শেয়ার বাজার নিয়ে তেলেসমাতির সাথে বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীরা বেশ পরিচিত। কথিত আছে পরিকল্পিতভাবে ম্যানিপুলেট করে এ বাজার হতে দরবেশ বাবা খ্যাত সালমান এফ রহমান গং হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করেছে। এই লোপাটের সংখ্যা ও এর সাথে জড়িতরা এতই বিশাল যে অপরাধ তদন্তের জন্যে যে কমিশন গঠন করা হয়েছিল তারা রিপোর্ট পর্যন্ত দেয়ার সাহস করেনি। অথবা রিপোর্ট জমা করলেও তা জনসম্মুখে প্রকাশে সাহস দেখাননি।
এ ছিল পৃথিবীর অন্যতম করাপ্ট কান্ট্রি বাংলাদেশের কাহিনী।
চলুন একই কাহিনী পৃথিবীর সবচাইতে গণতান্ত্রিক দেশের দাবিদার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কিভাবে ঘটে তার কিছুটা চিত্র আকার চেষ্টা করি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইস*রায়েল যৌথভাবে ইরান আক্রমণের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডো*না*ল্ড ট্রা*ম্প শেয়ার মার্কেট হতে মার্কিন ৮টি তেল কোম্পানির কয়েক মিলিয়ন শেয়ার ক্রয় করেন। আক্রমণ শুরুর পর পরই তেলের বাজারে আগুন লেগে যায়। দাউ দাউ করে বাড়তে থাকে তেলের পাইকারি ও খুচরা মূল্য। আক্রমণ শুরুর ৩/৪ দিন পর ট্রা*ম্প তার তেল কোম্পানির শেয়ার বিক্রি করে ফেলেন। লাভ করেন কয়েক শ মিলিয়ন ডলার।
লাভের এ ছিল কেবল শুরু।
যুদ্ধ শুরুর ক'দিন পর ট্রা*ম্প ও তার চেলা চামুণ্ডারা হুদাই ঘোষণা দেয় ইরান আলোচনার টেবিলে বসে শান্তি চুক্তি করতে যাচ্ছে। শুরু হয় তেলের দরপতন। এক লাফে এ পতন ব্যারেল প্রতি ১০/১২ ডলার করে কমে যায়। সুযোগ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রা*ম্প আবারও ৮ তেল কোম্পানির শেয়ার ক্রয় করেন। ক্রয়ের দু'দিন পর ইরান অস্বীকার করে সম্ভাব্য চুক্তির কথা। পাশাপাশি মার্কিন বিমান বাহিনী বিমানগুলো শুরু করে তাদের আক্রমণ। তেলের বাজার নতুন করে জ্বলতে শুরু করে।
জনাব ট্রা*ম্প দ্বিতীয় দফায় শেয়ার বিক্রি করে কয়েক শ মিলিয়ন ডলার পকেটস্থ করেন।
এভাবে কয়েক টার্মে শান্তি চুক্তির ভুয়া তথ্য দিয়ে তেলের বাজারকে অস্থির করে ওখান হতে কামিয়ে নেন জীবনের সহজতম কামাই। এ কামাই অব্যাহত রাখতে চাইলেও পারেননি ইরানের কারণে। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ইয়াঙ্কিদের সাথে কোন চুক্তি নয়!
তবে কি যুদ্ধ আর থামবেনা?
মার্কিন জনগণ ইস*রায়েলের হয়ে এ যুদ্ধে যাওয়ার কারণে সরকারের উপর মারাত্মক ক্ষুদ্ব। দেশটার প্রেসিডেন্ট হন্যে হয়ে উপায় খুঁজছেন যুদ্ধ হতে বেরিয়ে আসার। ইরান বুঝতে পেরেছে ট্রা*ম্পের এই দুর্বলতা। তারা জানে যুদ্ধের কারণে মিডটার্ম নির্বাচনে হারতে যাচ্ছে ট্রা*ম্পের রিপাব্লিকান দল। পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানো মানে প্রেসিডেন্টের হাত-পা কেটে তাকে পঙ্গু বানিয়ে ফেলা। তখন চাইলেও তিনি অনেক কিছু করতে পারবেন না। এ কারণেই ইরান যুদ্ধ নভেম্বর পর্যন্ত চালিয়ে যেতে দেবে এবং কেবল তারপরই পাকিস্তানের মাধ্যমে আলোচনা চালিয়ে স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে সই করবে।
চাইলে আমার এ বক্তব্য লিখে রাখতে পারেন!