Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

বানানা রিপাবলিক...

৯০০ মামলায় জেলা কমিটির সুপারিশ নেই, আছে দলীয় নেতাদের সুপারিশ
আরও দেড় হাজার মামলা উঠছে কমিটিতে

আরও এক হাজার ৪৮১টি মামলা ‘রাজনৈতিক হয়রানিমূলক’ বিবেচনায় প্রত্যাহারের জন্য আজ কমিটির বৈঠকে উত্থাপন করা হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে ৯০০ মামলায় জেলা কমিটির সুপারিশ নেই। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মামলা প্রত্যাহারসংক্রান্ত জাতীয় কমিটির ২৫তম বৈঠক আজ হচ্ছে।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, যেসব মামলায় জেলা কমিটির সুপারিশ নেই, সেগুলোর বেশির ভাগই খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, সরকারি সম্পত্তি দখল, মারামারি, টাকা আত্মসাৎ, প্রতারণা, চুরি, বোমা ও ককটেল বিস্ফোরণ, অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে দায়ের করা মামলা।
নিয়ম অনুযায়ী মামলা প্রত্যাহার-সংক্রান্ত জেলা কমিটির সুপারিশ ছাড়া কোনো মামলাই জাতীয় কমিটিতে উত্থাপন করা যায় না। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের নেতা, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও সাংসদের চাপে জেলা কমিটির সুপারিশ ছাড়াই এগুলো উত্থাপন করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসক জেলা কমিটির প্রধান।
জানতে চাইলে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারে সুপারিশের জন্য গঠিত জাতীয় কমিটির সভাপতি আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, কর্মপদ্ধতি অনুযায়ী জেলা কমিটির সুপারিশ ছাড়া জাতীয় কমিটিতে কোনো মামলা উত্থাপন হওয়ার কথা নয়। আসলে কোন কোন মামলা প্রত্যাহারের জন্য জেলা কমিটির কাছে আবেদন করা হয়েছে, কোনটিতে তারা সুপারিশ করেছে, কোনটিতে করেনি—এসব কেন্দ্রীয় কমিটিকে অবহিত করতেই তালিকায় এসব মামলার কথা উল্লেখ থাকে। প্রতিমন্ত্রী জানান, জেলা কমিটির সুপারিশ ছাড়া মামলা উত্থাপিত হলেও তা সাধারণত প্রত্যাহার করা হয় না।
প্রসঙ্গত, মহাজোট সরকার গঠনের পর ২০০৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি রাজনৈতিক ও অন্যান্য কারণে হয়রানির উদ্দেশে করা মামলা প্রত্যাহারে সুপারিশের জন্য এই কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির কর্মপদ্ধতি: কর্মপদ্ধতি অনুযায়ী, জেলা কমিটি আবেদন পাওয়ার পর সাত কর্মদিবসের মধ্যে সরকারি কৌঁসুলির (পিপি) কাছে মতামতের জন্য পাঠাবে। পিপি ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে মতামতসহ সুপারিশ জেলা কমিটির কাছে পাঠাবেন। এরপর সাত দিনের মধ্যে জেলা কমিটি তা জাতীয় কমিটির সভায় উত্থাপন করবে। জেলা কমিটি আবেদন পাওয়ার পরবর্তী ৪৫ কর্মদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কমিটির কাছে পাঠাবে। মন্ত্রণালয়ের কমিটি মামলা পর্যালোচনা করে তালিকা প্রস্তুত করবে। প্রত্যাহারযোগ্য মামলা আদালতে পাঠাবে।
সুপারিশ নেই এমন কিছু মামলা: মন্ত্রণালয় সূত্রমতে, তারেক রহমান ও গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের মামলা প্রত্যাহারের আবেদনে জেলা কমিটির সুপারিশ নেই। এই মামলা হয়েছিল বল প্রয়োগ করে টাকা আদায়ের অভিযোগে। মামলাটি আজ কমিটিতে উঠছে। এ ছাড়া অন্য যেসব মামলায় জেলা কমিটির সুপারিশ নেই কিন্তু বৈঠকে উত্থাপিত হচ্ছে, সেগুলো হলো: আমানউল্লাহ আমানের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, হুমকি, চুরি, ভয়ভীতি দেখানোসহ বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের করা ১১টি মামলা, মওদুদ আহমদের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা, নাসিরউদ্দিন পিন্টুসহ বিএনপির আরও নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে হত্যা, সরকারি কাজে বাধা, ভয়ভীতি দেখানো ইত্যাদি অভিযোগে করা বেশ কয়েকটি মামলা, মাওলানা ফজলুল হক আমিনীর বিরুদ্ধে লুটপাটের অভিযোগে দুটি মামলা, যমুনা গ্রুপের চেয়্যারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুল ও পরিচালক সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে নদী-খাল ভরাট করে ক্ষতিসাধন, ড্রেজার স্থাপন করে জলাধার আইন লঙ্ঘন, সরকারি সিদ্ধান্ত অমান্য করে মাটি ভরাট ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মামলা, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান শাহ আলমের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি দখল ও ভরাট, সম্পত্তি দখল, টাকা আত্মসাৎ, কুপিয়ে হত্যা ও চুরি, প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে করা পাঁচটি মামলা প্রভৃতি।
যাঁরা সুপারিশ করছেন: স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু পাবনা যুবলীগের নেতা হিরার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা প্রত্যাহারে সুপারিশ করেছেন। সাংসদ গোলাম ফারুক খন্দকার একটি খুনের মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করেন। এই মামলার ১৬ জন আসামি তাঁর নির্বাচনী এলাকার আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী। বিভিন্ন মামলায় আরও সুপারিশ করেছেন সাংসদ মকবুল হোসেন, শামসুর রহমান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার, মহীউদ্দীন খান আলমগীর প্রমুখ।
দুই বছরে মামলা প্রত্যাহার: দুই বছরে মোট ২৪টি সভা হয়েছে। এসব সভায় প্রায় সাড়ে ১০ হাজার মামলা উত্থাপন করা হয়েছে। প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে পৌনে সাত হাজার মামলা। এসব সভায় পূর্ণাঙ্গ মামলা পাঁচ হাজার ৩০৩টি এবং আংশিক মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে এক হাজার ৪৪৪টি।
২০০১-২০০৬ পর্যন্ত জোট সরকার এবং পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এসব মামলা করা হয় বলে জানা গেছে।
২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে ‘রাজনৈতিক হয়রানিমূলক’ বলে পাঁচ হাজার ৮৮৮টি মামলা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং ৯৪৫টি মামলা থেকে কিছু কিছু আসামিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়ায় মোট ৭৩ হাজার ৫৪১ জন খালাস পান। এই সুযোগে খুন, ডাকাতি, রাহাজানি ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও মুক্তি পেয়ে যান দলীয় বিবেচনায়।
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-01-11/news/122536

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla