Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

হায়েনা মুক্ত বাংলাদেশ চাই

Awami League
রাত নটা। স্থান সাভার বাজার রোড। ধামরাই উপজেলার ফোর্ডনগর গ্রামের ফারুখ হোসেন ফকিরের ছেলে শামীম মোবাইল ফোন রিচার্জ করার জন্য রাস্তায় বের হয়। থামে বাজার রোডের একটা দোকানে। সে প্রতিবন্ধী। প্রায় একই সময় একই দোকানে একই উদ্দেশ্যে হাজির হয় জাহিদুল ইসলাম ওরফে ফয়সাল এবং কামরুল আহসান ওরফে জনি নামের জনৈক দুই যুবক। দোকানে ব্যায় করার মত যথেষ্ট সময় নেই তাদের হাতে। বেজায় ব্যস্ত তারা। ভাজি করার মত বড় বড় মাছ তাদের মেন্যুতে। তাই ফ্লেক্সি লোডের মত পুটি মাছে সময় নষ্ট করতে চাইলোনা। শামীমকে ধমক দিয়ে সরে যেতে বললো। শামীম 'আগে আসলে আগে পাওয়া যায়' এই তত্ত্বে বিশ্বাসী। তাই প্রতিবাদ করলো। যুবকদ্বয়ও কম যায়না। শামীমের গালে থাপ্পর মেরে জানিয়ে দিল তারা যেনতেন কেউ নয়, বরং যথাক্রমে সাভার উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্ববায়ক ও যুগ্ম আহ্ববায়ক। থোরাই কেয়ার করল শামীম। আর যায় কোথা! পাশের দোকান হতে রড এনে বেধড়ক পিটুনি দিল বেয়ারা শামীমকে। আঘাতে বা হাত ভেঙ্গে গেল, মাথার একদিক থেতলে গেল। অচেতন শামীম লুটিয়ে পরল মাটিতে। ফোন লোড করে বীরের মত চলে গেল চেতনার জোয়ারে ভাসমান বঙ্গবন্ধুর দুই সৈনিক। এতক্ষণ দর্শক হয়ে থাকা স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এল এবং শামীমকে নিয়ে গেল এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। একদিন পর চিকিৎসাধীন শামীম লুটিয়ে পরল মৃত্যু কোলে।

দ্রষ্টব্যঃ কেবল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে মানুষ কিছু পায়।

Comments

বিটিসিএলের সিডিআর কেলেঙ্কারি

বিটিসিএলের সিডিআর কেলেঙ্কারি : এমডিসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে মামলা শিগগিরই
স্টাফ রিপোর্টার

প্রতিবেদন জমা হওয়ার দীর্ঘ সাত মাস পর বিটিসিএলের (বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেড) সিডিআর (কল ডিটেইল রেকর্ড) দুর্নীতিতে চারটি মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। ফলে শিগগিরই সিডিআর কেলেঙ্কারিতে সম্পৃক্ত ২২ আসামির বিরুদ্ধে চারটি মামলা হবে। সিডিআর কারসাজির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা লোপাট করে নেয়ার প্রতিবেদন জমা দেয়ার পরও প্রভাবশালী মহলের তদবিরে মামলার অনুমোদন হয়নি। রোববার কমিশনের বৈঠকে মামলাগুলোর অনুমোদন দেয়ার পর কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন চপ্পু জানান, কমিশন বৈঠকে মামলাগুলো দাখিলের জন্য অনুমোদন দেয়া হয়েছে এবং দু’একদিনের মধ্যে মামলাগুলো এজাহার আকারে দায়ের করা হবে।
দুদকের অনুসন্ধান টিম যাদের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ করেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন, বিটিসিএলের এমডি এস এম কলিমুল্লাহ, বিটিসিএলের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাংলাদেশ টেলিফোন শিল্প সংস্থার চেয়ারম্যান (বর্তমানে ওএসডি) ড. মো. আবু সাইদ খান, সাবেক এমডি মো. খাবিরুজ্জামান, আফসারুল আলম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজিজুল ইসলাম, বিটিসিএলের সাবেক সদস্য (রক্ষণাবেক্ষণ ও চালনা) ও বাংলাদেশ টেলিফোন স্টাফ কলেজের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ তৌফিক, জিএম (ওটিআর) আনোয়ারুল মামুন, বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান প্রামাণিক এবং সহকারী বিভাগীয় প্রকৌশলী রোনেল চাকমা ও বদিউল আলম। বিটিসিএল কর্মকর্তাদের বাইরে দুর্নীতিতে সহযোগী হিসেবে এরিকসন বাংলাদেশ লিমিটেডের কন্টাক্ট ম্যানেজার আসিফ জাহিদ, রিলেশন ম্যানেজার নজরুল ইসলাম ও প্রকৌশলী মাসরুল হাকিমকে আসামি করা হচ্ছে। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪৭৭(ক)১০৯ এবং ১৯৭৪ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলার সুপারিশ করেছে দুদকের অনুসন্ধান কমিটি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মামলার অনুমোদনের দীর্ঘসূত্রতার কারণে সিডিআর কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত দুর্নীতিবাজদের অনেকেই দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন, কেউ কেউ পালানোর সুযোগ খুঁজছেন।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি দুদকের অনুসন্ধান দল কমিশনে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, একটি প্রভাবশালী চক্রের তদবিরে দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা করতে গড়িমসি করা হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে কমিশনে অনুসন্ধান প্রতিবেদন জমা পড়ার পরও কমিটিকে আরো বিশদ অনুসন্ধান চালিয়ে প্রতিবেদন উপস্থাপন করতে বলা হয়। অনুসন্ধান টিম বিস্তারিত অনুসন্ধান শেষে গত জুন মাসে ২২ জনের নাম সুপারিশ করে পুনরায় প্রতিবেদন জমা দেয়। এর মধ্যে খোদ বিটিসিএলের বর্তমান ও সাবেক এমডির নামও চলে আসে।
দুদকের কমিশনার ও রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. নাসিরউদ্দীনের কাছে এ বিষয়ে কয়েক দফা জানতে চাইলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি। তবে দুদক সচিব ২২ আগস্ট প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, গত ফেব্রুয়ারিতে অনুসন্ধান প্রতিবেদন জমা হলেও তা অধিকতর যাচাই-বাছাই করার জন্য অনুসন্ধান দলের কাছে পাঠানো হয়। তারা আবার অনুসন্ধান প্রতিবেদন জমা দেন।
অনুসন্ধান প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, সিডিআর কেলেঙ্কারির সময় এস এম কলিমুল্লাহ বিটিসিএলের এমডি ছিলেন না। ওই সময় তিনি বিটিসিএলের সদস্য (মেইনটেন্যান্স ও অপারেশন্স) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি এস এম কলিমুল্লাহকে ওই দায়িত্ব থেকে পদোন্নতি দিয়ে বিটিসিএলের এমডি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
বিটিসিএল সূত্রে জানা গেছে, দুদকের মামলার দীর্ঘসূত্রতার কারণে ছুটি নিয়ে এরই মধ্যে আমেরিকায় পাড়ি জমিয়েছেন মামলায় সুপারিশকৃত অন্যতম আসামি বিটিসিএলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিভাগীয় প্রকৌশলী হাম্মাদ মুজিব। তিনি গত ১ মার্চ দুই বছরের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। বিটিসিএলের আরেক বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান প্রামাণিক বৈদেশিক ছুটি নিয়ে মালয়েশিয়া চলে গেছেন। মামলার সুপারিশকৃত অন্যতম আসামি বিটিসিএলের সহকারী বিভাগীয় প্রকৌশলী রোনেল চাকমাও কিছুদিন আগে কানাডা চলে গেছেন। বিটিসিএলের সাবেক সদস্য (রক্ষণাবেক্ষণ ও চালনা) ও বাংলাদেশ টেলিফোন স্টাফ কলেজের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ তৌফিক নামে-বেনামে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। গুলশানে ফ্ল্যাট, গুলশানে ১০ কাঠা জমি এবং রমনা থানাধীন রোকেয়া টাওয়ারে ফ্ল্যাটসহ বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। টাওয়ারের ফ্ল্যাটটি ইতোমধ্যে বিক্রি করে দিয়েছেন। তৌফিক ও তার স্ত্রীর মালিকানাধীন অ্যাপেল আইজিডব্লিউ বিক্রি করে আমেরিকায় চলে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন।
দুদক সূত্র জানায়, বিটিসিএলের দুটি ইন্টারন্যাশনাল ট্রাঙ্ক এক্সচেঞ্জের (আইটিএক্স) কল ডিটেইল রেকর্ডে (সিডিআর) নানা কারসাজির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাসহ একটি শক্তিশালী দুর্নীতিবাজ চক্র বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা লোপাট করেছে। ওই লাগামহীন দুর্নীতিতে ২০১১ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১২ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে কমপক্ষে ৫৭৫ কোটি ৩৩ লাখ ৮২ হাজার ৯৭৫ টাকা ৫১ পয়সা। ২০১১ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১২ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বিটিসিএলের বড়াইলে (বনানী) অবস্থিত আইটিএক্স-৫ ও আইটিএক্স-৭ (মহাখালী আন্তর্জাতিক এক্সচেঞ্জ নামে পরিচিত)-এর মাধ্যমে তিনটি ইন্টারকানেকশন এক্সচেঞ্জ (আইসিএক্স) হয়ে বিভিন্ন অপারেটরের কাছে বিদেশ থেকে পৌঁছানো সর্বমোট কল ছিল ৪৫২ কোটি ৬৮ লাখ ৫৬ হাজার ৯৩৩ দশমিক ১৬ মিনিট।
এর মধ্যে বিটিসিএলের আইসিএক্স এনজিএন ট্যাক্স-এ হয়ে যাওয়া কল ছিল ২৬১ কোটি ৩১ লাখ ৪১ হাজার ৭০৫ দশমিক ০৮ মিনিট, গ্যাটকো আইসিএক্স হয়ে যাওয়া কলের পরিমাণ ছিল ৮১ কোটি ৮৯ লাখ ২১ হাজার ৯৫৪ দশমিক ০৮ মিনিট এবং এম অ্যান্ড এইচ আইসিএক্স হয়ে যাওয়া কল ছিল ১০৯ কোটি ৪৭ লাখ ৯৩ হাজার ২৭৪ দশমিক ০০ মিনিট। অথচ আইসিএক্স-৫ ও আইসিএক্স-৭-এ ওই সময় কলের পরিমাণ দেখানো হয়েছে মাত্র ২৪০ কোটি ৮৪ লাখ ৯০ হাজার ৮৬৪ দশমিক ৮৮ মিনিট। অর্থাত্ ২১১ কোটি ৮৩ লাখ ৬৬ হাজার ৬৮ দশমিক ২৮ মিনিট কল কম দেখানো হয়েছে, যার মূল্য ৭ কোটি ৩ লাখ ৯১ হাজার ৭৭২ আমেরিকান ডলার বা ৫৭৫ কোটি ৩৩ লাখ ৮২ হাজার ৯৭৫ দশমিক ৫১ টাকা। তদন্ত প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, বিটিসিএলের বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য থেকে প্রমাণ হয়েছে আইসিএক্স-৫ ও ৭-এর মাধ্যমে ব্যাপকভাবে অবৈধ ভিওআইপি করা হয়েছে। আইসিএক্স-৫-এর কল ডিভাইস সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হতো না এবং ডিভাইস অকার্যকর বা বিকল রেখে বিদেশ থেকে আসা কল বাইপাস করে দেয়া হতো।
এছাড়া আইসিএক্স-৭-এর সিডিআর সঠিকভাবে জেনারেট করা হয়নি, বিশেষ প্রক্রিয়ায় কল ডাটা মুছে ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি এ দুটি আইসিএক্স-এ বিদেশ থেকে আসা কলের ক্ষেত্রে অবৈধভাবে অতিরিক্ত একটি বি-টেবিল তৈরি করে এবং দুটি আইসিএক্সের প্রতিটির জন্য দুটি করে অবৈধ রুট চালু রেখে কল বাইপাস করা হয়েছে। বিটিসিএলের বিভাগীয় তদন্ত এবং বিটিআরসি ও মন্ত্রণালয়ের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেও এর প্রমাণ রয়েছে।
দুর্নীতিতে জড়িত বিটিসিএলের কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে বলা হয়েছে, ২০০৮-২০০৯ অর্থবছর পর্যন্ত বিটিসিএলের বৈদেশিক কল আদান-প্রদান করা হতো মাত্র ২৫টি ন্যাশনাল ক্যারিয়ারের মাধ্যমে। ওইসব ক্যারিয়ার যথাযথভাবে বিটিসিএলকে বৈদেশিক রেমিট্যান্স দিত। কিন্তু এরপর বৈদেশিক ক্যারিয়ারের নামে প্রায় ৬০-৭০টি প্রাইভেট ক্যারিয়ারকে সংযোগ দেয়া হয়। ওইসব ক্যারিয়ারের বেশিরভাগই ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে সংযোগ নিতে সক্ষম হয় এবং গত কয়েক বছরে বিটিসিএলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও একটি চক্র বিদেশি কলের অর্থ আত্মসাত করতে থাকে। এর ফলে ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে বিটিসিএলের বৈদেশিক রাজস্ব আয়ের তুলনায় পরবর্তী অর্থবছরগুলোতে আয় অর্ধেকে নেমে যায়। ওইসব কর্মকর্তা অসত্ উদ্দেশ্যে সঠিকভাবে ওই দুটি আইটিএক্স রক্ষণাবেক্ষণ করেননি। অথচ তাদের বিরুদ্ধে কোনো রকম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এমনকি বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশও বাস্তবায়ন হয়নি।
তদন্ত প্রতিবেদনে এরিকসন বাংলাদেশ লিমিটেডের তিন কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে বলা হয়েছে, মহাখালী আন্তর্জাতিক এক্সচেঞ্জ দুটি বিশেষভাবে সংরক্ষিত এবং অতিসংবেদনশীল স্থাপনা। সেখানে বাইরের কারো প্রবেশের সুযোগ নেই। এখানে শুধু কর্মরত এডিই, এসডিই এবং ডিইদের কাছে এক্সচেঞ্জের পাসওয়ার্ড ও চাবি সংরক্ষিত থাকে। এমনকি সাধারণভাবে বিটিসিএলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এখানে প্রবেশাধিকার পান না। কিন্তু এরিকসনের ওই তিন কর্মকর্তা বিটিসিএলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সহায়তায় এই সংবেদনশীল স্থাপনায় প্রায়ই প্রবেশ করতেন। আইটিএক্স দুটি বা এর যন্ত্রপাতি এরিকসন বাংলাদেশ লিমিটেড বসালেও এর রক্ষণাবেক্ষণে কোম্পানিটির সঙ্গে বিটিসিএলের কোনো চুক্তি ছিল না। তারপরও যখন তারা সেখানে প্রবেশ করতেন এতে স্পষ্ট হয় যে, এরিকসনের ওই কর্মকর্তারা বিটিসিএলের সংরক্ষিত ও স্পর্শকাতর স্থাপনায় অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে সিডিআর দুর্নীতিতে সহায়তা করেছেন।
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2013/08/26/213722#.UhqerxuTjeI

ছিঁচকে চোর থেকে শত কোটি টাকার

ছিঁচকে চোর থেকে শত কোটি টাকার মালিক

ডেস্ক রিপোর্ট: একসময় রিকশা চালিয়ে, কখনও চুরি করে জীবন চলতো তার। চাঁদপুর শহরে পরিচয় ছিল চোরা সেইল্লা হিসেবে। আর এখন তিনি শত কোটি টাকার মালিক। হয়েছেন সাহেব। সেলিম সাহেব। চলেন র‌্যাব ফোর-এর গাড়িতে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির কাছের মানুষ। বেশি দিন আগের কথা নয়। আশির দশকে চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়েন। আর চুরির অপরাধে ইউনিয়ন পরিষদের সিলিংয়ে টাঙিয়ে বিচার করা হয়। ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে পেটানো হয়। অপরাধের কারণে তার পিতা মুচলেকা দিয়ে ছেলেকে ছাড়িয়ে নেন। মুচলেকা দেন এই বলে- তার ছেলে মারা গেলে কোন অভিযোগ নেই। আর এখন সেলিম ওই ইউনিয়ন পরিষদেরই চেয়ারম্যান। চাঁদপুর ১০নং মডেল লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বড় ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু বলেন, ‘চুরি করলেও সেলিম এখন জনপ্রতিনিধি। বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছে।’ লক্ষ্মীপুরের সাবেক এক ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, স্বয়ং পররাষ্ট্রমন্ত্রী একটি অনুষ্ঠানে সেলিমের পক্ষে সাফাই গান এভাবে- সেলিম ছোট হলেও তার হাত অনেক লম্বা। তবে চাঁদপুর শহরে তার সবচেয়ে বড় পরিচয় চোরা সেইল্লা। সরজমিন চাঁদপুর ঘুরে জানা গেছে তার উত্থান কাহিনী। ওছমান খান ওরফে সেলিম। পিতা অবদুল হাই খান। ছিলেন সাখুয়া ইউনিয়নের কেরানি। স্থানীয় সূত্র জানায়, সেলিম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গ-িও পার হতে পারেননি। ১০-১২ বছর বয়স থেকেই ছিলেন ছিঁচকে চোর। কারও ঘরের মুরগি, কারও ঘটি-বাটি চুরি করতেন। চাঁদপুরের বিভিন্ন লঞ্চে পকেট কাটার কাজও করতেন। একপর্যায়ে চোরা সেইল্ল্যা হিসেবে পরিচিতি পান।

চুরির ঘটনায় আশির দশকে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান মনা খান তার বহুবার জরিমানা করেন। নব্বইয়ের দশকে তার বাড়িঘরের মালামাল চুরি করেন সেলিম। এ নিয়ে সালিশ বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে সাবেক চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন। জীবনে কোনদিন চুরি করবেন না বলে ৫০ টাকার স্ট্যাম্পে মুচলেকা দেন সেলিম। এ ঘটনার কিছুদিন পর একটি হত্যা মামলার আসামি হয়ে চাঁদপুর থেকে পালিয়ে ঢাকায় আশ্রয় নেন সেলিম। উত্তরার একটি রিকশা গ্যারেজ থেকে রিকশা নিয়ে চালান।

জনশ্র“তি রয়েছে ঘটনাক্রমে একদিন আওয়ামী লীগ নেতা মোফাজ্জল হোসেন মায়া চৌধুরী তার রিকশায় ওঠেন। ওই রিকশা গ্যারেজ মায়া চৌধুরীর বাসার কাছে হওয়ায় তার বাসার কাজকর্ম করার সুযোগ পায় সেলিম। সেখান থেকে তার পরিচয় হয় ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের সঙ্গে। একপর্যায়ে রিকশা চালানো ছেড়ে দেয়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর ও মায়া চৌধুরীর হাতে-পায়ে ধরে সাখুয়া ইউনিয়নের জন্য কিছু কাজ করার চেষ্টা-তদবির করেন। সাখুয়ার সাবেক দুই চেয়ারম্যান তাকে চুরি করার অপরাধে মারধর করেছে- তাই চেয়ারম্যান হওয়ার টার্গেট করেন।

২০০৩ সালের ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হন। ওই নির্বাচনে হাফেজ বেপারীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান। নির্বাচনে হেরে শুরু করেন নদী থেকে বালু উত্তোলন ব্যবসা। দীপু মনি মন্ত্রী হওয়ায় তার ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায়। হঠাৎ আঙুল ফুলে কলাগাছ। দীপু মনির আশীর্বাদ থাকায় ২০১১ সালের ১০ই জুনের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জিতেও যান। এরপর পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি তার বাড়িতে দাওয়াত খেতে গেলে বিষয়টি নেতিবাচকভাবে দেখে স্থানীয় আওয়ামী লীগ।

তবে এখন সেলিম নয়, সেলিম সাহেব বলে তাকে সবাই সম্বোধন করেন। কারণ তিনি শত কোটি টাকার মালিক। কি কি ব্যবসা আছে তার? জানতে চাইলে সেলিম বলেন, ঠিকাদারিসহ নানা ধরনের ব্যবসা। গত বছর ৩০ লাখ টাকা ভ্যাট-ট্যাক্স দিয়েছেন বলেও দাবি করেন। রিফিউজিদের বরাদ্দকৃত জমি দখল: চাঁদপুরের ডিসি-এসপির কাছে আবেদন করেও রিফিউজিদের জন্য বরাদ্দকৃত জমি রক্ষা পায়নি। পরিবর্তন হয়নি তাদের ভাগ্যের।

বরং, সেলিম তাদের সর্বস্ব কেড়ে নিয়েছেন। পুলিশ সুপারের কাছে রিফিউজিদের আবেদনে বিবাদী করা হয় সেলিম চেয়ারম্যানকে। এতে বলা হয়, ১৯৬৪ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকার ২৬ পরিবারকে তরপুরচন্ডী মৌজার মহাজের কলোনিতে বসবাস করার জন্য বন্দোবস্ত প্রদান করেন। তারা ৫৬ বছর ধরে সেখানে বসবাস করেন। ভূমিদস্যু সেলিম চেয়ারম্যানসহ তার দলীয় সন্ত্রাসীরা তাদের রিফিউজি কলোনি থেকে চলে যাওয়ার জন্য হুমকি দেয়। পরে সেখান থেকে তাদের উচ্ছেদ করে। ওই জমি বালি দিয়ে ভরাট করে কিছু অংশ বিক্রি করে।

রিফিউজিদের উচ্ছেদে হুমকি প্রসঙ্গে সেলিম চেয়ারম্যান জানান, ওই এলাকা তার নয়। তাই সেখানে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না তার। তবে ডিসি ও এসপির কাছে আবেদনে বিবাদী হিসেবে নাম রয়েছে তার।
আয়ের উৎস: পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিআইপি বেড়িবাঁধ থেকে ২০ ফুট গভীর করে বালু নিয়েছেন। এর ফলে বেড়িবাঁধ যে কোন মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে। চাঁদপুর সদর, হাইমচর, লক্ষ্মীপুর, রামগঞ্জ ও ফরিদগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপুর বাজার হয়ে হানারচর ইউনিয়নের গৌবিন্দা মৌজা পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের পাশের মাটি তুলে নিয়ে প্রতি ফুট ৫ টাকা করে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

মেডিকেল কলেজের নামে কৃষিজমি নামমাত্র মূল্যে ক্রয়: পিস্তলের ভয় দেখিয়ে বাড়ির সামনে মেডিকেল কলেজ করার কথা বলে প্রায় ৫০০ শতক জমি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নিয়েছেন সেলিম খান। বর্তমানে ওই জমির বাজার মূল্য প্রতি শতক ৫০ হাজার টাকা। এ হিসাবে ৫০০ শতক জমির বাজার মূল্য আড়াই কোটি টাকা। তবে জমির মালিকদের প্রতি শতকের দাম দিয়েছেন গড়ে ৫-৭ হাজার টাকা করে। কেউ টাকা পেয়েছেন, কেউ পাননি। টাকা চাইলে তাদের পিস্তলের ভয় দেখিয়ে মারধর করা হয়। ওই এলাকার জাহাঙ্গীর উকিল, খাজে আহমেদ উকিল, হামিদ হাওলাদার ও মোতালেব গাজী টাকা পাননি। এ প্রশ্নে সেলিম চেয়ারম্যান জানান, এ যুগে টাকা না পেয়ে কি কেউ জমি রেজিস্ট্রি করে দেয়? মেডিকেল কলেজের নাম করে নিজের নামে জমি রেজিস্ট্রি করে নেয়া- এ কেমন কাজ? এ প্রশ্নে সেলিম চেয়ারম্যান বলেন, জমি কিনেছি আমি রেজিস্ট্রি কি অন্য কারও নামে হবে?

বালু উত্তোলন ও ড্রেজিং: প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩৫টি ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন হচ্ছে সেলিম খানের নির্দেশে। গত পৌনে পাঁচ বছর ধরে এ ব্যবসা চলছে। এখান থেকে সেলিমের আয় গড়ে প্রতিদিন অন্তত ৫-৬ লাখ টাকা। সেলিম দাবি করেন এখন বালু উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। তবে চাঁদপুর লঞ্চ ঘাটের পাশে উত্তোলন করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে তার বালু উত্তোলন ব্যবসার পার্টনার ডা. দীপু মনির ভাই। এছাড়া টিআর, জিআর, কাবিখা’য় তো তদবির বাণিজ্য তো রয়েছেই। রয়েছে নামে-বেনামে নানা প্রকল্পে কোটি কোটি টাকার ধান্ধা। মানবজমিন

ময়মনসিংহের যুবরাজ

ময়মনসিংহের যুবরাজ তিনি
শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৩

কাজী সোহাগ, ময়মনসিংহ থেকে: পুরো জেলাকে বানিয়েছেন নিজের সাম্রাজ্য। তার অনুমতি ছাড়া মিলবে না কিছুই। ব্যবসা, চাকরি থেকে শুরু করে সবকিছুতেই লাগে তার অনুমতি। সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ রেখেছেন শক্ত হাতে। এজন্য রয়েছে নিজস্ব বাহিনীও। এদের অনেকেই আবার বেতনভোগী। কেউ বা সুযোগ-সুবিধা নিয়ে রয়েছেন বাহিনীর নেতৃত্ব পর্যায়ে। শহরের এক মাথা থেকে আরেক মাথা পর্যন্ত প্রতিটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এখন তারই অধীনে। এলাকাবাসী তাকে খেতাব দিয়েছেন যুবরাজ বলে। প্রকৃত নাম মুহিত উর রহমান ওরফে শান্ত। এ নামে তাকে খুব একটা চেনেন না জেলাবাসী। যুবরাজ নামে তার খ্যাতি ব্যাপক। ময়মনসিংহের আলোচিত এমপি প্রিন্সিপ্যাল মতিউর রহমানের বড় ছেলে। পিতা এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর রাতারাতি ময়মনসিংহ শহরকে গড়ে তুলেছেন নিজের সাম্রাজ্য হিসেবে। এমপি হিসেবে কাগজে-কলমে প্রিন্সিপ্যাল মতিউর রহমানের নাম থাকলেও মূলত পুরো কলকাঠি নাড়েন যুবরাজ। এতে এমপি পিতার রয়েছে অকুণ্ঠ সমর্থন। ছেলের বিরুদ্ধে নালিশ করার ক্ষমতা নেই কারও। অতিষ্ঠ হয়ে সাহস করে নালিশ করলেই তিনি হয়ে যান বিরোধী দলের সদস্য। ক্ষেত্র-বিশেষে অভিযোগকারীকে দেয়া হয় জামায়াতের তকমা। সরজমিনে ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে পাওয়া গেছে এসব তথ্য। সন্ত্রাস, টেন্ডারবাজি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি বাণিজ্য, বালুমহাল দখল, পতিতাপল্লী, মাদক ব্যবসা এমনকি অস্ত্র ব্যবসাও নিয়ন্ত্রণ করছেন যুবরাজ। বিরোধী পক্ষকে ঘায়েল করতে সিদ্ধহস্ত তিনি। নিজ ক্যাডারদের কাজে লাগানোর পাশাপাশি আইনকেও ব্যবহার করছেন সমান তালে। বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা করে তাদের অনেককে করেছেন এলাকাছাড়া। এদের মধ্যে অনেকেই রয়েছেন জেলে বন্দি। শহরজুড়ে বেশির ভাগ পোস্টারে দেখা গেছে ছাত্রদল, যুবদল নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা তুলে নেয়ার দাবি। এদিকে পুত্রের কল্যাণে এমপি পরিবার এখন শ’ শ’ কোটি টাকার মালিক। শহরের কেন্দ্র থেকে শুরু করে আনাচে-কানাচে রয়েছে অগাধ সম্পত্তি। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে একচ্ছত্র আধিপত্য। কথিত রয়েছে, এমপিপুত্র যে ব্যবসায় হাত দেন রাতারাতি ওই ব্যবসা লাভজনক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। ২০০১ সালে প্রিন্সিপ্যাল মতিউর রহমানের একটি মাত্র ব্যাংক একাউন্ট ছিল শহরের বড় বাজার অগ্রণী ব্যাংক শাখায়। যার নম্বর ৭৯২৯/২৬। ওই বছরের মে মাসে তার একাউন্টের সর্বশেষ ব্যালেন্স ছিল ২৫৬ টাকা। মূলত কৃষিকাজ আর গরু পালন করে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করতেন এমপি। ওই সময় ৪টি গাভী ছিল তার আয়ের মূল উৎস। প্রতিদিন ৯০ লিটার দুধ বিক্রি করতেন। মিন্টু মেমোরিয়ার কলেজ প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর তার মাসিক আয় দাঁড়ায় ১২ হাজার টাকা। সর্বশেষ ২০০৮ সালে নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের কাছে তার দেয়া সম্পদ বিবরণীতে বার্ষিক আয় উল্লেখ করা হয় ১ লাখ ৩৭ হাজার ৮শ’ টাকা। একই হিসাবে স্ত্রী ও পুত্রের বার্ষিক আয় দেখানো হয় তিন লাখ টাকা। সন্তান ও আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে সুদবিহীন ঋণের পরিমাণ দেখানো হয় চার লাখ ৮৭ হাজার ৮শ’ টাকা। এরপর সময় গড়িয়েছে। পেরিয়েছে প্রায় ৫ বছর। একই সঙ্গে ফুলে-ফেঁপে উঠেছে এসব সম্পত্তির পরিমাণ। ২০০১ সালে একটি ব্যাংক একাউন্ট থাকলেও এখন তা বেড়েছে। স্ফীত হয়েছে ওইসব ব্যাংকের ব্যালেন্সও। আর এসব কিছুই হয়েছে পুত্র যুবরাজের কল্যাণে। এমপি পিতার সমর্থনে পুত্র আজ ময়মনসিংহের ধনীর তালিকায় প্রায় শীর্ষে।
ঠিকাদার না হয়েও সব টেন্ডারের নিয়ন্ত্রক তিনি। ঠিকাদারের কোন লাইসেন্স নেই এমপিপুত্রের। নেই ব্যবসাও। তারপরও জেলার সব টেন্ডারের নিয়ন্ত্রক তিনি। ঠিকাদারদের তথ্য অনুযায়ী বর্তমান সরকারের আমলে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার টেন্ডার হয়েছে ময়মনসিংহ শহরে। তার অনুগত দু’টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসব টেন্ডার ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে- এসএম এন্টারপ্রাইজ ও মাহবুব এন্টারপ্রাইজ। দু’টি প্রতিষ্ঠানের মালিক মাহবুবুর রহমান ও সাগর পরিচিত শান্ত’র ডানহাত-বামহাত হিসেবে। বেশ ক’জন ব্যবসায়ী মানবজমিনকে জানান, এ পর্যন্ত কোন টেন্ডার নিয়ম অনুযায়ী হয়নি। টেন্ডারের শিডিউল কেনার পর তা বাড়ি থেকে কেড়ে নেয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। জেরায় যদি ৫০ জন ঠিকাদার থাকে তাহলে ৪০ জনই গত সাড়ে চার বছরে একটি টেন্ডারেও অংশ নিতে পারেননি। শান্ত’র নেতৃত্বে তার ২/৩শ’ সদস্যের পেটোয়া বাহিনীর ভয়ে ওই ব্যবসায়ীরা হাত গুটিয়ে বসে রয়েছেন। এদের কারও কারও আর্থিক অবস্থা শোচনীয পর্যায়ে পৌঁছেছে। এদিকে আগামী ১লা সেপ্টেম্বর জেলার বেশ কয়েকটি থানায় মাদ্‌রাসা নির্মাণ ও মেরামতের টেন্ডার আহ্বান করা হবে। ৬০ লাখ টাকা মূল্যমানের ২৭টি কাজ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। শান্তর নেতৃত্বে এসব কাজের টেন্ডার এরই মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারার প্রস্তুতি শেষ হয়েছে বলে জানান তারা। শহরের অন্যতম ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স মীক এন্টারপ্রাইজের মালিক সিদ্দিকুর রহমান মিন্টু বলেন, গত সাড়ে চার বছরে আমি একটি টাকারও টেন্ডার জমা দিতে পারিনি। শান্ত তার ক্যাডার বাহিনী দিয়ে সব টেন্ডার কুক্ষিগত করে রাখে। দেড় বছর আগে প্রায় এক কোটি টাকার একটি টেন্ডারের শিডিউল কিনেছিলাম। পরে আমার বাসা থেকে শান্তর ক্যাডাররা ওই শিডিউল কেড়ে নিয়ে যায়। এরপর ব্যবসা বাদ দিয়ে হাত গুটিয়ে বসে আছি। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, শান্ত দু’টি দামি গাড়ির মালিক। একটি প্রাডো ও আরেকটি মাইক্রোবাস। এর মধ্যে মাইক্রোবাসটি নেয়া হয়েছে উৎকোচ হিসেবে। সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আশরাফ উদ্দিনকে মনোনয়ন দিয়ে তার কাছ থেকে নেয়া হয়েছে ওই গাড়ি। এ ঘটনা এখন লোকমুখে ছড়াছড়ি।
বেপরোয়া ক্যাডার বাহিনী: জেলার ছাত্রলীগ কর্মীদের নিয়ে এমপিপুত্র শান্ত গড়ে তুলেছেন নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী। বিভিন্ন অস্ত্রে পারদর্শী এ ক্যাডারের সংখ্যা দুই শতাধিক। এদের বেশির ভাগই মাসিক মাসোহারা নিয়ে কাজ করেন। আবার অনেককে দেয়া হয়েছে নানা ধরনের ছোট ব্যবসা। বিনিময়ে শান্তর অনুগত হয়ে থাকতে হয়। কয়েকটি মার্কেটের ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, ঈদের আগে শান্তর বেপরোয়া ক্যাডার বাহিনী ইচ্ছামতো শপিং করেছে। জামা-কাপড় থেকে শুরু করে পায়ের স্যান্ডেল নিয়ে টাকা না দিয়ে চলে গেছে। টাকা চাইলে শান্তর নাম বলে শাসিয়ে যায়। এরপর টুঁ শব্দ পর্যন্ত করতে পারিনি। এলাকাবাসী জানান, শহরের গাঙ্গিনার পাড় এলাকায় কয়েক মাস আগে আলীম জুয়েলার্সে ডাকাতি হয়। এতে প্রায় কয়েক কোটি টাকার স্বর্ণ লুট হয়। ওই ঘটনার অভিযোগের তীর রয়েছে শান্ত ও তার ক্যাডার বাহিনীর দিকে। যুক্তি তুলে ধরে এলাকাবাসী জানান, এতবড় লুটের ঘটনায় মামলা হলেও এখন পর্যন্ত কোন আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। এমপি ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে ওই ঘটনা নিয়ে কোন ধরনের ভূমিকা পালন করেননি। এছাড়া জায়গা-জমি দখলের নামে ক্যাডার বাহিনী এ পর্যন্ত বেশ কয়েক ব্যক্তিকে আহত করেছে। টাকার বিনিময়ে জমি জবর দখলে এ বাহিনী মুখ্য ভূমিকা পালন করে। সম্প্রতি মিনাক্স বিউটি পার্লারের মালিক রফিককে তার দখলে থাকা জমি থেকে উচ্ছেদ করেছে শান্ত’র পেটোয়া বাহিনী।
টার্গেট এখন রেলওয়ের জমি: সম্প্রতি এমপি প্রিন্সিপ্যাল মতিউর রহমানকে এ সরকারের আমলে নতুন গঠিত রেলওয়ে মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। পিতার এ ক্ষমতার পূর্ণ সুযোগ নিতে এখন ব্যস্ত শান্ত। ময়মনসিংহসহ বেশ কিছু এলাকায় রেলওয়ের জমি দখলের চেষ্টা করছেন তিনি। শহরের ছোটবাজার এলাকার একজন চা দোকানদারকে শান্তর কথা বলতেই তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠলেন। বললেন, ছেলেটি আগে ভাল ছিল। এবার বাবা এমপি হওয়ার পর দু’হাতে টাকা কামাচ্ছে। কোনটা উচিত আর অনুচিত তা ভেবে দেখছে না। আওয়ামী লীগের সমর্থক আমি। তার কারণে এ পরিচয় দিতে লজ্জা হয়। তিনি বলেন, একজন মানুষের কত টাকা লাগতে পারে বলতে পারেন? প্রিন্সিপাল সাহেব যেভাবে আমাদের কাছে দলের মূর্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন ছেলে শান্ত তা একেবারে ডুবিয়েছে। আর কয়দিন মাত্র আছে। ৫ বছরের খেসারত পাবে আগামীতে।
বড়লোক হওয়ার কারণ আমার কাছে অজানা- শান্ত: সাড়ে চার বছরে কিভাবে এত টাকার মালিক হলেন তা নিজেই জানেন না বলে জানালেন যুবরাজ নামে খ্যাত শান্ত। গতকাল টেলিফোনে মানবজমিনকে তিনি বলেন, আমি কিভাবে বড়লোক হয়েছি এটা আমার কাছে এখনও অজানা। সাধারণ মানুষের কাছে কমন পারসেপশন হয়েছে- আমি বড়লোক হয়েছি। টেন্ডার সন্ত্রাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার নিজের কোন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নেই। আমি নিজেও কোন ঠিকাদারি করি না।। তারপরও আমার নাম কিভাবে আসে জানি না। তবে এটুকু নিশ্চয়তা দিতে পারি ময়মনসিংহ শহরে চাঁদাবাজি আর সন্ত্রাসী এই সরকারের আমলে হয়নি। ‘তবে টেন্ডার নিয়ে আপনার বিরুদ্ধে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ, এমনকি ৫ পার্সেন্ট নেয়ার কথাও প্রচলিত রয়েছে’- এ প্রশ্নে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি আপনাকে এভয়েড করছি না। এটুকু বলতে পারি, আমি কোনভাবেই ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নই। শান্ত বলেন, আমার একমাত্র অপরাধ আমি এমপি প্রিন্সিপ্যাল সাহেবের ছেলে। রাজনৈতিকভাবে স্বার্থ হাসিলের জন্যই আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, ময়মনসিংহ শহরে আমি কারও কোন ক্ষতি করিনি। আমার তো ইচ্ছা মানুষের সেবা করা। রেলওয়ের জমি দখল অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রেলওয়েতে আমি কখনও যাইনি। এমনকি রেলওয়ের কোন কর্মকর্তাও আমাকে চেনেন না। যদি কেউ বলে থাকেন রেলওয়ের কোন জায়গার জন্য তদবির করেছি তাহলে তা মাথা পেতে নেবো।
http://www.mzamin.com/details.php?nid=NjgwMTA=&ty=MA==&s=MTg=&c=MQ==

কবর দখল করে এমপির বাড়ি

কবর দখল করে এমপির বাড়ি মন্দিরের জায়গায় গোডাউন

ডেস্ক রিপোর্ট : উপজেলা সদরের সরকারি খাসজমির ওপর থাকা কবর দখল করে বাড়ি নির্মাণ করেছেন এমপি’র স্ত্রী। আর ওই বাড়িটি পরিচিত এমপি’র বাড়ি নামে। টানা দুই বছর বাড়িটি নির্মাণ করা হয়েছে কঠোর পুলিশি পাহারায়। নির্মাণকাজের সময় চেয়ার নিয়ে বসে থাকতেন এমপি’র স্ত্রী। চারপাশে থাকতো অস্ত্রধারী পুলিশ। এ চিত্র ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায়। কবর দখলের পাশাপাশি দখল নেয়া হয়েছে মন্দিরের জায়গাও। সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে বড় গোডাউন। এ দুই কারণে ফুঁসছেন এলাকাবাসী। অত্যাচার আর নির্যাতনের ভয়ে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না কেউই। রাজনৈতিক দলের নেতারা দখলের ঘটনাকে ন্যক্কারজনক বলে মন্তব্য করেছেন। এমনকি এমপি’র নিজ দলের নেতারাও এর নিন্দা জানান। মন্দিরের জায়গা দখলের পর কিছুটা সাহস করে এমপি’র কাছে গিয়েছিলেন ধর্মপ্রাণ কয়েক হিন্দু ব্যক্তি। স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে এমপি এ বিষয়ে কিছুই করার নেই বলে তাদের ফিরিয়ে দেন। যুক্তি তুলে ধরে তিনি তাদের বলেন, বোঝোই তো নিজের স্ত্রী এটা করেছে। তার বিরুদ্ধে আমি কিই বা করতে পারি। আলোচিত ওই এমপি এডভোকেট মোসলেম উদ্দিন। বয়সের ভারে তিনি এখন অনেকটাই ন্যূব্জ। বেশির ভাগ সময় থাকেন এলাকার বাইরে। ঢাকায় অথবা ময়মনসিংহ সদরের নাহার রোডের ৮৯ নম্বর বাসায়। তার অনুপস্থিতিতে এলাকার খোঁজখবর রাখেন স্ত্রী হাসিনা উদ্দিন ও ছেলে ইমদাদুল হক সেলিম। মূলত ফুলবাড়িয়ার শাসনভার এখন তাদের হাতেই। এলাকাবাসী জানিয়েছে, প্রত্যেক এলাকা একজন এমপি পেলেও আমরা পেয়েছি তিন এমপি। মানবজমিন

মন্দির ও কবর দখল: ১০০ বছরের পুরনো ফুলবাড়িয়া কেন্দ্রীয় কালী মন্দিরটির অবস্থান উপজেলার পশ্চিম বাজারে। এক সময় ৭৪ শতাংশ জায়গার ওপর ছিল মন্দিরটি। বর্তমানে তা মাত্র ১১ শতাংশে এসে পৌঁছেছে। বছরে চারটি বড় পূজার পাশাপাশি নিয়মিত অন্যান্য পূজাও হয়ে থাকে। উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন থেকে প্রতি পূজায় লোক সমাগম হয় প্রায় ৫ হাজার। মন্দিরের জায়গা দখল হয়ে যাওয়ায় ধীরে ধীরে এখানে লোক সমাগমও কমছে। সম্প্রতি মন্দিরের ৩ শতাংশ জায়গা দখল করে নিয়েছেন এমপি মোসলেম উদ্দিনের স্ত্রী হাসিনা উদ্দিন। মাত্র ২০ দিনের মধ্যে ওই জায়গায় নির্মাণ করা হয় বড় গোডাউন। এলাকাবাসী জানান, রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা মিস্ত্রিরা পালাক্রমে নির্মাণকাজ করে। এ সময় এমপি স্ত্রী সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। তার আশপাশে পাহারায় থাকতো অস্ত্রধারী পুলিশ। এ প্রসঙ্গে মন্দিরের সভাপতি বাবলু সাহা মানবজমিনকে বলেন, জোর করে মন্দিরের জায়গা দখল করেছেন এমপি’র স্ত্রী। বিষয়টি নিয়ে এমপি’র সঙ্গে আমরা ক’জন দেখা করি। তাকে বলেছিলাম, মন্দিরের জায়গা ফেরত দিতে। উল্টো তিনি আমাদের কাছে তার অসহায়ত্বের কথা জানান। বলেন, আমার স্ত্রী কারও কথা শোনে না। এমনকি আমার কথাও নয়। তার সঙ্গে কেউ পারে না। তিনি বলেন, মন্দিরের আশেপাশে বড় বড় রাস্তা ছিল। একসময় ওই রাস্তা দিয়ে ট্রাক চলতো। এখন সেসব রাস্তাও দখল করে নেয়া হয়েছে। একটা ভ্যান বা রিকশা যেতেই সমস্যা। তিনি বলেন, অনেক জ্বালা-যন্ত্রণার মধ্যে আছি এই এমপিকে নিয়ে। তিনি সবকিছু খেয়ে ফেলছেন। এমপি পুত্র সেলিমের বিরুদ্ধেও অভিযোগ জানালেন বাবলু সাহা। তিনি বলেন, দু’মাস আগে মন্দিরের দেয়াল নির্মাণের জন্য ৫৫ হাজার টাকার কাজ আসে। এমপি পুত্রের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আমিনুল ইসলাম নামের একজন ঠিকাদার ওই নির্মাণকাজের টেন্ডার নেয়। মাত্র ১০-১৫ হাজার টাকা খরচ করে বাকি টাকাটা আত্মসাৎ করা হয়। তিনি বলেন, আমরা এখন যেভাবে আছি আসলে তাকে থাকা বলে না। নিজেদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জায়গাও আমরা পাচ্ছি না। একই ভাবে উপজেলার গার্লস স্কুল মোড়ে অবস্থিত কবরস্থানের জন্য নির্ধারিত সাড়ে চার শতাংশ জমি দখল করে নিয়েছেন এমপি’র স্ত্রী হাসিনা উদ্দিন। পুলিশের পাহারায় সেখানে তিনি গড়ে তুলেছেন তিন তলা বিল্ডিং।

একই পরিবারের তিন এমপি’র শাসন: এমপি মোসলেম উদ্দিনের পাশাপাশি তার স্ত্রী ও পুত্রকেও এমপি হিসেবে সম্বোধন করেন এলাকাবাসী। তারা জানান, তিন এমপি’র শাসনে ফুলবাড়িয়া এখন অনেকটাই কাবু। নাভিশ্বাস উঠেছে জনজীবনে। অথচ অভিযোগ ও প্রতিবাদ করার সাহস ও সুযোগ নেই কারও। তাই নীরবেই এ এলাকা শাসন করছেন এমপি পরিবার। এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এমপি’র হাতে। এখানকার সব ধরনের নিয়োগের সঙ্গে জড়িত তিনি। টাকা ছাড়া একটি নিয়োগও হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত কয়েক বছরে ২৬ জন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে ফুলবাড়িয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে। এ জন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে নেয়া হয়েছে ৭ লাখ টাকা করে। মেধা থাকা সত্ত্বেও যেসব শিক্ষক টাকা দিতে পারেননি তাদেরকে সরাসরি উপেক্ষা করা হয়েছে। এদিকে পদাধিকার বলে কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এমপি মোসলেম উদ্দিন। কলেজের সার্বিক বিষয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে কমিটিতে ছেলে ইমদাদুল হক সেলিমকে সদস্য করা হয়। দু’বছর আগে প্রিন্সিপাল হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় নাসিরউদ্দিন খানকে। তিনি এমপি পুত্র সেলিমের ভায়রা। নিজের ক্ষমতাবলে ওই কলেজে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন মেয়ে ফারজানা শারমিন বিউটি ও ছেলে সেলিমের স্ত্রী বিলকিস খানমকে। এছাড়া, কলেজের শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে রয়েছে নানা অভিযোগ। এ প্রসঙ্গে কলেজের বিএম শাখার প্রদর্শক এমদাদুল হক মানবজমিনকে বলেন, অনেক অভিযোগই শোনা যায়। তবে সবকিছু যাচাই করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এসব বিষয়ে গভর্নিং বডির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অতিদরিদ্রদের জন্য আসা কর্মসৃজন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকার মধ্যে দেড় কোটি টাকা নিয়েছেন এমপি নিজে। সরকারি এক কর্মকর্তা জানান, ওই টাকা বরাদ্দ আসার পর এমপি টাকা চেয়ে বলেন, তোমরা আমাকে এ টাকা দাও। তারপর ওই প্রকল্প নিয়ে যা খুশি করো। আমি একটি প্রশ্নও করবো না। এদিকে এমপি’র সুপারিশ বিক্রি করে টাকা আদায় করেন তার স্ত্রী। কেউ কোন চাকরি কিংবা কোন কাজের জন্য এমপি’র সুপারিশ চাইতে গেলে আগে যেতে হয় তার স্ত্রীর কাছে। স্ত্রী টাকার বিনিময়ে লিখিত কিংবা মৌখিক সুপারিশ নিয়ে দেন। এছাড়া, নির্বাচনী এলাকার ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদের জন্য আসা বিভিন্ন প্রকল্প থেকে অর্থ আদায় করেন এমপি’র স্ত্রী। অপরদিকে পুত্র সেলিম নিয়ন্ত্রণ করেন এলাকার সব টেন্ডার। জমি রেজিস্ট্রির নির্দিষ্ট টাকাও যায় তার পকেটে।

দলীয় নেতাদের ক্ষোভ: এদিকে এমপি ও তার পরিবারের সদস্যদের দখল ও লুটপাটে অতিষ্ঠ দলীয় নেতা-কর্মীরাও। এ নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের মধ্যে রয়েছে তীব্র অসন্তোষ। ফুলবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন এমপি নিজেই। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আছেন মালেক সরকার। এমপি’র কার্যকলাপের কঠোর সমালোচনা করে মালেক সরকার মানবজমিনকে বলেন, রাস্তা, মন্দির, কবরস্থান দখল করে ন্যক্কারজনক কাজ করেছেন। ফুলবাড়িয়ার চার ভাগের এক ভাগ জমি খাসজমি। এমপি’র ছেলে এসব জমি বন্দোবস্ত দিয়ে প্রায় ২০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। থানা তো উনাদের প্রটেকশন। এমপি ও তার পরিবারের সদস্যদের সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কাজ করে এখানকার পুলিশ।

তিনি বলেন, এখানকার মানুষ আসলে কোন ব্যক্তিকে ভোট দেন না। দেয় নৌকাকে। এ জন্য এমপি জানেন দুর্নীতি করলে কোন সমস্যা হবে না। প্রায় একই ক্ষোভ জানালেন উপজেলা বিএনপি সভাপতি সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার শামসুদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এলাকার মানুষ এমপি’র দখল নিয়ে অনেক দিন থেকে অতিষ্ঠ। দলীয় সরকার ক্ষমতায় থাকায় তারা ইচ্ছামতো দুর্নীতি আর লুটপাট করছেন। এদিকে থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এলাকাবাসীর রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। তারা বলেন, আইন-শৃক্সখলা পরিস্থিতি নয় এমপি ও তার পরিবারকে নিয়েই ব্যস্ত থাকে পুলিশ। দখলে সহায়তা দেয় নিজস্ব বাহিনী হিসেবে। এসব প্রসঙ্গে ফুলবাড়িয়া থানার ওসি আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া বলেন, এসব অভিযোগ ঠিক নয়। আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করে চলেছি।

এমপি ও তার স্ত্রীর কথা: স্ত্রী ও পুত্রের বিরুদ্ধে দখল ও লুটপাটের অভিযোগকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে মন্তব্য করেন এমপি মোসলেম উদ্দিন। কবর দখল করে বাড়ি নির্মাণ প্রসঙ্গে মানবজমিনকে তিনি বলেন, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। সম্পত্তিটা আমার স্ত্রীর পৈতৃক। আমার শ্বশুর-শাশুড়ির কবর রয়েছে এখানে। তাই যারা বলছে জোর-জবর দখল করে নিয়েছি এটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক কথা। পুলিশি প্রটেকশন নিয়ে মন্দিরের জায়গা দখল প্রসঙ্গে এমপি বলেন, এটাও সম্পূর্ণ অসত্য। যারা এ অভিযোগ করেছেন তারা ইডিয়ট। মন্দিরের কোন জায়গা আমরা দখল করিনি। বরং মন্দির কমিটির সভাপতি বাবলু সাহা মন্দিরের কিছু জায়গা দখল করেছেন। দলের পক্ষ থেকেও আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হচ্ছে-এমন প্রশ্নে বলেন, কয়েক জন আছে যারা বরাবরই আমার বিরোধিতা করে। তারা নমিনেশন চায় কিন্তু পায় না। চার বছর ধরে আওয়ামী লীগ করে আর নির্বাচনের সময় অন্য পার্টি করে। এরা দলের কীট। তারা সব সময় দলের ক্ষতি করে।

কলেজে সন্তান ও তার স্ত্রীর সম্পৃক্ততা প্রসঙ্গে মোসলেম উদ্দিন বলেন, সবকিছু হয়েছে নিয়মতান্ত্রিক। এখন আমার সন্তান বা পুত্রবধূ যদি যোগ্যতার ভিত্তিতে কলেজে চাকরি পান তাহলে এটা তো অন্যায় হতে পারে না। ছেলের টেন্ডারবাজি প্রসঙ্গে বলেন, রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয় করতে এসব বলা হচ্ছে। এসবই বাজে কথা। টেন্ডারের জন্য একটি কমিটি থাকে। তাদের সিদ্ধান্তের বাইরে তো কোন কিছু করা সম্ভব নয়। এমপি’র স্ত্রী হাসিনা উদ্দিন কবর ও মন্দিরের জায়গা দখল প্রসঙ্গে মানবজমিনকে তিনি বলেন, আমার বাবার জায়গায় বাড়ি ও গোডাউন নির্মাণ করেছি। আমি কেন মন্দিরের জায়গা ও সরকারি জমি দখল করতে যাবো? তিনি বলেন, আমার কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি বিক্রি করে এতদিন এমপিগিরি করছেন মোসলেম উদ্দিন। জেলায় আমি এক নম্বর সিনিয়র সহ-সভাপতি। আমি কোনদিন এমপি সাহেবকে বেইচা খাইনি। এসময় তিনি প্রতিবেদককে উদ্দেশ্য করে বলেন, আমার কথা নেত্রীর কাছে জিজ্ঞেস করেন। বাড়ি করতে গিয়ে পুলিশ পাহারার প্রয়োজন কেন হয়েছিল-এ প্রশ্নে এমপি’র স্ত্রী বলেন, আপনি এমপি সাহেবের সঙ্গে কথা বলেন। এ পর্যায়ে টেলিফোনের লাইন কেটে দেন হাসিনা উদ্দিন।

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla