কমিশনে পাঠিয়ে দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩৯ দিনে করা এ তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলালিংক। চার হাজার ৮২৭ সংযোগ দিয়ে সাত হাজার ৪৫৯ বার বিদেশি কল করা হয়েছে। রবি রয়েছে তৃতীয় স্থানে। দুই হাজার ৬৮১ সংযোগ নিয়ে। ওয়ারিদের ৯৪৩টি সংযোগ, গ্রামীণফোনের ৩৩টি এবং সিটিসেলের ২৬টি সংযোগ ব্যবহার করা হয়েছে। আর সরকারি ল্যান্ডফোন বিটিসিএলের ১৭৬টি সংযোগ দিয়ে অবৈধ বিদেশি কল আদান-প্রদান করা হয়েছে।
ভিওআইপিতে ব্যবহূত অবৈধ সংযোগের তালিকায় বাংলালিংক প্রসঙ্গে অ্যামটবের সভাপতি ও বাংলালিংকের রেগুলেটরি অ্যান্ড লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগের প্রধান জাকিউল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিটি নম্বর বিটিআরসি থেকে পাওয়া মাত্রই বাংলালিংক সংযোগটি বন্ধ করে দিচ্ছে।’
উল্লেখ্য, ভিওআইপির অভিযোগ থেকে মুক্তি পেতে গত ৫ মে দেশের চার মোবাইল অপারেটর (গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, ওয়ারিদ ও সিটিসেল) বিটিআরসির কার্যালয়ে সিমবক্স ডিটেকশন বক্স স্থাপন করে। পরে ১১ মে রবি নিজ কার্যালয়ে আরেকটি যন্ত্র স্থাপন করে।
সূত্রঃ প্রথম আলো

এক বনে দুই রাজা...

আবার নির্বাচিত হলে চট্টগ্রামকে ‘সিঙ্গাপুর মডেলে’ আধুনিক নগর হিসেবে গড়ে তুলতে চান এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী। পাশাপাশি তিনি এখানে আইটি ভিলেজ গড়ে তুলবেন বলেও ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু এই নগরের অন্যতম বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা দূরীকরণে তাঁর কোনো চিন্তা নেই। তাঁর বিবেচনায় এটা সাময়িক সমস্যা।
গতকাল মঙ্গলবার আওয়ামী লীগ-সমর্থিত নাগরিক কমিটির মেয়র পদপ্রার্থী মহিউদ্দিন একান্ত আলাপকালে প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটাকে জলাবদ্ধতা বলা ঠিক হবে না। এর সঙ্গে রয়েছে জোয়ার-ভাটার সম্পর্ক। জোয়ারের সময় প্রচুর বৃষ্টিপাত হলে পানি তো জমবেই। তবে এটা সাময়িক সমস্যা। কয়েক ঘণ্টা পর পানি আবার নেমে যায়।’
গত রোববার থেকে প্রায় টানা বৃষ্টিতে নগরজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। মেয়র নির্বাচনের চূড়ান্ত দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসায় শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় বিষয়টি হয়ে উঠেছে আলোচিত বিষয়, বিশেষ করে সোমবার রাতে একটানা বৃষ্টিতে যখন নগরের বেশ কিছু এলাকা ডুবে যায়।
মহিউদ্দিন বলেন, এবার নির্বাচিত হলে তিনি চট্টগ্রামে ‘আইটি ভিলেজ’ (তথ্যপ্রযুক্তি পল্লি) গড়ে তুলবেন। তাঁর মতে, আধুনিক চট্টগ্রাম বা ডিজিটাল চট্টগ্রাম গড়তে হলে এর বিকল্প নেই। এর জন্য তাঁর ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া সাবেক এই মেয়র নাগরিক সুবিধা, বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগব্যবস্থা এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে আরও জোরালো করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর আমলে নগরের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করেছেন তিনি। নারী শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়েছেন। আর এই অবদানের জন্য ভোটাররা আবারও তাঁকে ভোট দেবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নগরের আরেক বড় সমস্যা যানজট নিরসনে মহিউদ্দিনের সুনির্দিষ্ট কোনো কর্মপরিকল্পনা নেই। চট্টগ্রামের মানুষের খাওয়ার পানির সংকট মেটাতে আরও উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে গভীর নলকূপ স্থাপন করেছেন। পানি বিশুদ্ধ করে কালো টাংকিতে করে বাসায় বাসায় পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ তিনি আগেই নিয়েছেন। তাঁর মতে, খাওয়ার পানির বিষয়টি ওয়াসার দায়িত্বে। ওয়াসার পরিচালনা সিটি করপোরেশনের ওপর ছেড়ে দেওয়া হলে খাওয়ার পানির সংকট আরও দ্রুত নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া যাবে।
১৭ জুনের নির্বাচনে যদি আপনি হেরে যান, ফলাফল মেনে নেবেন কি না—এই প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেননি মহিউদ্দিন। জবাবে তিনি কেবল বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, আগের তিনবারের নির্বাচনের মতো এবারও ফলাফল অবশ্যই আমার পক্ষে যাবে।’

সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো

ডিজিটাল ভিলেজ

কেউ নির্বাচনের আগে "ডিজিটাল" স্বপ্ন দেখায়, আবার কেউ "আই.টি ভিলেজের" স্বপ্ন দেখায়। নির্বাচনের পরে শুরু হয় "ডিজিটাল হরিলুট" আর "ভিলেজ পলিটিক্স"।

Post new comment

CAPTCHA
Required to prevent spam.
Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla