Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

তারেক জিয়ার কাছে 'শহীদ' জিয়ার পত্র - ১ম পর্ব

AzRahman's picture

অতি আদরের পুত্রবর,

Photobucketএই চিঠি যখন তোমার হাতে পৌছাইবে হয়ত মিলিয়ন বছর পার হইয়া যাইবে, এই দুনিয়ার নিয়ম কানুনই এই রকম বিদ্ঘূটে। তোমার মেরুদন্ডের জোড়াজাড়ি গুলি আবারও খুলিয়া পরিতেছে জানিয়া বড়ই কষ্ট পাইতেছি। তোমার প্রথম শ্বশুর আব্বা তাহার কন্যার অপমান সাইতে না পারিয়া তোমার মেরুদন্ডের উপর আঘাত করিয়া যে অন্যায় করিয়াছে তাহার বিচারের ভার আমার উপর ছাড়িয়া দাও। তাহারা যখন এই দুনিয়ার ভিসা পাইবে, হাড় ভাংগা কাহাকে বলে বুঝাইয়া দিব। জানিতে পারিয়া বড়ই কষ্ট পাইতেছি যে, তুমি তোমার সৎ ভাইয়ের মায়ায় দেশ ছাড়িতে চাহিতেছনা। ইহা কেন? তাহার ত আপন আব্বাহুজুর ছাড়াও একজন সৎ আব্বা রহিয়াছে। ড্রাগ আসক্ত আর সিফিলিসে আক্রান্ত এই দুঃশ্চরিত্রের সৎ ভাইয়ের কথা ভাবিয়া নিজেকে এত কষ্ট দিবার কোন প্রয়োজন আছে বলিয়া আমি মনে করিনা। নিজের ভালমন্দ নিজকেই দেখিতে হইবে।

তোমাকে হয়ত ইতিপূর্বে জানাইয়া থাকিব, ইশ্বর আমাকে হাবিয়ার পুতুলকলি সেলে ট্রান্সফার করিয়াছে। বাবা, ইহা বড়ই কষ্টের, তোমার চম্পাকলি আমার পুতুলকলি হইতে ১ কোটি গুন ভাল। জানিয়া রাখ, দোজখ্‌-এ হাবিয়ার এটাই সর্ব নিকৃষ্ট জায়গা। আমার আশেপাশে তোমার অনেক আংকেলরা বাস করিয়া থাকে যাহাদের সাথে আমার এখন বড়ই মধুর সম্পর্ক, তবে তোমার ধর্মনানা শেখ মুজিবকে নিয়া বড় বিপদে আছি। কি কোন কায়দা-কানুনে উনি এখন জান্নাতে হিজরত করিয়া সর্বদা আমার বিরুদ্বে বিষেদ্গার করিতেছেন। ইশ্বরও উনার নাচে তাল দিতেছেন। তোমার মোশতাক আংকেল আমার কাছে আবারও তোমার ধর্মনানার বিচার চাহিতেছেন। ইহা নিয়া নিজেদের ভেতর আবারও পরিকল্পনা করিতেছিলাম, কিন্তূ তোমার লেংড়া তাহের আংকেল বিশ্বাষঘাতকতা করিয়া ইশ্বরকে বলিয়া দিয়াছে। তাহা ছাড়া, তোমার যে ২৪০ জন আংকেলদের আমি জবাই করিয়া ছিলাম তাহারা একহাট্টা হইয়া আমার বিরুদ্বে নালিশ করিতেছে। ইশ্বর গোস্বা করিয়া আমাকে পুতুলকলি নামের এই শ্মশানে পাঠাইয়া দিয়াছে। কোন ষড়যন্ত্রই কাজ করিতেছেনা।

যাহাই হোক, এইবার আসা যাক যেই কারনে তোমাকে লিখিতেছি। বাবা, আমার মর্ত্যলোক ত্যাগ করিবার পর তোমরা আমার স্যুটকেসকে রাতারাতি ভাংগিয়া আর লুংগি ছিড়িয়া যে ব্যবসা ফাদিয়াছিলে এই রকম একটি ব্যবসা এইখানে ফাদিয়া ইশ্বরের
কৃপা পাইবার বাসনা করিতেছি। ভিসা পাইবার আগে কষ্ট করিয়া এই রকম একটা স্যুটকেস আর কিছু কাপড় ছিড়িয়া আমার জন্যে নিয়া আসিবা। ইশ্বরের মন গলাইবার ইহাই শেষ রাস্তা।

আরেকটা কথা, আমি বান্দির বাচ্চা মোসাদ্দেইক্কার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করিতেছি, তুমি এই ব্যটা হইতে দূরে থাকিবার চেষ্টা করিবা। অফিসের দাড়োয়ান পিয়নের সাথে এই রকম করিয়া তোমার আম্মাহুজুর আমাকে বড়ই লজ্জায় ফেলিতেছে। শুনিতেছি তোমার আম্মাহুজুর আর ফালু চোরা গোপনে ইশ্বরের সাথে যোগাযোগ করিয়া এই পুতুলকলি সেল বানাইতে অর্থ যোগাইয়াছে। উনার চরিত্র নিয়া একবার মহা গোলামাল হইয়াছিল যাহা তুমি জানিয়া থাকিবে, উনি শেখ মুজিবকে ধর্ম-বাবা ডাকিয়া ঐ যাত্রায় ইজ্জত বাচাইয়াছিল।

যাহাই হোক, এ সব বলিয়া তোমার মন খারাপ করাইতে চাইনা। তোমার ভিসা হইয়া গেলে আমাকে জানাইও, দেখি কি করা যায়। ফেরেস্তাদের আমার দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করিতেছি। ইশ্বরকে তাহার রাজত্ত্বে বাদশাহগীরি করা আমি জটিল করিয়া তুলিব।

ভাল থাকিও। নতুন বৌমাকে পিটাইওনা, কারন তাহার বাবা এডমিরাল এম এ খান এখন আমার মেহমান। তোমার বর্তমান শ্বাশুড়ি আম্মা বড়ই দজ্জাল এবং পুরুষ খেকো। সাবধানে চলিবা, নতুন করিয়া মেরুদন্ডের ক্ষতি করিবানা।

আজ এই পর্য্যন্তই থাকিল। তোমার আম্মাহুজুরকে এই পত্রের কথা বলিবানা।

Comments

আব্বাজানের চিঠির জবাব ১

(নভেম্বর ১ ২০০৮)
শ্রদ্ধেয় আব্বাজানপ্রিতিবরেষু---

দ্বীতীয়বার আপনার পত্রখানি পাইয়া স্থির থাকিতে পারিলাম না।আপনি যে পুতুলকেলি সেলে থাকিয়া ও আমাদের কথা স্মরন করিতেছেন সেই কথা মনে করিয়া বড়ই চমৎকার হইলাম।তবে বিষয়বস্তু ঠিক রাখিয়া চিঠিখানির কলেবর কিছুটা বাড়াইতে পারিতেন এবং কিছু শংশোধনী আনিতে পারিতেন।যাই হউক আপনার কথার জবাব দেওয়ার আগে আমি প্রাসংগিক ক্রমে বলিয়া নিতে চাহিতেছি যে আমি এখন আর চম্পাকলি সেলে বাস করিতেছি না।ইহা অনেকটা অতীত হইয়া গিয়াছে।হাবিয়ার গরমে আপনার কাছে এই খবর মনে হয় এখন ও পৌছায় নাই।আমার মেরুদন্ডের হাড় ভাংগার কথা আপনি শুনিয়া চিন্তিত হইয়াছেন ভাল কথা কিন্তু আমি এই ব্যাপারে আপনাকে কিছুটা বেকুব না ভাবিয়া পারিলাম না, কেননা আপনার এই ব্যাপারে কোন নলেজ আছে বলিয়া মনে করিতেছি না।আসলে আপনি তো সারাজীবন ডান্ডা ঘোরাইয়া গিয়াছেন,চিকন বুদ্ধির কখন ও ধার ধারেন নাই।

আপনি জানেন যে এই পারে আমার বহু চামচা আছে,এইগুলিকে আমি লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়া পালিয়াছি।আমি যখন চম্পাকলিতে ছিলাম এইসব চামচাড়াই আমাকে বাতলাইয়া দিয়াছে কি করিলে আমি বাংলার সাধারন জনগনের সহানুভুতি পাইব।চামচাদের তালিকায় ডাঃ দোলন নামের একজন ছিল যে নাকি আমার স্বাস্থ্যের ব্যাপারে সর্বক্ষন উদবিগ্ন থাকিয়া,প্রেস রিলিজ করিয়া সরকার মহোদয়কে সর্বদা তটস্থ রাখিয়াছে।এই বলিয়া ভয় দেখাইয়াছে যে আমাকে যদি অবিলম্বে ভাল চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে পাঠানো না হয় তাহা হইলে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারিবেন না।একদিন আমি এইটার রিহার্সাল ও দিলাম।বাথরুমে পড়িয়া কল্লা ফাটাইবার ভান করিলাম,মুর্তের মধ্যে মোবাইলে খবর পাঠাইয়া দিলাম।এর পরের খবর আপনি জানেন কি না জানিনা।একজন খতম হইল,কয়েকখান বাসে আগুন লাগিয়া গেল,মানুষ ছোটাছোটি শুরু করিয়া দিল।আর আমি দেখিলাম রিহার্সালে কাজ হইয়াছে।আমার যারা নুন নিমুক খাইয়াছিল তাহারা কেহই আমার সাথে বেঈমানী করে নাই।আসলে তো আমার মাথা ও ঘোরে নাই বা কল্লা ফাটে ও নাই।এটা আমার নিমুকখোর ডাঃ দোলনেরই ইশারা ছিল।আল্লাহ পাক তার মংগল করিবেন যদি আমি আবার লাইনে আসিতে পারি।

এইবার আসি আমার মেরুদন্ডের হাড়ের কথা নিয়া।আপনি এই ব্যাপারে চিন্তিত জানিয়া সুখী হইলাম কেন না মাঝখানে শুনিয়াছিলাম আমি যে আপনার পুত্র ইহা নিয়া ও গোলমাল আছে।আমি মনে করি ব্যাপার যাই থাকুক সবাই জানে আমরা বাপ ব্যাটা।এই ব্যাপারটা নিয়া আর ঘাটাঘাটি করিয়া লাভ কি?আসল কথা হইল আমার মেরুদন্ডের হাড় ভাংগে নাই।আমি এমন ভান করিলাম যে কেহই বুঝিতে পারিল না আসলে আমার কি হইয়াছে।এই ব্যাপারে আমার আইনজীবি আর দোলন সমস্ত প্লান আমাকে দিয়াছিল।আমি সেই ভাবে কাজ করিয়া বড়ই সফল হইয়াছি।এখন আমি চিকিৎসার নাম করিয়া সিংগাপুরে সুখে শান্তিতে দি্ন কাটাইতেছি।ভাবিতেছি এই কয়মাসে আমার জীবনে যা ঘটিয়াছে তাহা পুংখানো পুংখভাবে আপনাকে জানাইব।

এই পত্রের পরবর্তি অংশ নিয়া খুবই তাড়াতাড়ি হাজির হইতেছি।আপনার বৌমা আবার বেশি রাত পর্যন্ত্য আমাকে সজাগ থাকিতে দিতেছে না।শত হইলে ও অনেকদিন পরে কাছে পাইয়াছে তো--পিয়ার করিয়া শেষ করিতে পারিতেছে না।আপনি আবার এই কথা ডোন্ট মাইন্ড করিবেন।আমার জন্য দোয়া করিবেন,আমি মাশাল্লাহ অনেক খেলা শিখিয়াছি।দুনিয়ার এই খেলায় আমাকে হারাইবার মত লোক কমই আছে।চিন্তা করিয়া পুতলকেলির সুখ নষ্ট করিবেন না।

এই পথের যে আংকেলরা আপনার সাথে রহিয়াছেন তিনাদের নিকট আমার শতলক্ষ কদবম বুছি পৌছাইবেন।পরবর্তী অংশে আম্মাহুজুর সম্বন্ধে কিছু লিখিয়া আপনাকে জানাইবার খায়েশ পোষন করিতেছি।আপনার পুতুল কেলির সুখ দীর্ঘস্থায়ী হউক।ভাল থাকিবেন।

ইতি আপনারই অতি আদরের বড় মিয়া।
তারেক

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla