Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

'মা, তবারকের হাত অনেক বড়। তোমাদের সবাইকে সে মেরে ফেলবে'

Lack of security in Bangladesh
'মা, তবারকের হাত অনেক বড়। তোমাদের সবাইকে সে মেরে ফেলবে।' মৃত্যু শয্যায় এটাই ছিল মার সাথে মেয়ের শেষ কথা। ঢাকার পিংকি আত্মহত্যা করলেও কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার পুরুরা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী মরিয়ম আক্তার পিংকিকে (১৫) গায়ে আগুন ধরিয়ে হত্যা করে একই এলাকার তবারক হোসেন (২৫)। সোমবার এ ঘটনা ঘটে তাড়াইলের রাউতি ইউনিয়নের কুনাভাওয়াল গ্রামে। হত্যার কারণ আমাদের অতি পরিচিত, শুরুটা মহল্লার বখাটে যুবক কর্তৃক স্কুলগামী অপ্রাপ্ত বয়স্কা বালিকাকে উত্ত্যক্ত করা দিয়ে। ডালপালা গজিয়ে এই বখাটেপনা একসময় পরিণত হয় একতরফা প্রেম নিবেদনে। সহ্যের শেষ সীমায় পৌছে বালিকা সাহায্য চাইতে বাধ্য হয় পরিবারে কাছে, সমাজের কাছে। শুরু হয় ঘটনার চরম অধ্যায়। একদিকে মান-সন্মান বাঁচানোর আকুল চেষ্টা, পাশাপাশি সামাজিক অবক্ষয়ের রক্তচক্ষু। এই অসম লড়াইয়ে কার জয় হয় তা আমাদের সবার জানা। আত্মহত্যা অথবা হত্যার মধ্য দিয়ে পরিসমাপ্তি ঘটে একতরফা প্রেমের। এটাকে যদি আমাদের সমাজপতিরা সমস্যা হিসাবে স্বীকৃতি দেন তা হলে এ সমস্যা শুধু ঢাকার অথবা কিশোরগঞ্জের কিশোরী পিংকিদের নয়, এ সমস্যা বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায়, উপজেলায়, থানায়, পাড়ায়, মহল্লায়, এমনকি প্রতিটি পরিবারে। পিংকিদের মত তরুনীদের জীবন শুরু হওয়ার আগেই উদয় হয় তবারকদের, এবং ঘন্টা বাজাতে শুরু করে নতুন ট্রাজেডির।

আসুন খুব কাছ হতে দেখি কি ঘটেছিল কিশোরগঞ্জের পিংকির সাথে। তাড়াইল থানা পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, পিংকিকে স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে উত্ত্যক্ত করত ঝাড়ু মিয়ার ছেলে তবারক। একপর্যায়ে সে প্রেমের প্রস্তাব দিলে পিংকি তা প্রত্যাখ্যান করে। বিষয়টি পিংকি তার বাবা-মাকে জানায়। এতে তবারক ক্ষুব্ধ হয়। ঘটনার আগের দিন সন্ধ্যায় সে পিংকিদের বাড়িতে গিয়ে তাকে গালাগাল করে। পরদিন সকালে তবারক আবারও পিংকিদের বাড়ি যায়। মা লতিফা আক্তার পাশের বাড়িতে গিয়েছিলেন। প্রতিবেশীরা জানায়, তবারক পিংকিকে ঘরে একা পেয়ে ধমকাতে শুরু করে। একপর্যায়ে সে কুপি থেকে পিংকির মাথায় কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। প্রাণ বাঁচাতে পিংকি বাড়ির পাশের পুকুরে ঝাঁপ দেয়। আশপাশের লোকজন মারাত্মক দগ্ধ অবস্থায় তাকে পুকুর থেকে তুলে প্রথমে তাড়াইল হাসপাতালে পাঠায়। সেখান থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে পাঠানো হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। এবং এই হাসপাতালেই নিভে যায় পিংকির শেষ প্রদীপ।

যতদূর জানি আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিরোধী দলীয় নেত্রীর পদ মহিলাদের দখলে। বিশ্বের দ্বিতীয় কোন দেশে ক্ষমতার মসনদে মহিলাদের এমন একচাটিয়া প্রধান্য আছে কিনা জানা নেই, অথচ এতগুলো শক্তিশালী মহিলার নাকের ডগায় প্রতিদিন ঘটছে কিশোরী পিংকিদের এই করুণ পরিনতি। এ নিয়ে রাষ্ট্রের কোন পর্যায়েই উচ্চবাচ্য নেই, নেই সামান্যতম সহমর্মিতা। মেগা মাপের বড় বড় বিচারের ফাকে আমরা কি আশা করতে পারি এই তবারকদের বিশেষ বিচারের মাধ্যমে যথাসম্ভব দ্রুত আজরাইলের তবারক বানানো হবে?

আসুন, আরও একবার শোনার চেষ্টা করি মৃত্যু পথাযাত্রী পিংকির শেষ কথা; 'মা, তবারকের হাত অনেক বড়। সে তোমাদের সবাইকে মেরে ফেলবে"। আমাদের সমাজে কাদের হাত এত লম্বা এবং কেন এত লম্বা হয় তা কমবেশী সবার জানা আছে। পিংকিদের স্বাভাবিক জন্ম-মৃত্যর দায়িত্বে নিয়োজিত নেতা-নেত্রী, মন্ত্রী-এম্পিদের লড়াই ফ্রন্টের তৃতীয় লাইনের সৈনিক এরা। এদের হাত ধরেই এক কাপ চা আর একটা আকিজ বিড়ি মার্কা নির্বাচনী বৈতরণী পার হয়ে উনারা এম্পি, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী হয়ে থাকেন। তবারক নিজেও জানতো তাকে কেউ বেশীদিন আটকে রাখতে পারবেনা, কারণ তার হাত অনেক লম্বা।

পাঠক, আপনার নিজ ঘরে পিংকিদের বয়সের কেউ কি নীরবে নিভৃতে বেড়ে উঠছে? দেরী না করে এখনই তার সাথে কথা বলুন, খোজ নিতে শুরু করুন। দেরী হওয়ায়র আগেই চিনে নিন তবারকদের, গুড়িয়ে দিন তাদের লম্বা হাত।

Comments

ইভটিজিংয়ের বলি মেধাবী স্কুল ছাত্রী রিমা-

- চারদিনেও রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ
http://www.gournadi.com/images/stories/rima%20khanom%20gournadi%20agailj...

গৌরনদী ॥ নির্জন বাড়িতে একাকি ঘরে থাকা ষষ্ট শ্রেনীর মেধাবী ছাত্রী রিমার গলায় ওড়না পেঁচানো ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি হত্যা না আত্মহত্যা এ বিষয়ে গত চার দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও পুলিশ সুনিদৃষ্ট কোন রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। নিহত স্কুল ছাত্রী রিমার পরিবারের অভিযোগ উত্যক্তকারী বখাটেরা রিমাকে ধর্ষনের পর হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রেখেছে। অপরদিকে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালীরা বখাটেদের পক্ষ নিয়ে নানামূখী ষড়যন্ত্র শুরু করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার রাতে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার ছবিখারপাড় গ্রামে।
পুলিশ জানায়, পটুয়াখালী জেলার দুমকী উপজেলার পূর্ব কাত্তিকপাশা গ্রামের দিনমজুর আলাউদ্দিন মৃধার কন্যা রিমা আক্তার (১৩)। আগৈলঝাড়া উপজেলার ছবিখারপাড় গ্রামের মামা শরিয়াতুর রহমান জীবন তার স্ব-পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকার সুবাধে রিমা ও তার বড়ভাই আবু হানিফ মামা বাড়িতেই বসবাস করতো। রিমা আগৈলঝাড়া উপজেলার জোবারপাড় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ট শ্রেনীর ছাত্রী।
নিহত রিমার মামা শরিয়াতুর রহমান জীবন অভিযোগ করেন, রিমা স্কুলে আসা যাওয়ার পথে একই গ্রামের বখাটে শুভ্র গাইন (১৮), কমল বিশ্বাস (১৯) ও পরেশ (২২) প্রায়ই রিমাকে উত্যক্ত করত। রিমা মোবাইল ফোনে বিষয়টি তাকে জানানোর পর তিনি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বখাটেদের একাধিকবার শ্বাসিয়ে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বখাটেরা রিমার স্কুলে আসা যাওয়ার পথিমধ্যে তাকে (রিমাকে) অশ্লিল কথাবার্তাসহ মোবাইল ক্যামেরা দিয়ে একাধিকবার রিমার ছবি তোলে। এছাড়াও বখাটেরা তার ঘরের চালায় প্রায় রাতেই ইট পাটকেল নিক্ষেপ করতো। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ভাবে শালিস বৈঠকও হয়েছিলো। স্থানীয় মুদি দোকানাদার রুহুল আমিন জানান, রিমা তার দোকানের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় সম্প্রতি স্থানীয় বখাটে কমল বাড়ৈ মোবাইল ক্যামেরা দিয়ে তার (রিমার) ছবি তোলে।
রিমার ভাই আবু হানিফ জানান, ঘটনার দিন গত ১০ মে (সোমবার) সকাল ১০ টার দিকে রিমা বাড়ির সামনের খালপাড়ে গোসল করতে যায়। গোসল করে কাপর পরিবর্তনের সময় বখাটে শুভ্র গাইন ও তার সহযোগী পরেশ রিমার ছবি তোলে। বিষয়টি রিমা তাকে (হানিফকে) জানালে সে দুপুরে বখাটে শুভ্র গাইন ও তার সহযোগী পরেশকে গালমন্দ করে শ্বাশিয়ে দেয়। ওইদিন সন্ধায়ই তিনি (হানিফ) নিরজন একাকি বাড়িতে ফিরে খাটের ওপরে গলায় ওড়রা পেচানো হাটু ভাংগা অবস্থায় রিমার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায়। তিনি আরো জানান, খাটের বিছানার উপর তার ছোট বোন রিমার হাতের চুরি, কানের দুল, মাথার ব্যান্ড ও চাপা (চুলের ব্যবহৃত) ভাংগার অংশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পরাছিল। এছাড়াও ঘরের যে আড়ার সাথে রিমার লাশ ঝুলানো ছিল সে আড়া থেকে খাটের উচ্চতা সাড়ে ৪ ফুট। যেখানে রিমা দাড়ালেও ঝুলতে পারেনা। হানিফের অভিযোগ আরো জানা গেছে, তার বোন রিমাকে একাকি নিরজন বাড়িতে পেয়ে বখাটেরা ধর্ষণের পর শ্বাশরুদ্ধ করে। মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে রিমার লাশ ঘরের নিচু আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়। ঘটনার পর থেকে বখাটেরা পলাতক রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অভিযোগের ব্যাপারে অভিযুক্ত শুভ্র, কমল ও পরেশের সাথে একাধিকবার তাদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সকলের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
রিমার মামা শরিয়াতুর রহমান জীবন, মামি দীপা রহমান ও বড় ভাই আবু হানিফ অভিযোগ করেন, রিমাকে বখাটেরা ধর্ষন করে হত্যা করে ওড়না দিয়ে ঝুলিয়ে রেখেছে। রিমার মামা শরিয়াতুর রহমান জীবন অরো অভিযোগ করেন, তিনি খবর পেয়ে স্ব-পরিবারে ঢাকা থেকে এলাকায় ফিরে আগৈলঝাড়া থানা পুলিশকে ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে মামলা করতে চাইলে থানা পুলিশ মামলা নেয়নি।
মামলা না নেয়ার অভিযোগ প্রসংঙ্গে রিমার অপমৃত্যু মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস. আই মাহবুব হোসেন বলেন, কেউ মামলা করতে আসেননি। তাছাড়া হত্যার কারন কি বা ধর্ষন হয়েছে কি না সে বিষয়ে আমরা ময়না তদন্তে জানতে চেয়েছি। রিপোর্ট আসলেই তার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় ছাত্রলীগ নেতাকে হাতুরী পেটা

বুধবার, ২১ এপ্রিল ২০১০

স্কুলে যাওয়ার পথে নবম শ্রেনীর এক ছাত্রীকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় বখাটেদের হাতুরি পেটায় গুরুতর আহত হয়েছে ছাত্রলীগ নেতা জসিম উদ্দিন। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বুধবার সকালে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সীমান্তবর্তী ডিএসবি বাজারের সন্নিকটে। আহতকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্কুল ছাত্রীর পরিবার ও আহত সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মাহিলাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর ছাত্রী রোকসানা আক্তার স্কুলে যাওয়ার পথে প্রায়ই তাকে উত্যক্ত করতো শরিফাবাদ গ্রামের বখাটে মাসুম বিল্লাহ ও রুবেল হোসেন। এ ঘটনায় স্কুল ছাত্রী তার পরিবারের কাছে জানায়। পরিবারের লোকজন মাসুদ ও রুবেলের অভিভাবকদের কাছে বিচার দিলে তারা আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এ ঘটনার জেরধরে মঙ্গলবার বিকেলে ডিএসবি বাজারে স্থানীয় ৯নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন বখাটেদের শ্বাসিয়ে দেয়।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে জসিম উদ্দিন বাড়ি থেকে ডিএসবি বাজারের যাওয়ার পথিমধ্যে বখাটে মাসুদ ও রুবেলের নেতৃত্বে তাদের ১৫/২০ জন সহযোগীরা জসিমের ওপর অতর্কিত ভাবে হামলা চালিয়ে হাতুরি পেটা করে।
জসিমের আত্মচিৎকারে বাজারের লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা বীরদর্পে চলে যায়। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় জসিম উদ্দিকে উদ্ধার করে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ ঘটনায় আগৈলঝাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

বখাটের উৎপাতে গাইবান্ধায় আরেক ছাত্রীর আত্মহত্যা

বখাটের উৎপাতে এবার আত্মহত্যা করেছে গাইবান্ধার এক মাদ্রাসা ছাত্রী। গতকাল দুপুর ১টার দিকে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার নিশ্চিতপুর গ্রামের নুরিনা আক্তার (১৪) আত্মহত্যা করে বলে জানিয়েছে থানার ওসি হাসান ইমাম। পুলিশ রাত ৮টার দিকে বাড়ির একটি ঘর থেকে ওড়না দিয়ে ফাঁস দেয়া অবস্থায় নুরিনার লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। খবর: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

নুরুন্নবী মিয়ার মেয়ে নুরিনা পাাশের পলাশবাড়ী উপজেলার গিরিধারীপুর দাখিল মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল।

পরিবারের বরাত দিয়ে সাদুল্লাপুর থানার ওসি হাসান ইনাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নুরিনা আক্তারকে একই গ্রামের আবদুল গোফ্ফার মিয়ার ছেলে শাহারুল ইসলাম উত্ত্যক্ত করে আসছিল। মাদ্রাসায় যাওয়া-আসার পথে সে প্রেমের প্রস্তাব দিত। নুরিনা বিষয়টি তার বাবাকে জানালে তিনি শাহারুলের বাবা ও বড়ভাইকে তা জানান।

শাহারুল বৃহস্পতিবার বিকেলে নুরিনাদের বাড়ি গিয়ে তাকে ডেকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। এতে রাজি না হওয়ায় শাহরুল তাকে গালিগালাজ করে এবং মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে চলে যায়।

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এ ঘটনায় নুরিনার বাবা সাদুল্লাপুর থানায় মামলা (নম্বর ০৯) করেছেন।
http://www.amadershomoy.com/content/2010/04/10/news0161.htm

এবারের প্রেমের বলি ষষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্রী সুইটি

বৃহস্পতিবার, ০৮ এপ্রিল ২০১০

ভালবেসে পরিবারের সবার অজান্তে প্রেমিকের হাত ধরে এক বছর পূর্বে ঘর ছেড়েছিলো ষষ্ট শ্রেনীর মেধাবী ছাত্রী সুইটি আক্তার (১৪)। বিয়েরপর মোটামুটি ভালই কাটছিলো তাদের নবদম্পত্তির সংসার। এরইমধ্যে তিনমাসের অন্তঃস্বত্তাও হয় সুইটি। পরবর্তীতে দাম্পত্য কলহের জের ধরে স্বামী ও শশুড় বাড়ির লোকজনের অমানুষিক নির্যাতনে গত বুধবার সন্ধ্যায় মারা যায় গৃহবধূ সুইটি। ঘটনাটি ধামা চাঁপা দিতে স্বামীর বাড়ির লোকজনে তার মুখে বিষ ঢেলে নাটকীয় ভাবে হাসপাতালে নেয়ার সময় বরিশালের গৌরনদী থানা সংলগ্ন এলাকা থেকে স্থানীয় লোকজন ও থানা পুলিশ বুধবার রাতে গৃহবধূ সুইটির লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় দু’জনকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ, স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালী পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ড পশ্চিম মহদরি এলাকার বাসিন্দা মজিবুল হক ওরফে আলাউদ্দিন মিয়া, কর্মের সুবাধে তার স্ব-পরিবার নিয়ে ঢাকার মীরপুর-১ নাম্বারের পীরেরবাগ আমতলা এলাকার ভাড়াটিয়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। তাদের বাসার পাশ্ববর্তী অপর একটি ভাড়াটিয়া রুমে বসবাস করেন কালকিনি উপজেলার ছোটচরকয়ারিয়া গ্রামের রড মিস্ত্রী ফারুক বেপারী। চাচার ভাড়াটিয়া বাসায় একই সাথে থাকতেন ফারুকের বড় ভাই ফিরোজ বেপারীর পুত্র রাসেল বেপারী (২২)। পাশাপাশি বাসায় থাকার সুবাধে আলাউদ্দিনের কন্যা ও পীরেরবাগ আমতলা এলাকার আলীমদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ট শ্রেনীর ছাত্রী সুইটি আক্তারের সাথে রাসেলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে ২০০৯ সালের ৩১ মার্চ প্রেমের টানে সুইটি তার পরিবারের সবার অজান্তে প্রেমিকার সাথে তার পৈত্রিক বাড়ি কালকিনি উপজেলার ছোটচরকয়ারিয়া গ্রামে চলে আসে।

সুইটির দিনমজুর পিতা মজিবুল হক ওরফে আলাউদ্দিন মিয়া জানান, তার কন্যা সুইটির রহস্যজনক নিখোঁজের পর দীর্ঘদিন তারা বিভিন্নস্থানে খোঁজাখুজি করে ব্যর্থ হন। এক পর্যায়ে তিনি মীরপুর থানায় একটি সাধার ডায়েরী করেন। ৬ মাস পর তারা জানতে পারেন প্রেমের সম্পর্কে তার কন্যা সুইটি রাসেলের সাথে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়ে বর্তমানে তার পৈত্রিক বাড়িতে বসবাস করছে।

তিনি আরো জানান, তার কাছে রাসেল বেপারী একাধিকবার ফোন করে সুইটিকে প্রানে বাঁচাতে হলে ২ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করেন। এতে সুইটি বাঁধ সাধায় রাসেল ও তার পরিবারের সদস্যরা প্রায়ই সুইটির ওপর শারিরিক নির্যাতন চালাতো বলে সুইটি তার মা শেফালী বেগমের কাছে মোবাইল ফোনে জানিয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। আগামি ৪/৫ দিনের মধ্যে তাদের রাসেলের বাড়িতে আসার কথা ছিলো বলেও তিনি জানান।

গৌরনদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ মিজানুর রহমান জানান, বুধবার রাতে স্থানীয় লোকজনে থানা সংলগ্ন এলাকা থেকে গৃহবধূ সুইটির লাশ উদ্ধারসহ ২ জনকে আটক করে থানা পুলিশকে খবর দেয়। ঘটনাটি কালকিনি থানার হওয়ায় ওইরাতেই কালকিনি থানা পুলিশকে খবর দিয়ে লাশসহ আটককৃত মনির হোসেন বেপারী ও মারুফ বেপারীকে কালকিনি থানা পুলিশের কাছে সোর্পদ করা হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সুইটির মৃত্যুর খবর শুনে প্রথমে গৌরনদীতে ছুটে আসেন তার দিনমজুর পিতা মজিবুল হক ওরফে আলাউদ্দিন মিয়া। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, তার কন্যা সুইটিকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি বাদি হয়ে ওইদিনই মাদারীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে সাতজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আসামিরা হচ্ছে-রাসেল বেপারী, তার পিতা ফিরোজ বেপারী, মা হেনা বেগম, চাচা ফারুক বেপারী, চাচি ছালমা বেগম, চাচা আটককৃত মনির হোসেন ও চাচাতো ভাই মারুফ বেপারী।

এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কালকিনি থানার এস.আই হেকমত আলী জানান, গৌরনদী থানা থেকে গৃহবধূ সুইটির লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার মাদারীপুর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে সুইটির লাশ তার পিতা মজিবুল হক ওরফে আলাউদ্দিন মিয়া গ্রহন করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সূত্রঃ http://www.gournadi.com/news/everyday/463-2010-04-08-14-32-48

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla