Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

অপরাধ ও শাস্তি, বাংলাদেশ পুলিশ ষ্টাইল

Bangladesh Police
ওরা আইনের লোক। রাষ্ট্র ও সমাজ কর্তৃক ছাড়পত্র দেয়া তাবৎ আইনের হেফাজতকারী ওরা। ওরা পুলিশ। বাংলাদেশী পুলিশ। বিশ্ব পুলিশ সমাজকে উচ্ছিষ্টতার কাতারে দাঁড় করালে দেশীয় পুলিশদের অবস্থান কত নাম্বারে ঠাঁই পাবে তা নির্ণয় করতে খুব একটা গবেষণার প্রয়োজন হবে বলে মন হয়না। রাজনীতিবিদদের মত ওরাও আপন মহিমায় ভাস্বর এবং এক নাগাড়ে বহুবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার যোগ্যতা রাখে। বলা চলে একে অপরের পরিপূরক। নড়বড়ে শরীর, কোটারা হতে আধা বেরিয়ে আসা চোখ, কাঁধে প্রাগৈতিহাসিক ৩০৩ রাইফেল আর চোখ মুখে অন্তহীন ক্ষুধা, দেশীয় পুলিশের এমন একটা ছবির সাথেই আমরা বেড়ে উঠি। ’হাকিম নড়ে তো হুকুম নড়ে না’ প্রচলিত এ প্রবাদবাক্যের আদলে বলা যায়, ’পুলিশ বদলায়, কিন্তু পুলিশের চরিত্র বদলায় না’।

কাহিনীটায় নতুনত্ব নেই। বাংলাদেশের জেলা-উপজেলা, শহর-বন্দর, গ্রাম-গঞ্জ আর পথে-প্রান্তরে প্রতিনিয়ত জন্ম নিচ্ছে এ কাহিনী। ফাঁক ফোকর গলে দু একটা মিডিয়াতে ঠাঁই পেলেও বেশিরভাগ চাপা পরে যাচ্ছে পুলিশ আর সাংবাদিকতার অবৈধ মিলনের ফসল হয়ে। ৪২ বছর বয়স্ক পরিবহন কর্মী মজিবর রহমানের লাশ পাওয়া গেল রাজধানীর তুরাগ নদীতে। কে বা কারা তাকে হত্যা করে ভাসিয়ে দিয়েছে বর্ষার ভরা নদীতে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নদীতে ভাসমান লাশ সপ্তাশ্চর্যের আশ্চর্য কোন বিষয় নয়। মানুষের জন্ম-মৃত্যু এ দেশে এক লিটার দুধের চাইতেও সস্তা, এক কাপ চায়ের চাইতেও সহজলভ্য। বাবা মজিবরের সাথে সাত বছরের পুত্র ইকবাল বাজারে গিয়েছিল ফুটবল কিনবে বলে। ছেলের বায়না মেটাতে মেলারটেক ঘাটে আসতেই পুলিশ ধরে নিয়ে যায় মজিবরকে। এলাকাবাসীর সামনে পুত্র ইকবালের বক্তব্য হুবহু তুলে ধরলেই হয়ত ফুটে উঠবে ঘটনার নির্মমতা। ‘ফুটবল কিনতে বাইরাইছি। ঘাটে আব্বুরে আইসা ধরছে ওরা। ছয়জন ছিল। হ্যান্ডকাপ পরাইছে। এরপর আব্বুরে ঘুষাইছে। লাইত্থাইছে, বুকের ওপর খ্যাচসে, পানিতে চুবাইছে। গলায় রশি বাইন্দা টানছে। বন্দুক দিয়াও মারছে। কইতাছিল ট্যাকা দে। আব্বু কয় ট্যাকা নাই। তারপর আব্বুরে নৌকায় উঠাইছে। আব্বু পানিতে পইড়া গেছিল। আমি ভয়ে দৌড় দিয়া নানা বাড়ি গেছি’। এরপর আর বাবার দেখা পায়নি ইকবাল। পরদিন তুরাগ নদীতে ভেসে উঠে পিতার লাশ।

মিরপুর পুলিশ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপকমিশনার মোহম্মদ জাহাঙ্গির আলম মজিবর রহমানের মৃত্যু নিয়ে সাত বছর বয়স্ক পুত্রের বক্তব্য খণ্ডাতে গিয়ে যা বললেন তাও হুবহু তুলে ধরলে কিছুটা হলেও ফুটে উঠবে আমাদের পুলিশ বাহিনীর শৌর্য বীর্য। ’সাত বছর হোক আর পাঁচ বছরই হোক, তার কথা বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই। তারা ছোট থেকেই ক্রাইমের সংগে থাকতে থাকতে সে রকম হয়ে যায়’। তারা বলতে এখানে পুত্র ইকবালকে বুঝানো হয়েছে নিশ্চয়। উপকমিশনারের ভাষ্য বিশ্বাস করলে আমাদের মানতে হবে অপ্রাপ্ত বয়স্ক ইকবালরা ক্রাইমের সাথে বেড়ে উঠে আর পুলিশ বাহিনী বেড়ে উঠে সততার নোনাজলে! হতে পারে বাস কাউন্টারের কর্মচারী মজিবর ক্রিমিনাল, হতে পারে সে মাদক বিক্রেতা। আমরা এমন একটা সমাজে বাস করি যেখানে প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী হতে শুরু সবাই চোর। এমন একটা সমাজ নিয়েই বাংলাদেশর বাস যেখানে অন্যায়, অবিচার আর অনাচারের অবাধ রাজত্ব। এমন সমাজে একজন মাদকসেবী আর মাদক ব্যবসায়ীর উত্থানের দায় দায়িত্ব নিতে হবে রাষ্ট্রকেই।

আমাদের পুলিশ সেই পুলিশ যারা পতিতার আচল হতে ১০ টাকা পর্যন্ত কেড়ে নেয় অধিকার ভেবে। তারা সেই পুলিশ যারা টাকার জন্যে ভিক্ষুককে পর্যন্ত হয়রানি করতে দ্বিধা করেনা। চাঁদাবাজির পাশাপাশি নিজেদের অস্ত্র পর্যন্ত ভাড়া খাটায় এসব বেজন্মার দল। নিজেরাই রক্ষক, নিজেরাই ভক্ষক, নিজেরাই বাদী আর বিবাদী সেজে সমাজকে নষ্ট করায় মূল ভূমিকা রাখে আমাদের পুলিশ বাহিনী। মজিবর হত্যার বিচার হয়ত কোনদিনই সম্ভব হবে না, কারণ বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর খুঁটির জোড় বেজায় শক্ত। কিন্তু এ নিয়ে কথা না বলা হবে আরও বেশি অন্যায়।

Comments

'নিরাপত্তা হেফাজতে মৃত্যুর শাস্তি হওয়া উচিত ফাঁসি'

Tuesday, 20 July 2010

স্টাফ রিপোর্টার: নিরাপত্তা হেফাজতে মৃত্যু নিয়ে কঠোর মনোভাব ব্যক্ত করেছে হাইকোর্ট। হত্যার দায়ে অন্যদের জেল হলে পুলিশের ফাঁসি হওয়া উচিত- মন্তব্য করেছে সর্বোচ্চ আদালত। রাজধানীতে পুলিশি হেফাজতে তিন ব্যক্তির নিহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশের ৬ সদস্য হাজিরা দিতে গেলে গতকাল হাইকোর্ট আরও বলেছে, জনগণের করের টাকায় পুলিশ চলে।
পুলিশের দায়িত্ব জনগণের নিরাপত্তা দেয়া। অথচ তারা জনগণের প্রতি দায়িত্ব পালন করে না। নিরাপত্তা হেফাজতে মৃত্যু সহ্য করা হবে না। মানবাধিকার বিষয়ে পুলিশের জন্য ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা চাই নিরাপত্তা হেফাজতে মৃত্যু যেন ইতিহাসের বিষয়ে পরিণত হয়। আর যেন এ ধরনের মৃত্যু না ঘটে। বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি শেখ জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন। হাইকোর্ট একই সঙ্গে বাবুল গাজী নামে এক ব্যক্তির নিহত হওয়ার ঘটনায় ব্যাখ্যা দেয়ার জন্য রমনা থানার ওসিকে আগামী ১৯শে আগস্ট হাজির হতে বলেছে। একই দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক প্রদীপ বিশ্বাসকেও হাজির হতে বলা হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তা হেফাজতে নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা আগামী ৩রা আগস্টের মধ্যে এফিডেভিট আকারে জানানোর জন্য ঢাকার পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। হাইকোর্টের আগের নির্দেশ অনুযায়ী গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সাব-ইন্সপেক্টর আনিসুর রহমান, দারুস সালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সাব-ইন্সপেক্টর মাসুদুর রহমান, সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর সাঈদ, হেকমতউল্লাহ ও মশিউর গতকাল সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে হাইকোর্টে হাজির হন। দুপুর ১টা পর্যন্ত তারা আদালতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল এম কে রহমান, রিট আবেদনকারীদের পক্ষে মনজিল মোরসেদ ও এলিনা খান এবং এমিকাস কিউরি হিসেবে ইউসুফ হোসেন হুমায়ন উপস্থিত ছিলেন। হাইকোর্ট আরও মন্তব্য করে, পুলিশ মনে করে অপরাধ করলে বেঁচে যাবে। এটা ভুলে যেতে হবে। তাদের দায়িত্ব মানুষকে রক্ষা করা। পুলিশি হেফাজতে বাবুল গাজী নিহত হওয়ার ঘটনায় সুরতহাল রিপোর্ট নিয়েও মন্তব্য করেছে হাইকোর্ট। ডা. প্রদীপ বিশ্বাস সুরতহাল রিপোর্টে লিখেছেন, দুর্ঘটনাজনিত কারণে বাবুল গাজী নিহত হয়েছেন। এ রিপোর্টের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে আদালত। আদালত বলেন, এ রিপোর্ট আমরা দেখলাম। তাকেও ছাড়া হবে না। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। পরে মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, রমনা থানার ওসিকে হাইকোর্টে তলব করা হয়েছে। একই সঙ্গে আজ হাজির হওয়া ছয় পুলিশকেও আগামী ১৯শে আগস্ট হাজির হতে হবে। অন্যদিকে অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল এম কে রহমান বলেন, নিরাপত্তা হেফাজতে মৃত্যু সরকারও সমর্থন করে না। এসব ঘটনা তদন্তের জন্য সরকার এরই মধ্যে কমিটি গঠন করেছে। কমিটি নিরাপত্তা হেফাজতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করবে। গত ৩০শে জুন মিজানুর রহমান, ২৮শে জুন বাবুল গাজী ও ১লা জুলাই মজিবুর রহমান পুলিশি হেফাজতে মারা যায়। এসব ঘটনার তদন্ত ও সার্বিক বিষয়ে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের সেক্রেটারি আসাদুজ্জামান ও বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন এলিনা খান হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। গত ৫ই জুলাই এ ব্যাপারে রুল জারি করেছিল হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ছয় পুলিশ সদস্যকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।
http://202.79.16.19/index.php?option=com_content&task=view&id=5112&Itemid=1

পুলিশ হেফাজতে আরেক আসামির মৃত্যু

Sun, Jul 11th, 2010 1:09 pm BdST

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, জুলাই ১১ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- রাজধানীতে পুলিশ হেফাজতে চারজনের মৃত্যুর পর এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে আরেকজনের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নিহত রিকশা চালক নুরুল হকের (৪৫) বাড়ি নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকুট গ্রামে।

পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তারের পর নুরুল হক শ্বাসকষ্টজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে মারা যায়। তবে নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, গ্রেপ্তারের পর পুলিশের নির্যাতনে তার মৃত্যু হয়েছে।

নুরুল হকের চাচাতো ভাই মো. ফারুক মিয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "গ্রেপ্তারের পরপরই আমার ভাইকে বেদম প্রহার করা হয়। এক পর্যায়ে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যায়।"

নবীনগর থানার ওসি রুপক সাহা সাংবাদিকদের জানান, নুরুল হকের বিরুদ্ধে জুয়া খেলা ও সংঘর্ষ সংক্রান্ত দুটি মামলা ছিলো।

তিনি বলেন, "রোববার ভোররাতে নবীনগর থানার শিবপুর ফাঁড়ির পুলিশ বিদ্যাকুট গ্রামে অভিযান চালিয়ে নুরুল হককে গ্রেপ্তার করে। এর পরপরই তিনি শ্বাসকষ্টজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

"গুরতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে ভোররাত ৪টার দিকে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। ভোর ৬টার দিকে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক নুরুল হককে মৃত ঘোষণা করেন।"

পুলিশ হেফাজতে নুরুল হকের মৃত্যুর ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওসমান গনিকে প্রধান করে তিন সদস্যর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মোখলেছুর রহমান।

কমিটিকে আগামী তিনদিনের মধ্যে তাদের রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।

স�প্রতি রাজধানীতে পুলিশ হেফাজতে মজিবর রহমান (৪৫), মিজানুর রহমান (৪২) ও বাবুল গাজী (৪০) নামের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে ৯ মার্চ রমনা থানায় গাড়ি চুরির মামলায় আটক জাকির হোসেন (৪৫) নামের একজন পুলিশের হেফাজতে মারা যান।

এসব ঘটনায় জনস্বার্থে দায়ের দুটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট গত ৫ জুলাই সরকারকে তদন্ত কমিটি গঠনসহ কয়েকটি নির্দেশ দিয়েছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/প্রতিনিধি/এজে/আরএ/১৪২৮ ঘ.

হত্যা মামলায় ওসিসহ ১১ পুলিশ কারাগারে

Sun, Jul 11th, 2010 5:16 pm BdST

নাটোর, জুলাই ১১ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)-'ক্রসফায়ারে'র নামে নাটোরের বামিহাল বাজারের সার ব্যবসায়ী আনছার আলী হত্যা মামলায় সিংড়া থানার তৎকালীন ওসিসহ ১১ পুলিশ সদস্যকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে জেলা দায়রা জজ আদালত।

রোববার দুপুরে আসামিরা আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালত তা না মঞ্জুর করে।

বিকালে তাদেরকে নাটোর জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

আসামিরা হলেন-সিংড়া থানার তৎকালীণ ওসি আবু বক্কার (৬২), উপপরিদর্শক প্রদ্যুৎ কর (৪৫), লিয়াকত আলী (৪৩), সহকারী উপপরিদর্শক জসিম উদ্দিন (৩৬), কনস্টেবল আছির উদ্দিন (৫২), হাফিজুর রহমান (৪২), মফিজ উদ্দিন (৩৬), আনোয়ার হোসেন (৩৮), অধির চন্দ্র (৩৫), আনসারের নায়েক আবুল কাশেম (২৬) ও সদস্য কামাল হোসেন (২৭)।

মামলায় বলা হয়, ২০০৮ সালের ২৩ জুলাই সকালে সিংড়া থানা পুলিশ বামিহাল বাজারের সার ব্যবসায়ী আনছার আলীকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। সেখানে স্বজনদের সঙ্গে তার কথাবার্তাও হয়। অথচ চারদিন পর, ২৭ জুলাই রাত ২টায় কাকিয়ানের জঙ্গলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আনছার আলীর মৃতদেহ পাওয়া যায়।

পুলিশ তার পরিবারকে জানায়, আনছার আলী 'ক্রসফায়ারে' মারা গেছেন। এ ব্যাপারে পুলিশ বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলাও দায়ের করে।

ঘটনার এক বছরেরও বেশি সময় পর নিহত আনছার আলীর বাবা রজব আলী ১৪ পুলিশ সদস্যসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

নাটোরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মাহমুদুর রহমান ২০০৯ সালের ১৮ আগষ্ট দায়ের করা মামলাটির বিচার বিভাগীয় তদন্ত করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে সিংড়া থানার তৎকালীন ওসি আবু বক্কারসহ ১২ পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় নয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।

চলতি বছরের ১০মে নাটোরের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন।

এ অবস্থায় আসামিরা হাইকোর্টে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন।

হাইকোর্ট জামিনের আবেদন না মঞ্জুর করে নাটোরের দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করার নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশ অনুযায়ী, ১১ পুলিশ সদস্য রোববার দুপুরে নাটোর দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।

তবে মামলার আসামি কনস্টেবল ওয়াদিদ হোসেন আদালতে আত্মসমর্পণ করেননি।

বাদিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জহির আজাদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "আসামিদের কারাগারে পাঠানোয় আমরা সন্তুষ্ট। আশা করছি ন্যায়বিচার পাবো।"

আগামী ২৭ জুলাই আসামিদের পক্ষে আবারো জামিন শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট লোকমান হোসেন বাদল বলেন, "বিভাগীয় তদন্তে সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।"

জানা গেছে, সিংড়া থানার তৎকালীন ওসি আবু বক্কার বর্তমানে অবসরকালীন ছুটিতে আছেন। উপপরিদর্শক প্রদ্যুৎ কর ও লিয়াকত আলী বগুড়া পুলিশে কর্মরত আছেন। সহকারি উপপরিদর্শক জসিম উদ্দিন নাটোরের লালপুর থানার আব্দুলপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত। কনস্টেবল ওয়াদিদ হোসেন ও মফিজ উদ্দিন এখনো সিংড়া থানায় কর্মরত। অনান্যরা দেশের বিভিন্ন থানায় আছেন।
http://www.bdnews24.com/bangla/details.php?cid=2&id=131124&hb=5

পুলিশদের ক্রসফায়ার করা শুরু করলে সব ঠিক হয়ে যাবে

পুলিশদের ক্রসফায়ার করা শুরু করলে সব ঠিক হয়ে যাবে

চাঁপাইনবাবগঞ্জে এএসপির বিরুদ্ধে অফিসে ডেকে পেটানোর অভিযোগ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এএসপি সিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে দুই ব্যক্তিকে অফিসে ডেকে পেটানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুই ব্যক্তিকে পরে থানায় পাঠিয়ে দিয়ে একটি 'মিথ্যা মামলায়' গ্রেপ্তারও দেখানো হয়। গতকাল শনিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এএসপির রোষানলের শিকার দুজন হলেন গোমস্তাপুর উপজেলার চৌডালা ইউনিয়নের বাগচিপাড়া গ্রামের রেজাউল করিম বুড়া ও একই উপজেলার বোয়ালিয়া বটতলা দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক গোলাম কবীর। ঘটনার প্রতিকার চেয়ে রেজাউল করিম বুড়ার বোন বেবি খাতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বরাবরে ডাকযোগে লিখিত আবেদন করেছেন।

বেবি খাতুন অভিযোগ করেন, গোমস্তাপুর উপজেলার চৌডালা সোনারপাড়ার বদিউর রহমানের ছেলে তাইফুল ইসলাম থানায় রেজাউল করিম বুড়াসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে জমিসংক্রান্ত একটি অভিযোগ দাখিল করেন। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গোমস্তাপুর থানার উপসহকারী পরিদর্শক এএসআই জাহাঙ্গীর আলম ওই ৯ জনকে সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ দেন। নোটিশ পেয়ে রেজাউল করিম তাঁর ঘনিষ্ঠজন গোলাম কবিরকে সঙ্গে নিয়ে গতকাল সকাল ৯টায় সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে যান। সেখানে দীর্ঘসময় কথোপকথনের একপর্যায়ে দুপুর ১টার দিকে সহকারী পুলিশ সুপার সিদ্দিকুর রহমান তাঁদের দুজনকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটান। এরপর তাঁদের থানায় পাঠিয়ে বদিউর রহমানের বাগান থেকে আম চুরির অভিযোগে তাৎক্ষণিক দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বেবি অভিযোগ করেন, যে মামলায় রেজাউল করিম ও গোলাম কবিরকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে সে মামলায় কথিত আম চুরির ঘটনার সময় বেলা ১১টা উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ ওই সময় তাঁরা দুজন সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ছিলেন। গোমস্তাপুর থানার ওসি জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে দুজনকে দুপুরে পাঠানো হয়। এরপর তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁদের শনিবার বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়।

এ ব্যাপারে সহকারী পুলিশ সুপার সিদ্দিকুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, 'মারধরের অভিযোগ সত্যি নয়। এমনকি তাঁদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে তা-ও আমি জানি না। তবে ওই দুজনকে আমি জিজ্ঞাসাবাদ করেছি।' স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বরাবরে পাঠানো বেবি খাতুনের লিখিত অভিযোগের অনুলিপি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পুলিশ সুপারকেও দেওয়া হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহা. জিয়াউর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'ঘটনাটি আমি শুনেছি। তবে লিখিত অভিযোগের কপিটি এখনো পাইনি। এ ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষই ব্যবস্থা নেবে।'

দৈনিক কালের কন্ঠ হতে নেয়া।

পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু নিয়ে প্রশাসনে উৎকণ্ঠা

পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু এবং উৎকোচ না দেয়ায় নির্যাতন করে হত্যা করার ঘটনা নিয়ে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করা হয়েছে। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স মনে করে এই ধরনের হত্যাকাণ্ডে পুলিশের ভাবমূর্তি জনগণের কাছে দারুণভাবে ক্ষুণœ হয়েছে। এদিকে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার মনিরুজ্জামান নিয়মানুযায়ী ছুটিতে গেলে তার পরবর্তী কর্মকর্তা অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল জলিল মণ্ডল পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সকে অভিহিত না করে ছুটিতে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে।

দুই শীর্ষ কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ প্রশাসনে স্থবিরতা চলে আসে। কোন অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শীর্ষ কর্মকর্তার নির্দেশনা প্রয়োজন হয়। গতকাল রবিবার চট্টগ্রাম মহানগরে জামায়াত-শিবিরের ভাংচুরের ঘটনা নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ব্যর্থতার চিত্র ফুটে ওঠে। গোয়েন্দা সংস্থা শীর্ষ প্রশাসনকে এই পরিস্থিতি সম্পর্কে অভিহিত করেছে। বিনা অনুমতিতে ছুটিতে যাওয়ায় চট্টগ্রাম মহানগর অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আব্দুল জলিল মণ্ডলকে প্রত্যাহার করে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে ন্যস্ত করার এবং তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়।

পুলিশের আইজি নূর মেহাম্মদ বলেছেন, পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু কিংবা উৎকোচ না দেয়ায় নানা অজুহাত দেখিয়ে হত্যা করার ঘটনার সঙ্গে জড়িত পুলিশের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। অপরাধ করলে আইন অনুযায়ী অপরাধীকে গ্রেফতার এবং সাজা দেয়া হবে। সন্ত্রাসীদের ধরতে গেলে তখন সন্ত্রাসীরা পুলিশের প্রতি গুলি ছুঁড়লে আত্মরক্ষার জন্য পুলিশও পাল্টা গুলি ছোঁড়ে। সে ক্ষেত্রে কোন অঘটন ঘটতে পারে। কিন্তু নিরীহ মানুষকে থানায় ধরে নিয়ে কিংবা মামলা তদন্তের নামে বাদী-বিবাদী উভয়ের কাছ থেকে উৎকোচ আদায়, চাহিদা মত ঘুষ না দিলে হয়রানি ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের চাকরি থেকে তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হবে বলে আইজিপি জানান।

মিজানুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে গুলশান থানার এসআই আনিসুর রহমান ধরে এনে দুইদিন থানা হাজতে রেখে দেন। পরদিন রাতে অভিযানের নামে গুলশান-বনানী সংযোগ সেতুর কাছে নিয়ে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে তার স্ত্রী তাসলিমা বেগম দাবি করেন। গুলশান থানার ওসি কামাল হোসেন বলেন, মিজানুর রহমানসহ ৫ জনকে ছিনতাইকালে একটি এলিয়ন কারসহ গ্রেফতার করার সময় তারা পুলিশকে গুলি করে। পুলিশ আত্মরক্ষার জন্য পাল্টা গুলি ছোঁড়ে। ঐ সময় মিজান গুলিবিদ্ধ হন। মিজান নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ ও বর্তমানে চিকিৎসাধীন মানিক জানান, ঘটনার দুইদিন আগে গত মঙ্গলবার ভোরে পুলিশ মিজান ও আহত মানিকসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করে। গত বুধবার দিবাগত রাত দেড়টায় তাদের গুলি করে বলে আহত মানিক জানান। নিহত মিজানের স্ত্রী গুলশান এক নম্বরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তার বাসায় মাসিক তিন হাজার টাকা বেতনে গৃহ পরিচারিকার কাজ করেন। নিহত মিজান ব্যবসায়ী হলে তার স্ত্রী অন্যের বাসার গৃহপরিচারিকার কাজ করার বিষয়টিকে রহস্যজনক বলে মনে করা হচ্ছে। পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে। এই ঘটনায় দায়ী পুলিশের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আইজিপি জানান।

গাবতলীর পরিবহন শ্রমিক পাংকু মজিবুরকে ধরে নিয়ে দারুস সালাম থানার পুলিশ পিটিয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশের তিন এসআই ও একজন পুলিশ সোর্স পাংকু মজিবুরকে ধরে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে নৌকাযোগে তুরাগ নদীতে ফেলে দেয় বলে তার পরিবার দাবি করে। তিন এসআই ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করলে পাং মজিবুর ৭ হাজার টাকা দেয়। বাকি টাকা না দেয়ায় পাংকু মজিবুরকে ঐ তিন এসআই ও সোর্সের হাতে প্রাণ হারাতে হয় বলে তার আত্মীয়-স্বজনরা দাবি করেন। এই ঘটনা সম্পর্কে থানার ওসি ও শীর্ষ কর্মকর্তারা জানতেন না বলে তারা জানান। পাংকু মজিবরের ঘটনায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে।

গত ২৯ জুন রাজধানীর নয়াটোলা থেকে এসআই আলতাব মো. বাবুল গাজী নামে এক ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে যায়। তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন ও মাথায় আঘাত করলে বাবুল গাজী নিহত হন বলে তার স্ত্রী অভিযোগ করেন। এই হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তার স্ত্রী শোভা আক্তার বলেন, তার স্বামী সিএনজি ব্যবসায়ী। গাজীপুরের একটি ভুয়া নম্বর দিয়ে গাড়ী চালানোর অভিযোগে তার চালককে গ্রেফতার করা হয়। তাকে ছাড়ার জন্য এসআই আলতাব ২ লাখ টাকা দাবি করেন। বাবুল গাজী দুই দফা ৭০ হাজার টাকা এসআই আলতাবকে দেন। বাকি টাকা না দেয়ায় বাবুল গাজীকে এসআই আলতাব হত্যা করেন বলে তার স্ত্রী অভিযোগ করেন।

গত মার্চ ও এপ্রিল মাসে র‌্যাব পরিচয়ে রাজধানীতে ৭ জনকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তাদের ভাগ্যে কি ঘটেছে আজও পর্যন্ত তাদের স্ত্রী সন্তান ও পিতামাতা জানতে পারেনি। তারা আদৌ বেঁচে আছে কিনা মারা গেছে- কেউ বলতে পারে না। আত্মীয়-স্বজন পুলিশ র‌্যাবসহ সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজ-খবর নিয়েছেন। এই ধরনের রহস্যজনক নিখোঁজ কিংবা হত্যাকাণ্ড দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য মারাত্মক হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে অপরাধ দমন করা হলে পরে নিরপরাধ লোকজনই এ ধরনের ঘটনার শিকার হবে বেশি। এই ধরনের রহস্যজনক নিখোঁজ, অপহরণ কিংবা গুপ্ত হত্যা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মেনে নিতে পারে না বলে শীর্ষ কমকর্তারা জানান। এক শ্রেণীর অর্থলোভী কিংবা সরকার বিরোধী পুলিশ কর্মকর্তা অথবা অন্য সংস্থায় নিয়োজিত কর্মকর্তারা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে শীর্ষ কর্মকর্তাদের ধারণা। এই শ্রেণীর অর্থলোভীরা এভাবে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্যে লিপ্ত। তারা হত্যা ও নির্যাতন চালিয়ে আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি অবনতি ঘটিয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে চায় বলে কয়েকজন কর্মকর্তা অভিমত ব্যক্ত করেন। তারা যে সরকার ক্ষমতায় আসে, সেই সরকারের দলীয় নেতাকর্মী বনে যায়। বর্তমানে ঐ সকল দুর্নীতিবাজ ও সরকার বিরোধী পুলিশ কর্মকর্তা নব্য আওয়ামী লীগার হয়ে রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বদলি হয়ে লাখ লাখ টাকার উৎকোচ বাণিজ্য করে যাচ্ছে। আর নিষ্ঠাবান ও সৎ পুলিশ কর্মকর্তারা অসহায় অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। দুর্নীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তাদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হলেও সমগ্র পুলিশ প্রশাসনে তাদের প্রভাব পড়ে বেশি বলে শীর্ষ কর্মকর্তা জানান।

র‌্যাবের মহাপরিচালক হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, র‌্যাব গুপ্ত হত্যা কিংবা নিরাপরাধ লোককে ধরে নিয়ে নির্যাতন করে না। তবে এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তাকে কোন অবস্থায় ছাড় দেয়া হবে না। সন্ত্রাসী ধরতে গেলে র‌্যাবের ওপর গুলিবর্ষণ করলে কিংবা হামলা চালালে র‌্যাব আত্মরক্ষার জন্য পাল্টা গুলিবর্ষণ করতে পারে। তখন কোন অঘটন ঘটতে পারে বলে মহাপরিচালক জানান।

টাকার জন্য পুলিশ বেপরোয়া

হঠাৎ করেই টাকার জন্য বেপরোয়া হয়ে পড়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যরা। সম্প্রতি রাজধানীতে পুলিশের হেফাজতে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবগুলো ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে চাহিদামত টাকা না পেয়ে পুলিশ পিটিয়ে বা গুলি করে হত্যা করেছে। সর্বশেষ দারুস সালাম থানা এলাকায় নিহত মজিবর রহমানের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ আরো ভয়াবহ। পুলিশ তাকে হাতকড়া লাগিয়ে ও গলায় বেল্ট পেঁচিয়ে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ পানিতে ফেলে দেয়। এরপর অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলে থানা থেকে পুলিশ সদস্যদের বাদ দিয়ে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গতকাল শনিবার রাজধানীর ৪১টি থানার অফিসার ইনচার্জদের (ওসি) নিয়ে বৈঠক করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার এ কে এম শহিদুল হক। থানার ওসিদের আরো সংযত হওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেছেন, কোন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে টাকার জন্য কাউকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি ওসিদের ওপর ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার এ কে এম শহিদুল হক ইত্তেফাককে বলেন, নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে তার কাছে কোন অভিযোগ আসেনি। কিন্তু তারপরও পত্রিকায় রিপোর্ট দেখে সবগুলো ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন তিনি। এসব কমিটির রিপোর্ট পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অবশ্যই কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পুরো পুলিশ বিভাগকে অভিযুক্ত করা ঠিক হবে না।

সর্বশেষ গত শুক্রবার সকালে পরিবহন শ্রমিক মজিবর রহমানের (৪২) লাশ তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। মজিবরের সাত বছরের ছেলে ইকবাল হোসেনের সামনে থেকে পুলিশ সদস্যরা তাকে আটক করে। ছেলের সামনেই পুলিশ সদস্যরা তার হাতে হাতকড়া লাগায়। গলায় বেল্ট পেঁচিয়ে পেটাতে থাকে। এক পর্যায়ে অচেতন হয়ে পড়লে তাকে নৌকায় তুলে তুরাগ নদে ফেলে দেয় পুলিশ সদস্যরা। নিহতের ভাই জাকির হোসেন অভিযোগ করেন, গত বুধবার দুপুরে দারুস সালাম থানার একজন এস আই তার বাবার কাছে মজিবরকে না ধরার জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। এক সপ্তাহ আগেও পুলিশকে সাত হাজার টাকা দিয়ে গ্রেফতার এড়িয়েছেন মজিবর। মজিবরকে ধরিয়ে না দিলে তার সব ভাইকে ধরে নিয়ে যাওয়া হবে বলে ওই এসআই তার বাবাকে হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন জাকির হোসেন।

মজিবরের লাশ উদ্ধারের পর দেখা গেছে, লাশের গলায় কালচে দাগ, পিঠে ও কোমরে আঘাতের চিহ্ন। মজিবরের হাতে হাতকড়ার চিহ্ন ও গলায় বেল্ট লাগানোর চিহ্ন পাওয়া গেছে। মজিবরের আরেক ভাই জাহাঙ্গীর হোসেনের অভিযোগ, এ এলাকায় পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করে মুহিবুল, নয়ন, কাজল ও আসলাম। গাবতলীতে যাত্রী ডাকার কাজ করে এমন কয়েকজনকে ধরিয়ে দেয়া নিয়ে এই সোর্সদের

সঙ্গে মজিবরের ঝগড়া হয়। পুলিশকে টাকা না দেয়া এবং সোর্সদের সঙ্গে ঝগড়ার কারণেই মজিবরকে খুন করা হয়েছে। পুলিশের সোর্স মুহিবুল, নয়ন, কাজলসহ দারুস সালাম থানার পুলিশের বৃহস্পতিবার রাত্রিকালীন দায়িত্বে নিয়োজিত কয়েকজন কর্মকর্তা ও সদস্য মিলে মজিবরকে খুন করেছে বলে দাবি করেন মজিবরের পরিবারের সদস্যরা।

শুক্রবার লাশ উদ্ধারের পর নিহত মজিবরের বাবা ইব্রাহিম অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলে থানা থেকে পুলিশ সদস্যদের বাদ দিয়ে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাতেই পুলিশ মুহিবুল ও কাজলকে গ্রেফতার করে।

এই ঘটনায় ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার হুমায়ন কবিরকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মিরপুরের ডিবি সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর ও মোহাম্মদুপরের এসি আ স ম মাহাতাব উদ্দিনকে কমিটিতে রাখা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন।

গত বুধবার রাতে রাজধানীর গুলশানে পুলিশের গুলিতে মারা যান মিজানুর রহমান (৩৫)। মিজানুরের স্ত্রী তাসলিমা বেগম অভিযোগ করেন, চাহিদামত টাকা না পেয়ে গুলশান থানা পুলিশ মিজানুরকে দুইদিন হাজতে আটকে রাখে। পরে বুধবার রাতে থানা হাজত থেকে নিয়ে পায়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে। এরপরও তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়নি। রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আর পুলিশের দাবি, ছিনতাইয়ের সময় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় গোলাগুলিতে আহত হয়ে পরে মারা যান মিজান। এই ঘটনায় ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (সদর দফতর) মঞ্জুর কাদের খানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন ডিসি গুলশান এ কে এম হাফিজ আখতার ও উত্তরা জোনের এসি এস এ নেওয়াজী। কমিটিকে ১০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার।

এর আগে গত সোমবার রাতে রমনা থানার পুলিশের হেফাজতে বাবুল গাজী (৪০) নামের সিএনজিচালিত এক অটোরিকশাচালকের মৃত্যু হয়। বাবুল গাজীর স্ত্রী সুভা আক্তারের অভিযোগ, চাহিদামত টাকা না পেয়ে বাবুলকে পিটিয়ে মারা হয়েছে। যথারীতি রমনা থানার পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে দৌড়ে পালানোর সময় পড়ে গিয়ে তিনি মাথায় আঘাত পান। হাসপাতালে নেয়ার পর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এই ঘটনায় রমনা জোনের এডিসি সৈয়দ নুরুল ইসলামকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অপর সদস্য হলেন রমনার এসি মোনালিসা বেগম।

এর আগে গত ৯ মার্চ রমনা থানা হেফাজতে জাকির হোসেন (৪৫) নামে আরো একজনের মৃত্যু হয়। গাড়ি চুরির অভিযোগে তাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছিল।

এদিকে গতকাল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের জনসংযোগ দফতর থেকে সবগুলো ঘটনার ব্যাপারে ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, প্রতিটি ক্ষেত্রে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ। অভিযোগের বিষয় অনুসন্ধানের লক্ষ্যে তিনটি ঘটনার ক্ষেত্রেই ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ হতে পৃথক পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে কোন পুলিশ সদস্যের বিধি বহির্ভূত কার্যকলাপ, অসদাচরণ বা অসৎ উদ্দেশ্যের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় বিভাগীয়/ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এমন অবস্থায় অতিরঞ্জিত বা অনুমাননির্ভর কোন প্রচারণা না করার জন্য সকলের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
http://ittefaq.com.bd/content/2010/07/04/all0597.htm

কেবল বাংলাদেশেই সম্ভব!

বখাটের ভয়ে নারীরা হাসপাতালছাড়া!

‘পেটে প্রচণ্ড ব্যথা নিয়ে ১ জুলাই সকালে রাঙ্গুনিয়া হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি হই। বিছানার পাশে ছিলেন মা আর ভাই। তাঁদের সামনেই বিছানায় বসে ২৬-২৭ বছরের এক যুবক জানতে চায়, বাড়ি কোথায়, নাম কী! হাত ধরে, কপালে হাত দিয়ে কষ্ট বোঝার চেষ্টা করে। স্যালাইন দেওয়ার সময় সেবিকাকে এমনভাবে শাসায় যেন তিনি আমার পরম আপনজন। এরপর প্রতি ঘণ্টায় দু-একবার এসে কপালে হাত দিয়ে জানতে চায়—কেমন লাগছে? পেটের প্রচণ্ড ব্যথার চেয়েও তার উৎপাত যে অসহ্য লাগছে, সে কথা বলার উপায় নেই। জানতে চাইলে সেবিকা বলেন, সে হাসপাতালের কেউ না, বখাটে যুবক। ভয় আরও বেড়ে যায়। যুবকটি দিনভর ঘুরে ঘুরে বিছানায় বসে গল্প করার চেষ্টা করে। আর সে কী চাহনি! ঘটনা খোলে বলার পরও সেবিকারা কিছুই করলেন না। উল্টো বললেন, বাধা দিলে বিপদ আছে। শেষ পর্যন্ত পেটে ব্যথা নিয়ে ওই দিন বিকেলেই হাসপাতাল ছাড়লাম।’ কথাগুলো চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার মুরাদনগর এলাকার হাবিবুর রহমানের মেয়ে সানজিদা খানমের (১৬)।

সম্প্রতি হাসপাতালে গিয়ে কথা হয় উপজেলার কাটাখালি গ্রামের মমতাজ বেগমের সঙ্গে (২৪)। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত চার বছরের ছেলে রাহাতকে নিয়ে হাসাপাতালে এসেছেন তিনি। ৩০ জুন বিকেলে ছেলেকে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করান। তিনি অভিযোগ করেন, ‘সেই থেকে কয়েকজন বখাটে তাঁকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করে চলেছে। বাচ্চার কী হয়েছে, বাড়ি কোথায়, ওষুধপত্র ঠিকমতো খাওয়াচ্ছি কি না, বাচ্চার বাবা কোথায়—এসব বলে উত্ত্যক্ত করেছে। একপর্যায়ে তারা আমাকে চা খাওয়ার জন্য হোটেলে যেতে বলে। বাচ্চার কষ্ট সইব, না বখাটে যুবকদের যন্ত্রণা! একপর্যায়ে রাতটা কোনোক্রমে কাটিয়ে পরের দিন সকালে ছেলেকে নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছি।’

স্থানীয় লোকজন জানান, হাসপাতালের বহির্বিভাগে বখাটেদের উৎপাত আরও বেশি। উপজেলার হাজীপাড়া গ্রামের প্রবাসী আবদুর রশিদের স্ত্রী রেহেনা আক্তার (২৩) জানান, জ্বর নিয়ে ননদের সঙ্গে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। সেখানে কয়েকজন যুবক পিছু নেয়। যুবকেরা এ সময় তাদের উদ্দেশে নানারকম অশ্লীল কথা ছুড়ে দেয়। কাউন্টারে টিকিট নিতে গেলে বখাটেরা ধাক্কাধাক্কি করে। টিকিট না নিয়ে চিকিৎসা ছাড়াই বাড়ি ফিরতে হয়।
হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, হাসপাতালে যারা বখাটেপনা করে, তাদের বেশির ভাগ স্থানীয়। অধিকাংশ বখাটে যুবক ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। হাসপাতালে প্রতিদিন কোনো না কোনো নারী তাদের হাতে লাঞ্ছিত হচ্ছে। তাদের ভয়ে অনেক নারী রোগী চিকিৎসা ছাড়াই হাসপাতাল থেকে ফিরে যাচ্ছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কর্মকর্তা বিজন কান্তি বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, ‘অবকাঠামোর অভাবে পুরো হাসপাতাল অরক্ষিত। ফলে বখাটেরা বিভিন্ন অজুহাতে হাসপাতালে ঢুকে নারী রোগীদের উত্ত্যক্ত করছে। চিকিৎসক ও সেবিকারা নিজ কাজে ব্যস্ত থাকেন। ফলে বখাটেদের ধরা সম্ভব হয় না। তবে হাসপাতালের মাসিক সভায় রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে বিষয়টি উত্থাপন করে পুলিশের অতিরিক্ত নজরদারির অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু পুলিশি নজরদারি এখনো পাওয়া যায়নি।’ ইউএনও তানভীর আজম সিদ্দিকী পুলিশি ব্যবস্থা জোরদারের আশ্বাস দিয়েছেন।
http://prothom-alo.com/detail/news/75803

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla