Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

অপরাধ ও শাস্তি, 'মহামান্য' আদালত স্টাইল।

Awami League
৩৯ বছর পর পরিচয় পাওয়া গেল আমার। আমি বাংলাদেশি। সমাজের চোখে কতটা জানিনা তবে ’মহামান্য’ আদালতের চোখে এতদিন আমি ছিলাম পরিচয়হীন, জারজ। দায় মুক্তির চাইতে কলঙ্কমুক্তি আনন্দে আমি এখন দিশেহারা! ধন্যবাদ ’মহামান্য’ আদালতকে। নাগরিক পরিচয় উদ্ধারের পাশাপাশি বিচার ব্যবস্থা আমাদের ইতিহাসের ডিএনএ’তেও হাত দিয়েছে এবং ’পবিত্র’ কলমের খোঁচায় যার যা প্রাপ্য তা ফিরিয়ে দিচ্ছে একে একে। গোপালগঞ্জ আওয়ামি লীগের এককালের মহান নেতা ও উচ্চ আদালতের সিটিং বিচারক সানন্দে ফিরিয়ে দিয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর মানসম্মান। দুদক নামক নষ্ট সমিতি ফুলের মত পবিত্র প্রধানমন্ত্রীর কপালে চাঁদাবাজি সহ মোট ১৩টা মামলার কলঙ্ক এটে দিয়েছিল ’বিনা অপরাধে’। শুনানির প্রয়োজন হয়নি, এজলাস বসাতে হয়নি, উকিলদেরও তর্কাতর্কি করতে হয়নি, তার আগেই প্রধানমন্ত্রীর গঙ্গাস্নান সেরে নিল দেশের বিচার ব্যবস্থা। ভাগ্যবান বটে! শুধু প্রধানমন্ত্রী কেন, যাদের ডিএনএ’তে আওয়ামী অস্তিত্ব পাওয়া গেছে তাদের সবাই এখন পূণ্য। বঙ্গবন্ধু সৈনিকরা অপরাধ করেনা, জাতীয় পরিচয়ের পাশাপাশি এ পরিচয়টাও আইনী কায়দায় প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছে দেশের ’মহামান্য’ আদালত। মান্যের উপর অধিক মান্য, তাতেই বোধহয় মহামান্য। দুদিন আগের দলীয় নেতা ক্ষমতার ঋতুস্রাবে ভেসে ঠাঁই নেয় উচ্চ আদালতের উচ্চ চেয়ারে, এবং সেখানে বসে আবিষ্কার করে আমার মত ম্যাংগো পিপলদের পরিচয়। প্রতিভা বটে! প্রাসঙ্গিকভাবে পাঠকদের মনে করিয়ে দিতে চাই, আপনার প্রতিবেশি যদু মধু দুই ভাই হলেও ওদের আইনী অধিকার কিন্তু আলাদা। যেহেতু যদু আওয়ামী লীগার তার চরিত্রও দুধের মত পবিত্র। আর মধু যেহেতু ভিন্ন দলের তার গায়ে হাজার গন্ধ। দেশের সর্বোচ্চ আদালত তাই মনে করে। চুরি করল দুই দল, অথচ একদলকে দেয়া হল পবিত্রতার সার্টিফিকেট আর অন্য দলকে বাড়ি ঘর হতে উচ্ছেদ করে দেশান্তরি করার জপমালা পড়িয়ে দেয়া হল জাতির গলায়।

আওয়ামী শাসনের বাইরে অন্য যে কোন শাসন এখন অবৈধ। শাসনতন্ত্রের সংশোধনী বিকেলে ভোরের ফুলের মত ঝরে পরছে টুপটাপ। জিয়া অবৈধ, এরশাদ অবৈধ, সামরিক শাসন অবৈধ, ধর্মীয় রাজনীতি অবৈধ, জামাত খতম, বিএনপি ম্লেচ্ছ, দুদক দন্ত বিহীন, সমীকরণের ফলাফল কি হবে আশাকরি পাঠকদের তা বুঝে নিতে অসুবিধা হবেনা। দেশের মুতখানার নামকরণেও চলছে ডিএনএ’র প্রভাব। দ্বিতীয় বুড়িগঙ্গা সেতুর নাম প্রস্তাব করা হয়েছে সুফিয়া কামাল সেতু, একই কায়দায় পদ্মা সেতুর নাম করণেও উঠে এসেছে বেগম ফজিলেতুন্নেসার নাম। এখন শুনছি সংসদে বিল আসছে দ্বৈত নাগরিকদের সাংসদ ও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা ফিরিয়ে দেয়ার জন্যে। না বললেও আমাদের ধরে নিতে হবে শেখ পরিবারের কেউ হয়ত দ্বৈত নাগরিকত্বের গ্যাঁড়াকলে আটকা আছেন এ মুহূর্তে।

আদালতের রায়ে সামরিক শাসন এখন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। মৃত্যুদণ্ডের চিন্তা ভাবনা চলছে। গর্ব হচ্ছে দেশ নিয়ে। তৃতীয় বিশ্বের এমন কটা দেশ আছে যেখানে খুঁজলে এ ধরণের আইন পাওয়া যাবে। ধন্য আমাদের ’মহামান্য’ আদালত, ধন্য আমাদের জনপ্রতিনিধির দল। সমস্যা কিন্তু একটা থেকে যাবে। দেশের মালিকানা নিয়ে দুই বৈরী প্রতিপক্ষ যখন জনজীবন অচল করে দেবে, জিন্দা কাউকে লাশ বানিয়ে তার উপর নৃত্য করবে, চুরি চামারিতে পর পর ৪ বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের খেতাব এনে দেবে, টেন্ডাবাজি, চাঁদাবাজি, অপহরণ, ধর্ষণের মত রাজনৈতিক আচারগুলো সমাজে ঝেঁকে বসবে, কে আসবে আমাদের উদ্ধারে? অষ্ট্রেলিয়ার স্যার নিনিয়ান? প্রতিবেশি দেশের বেনিয়া বন্ধুরা? এক কাপ চা আর একটা আকিজ বিড়ির গনতন্ত্রের মূলা ঝুলিয়ে জাতিকে অনাদিকাল ধরে বিভ্রান্ত করা যাবে এমনটা ভেবে থাকলে ভুল করবেন মান্যের উপর মান্য মহামান্যের দল।

রাবার স্ট্যাম্প মার্কা ’মহামান্য’ আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে পারিবারিক ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার মিশন সাময়িক সফলতার মুখ দেখলেও তা কিন্তু কখনোই চিরস্থায়ী করা যায় না। ইতিহাস তাই বলে। অপরাধের উলটো পিঠেই শাস্তির বাস। সে শাস্তি আইন করে বন্ধ করা যায়না।

Comments

Crime & Punishment...

৩৯ বছর পর পরিচয় পাওয়া গেল আমার। আমি বাংলাদেশি। সমাজের চোখে কতটা জানিনা তবে ’মহামান্য’ আদালতের চোখে এতদিন আমি ছিলাম পরিচয়হীন, জারজ। দায় মুক্তির চাইতে কলঙ্কমুক্তি আনন্দে আমি এখন দিশেহারা! ধন্যবাদ ’মহামান্য’ আদালতকে। নাগরিক পরিচয় উদ্ধারের পাশাপাশি বিচার ব্যবস্থা আমাদের ইতিহাসের ডিএনএ’তেও হাত দিয়েছে এবং ’পবিত্র’ কলমের খোঁচায় যার যা প্রাপ্য তা ফিরিয়ে দিচ্ছে একে একে। গোপালগঞ্জ আওয়ামি লীগের এককালের মহান নেতা ও উচ্চ আদালতের সিটিং বিচারক সানন্দে ফিরিয়ে দিয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর মানসম্মান। দুদক নামক নষ্ট সমিতি ফুলের মত পবিত্র প্রধানমন্ত্রীর কপালে চাঁদাবাজি সহ মোট ১৩টা মামলার কলঙ্ক এটে দিয়েছিল ’বিনা অপরাধে’। শুনানির প্রয়োজন হয়নি, এজলাস বসাতে হয়নি, উকিলদেরও তর্কাতর্কি করতে হয়নি, তার আগেই প্রধানমন্ত্রীর গঙ্গাস্নান সেরে নিল দেশের বিচার ব্যবস্থা। ভাগ্যবান বটে! শুধু প্রধানমন্ত্রী কেন, যাদের ডিএনএ’তে আওয়ামী অস্তিত্ব পাওয়া গেছে তাদের সবাই এখন পূণ্য। বঙ্গবন্ধু সৈনিকরা অপরাধ করেনা, জাতীয় পরিচয়ের পাশাপাশি এ পরিচয়টাও আইনী কায়দায় প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছে দেশের ’মহামান্য’ আদালত। মান্যের উপর অধিক মান্য, তাতেই বোধহয় মহামান্য। দুদিন আগের দলীয় নেতা ক্ষমতার গঙ্গাস্রোতে ভেসে ঠাঁই নেয় উচ্চ আদালতের উচ্চ চেয়ারে, এবং সেখানে বসে আবিষ্কার করে আমার মত ম্যাংগো পিপলদের পরিচয়। প্রতিভা বটে!

আওয়ামী শাসনের বাইরে অন্য যে কোন শাসন এখন অবৈধ। শাসনতন্ত্রের সংশোধনী বিকেলে ভোরের ফুলের মত ঝরে গেছে টুপটাপ। জিয়া অবৈধ, এরশাদ অবৈধ, সামরিক শাসন অবৈধ, ধর্মীয় রাজনীতি অবৈধ, জামাত খতম, বিএনপি ম্লেচ্ছ, দুদক দন্ত বিহীন... সমীকরণের ফলাফল কি হবে আশাকরি পাঠকদের তা বুঝে নিতে অসুবিধা হবেনা। দেশের মুতখানার নামকরণেও চলছে ডিএনএ’র প্রভাব। দ্বিতীয় বুড়িগঙ্গা সেতুর নাম প্রস্তাব করা হয়েছে সুফিয়া কামাল সেতু, একই কায়দায় পদ্মা সেতুর নাম করণেও উঠে এসেছে বেগম ফজিলেতুন্নেসার নাম। এখন শুনছি সংসদে বিল আসছে দ্বৈত নাগরিকদের সাংসদ ও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা ফিরিয়ে দেয়ার জন্যে। না বললেও আমাদের ধরে নিতে হবে শেখ পরিবারের কেউ হয়ত দ্বৈত নাগরিকত্বের গ্যাঁড়াকলে আটকা আছেন এ মুহূর্তে।

আদালতের রায়ে সামরিক শাসন এখন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। মৃত্যুদণ্ডের চিন্তা ভাবনা চলছে। গর্ব হচ্ছে দেশ নিয়ে। তৃতীয় বিশ্বের এমন কটা দেশ আছে যেখানে খুঁজলে এ ধরণের আইন পাওয়া যাবে। ধন্য আমাদের ’মহামান্য’ আদালত, ধন্য আমাদের জনপ্রতিনিধির দল। সমস্যা কিন্তু একটা থেকে যাবে। দেশের মালিকানা নিয়ে দুই বৈরী প্রতিপক্ষ যখন জনজীবন অচল করে দেবে, জিন্দা কাউকে লাশ বানিয়ে তার উপর নৃত্য করবে, চুরি চামারিতে পর পর ৪ বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের খেতাব এনে দেবে, টেন্ডাবাজি, চাঁদাবাজি, অপহরণ, ধর্ষণের মত রাজনৈতিক আচারগুলো সমাজে ঝেঁকে বসবে, কে আসবে আমাদের উদ্ধারে? অষ্ট্রেলিয়ার স্যার নিনিয়ান? প্রতিবেশি দেশের বেনিয়া বন্ধুরা? এক কাপ চা আর একটা আকিজ বিড়ির গনতন্ত্রের মূলা ঝুলিয়ে জাতিকে অনাদিকাল ধরে বিভ্রান্ত করা যাবে এমনটা ভেবে থাকলে ভুল করবেন মহামান্যের দল। আদালতের জন্যে জনগণ নয়, বরং জনগণের জন্যে আদালত, ভালমন্দের সিদ্ধান্ত নিতে জনগণ অতীতে যেমন ভুল করেনি সামনেও করবে না। এখানে আদালত নামক দলীয় ভুত জাতির ঘাড়ে সওয়ার হওয়ার কোন প্রয়োজন আছে বলে মনে হয়না।

রাবার স্ট্যাম্প মার্কা ’মহামান্য’ আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে পারিবারিক ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার মিশন সাময়িক সফলতার মুখ দেখলেও তা কিন্তু কখনোই চিরস্থায়ী করা যায় না। ইতিহাস তাই বলে। অপরাধের উলটো পিঠেই শাস্তির বাস। সে শাস্তি আইন করে বন্ধ করা যায়না।

একজন শাহাদাব আকবরের কথা মনে আছে?

লিখেছেন বিডি আইডল ২৪ অগাস্ট ২০১০, সকাল ১০:৫৫
মনে আছে এই চমৎকার ব্যক্তিটিকে?

অবৈধ সম্পদের বিবরণী মামলায় তিনি ২০০৪ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ২৬(২) ধারায় দুই বছর এবং ২৭(১) ধারার আওতায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। এ ছাড়া ১৯৮৪ সালের আয়কর অধ্যাদেশের ১৬৫ ও ১৬৬ ধারার আওতায় যথাক্রমে এক বছর ও পাঁচ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডসহ প্রায় দেড় কোটি টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সাকুল্যে তার সাজা ছিল ১৮ বছর।

তিনি কখনো আত্মসমর্পণ করেননি। পলাতক দণ্ডিত দোষী ব্যক্তি আইন ও সংবিধানের কোনো সুবিধা নিতে পারেন না এবং তাঁকে অনুরূপ সুবিধা দেওয়াও রাষ্ট্রের কারও এখতিয়ারে পড়ে না সাধারণ হিসাবে। তবে ৯ সেপ্টেম্বর, ২০০৯ তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারা শাখা-২-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব রুখসানা হাসিনের সই করা এক পত্র থেকে দেখা যায়, শাহাদাব আকবরই নিজের দণ্ড মওকুফের জন্য আবেদন করেছিলেন। পলাতক আসামীর নিজে দন্ড মওকুফের আবেদন এই পৃথিবীর অন্য কোন দেশে পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না।

শুধু তাই না, সে আবেদন পৌছে যায় বাংলাদেশের সংবিধানের রক্ষক প্রেসিডেন্টের কাছে। তড়িৎ প্রয়োহ হয় ধারা ৪৯। সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত যেকোনো দণ্ডের মার্জনা, বিলম্বন ও বিরাম মঞ্জুর করিবার এবং যেকোনো দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করিবার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির থাকিবে।’ যদিও বিশিষ্ট সংবিধান বিশেষজ্ঞ মাহমুদুল ইসলাম তাঁর কনস্টিটিউশনাল ল অব বাংলাদেশ বইয়ে অভিমত দিয়েছেন, ‘অন্যান্য ক্ষমতার মতো দণ্ড মওকুফের ক্ষমতা প্রয়োগেও রাষ্ট্রপতি স্বাধীন নন। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শেই তাঁকে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে।’।

যে অসীম ক্ষমতাধর, বনখেকো মহিলার কারণে এই সব অসীম-অবিশ্বাস্য ব্যাপর-স্যাপার তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন তিনি যে কমিটির প্রধান সে কমিটির ম্যান্ডেট হচ্ছেঃ

১. জনগণের স্বার্বভৌম ক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা
২. মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নতকরণ/সংরক্ষণ
৩. মহাজোটের নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণ (শুনেছিলাম এটা সর্বদলীয় কমিটি)
৪. জনগণের দেয়া ম্যান্ডেট বাস্তবায়ন
৫. দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায় কার্যকর করা এবং
৬. অবৈধ ক্ষমতা দখল বন্ধ করা

সব দেখে শুনে আমার পাশের বাসার ছোট্ট কুকুরটা হাসছেঁ কেন যেন....

ফুটনোটঃ

ক) ৬ ডিসেম্বর ১৯৯৪ আওয়ামী লীগ, জামায়াত আলাদা সমাবেশ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে নেয়ার জন্য বিএনপি সরকারকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেয়৷ সরকার তার অবস্থানে অনড় থাকায় ২৮ ডিসেম্বর বিরোধী দলের ১৪৭ জন সংসদ সদস্য পদত্যাগপত্র পেশ করে৷শুন্য আসনে উপনির্বাচনের পর সংসদ বাতিল ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে ২ সেপ্টেম্বর ১৯৯৫ থেকে টানা ৩২ ঘণ্টা হরতাল পালন করে আওয়ামী লীগ ও জামাত জোট। ৬ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনা আবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রস্তাব দেন। একই দাবীতে ১৬ নভেম্বর ১৯৯৫ থেকে একাধারে ৭ দিন হরতাল পালিত হয়। পরের বছর ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনের পর ২৩ মার্চ প্রেস ক্লাবের সামনে সচিবালয়ের আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তারা তাদের চাকুরির নিয়ম ভঙ্গ করে জনতার মঞ্চ স্থাপন ও সরকার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত অবস্থান ধর্মঘটের ডাক দেয়।

খ) ১/১১ এর সরকার আমাদের সৃষ্টিঃ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তথ্যসুত্র: ১ , ২
-------

কোরবানি নিয়ে মিথ্যা তথ্য পড়ানো হয় দাবি করে হাইকোর্টে রিটআবেদনকার

কোরবানির উদ্দেশ্যে হজরত ইব্রাহিম (আ.) তাঁর প্রিয় ছেলে হজরত ইসমাইল (আ.)-কে নয়, তাঁর আরেক ছেলে হজরত ইসহাক (আ.)-কে শুইয়েছিলেন দাবি করে হাইকোর্টে রিট আবেদন দাখিল করা হয়েছে। এতে আরো দাবি করা হয়, এ নিয়ে বই-পুস্তকে যা পড়ানো হয়, তা মিথ্যা। বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা ও বিচারপতি কাজী রেজা-উল হকের বেঞ্চে এই রিটের ওপর শুনানি চলছে। বিশ্ব শান্তি পরিষদের প্রেসিডেন্ট দেবনারায়ণ মহেশ্বর এ দাবি করেই গতকাল রবিবার রিট করেছেন। আগামী বৃহস্পতিবার এই রিটের ওপর পরবর্তী শুনানি হবে। বিশ্ব শান্তি পরিষদ নামে এই সংগঠনটির কার্যালয় রাজধানীর ধলপুরের সিটি পল্লীর তেলেগু কলোনি মন্দিরে। এই সংগঠনের সভাপতি দেবনারায়ণ মহেশ্বরের বাড়ি বরিশাল সদরে।

রিট আবেদনে দাবি করা হয়েছে, 'কোরবানির উদ্দেশ্যে হজরত ইসমাইল (আ.) কে শোয়ানো হয়েছিল আর আল্লাহতায়ালা খুশি হয়ে ইসমাইলের স্থলে একটি দুম্বা দিয়েছিলেন বলে বই-পুস্তকে যা পড়ানো, হয় তা মিথ্যা।' জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা সালাহউদ্দিন গতকাল রাতে এ বিষয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আবহমানকাল থেকে আলেম-ওলামারা জেনে আসছি, এটা হজরত ইসমাইল (আ.)-এর ঘটনা। কিন্তু যাঁরা মামলা করেছেন, তাঁরা কোথা থেকে এটা পেলেন তা জানি না। তবে এ বিষয়ে সুনির্দিস্ট প্রশ্ন পেলে আমরা তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখব।' তিনি বলেন, যেহেতু আদালতে বিষয়টি উঠেছে, তাই এ মুহূর্তে এ নিয়ে কথা না বলাই ভালো।
সুরা আসসাফফাত-এর ৯৯ থেকে ১১৩ নম্বর আয়াত সম্পর্কে বেশ কয়েকজন আলেমের কাছে জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, কোরবানির জন্য কাকে শোয়ানো হয়েছিল কোথাও সুনির্দিষ্টভাবে তার উল্লেখ নেই। তবে আছে কিছু প্রতীকী বর্ণনা। এই বর্ণনা থেকেই ব্যাখ্যাকারীরা ধারণা করেন যে, এটা হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও হজরত ইসমাইল (আ.)-এর ঘটনা।

গতকাল এই রিটের ওপর শুনানি গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের বিচারপতিসহ রিটকারী ও সরকারপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সবাই অজু করে নেন। আদালতের নির্দেশেই সবাই অজু করেন। গতকাল সকালে রিট আবেদনটি দেখে আদালত বলেন, এ রিট আবেদনের শুনানির জন্য সবাইকে অজু করে আসতে হবে। আদালত রিটকারী, সরকারের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রাজিক আল জলিলকে অজু করে আসতে বলেন এবং বিচারপতিরাও অজু করে আসার পর দুপুরে শুনানি হবে বলে জানিয়ে দেন। পরে দুপুরে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। রিটকারী নিজেই শুনানি করেন। এ সময় আদালত বলেন, 'বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর। আমার জানা মতে, ইসমাইল (আ.)কে জবাইয়ের উদ্দেশ্যে ইব্রাহিম (আ.) শুইয়েছিলেন। বাড়িতে বাংলা অনুবাদসংবলিত কোরআন শরিফ আছে। আবারও কোরআন দেখে আসি, তারপর নিশ্চিত হয়ে বিষয়টি দেখা হবে।' রিট আবেদনে বলা হয়, আল্লাহর নির্দেশে ইব্রাহিম (আ.) তাঁর প্রিয় ছেলে ইসমাইলকে নয়, ইসহাককে জবাই করার উদ্দেশ্যে শুইয়েছিলেন এবং তাঁর জায়গায় একটি দুম্বা নয়, একটি হৃষ্টপুষ্ট জন্তু দেওয়া হয়েছিল বলে পবিত্র কোরআনে উল্লেখ রয়েছে। সুরা সাফফাত (আস্ সাফফাত)-এর ৯৯ থেকে ১১৩ নম্বর আয়াত পর্যন্ত পড়লেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে।

President call for highlighting Bangamata before new generation

President Zillur Rahman today laid emphasis on highlighting before the new generation the contribution of Bangamatha Sheikh Fazilatunnesa Mujib to the independence struggle as wife of Father of the Nation Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman.

"She played a crucial role in resolving many political and national crises . . . she was a hard working, perseverant and intelligent woman," said the president while a delegation of Bangamata Sheikh Fazilatunnesa Mujib Parishad led by its President Dr Abdul Mannan Chowdhury called on him in Bangabhaban here.

President Rahman, who was a close associate of Bangabandhu and his family, said Begum Fazilatunnesa also played vital role in the country's political arena with her constructive advice to Bangabandhu throughout his political life, especially during the long 14 years of imprisonment of her celebrated husband. He particularly recalled that during Bangabandhu's imprisonment in Agartala conspiracy case, he refused to join on parole the roundtable conference, convened by the then Pakistan president Ayub Khan in line with her advice of Begum Fazilatunnesa.

"As a result the then government was forced to free 32 detainees including Bangabandhu," the President added that there were many such instances which still remained unknown to people of the country and expected the Parishad to take steps to let the new generation know more about the great woman.

The delegation apprised the President about their regular activities and sought his cooperation in the ongoing research work on life and works of Bangamata.

The members of the delegation also invited the President to attend at the birth anniversary function of Bangamata on August 8 at Osmani Memorial auditorium. The President gave his consent to join at the birth anniversary programme and assured his all out support to further development of the Parishad. Concerned secretaries of the President Office were also present during the meeting.

Those who don’t believe in 72's constitution aren’t Bangladesh’s

Suranjit Sengupta, co-chairman of the special committee on constitutional amendment, Saturday said those who do not believe in the constitution based on the mass upsurge of the ‘60s and the country’s liberation movement “are not the citizens of Bangladesh”.

“The constitution of 1972 is nothing illusory. Those who do not believe in the 6-point and 11-point demands (the bedrock of 1969 mass upsurge) also do not believe in the country’s independence,” he said, asking certain quarters to take citizenships of ‘the other country they have faith in’.

He said all this at a round table meeting on “Militancy in Bangladesh and politics of Shibir” organized by Bangladesh Educational Writers Forum at the VIP Lounge of the National Press Club.

Referring to Jamaat-e-Islami’s alleged connection with the politics of militancy, he said, “Militancy, communalism and democracy can not stay together. The whole nation is now united against militancy.”

He added: “Those who had killed people, violated women and torched houses during the War of Liberation must stand in the dock. They have no way to escape the trial.”

Prominent drama artiste Dr. Enamul Haque, who was also present at the meeting, said, “Those who do not believe in the spirit of the liberation war could not be considered first-class citizens of the country--they could be treated as second-class citizens.”

আর দুর্নীতি করবেন না অঙ্গীকার করুন: খালেদাকে হাসিনা

ঢাকা, আগস্ট ০১ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- 'আর দুর্নীতি না করতে' বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়াকে 'নাকে খত' দিয়ে অঙ্গীকার করার আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার এক অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে শেখ হাসিনা বলেন, "মানুষের জন্য কিছু করেন। নাকে খত দেন দিয়ে বলেন যে- আর দুর্নীতি করে সম্পদ বানাবেন না। দুর্নীতি আর জঙ্গীবাদের মদদ দেওয়ার জন্য জনগণ আপনাদের প্রত্যাখ্যান করেছে।" (বিস্তারিত)

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসকে সামনে রেখে পুরো মাসব্যাপী কর্মসূচীর প্রথম দিন রোববার সকালে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন কৃষক লীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গনে রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী আন্দোলনের ক্ষেত্র প্রস্তুতের নামে 'মানুষ হত্যা ও অরাজকতা' সৃষ্টির অপচেষ্টা বন্ধ করতে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বিরোধী দলীয় নেতার উদ্দেশে বলেন, "হরতালের হুমকি দিচ্ছেন। মানুষ মেরে হরতালের ক্ষেত্র তৈরীর চেষ্টা চালাবেন না।"

শেখ হাসিনা আরো অভিযোগ করেন যে, ক্ষমতায় গিয়ে জনগণের অর্থ-সম্পদ লুট করতে না পারায় তারা (বিরোধী দল) এখন সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।

প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, "আওয়ামী লীগ যদি ক্ষমতায় না আসে, তা হলে তিনি (খালেদা জিয়া) যে ক্ষমতায় আসতে পারবেন এমন গ্যারান্টি আছে কি?"

তিনি আরো বলেন, "যারা দুর্নীতি, জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসের মদদদাতা তাদেরকে জনগণ আর কখনই ক্ষমতায় আনবে না।"

'বিশৃঙ্খলা' সৃষ্টির অপচেষ্টা পরিহার করে জনগণের আস্থা অর্জনের চেষ্টা ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করতে বিরোধী দলকে পরামর্শ দেন শেখ হাসিনা।

রক্তদান কর্মসূচির আগে কৃষকলীগ সভাপতি মীর্জা আবদুল জলিলের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভায় বক্তৃতা করেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক, স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, কৃষকলীগ সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রমুখ।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট নিহত বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আগস্ট মাসকে 'শোকের মাস' ঘোষণা করে মাসব্যাপী কর্মসূচী পালন করছে।

শনিবার প্রথম প্রহরে স্বেচ্ছাসেবক লীগ ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে আলোর মিছিল করে এবং যুবলীগ বঙ্গবন্ধু জাদুঘর চত্বরসহ সব জেলা ও উপজেলায় শহীদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি শুরু করে।

দেলোয়ার হোসেনসহ তিন বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে রাষ্ট্রদ্রোহমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে বিএনপির মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন ও স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করা হয়েছে। আজ রোববার বাংলাদেশ ওলামা লীগের সভাপতি মওলানা ইলিয়াস হোসেন হেলালি ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলাটি করেন। মহানগর হাকিম এ কে এম এমদাদুল হক বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন। বাদী আদালতকে বলেন, আসামিরা গত ২৫ জুলাই রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে এক সমাবেশে শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে রাষ্ট্রদ্রোহমূলক বক্তব্য দেন। তাঁরা বলেন, ‘শেখ হাসিনা আপনার বাবার যে পরিণতি হয়েছে, আপনারও সেই পরিণতি হবে।’ এ ধরনের বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। এ কারণে তিনি আদালতে এ মামলা দায়ের করেন। আদালত জানায় পরে এ মামলার আদেশ দেওয়া হবে।

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla