Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

রাজন হত্যা ও কিছু বিষাক্ত সাপের গল্প

Rajon

রাজন হত্যার পুরো ভিডিওটা আমি দেখিনি। দেখিনি বললে হয়ত মিথ্যা বলা হবে...দেখার সাহস হয়নি। ঘটনার হেডলাইন পড়ে বাকিটা কল্পনা করে নেই। তাতেই ভেসে উঠে মৃত্যু পথযাত্রী এক কিশোরের করুণ আর্তনাদ। বেঁচে থাকার আকুতি। ১৬ কোটি মানুষের দেশে মৃত্যু এখন কাঁচা লংকা দিয়ে পান্তা ভাত খাওয়ার চাইতেও সস্তা। মানুষ মরছে অনেকটা পা পিষে পিঁপড়ে মারার মত। ভাই মারছে ভাইকে, সন্তান মারছে পিতাকে, দুই বছরের শিশুকে ধর্ষণ করে পুতে রাখছে মাটিতে। পত্রিকার ভেতরের পাতায় ছোট্ট দুই লাইনের খবর হয়ে কবরে ঠাঁই নিচ্ছে মা-বাবার আদরের সন্তান, সন্তানের জন্মদাতা, প্রিয় ভাই,আদরের ছোট বোন, পাড়া প্রতিবেশী। সিমেন্টের বস্তা সহ লাশ ভেসে উঠছে নদীতে, লাশ পাওয়া যাচ্ছে ডোবায়, নালায়, নর্দমায়, ধান ক্ষেতে, বেড রুমে...। পাঠক হিসাবে এসব পড়তে আর দেখতে দেখতে আমরাও ক্লান্ত। তাই অবাক হইনা যখন সরকারের নিজস্ব বাহিনী রাতের অন্ধকারে ঘর হতে উঠিয়ে এনে গুলিতে বুক ঝাঁঝরা করে দেয়। তারপর আমাদের গেলায় রূপকথার রক্ষক খোক্কসের গল্প। এসব গল্পের রূপকারের সংখ্যাও দিন দিন জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। ওরা টিভিতে সাফাই গাইছে। পত্রিকা ও সোশাল মিডিয়াতে বিরামহীন চলছে কীর্তনের জলসা। আমরা শুনছি ও দেখছি। এবং ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চার মত হঠাৎ হঠাৎ লাফিয়ে উঠছি। সৈয়দ আশরাফের মন্ত্রিত্ব থমকে যাওয়ায় জাতি হিসাবে আমরা নাকি স্তব্ধ। দক্ষিণ আফ্রিকাকে খেলার মাঠে হারিয়ে আমরা এখন সুখের নদীতে জলকেলি রত। অথচ একবারের জন্যও মনে করিনা এই সৈয়দ সাহেবের মন্ত্রিত্বটাই ছিল অবৈধ। একজন অবৈধ মন্ত্রীর সততা নিয়ে আহাজারি আর পতিতা ভাড়া করে তার সতীত্ব নিয়ে প্রশ্ন করা দুটোই বোধহয় এক। রাজনকে প্রকাশ্য দিবালোকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অত্যাচার করে হত্যা করা হয়েছে। প্রযুক্তি ও সোশাল মিডিয়ার বদৌলতে আমরা তা প্রায় সরাসরি দেখতে পেয়েছি, যেমনটা দেখেছি মিরপুর মাঠের ক্রিকেট যুদ্ধ। অনেকে দাবি করছি এ হত্যার যেন যথাযথ বিচার হয়। কেউ চাইছে র‍্যাব এগিয়ে এসে যেন তাদের অন্ধকারের ডিউটি পালন করে। এবার আসুন খুন, খুনি, থানা পুলিশ, আদালত বিচারকদের পরিধানের কাপড় খুলে কিছুক্ষণের খুব কাছ হতে দেখি তাদের ভেতরটা।

খুনিরা স্থানীয় পয়সাওয়ালা। খুঁজলে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততাও পাওয়া যাবে। একজন সৌদি প্রবাসী। দেশ এসেছেন ছুটি কাটাতে। মানুষ পেটানো অথবা মেরে ফেলা তাদের জন্য ভয়াবহ কোন সমস্যা নয়। কেবল সাময়িক বিপত্তি মাত্র। ভ্যান চুরির অভিযোগ এনে রাজনকে খুন করা হয়েছে। যে ভ্যান গাড়ির জন্য এই নির্মমতা খুঁজলে তার মালিকানায়ও পাওয়া যাবে চুরি চামারি, ঠঁকবাজি। থানা পুলিশের কাছে রাজন হত্যা স্রেফ মাল কামানোর উপলক্ষ মাত্র। দুদিন পর আমরা যখন নতুন কোন ইস্যু নিয়ে পঙ্গপালের মত ঝাঁপিয়ে পরবো সুন্দর এক সকালে খুনিদের অভিভাবকরা এক বস্তা টাকা নিয়ে হাজির হবে থানায়। দফারফা হবে। ভাগ যাবে উঁচু মহলে। ভাগ যাবে স্থানীয় নেতাদের পকেটে। ভাগ যাবে সাংবাদিকদের ব্যাংক একাউন্টে। থেমে যাবে রাজিন কান্নার স্বরলিপি। কারণ ততদিন নতুন কোন মৃত্যু হার মানাবে রাজন হত্যার পশুত্ব। আর রাজনের কফিনে শেষ পেরেকটা ঠোকার জন্য হাতুড়ি নিয়ে অপেক্ষা করবেন আমাদের বিচারক গন। নগদ নারায়ণ বদলে দেবে দৃশ্যপট। বদলে যাবে পুলিশের ফাইনাল রিপোর্ট। স্থানীয় ডাক্তারদের কেউ রিপোর্ট লিখবেন রাজনের মৃত্যু হয়েছিল আসলে বিষাক্ত সাপের দংশনে।

আমরা সবাই জানি কে এই বিষাক্ত সাপ, কোন জরায়ুতে এই সাপের জন্ম। রাজন হত্যার বিচার চাইলে এবং নতুন কোন রাজনের জন্ম দিতে না চাইলে আগে আমাদের সাপ মারতে হবে।

Comments

ভালুকায় কিশোরকে গাছে ঝুলিয়ে

ভালুকায় কিশোরকে গাছে ঝুলিয়ে নির্যাতন
আমাদের সময়.কম : ২৩/০৭/২০১৫
২৩-৭-১৫ (১)আবুল বাশার শেখ : ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার মল্লিকবাড়ি গ্রামে ছাগল চুরির অপবাদ দিয়ে ক্ষমতাসীন দলের যুবলীগ নেতা মোস্তফা তার দলবল নিয়ে শামীম নামে এক কিশোরকে জাম গাছের ডালে ঝুলিয়ে মধ্যযোগীয় ভাবে নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ৫ জুলাই বিকালে।
http://www.amadershomoys.com/newsite/2015/07/23/355190.htm#.VbB9iPlViko

দুই শিশুকে দড়ি দিয়ে বেঁধে নির্যাতন

দড়ি ও শিকল দিয়ে বেধে রাখা হয় দুই শিশুকে। ১৬ জুলাই সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার জয়নগর গ্রামের ঘটনা এটি। ছবি: সংগৃহীতসরকারি রাস্তায় খেজুরের কাঁটা দিয়ে তৈরি বেড়া ভেঙে ফেলায় দুই শিশুকে দড়ি ও শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ি ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে ১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ গোলাম মোস্তফা মোড়ল নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে গতকাল বুধবার।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, জয়নগরে গোলাম মোস্তফা মোড়লের বাড়িতে যাতায়াতের জন্য সরকারি সড়কে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সম্প্রতি মাটি ফেলা হয়। বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে যাবে—এ অজুহাতে গোলাম মোস্তফা মোড়ল ওই সড়কে খেজুরের কাঁটা দিয়ে বেড়া দিয়ে রাখেন।

১৬ জুলাই সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে গ্রামের আবদুল হামিদ তরফদারের ছেলে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র নাছিম তরফদার (৯) ও প্রতিবেশী ইসমাইল তরফদারের ছেলে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ইয়াছিন তরফদার (৮) ওই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় খেজুরের কাঁটা তাদের গায়ে লাগে। নির্যাতনের শিকার শিশু নাছিম ও ইয়াসিন গতকাল প্রথম আলোকে জানায়, তারা ওই বেড়া তুলে ফেলে দেয়। এর পরপরই গোলাম মোস্তফা মোড়ল তাদের ধরে নিয়ে এসে প্রথমে দুই হাত বেঁধে তাঁর বাড়ির ভেতরে নিয়ে যান। পরে শিকল দিয়ে পা বেঁধে ও সারা শরীর দড়ি দিয়ে পেঁচিয়ে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন। সকাল সাতটা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তাদের বেঁধে রাখা হয়। এ সময় পানি চাইলেও দেওয়া হয়নি।
দুজনই জানায়, পানি খেতে চাইলে পচা শামুক তাদের মুখের মধ্যে ভরে দেওয়া হয়। তাদের মারধরও করা হয়।

ওই দিন (১৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দুই শিশুর নির্যাতনের ঘটনা জানতে পেরে নাছিমের দাদি সবজান্নেছা যান গোলাম মোস্তফার বাড়িতে। তিনি শিশুদের ছেড়ে দিতে অনুরোধ করেন। সবজান্নেছা বলেন, ‘এ সময় গোলাম মোস্তফার স্ত্রী মাহফুজা মারধর করে আমাকে মাটিতে ফেলে দেয়। পরে নাছিমের মা এসে কান্নাকাটি করার একপর্যায়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গোলাম মোস্তফা মোড়লের ছেলে গোলাম হোসেন তাদের বাঁধন খুলে দিয়ে গালিগালাজ করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।’
জানতে চাইলে গোলাম মোস্তফা মোড়ল বলেন, ‘বর্ষার সময় লোকজন চলাচল করলে সড়ক নষ্ট হয়ে যাবে এ কারণে বেড়া দিয়ে রেখেছিলাম। ওই ছেলে দুটো দুষ্টামি করে বেড়া তুলে দেওয়ায় বেঁধে রেখেছিলাম। মারধর করিনি।’

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনামুল হক জানান, গতকাল এ বিষয়টি জানতে পারার পরপরই গোলাম মোস্তফা মোড়লকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিশু নাছিমের পিতা আবদুল হামিদ তরফদার বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন।
http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article/582736/%E0%A6%A6%E0%A7%81%...

১২ লাখ টাকায় কামরুলকে ছেড়ে দেয় পুলিশ!

http://www.amadershomoys.com/newsite/2015/07/14/348693.htm#.VaRnS_lViko
আমাদের সময়.কম : ১৪/০৭/২০১৫
ডেস্ক রিপোর্ট : রফা হয়েছিল ১২ লাখ টাকায় । ৬ লাখ টাকা সাথে সাথে দেওয়া হয়। বাকী টাকা সৌদি আরব পৌছে দেওয়ার কথা ছিল। এ কারণে কামরুল ইসলামকে মামলার প্রধান আসামী করেননি এস আই আমিনুল ইসলাম। প্রধান আসামী করা হয় অন্য জনকে। প্রথমে দুই জনকেই ধরে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছিল। অর্থের লেনদেনের মাধ্যমে কামরুলকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাত হিসেবে মামলা করে।ভিডিওতে শিশু রাজন হত্যার সঙ্গে জড়িত লাঠি হাতে কালো টি-শার্ট পরা যার ছবি দেখা যায় সেই কামরুল। প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে পুলিশ বাদী হয়ে করা মামলার অভিযোগকারী জালালাবাদ থানার এসআই আমিনুল ইসলাম প্রধান আসামি করেন মুহিত আলমকে। যে পেশায় একজন মাইক্রোবাসের চালক এবং রাজনের লাশ তার গাড়িতে করে নদীতে ফেলে দেয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিল।
সিলেট জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুজ্জামান পাপলু বলেন, স্থানীয় জনগণ দুপুর ১২টায় রাজনের লাশ এবং মুহিত-কামরুলকে ধরে এসআই আমিনুলের কাছে হস্তান্তর করে। গাড়ির চালক মুহিত আলম সবকিছু তাদের খুলে বলে নাই এটা বিশ্বাস করি না। এমনকি মুহিত আলম রাজনকে চিনতো। ভালো করে চিনত তার বাবাকেও। কিন্তু এসআই আমিনুল জনগণের সাহায্য পাওয়ার পরও রাজনের লাশ বেওয়ারীশ হিসেবে মর্গে পাঠিয়ে দেয়। পাপলু আরও জানান, রাজনের বাবা ছেলেকে সারাদিন খুঁজতে খুঁজতে রাত ১০টায় থানায় জিডি করতে গেলে খবর পান ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশের কাছে মুহিত-কামরুল আটক থাকার পরও কামরুলকে ছেড়ে দেওয়া এবং বেওয়ারীশ হিসেবে রাজনকে মর্গে দেয়া একটা বিষয়কেই ইঙ্গিত করে। তা হলো অনৈতিক লেনদেন।

জালালাবাদ থানার ওসি আক্তার হোসেন এ বিষয়ে সোমবার রাতে বলেন, সেদিন আমি স্টেশনে ছিলাম না। যার ফলে কি হয়েছে পুরো বলতে পারব না। তবে এরকম একটি অভিযোগ শুনতে পাচ্ছি। কেউ যদি এ বিষয়ে কোন অভিযোগ করেন তবে আমরা তদন্ত করব। তিন আরো জানান, মামলাটি এখন তদন্ত করছেন ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন। লন্ডন বাংলা নিউজ

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla