Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

কাশিমবাজার কুঠি জয় ও পানিপথের দ্ধিতীয় যুদ্ধ।

Hasina-Khaleda
বিরোধী দলীয় নেত্রীকে সেনানিবাসের বাড়ি হতে উচ্ছেদকে দেশের বিচার ব্যবস্থা, সরকার, সেনাবাহিনী এবং ক্ষমতাসীন দল সহ ভোজন রসিক টক শো হোস্ট ও বুদ্ধিজীবীদের বিরাট অংশ বিশাল অন্যায়ের বিরুদ্ধে মহা বিশাল বিজয় হিসাবে আখ্যায়িত করে তৃপ্তির ঢেকুর তুলছেন। নব্য নবুয়ত পাওয়া কতিপয় আওয়ামী নেতা মইনুল হোসেন রোডের ঐ বাড়িকে কাশিমবাজার কুঠি আখ্যায়িত করতেও দ্বিধা করছেন না। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে আমাদের প্রিয় জন্মভূমি ’৭১ এর পর নতুন করে আবার স্বাধীনতা পেল। দেশের দ্বিতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধের স্ট্রাটেজিক স্থাপনা কাশিমবাজার কুঠির বীরত্বপূর্ণ বিজয়ের একদিন পর বিজেতা খালেদা জিয়ার বেডরুমে পর্নোগ্রাফি ও রেফ্রিজারেটরে হুইস্কির বোতল প্রদর্শনীর মাধ্যমে আমাদের বীর সেনাবাহিনী কি ম্যাসেজ প্রসব করতে চাচ্ছে এখন পর্যন্ত তা পরিষ্কার হয়নি। তবে শয়নকক্ষে পর্নোগ্রাফি আবিষ্কার কেন জানি মার্কিন প্রেসিডেন্ট বুশের ইরাক আক্রমণ এবং দেশটায় ’ওয়েপন অব মাস ডেস্ট্রাকশন’ আবিষ্কারের কথা মনে করিয়ে দেয়। এ প্রসংগে একটা কথা না বললেই নয়, সেনানিবাসের অভ্যন্তরে কাসিম বাজার কুঠির অস্তিত্বের কথা ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ যদি আগ হতেই জেনে থাকে তা হলে প্রশ্ন উঠবে, স্বাধীনতার সোল এজেন্ট দলটি কেন ষড়যন্ত্রকারীদের পাশে নিয়ে পার্লামেন্টে বসেছিল। সে যাই হোক, এ সমস্যার বোধহয় স্থায়ী সমাধান হতে যাচ্ছে। কুঠি পতনের তালিকা দীর্ঘায়িত হতে যাচ্ছে খুব শীঘ্র। এ তালিকার শীর্ষে আছে বাংলাদেশের ’মহান’ পার্লামেন্টকুঠি। সর্বশেষ খবরে প্রকাশ ঈদের পর আমাদের পার্লামেন্ট রাজাকার এবং কুঠি ষড়যন্ত্রকারী মুক্ত হতে যাচ্ছে। ওরা একযোগে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সদ্য সমাপ্ত স্বাধীনতা যুদ্ধের পরাজিত পক্ষ ঈদের পর কি কর্মসূচী হাতে নিচ্ছে তার একটা সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ না করলে দেশের সাথে বেঈমানী করা হবে নিশ্চয়ঃ

- পার্লামেন্ট হতে একযোগে পদত্যাগ
- সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার আন্দোলন
- সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার হরতাল
- এবং অপ্রকাশিত আরও অনেক এজেন্ডা
- সর্বমোট ৫ দফা

হোক তা কুঠি হারানোর দুঃখ অথবা যুদ্ধ পরাজয়ের ক্রোধ, ঘষেটি বেগমদের একজন রাখ ঢাক না করে সরাসরি বলে দিয়েছে, সামনের নির্বাচনে জয়লাভ করলে বাংলার শেষ স্বাধীন নওয়াবান বেগম হাসিনা ওয়াজেদকে সুধাসদন হতে উচ্ছেদ করা হবে, এবং ৩২ নম্বরের যাদুঘর ভেংগে তাতে বাস্তবায়ন করা হবে আবাসন প্রকল্প। পাঠক, আপনারা কি বিশ্বাস করেন প্রতিশোধ নিতে একটা দল এতটা নীচে নামতে যাবে? যারা তা বিশ্বাস করেন না তাদের বোধহয় বাংলাদেশকে নতুন করে আবিষ্কার করতে হবে। দৈব কিছু না ঘটলে বিএনপি অবশ্যই তা করতে যাবে এবং পাশাপাশি দেশের মাটি হতে শেখ পরিবারের নাম এবং নিশানা যুগপৎ মুছে দেওয়ার উদ্যোগ নেবে। যারা আওয়ামী প্রেমে টইটম্বুর তারা বলবেন দেশের একজন মুক্তিযোদ্ধা বেচে থাকতে ক্লাইভ জ্ঞাতিগুষ্টিদের এ স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে দেয়া হবেনা। শুনতে ভাল লাগে এবং তাতে গর্বে বুক ফুলে উঠে। সন্দেহ নেই অনেক নব্য এবং পুরানো যোদ্ধা মাঠে নামবে এবং অবতীর্ণ হবে ক্ষমতা দখলের পানিপথের যুদ্ধে। হিসাব কষলে আওয়ামীদের এ যুদ্ধ হবে পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ। ঐ যুদ্ধে কে হারবে আর কে জিতবে সময়ই তা প্রমান করবে। কিন্তু যুদ্ধের স্থায়ী পরাজিত পক্ষ দেশের সাধারণ জনগণ যে আবারও একটা ম্যারাথন হরতাল এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রমের গ্যাঁড়াকলে পরতে যাচ্ছে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

দেশবাসী, প্রস্তুতি শুরু করে দিন। খুব শীঘ্র ফিরে আসছে ২০০৫-২০০৬ সাল। আমরা যারা নিধিরাম সর্দার মার্কা প্রবাসি তারা বলব, আহলান ওয়া সাহলান, অথবা welcome back!!!

Comments

খালেদার আসবাবের হিসাব দিলেন হাসিনা............

ঢাকা, ডিসেম্বর ০৯ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- খালেদা জিয়ার ছেড়ে যাওয়া সেনানিবাসের বাড়ির আসবাবপত্রের হিসাব সংসদে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংসদের সপ্তম অধিবেশনের সমাপনী বক্তৃতায় বৃহস্পতিবার খালেদার বাড়ির বিস্তারিত বর্ণনা দেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, "ওই বাড়িতে ৪৫টি কামরা, ১২টি বাথরুম এবং চারটি রান্নাঘর। মামলার সময় গাড়িতে করে অনেক মালামাল আগেই সরিয়ে নিয়েছিলেন।" "ওই বাড়িতে ছিলো� ৬৪টি এসি, এলসিডিসহ ২০টি টেলিভিশন, ১৭টি ফ্রিজ, ১০টি গিজার, ৭১টি সোফা সেট এবং সাত হাজার দু'শ বর্গফুট কার্পেট। এর মধ্যে, ৪৫টি এসি, ১২ টেলিভিশন, আটটি ফ্রিজ এবং ১৭টি সোফা সেট নিয়ে গেছেন।" "৩ ডিসেম্বর ১৮ ট্রিপে, ৪ ডিসেম্বর আট ট্রিপে এবং ৫ ডিসেম্বর নয় ট্রিপে খালেদা জিয়ার মালামাল সরানো হয়," বলেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ১৪টি কাভার্ড ভ্যানসহ ২৯টি যানবাহন ব্যবহার করা হয়েছিলো বলেও সংসদকে জানান তিনি।শেখ হাসিনা এরপর বলেন, "এখন উনি (খালেদা জিয়া) আরো কী কী নিতে চান তা বলছি।" "ওই বাড়ির অ্যালুমিনিয়াম গ্যাস ও স্লাইডিং ডোর, গ্রিল, কমোড, বেসিন, আয়না, ওয়াল র‌্যাক, নেটের গ্রিল, চৌকাঠ, বাথটাব, জাকুজি, শাওয়ার কেস, পানির ট্যাংকিসহ অনেক কিছু বিরোধীদলীয় নেতা নিতে চান।" প্রধানমন্ত্রী বলেন, "এগুলো অতি মূল্যবান। না হলে কেন নিতে চান?" "জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি ও তিনি দু'বারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং বিরোধী দলের নেতা হিসাবে সুবিধা পেয়েছেন," উল্লেখ করে হাসিনা জানতে চান, "এগুলো কি নিজের পয়সায় কেনা? এতো মূল্যবান জিনিস কিনতে তিনি টাকা কোথা থেকে পেলেন? ইটালিয়ান কার্পেট, ইটালিয়ান সিল্কের পর্দা ছিলো ওনার বাসায়।" গত ১৩ নভেম্বর সেনানিবাসের মইনুল সড়কের বাড়ি ছাড়েন খালেদা। আন্তঃবাহিনীর সংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) ভাষ্যমতে, তিনি 'স্বেচ্ছায় বাড়ি ছাড়েন'। তবে বিএনপি ও খালেদা জিয়া দাবি করেছে তাকে 'জোর করে' বাড়ি ছাড়ানো হয়। 'আয়কর ফাইল খতিয়ে দেখুন' খালেদা জিয়ার ছেড়ে যাওয়া ঢাকা সেনানিবাসের মইনুল সড়কের বাড়ির মালামালের হিসাব দিয়ে হাসিনা বলেন, "এতো কিছু ওনার নিজের টাকায় কেনা হলে সেই টাকার উৎস জাতিকে জানতে হবে।" প্রধানমন্ত্রী এ সময় উপস্থিত অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "তার (খালেদা জিয়া) ইনকাম ট্যাক্স ফাইল দেখা হোক। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় যে তথ্য দিয়েছিলো, তার সঙ্গে এই সম্পদ মেলে কিনা।" শেখ হাসিনা বলেন, "আমরা জবাবটা চাই। এতো সম্পদ কোথা থেকে এলো? যারা ভাঙা সুটকেস ও ছেড়া গেঞ্জির মালিক ছিলো।"'এরশাদ কেন বাড়ি দিলেন?'

খালেদা জিয়াকে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ কেন সেনানিবাসের বাড়ি দিলেন তার জবাবও চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হাসিনা বলেছেন, "ছেঁড়া গেঞ্জি আর ভাঙা সুটকেসের বয়ান শুনে বিগলিত হয়ে এরশাদ সাহেব এই বাড়ি দিয়ে দিলেন। কেন সামরিক বাহিনীর বাড়ি তিনি দিলেন? এর জবাবও তাকে দিতে হবে।" প্রধানমন্ত্রীর আগে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সমাপনী বক্তব্য দেন। তিনি বিভিন্ন বিষয়ে কথা বললেও খালেদা জিয়াকে বাড়ি দেওয়া প্রসঙ্গে কিছু বলেননি। এরশাদকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "উনি (এরশাদ) অনেক আদর করে ভাবী সাহেবকে বাড়িটা দিয়েছেন। ওটা নিয়ে তিনি কিছু বলেননি। এখন উনি ওই বিষয়টা তোলেন কী করে।" "বাড়িটা সামরিক বাহিনীর। এক কলমের খোঁচায় তা দেওয়া হয়েছে। আরেকটা বাড়ি দেওয়া হয়েছিলো। সুইমিংপুলসহ বাড়িটি উনি (খালেদা জিয়া) নিজেই পছন্দ করে নিয়েছিলেন। বলা ছিলো- ঐ বাড়িটি পেলে সেনাবাহিনীর বাড়িটি তিনি ছেড়ে দেবেন। কিন্তু তা তিনি ছাড়েননি।" "তাকে দেওয়া হয়েছিলো ১৬৮ কাঠা। কিন্তু উনি ২২৮ কাঠা দখলে রেখেছেন," বলেন শেখ হাসিনা। বিডিনিউজ টোযেন্টিফোর ডটকম/এসইউএম/পিডি/২০৪১ ঘ.

এক চোর আরেক চোরকে বলে তুই চোর

খালেদার অর্ন্তবাসের হিসাবও মনে হয় শেখ হাসিনার কাছে আছে!
এই মহিলা কতবড় অপদার্থ হলে সংসদে বসে এসব আনপ্রডাক্‌টিভ বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে পারে।

সত্য বলেছেন

প্রতিশোধ পরায়ণ এই নেত্রীর শেষটা বোধহয় ভাল হবেনা। অন্তত উনি নিজেই সেদিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।
ধন্যবাদ আপনাকে/

আদালতের রায়ে সংবিধান সংশোধন প্রসঙ্গ

সাঈদ তারেক
পাঠকদের কারো কারো অনুযোগ আমি শুধু শেখ হাসিনা এবং তার সরকারের সমালোচনা করি, অন্য কিছু ‘আলোচনা’ কি করতে পারি না? খারাপ দিকগুলোই শুধু দেখি, ভালো কিছু চোখে পড়ে না!
পড়ে। অবশ্যই পড়ে। এই যে সে দিন চট্টগ্রাম বন্দরে গণতন্ত্র ফেল মারলে ডাণ্ডাতন্ত্র চালিয়ে সব ঠাণ্ডা করা হলো, এই ভালো কাজটা চোখে পড়ে গেল। গত সপ্তাহে এ নিয়ে লিখলামও বিস্তারিত। এটাও বললাম, গণতন্ত্র ফেল মারলে ডাণ্ডাতন্ত্র ছাড়া উপায় কী? এতেও কারো কারো আপত্তি। বলেন, ‘ডাণ্ডাতন্ত্র’ চলবে না। আমার সমস্যাটা হচ্ছে এখানেই। তন্ত্র তো দুনিয়ায় দুইটা। ‘গণ’ না হয় ‘ডাণ্ডা’। একটা ফেল মারলে আর একটা ছাড়া বিকল্প কী! অবশ্য অঙ্ক একটা আছে। ডাণ্ডাতন্ত্র ঠেকাতে বা এড়াতে গণতন্ত্র প্র্যাকটিস করতে হবে। সেটা কেউ করবেন না, ইচ্ছাতন্ত্রকে গণতন্ত্র বলে চালাতে চাইবেন। কিন্তু ইচ্ছাতন্ত্র আর গণতন্ত্র তো এক ব্যাপার নয়। গণতন্ত্রে ইচ্ছাতন্ত্রের জায়গা নেই, ইচ্ছাতন্ত্র দিয়ে গণতন্ত্রের কাজ চলবে না। যেমন এখন আর চলছে না।
বাংলাদেশে এখন সবই ফিন্সস্টাইল। ঘুষ, দুর্নীতি, চুরি, বাটপারি, সন্ত্রাস, সহিংসতা যাবতীয় বাজিতে এই ফিন্সস্টাইল, ইচ্ছাতন্ত্র। আমেরিকায় বেড়ে ওঠা এক বাচ্চা গেছে বাংলাদেশে বেড়াতে। দুই দিন পর বাবাকে বলে­ পাপা, তুমি বলো আমেরিকা ইজ এ ফিন্স কান্ট্রি। বাট আই সি হিয়ার বাংলাদেশ ইজ মোর ফিন্স কান্ট্রি দ্যান আমেরিকা। হিয়ার নো বডি ওবেইজ রেড লাইট!
এই ইচ্ছাতন্ত্র এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে। গাফফার ভাই সে দিন বিচারপতি হাবিবুর রহমান শেলীর একটা সত্য ও সাহসী উচ্চারণের তুলোধোনা সমালোচনা করলেন। একবারো বললেন না এসব বাজিকরের হাত থেকে দেশটাকে, দেশের মানুষকে রক্ষায় উপায় কী। উল্টো বাজিকরদের পক্ষে সূক্ষ্ম সাফাই হিসেবে আওয়ামীপন্থী তৃতীয় শ্রেণীর বুদ্ধিজীবীদের কণ্ঠে সুর মিলিয়ে বললেন, শেখ হাসিনার কী দোষ! বিশ-বাইশ বছর বয়সী এসব ছেলেকে নাকি যাবতীয় অপকর্ম শিখিয়ে দিয়ে গেছে তিরিশ বছর আগে শহীদ হওয়া জিয়াউর রহমান আর বিশ বছর আগে ক্ষমতায় থেকে বিদায় হওয়া এরশাদ!
এই এক দোহাই দিয়ে লুটেরা দল নিজেদের লুণ্ঠনযজ্ঞ জায়েজ করে যায়। গত বিশ বছর ধরেই শুনছি এই এক কথা। এরা একবারো বলেন না, আগের ওরা করেছেন বলে আমাদেরও করতে হবে কেন! জিয়া আর এরশাদ যদি রাজনীতিকদের চরিত্র ধ্বংস করে দিয়ে গিয়ে থাকেন, তবে এই রাজনীতিকরা এখনো রাজনীতি করেন কিভাবে, সরকার গঠন করেন কিভাবে, মন্ত্রী-এমপি হন কী করে! অথবা এসব দুষ্ট রাজনীতিক নষ্ট চরিত্র সংশোধন করে ভালো হয়ে যান না কেন! সময় তো মাঝখানে পার হলো বিশ বছরের মতো। দিনে দিনে এদের চরিত্রের অধ:পতনই বা হচ্ছে কেন! রাজনীতি থেকে এরা বাদ হয়ে যাচ্ছেন না কেন? এসব ‘কেন’র কোনো জবাব নেই। এই শ্রেণীর একচক্ষুবিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী, সে কি আওয়ামীপন্থী কি বিএনপি পন্থী। এদের একটা কমন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হচ্ছে নেত্রীবন্দনা। এই কম্মে এত ব্যস্ত, নেত্রীর ভুলত্রুটিগুলো কারো চোখে বাধে না, বাধলেও কেউ তুলে ধরেন না। পাছে নেত্রী বেজার হন। সঠিক পথনির্দেশনা দেখান না। নেত্রী যদি ধমকে ওঠেন, ‘আমার চেয়ে বেশি বোঝেন’?
আমার যেহেতু ব্যক্তিগতভাবে নেত্রীর কাছ থেকে চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই, নেত্রী বেজার হলেন না পুলকিত হলেন, ও নিয়ে কখনো মাথা ঘামাই না। লিখি। সমালোচনা করি। শুধু সমালোচনার খাতিরে সমালোচনা নয়, শুধুই তার বিরোধিতা করে যেতে হবে এমনো কোনো ব্যাপার নেই। দেশটাকে এগিয়ে নিতে, মানুষকে স্বস্তি দিতে কোন পথে এগোনো উচিত, চলার পথে কোথায় ভুল হচ্ছে, অন্যায় হচ্ছে, তার পরিণতি কী হতে পারে, সে ব্যাপারে সতর্ক করি। ভুলগুলো তুলে ধরি। নেত্রী কতটুকু গ্রহণ করলেন, আদৌ আমলে নিলেন কি না সে দায়িত্ব তার। লেখকের নয়। লেখকের সার্থকতা এখানেই, যদি তার লেখায় মানুষ কিছু জানতে পারে, কিছুটা হলেও উদ্বুদ্ধ হয়ে সচেতন হয়।
না, আজকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোনো সমালোচনা বা তার কোনো ভুল পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করতে বসিনি। বরঞ্চ তার কিছু সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং পদক্ষেপের প্রশংসা করব বলে ঠিক করেছি। আদালতে পঞ্চম সংশোধনী বাতিল আদেশের সূত্র ধরে আইনমন্ত্রী এবং তার চেলা কিছু মতলববাজ যখন পানি ঘোলা করে শেখ হাসিনাকে বেকায়দায় ফেলতে চেষ্টা চালাচ্ছেন এ প্রেক্ষিতে ক’দিন আগে প্রধানমন্ত্রী কিছু স্পষ্ট সাহসী বক্তব্য নিয়ে এগিয়ে এসেছেন। বলেছেন, ‘ইসলাম’ আর ‘বিসমিল্লাহ’ নিয়ে কাউকে রাজনীতি করতে দেয়া হবে না। সংবিধানে ‘ইসলাম’ থাকবে, ‘আল্লাহ রাসূলের নাম’ও থাকবে।
আসলে এ বিষয়গুলো নিয়ে রাজনীতি আর কেউ না, সরকারের ভেতর জেঁকে বসা শেখ হাসিনার ঘাড়ে চেপে বসা একটি প্যারাসাইট গ্রুপই করছে। শুধু রাজনীতি নয়, শেখ হাসিনা এবং তার সরকারকে ডোবানোর জন্য, আওয়ামী লীগকে চিরতরে কবর দেয়ার লক্ষ্যে এক ভয়ঙ্কর নোংরা খেলায় মেতেছে এরা। শেখ হাসিনা এদের লক্ষ্য করেই কথাগুলো বলেছেন কি না জানি না, তবে তিনি যদি বাস্তবতা উপলব্ধি করতে পেরে থাকেন, বলব আল্লাহ তাকে বাঁচিয়েছেন। র-এর অ্যাজেন্টদের পাতা ফাঁদে পা না দিয়ে একটা ভালো কাজ করেছেন। যদিও আমি জানি না কত দিন তিনি তার এ অবস্খান ধরে রাখতে পারবেন, তার পরও তার এ উপলব্ধির জন্য তিনি অবশ্যই ধন্যবাদার্হ।
সংবিধান নিয়ে ভাঁওতাবাজি তার পরও চলছেই। এক আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, পঞ্চম সংশোধনীর প্রস্তাবনা অংশটুকুও বাদ (যেখানে রয়েছে আল্লাহর ওপর আস্খাজাতীয় কথাগুলো), আর এক রায়ে এ ব্যাপারে মৌনব্রত অবলম্বন করা হয়েছে। অষ্টম সংশোধনী বলে সংবিধানে এখনো রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহাল, আইনমন্ত্রী এবং তার সাথে এক বিচারক বললেন, ‘দেশ ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র’ হয়ে গেছে! সে দিন দেখলাম আর এক পণ্ডিত অভিমত দিয়েছেন, ধর্মনিরপেক্ষতা বহাল হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে অষ্টম সংশোধনী বা রাষ্ট্রধর্ম ইসলামও নাকি অটোমেটিক বাতিল হয়ে গেছে! আর কী! আইনমন্ত্রী সংবিধান পুনর্মুদ্রণের জন্য উঠেপড়ে লাগলেন, ওদিকে সংসদীয় কমিটি বলল, রায়ের আলোকে সংসদে সংবিধান সংশোধন করে তারপর তা ছাপানো হবে। যেই প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘ইসলাম’ ও ‘বিসমিল্লাহ’ থাকবে, আপাতত রায়ের আলোকে একটা কিছু ছাপানো হোক, সাথে সাথে সারিন্দা পাট্টি বলে উঠল, আগে তাই হোক পরে আবার এক দফা ছাপা যাবে। কী এক ভেলকিবাজি! কিন্তু কেউ বলছেন না ছাপাটা কী হবে! ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’, ‘সমাজতন্ত্র’, ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’, ‘বিসমিল্লাহ’, ‘আল্লাহ-রাসূলের’ নাম, কোনো কোনোটা সব, কোনো কোনোটা ছাড়া! এখন পর্যন্ত কেউ জানে না আসলে ছাপাটা হচ্ছে কী! নিজেদের জালে জড়িয়ে যেন সব মিয়াসাবই চুপ।
‘পুরান পাগলে’রা ভাত টুকিয়ে খাচ্ছে, দু’দিন আগে দেখলাম এক নতুন পাগলের আমদানি ঘটেছে বাজারে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে ইনিয়ে-বিনিয়ে লিখেছে, আপনার এত ভয় কিসের! সংবিধান থেকে ‘ইসলাম’ আর ‘বিসমিল্লাহ’ ঝেড়েমুছে ফেলার এ সুবর্ণ সুযোগ আপনি হেলায় হারাচ্ছেন কেন! এই নব্য আওয়ামী বুদ্ধিজীবী দাবি করেছেন, গত নির্বাচনে দেশের মানুষ নাকি শেখ হাসিনাকে ভোট দিয়েছে সংবিধান থেকে ‘ইসলাম’ আর ‘বিসমিল্লাহ’ তুলে দেয়ার জন্য!
বোঝেন এখন! মানুষ ভোট দিলো বিএনপি সরকারের ব্যর্থতার বিরুদ্ধে। আর এরা বলছে দেশবাসীর সে দিনের ওই রায় নাকি ছিল ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে! মানুষ যদি টের পেত আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে জাতির হৃৎপিণ্ড ধরে টান দেবে, ভোট দেয়া তো দূরের কথা শেখ হাসিনা আর তার দলকে হোয়াইট ওয়াশ করে দিত গুষ্ঠিসুদ্ধ।
যা হোক, আদালতের রায়ে পঞ্চম সংশোধনী বাতিল আসলে এমন কোনো বিরাট ব্যাপার নয়। ব্যারিস্টার রফিক ক’দিন আগে একটি সত্য উচ্চারণ করেছেন। বলেছেন, ‘বাতাস ঘুরে গেলে আদালতের সুরও বদলে যায়।’ তার কথার সূত্র ধরেই বলছি, সরকার বদলে গেলে একদিন ওই একই আদালতে এ রায়ও বদলে যাবে। এ নিয়ে কারো কোনো টেনশন বা উল্লসিত-পুলকিত হওয়ার কিছু নেই। ঢাকা এয়ারপোর্ট যেমন আগের নাম ফিরে পাবে, শেখ হাসিনার নামে গণভবন বরাদ্দ আজীবন এসএসএফ সুবিধা যেমন বাতিল হবে তেমনি পঞ্চম সংশোধনী, সপ্তম সংশোধনী বাতিল আদেশও যে একদিন বাতিল হবে এ ব্যাপারে কারো কোনো সন্দেহ থাকা উচিত নয়। অন্তত আমার তো নয়ই।
আদালতের রায়ে সংবিধান সংশোধনীর ঘটনা আমাদের দেশে এটাই প্রথম নয়। জেনারেল এরশাদের আমলে আইনজীবী আর বিচারকেরা মিলে একবার আদালতের রায় দিয়ে সংবিধান সংশোধন করে ফেলেছিলেন। উচ্চ আদালতের বিচার সুবিধা সাধারণ এবং গরিব মানুষের কাছে সহজলভ্য করতে, ঢাকায় এসে তাদের ভোগান্তি কমাতে জেনারেল এরশাদ রাজধানীর বাইরে হাইকোর্টের পাঁচটি সার্কিট বেঞ্চ গঠনের লক্ষ্যে সংবিধানের সংশোধনী করিয়েছিলেন। এটা ছিল অষ্টম সংশোধনীর একটা অংশ। অপর অংশটা ছিল রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। দেশের পাঁচটি বড় বড় শহরে হাইকোর্টের বেঞ্চ স্খাপিত হওয়ায় সুদূর গ্রামগঞ্জের গরিব জনগণের দুর্ভোগ কমে। তাদের পয়সা খরচ করে ঢাকায় এসে হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্টের বারান্দায় বছরের পর বছর ঘোরাঘুরি করতে হয় না। তারকা আইনজীবীদের খাই মেটাতে সর্বস্বান্ত হতে হয় না। নিজের এলাকায়ই কম পয়সায় উকিল পেয়ে যায়। এতে রাতারাতি জেলা শহরের আইনজীবীদের পসার জমে ওঠে। কিন্তু ব্যবসায় মন্দা ভাব দেখা দেয় ঢাকায় তারকা আইনজীবীদের। ঢাকার হাইকোর্টে মামলার সংখ্যা কমে যায়। অনেক আইনজীবীর ভাতে মরার দশা হয়। তার পরও তারকা আইনজীবী যাদের ডিমান্ড বেশি তারা আজ সিলেট, কাল যশোর, পরশু চট্টগ্রাম করতে করতে হাঁফিয়ে ওঠেন। ব্যবস্খাটা এই শ্রেণীর সুবিধাভোগীদের কায়েমি স্বার্থে আঘাত হানায় তারা এটা বাতিল করানোর জন্য একট্টা হয়ে যায়। একজনকে দিয়ে একটা রিট করিয়ে অষ্টম সংশোধনীর ওই অংশটুকু চ্যালেঞ্জ করা হয়। কামাল হোসেনেরা শুনানিতে অংশ নিয়ে বিস্তর আইন কিতাবের রেফারেন্স দিয়ে প্রমাণের চেষ্টা করেন, জেলায় জেলায় হাইকোর্ট বসানোয় বিচারব্যবস্খার সতিত্ব হানি হয়ে গেছে, এই বিকেন্দ্রীকরণ সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক।
বিচারকেরা সংবিধান সংশোধন করে ফেলেন। বলেন, ঢাকার বাইরে আর হাইকোর্টের কোনো বেঞ্চ থাকতে পারবে না। সব বেঞ্চ গুটিয়ে ঢাকায় আনতে হবে। ব্যস, কারবার হয়ে গেল! জেলা শহরের হাইকোর্টগুলো বìধ হয়ে গেল। মানুষকে আবার ঢাকায় ছুটতে হলো। জেলা সদরের লব্ধ প্রতিষ্ঠিত আইনজীবীরা মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লেন। এ দিকে ঢাকার জলসাঘরে আবার ঝাড়বাতি জ্বলে উঠল। সে দিন সাধারণ গরিব জনগণের কল্যাণে নেয়া এ রকম একটা ব্যবস্খা বাতিল করানো হলো শুধু সংবিধানের দোহাই দিয়ে। যেন মানুষের জন্য সংবিধান নয়, সংবিধানের জন্য মানুষ। আজ পর্যন্ত কোনো সরকার বিচারের নামে ভোগান্তি থেকে মানুষকে রক্ষা করতে এ ধরনের উদ্যোগ আর নেয়নি।
আজ আদালতের রায়ে পঞ্চম সংশোধনী, অষ্টম সংশোধনী বাতিলের পক্ষে যুক্তি হিসেবে বলা হয়, সে দিন যদি আদালত পেরে থাকে আজ কেন পারবে না! একেবারে ন্যায্য কথা। আমি সেই সাথে যোগ করতে চাই, আজ যদি পেরে থাকে কাল কেন পারবে না! যা শুরু হয়েছে তাতে কোনোকালেই কি আর সংবিধান সংশোধনীর জন্য সংসদে যাওয়ার দরকার পড়বে? ব্যারিস্টার শফিক এবার যে রেওয়াজটা পোক্ত করলেন তা রয়ে গেল ভবিষ্যতের জন্য। মনে রাখতে হবে এই সরকারই বাংলাদেশের শেষ সরকার নয়। এই সংশোধনীই সংবিধানের শেষ সংশোধনী নয়। আদালত দিয়েই যখন সংবিধান সংশোধন করানো যায়, কেউ আর সংসদে গিয়ে টু-থার্ডের ধার ধারবে এমনটা মনে করার কোনো কারণ নেই।
শুরু করেছিলাম নেত্রীর প্রশংসা দিয়ে কিন্তু বুঝতে পারছি না শেষ করব কী দিয়ে! শেখ হাসিনার সরকার যেমন প্রমাণ করল সংবিধান সংশোধন কোনো বিগ ডিল নয়, সেই সাথে এই যে ভাঙা বেড়াটা দেখিয়ে দিলেন, গৃহস্খ কি আর কখনোই নিরাপদ থাকতে পারবে? বুঝতে পারছি না জাতির এক মহা ক্ষতি করে দিয়ে গেলেন কি না এবার নেত্রী!
নিউইয়র্ক
http://www.dailynayadiganta.com/fullnews.asp?News_ID=all&sec=6

প্রধানমন্ত্রীর দিন কাটছে বিরোধীদলীয় নেত্রীর ছিদ্রান্বেষণে

সিরাজুর রহমান

ব্রিটেনে বাধ্যতামূলক আইন আছে রেডিও-টেলিভিশনের জন্য। রাত ৯টাকে একটা ‘ওয়াটারশেড’ বা ‘কাট অফ পয়েন্ট’ হিসেবে বেঁধে দেয়া হয়েছে। এর আগে সহিংসতা, খোলামেলা যৌন আচরণ, কদর্য কথাবার্ত্যা এমনকি ধূমপানের দৃশ্যও প্রচার করা যাবে না। এ দেশে সাধারণত শিশুদের রাত ৯টা পর্যন্ত পিতামাতা অভিভাবকদের সঙ্গে টেলিভিশন দেখতে কিম্বা রেডিও শুনতে দেয়া হয়। তারপর তাদের শুতে পাঠানো হয়। বড়রা তখন ইচ্ছেমতো অনুষ্ঠান দেখতে ও শুনতে পারেন। শিশুরা ‘ইমপ্রেশনেবল’, তাদের মনে যাতে কুপ্রভাব গেড়ে বসতে না পারে সে জন্যই এ আইন করা হয়েছে।
বাংলাদেশে বর্তমানে তরুণ-কিশোরদের সরকারি উদ্যোগে সহিংসতায় লিপ্ত করা হয়েছে, সরকারের প্রশ্রয়ে কিশোরী ও বালিকাদের যৌন হয়রানি মহামারীর আকার ধারণ করেছে। বহু তরুণ মাদকাসক্ত, তরুণসমাজের চালচলন ও আচার-ব্যবহার অনেক সময় সুসভ্য ও গ্রহণযোগ্য আচরণের গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়। কৃত্রিম উপগ্রহের দৌলতে অবাধে অবাঞ্ছনীয় বিদেশী টেলিভিশন দেখতে পাওয়া নি:সন্দেহে তার জন্য অনেকখানি দায়ী। আরো একটা ব্যাপার আছে। শিশুরা বড়দের দৃষ্টান্ত থেকে শেখে। সমাজের যারা মাথা তারা যদি অশ্লীলতা কিংবা সহিংসতা প্রচার করেন তাহলে শিশুরা সেটাকে গ্রহণযোগ্য বলেই ধরে নেবে। তারপর তাদের যদি সে প্রকারের আচরণের জন্য তিরস্কার করা হয় তাহলে অবশ্যই তারা বিদ্রোহ করবে।
বাংলাদেশে সে রকম কোনো আইন আছে কি না জানি না। থাকলেও সে আইন প্রয়োগ করা যাবে না। খবর প্রচার হচ্ছে দিবারাত্রি। খবরের অনুষ্ঠান রাত ৯টা পর্যন্ত ধরে রাখা যাবে না। খবরের মধ্যেই যেসব সহিংসতা ও অনৈতিক কাণ্ডকারখানা দেখানো হচ্ছে শিশুদের মানসিকতার জন্য সেটা কোনোমতেই ভালো হতে পারে না।
সব চেয়ে বড় বিতর্ক খোদ প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে। বিরোধী দল বিএনপি, সে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমান এবং বর্তমান নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তার পরিবার সম্পর্কে তার বিশেষ একটা অবসেশন (অতিমাত্রিক বদ্ধমূল আবেশ বা ধারণা) আছে। তাদের প্রসঙ্গ উঠলেই তিনি ভারসাম্য রাখতে পারেন না। সে জন্যই আমার মাঝে মধ্যে মনে হয় প্রায় ছয় বছর দিল্লিতে তার মগজ ধোলাই করা হয়েছিল বলে যে একটা কথা চালু আছে, সেটা হয়তো সত্যি হতেও পারে। তার পিতা শেখ মুজিবকে (আমার মুজিব ভাই) আমি ভালো করেই জানতাম, তার মাতার সঙ্গেও পরিচয় ও আলাপের সুযোগ হয়েছে। তাদের কাছ থেকে এসব ভাষা শিখেছেন বলে আমি কল্পনা করতে পারি না।
বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা এবং নেতানেত্রীদের প্রসঙ্গ উঠলেই তার বুদ্ধি কিংবা জিহ্বাকে সংযত রাখতে পারেন না। তখন তার মুখ দিয়ে যে ভাষা বেরোয় সেটা ভদ্রসমাজে ব্যবহারের সম্পূর্ণ অনুপযোগী। অথচ সে ভাষা কেটেছেঁটে বাদ দিয়ে প্রচারের সাহস মিডিয়ার হবে না। প্রচার-প্রচারণা সম্পর্কে বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর কতগুলো মারাত্মক ভুল ধারণা আছে। তিনি মনে করেন যত বেশি প্রচার পাওয়া যায় ততই ভালো ্য এমনকি সে প্রচারণা পূতিগìধপূর্ণ হলেও।

গিলে খাওয়া প্রতিশ্রুতি
গত সপ্তাহের শুক্রবার (৫ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রচার-প্রচারণা এবং তথ্য গবেষণা সম্পাদকদের সম্মেলনে কতগুলো দু:খজনক ও লজ্জাকর উক্তি করেছেন। খুবই কটু ইঙ্গিত করে তিনি প্রশ্ন করেছেন বিএনপি নেত্রীর রাতে অফিস করার উদ্দেশ্য কী? বিএনপি’র ভাইস প্রেসিডেন্ট সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে নেত্রীর গাড়িতে নিয়ে যাওয়া সম্পর্কে অত্যন্ত অশ্লীল কটাক্ষ করেছেন তিনি। একই বক্তৃতায় তিনি বলেন যে, কেজিপ্রতি ১০ টাকা দামে চাল দেয়ার কথা তিনি বলেননি।
২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে ১০ টাকা কেজি’র চাল দিতে তার প্রতিশ্রুতির খবর রেডিও-টেলিভিশন ও পত্রপত্রিকায় এত ব্যাপকভাবে প্রচার হয়েছিল যে বাংলাদেশের অন্তত দু-এক কোটি মানুষের অবশ্যই সেটা মনে আছে। তিনি ভোটদাতাদের বলেছিলেন, ১০ টাকা কেজি দরে চাল খেতে হলে আওয়ামী লীগকে ভোট দিতে হবে। গত কয় দিনে আমার বহু সহৃদয় পাঠক সে সময়কার বহু পত্রিকায় এ সংক্রান্ত খবরের শিরোনাম ‘কোলাজ’ করে আমাকে ইমেইলে পাঠিয়েছেন। এখন অস্বীকার করছেন যে সে প্রতিশ্রুতি তিনি দেননি। অর্থাৎ দিনকে তিনি রাত বলছেন। এরপর তার কোনো কথা সত্যি বলে বাংলাদেশের মানুষ কিভাবে বিশ্বাস করতে পারবে?
তিন-তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী এবং বর্তমানে বিরোধী দলের নেত্রী সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর উপরিউক্ত বক্তৃতার টেলিভিশন বিবরণ নিশ্চয়ই দেশের লাখ লাখ ছেলেমেয়ে দেখেছে। তার থেকে সভ্যসমাজে আচরণের কোন মাপকাঠি তারা শিখবে? বাংলাদেশে এককালে খুবই সমৃদ্ধ একটা সংস্কৃতি ছিল, পরস্পরের সঙ্গে কথোপকথনে সাধারণ মানুষও সৌজন্য ও বিনয় দেখাত। ভবিষ্যৎ বংশধরদের কি আমরা সে সংþকৃতি, সে ভাষা ভুলিয়ে দিতে চাই?
আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও গবেষকদের মধ্যেও কিছু সুসভ্য ও বুদ্ধিমান লোক আছেন বলে আমার বিশ্বাস। প্রধানমন্ত্রীর ভাষা তাদের ভদ্র কিংবা মার্জিত মনে হয়েছে? প্রতিবাদ অবশ্যই তারা করতে পারেননি। কিন্তু আমার স্খির বিশ্বাস ভেতরে ভেতরে তাদের অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কুৎসিৎ প্রচারণা চালাতে তাদের কি প্রবৃত্তি হবে?
বহু কাল আগে আমি ঢাকায় ব্রিটিশ ইনফরমেশন সার্ভিসের সম্পাদক ছিলাম। একবার করাচি থেকে সার্ভিসের প্রধান স্ট্যানলি এলিস ঢাকায় এসেছিলেন। প্রচার বিশেষজ্ঞ হিসেবে তার খুব সুনাম ছিল। একদিন সìেধ্যবেলা আমি বেশ দেরি করে অফিসে কাজ করছিলাম। এলিস আমার ঘরে এলেন। অনেক গল্প হলো। কথায় কথায় তিনি প্রচারের মন:স্তত্ত্ব সম্পর্কে অনেক কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, প্রচার যদি প্রচারণা বলে ধরা পড়ে যায় তাহলে সে প্রচার ব্যর্থ হতে বাধ্য; আর প্রচারসামগ্রীর ভাষা যদি পাঠকের রুচিবোধকে আহত করে তাহলে সে প্রচার অরণ্যে রোদনের শামিল হবে। আমার মনে হয় শেখ হাসিনার আলোচ্য ভাষণটি উপস্খিত প্রচার সম্পাদকদের মনেও প্রভাব ফেলেনি, তারা কী করে দেশের মানুষের মনে প্রভাব ফেলবেন? তা ছাড়া তার বক্তৃতা শুনে সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতীবাচক প্রতিক্রিয়া হয় বুদ্ধিমান প্রচার সম্পাদকদের সেটা বুঝতে পারা উচিত।

চালুনি ও সূচের কাহিনী
শুনেছি দিনের শেষে যখন সবারই কাজকর্ম শেষ হয় তখন খালেদা জিয়া তার গুলশানের অফিসে উপদেষ্টাদের নিয়ে বসেন, দলীয় নেতাকর্মী, এমনকি সাধারণ মানুষেরও অভাব-অভিযোগের কথা শোনেন। সংসদ সদস্যরা জনপ্রতিনিধি। সাধারণ মানুষের সঙ্গে নাড়ির যোগাযোগ না থাকলে তাদের অভাব-অভিযোগের কথা তারা জানবেন কী করে? যুক্তরাজ্যে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় সব এমপি’র অফিস আছে। সপ্তাহান্তে এবং অন্য সময়েও তারা সেখানে এলাকার লোকজনের সঙ্গে দেখা করেন, তাদের বক্তব্য শোনেন। এসব বৈঠককে বলা হয় সার্জারি।
খালেদা জিয়া দেশের মানুষের কাছে কাছে থাকেন, তাদের কথা শুনতে চান। মইন-ফখরুদ্দীন অবৈধ সরকারের আমলে খালেদা জিয়া দেশ ছেড়ে যাননি, সেটাই দুর্দিনেও দেশের মানুষের কাছাকাছি থেকেছেন। জেলও খেটেছেন দেশে থেকে। অন্য দিকে শেখ হাসিনা চিকিৎসার নামে দুই-দুইবার বিদেশে গেছেন এবং প্যারোলের শর্ত ভঙ্গ করে কয়েকটি দেশে গেছেন, সভা-সমাবেশ করেছেন, রাজনৈতিক বক্তৃতা দিয়েছেন। এমনিতেই শেখ হাসিনা দেশের চেয়ে বিদেশকে বেশি ভালোবাসেন। তার ও তার সরকারের সব কাজকর্মে সেটা পরিষ্কার। ১৯৯৬-২০০১ সালে পাঁচ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন মোট এক বছর তিনি বিদেশে কাটিয়েছেন। এবারও তার প্রধানমন্ত্রিত্বের মাত্র ২২ মাস হয়েছে এখন। এরই মধ্যে অন্তত দুই মাস তার বিদেশে কেটেছে। খালেদা জিয়া মানুষের কাছাকাছি থাকছেন, তাই তার জনপ্রিয়তা শেখ হাসিনার ধরাছোঁয়ার ঊর্ধ্বে। সে জন্য ক্রোধে অìধ হয়ে অশ্লীলতার আশ্রয় নেয়া ১৭-১৮ কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাজে না। ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন নিয়ে যারা মারামারি করে, এসব আচরণ তাদের কথাই মনে করিয়ে দেয়।
সত্যিকারের শুভকামী কেউ যদি থেকে থাকেন তাহলে তাদের উচিত প্রধানমন্ত্রীকে কতগুলো হক কথা বলে দেয়া। সেগুলোর একটা এই যে আকাশের দিকে থুথু ছুড়লে সে থুথু নিজের গায়েই পড়ে।
সাম্প্রতিক কালের ইতিহাসের একটা অনুচ্ছেদের কথা প্রধানমন্ত্রীকে মনে করিয়ে দেয়া প্রয়োজন। ১৯৮৬ সালে লে. জে. এরশাদের সামরিক স্বৈরশাসনের অধীনে সংসদ নির্বাচন বর্জন করার জন্য সব রাজনৈতিক দলের মতৈক্য হয়েছিল। কিন্তু সে মতৈক্য ভঙ্গ করে শেখ হাসিনা ৬ মে নির্বাচনে অংশ নেন। আওয়ামী লীগের শোচনীয় পরাজয়ের পর শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি সংসদে যাবেন না। কয়েক দিন পরেই কিন্তু তিনি মত পরিবর্তন করেন। তখন এ খবর প্রচার হয়েছিল যে এরশাদের সঙ্গে তার গাড়িতে তিন ঘন্টার ড্রাইভের পর হাসিনা মত পরিবর্তন করে সংসদে গিয়েছিলেন। খালেদা জিয়ার গাড়িতে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ভ্রমণ নিয়ে অশ্লীল কটাক্ষ করার আগে আওয়ামী লীগ নেত্রীর উচিত ছিল ১৯৮৬ সালের সে অভিযোগের কথা মনে রাখা।

সর্বোচ্চ আদালতের রায়
বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ভেবেচিন্তে কথা বলেন না, কাজও করেন আধা-খেঁচড়াভাবে। তার বিচারবুদ্ধি সম্পর্কে এ ধারণা নতুনও নয়। ১৯৯৯ সালের (তখন শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী ছিলেন) একটা ঘটনা আমার মনে পড়ে। সে বছরের ২৯ জানুয়ারি দিল্লি সফর থেকে দেশে ফিরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন যে, (বিএনপি সমর্থক) বন্দীদের জামিন দেয়া হলে দেশের আইনশৃঙ্খলা নষ্ট হবে। ৪ মার্চ ১৯৯৯ প্রধান বিচারপতি এ টি এম আফজাল, বিচারপতি মোস্তাফা কামাল, বিচারপতি লতিফুর রহমান, বিচারপতি বি বি রায় চৌধুরী ও বিচারপতি এ এম মাহমুদুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত ফুল বেঞ্চ এ সম্পর্কে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হাবিবুল ইসলাম ভূঁইয়ার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপরি উক্ত বক্তব্যকে ৎিড়হম-যবধফবফ (ভ্রমাত্মক মতিসম্পন্ন) বলে মন্তব্য করেছিলেন।
শেখ হাসিনা এখন আবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। জামিন নয়, তার নিজের বিরুদ্ধে এক ডজন দুর্নীতির মামলাসহ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে রুজু করা সাড়ে ছয় হাজারেরও বেশি মামলা তার সরকার তুলে নিয়েছে, গামা হত্যার দায়ে প্রাণদণ্ডপ্রাপ্ত ২০ জন আওয়ামী লীগ ক্যাডারকে মুক্তি দিয়েছে তার সরকার, প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও ২০০১ সালের মালিবাগ চার হত্যার আসামি সাবেক সংসদ সদস্য এইচ বি এম ইকবাল এবং বর্তমান সংসদ সদস্য শাওনসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে খুনের মামলা তুলে নিয়েছে। এ সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা যে জাহান্নামে গেছে দেশের মানুষ প্রতি মুহূর্তে এবং হাড়ে হাড়ে সেটা টের পাচ্ছে। মাত্র সে দিন মার্কিন বিমান বাহিনীর একজন অফিসার ঢাকা সফরে এসেছিলেন। টেলিভিশনের খবরে দেখেছিলাম যে প্রধানমন্ত্রী তার কাছেও খালেদা জিয়া সম্বìেধ নালিশ করেছেন, বলেছেন যে খালেদা জিয়া যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তখন ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের সময় পর্যাপ্ত ত্রাণসাহায্য দেয়া হয়নি। বিদেশ থেকে যারাই আসে তাদের কাছেই কি প্রধানমন্ত্রী এ রকম কাঁদুনি গাইতে যান? স্কুলের অপদার্থ ছাত্রী যেমন কথায় কথায় এর-তার বিরুদ্ধে শিক্ষিকার কাছে নালিশ করতে যায়, তেমনি বিদেশী অভ্যাগতদের কাছে নালিশ করে তাদেরও হাসির খোরাক জোগাচ্ছেন। আগের এক কলামে লিখেছিলাম, আকারে ছোট হলেও জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ জাপান ও রাশিয়ার চেয়েও বড় দেশ। সে দেশের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে এ ধরনের আচরণ কি শোভা পায়? তাতে কি বাংলাদেশের মানমর্যাদা বৃদ্ধি পায়?
খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া, তার কুৎসা রটনা এবং বিরোধীদলীয় নেত্রীর ছিদ্রানুসìধানই বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সার্বক্ষণিক কাজ বলে সাধারণ মানুষের মনে একটা ধারণা গড়ে উঠছে। প্রধানমন্ত্রী এ ধারণা পরিবর্তনে নেতিবাচক কর্মকান্ড ছেড়ে দিলেই দেশের মানুষ তাকে কৃতজ্ঞতা জানাবে।
লন্ডন, ১০.১১.১০
http://www.dailynayadiganta.com/fullnews.asp?News_ID=245305&sec=6

Bidheer lekhon !

Digital poddhotir proyogeo amader bidheer lekhon,hocchena khondon.
Ekta lal biplob chai.Sokol oshuvotar dhongsher maddhome notuner agomon chai.
Hassan Imam Khan,
Suisse.

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla