Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

ছোট হয়ে আসছে পৃথিবী, আওয়ামী পৃথিবী

একটা ব্যর্থ রাষ্ট্রের সীমানা হতে বাংলাদেশ নামক দেশটার অবস্থান কতটা দূরে তা মাপতে বোধহয় যন্ত্রপাতির দরকার হবেনা। চোখ কান খোলা রেখে ৩৬০ ডিগ্রী পরিধিতে তাকালে এর দূরত্ব ও নৈকট্য দুটোই অনুভব করা যাবে। অস্বাভাবিক রকম ভারী হয়ে গেছে এখানকার বাতাস। রাজনীতি ও অর্থনীতির পাশাপাশি সমাজ ও পরিবার ব্যবস্থার প্রতি ধাপে এখানে রাজত্ব করছে সীমাহীন অবক্ষয় আর নজিরবিহীন হতাশা। সরকার বলতে কেউ একজন আছে তার উপস্থিতি টের পাওয়া যায় কেবল কথায়। কথার সিফিলিসে আক্রান্ত রাজনীতির প্রভাব এখন দেশের শাসন ও বিচার ব্যবস্থায়। ‘তিনে একে তিন, তিন দ্বিগুণে ছয়, ছয় দ্বিগুণে বার‘, ছোটবেলায় উচ্চস্বরে নামতা পড়ার মত ওরা সবাই নামতা পড়ছে মুক্তিযুদ্ধ, ঘোষক আর পিতার নামে। দেশপ্রেম নামক শূন্য কলসের অর্কেস্ট্রা দিয়েও কিন্তু ঢেকে রাখা যাচ্ছে না সামাজের আসল চেহারা। এরই মধ্যে পশু নিধনের মত লাশ টুকরা নিয়ে শুরু হয়েছে বন্য প্রতিযোগিতা। দু টুকরা হতে সংখ্যাটা এরই মধ্যে দশ অতিক্রম করে গেছে। মৃত লাশকে টুকরা করা হচ্ছে রাজনৈতিক কারণে , লেনাদেনার কারণে, প্রেমের কারণে, সামান্য মোবাইল ফোনের কারণে। খবরে জানা গেল মেডিক্যাল কলেজের দুই হবু ডাক্তার তাদের বন্ধুকে টুকরা করে মাটিতে পুতে রেখে তার উপর কঁচুগাছ লাগিয়ে দিয়েছে। দুদিন আগে লঞ্চ ডুবে লাশ হল কয়েক ডজন। যে শান্তিচুক্তির জন্যে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার কথা সে ’শান্তির’ রাজ্যই এখন মৃতপুরী। এখানেও লাশ পরছে, পাশাপাশি রাজত্ব করছে ভয়, ভীতি আর সন্ত্রাস নামক নোবেলিয় বিভীষিকা। ব্যর্থ রাষ্ট্রের সংজ্ঞা বলতে কোন কিছুর অস্থিত্ব আছে কিনা জানিনা, তবে আর্থ-সামাজিক বাস্তবতার নিরিখে সমসাময়িক বাংলাদেশ হতে পারে এর নিকৃষ্টতম উদাহরণ।

মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রবক্তা খোদ মার্কিন মুলুকেও অর্থনীতি ততটা নিয়ন্ত্রণহীন নয় যতটা এক নেতার এক দেশ বাংলাদেশে। সরকারীভাবে বলা হচ্ছে এ দেশে অর্থনীতির মূল নিয়ন্ত্রক ও চালিকাশক্তি সর্বদলীয় সিন্ডিকেট। দেশের শেয়ার বাজার হতে এই সিন্ডিকেটের দল লুটে নিয়েছে বিশাল অংকের টাকা। তদন্তে ধরা পরলেও এদের নাম উচ্চারণ করতে বাধা, কারণ এরা আমাদের জামাই। দুর্দিনে এই জামাইদের পকেটের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হয় ক্ষমতার সিঁড়ি পাকা করার চুন সুরকির জন্যে। দুদিন আগে সরকার প্রধান সদম্ভে ঘোষনা দিলেন দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিঘ্নিত হলে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার। তিন দিকে ভারত আর একদিকে বঙ্গোপসাগরের বিশাল ঢেউ ডিঙ্গিয়ে তৃতীয় কোন দেশ অথবা শক্তি বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিপন্ন করতে আসবে কিনা তা সরকার প্রধানই বলতে পারবেন, তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বাদে অন্য দলের ক্ষমতায়নের অর্থ যদি স্বাধীনতা বিপন্ন হয় তা হলে সরকার প্রধানের কঠোর হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। বাংলাদেশের কোটি কোটি খেটে খাওয়া মানুষের জন্যে স্বাধীনতার মানে শুধু আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় পাঠিয়ে শেখ নামের পূজা করা নয়, বরং অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎসা, শিক্ষা সহ স্বাভাবিক জন্ম-মৃত্যু নিশ্চিত করা। মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরনে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল চরমভাবে ব্যর্থ এবং স্বাভাবিকভাবেই এর মূল্য গুনতে হবে সামনের নির্বাচনে। রুটি-হালুয়ার উচ্ছিষ্ট ছিটিয়ে কিছু মানুষকে দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করা গেলেও গোটা জাতিকে দাস বানানো যায়না, এটাই ইতিহাসের শিক্ষা।

সরকারের পররাষ্ট্রনীতিতেও নাকি অলিখিত পরিবর্তন আনা হয়েছে। ডক্টর মোহম্মদ ইউনূসের কারণে মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের সাথে সর্ম্পকের অবনতি হয়েছে এটা কোন লুকোচুরির বিষয় নয়। কদিন আগে মার্কিন সরকারের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি কোন রাখঢাক না করেই এর পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। এর বাস্তবায়নও শুরু হয়েছে ইতিমধ্যে। বলা হচ্ছে পরাষ্ট্রমন্ত্রী দিপু মনিকে যুক্তরাষ্ট্রর ভিসা দেয়া হয়নি একই কারণে। খোদ প্রধানমন্ত্রীরও এ মাসে ঐ দেশে যাওয়া কথা ছিল, কিন্তু তাতেও দেখা দিয়েছে ঘোর অনিশ্চয়তা। প্রধানমন্ত্রী রাগে ক্ষোভে রাষ্ট্রদূত সহ মার্কিন দেশের যে কোন প্রতিনিধির সাথে অসহযোগিতামূলক মনোভাব দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন। রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক জোরদার করার উদ্যোগ নিচ্ছে শত্রুর শত্রু আমার মিত্র এ পলিসি মাথায় রেখে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে আজকের দুনিয়ায় রাশিয়া ঢাল নাই তলোয়ার নাই নিধিরাম সর্দার বৈ অন্যকিছু নয়। শেখ মুজিবের স্বপ্ন সমাজতন্ত্র এখন ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে। ১৭ কোটি মানুষ নিয়ে আস্তাকুঁড়ের দিকে পা বাড়ালে পরিণতি কতটা ভয়াবহ হবে তা দেখার জন্যে আমাদের বোধহয় কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে। ফজলুল হক আমিনীকে মাঠে ছেড়ে সরকার পশ্চিমা দুনিয়ায় যে ম্যাসেজ পাঠাতে চাচ্ছে তা বুমেরাং হয়ে ফিরে আসতে বাধ্য, কারণ সরকারের অভ্যন্তর হতেই খবর পাচার হয়ে যাচ্ছে। দইয়ে ভেজাল দেখিয়ে একজন নোবেল বিজয়ীকে আদালতের কাঠগড়ায় দাড় করাচ্ছে আর মাওলানা আমিনী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রকাশ্য হুমকি দিয়ে সদম্ভে রাজনীতির মাঠ গরম করছেন এর রহস্য বুঝতে বিদেশীদের এখন আর অসুবিধা হয়না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না গেলে দেশ মৌলবাদীদের আখড়ায় পরিনত হবে আমিনী ফ্যাক্টর দেখিয়ে বিদেশীদের কাবু করার এই নাটক দলটি ইতিপূর্বেও মঞ্চস্থ করেছিল, এ যাত্রার এর ফলাফল শূন্য। তথ্যপ্রবাহের যুগে বিদেশীদের ধোকা দেয়া খুব একটা সহজ কাজ নয়, বাংলাদেশের চোর রাজনীতিবিদদের তা বুঝার সময় এসেছে। এক কথায় ছোট হয়ে আসছে ভাওতাবাজির দুনিয়া, আওয়ামী দুনিয়া।

Comments

র‌্যাব ধ্বংসের চক্রান্ত ও জঙ্গি তৎপরতায় এক সম্পাদক জড়িত

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা অব: মে. জে. তারেক আহমেদ সিদ্দিকী বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তায় গঠিত বিশেষ বাহিনী র‌্যাবকে বিলুপ্ত করার চক্রান্ত চলছে।
তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে দেশী-বিদেশী শক্তি কাজ করছে। দেশে বিভিন্ন দল, প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির সাথে বিদেশী এনজিগুলোও এই চক্রান্তের সাথে জড়িত।’
একটি জাতীয় সংবাদপত্রের সম্পাদক ঘনিষ্ঠভাবে এ কাজে সম্পৃক্ত বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের হাতে এ ব্যাপারে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ রয়েছে, চাইলেই আমরা ওই সম্পাদককে গ্রেফতার করতে পারি।’
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তারেক আহমেদ সিদ্দিকী।
তিনি বলেন, ‘জাতীয় ওই দৈনিকের সম্পাদক জঙ্গিদের সহায়তা করছেন, জঙ্গিদের সাথে তার বৈঠক হয়েছে এমন প্রমাণও আমাদের কাছে আছে।’
তবে অব: মে. জে. তারেক আহমেদ সিদ্দিকী ওই দৈনিকটি ও এর সম্পাদকের নাম বলেননি।
‘প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের হয়রানি করতে চান না বলেই এ মুহূর্তে তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না’ বলে জানান তারেক আহমেদ।
ওই সম্পাদকের জঙ্গি সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিয়ে অধিকতর তদন্ত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তারেক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, ‘মনের তাড়নাতেই আজ আপনাদের সামনে উপস্খিত হয়েছি। র‌্যাবের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। অথচ দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার জন্যই এই বাহিনী গঠন করা হয়েছিল। ওই সময় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্খিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল যে, সন্ত্রাস দমনে এ ধরনের একটি বাহিনী গঠনের বিকল্প ছিল না।’
‘২০০৪ সাল থেকে আজ অবধি র‌্যাব একটি এলিট বাহিনী হিসেবে কাজ করছে। গঠনের পর থেকে এই বাহিনী পুলিশ, বর্ডার গার্ডসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজের বাড়তি চাপ কমিয়ে দিয়েছে’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তারেক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, ‘র‌্যাবকে নিয়ে একটি মানবাধিকার সংগঠনের বক্তব্যের পর আমি নিজে একটি জরিপ পরিচালনা করি। সাধারণ মানুষের ওপর পরিচালিত ওই জরিপে দেখা যায়, ৯৫ শতাংশ লোক মনে করে র‌্যাবের প্রয়োজন রয়েছে। তারা র‌্যাবকে একটি ‘ফেন্সন্ডলি ফোর্স’ (জনবাìধব বাহিনী) বলে মনে করে।’
তিনি আরো বলেন,‘একজন অফিসার ও সৈনিকের টেম্পারামেন্ট দেখে আমরা র‌্যাবে নিয়োগ দিয়ে থাকি। র‌্যাবে নিয়োগ পাওয়া অফিসার ও সৈনিকেরা সাহসী কিন্তু উচ্ছৃঙ্খল নয়। এত সব বিতর্কের পরও র‌্যাব কাজ করছে।’
জঙ্গি দমনে র‌্যাব সফলতা দেখিয়েছে। ‘তুমিও বাঁচো, আমিও বাঁচি’­ এমন নীতিতে অনেকেই কাজ করে থাকে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জঙ্গিদের বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দিতে রাজি নন। তিনি এদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্খান নিয়েছেন। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর ওপর হুমকিও বেড়ে গেছে।
তারেক সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি নিজে ডিজিএফআই-এ ছিলাম। তখন দেখেছি বিএনপি সরকার প্রচ্ছন্নভাবে জঙ্গিদের সমর্থন দিয়েছে। জঙ্গিরা বলত আমাদের সমর্থন দাও, আমরা দেশের ভেতরে কিছু করব না। পরে তারাই দেশে একের পর এক জঙ্গি হামলা চালিয়েছে। ’
‘বিএনপি-জামায়াত জোট আমলে র‌্যাবকে জঙ্গি দমনসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয়া হতো না।’
পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহ দমনেও র‌্যাব অতুলনীয় সফলতা দেখিয়েছে।
এত সব সাফল্য থাকতেও র‌্যাবকে নিয়ে এমনভাবে প্রচার চালানো হচ্ছে যাতে করে বহু জ্ঞানীগুণী লোকও তা বিশ্বাস করছেন। তিনি বলেন, যেকোনো ভালো কাজ করতে গেলে পরিবর্তন আসবে। আর এই পরিবর্তনে যারা ক্ষতির শিকার হচ্ছেন তারাই র‌্যাবের বিরুদ্ধে চিৎকার করছেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি একজন পত্রিকা সম্পাদকের নাম উল্লেখ না করে বলেন, ‘সত্যটা প্রকাশ করুন।’
তিনি আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নিজেও মানবাধিকারের পক্ষে। সব সময়ই তিনি মানবাধিকারের পক্ষে কথা বলেন, নির্যাতিতের পাশে থাকেন। তাই তিনি এমন কিছু করবেন না যাতে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘এমনও অনেক ঘটনা ঘটেছে যেখানে রাস্তায় পড়ে থাকা আহত সন্ত্রাসীকে উদ্ধার করে র‌্যাব হাসপাতালে নিয়ে গেছে। আর তখন বলা হয়েছে, র‌্যাব মেরে আহত করেছে।’
প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেন, ‘সব দেশেই এ ধরনের বাহিনী রয়েছে। যুক্তরাষ্টন্স নাইন-ইলেভেনের পর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি নামে একটি বাহিনী করেছে। ওই বাহিনীকে অনেক ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। ক্ষমতা দেয়া না হলে কেউ কাজ করতে পারবে না। তবে সেই সাথে জবাবদিহিতাও থাকতে হবে। আমরা র‌্যাবের জবাবদিহিতা বাড়াতে ন্যায়পাল (ওম্বুডসম্যান) নিয়োগ দিতে যাচ্ছি।
এলিট ফোর্সকে দলীয় বা রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয় না দাবি করে তিনি বলেন, ‘এটি এই সরকারের একটি বড় সফলতা।’ বেশ কিছু ব্যক্তিকে র‌্যাবের নামে ধরে নিয়ে লাশ গুম করে ফেলার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এসব লোককে খুঁজতে র‌্যাব চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যদি তাদের পাওয়া যায় তবে র‌্যাব অভিযোগ থেকে মুক্তি পাবে।
পরিসংখ্যানগত সাফল্য : সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ২০০৪-২০০৮ পর্যন্ত সময়কালে র‌্যাব ৪১ হাজার ৭২৩ জনকে আটক করে। আর বর্তমান সরকারের আড়াই বছরে আটকের সংখ্যা ছিল ৫৩ হাজার ৪৬৫ জন। ২০০৪-০৬ সময়কালে র‌্যাব দুই হাজার ৩৭৮টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে। ২০০৭-০৮ সালে উদ্ধার করা অস্ত্রের সংখ্যা ছিল দুই হাজার ৭৯০টি। বর্তমান সরকারের সময়ে অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে তিন হাজার ১৯৯টি। সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠার পর থেকে পুলিশের বাইরে র‌্যাব আট হাজারের অধিক অস্ত্র উদ্ধার করেছে।
র‌্যাব এ পর্যন্ত ১৭ লাখ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে। পর্নো সিডি উদ্ধার করেছে ১২ লাখ। অবৈধ ভিওআইপি বìধ করেছে, যা দিয়ে প্রতিদিন গড়ে দুই কোটি মিনিট কথা বলা হতো। এতে বছরে ছয় হাজার কোটি টাকার সাশ্রয় হয়েছে।
বিভিন্ন দুর্লভ পুরাকীর্তি উদ্ধার, ভেজালবিরোধী অভিযান, ভেজাল ওষুধ উদ্ধার, দূষিত রক্ত বিক্রি বìধসহ বিভিন্ন কাজে এই বাহিনী ভূমিকা রেখে চলেছে।
সন্ত্রাস দমনে ৩৪ জন নিহত : সন্ত্রাস দমন অভিযানে এ পর্যন্ত র‌্যাবের ৩৪ জন জীবন দিয়েছেন। আর বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত থাকার কারণে র‌্যাবের এক হাজার ১৪৭ জনকে বিভিন্ন ধরনের শাস্তি দেয়া হয়েছে। জেলে পাঠানো হয়েছে ১১ জনকে আর বরখাস্ত করা হয়েছে ৭৬ জন সদস্যকে।
http://www.dailynayadiganta.com/fullnews.asp?News_ID=all&sec=1

'মারছি তো কী হয়েছে, মরে তো যায়নি, পুলিশ ধরলে এ রকম কিছু খেতেই হয়

জয়দেবপুর থানা-পুলিশের নিষ্ঠুর নির্যাতন'মারছি তো কী হয়েছে, মরে তো যায়নি, পুলিশ ধরলে এ রকম কিছু খেতেই হয়' হায়দার আলী ঢাকা, শরীফ আহমেদ শামীম গাজীপুর গভীর রাত। হঠাৎ কলবেলের শব্দ। বেলকনি দিয়ে বাড়ির গেটের সামনে তাকাতেই দেখেন সাদা প্রাইভেট কারে করে চারজন লোক। হাতে তাদের অস্ত্র। নিজেকে জয়দেবপুর থানার এএসআই ইকবাল বলে প্রবেশ ফটক খুলে দিতে বলেন। কিন্তু নিরীহ শিক্ষিত পরিবারটি সিভিল পোশাক পরায় পুলিশ নাকি কাতদল_এই মনে করে গেট খুলতে চায়নি। কেন গেট খোলেনি, এই অপরাধের কারণে বাড়িতে ঢুকেই সবার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করতে করতে বেদম পেটাতে শুরু করে পরিবারের সবাইকে। এএসআই ইকবালের সঙ্গে থাকা পুলিশ সদস্যরা ঘরের মালামাল তছনছ করে গৃহকর্তা আবদুল হামিদ খানের মেধাবী ছেলে মুহিতুজ্জামানকে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন চালায়। এখনো মুহিত হাঁটাচলা করতে পারেন না।

গতকাল সরেজমিন গিয়ে কথা হয় নির্যাতিত পরিবারের সঙ্গে। মুহিতুজ্জামান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, 'প্রাইভেট কারে করে সাদা পোশাকে পুলিশ এসে গেট খুলতে বলে। আমরা ডাকাত ভেবে দরজা খুলতে একটু দেরি করি। এ কারণেই এএসআই ইকবাল আমাদের কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়ে আমার হাতে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে চুলের মুঠি ধরে বৃদ্ধ মা-বাবা, বোন ও শিশুদের সামনেই মোটা লাঠি দিয়ে বেদম পেটাতে শুরু করে। ১০ মিনিট এভাবে নির্যাতন চালানোর পর আমাকে খাটে শুইয়ে সে বুকের ওপর উঠে বুট দিয়ে পিষতে থাকে। সঙ্গে উপর্যুপরি লাঠিপেটা। এ দৃশ্য দেখে আমার অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা বাবা হামিদ খান এএসআইয়ের পায়ে ধরে কেঁদেছেন। তাতে ওই নির্দয়ের মন গলেনি।' মুহিতুজ্জামান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'নিরুপায় হয়ে মা (অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা) আমার বুকের ওপর নিজের পিঠ পেতে দিলেও নির্যাতন বন্ধ করতে পারেননি। মাকেও সে অমানুষিক নির্যাতন করে। একপর্যায়ে টেনে-হিঁচড়ে আমাকে পুলিশের গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে রশি দিয়ে দুই হাত বেঁধে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে নির্দয়ভাবে পেটায়। নির্যাতনের একপর্যায়ে প্রস্রাব-পায়খানা করে কাপড় নষ্ট করে জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। জ্ঞান ফিরলে জানতে পারি আমি হাসপাতালে।' গত ২৯ এপ্রিল রাতে গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার এএসআই ইকবাল মাহমুদের হাতে এভাবেই বর্বর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মুহিতুজ্জামান খান (৩৩)। গাজীপুর শহরের দক্ষিণ ছায়াবীথি এলাকার 'মীনা নীড়' নামের বাড়িতে মা-বাবা নিয়ে বসবাস করেন। পরিবারের অভিযোগ, এলাকাবাসীর হস্তক্ষেপে মুহিতকে ছেড়ে দিলেও নির্যাতনের বিষয়ে মুখ খুলতে নিষেধ করছিল ওই পরিবারকে। যদি এসব বিষয়ে মুখ খোলে, তাহলে আবারও নিয়ে ক্রসফায়ারের ভয়ও দেখানো হয় মুহিতকে। শুক্রবার এএসআই ইকবালের তাণ্ডব চালানোর সময় বাসায় উপস্থিত ছিলেন মুহিতের ছোট বোন কানিজ তাহমিনা খান। তিনি বলেন, 'আমরা কিছুই বলতে চাই না। এএসআই হুঁশিয়ার করে বলেছে, নির্যাতনের বিষয়ে কাউকে কিছু বললে গুলি করে মেরে ফেলবে। আমরা একমাত্র ভাইকে হারাতে চাই না।' এ সময় পরিবারের সদস্যদের চোখে-মুখে ভয় ও আতঙ্কের ছাপ দেখা গেছে।

মুহিতুজ্জামানের বড় বোন এবি ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার কানিজ ফাতিমা-তুজ-জোহরা বলেন, "এএসআই কেন এসব করেছে আমরা জানি না। তবে ছেড়ে দেওয়ার সময় বলেছে, দরজা খুলতে দেরি হওয়ার অপরাধে ধরে আনা হয়েছিল। আমার বাবার বয়স ৭০ বছর। গত সেপ্টেম্বর মাসে তাঁর হার্টে পেসমেকার লাগানো হয়েছে। এমন একজন বৃদ্ধ মানুষ পায়ে ধরে কান্নাকাটির পরও সে নির্যাতন বন্ধ তো করেইনি, বরং সবার সামনে আমার মাকে অকথ্য গালাগাল করেছে, যা মুখে আনা যায় না। আমাদের কোনো কথাই সে শুনতে চায়নি। আমার ভাই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, 'মাল কোথায় রেখেছিস' বলে পেটাতে পেটাতে থানায় নিয়ে গিয়েও নির্যাতন করেছে।" তিনি আরো বলেন, বিষয়টি জানার পর মুহিতের শ্বশুর খুলনার দিঘলিয়া থানার ওসি আবদুর রাজ্জাক জয়দেবপুর থানার ওসিকে ফোন করলে রাত সাড়ে ১২টায় অচেতন অবস্থায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।'

মুহিতুজ্জামানের বাবা পিটিআইয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রশিক্ষক আবদুল হামিদ খান (৭০) বলেন, 'আমার চার মেয়ে ও এক ছেলে, সবাই দেশের নামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়ে উচ্চপদে চাকরি করছে। মুহিত জীবনে একটা সিগারেটও খায়নি। অথচ তাকে মাদক ব্যবসায়ী বলে অমানুষিক নির্যাতন করেছে।' তিনি ওই দারোগার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

মুহিতুজ্জামানের মা পারভীন সুলতানা (৬৫) বলেন, 'দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেছি। কত অমানুষ মানুষ করেছি। কিন্তু ওর মতো অমানুষ আমি দেখিনি। এএসআই যে রকম হিংস্র আচরণ করেছে, তাতে মনে হয় আমার ছেলেকে মেরে ফেলতে পারলেই সে খুশি হতো। টেনেহিঁচড়ে গাড়িতে তোলার সময় পেছন পেছন গেলে ইকবাল বুট দিয়ে আমার পায়ের আঙুল থেঁতলে দিয়েছে।' তিনি আরো জানান, 'আমার ছেলে এমএ, এমএড ডিগ্রি নিয়ে ভালো একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছে। ঘটনার অনুমান এক ঘণ্টা আগে সে অফিস থেকে ফিরেছে।' তিনিসহ পরিবারের সবাই এ ঘটনার বিচার দাবি করে বলেন, 'দেশে কি আইন নেই? নিরপরাধ ব্যক্তিকে অমানুষিকভাবে পিটিয়ে বলবে ভুল হয়েছে। অথচ গোপাল নামের যে ব্যক্তির দোকান ও বাসা থেকে বিয়ার উদ্ধার করা হলো তাকে পেয়েও ইকবাল কেন গ্রেপ্তার করল না। তিনি আরো বলেন, গোপালকে দিয়েই তার বাসার দরজা খোলানো হলো, অথচ তাকে বা ঘরের ভেতরে থাকা কাউকেই পুলিশ গ্রেপ্তার করেনি। অভিযোগ রয়েছে, ইকবাল মাদক ব্যবসায়ী গোপালের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দিলেও মেধাবী মুহিতকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে পিটিয়ে আহত করেছে। প্রতিবেশী অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মো. আক্কাস আলীসহ আরো অনেকে জানান, পরিবারটি শিক্ষিত ও অতিভদ্র। এমন একটি পরিবারের লোকজনের ওপর যে নির্যাতন করা হয়েছে, তার বিচার না হলে মানুষের পুলিশের প্রতি ঘৃণা আরো বাড়বে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২৯ এপ্রিল রাতে শহরের রাজবাড়ী সড়কের ঢাল নামক এলাকার পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী গোপালের দোকান থেকে দুই কার্টন বিয়ার উদ্ধার করে জয়দেবপুর থানার এএসআই ইকবাল মাহমুদ। এ সময় দোকানে গোপাল (৪২) ছিল না। তার বাসা তল্লাশি করতে গেলে বাইরে থেকে গেটে তালা দেওয়া ছিল। এ সময় ওপরের তলার ভাড়াটিয়া মুহিতুজ্জামানদের গেট খুলে দিতে বলেন ইকবাল। পরবর্তী সময়ে নিচতলার ভাড়াটিয়া গোপালই দরজা খোলেন। পরে গোপালের ঘর থেকেই তিন কার্টন বিয়ার উদ্ধার করে এবং গোপালের বিরুদ্ধে থানায় একটি মাদক আইনে মামলাও হয়। কিন্তু গোপালকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেছে, শহরের মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের সঙ্গে এএসআই ইকবালের রয়েছে গভীর সম্পর্ক। ইকবাল নিজেও মাদকাসক্ত। প্রতারণার ফাঁদে ফেলে সে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের গ্রেপ্তার ও মামলার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়াই তার প্রধান কাজ।
এসএসআই ইকবাল মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে পাঁচ কার্টন বিয়ার উদ্ধারের কথা স্বীকার করেন বলেন, দরজা খুলতে দেরি করায় উত্তেজিত হয়ে চড়-থাপ্পড় দিয়েছি, পরে ছেড়ে দিয়েছি। চড়-থাপ্পড় দিলে তো মুহিতের সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন এল কোথা থেকে? এমন প্রশ্নের উত্তরে উত্তেজিত হয়ে ইকবাল বলেন, 'মারছি তো কী হয়েছে, মরে তো যায়নি, পুলিশ ধরলে এ রকম কিছু খেতেই হয়।'
জয়দেবপুর থানার ওসি এস এম কামরুজ্জামান জানান, মুহিত ভালো লোক জানতে পেরে সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে ছেড়ে দিয়েছি। পরে পা ধরে মুহিতের মা-বাবার কাছে মাফ চেয়েছে।

হাতি দিয়ে বরণ, ২৫ হাজার বোতলে বর-কনের ছবি

Photobucket
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি উপাধ্যক্ষ এমএ শহীদের বড় মেয়ে উম্মে ফারজানা ডায়নার বিয়ে পরবর্তী সংবর্ধনা রোববার তাদের গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজারের রহিমপুর ইউনিয়নের সিদ্ধেশ্বরপুর গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ ভুরিভোজে আপ্যায়িত হন। এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ঘিরে গত ক`দিন ধরে দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা দিনরাত কর্মব্যস্ত ছিলেন।

এর আগে গত ২২ এপ্রিল রাজধানী ঢাকায় জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ শহীদের বড় মেয়ে ডায়নার বিয়ে হয় বনানী চেয়ারম্যানবাড়ির বাসিন্দা একেএম নাজিব উল্যা সাব্বিরের সাথে।

বর্ণিল এ আয়োজন সফল করতে চিফ হুইপের অনুসারী ও ভক্তরা শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলায় সড়কের ধারে অসংখ্য তোরণ স্থাপন ও বর-কনেকে স্বাগত জানিয়ে ব্যানার ফেস্টুন লাগান।

রোববার বেলা ২টায় চিফ হুইপ কন্যা ডায়না ও তার বর সাব্বির কড়া নিরাপত্তায় সিদ্ধেশ্বরপুর পৌঁছলে বর্ণিল সাজে সাজানো বাছুরসহ ৫টি হাতি দিয়ে তাদের বরণ করে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

র‌্যাব-পুলিশের কড়া নিরাপত্তার সাথে অগ্নি নির্বাপক দলও উপস্থিত ছিলো এ অনুষ্ঠানে।

রোববার সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, চিফ হুইপের গ্রামের বাড়ির ভেতর ও সামনের প্রাঙ্গণে ৮টি বিশাল প্যান্ডেল তৈরি করে সামিয়ানা টানানো হয়।

তার পারিবারিক ও দলীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, অনুষ্ঠানে বিশ হাজার মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। অর্ধশতাধিক গরু ও খাসি এবং প্রচুর সংখ্যক মোরগ জবাই করা হয়।

মুসলিম, হিন্দু, মণিপুরী ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের লোকজনের জন্য পৃথকভাবে রান্না হয়।

২৫ হাজার বিশুদ্ধ পানির বোতলে বরকনের ছবি যুক্ত করে সরবরাহ করা হয়।

এ অনুষ্ঠানে শিল্পপতি সালমান এফ রহমান ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ সাংসদসহ আরও ৪/৫ জন সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

মৌলভীবাজার সার্কিট হাউজ, বিটিআরই রেস্ট হাউজ, হিড বাংলাদেশ রেস্ট হাউজ, লাউয়াছড়া বন রেস্ট হাউজ, ধলই ভ্যালি ক্লাব রেস্ট হাউজসহ এনটিসির চা বাগানগুলোর রেস্ট হাউজ ও ম্যানেজার বাংলোসহ সব ভিআইপি রেস্ট হাউজে আমন্ত্রিত ভিআইপি অতিথিদের বিশ্রামের ব্যবস্থা করা হয়।

রাজকীয় এই বিয়ে-পরবর্তী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে চিফ হুইপের দৃষ্টি কাড়তে ও খুশি করতে দলীয় নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন বিভাগীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও চাঁদা তুলে স্বর্ণালঙ্কার, ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রীসহ উপহার নিয়ে হাজির হন ভুরিভোজে।

চিফ হুইপকন্যার বিয়ে পরবর্তী এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আসা কয়েক হাজার মোটরযান নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে হিমশিম খেতে হয়।
News Source:
BanglaNews24
মন্তব্যঃ কে বলে ছোট হয়ে আসছে পৃথিবী! এ পৃথিবী অনেক বড়।

ছোট হতে ছোটতর...

99 214 97 118 98 103 154 191 120
প্রধানমন্ত্রীর কানাডা সফর রহস্যজনকভাবে বাতিল

রবিউল হক
অত্যন্ত গোপনীয়তা রক্ষা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কানাডা সফরের সব আয়োজন সম্পন্ন করা হলেও রহস্যজনকভাবে গোপনীয়তার মধ্যেই তা বাতিল করা হয়েছে। একান্তই নিজস্ব কিছু সফরসঙ্গী নিয়ে আগামী ১৮ থেকে ২১ মে তার কানাডা সফরসূচি চূড়ান্ত করা হয়েছিল। কিন্তু কি কারণে প্রধানমন্ত্রীর কানাডা সফর বাতিল করা হয়েছে সে সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের কেউই মুখ খুলতে চাইছেন না।
প্রধানমন্ত্রীর কানাডা সফর সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদেরও কিছুই জানানো হয়নি। সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের বেশকিছু কর্মকর্তাকেও তার সফরের ব্যাপারে সম্পূর্ণ বাইরে রাখা হয়েছে। এসব কর্মকর্তা শুধু শুনেছেন প্রধানমন্ত্রী কানাডা যেতে পারেন। কিন্তু কবে, কি জন্য এবং কিভাবে তিনি কানাডা যাবেন এ ব্যাপারে কিছুই জানানো হয়নি তাদের। আবার বাংলাদেশ থেকে সরাসরি নয়, জেনেভা থেকেই প্রধানমন্ত্রীর কানাডা সফরের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছিল। এজন্য জেনেভা থেকে কানাডায় যাওয়ার জন্য এয়ার কানাডার একটি ফ্লাইটও ভাড়া করা হয়। কিন্তু কি কারণে এ সফর বাতিল করা হল সে ব্যাপারে কিছুটা ওহাকিবহাল থাকলেও আত্মরক্ষার চেষ্টায় অতি সতর্ক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

কূটনৈতিক মহলের ধারণা, তিনটি কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কানাডা সফর বাতিল হতে পারে। এক. কানাডার বর্তমান সরকার হয়তো ইঙ্গিত দিয়েছেন, নূর চৌধুরীকে হস্তান্তরের ব্যাপারে এখন তারা কিছুই করতে পারবেন না। দ্বিতীয়ত. কানাডায় আগামী ২ মে সাধারণ নির্বাচন। এ কারণে কানাডা সরকার ও বিরোধী দল খুবই ব্যস্ত। এছাড়া কানাডায় নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূসের অনেক ভক্ত রয়েছেন। এই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কানাডা সফর তাদের নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন তারা। তৃতীয়ত. কানাডায় আসন্ন নির্বাচনে বর্তমান সরকার পরাজিত হওয়ার আশংকা বেশি। তাই কানাডার বর্তমান সরকারের সঙ্গে নয়, ক্ষমতা হস্তান্তরের পরে নতুন সরকারের সঙ্গেই সে দেশ থেকে নূর চৌধুরীর বহিষ্কারের ব্যাপারে আলোচনা করা অধিকতর সমীচীন হবে বলে আওয়ামী লীগ সরকার মনে করতে পারে।

জানা গেছে, জেনেভায় বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জেনেভা সফরের বিষয়টি আগে থেকেই নির্ধারিত আছে। এ সম্মেলনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী আগামী ১৬ থেকে ১৮ মে জেনেভায় অবস্থান করবেন। কিন্তু এ জেনেভা সফরসূচিতে কানাডা সফরের কোন ইঙ্গিত দেয়া হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ৯৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল জেনেভায় যাচ্ছে। কিন্তু পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও নিরাপত্তা রক্ষীসহ মাত্র ২৮ সদস্যের একটি ব্যক্তিগত প্রতিনিধি দল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কানাডা সফরসূচি চূড়ান্ত করা হয়।

সংশ্লিষ্ট মহল জানিয়েছে, বঙ্গবন্ধুর খুনি ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নূর চৌধুরীকে দেশে আনার লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রীর এ সফরসূচি সম্পর্কে অত্যন্ত গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়। নূর চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনতে কানাডার প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন হারপারের সঙ্গে বৈঠক করার কথা। বৈঠকে নূর চৌধুরীকে তৃতীয় কোন দেশে বহিষ্কারের ব্যাপারে স্টিফেন হারপারকে রাজি করানোর জন্যই প্রধানমন্ত্রীর এ সফর চূড়ান্ত করা হয়। কানাডা থেকে কোন দেশে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত কোন আসামিকে সে দেশে হস্তান্তর না করার ব্যাপারে দেশটির সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশনা রয়েছে। এ নির্দেশনার কারণেই কানাডা সরকার নূর চৌধুরীকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করতে পারছে না। নূর চৌধুরী হস্তান্তরের ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার কানাডার সরকারের কাছে একাধিকবার অনুরোধ জানিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি গত ফেব্রুয়ারিতে কানাডা সফরকালেও নূর চৌধুরীকে কানাডা থেকে তৃতীয় কোন দেশে বহিষ্কারের অনুরোধ জানান। যাতে তৃতীয় ওই দেশটি থেকে বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় নূর চৌধুরীকে দেশে আনা সম্ভব হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সেই অনুরোধও প্রত্যাখ্যান করে কানাডা সরকার। উপরন্তু কোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সেই অনুরোধে বিব্রত বোধ করে কানাডা সরকার। এর আগে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই ২০০৯ সালে আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ কানাডা সফর করেন নূর চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনতে। এ সময় আইনমন্ত্রীও কানাডার সরকারি পর্যায়ে ব্যাপক দেনদরবার করেন নূর চৌধুরীকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের ব্যাপারে। নূর চৌধুরী ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার সময় তার বুকে গুলি চালিয়েছিল বলে অভিযোগ আছে। নূর চৌধুরী বঙ্গবন্ধুকে গুলি করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। নূর চৌধুরী ১৯৯৬ সালে ভ্রমণ ভিসায় গিয়ে কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয় চান। কিন্তু কানাডা সরকার তাকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিতে রাজি না হওয়ায় তিনি আইনের আশ্রয় নেন। নূর চৌধুরী বর্তমানে কানাডা টরেন্টোয় বিলাসবহুল বাগানবাড়ি কিনে সস্ত্রীক সেখানে অবস্থান করছেন।
http://jugantor.us/enews/issue/2011/04/29/all0240.php

ছোট হয়ে আসছে পৃথিবী, আওয়ামী পৃথিবী

আপনার লেখাটি সাহস থাকলে আমার ব্লগ.কম এ দেন।

ঈশ্বরদীতে হাতের বদলে হাত

রবিবার, ২৪ এপ্রিল ২০১১

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি: ঈশ্বরদীতে হাতের বদলে হাত কর্তন করা হয়েছে। গতকাল বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ঈশ্বরদী উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের গকুলনগর এম এম জুট মিল গেট সংলগ্ন এলাকায় আওয়ামী যুবলীগের দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটে। যুবলীগের বিবদমান দুটি গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে কোন্দল চলছিল। ঘটনার সময় মুকুল গ্রুপের যুবলীগ ক্যাডার মিন্টুকে একা পেয়ে রানা গ্রুপের ক্যাডাররা ধারালো রামদা, চাইনিজ কুড়ালসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এতে তার হাত ও পায়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। ঈশ্বরদী সদর হাসপাতালে কর্তব্যরত ডাক্তার আরজিনা নাজমিন সুমি জানান, তার দুই হাতই কেটে ফেলা হতে পারে। ঈশ্বরদী থানার ওসি সামিউল আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, পূর্বের ঘটনার জের ধরে এই ঘটনা ঘটেছে। তিনি জানান, গত বছর মুকুল গ্রুপের মিন্টুর নেতৃত্বে রানা সরদার গ্রুপের স্বপন নামের এক যুবলীগ ক্যাডারের হাত কেটে নেয়া হয়। সেই মামলার চার্জশিটভুক্ত প্রধান আসামি বর্তমানে আহত মিন্টু।
http://www.mzamin.com/index.php?option=com_content&view=article&id=8045:...

রাস্ট্র, রাজনীতি ও সমাজ...ব্যর্থতার সাদা-কালো স্বরলপি...

বিষাক্ত ইনজেকশন পুশ করে রাজশাহীতে ব্যবসায়ীকে হত্যা, মেডিকেল কলেজ ছাত্র গ্রেপ্তার
শনিবার, ২৩ এপ্রিল ২০১১
আহসান হাবীব অপু, রাজশাহী থেকে: মর্মান্তিক! মর্মন্তুদ। রাজশাহীতে ব্যবসায়ী আমিনুল হকের ৯ টুকরা লাশ উদ্ধারের ৯ দিনের মাথায় গতকাল আরেক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করা হয়। রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ২ শিক্ষার্থী ১৮ দিন আগে নাটোরের ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ী রাসেলকে অপহরণের পর বিষাক্ত ইনজেকশন পুশ করে হত্যা করে। এরপর মাটি চাপা দিয়ে রাখে। ক’দিনের মধ্যে ২ ব্যবসায়ীর করুণ মৃত্যু নিয়ে রাজশাহী জুড়ে এখন আলোচনা। গতকাল রাজশাহী মেডিকেল কলেজ চত্বরের চারু মামার ক্যান্টিনের পেছন থেকে নাটোরের লালপুর এলাকার ব্যবসায়ী মাহবুব আলম রাসেলের লাশ উদ্ধার করেছে র‌্যাব। ভোরে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ৫ম বর্ষের ছাত্র জ্যোতির্ময় সরকার জয়কে আটক করা হয়। তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে গতকাল দুপুরে র‌্যাব-৫ এর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক রাকিব-উল আহসানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে রাসেলের লাশ উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত জয় হত্যাকাণ্ডের দায়িত্ব স্বীকার করে র‌্যাবকে জানায়, রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ৫ম বর্ষের ছাত্র সাব্বির হোসেনকে নিয়ে গত ৪ঠা এপ্রিল রাসেলকে তারা অপহরণ করে।
জয় হত্যাকাণ্ডের দায়িত্ব স্বীকার করে র‌্যাবকে জানায়, রাজশাহী মেডিকেল কলেজের তার সহপাঠী সাব্বির হোসেন গত ৪ঠা এপ্রিল রাসেলকে ঢাকায় যাবার নাম করে পাবনার চাটমোহর স্টেশন থেকে কৌশলে অপহরণ করে। ওই রাতেই রাসেলকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ চত্বরের চারু মামার ক্যান্টিনে নিয়ে আসে সাব্বির। সেখানে আগে থেকে ফেনসিডিল ও ঘুমের ট্যাবলেট নিয়ে অপেক্ষায় ছিল জয়। জয় ও সাব্বির মিলে ফেনসিডিলের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়াইয়ে অচেতন করার পর উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন চেতনানাশক ইনজেকশন দিয়ে রাসেলের মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর তারা ক্যান্টিনের পেছনে লাশ পুঁতে রাখে।
নিহত রাসেল এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত জয় ও সাব্বির পরস্পরের বন্ধু। রাসেল নাটোরের লালপুর উপজেলার উত্তর বাঁশবাড়িয়া গ্রামের মকবুল হোসেনের পুত্র। জ্যোতির্ময় সরকার জয় (২৫) নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার নন্দীকুজা গ্রামের জগদীশ চন্দ্র সরকারের এবং সাব্বির হোসেন (২৫) গাজীপুর জেলার কোনাবাড়ি গ্রামের শাহাদাত হোসেনের পুত্র। রাসেল তার পিতা বিডিআরের (বর্তমানে বিজিবি) অবসরপ্রাপ্ত হাবিলদার মকবুল হোসেনের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নিয়ে নাটোরের আবদুলপুর বাজারে ইলেকট্রনিক্সের ব্যবসা শুরু করে। গত বছর আইপিএল চলাকালে বাজিতে হেরে সাব্বির সাড়ে ৩ লাখ টাকা এবং জয় কঙ্কালের ব্যবসা করার জন্য দেড় লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিল রাসেলের কাছ থেকে। এই টাকার মধ্যে কিছু টাকা গত ৫ই এপ্রিল পরিশোধ করার কথা ছিল তাদের।
গ্রেপ্তারকৃত জয় জানায়, রাসেলের টাকা আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যেই তারা রাসেলকে খুন করার পরিকল্পনা করে। গতকাল লাশ উদ্ধারের সময় জয় সাংবাদিকদের জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৪ঠা এপ্রিল রাসেলকে সঙ্গে নিয়ে সাব্বির ঢাকা যাবার নাম করে পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে যাত্রা করে। ওইদিন রাসেলের পিতা আবদুলপুর স্টেশনে গিয়ে তাদের বিদায় জানায়। কিন্তু ঢাকা না গিয়ে সাব্বির কৌশলে রাসেলকে সঙ্গে নিয়ে চাটমোহর স্টেশনে ট্রেন থেকে নেমে যায়। এরপর ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী সিল্কসিটি এক্সপ্রেসে রাতে তারা রাজশাহীতে আসে। জয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজের শহীদ পিংকু হোস্টেলের ১১২ নম্বর এবং সাব্বির ১০৯ নম্বর রুমের আবাসিক ছাত্র। তারা রাসেলকে নিয়ে হলে না গিয়ে ক্যাম্পাসের চারুমামার ক্যান্টিনে যায়। এ সময় ক্যান্টিন বন্ধ ছিল। জয় ও সাব্বির সেখানে রাসেলকে নেশা ও ঘুমের ট্যাবলেট খাওয়ায়ে অচেতন করে। পরে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন চেতনানাশক ইনজেকশন দিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে। জয় জানায়, এরপর তারা রাসেলের লাশ ক্যান্টিনের পেছনে মাটি খুঁড়ে পুঁতে রাখে এবং কারো যেন দৃষ্টিতে না আসে সেজন্য গর্তের ওপর কচু গাছ লাগিয়ে দেয়।
রাসেল তিন বছর আগে রাজশাহী নগরীর ব্যবসায়ী রহমত আলীর কন্যা সৈয়দা আয়েশা খাতুনকে বিয়ে করেন। তার একমাত্র পুত্র সন্তান আরাফের বয়স ২ বছর। নিহত রাসেলের পিতা মকবুল হোসেন জানান, ৪ঠা এপ্রিল রাত ১০টার পর থেকে রাসেলের কোন খোঁজ না পেয়ে তিনি ৭ই এপ্রিল নাটোরের লালপুর থানায় জিডি করেন। এরপর তিনি ১৫ই এপ্রিল জয় ও সাব্বিরকে আসামি করে লালপুর থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন। কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে মকবুল জানান, রাসেলকে অপহরণের কয়েকদিন পর জয় আমাদের বাড়িতে এসে আমাকে ও রাসেলের মাকে সান্ত্বনা দিয়ে রাসেলকে খুঁজে বের করার প্রতিশ্রুতি দেয়। সেই জয় যে রাসেলকে খুন করবে তা তারা কল্পনাও করতে পারেননি। এর আগে গত ১০ই এপ্রিল নগরীর ধনাঢ্য ব্যবসায়ী আমিনুল হক নিখোঁজ হন। এর তিন দিন পর বোয়ালিয়া থানা থেকে মাত্র তিন শত মিটার দূরে কুমারপাড়ার একটি বাসা থেকে পুলিশ আমিনুলের ৯ টুকরো লাশ উদ্ধার এবং ২ জনকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনার ৯ দিন পর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ চত্বর থেকে গতকাল রাসেলের পুঁতে রাখা লাশ উদ্ধারের ঘটনায় নগরীর ব্যবসায়ী সমাজের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
http://www.mzamin.com/index.php?option=com_content&view=article&id=7978:...

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla