Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

অপরাধ ও শাস্তি। মূল্য এক লাখ মাত্র

Political Crimes in Bangladesh
ঘটনাগুলোর সাথে কমবেশি সবাই পরিচিত। প্রত্যেক জেলায়, এমনকি প্রত্যেক শহরে নিয়মিত ঘটছে । আমাদের নজর কাড়ছে না কারণ সমস্যার সমুদ্র এখন অনেক গভীর, অনেক বেশি উত্তাল। ওখানে সাঁতার কাটা আগের মত অতটা সহজ নয়। অনেকটা পেটি অপরাধের মত গা সওয়া হয়ে গেছে এমন অনেক অপরাধ যা এক সময় সমাজকে আন্দোলিত করতো, ভাবিয়ে তুলত। । বানিজ্যিক কারণে মিডিয়াও এ নিয়ে খুব একটা হৈ চৈ করছে না আশাব্যঞ্জক রিটার্নের সমীকরণে । বলছিলাম অপরাধ ও শাস্তি পর্বের শাস্তিকে নগদ মূল্যে ক্রয় করার দেশীয় সাংস্কৃতির কথা।

বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া প্রতিটা অপরাধের পেছনে জড়িয়ে থাকে অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয়। হোক তা নিজের, পরিবারের অথবা আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধবদের। খুঁটির জোর বলে খুব জনপ্রিয় একটা টার্ম আছে যা দেশের হাটে মাঠে ঘাটে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। হোক তা ব্যবসা বানিজ্য, চাকরী বাজার, প্রমোশন, চুরি ডাকাতি, খুন, রাহাজানি অথবা দুর্নীতি, খুঁটির জোর শক্ত থাকলে অপরাধের সমুদ্রে যমুনা ব্রীজ তৈরী করতেও অসুবিধা হয়না। এরশাদ আমলে পরিচিত এক পুলিশ অফিসারের সাথে এ নিয়ে কথা হয়েছিল। খুব খোলামেলাভাবেই বলেছিলেন কতগুলো নির্মম সত্যকথা। এক একটা খুন নাকি আনন্দের হিল্লোর বইয়ে দেয় পুলিশ ঘরণায়। উপর হতে আগ বাড়িয়ে সমন পাঠানো হয় প্রয়োজনীয় অংক উল্লেখ করে, যা নদীনালা খালবিল পার হয়ে চলে যায় ইনসপেক্টর জেলারেল নামক গভীর সমুদ্র পর্যন্ত। হাইপ্রোফাইল ক্রাইমের মূল্যও নাকি হাই। এ ধরণের অপরাধে জড়িত অপরাধীদের খুঁটির জোরের পাশাপাশি জোর থাকে পকেটে। এই দুইয়ের তৃপ্তিদায়ক সংগম সমাজকে উপহার দেয় কোহিনুর অফিসারের মত পুলিশ অফিসার, যারা ৫/১০ হাজার টাকা মাসিক বেতন পেয়েও ক্রয় করতে সক্ষম হন কোটি টাকার বাড়ি, সুপার মার্কেট, আর বহুবিধ ব্যবসা বানিজ্য। তবে সব অপরাধীদের খুটি ও পকেটে সমান জোর এমনটা বললে নিশ্চয় বাড়িয়ে বলা হবে। এখানেই হাজির হয় অপরাধ ও শাস্তির দ্বিতীয় পর্ব। গৃহকর্তা কর্তৃক অল্প বয়স্কা গৃহপরিচারিকা ধর্ষণ, বাড়ির গয়নাবিবি কর্তৃক নাবালক গৃহকর্মীদের বেধড়ক পেটানো, প্রতাপশালীর লাথিতে সহায় সম্বলহীন কারও অকাল মৃত্যু, এ ধরণের ক্রাইম অনেক সময় পুলিশ নামক জলহস্তীর গোচরে আনা হয়না বাদি বিবাদীর যৌথ সিদ্ধান্তে। সরাসরি নগদ লেনদেন অনেক ক্ষেত্রে পুলিশকে বঞ্চিত করে তাদের প্রাপ্য ’হক’ হতে। এক পক্ষ প্রতাপশালী, বিত্তশালী, নগদ অর্থের উপর গড়াগড়ি যান সকাল বিকাল। এমন পক্ষের কেউ অপরাধ করলে পরিবারের কর্তা নিজে অথবা তৃতীয় কারও মাধ্যমে নগদ অর্থের বিনিময়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন কৃত অপরাধ। অনেক ক্ষেত্রে তা সফল হয় অনেক ক্ষেত্রে হয়না। এমনটাই বাংলাদেশের অপরাধ এবং শাস্তির থ্রেড। এ থ্রেড ধরেই পল্লবিত দেশের অপরাধ যার আবর্তে ঘুরপাক খায় বিচার ব্যবস্থা।

দ্বিমত করতে পারেন আমার সাথে কিন্তু আমার বিবেচনায় আমি স্থির। দেশের তাবৎ অপরাধের দায় দায়িত্ব ক্ষমতাসীন সরকারের। তুরাগ নদীতে ডুবে মরল ১৫ জন, নাটোরে পিটিয়ে হত্যা করা হল উপজেলা চেয়ারম্যানকে, মিজানুর রহমান শিক্ষক আর ফরিদপুরের চাঁপা রানীর হত্যা, চোর সন্দেহে গণধোলাই দিয়ে হত্যা, কর্তা কর্তৃক গৃহপরিচারিকা ধর্ষণ, গয়নাবিবি কর্তৃক নাবালিকা অত্যাচার, এসবের দায় দায়িত্ব পুরোটাই নিতে হবে ক্ষমতাসীন সরকারকে। একটা সমাজে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করার জন্যেই জনগণ ভোট দেয়, রাজনৈতিক দলকে গদিতে বসায়। সরকারী ব্যর্থতার জরায়ুতে জন্ম নেয়া অপরাধের চিকিৎসা এক লাখ টাকা আর মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীদের মিথ্যা আস্ফালন হতে পারে না, তার জন্যে চাই পদক্ষেপ। পুরানো ঢাকায় আগুনে পুড়ে একাকার হয়ে গেল বিশাল লোকালয়। সাথে পুড়ে কয়লা হল এক গন্ডা আদম। হতে পারে এ জন্যে দায়ী ঐ এলাকার অসচেতন ব্যবসায়ীরা, অন্তত আপনাদের দৃষ্টিতে। কিন্তু আমার চোখে এ অপরাধের মূল আসামী ক্ষমতাসীন সরকার। আইন ও বিচার ব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে গ্রাম্য অপরাধ ও শাস্তি আদলে আমাদের প্রধানমন্ত্রী নগদ অর্থ নিয়ে ছুটে গেলেন ভিকটিমদের দুয়ারে। টাকার বিনিময়ে ফয়সালা করলেন সরকারী অপরাধ ও ব্যর্থতা। মা বাবার লাশ কবরে মাটি হওয়ার আগেই সন্তানদের বিয়ের পিঁড়িতে বসিয়ে ঘটা করে বিয়ে দিলেন। নিজে মা সাজলেন, এবং সার্বজনীন বাহবা কুড়ালেন। দূর হয়েছে কি ঢাকার সমস্যা? ইভটিজিংয়ের শিকার হয়ে প্রাণ হারালেন চাঁপা রানী। এতিম তিন কন্যা সন্তানের মা হয়ে এদেরও দেখভাল করার প্রতিশ্রুতি দিলেন সরকার প্রধান। লাখ টাকা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ছুটে গেলেন ভিকটিমদের কাছে। আবারও আস্ফালন করলেন অপরাধী কাউকে ছাড়া হবেনা বলে। এবং এ পর্যন্তই। সরকারী অপরাধ ও ব্যর্থতা হালাল করার চিরাচরিত মূল্য এক লাখ টাকা পরিশোধ করে প্রধানমন্ত্রী ফয়সালা করলেন কৃত অপরাধ। বাংলাদেশের সরকার কি স্যালভেশন আর্মি না এনজিও যে টাকা দিয়ে জনসমস্যার সমাধান করতে হবে? সরকারের কাজ দেশ শাসন করা, দেশকে রিলিফ ময়দান বানানো নয়। ঢাকা ও ফরিদপুরে তিনজন করে কন্যা সন্তান দত্তক নিয়ে সমস্যার সমাধান করেছেন সত্য। কিন্তু এ ৬ জনই কি শেষ ভিকটিম? দেশের অলিগলিতে প্রতিদিন জন্ম নিচ্ছে নতুন নতুন শিকার । কজনকে সন্তান বানাবেন? কজনের মুখ টাকা দিয়ে বন্ধ করবেন? একজন সন্তানের কাছে তার গর্ভধারিণী মা-ই আসল মা। নকল মা কখনোই আপন মার জায়গা নিতে পারে না, হোক তা দেশের প্রধানমন্ত্রী। এই আসল মার বেচে থাকা নিশ্চিত করার অপর নামই দেশ শাসন। বাকি সব স্রেফ ধাপ্পাবাজি।

Comments

বখাটের কারণে এবার প্রাণ গেল স্কুলছাত্রী রূপালী রানী বরাতির।

গতকাল (৩০শে অক্টোবর, ২০১০) সোমবার সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার নিঝুরি গ্রামে এক বখাটের বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকাবাসী ওই বখাটেকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। জানা যায়, রূপালীর বাড়ি বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খলিসাগাড়ি গ্রামে। তার বাবার নাম সুনীল চন্দ্র বরাতি। রূপালী পার্শ্ববর্তী উপজেলা রায়গঞ্জের সীমাবাড়ী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল। বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে প্রায়ই তাকে উত্ত্যক্ত করত পাশের নিঝুরি গ্রামের বখাটে সুশীল চন্দ্র মণ্ডল (২২)।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, রূপালী গতকাল সকাল সাতটার দিকে শিক্ষকের কাছে পড়ার জন্য সুশীলের বাড়ির সামনে দিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় সুশীল জোর করে তাকে ধরে বাড়িতে নিয়ে যায়। আশপাশের লোকজন তা দেখে রূপালীর বাড়িতে খবর দেয়। পরিবারের লোকজন রূপালীকে উদ্ধারের জন্য ওই বাড়িতে গেলে সুশীলের বাড়ির লোকজন বিষয়টি অস্বীকার করে। এতে তাঁরা বাড়ি ফিরে যান। ঘণ্টা খানেক পর তাঁরা কয়েকজন প্রতিবেশীকে সঙ্গে নিয়ে আবারও সুশীলের বাড়িতে যান। তাঁরা ওই বাড়ির একটি ঘরে ঢুকে মেঝেতে রূপালীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। বিষয়টি জানাজানি হলে গ্রামবাসী সুশীলকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। পুলিশ রূপালীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
সুশীল সাংবাদিকদের কাছে দাবি করে, সে রূপালীকে ঘরে আটকে সিঁথিতে সিঁদুর দিয়েছিল। এরপর তাকে ঘরে রেখে সে বাইরে থেকে দরজা আটকে চলে যায়। ঘণ্টা খানেক পর ওই ঘরের দরজা খুলে আড়ার সঙ্গে রূপালীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়।

রূপালীর ভাই কনক বরাতি এ ঘটনায় বখাটে সুশীল, তার মা এবং পাঁচ ভাই ও তাঁদের স্ত্রীদের আসামি করে (মোট ১২ জন) রায়গঞ্জ থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ প্রাথমিকভাবে রূপালীর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে। সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন জানান, জিজ্ঞাসাবাদে সুশীল জোর করে রূপালীকে ধরে নিয়ে সিঁথিতে সিঁদুর দেওয়ার কথা স্বীকার করেছে। সে রায়গঞ্জে রাজমিস্ত্রির কাজ করে। ঘটনার পর থেকে তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক।
সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মোশারফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘রূপালীকে অপহরণের পর ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।’

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দুই ভাই ও চার বোনের মধ্যে রূপালী পঞ্চম। বড় ভাই কনক ব্যবসায়ী। তাঁর আয়েই সংসার চলে। বড় তিন বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। তাঁরা ভারতে থাকেন। সবার ছোট ভাই অষ্টম শ্রেণীতে পড়ে। মেয়ের এমন মৃত্যুতে রূপালীর মা তরী রানী বরাতি ভেঙে পড়েছেন। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘সকালে মেয়েটা খেয়েও যায়নি। সে আর আমায় মা বলে ডাকবে না।’ রূপালীর আত্মীয় করতোয়া নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সত্যলোচন বরাতি বলেন, ‘পড়ালেখায় সে (রূপালী) খুব ভালো ছিল। এমন ঘটনা তার ভাগ্যে ঘটবে, তা আমরা ভাবতেও পারছি না।’ এর কয়েক দিন আগে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার লোকমানপুর কলেজের শিক্ষক মিজানুর রহমান এবং ফরিদপুরের মধুখালীতে চাঁপা রানী ভৌমিক বখাটেদের হামলায় নিহত হন। ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় মিজানুর এবং মেয়েদের উত্ত্যক্তের বিচার চাওয়ায় চাঁপা রানীকে হত্যা করে বখাটেরা।

কলেজশিক্ষক মিজানুরের বাড়িতে শিক্ষামন্ত্রী: রাজশাহী থেকে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ গতকাল সকাল ১০টার দিকে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার চক লক্ষ্মীপুর গ্রামে কলেজশিক্ষক মিজানুর রহমানের বাড়িতে যান। তিনি মিজানুরের মাসহ পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, ‘আমরা এসেছি আপনাদের পাশে দাঁড়াতে, সম্মান জানাতে, শ্রদ্ধা জানতে, মিজানুরের জীবন থেকে শিক্ষা নিতে।’

মিজানুরের ওপর গত ১২ অক্টোবর বখাটে আসিফ ও রাজন হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। ২৪ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে তিনি মারা যান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। তখন ব্যবস্থা নেওয়া হলে আজকে এসব ঘটনা কমে আসত। বিচ্ছিন্নভাবে বা শুধু আইন দিয়ে বখাটেদের মোকাবিলা করা যাবে না। তাদের প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’ তিনি বলেন, মিজানুরের স্ত্রীর চাকরি এবং পরিবারকে অন্যান্য সহযোগিতা করার বিষয়ে আগেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তাঁর স্ত্রী ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে ঢাকায় গেছেন।

মিজানুরের মৃত্যুর দিনটিকে ‘ইভ টিজিং প্রতিরোধ দিবস’ ঘোষণার দাবি জানিয়ে এ সময় শিক্ষামন্ত্রীকে স্মারকলিপি দেন বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির (বাকশিস) সভাপতি সফিকুর রহমান।
মিজানুরের বাড়িতে যাওয়ার আগে শিক্ষামন্ত্রী নওগাঁয় গত শনিবার বখাটের হামলায় আহত আবদুল হান্নান, তাঁর ছেলে ও আত্মীয়কে দেখতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। তিনি বখাটের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2010-11-02/news/106090

ইভটিজারদের হামলায় নওগাঁ ও ধুনটে ৫ জন আহত

এবার ৩৮ বছর বয়সী গৃহবধূকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় নওগাঁ সদর উপজেলায় বাবা ও ছেলেসহ তিনজন বখাটেদের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া বগুড়ার ধুনটে ইভটিজাররা এক স্কুলছাত্রীর বাবা ও ভাইকে পিটিয়ে আহত করেছে। সিলেটের গোলাপগঞ্জে এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে ইভটিজিংয়ের দায়ে বখাটে লিপুকে পুলিশ আটক করেছে। এছাড়া চট্টগ্রামে এক বখাটে গ্রেফতার হয়েছে।

রাজশাহী অফিস থেকে আনিসুজ্জামান ।। শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে নওগাঁর খাসগ্রাম মহলস্নায় ওই হামলার ঘটনা ঘটে। আহতদের প্রথমে নওগাঁ সদর হাসপাতালে এবং পরে স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটলে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ২ নং ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হলেন ব্যবসায়ী আব্দুল হান্নান (৪২), তার ছেলে ফশিউর রহমান (১৪) ও হান্নানের মামা আকরাম হোসেন (৩৮)। এদের মধ্যে আকরাম হোসেনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

রবিবার দুপুরে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা জরুরিভিত্তিতে তার শরীরে অস্ত্রোপচার করেছেন। নওগাঁ সদর থানার ওসি মোঃ আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ইত্তেফাককে বলেছেন, এ ঘটনায় ব্যবসায়ী আব্দুল হান্নানের ভাই আব্দুল ওয়াহাব বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। আসামি গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে।

ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় নাটোরের কলেজ শিক্ষক মিজানুর রহমান, ফরিদপুরের চাঁপা রানী ভৌমিকের মৃতু্যতে সারা দেশ যখন প্রতিবাদ বিক্ষোভে উত্তাল তখন নওগাঁয় এই হামলার ঘটনা ঘটলো। রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতরা জানান, ব্যবসায়ী আব্দুল হান্নানের স্ত্রী সাজিয়া সুলতানা মুক্তিকে (৩৮) দীর্ঘ এক বছর ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিল পাশর্্ববর্তী চকদেব ডাক্তার পাড়ার রশিমুদ্দিনের বখাটে ছেলে নবিবর রহমান ওরফে লাকু (৩৮)। বখাটে লাকুর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ভুক্তভোগী পরিবারটি প্রায় ১০ মাস আগে সদর থানায় একটি জিডি করে। জিডির পর পুলিশের উপস্থিতিতে লাকুর পরিবার সালিশের আয়োজন করে। সালিশে কোনো দিন এ রকম কাজ আর করবে না মর্মে লাকু মুচলেকা দেয়। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই আবারো ওই গৃহবধূকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করে।

মুক্তি প্রতিবাদ করায় লাকু তার স্কুলপড়-য়া ছেলে ফশিউর রহমানকেও হত্যার হুমকি দেয়। এতে অতিষ্ঠ পরিবারটি প্রায় ৮ মাস আগে কাপড়পট্টির টিনশেড বাড়িতে আশ্রয় নেয়। ওই বাড়িতেও ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ লাকুর নানা অত্যাচারে পরিবারটি অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। মাত্র ৪ দিন আগে পরিবারটি পুনরায় খাসগ্রামের বাড়িতে আসে। এই সুযোগে লাকু আবারো ওই গৃহবধূকে উত্ত্যক্ত করে এবং হুমকি দেয়। গত শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৮টার দিকে লাকু ও তার কয়েক সহযোগী আব্দুল হান্নানের বাসার প্রাচীর টপকে ভিতরে ঢুকে দরজায় লাথি মারতে শুরু করে। বিষয়টি গৃহবধূ ও তার ছেলে তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল ফোনে আব্দুল হান্নানকে জানায়। দোকান বন্ধ করে তার বাসায় আসতে প্রায় একঘন্টা লেগে যায়। ততক্ষণে বখাটেরা চলে গেছে মনে করে বাড়ির গেটে এসে তিনি ছেলেকে মোবাইল ফোনে বাসার দরজা খুলতে বলেন। দরজা খোলা মাত্র লাকুর নেতৃত্বে তার কয়েক সহযোগী ধারালো ছুরি নিয়ে ছেলে ফশিউরকে ঘিরে ধরে। এসময় হান্নান প্রতিবাদ করলে লাকু ও তার সহযোগীরা বাবা ও ছেলেকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। তাদের চিৎকারে আব্দুল হান্নানের মামা আকরাম হোসেন এগিয়ে আসলে বখাটেরা তাকেও ছুরিকাঘাত করে। হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ছুরিকাঘাতে আব্দুল হান্নানের বাম চোখের নীচে, কাঁধের বাম ও ডান পাশে এবং পেটের বাম ও ডান পাশে রক্তাক্ত জখম হয়েছে। এছাড়া তার ছেলে ফশিউরের পিঠে এবং মামা আকরামের পেটে ও পায়ে জখম হয়েছে। চিকিৎসকরা জানান, আকরামের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

শেরপুর ও ধুনট (বগুড়া) সংবাদদাতা ।। ধুনটের ঘটনায় আহতদের ধুনট স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

থানা পুলিশ ও ভিকটিমের পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ছোট চিকাশি গ্রামের আব্দুল মণ্ডলের কন্যা জুঁই খাতুন গোসাইবাড়ি কেও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী। শনিবার সকালে বাড়ী থেকে স্কুলে যাওয়ার সময় প্রতিবেশী গোলাম রব্বানীর ছেলে গোসাইবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র বাবু মিয়া ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করে। স্কুল থেকে বাড়ী ফিরে জুঁই বিষয়টি পরিবারের লোকজনকে জানায়। রবিবার সকালে জুঁইদের বাড়ীর পাশ দিয়ে বাবু মিয়া বাজারে যাচ্ছিল। এ সময় ওই ছাত্রীর বাবা বিষয়টি জানার জন্য বাবুকে ডেকে নিয়ে কথা বলার এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। সংবাদ পেয়ে বাবুর চাচাত ভাই শফিকুল ও আব্দুল মোমিনসহ ছয়-সাত যুবক ঘটনাস্থলে পেঁৗছে ছাত্রীর বাবা আব্দুল মণ্ডল ও চাচাত ভাই দুলাল হোসেনকে পিটিয়ে আহত করে। ঘটনার পর থেকে বাবু ও তার পরিবারের লোকজন পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় আব্দুল মণ্ডল বাদী হয়ে রবিবার বিকালে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

জুঁই খাতুন জানান, বাবু মিয়া গত রমজান মাস থেকে তাকে উত্ত্যক্ত করে আসছে। লোকলজ্জা ও বাবুর ভয়ে সে বিষয়টি কাউকে জানায়নি; কিন্তু শনিবার সে তাকে স্কুল থেকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেয়।

সিলেট অফিস ।। জানা যায়, উপজেলার দত্তরাইল মাদ্রাসার এক ছাত্রী গত শনিবার মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে ইভটিজিংয়ের শিকার হয়। মোটর সাইকেলযোগে ৩ বখাটে এসে তার গতিরোধ করে তাকে উত্ত্যক্ত করে। এব্যাপারে দত্তরাইল গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে ওয়েছ আহমদ, ঢাকা দক্ষিণের জৈন মিয়ার ছেলে লিপু আহমেদ ও বাঘার নজরুল ইসলামকে অভিযুক্ত করে থানায় এজাহার দেয়া হলে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে লিপুকে আটক করে।

চট্টগ্রাম অফিস ।। নগরীর বন্দর থানাধীন দক্ষিণ হালিশহর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার দায়ে মুনসুর আলমকে (১৯) রবিবার গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সে নগরীর কর্ণফুলী থানার ডাঙ্গারচর এলাকার আনসার আলীর পুত্র। পুলিশ জানায়, উক্ত ছাত্রী বাসে উঠার সময় সে ইচ্ছাকৃতভাবে পথরোধ করে অশালীন আচরণ করে। এক পর্যায়ে তাকে তার সাথে রিকশায় যেতে বাধ্য করার সময় স্থানীয় লোকজন ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। তার বিরুদ্ধে ঐ ছাত্রী বাদি হয়ে মামলা করেছে।

http://ittefaq.com.bd/content/2010/11/01/all0814.htm

রাজধানীতে নির্যাতিত শিশু গৃহকর্মী উদ্ধার, দম্পতি আটক

Photobucket
অভাবের তাড়নায় স্বজনদের ছেড়ে ঢাকায় আসে নয় বছরের শিশু সোহাগী; কিন্তু দুর্ভাগ্য তার পিছু ছাড়েনি। দু'মুঠো ভাতের জন্য এখানে এসে প্রতিদিনই তাকে সহ্য করতে হয়েছে নির্যাতন। অবশেষে গতকাল নির্যাতনের হাত থেকে মুক্তি মেলে তার। র্যাব ও পুলিশ তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। গ্রেপ্তার করেছে বাসার গৃহকর্তা টিটু ও গৃহকত্রর্ী লিমাকে। গতকাল রাজধানীর মগবাজার এলাকায় দিলু রোডে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, সোহাগীর পিঠ, হাত, ঘাড়, গলা, মাথার চারদিকের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে পোড়া কালশিটে দাগ ও ফোস্কা। আবার শরীরের কোথাও কোথাও রয়েছে লাঠি দিয়ে পেটানোর দাগ। হাত-পাসহ শরীরের সর্বত্রই জখমের চিহ্ন বহন করছে সোহাগী। তাকে উদ্ধারের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে। সোহাগীর পিতার নাম মৃত আয়নাল হোসেন। গোপালগঞ্জ জেলা সদরের গোলাপপাড়ায় তার গ্রামের বাড়ি। ভাব-অনটনের সংসারে খেয়ে না খেয়ে কষ্টে দিন চলছিল তাদের। দু'মুঠো খাবারের নিশ্চয়তার জন্যই সোহাগীর মা দুলু বেগম মেয়েকে বাসায় কাজ করতে ঢাকায় পাঠায়।

পুলিশ জানিয়েছে, মগবাজার দিলু রোডের ২৭/এ নম্বর বাসায় থাকেন টিটু ও লিমা দম্পতি। তাদের বাসায় কাজ শুরু করে সোহাগী। দেড় বছর ধরে সে ওই বাসায় কাজ করছে; কিন্তু কাজে আসার কয়েকদিন পর থেকেই তার ওপর শুরু হয় নির্যাতন। কাজে ভুল করলেই সোহাগীকে মারধর করতেন লিমা। মারধরের পাশাপাশি খুন্তি গরম করে দেয়া হতো ছঁ্যাকা। যন্ত্রণায় চিৎকার করলে আটকে রাখা হতো বাথরুমে। তাকে ঠিকমতো খাবার দেয়া হতো না। ওই বাসার আশেপাশের বাসিন্দারা এ নির্যাতনের বিষয়টি গতকাল জানান, র্যাব-২-এর সদস্যদের। পরে তারা রমনা থানা পুলিশকে নিয়ে দুপুর সোয়া ১টার দিকে ওই বাসা থেকে সোহাগীকে উদ্ধার করে। সোয়া ২টায় সোহাগীকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। রমনা থানার এসআই আশরাফ জানিয়েছেন, মেয়েটির সারা শরীরে নির্যাতনের ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। তার চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আটক টিটু ও তার স্ত্রী লিমার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে।
http://ittefaq.com.bd/content/2010/11/01/all0814.htm

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla

JUST VIEWED

Last viewed: