Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

অলি বার বার ফিরে যায়, অলি বার বার ফিরে আসে...

Bangladesh
গলার আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে, সন্দেহ নেই খুব শীঘ্র পায়ের আওয়াজও পাওয়া যাবে। এমনটা হতে বাধ্য, কারণ ৯০দিন ঘনিয়ে আসতে পারে যে! যাদের জানা নেই তাঁদের কানে কানে বলছি, ৯০ দিন পার হয়ে গেলে বেতন-ভাতা, হাতখরচ, পকেট খরচ, তেল খরচ ও যাবতীয় খরচ সহ আস্ত সদস্যপদই বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা আছে। শুল্কমুক্ত গাড়ির গন্ধে সংসদের বাতাস যখন মৌ মৌ করছে সময়মতই উনারা বুঝতে পারলেন নিজদের ভেতর কাইজ্জা বিবাদ করলে জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা যায়না! অবলা এই জনগণের কথা ভেবেই ফিরে আসার সিদ্বান্ত নিলেন শেষ পর্যন্ত। জনগণের চোখ ও শ্রবন যন্ত্রে বেশ কিছু ত্রুটি ছিল, চাইলেও তাদের দেখতে ও শুনতে অসূবিধা হচ্ছিল পেছনের সাড়িতে বসে মহামান্যরা কি বলছেন। চিকিৎসা শেষে ১৫কোটি মানুষের ৩০কোটি চোখ ও ৩০কোটি কান এখন সূস্থ, বিশেষ কোন অসূবিধা ছাড়াই তারা এখন দেখতে পাবে পেছনের সাড়ির চাঁদ বদনগুলো।

দুই ইয়াতিমের জননী, তিন তিন বারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী, ৪কোটি টাকার ইয়াতিমী ফান্ড নিয়ে আদালতী ফ্যসাদে জড়িয়ে আছেন। দেশীয় ইয়াতমদের জন্যে বিদেশী খয়রাতী এনে অনেক বছর কাটিয়ে দেয়ার পর বুঝতে পারলেন, ’যাহা কিছু উত্তম তাহা নিজ ঘর হইতেই শুরু করা উত্তম’। এক শহীদ পরিবারের দুই ইয়াতিমকে অনেকদিন ধরে দুঃখ-কষ্টে লালন করেছেন, কেউ যদি ইয়াতিমী ফান্ডের খয়রাতী অর্থ পাওয়ার অধিকার রাখে নিশ্চয় নিজ সন্তানদ্বয়! ৪কোটি ৪৪ লাখ টাকা বিলিয়ে দিলেন দুই সন্তানের মাঝে। ইয়াতিমদ্বয় ধন্য হল, ধন্য হল বাংলাদেশ। এতকিছু ধন্য হলে হবে কি, দেশের আদালত ধন্য হলনা, তারা সমনজারী করল ইয়াতিম পরিবারের ততোধিক ইয়াতিম কর্নধারকে। ইয়াতিমদ্বয়ের ব্যথায় ব্যথিত সাংসদরা গো ধরল, এই অবলা পরিবারকে আইনী ঝামেলা হতে সন্মানের সাথে মুক্তি না দিলে তেনারা সংসদমূখী হবেন্‌না। ৩০০কোটি টাকার সম্পত্তিতে বাস করে ইয়াতিম পরিবারের সবাই মুচকি হাসল। এক মাঘে শীত যায়না এমনটা ভেবে পুলকিত বোধ করল। সে পুলক ছড়িয়ে পরল সাংসদদের মাঝে, তারাও হাসল। গো ধরা প্রতিজ্ঞা টুটে গেল জিঞ্জিরা তৈরী ম্যানিলা দড়ির মত। একাধিক চাঁদাবাজী মামলার আসামী দুই দুই বারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীও পুলক বোধ করলেন, উনারা আসছেন শেষ পর্যন্ত। আসার পরিবেশ তৈরী হয়েছে, তাই চারদিকে এখন আগমনী সুবাতাস।

গল্পটা ইস্কুলের পাঠ্য বইয়ে পড়েছিলাম, ইংরেজীতে। এক রাজা, বেজায় মহব্বত করেন তার প্রজাদের। গরীব প্রজারা জায়গা-জমির অভাবে চাষাবাদ করতে পারেনা শুনে রাজা প্রায়ই ব্যথিত হন। প্রজাদের প্রতি মহব্বত প্রমানের তাগাদায় অদ্ভূদ এক ঘোষনা দিলেন রাজা, "আগামীকাল সূর্য্যদোয় হতে সূর্য্যাস্ত পর্য্যন্ত যে যতটুকু জায়গা দৌঁড়াতে পারবে ততটুকু জায়গা তার"। তবে শর্ত হল, সূর্য্যাস্তের ঠিক আগে রাজদরবারে ফিরে আসতে হবে। অনেকেই দৌঁড়াল এবং সময়মত রাজ দরবারে ফেরত এসে বুঝে নিল জমির দখল। কিন্তূ রাজ্যের লোভি এক প্রজা, সেই যে দৌঁড় শুরু করল থামলনা কোথাও। দৌঁড়ায় আর জমির মালিকানার কথা ভেবে মনের আনন্দে হাসে। হাসতে হাসতে অনেকটা জমি দৌঁড়ে ফেলে সে। বেলা গড়িয়ে যায়, রাজ দরবারে ফিরতে হবে সূর্য্যাস্তের আগে, উলটা পথে দৌঁড়াতে শুরু করল সে। অনেক দেরী হয়ে গেছে, পশ্চিম দিগন্তে সূর্যটা হেলে পরতে শুরু করেছে ততক্ষনে। দরবারে পৌঁছানোর আগেই সূর্য্য ডুবে গেল, তবু সে পৌঁছল এবং পৌঁছা মাত্রই পিঞ্জিরা হতে জান নামের পাখীটা উড়ে গেল (ইন্না লিল্লাহে... রাজেউন)। আমাদের সাংসদদের জন্যে এমন একটা দৌঁড়ের আয়োজন করলে কেমন হয়? লোভ লালসা মাপার জন্যে এ হতে পারে সহস্রাব্দীর সেরা দৌঁড়! পরিবেশ নাই, কথা বলার সূযোগ নাই, সামনে বসতে না দিলে মানিনা, নেত্রীর ডাইনে না হলে চলবেনা, এটা না হলে হবেনা, ওটা না হলে আসবনা; বছরের পর বছর ইংলিশ রোড মার্কা এ সব বস্তাপচা পেচাল আর কাহাতক সহ্য করা যায় আপনারাই বলুন? আমরা মানি আর না মানি, দেশটাতো উনাদেরই। অংশিদারিত্বের মালিকানা নিশ্চিত করতে এমন একটা দৌঁড়ের শুরু হতে পারে সংসদ ভবন হতে এবং মালিকানা নিশ্চিন্ত করে দিনান্তে ফিরে আসতে পারেন এই সংসদেই। যত ধানাই পানাই করুক না কেন, মাননীয় সাংসদরা শেষ পর্য্যন্ত কিন্তূ ফিরে আসেন এই সংসদেই, হোক তা শুল্কমুক্ত গাড়ির টানে অথবা ৯০ দিনের বেড়াজালে।

বিনাশুল্কে গাড়ি আমদানীর পারমিট হাতে নিয়ে সংসদ হতে কেটে পরার নতুন পাঁয়তার করলে দয়া করে ধাওয়াবেন মহামান্য সাংসদদের। এটা ওনাদের পাওনা হয়ে আছে।

দ্রষ্টব্যঃ মহামান্য শব্দটা পড়তে হবে "মহামান্য" হিসাবে।

Comments

এমপিদের চাপে রাজি হলেন খালেদা জিয়া

আগামী সপ্তাহে সংসদে ফিরছে বিএনপি

উম্মুল ওয়ারা সুইটি | কালের কন্ঠ
৫ ফেব্রুয়ারি ২০১০

শেষ পর্যন্ত প্রধান বিরোধী দল বিএনপি সংসদে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী সপ্তাহের যেকোনো দিন তারা অধিবেশনে যোগ দেবে। জোটের সংসদ সদস্যদের জোরালো দাবি ও চাপের মুখে বিরোধী দলের নেতা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

বিরোধী দলের প্রধান হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকও গতকাল সংসদীয় দলের বৈঠকের পর সংসদে যোগদান বিষয়ে দলের ইতিবাচক সিদ্ধান্তের কথা জানান। তবে কবে তাঁরা অধিবেশনে যোগ দেবেন সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট দিনক্ষণ তিনি বলেননি। তিনি বারবারই বলেছেন, 'আমরা সংসদে যাব। বিএনপি চেয়ারপারসন সদস্যদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করে দেশের স্বার্থে, জাতির স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।'

সংসদীয় দলের বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, চারদলীয় জোটের সদস্যদের চাপের মুখেই খালেদা জিয়া সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন। সদস্যরা গতকালই অধিবেশনে যোগ দিতে চেয়েছিলেন। এ জন্য তাঁরা বেলা আড়াইটার সময়ই বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য বিরোধী দলের নেতার কার্যালয়ে এসে হাজির হন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির একজন সংসদ সদস্য কালের কণ্ঠকে বলেন, বৈঠকে উপস্থিত ৩৬ সদস্যের প্রত্যেকেই সংসদে যোগ দেওয়ার পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। জামায়াত সদস্য হামিদুর রহমান আযাদ বৈঠকে বলেন, এভাবে সংসদ বর্জন অব্যাহত রাখলে চারদলীয় জোট বাইরেও কোনো আন্দোলন কর্মসূচি সফল করতে পারবে না। বিজেপি সদস্য আন্দালিব রহমানও সংসদে যোগ দেওয়ার পক্ষে জোরালো সমর্থন জানিয়ে বলেন, 'এখন অনেক ইস্যু নিয়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। অবশ্যই বিরোধী দল হিসেবে এসব ইস্যুতে সংসদে গিয়ে আলোচনা করা উচিত।'

বৈঠকে উপস্থিত আরেক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অনেকদিন থেকেই বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংসদে ফিরতে চেয়ারপারসনের কাছে দাবি জানিয়ে আসছেন। তবে দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতা যাঁরা নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি তাঁরাসহ চেয়ারপারসন সংসদে না ফেরার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। সর্বশেষ গতকাল জোট সদস্যরা একজোট হয়ে বলেছেন, এভাবে সংসদ বর্জন করতে থাকলে আগামী অধিবেশনে এই আসনগুলোও হারাতে হবে। নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য হলেও সংসদে যাওয়া উচিত।

গতকালই সংসদে যোগ না দেওয়া প্রসঙ্গে একজন সদস্য বলেন, দলের সদস্যদের দীর্ঘদিনের এবং সর্বশেষ গতকালের জোরালো দাবির মুখে খালেদা জিয়া অধিবেশনে ফেরার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। গতকালই যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল। তবে সামনের সারিতে বেগম জিয়ার পাশের আসনটিতে কে বসবেন এ নিয়ে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারকে নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার সুরাহা না হওয়ায় সবার ইচ্ছা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত অধিবেশনে ফেরা সম্ভব হয়নি। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী গতকাল বৈঠকে আসেননি। ওই সংসদ সদস্য জানান, 'বিষয়টি নিয়ে খালেদা জিয়া সিনিয়রদের সঙ্গে আলোচনা করে মীমাংসা করবেন।'

বিরোধী দলের সংসদে আসার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে স্পিকার অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ কালের কণ্ঠকে বলেছেন, 'ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আমি তাঁদেরকে আগাম অভিনন্দন জানাই। জনগণ তাঁদেরকে সংসদে এসে কথা বলার জন্য মনোনীত করেছেন, সংসদ বর্জনের জন্য নয়।' তিনি বলেন, 'আমি অনেকবার বিরোধী দলকে সংসদে আসার আহ্বান জানিয়েছি। বলেছি, এসে কথা বলুন। অনেক সমস্যার সমাধান হবে।' তিনি বলেন, 'বিরোধী দল সংসদে এলে সংসদ আরো কার্যকর হবে।' স্পিকার হিসেবে নিরপেক্ষতা বজায় রাখবেন বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

এদিকে দীর্ঘ এক বছর পর বিরোধী দলের সংসদে যোগ দেওয়ার ঘোষণাকে সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন দেশের রাজনীতিক ও বিশিষ্টজনরা। মহাজোটের সংসদ সদস্যরাও এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় অধ্যাপক মোজাফফর হোসেন বলেন, 'দীর্ঘ এক বছর পর হলেও তাদের বোধোদয় হয়েছে। সংসদীয় গণতন্ত্রে সংসদই হলো সব দাবি-দাওয়া ও ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু।' তিনি বলেন, 'অতীতের মতো যেন বিরোধী দলের এই সংসদে যোগদান সদস্যপদ রক্ষার যোগদান না হয়। তারা যেন সংসদে এসে কথা বলেন। শুধু দলীয় স্বার্থ, দলের নেতার সমস্যা কিংবা আসন বণ্টন নিয়ে ব্যস্ত না থাকেন।' তিনি আরো বলেন, 'দীর্ঘদিন তাঁরা সংসদে না থাকায় জনগণ হতাশ হয়ে পড়েছে। বিরোধী দল না থাকায় সংসদীয় গণতন্ত্রও খর্ব হয়েছে।'

সুশাসনের জন্য নাগরিক সভাপতি ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, 'সংসদে থাকার জন্য এবং জনগণের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে আলোচনা ও সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করার জন্য বিরোধী দল যেন সংসদ বর্জনের অপসংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসে। এটাই তাঁদের প্রতি আমার আহ্বান। এটা যেন সদস্যপদ রক্ষার যোগদান না হয়।'

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, 'যাই হোক এতদিনে তাঁরা বুঝতে পেরেছেন সংসদে আসা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। সংসদ বর্জন করে তাঁরা সরকারবিরোধী আন্দোলন এবং সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চেয়েছেন। কিন্তু জনগণ তাতে সাড়া দেয়নি। তাঁরা বুঝতে পেরেছেন এখন আর উপায় নেই। তাই সংসদে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার পরও ভালো। আমরা প্রস্তুত আছি।'
জাসদের সংসদ সদস্য মাইনুদ্দিন খান বাদল বলেন, 'বিরোধী দল বিভিন্ন বিষয়ে সংসদের বাইরে সরকারবিরোধী কথা বলে কোনো সুবিধা করতে পারেনি। কারণ তাঁরা জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংসদ বর্জন করেননি। এই বিষয়টি এতদিন পরে হলেও তাঁরা বুঝতে পেরেছেন বলে তাঁদের সিদ্ধান্তকে আমি স্বাগত জানাই।'

এদিকে এর আগে বিএনপির পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার অধিবেশনে যোগ দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক ঘোষণা দেওয়ায় গতকাল মহাজোট সদস্যরাও বিরোধী দলকে সংসদে দেখার অপেক্ষায় ছিলেন।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল পর্যন্ত বিরোধী দলের সংসদে অনুপস্থিতি টানা ৬৩ দিন পূর্ণ হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী আর ২৭ কার্যদিবস অনুপস্থিত থাকলেই তাঁরা সদস্যপদ হারাবেন। তবে চারদলীয় জোটের শরিক বিজেপির সদস্য আন্দালিব রহমান টানা ৭২ কার্যদিবস অনুপস্থিত থাকায় তাঁর সদস্যপদ রক্ষা করতে হলে বিরোধী দলকে আর ১৮ কার্যদিবসের মধ্যেই অধিবেশনে যোগ দিতে হবে।

বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠক
'আমরা সংসদে যাব। সরকার ও স্পিকারের পক্ষ থেকে আমাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হলেও দেশ ও দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে আমরা সংসদে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সংসদ সদস্যপদ বাঁচানো কিংবা হারানো চেয়ারপারসনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ভারতের সঙ্গে সরকারের সমঝোতা চুক্তি ও দেশবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করতেই আমরা সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।'

বৈঠকের পর বিরোধী দলের প্রধান হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক এক সংক্ষিপ্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে সংসদে যোগদানের পক্ষে জোটের সিদ্ধান্তের কথা জানান। তবে কবে তাঁরা অধিবেশনে যোগ দেবেন সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাব বারবার তিনি এড়িয়ে যান।

সংসদীয় দলের বৈঠকের পর জয়নুল আবদিন ফারুক সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আরো বলেন, 'সংসদে গিয়ে তাঁরা বিরোধী দলের নেতা বেগম জিয়ার নিরাপত্তা, বেগম জিয়ার ক্যান্টনমেন্টের বাড়ির লিজ বাতিল, ১১ জানুয়ারির পর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার, সংসদীয় কমিটিতে বিরোধী দল থেকে চারজনকে সভাপতি করা, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে সম্পাদিত চুক্তি নিয়ে আলোচনা, সংরক্ষিত নারী আসনে মহাজোটের ৩৫ নারী সদস্যকে বিরোধী দলের নির্বাচিত এলাকার দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া, ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগরসহ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রলীগের ভর্তিবাণিজ্য, ছাত্রলীগের টেন্ডার, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস বন্ধের দাবি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ইতিপূর্বে সংসদে বিরোধী দল থেকে দেওয়া ৫৯টি মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনা এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী ও শেখ সেলিমের দেওয়া অসংসদীয় বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার দাবিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করতে চাইবে বিরোধী দল।

জয়নাল আবদিন বলেন, 'সংসদে যেতে এবং সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য বিরোধী দল সরকার ও স্পিকারের কাছে প্রথম অধিবেশনেই কিছু লিখিত দাবি-দাওয়া জানিয়েছে। প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিন আমরা আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে সরকার ও স্পিকারের সংসদীয় রেওয়াজ ভঙ্গের কারণে অধিবেশনে যোগদান থেকে বিরত ছিলাম। শেষ পর্যন্ত পরবর্তী অধিবেশনে স্পিকার বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বাস দেওয়ায় আমরা আবার সংসদে ফিরে যাই। কিন্তু এরপর তিনটি অধিবেশন পার হলেও স্পিকারের পক্ষ থেকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি।' তিনি বলেন, 'এই আচরণ থেকে দেশবাসী অবশ্যই বুঝতে পারছে সরকার বিরোধী দলকে সংসদে দেখতে চায় কি না।'

বিরোধী দলের প্রধান হুইপ বলেন, 'আমরা গত এক বছর দেখেছি সরকার দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তি করছে। টিপাই মুখ বাঁধ প্রকল্প, তিস্তার পানি বণ্টন, বন্দর ব্যবহার করতে দেওয়াসহ ভারতের সঙ্গে অসম ও বেশ কিছু গোপন চুক্তি তাঁরা করেছে। তাঁরা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যাচ্ছে। এখানে আমরা চুপ করে থাকতে পারি না। তাই দেশের স্বার্থেই বিরোধী দল সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিরোধী দলের প্রধান হুইপ আরো বলেন, 'আমরা সংসদে যাব এবং সেখানে দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হচ্ছে এমন বিষয়ে কথা বলব।'

গতকাল বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে সংসদীয় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে চারদলীয় জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামি ও বিজেপির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত ৭ এপ্রিল প্রথম অধিবেশনের সমাপনী দিনে বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে আর অধিবেশনে ফেরেনি।

আগামী বুধবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত অধিবেশন মুলতবি করা হয়েছে।

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla