Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

ভারতের সাথে ৭ হাজার কোটির চুক্তি, চাঁদের অন্য পীঠ।

Indian-Bangladesh Trade agreement
ভারত বাংলাদেশকে ১.৭৫% সুদে ৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে যা ২৫ বছরে পরিশোধ করতে হবে। প্রনব বাবু ঢাকায় এসে চুক্তি চুড়ান্ত করে গেলেন। এ চুক্তি দু'দেশের সম্পর্কে নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে বলেও তিনি দাবি করেছেন। চুক্তির পাশাপাশি দু দেশের মধ্যে অনেকদিন ধরে ঝুলে থাকা নেপাল ট্রানজিট সমস্যারও একটা আশাব্যঞ্জক সমাধা দিয়ে গেলেন ভারতের অর্থমন্ত্রী। ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণের সাথে তিন লাখ টন চাল আর দুই লাখ টন গম রফতানিরও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। অর্থনৈতিক ভারসাম্যতা বজায় রাখতে এ ধরনের চুক্তির প্রয়োজনীয়তা আজ প্রতিষ্ঠিত সত্য। প্রতিবেশীর সাথে স্থায়ী বৈরিতা কোন পক্ষের জন্যেই ভাল কিছু বয়ে আনে না, তার প্রমান খুঁজতে আমাদের বোধহয় খুব একটা দূরে যেতে হবেনা। এমনটাই আজকের বাস্তবতা, অর্থনৈতিক বাস্তবতা।

প্রনব বাবু শেখ হাসিনার ব্যাক্তিগত ও পারিবারিক বন্ধু। সন্দেহ নেই ভারতের ক্ষমতাসীন কংগ্রসের এই শক্তিধর নেতা সব সময়ই চাইবেন পছন্দের দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকুক। অর্থনৈতিক মুক্তির সাথে রাজনৈতিক ক্ষমতা ওতপ্রোতভাবে জড়িত, ভারতীয়দের তা ভাল করেই জানা আছে। প্রনব বাবুরা যদি পছন্দের দল আওয়ামী লীগকে অনন্তকাল ধরে বাংলাদেশের ক্ষমতায় দেখতে চান তাহলে প্রথম প্রায়োরিটি হওয়া উচিৎ দেশটার অর্থনৈতিক উন্নয়নের সহযোগী হওয়া। ৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ এ অর্থে ভারতীয়দের সদিচ্ছারই ইঙ্গিত বহন করে। দেখার বিষয় ক্ষমতার পরিবর্তনের সাথে ভারতীয়দের নীতিরও পরিবর্তন হয় কি-না।

চুক্তির শর্তানুযায়ী দেয় ৭ হাজার কোটি টাকার শতকরা ৮৫ ভাব ব্যায় করতে হবে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে। সোজা বাংলায়, যা কিছু কেনাকাটা তার ৮৫ ভাগই করতে হবে ভারত হতে। বিশ্ব দুর্নীতির চ্যাম্পিয়নশিপে পরপর ৪ বার শিরোপা লাভের পর বাংলাদেশের প্রতি বিশ্ব সমাজের বিশ্বাস তলানিতে এসে ঠেকেছে। অনেক সরকারই এখন সরকারী ভান্ডারে সাহায্য দূরে থাক ঋণ দিতেও আগ্রহ দেখায় না। কারণ একটাই, দুর্নীতি। ঋণ দাতা দেশগুলো এখন বিনা সংকোচে জুড়ে দিচ্ছে হরেক রকম শর্ত যেমনটা দিয়েছে ভারত। ৮০ দশকের গোড়ার দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট ও তার সহযোগী অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে পল্লী বিদ্যুতায়ন প্রকল্পে ব্যাপক সাহায্য ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড বাধ্য ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হতে প্রকল্পের শতকরা ১০০ ভাগ মালামাল ক্রয় করতে যার মধ্যে অন্যতম ছিল তার, কাঠের খুটি, গাই এ্যংকর সহ নাট-বল্টু পর্যন্ত। বিষয়টা এখানে শেষ হলে কথা ছিলনা, মালামালের উপর মার্কিনিরা আমাদের গলায় ঝুলিয়ে দিয়েছিল হরেক রকম উপদেষ্টা। এসব উপদেষ্টাদের তৎকালীন বেতন ছিল মাসিক ৫/৬ লাখ টাকা। যারা ঐ সময় প্রকল্পের সাথে জড়িত ছিলেন তাদের মনে থাকার কথা কমনওয়েলথ ইনক্‌ নামের মার্কিন উপদেষ্টা প্রতিষ্ঠানটির কথা। জিয়াউর রহমানের কথিত বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদীরা তখন ক্ষমতায়। রাজনৈতিক কালচারের অংশ হিসাবে দেশের বামপন্থী দলগুলো মার্কিন সাহায্য নিয়ে কম হৈ চৈ করেনি। তাদের কথা বিশ্বাস করলে আমাদের দেশ এতদিনে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হওয়ার কথা ছিল। বাস্তবে তা হয়নি। আমরা এখনও বাংলাদেশ নামেই বিশ্বের কাছে পরিচিত। বামদের সমালোচনা আমলে নিলে আর যাই হোক অন্তত আমাদের গ্রামে গঞ্জে বিদ্যুতায়ন সম্ভব হত না। জানিনা আজকের রাশেদ খান মেনন আর রনোর দলের কেউ পল্লী বিদ্যুতের সুবিধা ভোগ করেন কি-না। করে থাকলে তা হবে হিপোক্রেসি, রাজনৈতিক দেউলিয়াপণা।

ভারতের অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভেতর যারা ষড়যন্ত্রের আলামত খুঁজে পান তাদের সাথে দ্বিমত করতে চাই। বিনা স্বার্থে আজকের দুনিয়ায় কেউ কাউকে কানা কড়িও দেয় না। বেনিয়া জাতির দেশ ভারত হতে এমনটা আশা করা হবে বাস্তবতাকে অস্বীকার করা। আমাদের সমস্যা অন্য জায়গায়। দুর্নীতি। ভারতীয় সহায়তায় যে সব প্রকল্প ইতিমধ্যে হাতে নেয়া হয়েছে তার বেশিরভাগই ব্যায় হবে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে যার মধ্যে রেল ও নৌপথ অন্যতম। শুরুটা হবে সচিবালয়ের অতি শিক্ষিত সচিবদের দিয়ে। ভারতীয় ঋণে ভারতের মালামাল কেনায় খালি চোখে অসুবিধা দেখা না গেলেও দূরবীন নিয়ে দেখলে চোখে পড়বে আমাদের কলংক গুলো। আজকে যারা রেল ও নৌ মন্ত্রনালয়ের সচিব প্রকল্প বাস্তবায়নের পর তাদের ব্যাংক ব্যালন্স পরীক্ষা করলেই বেরিয়ে আসবে কি কারণে দুর্নীতিতে আমরা বার বার প্রথম হই।

৭ হাজার কোটির কত কোটি ভারতে যাবে আর কত কোটি রাজনীতির অলিগলিতে ওঁৎ পেতে থাকা চোরদের পকেটে যাবে তার হদিস বের করার রাস্তা বন্ধ করে দিচ্ছে বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার। সরকারী কর্মকান্ডের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্যে সবেধন নীলমনি দুদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা দিয়েছে মন্ত্রী এমপির দল। অনেকে বলেন নেত্রী ইচ্ছা করে না-কি গৃহপালিত ভৃত্যদের দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কথা বলাচ্ছেন বিশেষ কারণে। অবাক হবনা যদি সাত হাজার কোটির একটা অংশ হাত পা গজিয়ে উড়ে যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডায় এবং যুক্তরাজ্যে। প্রনব বাবুরা টাকা দেবেন আর এ টাকা বিশ্বের সেরা কম্পিউটার বিজ্ঞানীদের দুয়ারে নক করবে না বাংলাদেশ নিশ্চয় এতটা অকৃতজ্ঞ দেশ নয়।

৭ হাজার কোটি টাকা ভারত সাহায্য হিসাবে দিচ্ছে না, দিচ্ছে লোন হিসাবে, যা ২৫ বছরে সরকারী খাজাঞ্চি হতে পরিশোধ করতে হবে। ভারত আসলেই যদি আমাদের উন্নয়নের সহযোগী হতে চায় অনুরোধ করব বড় অংকের এ টাকা মনিটর করার জন্যে বাংলাদেশে একদল আবাসিক প্রতিনিধি পাঠাতে। হয়ত এভাবে কিছুটা হলেও নিশ্চিত করা যাবে কোটি কোটি টাকার হাঁটাচলা।

আমাদের প্রধানমন্ত্রী চোর, বিরোধী দলীয় নেত্রী চোর, মন্ত্রী, এম্পি, আমলা, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, উকিল, বিচারক সহ প্রায় সবাই চোর। ভারতীয়দের তা জানা থাকার কথা। আশাকরি এতগুলো টাকা একদল ক্ষুধার্ত চোরের সামনে বিনা নিয়ন্ত্রনে তুলে দেবেনা বিশ্বের এই অর্থনৈতিক জায়ান্ট।

Comments

ভারতীয় সাহায্য

ভারতীয়রা উচ্চ সুদে ঋন দিয়ে, ভারতীয়দের দ্বারা, ভারতীয় নিম্নমানের কাচামাল দিয়ে ভারতীয়দের জন্য ট্রানজিটের ব্যবস্থা করে নিচ্ছে যার ফলে বাংলাদেশের রপ্তানিমূখী শীল্প ধ্বংস হবে। এর জন্য এ চুক্তির বিরোধীতা করা কি উচিৎ নয়?

পোশাক শিল্পই আমাদের একমাত্র

পোশাক শিল্পই আমাদের একমাত্র রপ্তানিমুখী শিল্প। একে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র আগেও যেমন ছিল সামনেও থাকবে। একে প্রতিদ্বন্ধিতা বললেও ভুল হবেনা। এটাই কর্পোরেট দুনিয়ার নিয়ম। ভারত ইচ্ছা করলেই আমাদের এ শিল্প ধ্বংস করতে পারবে জিনিসটা বোধহয় এত সহজ নয়। দেখুন, স্থায়ী ভারত বিরোধিতা আমাদের জন্যে ভাল কিছু বয়ে আনবে না। মাইটি প্রতিবেশির সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পথ আমাদেরই বের করতে হবে। এটা কোন রহস্য নয় ভারত এবং আওয়ামী লীগ একে অপরের পরিপূরক, বিশেষ করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে। এ নিয়ে তর্ক বিতর্ক হতে পারে। কিন্তু ৭ হাজার কোটি টাকার সবটাই আমাদের জন্যে মন্দ বয়ে আনবে এমন ধারণার সাথে একমত হতে পারলাম না।

ভাল থাকুন।

সাহায্যের পরিমাণ বাড়ানো হলেও ব্যবহার নিয়ে চিন্তিত বিশ্বব্যাংক।

বাংলাদেশে বড় কাজে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ

বাংলাদেশে সাহায্যের পরিমাণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেও এর ব্যবহার নিয়ে বিশ্বব্যাংক চিন্তিত। সংস্থাটি মনে করে, বাংলাদেশে যেকোনো বড় উন্নয়নকাজই বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের মুখে পড়ে। দরপত্রে অংশগ্রহণকারীদের যোগসাজশ ও ক্ষমতা প্রয়োগের বিষয়টিও নিয়মিত। বাংলাদেশের জন্য আগামী চার বছরে সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে ইতিমধ্যে কৌশলপত্র তৈরি করেছে বিশ্বব্যাংক। দেশভিত্তিক সহায়তা কৌশলপত্র (সিএএস) নামের এই প্রতিবেদন বিশ্বব্যাংকের বোর্ডে অনুমোদন হয়েছে। দাতা সংস্থাটি ২০১০-১১ থেকে ২০১৪-১৫ পর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য ৬৫৫ কোটি ডলার বা চার হাজার ৫৮৫ কোটি টাকা সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিগত তিন বছরে অর্থাৎ ২০০৬ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত সময়ে সংস্থাটির পক্ষ থেকে স্বাধীনভাবে বিভিন্ন প্রকল্পে ৩১টি দুর্নীতির ঘটনা নিয়ে তদন্ত হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি প্রকল্পে ক্রয়চুক্তির ক্ষেত্রে নানা ত্রুটি খুঁজে পায় বিশ্বব্যাংক। ঠিকাদারদের এসব কাজ পরে বাতিল করা হয়। অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে শাস্তিও দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলেও দরপত্রে ত্রুটি থাকার কারণে কয়েকটি প্রকল্পে অর্থ ছাড় হয়নি বলে জানা গেছে। একটি বিদেশি ঠিকাদার কোম্পানির স্থানীয় এজেন্ট এক মন্ত্রীর প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিতে গিয়ে পুরো কাজটিই আটকে গেছে এবং বিলম্বিত হচ্ছে বলে জানা গেছে। সার্বিক বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মশিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্বব্যাংক তাদের নতুন কৌশলপত্রে সহায়তা দ্বিগুণ করেছে। সরকারের প্রতি আস্থা ও বাংলাদেশের উন্নয়ন চাহিদার কথা বিবেচনা করেই এই সহায়তা দেবে তারা।

বিশ্বব্যাংকের উদ্বেগের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ না করে উপদেষ্টা বলেন, সরকারের উন্নয়নকাজে স্বচ্ছতার ব্যাপারটিতে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। বড় প্রকল্পগুলোতে অর্থের স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য সরকারও আন্তরিকভাবে কাজ করছে। বিশেষ করে পদ্মা সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে সেটি নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মির্জা আজিজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্বব্যাংকের ক্রয়সংক্রান্ত নীতিমালার বিষয়টি সরকার অবহিত আছে। সুতরাং ঠিকাদারি কাজ নিয়ে বিশ্বব্যাংকের তদন্ত বা পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সরকারেরই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর তা অনেকটা নির্ভর করছে। পদ্মা সেতুসহ বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে, সেগুলোর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা উচিত। বিশ্বব্যাংকের নতুন এই কৌশলপত্রে বলা হয়েছে, দারিদ্র্য বিমোচনসহ আগামী দশকে বাংলাদেশকে একটি মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করতেই বিশ্বব্যাংক ৬৫০ কোটি ডলারের বেশি বিপুল পরিমাণ সহায়তা দিচ্ছে। বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র্যের হার কমিয়ে আনা এবং মানব উন্নয়নের অগ্রগতিকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে।

নতুন কৌশলপত্র অনুমোদনের পর সংস্থার পক্ষ থেকে বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর এলেন গোল্ডস্টেইন বলেন, ২০০৬ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে যে সহায়তা দিয়েছে, নতুন কৌশলপত্রের আওতায় তার দ্বিগুণ সহায়তা দেওয়া হবে। নতুন এই সহায়তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে বিশ্বব্যাংক। প্রতিবেদন অনুযায়ী বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাটসহ অবকাঠামোর ঘাটতিকে বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে মনে করছে বিশ্বব্যাংক। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকারের ক্ষমতায়নে আমলাতন্ত্র ও রাজনৈতিক বিরোধিতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

জানা গেছে, আগামী তিন বছরে শীর্ষস্থানীয় পাঁচটি প্রকল্পেই অর্থায়ন করা হবে প্রায় ২০০ কোটি ডলার, যার বেশির ভাগই অবকাঠামো উন্নয়নসংক্রান্ত। নতুন কৌশলপত্রে শীর্ষ প্রকল্পের তালিকায় আছে পদ্মা সেতু। এই প্রকল্পে প্রধান অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান বিশ্বব্যাংক। গত বছর ডিসেম্বরের আগে প্রকল্পটির জন্য মাত্র ৩০ কোটি ডলার দিতে রাজি হলেও এখন তারা ১২০ কোটি ডলার বা আট হাজার ২৮০ কোটি টাকা দিতে প্রস্তুত। ২০১১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পদ্মা সেতু অর্থায়নের প্রস্তাবটি বোর্ডে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উঠতে পারে।

দ্বিতীয় অবস্থানে আছে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি (পিপিপি) প্রকল্পে অর্থায়ন। এ জন্য বিশ্বব্যাংক ২৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার বা এক হাজার ৭৭৩ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। চট্টগ্রামে পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন-ব্যবস্থার উন্নয়নে ১৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা এক হাজার ২০৭ কোটি টাকা সহায়তা দেবে বিশ্বব্যাংক। রপ্তানি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ১২ কোটি ডলার বা ৮২৮ কোটি টাকা এবং দক্ষিণাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থার উন্নয়নে আরও ১৫ কোটি ডলার বা এক হাজার ৩৫ কোটি টাকা দেবে বিশ্বব্যাংক। তালিকায় আরও আছে পেশাগত প্রশিক্ষণ কর্মসূচির চার কোটি ডলার বা ২৭৬ কোটি টাকা, সামাজিক খাত বিনিয়োগে ১০ কোটি ডলার বা ৬৯০ কোটি টাকা, জাতীয় সুরক্ষা প্রকল্পে নয় কোটি ডলার বা ৬২১ কোটি টাকা এবং ঢাকার পরিবেশ ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় ৪৮৩ কোটি টাকা।

দেশে বিদ্যুতের চরম সংকট থাকলেও আগামী কৌশলপত্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কোনো প্রকল্প নেওয়া হয়নি। তবে দক্ষিণাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য ১৫ কোটি ডলারের একটি প্রকল্প আছে। নতুন কৌশলপত্রে হাজার হাজার কোটি টাকার এসব প্রতিশ্রুতি নির্ভর করছে সরকারি কাজে স্বচ্ছতা ও বিশ্বব্যাংকের নিজস্ব ক্রয়নীতিমালা মেনে চলার ওপর। বিশ্বব্যাংক ইতিমধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে (ইআরডি) জানিয়ে দিয়েছে, তারা যেসব প্রকল্পে অর্থায়ন করবে, সেসব প্রকল্পে পণ্য ও সেবা ক্রয় এবং ঠিকাদার নিয়োগের ক্ষেত্রে সংস্থার নিজস্ব নীতিমালা মেনে চলতে হবে। উল্লেখ্য, ক্রয় আইনের (পিপিআর) সংশোধন অনুযায়ী, দুই কোটি টাকা পর্যন্ত সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পূর্ব অভিজ্ঞতা লাগবে না এবং কাজের জন্য লটারির ব্যবস্থা চালু থাকবে। ফলে বিশ্বব্যাংকের নতুন কৌশলপত্রে বিপুল পরিমাণ সহায়তার আশ্বাস থাকলেও সরকার প্রকল্প কতটা বাস্তবায়ন করতে পারবে তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালের ডিসেম্বর মাসে ২০০৬-০৯ সময়কালের জন্য দেশভিত্তিক সহায়তা কৌশলের মেয়াদ শেষ হয়েছে। এই সময়কালে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে দিয়েছে ২৬০ কোটি ডলার বা প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা। নতুন কৌশলপত্রে এই সহায়তা দ্বিগুণেরও বেশি করা হয়েছে।

সূত্র

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla