আমরা কি ছাগলের ৩ং বাচ্চা...

Submitted by WatchDog on Saturday, July 18, 2026

দুটি বিদেশী দলের বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে বাংলাদেশে যে উচ্ছ্বাস তা বাকি বিশ্বের জন্যে বিশাল এক ধাঁধা। এ ধাঁধার উত্তর কারও জানা নেই। কেন বাংলাদেশের মানুষ ব্রাজিল আর্জেন্টিনা দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে নিজেদের ভেতর রক্তারক্তি পর্যন্ত ঘটায় তা হতে পারে পিএইচডি থিসিসের গবেষণার বিষয়। খোদ আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের ফুটবল পাগল দর্শক ও সমর্থকেরাও বিভ্রান্ত ও পুলকিত হয় বাংলাদেশিদের এহেন আচরণে। এ নিয়ে দেশ দুটির মিডিয়া অনেক সময় কৌতুক করে। দেশ হিসাবে বাংলাদেশকে তামাশার পাত্র বানায়।

দক্ষিণ আমেরিকার প্রতিটা দেশে ফুটবল পাগল দর্শকদের অভাব নেই। ফুটবল ওদের রক্তে। ইউরোপিয়ানদের মত তারাও নিজ দেশের ফুটবল লীগের কোন না কোন দলের সমর্থক। প্রায় সবার একজন করে প্রিয় খেলোয়াড় থাকে। তবে বাংলাদেশি সমর্থকদের সাথে তাদের পার্থক্য হচ্ছে, খেলা শেষ তো তাদের উচ্ছ্বাসও শেষ। খেলার ফলাফল নিয়ে খাবার টেবিলে তারা সময় নষ্ট করেনা। বিজয়ী দলের সমর্থকরা উচ্ছ্বাসিত আর পরাজিত দলের সমর্থকরা ব্যর্থমনোরথে ফিরে যায় স্বাভাবিক জীবনে এবং অপেক্ষায় থাকে পরের খেলার জন্যে। খেলা শেষ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার ভেতর ওরা ভুলে যায় আগের দিন স্টেডিয়ামে কি ঘটেছিল। এ নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা, গবেষণা চালিয়ে যায় কেবল দেশের প্রিন্ট মিডিয়া। উদ্দেশ্য নিজ নিজ পত্রিকার কাটতি বাড়ানো।

আমি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা হতে এসব ফ্যাক্ট শেয়ার করছি। বিশ্ব যুবকাপ ফুটবলের কোন এক টুর্নামেন্টের সময় আমি পেরুর রাজধানী লিমায় ছিলাম। খুব কাছ হতে দেখেছি হোস্ট দেশের জয়-পরাজয়ে সে দেশের মানুষের রিএকশন। পাশের দেশ ইউকুইডোরেও একই বাস্তবতা। চিলিয়ানরাও এর ব্যতিক্রম না। ব্যতিক্রম কেবল আমাদের বাংলাদেশে।
৭/১৮/২৬ সিডনি, অস্ট্রেলিয়া।

ভালো লাগলে শেয়ার করুন