Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

২১শে ফেব্রুয়ারি নিয়ে কিছু প্রাসংগিক ভাবনা

21st February
মনটা আজ ভাল নেই। গাছ গাছড়ার প্রতি দুর্বলতা সাড়া জীবনের। যখন যেখানেই বাস করেছি দু’একটা গাছ কাছাকাছি রাখার চেষ্টা করেছি। আমেরিকার এই রুক্ষ্ম পশ্চিমে এসেও এর ব্যতিক্রম হয়নি।২০০৯'এর জানুয়ারীতে দেশে গিয়েছিলাম প্রায় ৪ বছর পর। ফেরার পথে স্যুটকেস ভরে জিনিষপত্র টানার পর্ব শেষ করেছি সেই কবে। কিন্তূ একেবারেই কিছু আনা হয়না এমনটা বোধহয় সত্য নয়। এ যাত্রায় বেশ ক’প্যাকেট বীঁজ এনেছি চাষাবাদ করব বলে। ঘরে ফিরেই স্থানীয় হোম-ডিপো হতে আলিশান ক’টা টব কিনে টমেটোর বীঁজ পুতে দিলাম দেশীয় টমেটো খাব বলে। গরম পেরিয়ে শীত এল। বীঁজ হতে গাছ বেরিয়েছিল সেই কবে, ডাল-পালাও গজিয়েছিল দেখার মত। কিন্তূ হায়, টমেটোর মুখ আর দেখা হলনা! উপড়ে ফেলতে হল ভালবাসার গাছগুলোকে।

যাই হোক, আমার লেখার বিষয় বিদেশে বসে দেশী টমেটো খাওয়ার তোঘলকী স্বাদ নিয়ে নয়। আসছি সে প্রসংগে।

মোহম্মদপুর অফিসটায় প্রথম যেদিন জয়েন করি সেদিনই মনে মনে হিসাব কষে নেই কোথায় সেট করব ফুলের টবগুলো। কাজের ফাঁকে ফাঁকে বিভিন্ন সূত্র হতে জোগাড় করতে শুরু করি হরেক রকম ফুলের গাছ ও বীচি। বছর না ঘুরতেই বদলে যায় অফিসটার চেহারা। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষায় নিজের সন্তানের মত আগলে রাখি গাছগুলোকে। ফেব্রুয়ারীর সোনাঝরা এক সকাল। অফিসে ঢুকতেই দেখলাম গাছগুলোর উপর দিয়ে বয়ে গেছে প্রচন্ড ঝড়। শুধু ফুল নয়, গাছগুলোও কেউ উপড়ে নিয়ে গেছে। অফিসের পিয়ন কাচুমাচু সূরে বলল, ’স্যার, পাড়ার পুলাপাইনে শহীদ মিনারে ফুল দিব, তাই গত রাইতে উঠ্যাইয়া লইয়্যা গেছে’, তার কথায় শোকের ছায়া দূরে থাক বরং উট্‌কো ঝামেলা হতে মুক্তি পাওয়ার ছায়া দেখতে পেলাম। কিন্তূ আমার মনে হল হূৎপিন্ডের অর্ধেকটা কেউ ছিড়ে নিয়ে গেছে। ঝিম মেরে বসে রইলাম অনেকক্ষন। হ্যাঁ, দিনটা ছিল ২১শে ফেব্রুয়ারি। প্রাইভেট কোম্পানী, বছরের প্রায় ৩৬৫ দিনই অফিস করতে হয়। সে দিনটাও এর ব্যতিক্রম ছিলনা।

দিনটার আয়োজন ছিল চোখে পরার মত, অফিসে আসার পথেই তা খেয়াল করেছি। চারদিকে ভাবগম্ভীর অথচ উৎসবমূখর পরিবেশ। পরনে শান্ত সৌম্য পোশাক আর হাতে ফুল নিয়ে অনেকেই ছুটছে শহীদ মিনারের দিকে। টুকটাক যা কাজ ছিল তা সেড়ে আমিও বেরিয়ে পরলাম একই গন্তব্যে। মোহম্মদপুর বাজারটা পার হলেই চোখে পরবে ষ্টেডিয়ামটা এবং কাছাকাছি শহীদ মিনারটা। মাসের ১ তারিখ হতেই শুরু হয়েছিল ঘষামাজার কাজ। একদল উৎসাহী তরুন দিনরাত পরিশ্রম করে বদলে দিয়েছে মিনারটার চেহারা। আলপনা আর ফুলের নদীতে ডুবে আছে পাদদেশ। বাংলা অক্ষর আর শহীদদের স্মরণে লেখা ব্যানার ফেষ্টুনে ছেয়ে গেছে চারদিক। সাথে বাজছে ২১শে ফেব্রুয়ারির অমর সংগীত। মিনারের এক কোনায় আমার ভালাবাসার ফুলগুলো দেখে ভূলে গেলাম সকালের কষ্টগুলো। মন্ত্রমুগ্ধের মত গিলছিলাম সবকিছু। স্মৃতির অলি-গলি হাতড়ে কখন চলে গিয়েছিলাম কৈশোরে খেয়াল করিনি। পাকিস্তান আমলে পাথর মেরে ইংরেজী সাইনবোর্ড ভাংগার স্মৃতি মনে হল এই তো সেদিনের কথা। অথচ দেখতে দেখতে কতগুলো বছর পার হয়ে গেল। ’ভাইয়া এই ব্যাজটা নিতে হবে আপনাকে’, অফিস পিওনের সেই পুলাপাইনদের একজনের কর্কশ কথায় ফিরে এলাম ১৯৯২ সালে। নিতেই হল কালো ফিতার ব্যাজটা, বিনিময়ে পকেট হতে খসে গেল বেশ কিছু টাকা। রিক্সা নিয়ে আসাদগেটের দিকে এগিয়ে যেতে পুলাপাইনের আরও দু’তিনটা দল পথ আগলে দাড়াল, সাবার হাতে একই জিনিষ। প্রায় জবরদস্তি করে খসিয়ে নিল আরও কিছু টাকা।

পরদিন আফিস যাওয়ার পথে আবারও দেখলাম শহীদ মিনারটাকে। ব্যানারগুলো নেই, ফুলগুলোর অর্ধেকটাই হাওয়া, বাঁকি অর্ধেক মরি মরি করছে। চারদিকে বিদায়ের চিহ্ন। সপ্তাহ জুড়েই চল্‌ল এ দেখাদেখি। এভাবে ফেব্রুয়ারী গড়িয়ে মার্চ ঠাই নিল ক্যালেন্ডারের পাতায়। প্রথম তারিখেই চোখে পরল দৃশ্যটা; ২১শে ফেব্রুয়ারির সব চিহ্ন মুছে গেছে শহীদ মিনার হতে। ব্যানারগুলোর জায়গায় ঠাঁই নিয়েছে ভাসমান পতিতাদের শুকাতে দেয়া বাবুরহাটী শাড়ি। ওটাই ওদের স্থায়ী ঠিকানা। সারা রাত খদ্দেরের সন্ধানে ঘুরে বেড়ায়, সকাল হতেই ফিরে আসে আপন ঠিকানায়। এভাবেই কেটে যায় সারাটা বছর, ব্যতিক্রম শুধু ফেব্রুয়ারি মাসটা।

আমার এক দূর সম্পর্কীয় আত্মীয়, জাদ্‌রেল রাজনীতিবিদ। ভদ্রলোকের পোশাকের ক্লজেট্‌টার কথা না বল্‌লেই নয়। ভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্যে থরে থরে সাজানো থাকে ভিন্ন পোশাক। ২১শে ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে শহীদ মিনার যাওয়ার জন্যে এক সেট, সন্ধ্যায় শহীদ্‌দের স্মরণে মহতী সভায় বক্তব্য দেয়ার এক সেট এবং রাতে মদ ও জুয়ার আসরে যোগ দেয়ার ভিন্ন সেট। শহীদ দিবসে রাজনীতিবিদ্‌দের ভাল ভাল কথা শুনলেই কেন জানি না ঐ আত্মীয়ের ক্লজেট্‌টার কথা মনে পরে যায়।

২১শে ফেব্রুয়ারি, জাতীয় শহীদ এবং আর্ন্তজাতিক ভাষা দিবস। বাংলা ভাষাবাসী প্রতিটা মানুষের রক্তে মিশে আছে এ দিনটার মূল্যবোধ। সময়ের চাহিদা মিটিয়ে অদ্যাবধি দিবসটা টিকে আছে আপন মহিমায়, এবং ভবিষতে হাজার বছর টিকে থাকবে তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। নতুন সহস্রাব্দীর সাথে বদলেছে আমাদের প্রয়োজন এবং চাহিদা, বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির উন্নতি হচ্ছে বিস্ফোরন্মূখ গতিতে। যে ইংরেজীকে তাড়ানোর জন্যে এক সময় রনসাজে সজ্জিত হতাম সে ইংরেজীর দৈন্যতাই আমাদেরকে এখন অপদস্থ করছে পৃথিবীর অলিগলিতে । সন্দেহ নেই বিশ্বায়নের প্রেক্ষপটে বদলেছে জাতিতে জাতিতে সহাবস্থানের নিয়ম কানুন। স্বভাবতই প্রশ্ন জাগবে, এমন একটা বাস্তবতায় আমাদের জাতীয় জীবনে ২১শে ফেব্রুয়ারির ভূমিকা কি পূনর্মূল্যায়নের দাবী রাখে? বিদেশী বর্গীদের বিদায় করেছি অনেকদিন হয়ে গেল, ভাষা নিয়ে তেজারতী করার স্পর্ধাও কবর দিয়েছি স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে। সময়ের চাকায় চড়ে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনকে আমরা কোন গলিতে নিয়ে গেছি আসুন তার দু’একটা উদাহরনের সাথে পরিচিত হইঃ একটা সময় ছিল যখন ২১শে’র প্রথম প্রহরে মিনারে ফুল দেয়া নিয়ে রক্তারক্তি ছিল রাজনৈতিক সাংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। মিনারের পাদ্‌দেশে ধর্ষনের মত ন্যক্কারজনক ঘটনাও আছে দিনটা উৎযাপনের তালিকায়। অন্যের সাজানো বাগান তচনচ করে মিনারে ফুল অর্পনের কথা নাইবা উল্লেখ করলাম। এক কথায়, সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে অবক্ষয়ের যে ভয়াবহ চিত্র তা হতে রেহাই পায়নি শহীদ দিবস পালনের ইতিহাসও।

৩৯ বছরেও একটা স্বাধীন সার্বভৌম দেশের শিক্ষিতের হার ৫০ ভাগ অতিক্রম করেনি, এ সংখ্যাটাই কি হতে পারেনা ভাষা দিবস পালনে আমাদের সাফল্যের মাপকাঠি? মিনারকে বৈধ-অবৈধ ফুলের সাগরে ভাসিয়ে, ভন্ড নেতা-নেত্রীর ততোধিক ভন্ড ভাষনে আপ্লুত হয়ে আমরা সাধারণ মানুষেরা আন্দেলিত হই শহীদ্‌দের আত্মত্যাগে। কিন্তূ ফুল একদিন শুকিয়ে যায়, সে ফুল সরিয়ে মোহম্মদপুর মিনারের মত অনেক মিনারে পতিতারা ফিরে পায় তাদের স্থায়ী আবাস, নেতা-নেত্রীরা দিনান্তে শহীদ্‌দের জন্যে নির্গমিত চোখের জল মুছে হাতে তুলে নেন লাল নীল পানি। আমরা চাইলেই কি পারিনা অন্তত এই দিনটাকে গতানুগতিক বলয় হতে বের করে নির্দ্দিষ্ট কিছু কর্মসূচী নিয়ে পালন করতে? এই যেমন, শিক্ষার হারকে সন্মানজনক পর্য্যায়ে নিয়ে আসা, শিক্ষা ব্যবস্থাকে সমাসাময়িক চাহিদার সাথে খাপ খাইয়ের পূনর্বিন্যাস করা, শিক্ষাংগন হতে ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি দূর পূর্বক সন্ত্রাষ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা, এমন আরও কিছু কর্মসূচী। ফুলের মালায় শহীদ মিনার ভাসানোর চাইতে শিক্ষা ব্যবস্থার জ্বলন্ত সমস্যাগুলো সমাধান করা গেলে সালাম, রফিক, বরকত ও জাব্বরদের আত্মদানের প্রতি অধিকতর সন্মান প্রদর্শন করা যেত, আশাকরি আমার এ ভাবনা অন্যায় কোন ভাবনা নয়।

শীত এবং বসন্ত পেরিয়ে আবারও ফিরে আসবে গ্রীষ্মকাল। দেশ হতে আনা বীঁজগুলোর ভান্ডার শেষ হয়নি, সযত্নে উঠিয়ে রেখেছি সামনের গরমে রোপনের আশায়। না ফলুক দেশী টমেটো, অন্তত আশায় তো কাটানো যাবে ক’টা দিন! একই আশায় সাড়াটা জীবন বুক বেধে আছি, আমার দেশ হতে একদিন, কোন একদিন দূর হবে ভন্ডামীর রাজত্ব, জয় হবে সত্য, ন্যায় আর বেঁচে থাকার নূন্যতম মূল্যবোধ।

সবাইকে ফেব্রুয়ারি মাসের শুভেচ্ছা।।

NB: ২১শে ফেব্রুয়ারির চলমান সাংস্কৃতিকে কটাক্ষ অথবা অবমূল্যায়ন করা আমার লেখার উদ্দেশ্য ছিলানা, আশাকরি কেউ ভুল বুঝবেন্‌না।

Comments

২১শের আবেগ পাহাড় বাইয়্যা যায়...

21st Frbruary
একুশে ফেব্রুয়ারির দিন ফুলে ফুলে ভরে গিয়েছিল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। আর আবর্জনার স্তূপে ভরা এই ছবিটি পরের দিনের (২২.০২.১০)। ছবিটি বেলা সোয়া একটায় তোলা।
ছবি: মনিরুল আলম, প্রথম আলো

মন্তব্য:
"পরিচ্ছন্নতার" সাথে আমাদের মনেহয় আদৌ পরিচয় হয়নি। এই সামান্য জায়গাটুকু পরিস্কার করতে কত সময়ের প্রয়োজন? কত জনবল লাগে? দেশে এতো দল-লীগ-পার্টি-সংগঠন-দেশপ্রেমিক, অথচ কেউ বলে না যে, ২২-ই ফেব্রুয়ারীর সকালে আমরা শহীদ মিনার পরিস্কারের দায়িত্ব নেব। এই হোল ভাষার জন্য ভালবাসা!!!

শহীদ মিনারে সংঘর্ষ : নিহত ২

শহীদ মিনারে সংঘর্ষ : নিহত ২

সমকাল, Mon 22 Feb 2010
একুশে ফেব্রুয়ারিতে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়াসহ অন্যান্য কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ভাংচুর ও অগি্নসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে দু'জন নিহত এবং কমপক্ষে ৮৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সংঘর্ষে একজন এবং পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে বিদ্রোহী গ্রুপের হামলায় আরেকজন নিহত হন। এছাড়া গাইবান্ধা, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, ভোলা, লালমনিরহাট, চাঁদপুর, রংপুর, সিরাজগঞ্জ ও বরগুনায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সমকাল প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
নোয়াখালী : শনিবার রাতে উপজেলার আমিশাপাড়া বাজারে একুশের প্রথম প্রহরে ফুল দিতে জড়ো হওয়ার পর আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষে নিহত হন শাহ আলম (৪২) নামে এক হোটেল ব্যবসায়ী। এ সময় অন্তত ১০টি দোকান ভাংচুর, একটি দোকান লুটপাট ও একটি দোকানে অগি্নসংযোগ করা হয়। উভয়পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি, সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় আহত হন কমপক্ষে ১০ জন। এদিকে শাহ আলমের মৃত্যুর পর তাকে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি উভয় পক্ষই
নিজেদের কর্মী বলে দাবি করে। গতকাল রোববার বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে শাহ আলমের লাশ গ্রামের বাড়ি আমিশাপাড়া ইউনিয়নের ভদ্রগাঁওয়ে পেঁৗছলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে দোকানপাট ভাংচুর ও ব্যবসায়ী হত্যার প্রতিবাদে সকাল থেকেই দোকানপাট বন্ধ ছিল এবং বিকেলে ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে আমিশাপাড়া মধ্যবাজারে প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। এ নিয়ে আমিশাপাড়া বাজারে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (গতকাল বিকেল ৫টা) এ নিয়ে কোনো মামলা হয়নি এবং কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। সন্ধ্যার পর শাহ আলমের জানাজা হয়।
জানা গেছে, সংঘর্ষ চলাকালে দুই পক্ষের মাঝখানে পড়ে হামলার শিকার হন বাজারের হোটেল ব্যবসায়ী শাহ আলম। আশঙ্কাজনক অবস্থায় সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেল্গক্সে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) : ভাণ্ডারিয়ায় শহীদ মিনারে একুশের শ্রদ্ধাঞ্জলির ব্যানার টানানোকে কেন্দ্র করে শনিবার দুপুরে ছাত্রলীগের বিদ্রোহী গ্রুপের হামলায় উপজেলা ছাত্রলীগ আহ্বায়ক এহসান হাওলাদারসহ পাঁচজন আহত হন। আহতদের মধ্যে ছাত্রলীগ নেতা সুমন মিয়া গতকাল রোববার রাজধানীর শ্যামলীর ট্রমা ক্লিনিকে মারা যান। তার মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাণ্ডারিয়ায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। বিক্ষোভকারীরা দফায় দফায় মিছিল করে স্থানীয় শহীদ মিনার চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।
জানা গেছে, নবগঠিত উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটিকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে ওই হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ওই হামলায় এলাকার বহিরাগত চিহ্নিত সন্ত্রাসীরাও জড়িত ছিল।
পিরোজপুর-২ (ভাণ্ডারিয়া-কাউখালী-নেছারাবাদ) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহ আলম ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে বলেন, এ ঘটনায় যে-ই জড়িত হোক, তিনি দোষীদের শাস্তির দাবি জানান।
গাইবান্ধা/গোবিন্দগঞ্জ : একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে আগে ফুল দেওয়াকে কেন্দ্র করে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে আওয়ামী লীগের দু'গ্রুপের মধ্যে এক সংঘর্ষে পুলিশসহ উভয় পক্ষের ২১ জন আহত হন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, একুশে ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা ১ মিনিটে সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন চৌধুরী ও উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার সময় তাদের সমর্থকরা প্রথমে কথাকাটাকাটি এবং পরে লাঠিসোটা ও ইট-পাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পুলিশের এসআই মিজান, এএসআই মিজানুর রহমান, কনস্টেবল বুদ্ধ লাল অধিকারীসহ উভয় পক্ষের ২১ নেতাকর্মী আহত হন। তাদের মধ্যে সংসদ সদস্য সমর্থক লাইজু (২৮) ও উপজেলা চেয়ারম্যান সমর্থক শাহীনকে (৩৫) গুরুতর অবস্থায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) : মহান একুশের প্রথম প্রহরে ফরিদগঞ্জ উপজেলা সদরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিতে এসে উপজেলা বিএনপির দু'পক্ষের মধ্যে মারামারি এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। এতে স্থানীয় এমপি লায়ন হারুনুর রশিদ সমর্থিত গ্রুপের প্রায় ১০ জন আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একুশের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন পাটোয়ারীর নেতৃত্বে উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা শহীদ মিনারে ফুল দিতে আসেন। এ সময় সেখানে ওত পেতে থাকা উপজেলা বিএনপির বিদ্রোহী গ্রুপ হিসেবে পরিচিত পৌর প্রশাসক এবং সাবেক পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মঞ্জিল হোসেনের সমর্থকরা তাদের ওপর লাঠিসোটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে শহীদ মিনারে অর্পণ করার জন্য আনা পুষ্পমাল্যটি ছিনিয়ে নেয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং লাঠিচার্জ করে দু'পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
রংপুর : জেলার পীরগাছা উপজেলার পাওটানা বাজারে গতকাল রোববার মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ বাদল ও মতিয়ার গ্রুপ পৃথকভাবে আলোচনা সভার ডাক দেয়। এ নিয়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। দুপুরে ছাওলা ইউপি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হাবিবুর রহমান বাদল গ্রুপের সঙ্গে ওই ইউপির আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি মতিয়ার গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ বাধে। এতে ছাওলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রশিদ, মতিয়ার রহমান, রঞ্জিত কুমার, রেজাউল হক, দীপু, সামছুল, ছামাদসহ ১০ আহত হয়। এদের মধ্যে ৪ জনকে পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেল্গক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর : জেলার কমলনগর উপজেলায় একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়াকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কসহ উভয় দলের ছয়জন আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে রাত ১২টা ১ মিনিটে উপজেলা প্রশাসনের ফুল দেওয়ার পর বিএনপির নেতাকর্মীরা ফুল দিতে গেলে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বাধা দেন। এতে উভয় দলের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল অদুদ হাওলাদার, ছাত্রদল নেতা মামুন, আজাদ, ছাত্রলীগ নেতা রাসেল, মিরণ ও হিরণ আহত হন।
হাতিয়া (নোয়াখালী) : বিনা উস্কানিতে স্থানীয় বুড়িরচর ও তমরদ্দি ইউনিয়নে পুষ্পমাল্য শেষে পৃথক হামলায় ৮ জন আহত হন। তারা হলেন_ বুড়িরচর ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি মোঃ নোমান ছিদ্দিক (৪২), বিএনপি নেতা আজাদ হোসেন (৬০), তমরদ্দি ইউনিয়ন শ্রমিক দলের মোয়াজ্জম হোসেন (৫৩), আবদুল হাসেম (৩৫), খোকন (৩০), আজাদ (৪০) ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাসুদ উদ্দিনকে (৩০) বেদম মারধর করে নগদ ১ লাখ টাকা ও মোবাইল সেট নিয়ে যায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীরা। যুবদল নেতা নোমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়।
ফেনী : সোনাগাজী ও দাগনভূঞায় ফুল দিতে গেলে বিএনপি কর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। প্রথম প্রহরে সোনাগাজী শহীদ মিনারে ফুল দিতে গেলে বিএনপি নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে একদল যুবলীগ-ছাত্রলীগ কর্মী জুতা নিক্ষেপ করে। অল্পের জন্য স্থানীয় এমপি রক্ষা পান। এতে ৪-৫ জন বিএনপি কর্মী আহত হন। দাগনভূঞা শহীদ মিনারে রাত ১২টার দিকে বিএনপি সভাপতি আকবর হোসেনের নেতৃত্বে একটি মিছিল শহীদ মিনারে পেঁৗছলে একদল যুবলীগ-ছাত্রলীগ কর্মী তাদের ওপর হামলা চালায়। জেলা বিএনপি নেতা জিয়াউদ্দিন মিস্টার জানান, প্রশাসনের সামনেই প্রকাশ্যে হামলা করা হয়েছে।
বরগুনা : শহীদ মিনারে ফুল দেওয়াকে কেন্দ্র করে শনিবার রাতে বরগুনা সদর উপজেলার আমতলী সোনারবাংলা গ্রামে আবদুর রাজ্জাকের ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ূয়া ছেলে সুমনকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ : শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে শনিবার রাত সোয়া ১২টার দিকে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি পৌর কাউন্সিলর বিএনপি সমর্থক আতাব আলী সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন।
এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেল্গক্সে চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়।
লালমনিরহাট : শনিবার রাতে লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট উচ্চ বিদালয়ের শহীদ মিনার ভেঙে ফেলেছে সন্ত্রাসীরা। সন্ত্রাসীরা রাতে চুপিসারে ওই বিদ্যালয়ের দেয়াল টপকে সেখানে প্রবেশ করে শহীদ মিনারটির দুটি স্তম্ভ সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলে। খবর পেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রাজা মিয়া ও পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এ ঘটনায় লালমনিরহাট সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।
ভোলা : ভোলার ধনিয়া সিনিয়র মাদ্রাসায় নির্মিত অস্থায়ী শহীদ মিনার ও শহরের চরনোয়াবাদ এলাকায় রাতে একুশের গানের সাউন্ড বক্স ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ নজরুল ইসলাম নামের এক মাদ্রাসা ছাত্রকে আটক করেছে।

লেখা পড়ে যা মনে হলো

"২১শে ফেব্রুয়ারি, জাতীয় শহীদ এবং আর্ন্তজাতিক ভাষা দিবস। বাংলা ভাষাবাসী প্রতিটা মানুষের রক্তে মিশে আছে এ দিনটার মূল্যবোধ" - অতিরিক্ত আবেগ প্রবন ভাবে হয়ত কথাটি বলে ফেলেছেন। কিন্তু এর বাস্তবতা কতটুকু । আপনার কি মনে হয় কতশতাংশ বাংলাদেশী বলতে পারবে ২১শে ফেব্রুয়ারী কি দিবস? ভাতের অভাবে যে দেশের শিল্পী মানচিত্র খেতে চায় তার কাছে এই সব আবেগের কোন দাম নেই।

ভূয়া আবেগ

ধর্ম আর ভাষা আমরা জন্মসূত্রে পেয়ে থাকি। জন্মসূত্রে আমি বাংলাদেশী এবং বাংলাদেশে আমি বড় হয়ে উঠেছি। বাংলা আমার ভাষা, বাংলাদেশ আমার দেশ। আমার জন্ম যদি অন্য কোন দেশে হোত, তাহলে আমি সেই দেশের ভাষাই গ্রহন করতাম। মনের ভাব প্রকাশের জন্যই ভাষার প্রয়োজন, সেটা বাংলা বা অন্য কোন ভাষাই হোক না কেন।
আমরা বাংলাদেশীরা ভাষা নিয়ে যেরকম আবেগ দেখাই, আমি মনে করি তার আধিকাংশই ভূয়া!। বাংলাদেশের যেসব ঘরে টেলিভিশন আছে, সন্ধ্যার পর গিয়ে দেখুন তারা হিন্দি চ্যানেল দেখছে। বাংলা এফ.এম রেডিও শুনুন, দেখবেন রেডিও জকিরা কিভাবে বাংলাকে ধর্ষন করছে। বেইলী রোড, ধানমন্ডি, গুলশান বা বনানী যান, দেখবেন বাহারী ইংরেজী এবং চায়নীজ নামের রেষ্টুরেন্ট। এই নামগুলা দেখে স্বয়ং আমেরিকান, চায়নীজ বা ব্রিটিশরাও টাস্‌কি খায়। শুধু ২১শে ফেব্রুয়ারী আসলেই আমরা বাংলা ভাষা নিয়ে বেহুশ হই। হায়রে বাংলাদেশী, তোরা কবে মানুষ হবি!!!

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla

JUST VIEWED

Last viewed: