Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

রাষ্ট্রপতির ক্ষমায় গামা হত্যায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা মুক্ত!!!

ঢাকা, সেপ্টেম্বর ০৬ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- রাষ্ট্রপতির বিশেষ ক্ষমায় মুক্তি পাচ্ছেন রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর ভাতিজা সাব্বির আহম্মদ ওরফে গামা হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ২০ আসামি। রাষ্ট্রপতির আদেশটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সোমবার বিকালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌছেছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক তৌহিদুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া ২০ জন আসামির মুক্তির রাষ্ট্রপতির আদেশটি বিকালে পেয়েছি। এরপরই বন্দিদের মুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। আমাদের এখানে (ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার) ১০ জন বন্দি রয়েছে।" বাকি ১০ বন্দি রয়েছেন রাজশাহী কারাগারে। বন্দিরা সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। বন্দিরা হলেন নলডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম ফিরোজ শাহ, নাটোর সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামানের বাবা আনিসুর রহমান, ফয়সাল হোসেন, সেন্টু শাহ, শাজাহান শাহ, জাহেদুল ইসলাম, বাদল শাহ, ফজলুল হক শাহ্, ফারুক হোসেন, আ. জলিল, জহুরুল শাহ্, সাজ্জাদ হোসেন, সোহাগ, বাবলু, আবুল, আতাউর, আশরাফ, ফরমাজুল, ফকরউদ্দিন ও ওহিদুর রহমান।

এরা সবাই চারদলীয় জোট সরকার আমলের ভূমি উপমন্ত্রী এবং বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর ভাতিজা সাব্বির আহম্মদ ওরফে গামা হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড পান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের নাটোর প্রতিনিধি জানান, ২০০৪ সালের ৭ ফেব্র"য়ারি বিকেল ৫টার দিকে নলডাঙ্গা থানার রামশারকাজিপুর আমতলী বাজারে রুহুল কদ্দুস তালুকদার দুলুর ভাতিজা গামাকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর হত্যাকারীরা সর্বহারা জিন্দাবাদ শ্লোগান দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। গামার বাবা রফিকুল ইসলাম তালুকদার বাদি হয়ে ৮ ফেব্র"য়ারি নলডাঙ্গা থানায় আওয়ামী লীগ নেতা এস এম ফিরোজসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পুলিশ মামলার তদন্ত শেষে ২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। ২০০৬ সালের ২৪ অগাস্ট ঢাকার দ্রুত বিচার আদালতের বিচারক ফিরোজ আলম ২১ জনের ফাঁসির দণ্ডাদেশ দেন। গত ১৫ এপ্রিল আসামিরা কারাগার থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চেয়ে চিঠি দেন। রাজশাহী কারাগারের জোষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক পার্থ গোপাল বণিক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের রাজশাহী প্রতিনিধিকে জানান, রাষ্ট্রপতির আদেশের বিষয়টি তারা শুনলেও এখনো লিখিত কোনো কপি পাননি।

কিশোরগঞ্জের জিল্লুর ভাল একখান চাকরী পাইছেন বটে। ধিক!!!
সোর্সঃ

২০ ফাঁসির আসামির মুক্তি

রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শন; দলীয় বিবেচনার অভিযোগ; অনেক মামলা বিচারাধীন

হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ২০ আসামিকেই রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমায় মুক্তি দেয়া হয়েছে। তাদের মুক্তি দেয়ার জন্য গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে তাদের মুক্তি দেয়া হয়।
জানা গেছে, নাটোরের নলডাঙ্গা থানায় দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলায় দ্রুত বিচার টাইব্যুনালে এই ২০ আসামির ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়েছিল। ২০০৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি যুবদল নেতা সাব্বির আহম্মেদ গামা নিহত হয়েছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ নিহতের বাবা রফিকুল ইসলাম বাদি হয়ে ২০ জনকে আসামি করে নলডাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ১(২)০৪ ধারা ৩০২/৩৪ দণ্ডবিধি। এ মামলায় চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আসামিদের ফাঁসির আদেশ প্রদান করেন বলে কারাগার সূত্রে জানা গেছে। মামলার আসামিরা সবাই স্খানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মী বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। নিহত গামা নাটোর যুবদলের নেতা ছিলেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারা শাখা-২ এর স্মারক নম্বর সম (কারা-২) পি-১৪৮/২০০৯/২২১, ৬/৯/২০১০ থেকে পাঠানো এক আদেশে ২০ ফাঁসির আসামির দণ্ড মহামান্য রাষ্ট্রপতি মওকুফ করেছেন উল্লেখ করে নির্দেশনা প্রদানসংক্রান্ত আদেশ কারা অধিদফতরে পাঠানো হয়। এই নির্দেশনা পেয়েই কারা কর্তৃপক্ষ ফাঁসির আসামিদের মুক্তি দেয়ার প্রস্তুতি শুরু করে। আসামিদের ১০ জন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। আর বাকি ১০ জন রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। রাত ৯টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আসামিদের মুক্তি প্রদানসংক্রান্ত আদেশে মামলার তারিখে ১-২-২০০৪-এর জায়গায় ১-১৪-২০০৪ উল্লেখ করায় সব প্রস্তুতি থাকার পরও মুক্তি দিতে কিছুটা বিলম্ব হয় বলে কারাগার সূত্রে জানা গেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আদেশে যে ২০ ফাঁসির আসামিকে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে তারা হচ্ছেন­ মো: আনিছার রহমান ওরফে আনসার (কয়েদি নম্বর-৮০২৪/এ), মো: সেন্টু মিয়া (৮০২৫/এ), ফয়সাল (৮০২৬/এ), এস এম ফিরোজ (৮০২৭/এ), ফারুক শাহ (৮০২৮/এ), ফজলুল হক শাহ (৮০২৯/এ), জাহেদুল (৮০৩০/এ), মো: শাহজাহান আলী (৮০৩১/এ), মো: বাদল (৮০৩২/এ), আব্দুল জলীল ওরফে মিথুন (৮২৫৫/এ), জহুরুল মেম্বার (৮০৫৭/এ), সাজ্জাদ হোসেন (৭৯৩১/এ), সোহাগ (৭৫৪৩/এ), এস এম ফখরুদ্দিন (৭৮৩২/এ), মো: বাবলু (৮৩০২/এ), আতাউর রহমান ওরফে মোবারক (৩৮৪২/এ), ফরমাজুল (৪৫০১/এ), মো: আসাদ ওরফে কমল ওরফে রাজা ওরফে আশরাফ (৩৮৪৩/এ), অহিদুল ওরফে রনি ওরফে সোহাগ (৩৬৭৩/এ), মো: সাবু হোসেন (৩৮৯৩/এ)।
রাজনৈতিক কারণেই সাব্বির আহমেদ গামা হত্যাকাণ্ডের শিকার হন বলে মামলার বাদি তার এজাহারে উল্লেখ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
গত রাতে নলডাঙ্গা থানার ওসি ওবাইদুল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, মামলার এজাহারে বাদি নিহতের বাবা রফিকুল ইসলাম রাজনৈতিক কারণে গামা হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এমন কথা এজাহারে উল্লেখ নেই। তিনি বলেন, গামা সাবেক ভূমি উপমন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর ভাতিজা। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আসামিদের মধ্যে কেউ আদালতে আত্মসর্মপণ করেছেন আবার কেউ গ্রেফতার হয়েছিলেন। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কে ছিলেন তা তিনি জানাতে পারেননি। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, শুনেছি যে ২০ আসামিকে আদালত ফাঁসির রায় দিয়েছিলেন তাদের দণ্ড মওকুফ করে মুক্তি দেয়া হচ্ছে। তবে এ ব্যাপারে তিনি বিস্তারিত কিছু জানেন না বলে জানান।
গত রাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে দেখা গেছে, ফাঁসির আসামিদের স্বজনরা কারাগারের সামনে ভিড় করে আছেন। তবে কারাগার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আসামির স্বজনদের জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাদের কাছে যে আদেশ এসেছে সেটিতে মামলার নম্বর ভুল রয়েছে। তাই বিষয়টি নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। ওই কর্মকর্তারা আসামির স্বজনদের আশ্বস্ত করে বলেন, বিষয়টি নিয়ে শীর্ষ কারা কর্মকর্তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করছেন। সেখান থেকে গ্রিন সিগন্যাল পাওয়ার পর রাতেই তাদের মুক্তি দেয়া হয়। কারা অধিদফতর সংশ্লিষ্ট এক শীর্ষ কর্মকর্তা গত রাতে নয়া দিগন্তকে বলেন, কারাগারের ইতিহাসে ২০ ফাঁসির আসামিকে মুক্তি দেয়ার ঘটনা বিরল। তারাও মনে করছেন, দলীয় বিবেচনায় এসব হত্যা মামলার আসামিকে মুক্তি দেয়া হচ্ছে।
রাত সোয়া ৯টায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একজন ডেপুটি জেলার নয়া দিগন্তকে নাম না প্রকাশের শর্তে জানান, আসামিদের সেল থেকে বের করে এনে মূল কারাগারের সামনে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, বাইরে অপেক্ষায় থাকা স্বজনদের বুঝিয়ে বলা হয়েছে আপনাদের লোক অফিসেই রয়েছে। ওপরে কথা বলা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ এলেই তাদের ছেড়ে দেয়া হবে।
নাটোর সংবাদদাতা জানান, নাটোরের সাবেক উপমন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর ভাতিজা গামা হত্যা মামলার অভিযুক্ত সাজাপ্রাপ্ত আসামি নলডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম ফিরোজসহ ২০ জনের ফাঁসির আদেশ মহামান্য রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমার আওতায় মওকুফ করা হয়েছে।
২০০৬ সালের ২৪ আগস্ট ঢাকার দ্রুত বিচার আদালতের বিচারক ফিরোজ আলম নলডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম ফিরোজসহ ২১ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ফাঁসির আদেশ দেন। তাদের মধ্যে আকবর আলী নামের একজন পলাতক রয়েছে।
যেভাবে গামাকে হত্যা করা হয়
২০০৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টার দিকে নলডাঙ্গা থানার রামশার কাজিপুর কামারপাড়া বাজারে সাবেক ভূমি উপমন্ত্রী ও নাটোর জেলা বিএনপি’র সভাপতি রুহুল কদ্দুস তালুকদার দুলুর ভাতিজা সাব্বির আহমেদ তালুকদার গামাকে একটি দোকানে চা পান করা অবস্খায় একদল চরমপন্থী দুষ্কৃতকারী কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত করে হত্যাকারীরা পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টি জিন্দাবাদ þেöাগান দিয়ে ঘটনাস্খল ত্যাগ করে।
গামার পিতা রফিকুল ইসলাম তালুকদার বাদি হয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি নলডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম ফিরোজসহ ১৬ জনের নাম দিয়ে সাথে আরো ১৫-১৬ জন অপরিচিতের নামে নলডাঙ্গা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে নলডাঙ্গা থানার এসআই ওবায়দুর রহমান ২০০৪ সালের ১৫ জুন ২১ জনের নামে চার্জশিট দাখিল করেন। পরে মামলাটি বিচারের জন্য নাটোরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে যায়। সেখান থেকে মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার আদালতে পাঠানো হয়। ২০০৬ সালের ২৪ আগস্ট ঢাকার দ্রুত বিচার আদালতের বিচারক ফিরোজ আলম নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ফাঁসির আদেশ দেন।
ফাঁসি মওকুফের আওতায় ২০ জনের মধ্যে এস এম ফিরোজ, আনিসুর রহমান আনসার, ফয়সাল, সেন্টু, শাজাহান, জাহেদুল, বাদল, ফজলুল হক শাহ্, ফারুক, আ: জলিল ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে এবং জহুরুল শাহ্, সাজ্জাদ, সোহাগ, বাবলু, আবুল, আতাউর, আশরাফ, ফরমাজুল, ফকরউদ্দিন, ওহিদুর রহমান রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারগারে ছিলেন।
নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হানিফ আলী শেখ মোবাইলে বলেন, শাস্তি মওকুফের নির্দেশ পাওয়া গেছে বাকি কাগজপত্র প্রস্তুতির কাজ চলছে বের হলে পরে জানানো যাবে। ২১ নেতাকর্মীর ফাঁসির আদেশ মওকুফের ব্যাপারে তিনি বলেন, জোট সরকারের আমলে নিরপরাধ এসব লোকজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছিল।
মামলার বাদি রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে শত শত মানুষের সামনে যারা আমার সন্তানকে হত্যা করল এবং শাস্তি দেয়া হলো, আজ যদি তারা ক্ষমা পেয়ে যায় তাহলে তারা আবার হত্যা করতে উৎসাহী হবে। নিহত গামার স্ত্রী আনজুয়ারা বলেন, যারা মানুষ খুন করল তাদের ক্ষমা কিভাবে হয়।
http://www.dailynayadiganta.com/fullnews.asp?News_ID=232583&sec=1

ছাত্রলীগ, আহা ছাত্রলীগ!

পাবনায় ছাত্রলীগের হামলা, তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত

নিজ দলের প্রার্থী নিয়োগের দাবিতে ছাত্রলীগের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় পাবনার জেলা প্রশাসক অফিসে তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল নয়টায় এ পরীক্ষা শুরু হয়। পরে এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে এ ব্যাপারে একটি মামলা করা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ইমামউদ্দিন কবির জানান, সকাল নয়টার দিকে পাবনা জেলা স্কুল ও পাবনা সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা শুরু হয়। ১৭টি পদের জন্য এতে অংশ নেন এক হাজার ২৬৫ জন প্রার্থী। পরীক্ষা শুরুর ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে ছাত্রলীগের কর্মীরা নিজ দলের প্রার্থী নিয়োগের দাবিতে পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢুকে হামলা ও ভাঙচুর চালান। এ সময় তাঁরা চেয়ার-টেবিলসহ জেলা প্রশাসন অফিসের চারটি গাড়ি ভাঙচুর করেন। গাড়িগুলো হলো অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ইমামউদ্দিন কবির, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিজয় ভূষণ পাল, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল হালিম ও রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার অফিসের পরিচালক মনির হোসেনের (স্থানীয় সরকার বিভাগ)। মনির হোসেন জানান, এ ঘটনার পর পরীক্ষা স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, দুর্বৃত্তরা হলে ঢুকে প্রশ্ন ও উত্তরপত্র পুড়িয়ে দেয় এবং তাঁদের কাছ থেকে মুঠোফোন ও টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয়।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিয়ার রহমান জানান, এখনো এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু ইসহাক শামীম জানান, এ ঘটনার সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের সম্পর্ক নেই। তিন দিন আগে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ায় বিক্ষুব্ধ জনতা এ ঘটনা ঘটায়।
জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আহমেদ শরীফ এ ঘটনায় তাঁদের সংগঠন জড়িত নয় বলে জানান।

Daily Prothom-Alo 18/09/2010

ভিসি'র ওপর আক্রমণ,

ভিসি'র ওপর আক্রমণ, নিয়োগ নিয়ে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে ছাত্রলীগের তুলকালাম

স্টাফ রিপোর্টার: নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পেরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে তাণ্ডব চালিয়েছে ছাত্রলীগ। এক পর্যায়ে ছাত্রলীগ নেতারা ভিসি ডা. প্রাণগোপাল দত্তের ওপর চড়াও হয়।
গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মিল্টন হলে একাডেমিক কাউন্সিলের সভা শেষে বেরুনোর পথে ভিসি-কে তারা শারীরিকভাবে নাজেহাল করে। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হয়ে যেতে বলে। না হয় টেনে-হিঁচড়ে বের করার হুমকি দেয় ছাত্রলীগ কর্মীরা। এরা সবাই বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন-বিএমএ মহাসচিব ডা. শরফুদ্দীন আহমদ ও আওয়ামী লীগের চিকিৎসক সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ-স্বাচিপের মহাসচিব ডা. ইকবাল আর্সালানের সমর্থক বলে জানা গেছে। ঘটনার সময় এ দুই নেতা উপস্থিত থাকলেও ছাত্রলীগ কর্মীদের রোষানল থেকে ভিসিকে রক্ষা করতে তারা এগিয়ে আসেননি। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তারা ভিসিকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। ঘটনার খবর পেয়ে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে ছাত্রলীগ কর্মীরা তাদের ওপরও চড়াও হয়। এ সময় তারা ছবি তুলতে বাধা দেয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ইকবাল আর্সালান তখন ‘সাংবাদিকরা এখানে কেন- বেরিয়ে যান’ বলে ধমক দেন। তিনি সাংবাদিকদের তাড়িয়ে দিতে তার অনুসারীদের নির্দেশও দেন। ছাত্রলীগ কর্মীরা নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ এনে ভিসি’র ওপর চড়াও হয়। নিয়োগ পরীক্ষায় ফেল করা এক শিক্ষার্থী মানবজমিনকে বলেন, পরীক্ষার আগেই প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। আমরা সেটি বাতিলের দাবি জানাতে এসেছি। ভিসি প্রাণগোপাল দত্ত অনিয়মের এ অভিযোগ মিথ্যে, সর্ম্পূণ অবান্তর ও উদ্দেশ্যমূলক বলে দাবি করেন। সাংবাদিকদের জানান, চিকিৎসক কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষা সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু হয়েছে। আমরা খুবই সতর্কভাবে পরীক্ষা নিয়েছি। মেধার বাইরে কাউকেই উত্তীর্ণ দেখাইনি। এখন যদি কেউ অন্যায় আবদার নিয়ে আসেন তাহলে আমি নিরুপায়। আমি কোন অন্যায় হতে দেবো না। তিনি বলেন, তারা আমার সঙ্গে কথা বলতে চায়নি। বিএমএ ও স্বাচিপের মহাসচিবদের সঙ্গে কথা বলতে এসেছিল। এরা তাদেরই অনুসারী। পরীক্ষা কমিটির সদস্য ও নাক কান গলা বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. আবু শফি আহমদ আমিন জানান, যারা ভিসি’র ওপর চড়াও হয়েছিল তারা বিএসএমএমইউ’র কেউ না। এরা ভাইভা বঞ্চিতদেরই একটি অংশ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবারের চিকিৎসক কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ এনে গতকাল ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মিল্টন হলের সামনে অবস্থান নেয় ছাত্রলীগের ২০-২৫ জন কর্মী। এ সময় ভেতরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের পূর্ব-নির্ধারিত সভা চলছিল। নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ আনলেও এদের অনেকে পরীক্ষায়ই অংশ নেয়নি। তারা হলের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে তখন বিএমএ মহাসচিব প্রফেসর ডা. শরফুদ্দীন আহমদ ও স্বাচিপের মহাসচিব প্রফেসর ডা. ইকবাল আর্সালানের সঙ্গে উচ্চ স্বরে কথা বলছিল। তারা জানায়, ভিসি’র সঙ্গে না, তারা শরফুদ্দীন ও ইকবাল আর্সালানের সঙ্গে কথা বলতে এসেছে। ভেতরে সভা চলতে থাকলেও এই দুই নেতার নেতৃত্বে ছাত্রলীগ কর্মীরা তখন মিল্টন হলের গেইট অবরুদ্ধ করে রাখে। সোয়া ১২টার দিকে ভিসি প্রাণগোপাল দত্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের নিয়ে বের হয়ে এলে হলের গেইটে ছাত্রলীগ কর্মীরা হই-হুল্লোড় শুরু করে দেয়। ভিসি এর কারণ জানতে চেয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা ‘আপনার সঙ্গে কোন কথা নয়, আপনি তো কথা বলার মুখ রাখেননি।’ বলে উচ্চস্বরে তাকে গালিগালাজ শুরু করে। ডা. শরফুদ্দীন আহমদ ও ডা. ইকবাল আর্সালানের উপস্থিতিতেই কয়েকজন কর্মী তার ওপর আক্রমণ চালাতে তেড়ে আসে। কেউ কেউ তার গায়ে হাত তোলারও চেষ্টা করে। এভাবে রোষানলে পড়লে ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রো-ভিসি প্রফেসর শহিদুল্লাহ, ট্রেজারার প্রফেসর ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন, রেজিস্ট্রার আবদুল গফুর, প্রফেসর ডা. আবু শফি আহমদ আমিন, হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. আবদুল মজিদ ভূঁইয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক ডা. আবু নাসার রেজভী এগিয়ে আসেন। তারা ক্ষুদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মীদের কবল থেকে উদ্ধার করে ভিসিকে দোতলায় তার রুমে নিয়ে যান। ঘটনার পরপরই সাড়ে ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত ছাত্রলীগের কর্মীদের নিয়ে মিল্টন হলে ১ ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. বদিউজ্জামান ডাবলু, বিএমএ’র মহাসচিব শরফুদ্দীন আহমদ এবং স্বাচিপের মহাসচিব ইকবাল আর্সালান। এ সম্পর্কে ইকবাল আর্সালানের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। বিএমএ নেতা শরফুদ্দীন আহমদ বলেন, যারা নিয়োগ পরীক্ষার লিখিত অংশে উত্তীর্ণ হতে পারেনি তাদেরই একটা অংশ ভিসি’র সঙ্গে কথা বলতে এসেছিল। এখানে কথাকাটাকাটি ছাড়া তেমন কোন ঘটনা ঘটেনি। তিনিও মিল্টন হলের বৈঠকের বিষয়ে কিছু বলেননি। তবে বৈঠকের একটি সূত্র জানিয়েছে, নিয়োগ নিয়ে তুলকালাম ঘটনার পর সাংগঠনিক বিষয় নিয়েই ছাত্রলীগ কর্মীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন তিন প্রভাবশালী নেতা। তারা সেখানে কর্মীদের সমর্থন দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাজধানীর বুয়েটে এ নিয়োগ পরীক্ষা হয়। এর আগে গত ১৬ই জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা হয়েছিল। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগ এলে পরে তাৎক্ষণিকভাবে সেটা বাতিল করেন ভিসি প্রাণগোপাল দত্ত। শুক্রবার ওই পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। এতে ৬৩১ জনকে ডাকা হলে ৫০৫ জন অংশ নেয়। তাদের মধ্য থেকে ভাইভার জন্য ২০৭ জনকে নির্বাচিত করা হয়েছে। এখান থেকে ৭০ জনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হবে।

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla