পেরু ও তার প্রেসিডেন্ট সমূহ!

Submitted by WatchDog on Saturday, May 27, 2023

noneএকই জেলখানায় যখন একটা দেশের ৩ প্রেসিডেন্ট 'মেহমান' হয়ে আসেন তখন ঐ জেলখানার ফেইসভ্যালু কতটা বেড়ে যায় তা অনুধাবন করতে আমাদের ইমাজিনেশনকে নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে যেতে হবে। চলুন আমাদের মত তৃতীয় বিশ্বের একটা দেশে ঘুরে আসি যেখানে এমনটা ঘটেছে। দক্ষিন আমেরিকার দেশ পেরুতে এমনটাই ঘটেছে গেল শুক্রবার।

অন্তরীণ হওয়া তিন প্রেসিডেন্টের সবাই প্রাক্তন ছিলেন তা নয়, পেদ্রো কাস্তিয়োকে রীতিমত গদি হতে টেনে হিচড়ে ওখানে পাঠানো হয়েছে।আলবার্তো ফুখিমোরে ওখানে অনেকদিন ধরে আছেন। ২৫ বছরের জেলটার্ম খাটছেন। ক্যান্সারে আক্রান্ত জাপানি ডিসেন্ট এই প্রেসিডেন্ট একসময় নতুন পেরুর জন্মদাতা হিসাবে বিবেচিত হতেন। অনেকদিন প্রেসিডেন্ট পদে থাকার কারণে ধরে নিয়েছিলেন প্রেসিডেন্সি উনার পৈত্রিক সম্পত্তি। শেষ নির্বাচনে জালিয়াতির মাধ্যমে নিজকে বিজয়ী ঘোষণা করে ক্ষমতা আকড়ে থাকার চেষ্টা করেছিলেন। জনরোষের কারণে পৈত্রিক দেশ জাপানে পালিয়ে যান। ওখানে হতে প্রতিবেশী দেশ চিলিতে এসেছিলেন পেরুতে প্রবেশের আশায়। চিলি সরকার তাকে তুলে দেয় পেরুর হাতে।

পেদ্রো কাস্তিয়ো ছিলেন ভেনিজুয়েলার প্রায়ত প্রেসিডেন্ট হুগো সাভেজের মুরিদ। কিউবার ডিক্টেটর ফিদেল কাস্ট্রো ছিলেন দীক্ষা গুরু। পেরুর হাইল্যান্ডের দরিদ্র ইনকা ও শহরের বেকার গরীবদের মন জয় করে খুব অল্প ভোটে প্রতিপক্ষকে পরাজিত করে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। বড় ধরণের দুর্নীতি করে তিনিও এখন জেলখানার মেহমান।

যে বছর প্রথম আমি পেরু যাই আলেহান্দ্রো তলেদো তখন দেশটার প্রেসিডেন্ট। দাপটের সাথে দেশ শাসন করছেন। ষ্ট্যানফোর্ডে ডক্টরেট করা তলেদো দ্বিতীয় টার্মে পরাজিত হন। এবং ক্ষমতা হারানোর পর আমেরিকায় পালিয়ে যান। এবং তিনি জানতেন পালানোটা কেন জরুরু ছিল।

শুক্রবার ২১শে এপ্রিল দেশে ফিরেছে আলেহানদ্রো তলেদো। ৩৫ মিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার নামে। বিচার শুরুর আগে তাকে ১৮ মাস থাকতে হবে জেলে, যে জেলে স্থায়ীভাবে বাস করছেন ফুখিমোরে ও পেদ্রো কাস্তিয়ো।

ঘটনা আরও আছে পেরুর প্রেসিডেন্সির ইতিহাসে। আলেহান্দ্রো তলেদো যার কাছে পরাজিত হয়েছিলেন সেই প্রেসিডেন্ট এলেন গার্সিয়া আত্মহত্যা করেন ক্ষমতার টার্ম শেষ হওয়ার পর। পুলিশ তার দরজায় নক করলে তাদের সামনেই এই কাজটা করেন। তিনিও জানতেন তার ভাগ্য কোন দিকে গড়াচ্ছে।

গার্সিয়ার পর ক্ষমতাসীন হন অইয়ান্তা ওমালা। ৫ বছরের টার্ম শেষ করেছিলেন তিনি। তবে শেষ হওয়ার পর সস্ত্রীক জেলের মেহমান হতে বাধ্য হন। প্রাপ্য সাজা ভোগ শেষে তিনি এখন স্বাধীন মানুষ।
ওমালার পর শর্ট টার্মে আরও ৪ জন প্রেসিডেন্টের চেয়ারে বসেন। এবং সবাই টার্ম শেষ করার আগে দুর্নীতির অভিযোগে বরখাস্ত হয়ে বিদায় নেন। পেদ্রো কুজিন্সকি ছিলেন দেড় বছরের জন্যে। মার্টিন ভিসকাররা আড়াই বছর, ম্যানুয়েল মেরিনো ৫ দিন ও ফ্রানসিস্কো সাগাস্তি ১ বছরেরও কম।

দেশটার শক্তিশালী কংগ্রেস ও নির্দলীয় বিচার ব্যবস্থার কারণে দুর্নীতি করে কেউ পার পায়না দক্ষিণ আমেরিকার এ দেশটায়। সবচেয়ে লক্ষ্যনীয় বিষয় হচ্ছে, প্রায় সব প্রেসিডেন্টের দুর্নীতির যোগানদাতা ছিলেন প্রতিবেশী দেশ ব্রাজিলের এক কোম্পানী।

বাংলাদেশের জনৈক কিশোর কুমার দাস পেরুতে হোটেল ব্যবসা করে ভাগ্য ফিরিয়েছেন এমন একটা খবর বাজার গরম না করলে এই লেখাটার প্রেক্ষাপট তৈরি করতে পারতাম না।
পেরুতেও দুর্নীতি আছে। তবে পাশাপাশি ওখানে আইন ও আদালত আছে যারা সরকারের পদলেহনকারী কুকুর হিসাবে গৃহিপালিত হয়না। পার্থক্যটা এখানেই।
 

ভালো লাগলে শেয়ার করুন