হিরো হতে জিরো...ইশরাক হোসেন

Submitted by WatchDog on Tuesday, October 20, 2026

বাংলায় একটা কথা আছে, কুত্তার পেটে ঘি সয়না।
মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের উত্থান ও পতন যেন অনেকটা ঘি বদহজমের মতই। শুধু ঘি কেন, অতিরিক্ত কোন কিছু খেতে গেলেই তা বদ হজম হতে বাধ্য। তাই হয়েছে ইশরাকের বেলায়।

বাবার নাম ভাঙ্গিয়ে মন্ত্রীসভার আঙ্গিনা পর্যন্ত পৌঁছে তিনি ভেবেছিলেন পৃথিবী এখন আমার! আমাকে আর পায় কে!!
এর আগে ইন্টেরিমের আমলে বন্দুকের নলের মুখে ঢাকা শহরের মেয়রের চেয়ার দখল করে ওখানেও বাবার রেখে যাওয়া তাকত দেখাতে গিয়েছিলেন। হম্বি তম্বি করে আসমান জমিন এক করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। গর্তের শেয়াল শেষপর্যন্ত গর্তে ফিরতে বাধ্য হয়েছিল।

ওনার বাবা মৃত। মৃত ব্যক্তির গিবত করা নাকি শিষ্টাচার বহির্ভূত কাজ। আমি আবার নিজকে ভদ্রলোক বলেই দাবি করি, তাই গেলাম না সে পথে। ইশরাকের পিতা সাদেক হোসেন খোকার অটোপসি করতে গেলে গেলে ওখান হতেও বেরিয়ে আসতে পারে অনেক দুর্গন্ধ।

ইশরাক হোসেন কেন করতে গেলেন এ কাজ তার কি কোন সহজ উত্তর আছে? বোধহয় না। তবে ঢাকা শহরে ড্রাগসের থাবা বেড়ে যাওয়ায় তিনি বেজায় চিন্তিত জাতিকে এমনটা গেলানোর চেষ্টা হবে স্রেফ প্রতারণা।

ড্রাগ ও ক্ষমতার সাম্রাজ্য একে অপরের পরিপূরক। ওরা মায়ের পেটের খালাত ভাই। আমরা যদি ইশরাকের পূর্বসূরি নাসির উদ্দিন পিন্টু, আমানুল্লাহ আমান, মির্জা আব্বাসদের টেনে এনে ইশরাকের চেয়ারটায় বসিয়ে দেই চিত্রটা আঁকতে মাইকেলঞ্জেলো দ্যা লদোভিকো হওয়ার দরকার হবেনা। ওরা থাকবে ভগবানের ঠিক পাশের আসনটায়। আশপাশ গিজ গিজ করবে মিউনিসিপালটির কমিশনার, তাদের মাঠ পর্যায়ের বড় ভাই এবং সাথে থাকবে খুচরা ছোটভাইদের কাফেলা। এদের সমন্বয়েই গড়ে উঠে ড্রাগ কার্টেল। এই কার্টেল রাজ্যে মাঠ পর্যায় হতে শুরু করে উঁচু তলার অনেকের হাতে থাকে অস্ত্র। অস্ত্রের ঝনঝনানি এনে দেয় ক্ষমতা। এবং ক্ষমতার লম্বা হাতই নিশ্চিত করে পার্লামেন্ট, মন্ত্রীসভা সহ আরও অনেক কিছু। ইশরাক হোসেন সে কার্টেলদেরই একজন।

বোধহয় দক্ষিণ ভারতের চিত্র নায়ক কাম সফল রাজনীতিবিদ বিজয় থালাপাতির উত্থানে প্রভাবিত হয়ে থাকবেন আমাদের ইশরাক। চোখে কালো চশমা, হাতে পিস্তল নিয়ে একদল বস্তিবাসীকে ধাওয়া করছেন এমন বিরল চিত্র আপনি আর কিভাবে জাস্টিফাই করবেন!

অবশ্য বিএনপি ঘরনার দু'একজনের মুখে শুনলাম ভিন্ন কথা। খোকার ছাওয়াল ইশরাক নাকি ঢাকার মেয়র হওয়ার বার্তা তারেক জিয়ার দরবারে পৌঁছে দেয়ার জন্যে হাতে পিস্তল নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন। ভেবেছিলেন প্রশংসার প্লাবনে ভেসে পৌঁছে যাবেন কাঙ্ক্ষিত বন্দরে। এমনটা করতে গিয়ে হয়ত গিয়ে ভুলে গিয়েছিলেন সময় এখন ভিন্ন। ইন্টারনেটের বেড়াজালে আটকে আছে পৃথিবী। মানুষের হাতে হাতে মোবাইল। কিছু হলে সচল হয়ে উঠে তাদের ক্যামেরা। মুহূর্তে ছড়িয়ে পরে ভিডিও। এবং একই মানুষ আগের মত আর চুপ থাকেনা, অথবা চুপ রাখা যায়না।

রাজনীতির মাঠ আসলে একটা পাঠশালা। এখানে প্রতিদিন কিছুনা কিছু ঘটে যা হতে আমরা শিক্ষা নেই। এই যেমন কদিন আগে জামাতি এক এমপির কক্ষে কথিত দ্বিতীয় স্ত্রীর আত্মহত্যা! ইশরাকের ঘটনা হতে বাকিরা কি কিছু শিক্ষা পেল এটাই হবে দেখার বিষয়!

ভালো লাগলে শেয়ার করুন