তারিন জাহান পেশায় একজন এন্টারটেইনার।

Submitted by WatchDog on Wednesday, June 17, 2026

বহু বছরের পরিচিত এক সনাতনী বড়ভাই একদিন কথা প্রসঙ্গে বলে ফেললেন যে ব্যাক্তি রবীন্দ্র সংগীত পছন্দ করেনা সে নাকি পাকিবীজের রাজাকার। গানবাজনায়ও পছন্দ থাকতে হবে, এমন জটিল মন্তব্য আমার জন্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল। ঐ মন্তব্যের আগ পর্যন্ত আমি নিজেও রবী বাবুর গানের অকেশনাল ভক্ত ছিলাম। মন্তব্যটা নিয়ে চিন্তার গভীরে ঢুকতে মনেহল এতো এক ধরণের গান মাত্র। বিশ্বব্রম্মাণ্ডে লাখ লাখ রকমের গান আছে, একজন মুক্তচিন্তার মানুষ হিসাবে আমি তাঞ্জানিয়ার গোগো গোত্রের ট্রাডিশনাল 'মোহেমে' মিউজিকের ভক্ত হতে পারি। হতে পারি এক্সেল রডের নভেম্বর রেইন গানের ভক্ত। আমাকে কেন এক রবীন্দ্র নাথের গানে আটকে থাকতে হবে! আর এ গানে নিজকে আটকাতে না পারলে আমি রাজাকার? ওটাই ছিল বাবুর গানকে কবর দেয়ার যাত্রা শুরু।

বাবুকে কবিগুরু বলার বাধ্যাবাধকতা হতে সরে আসার আগে রুশ কবি পুশকিন, চিলির কবি ভিক্টর হারার কবিতার জগতও ঘুরে দেখেছি। ওরা সবাই উঁচুমানের কবি। তাই বলে আমি যদি ভিক্টর হারাকে পছন্দ না করি আমি কি চিলির ডিক্টেটর পিনাচেটের দোসর হয়ে যাব?

তারিন জাহান পেশায় একজন এন্টারটেইনার। নাটক করেন। অনেকটা বরীন্দ্র সংগীতের মত নাট্য ও সীনে জগতে যারাই সুন্দরী ও সমাজে সুপরিচিত তাদের কেন জানি আওয়ামী ও ভারতীয়মনা হওয়া জরুরি। আমরা বুঝি ভারতীয়মনা না হয়ে অন্য মনা হলে শরীর উন্মুক্ত করার সুযোগ সীমিত হয়ে আসে। আর তা না করতে পারলে টিভি ও সিনে জগতের রঙ্গিন দুনিয়ায় টিকে থাকাটা কঠিন।

যে মনারই হোক না কেন ভাল লাগে যখন এসব সুন্দরীর দল দেশের চলমান সমস্যা নিয়ে মুখ খোলেন। তারিন জাহান এ যাত্রায় মরহুম হাদীর কিছু মন্তব্য টেনে এনে গোটা জাতিকে আসামী বানিয়েছেন ধর্ষণ ও বলৎকারের মাপকাঠিতে। আসলেইতো, যে জাতির হিরো নারীদের গোপনাঙ্গ ছিড়ে ফেলার শ্লোগান দেয় সে জাতির কপালে ধর্ষণ আর বলৎকার হবে খুব স্বাভাবিক ঘটনা। এ নিয়ে এত হৈ চৈ করার কি আছে!

সমস্যা হচ্ছে জনাবা তারিন জাহানের ধর্ষণের সংজ্ঞায়ও আছে দলীয় প্রকারভেদ। একই ধর্ষণ ও বলৎকার যখন ঘটে ভারতীয়মনা আওয়ামী আমলে তখন তা হয়ে যায় সমাজ বদলের সংস্কৃতি। ইনিয়ে বিনিয়ে ইতিহাস ভুগোল টেনে জাস্টিফাই করার চেষ্টা করেন মনুষ্য চরিত্রের এই জটিল দিক। শেখ হাসিনার শাসন আমলে ধর্ষণ হয়না, যা হয় তা হচ্ছে মানব-মানবীর শারীরিক সম্পর্কের বহুমুখী প্রয়োগ অথবা অপপ্রয়োগ। আপনি যদি আওয়ামী ধর্ষণ নিয়ে ত্যানা পেচান তারিনদের চোখ হয়ে যাবেন ধর্মীয় জংগী, পাকিস্তানের দালাল। তারিন ও তার মত মাদার টোস্টদের মুখে কোনদিন শুনেছেন কি আওয়ামী আমলের ৫০ হাজার ধর্ষণ নিয়ে কোন শব্দ? যে মানিক ধর্ষণের সেঞ্চুরি করে উল্লাস করেছিল তার অপরাধ নিয়ে গোটা জাতি কেন, মানিকের রাজনৈতিক দলকে কি আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছিল এই সুন্দরী? নাকি আওয়ামী ধর্ষণের অন্য রকম মজা আছে তাদের জন্যে?

বাংলাদেশের চিত্র জগতের এক নায়কের মুখ হতে শোনা গল্প বিশ্বাস করলে আমাদের বিশ্বাস করতে হবে এসব তারিনারা ঐ জগতের পরিচালক প্রযোজকদের হাতে ধর্ষিত হওয়ার জন্যে উন্মুখ হয়ে থাকেন। কারণ নাকি বহুমূখী। কেবল নিজেরা না, অন্যদের ধরে এ পথে নামাতেও নাকি পরিপক্ক। এসব কলংকিত অধ্যায় নিয়ে লিখে আমার লেখা কলুষিত করতে চাইনা। তবে ওসমান হাদীর চরিত্র হননের চেষ্টা অব্যাহত থাকলে চুপ থাকাটা কষ্টের হবে। আপাতত এই সুন্দর নারীর বড় দুটি চোখ দেখেই সন্তুষ্টি পেতে চাই। s

ভালো লাগলে শেয়ার করুন