ঘুরে এলাম গ্রান্ড ক্যানিয়ন - ১ম পর্ব

কথা ছিল খুব সকালে বেড়িয়ে পরব। কিন্তূ বেরুতে বেরুতে দুপুর হয়ে গেল। এতদিন জানতাম বাংলাদেশী ললনারাই সাজ গোছের কারণে সব জায়গায় লেট, কিন্তূ আমার এই বিদেশী গৃহিনীও যে একই রোগে আক্রান্ত তা জানতে পেরে কিছুটা হলেও আস্বস্ত হলাম। ৫০০ মাইল (৮০০ কিঃমিঃ) যেতে হবে আমাদের, রাস্তায় বিশেষ কোন অসূবিধা না হলে প্রায় ৬ ঘন্টার উপর ড্রাইভ। ৩ মাস ধরে বেকার, কোথাও যেতে মন চায় না, পকেটের কথা ভাবলে আবার সাহষও হয় না। কিন্তূ এ যাত্রায় উপায় ছিলনা, গৃহিনীর ৩ দিনের ছুটি, ঘরে বসে এ তিনটা দিন কিছুতেই কাটানো যাবেনা, এমন ঘোষনা ১৫দিন আগ হতেই সাফ সুতর জানিয়ে দিল। আমিও ছিলাম মানষিকভাবে বিপর্য্যস্ত, তাই বিনা বাধায় এ যাত্রায় রাজী হয়ে গেলাম। গন্তব্যঃ প্রতিবেশী অংগরাজ্য আরিজোনার গ্রান্ড ক্যানিয়ন। প্রায় ৩ বছর হয়ে গেল আমেরিকার ওয়াইলড্ ওয়াইলড্ ওয়েষ্টে বাস করছি, অথচ গ্রান্ড ক্যানিয়ন দেখা হয়নি কথাটা কাউকে বল্লে বিশ্বাষ করতে চায়না। এমনটাই হয় বোধহয়, তা না হলে অষ্ট্রেলিয়ায় ৫টা বছর বাস করে আসলাম অথচ সিডনীর বাইরে ক্যানবেরা ছাড়া আর কোথাও যাওয়া হয়নি। ২০০১ হতে ২০০৬ পর্য্যন্ত বিরামহীন ভ্রমনে দেখা হয়েছে দক্ষিন আমেরিকার পেরু, বলিভিয়া, ইকুইডোর, কলম্বিয়া এবং মধ্য আমেরিকার কোষ্টারিকা, গুয়েতেমালা সহ পৃথিবীর অনেক দেশ। কিন্তূ দেখা হয়নি উত্তর আমেরিকার অনেক কিছু, যেখানটায় বাস করছি বছরের পর বছর ধরে। যাই হোক, ট্যাংক ভর্তি তেল নিয়ে শেষ বারের মত কম্প্যুউটারে চোখ বুলিয়ে বেড়িয়ে পরলাম। প্রতিবারের মত এবারও ঈদে কাউকে ফোন করা হবেনা ভাবতেই মনটা খারাপ হয়ে গেল। তবে হাইওয়েতে উঠতেই সে মনখারাপ বেশীক্ষন স্থায়ী হল না।
হাইওয়ে I-40 ধরে পশ্চিম দিকে রওয়ানা দিতে দুপুর ১টা বেজে গেল। আলবকুরকে শহরকে চারদিক হতে ঘিরে রেখেছে আদিবাসী আমেরিকানদের রিজারভেশগুলি। এখানটায় মেক্সিকান এবং আদিবাসীদের অলস চলাফেরা লক্ষ্য করলে যে কেউ এটাকে মেক্সিকো অথবা মধ্য আমেরিকার কোন শহরের সাথে গুলিয়ে ফেলতে বাধ্য। শহর হতে ১৮ মাইল দূরে গেলেই চোখে পরবে রেড ইন্ডিয়ানদের প্রথম উপস্থিতি। ক্যাসিনো ব্যবসার উপর নির্ভর করে আবর্তিত হয় এদের অনেকের জীবন, যা সরকারী পর্য্যায়ে পৃষ্ঠপোষকতা করা হয় ঐতিহাসিক কারণে। যাই হোক, তাড়া থাকলেও রুট ৬৬ ক্যাসিনোতে ঢু মারার সিদ্বান্ত নিলাম দু’টো কারণে। এক, বিনামূল্যে হরেক রকম কোমল পানীয় পান, দ্বিতীয়, সন্মানিত সদস্য হিসাবে বেশকিছু প্রমো ডলার জমা আছে আমাদের একাউন্টে। কে জানে, হয়ত রুলেটে একটা দান বদলে দিতে পারে আমাদের বাকি জীবন। তেমন কিছুই ঘটল না, প্রমো ডলারের সব অংক খরচ শেষে ৭০ ডলার লাভ নিয়ে বেরিয়ে পরলাম ক্যাসিনো হতে। মোট সময় নষ্ট হল ১৫ মিনিট। শহরের শেষ চিহ¡ দিগন্ত রেখায় মিলিয়ে যেতেই নিজদের খুজে পেলাম র্নিজনতার বিষন্ন সমুদ্রে। কোথাও কিছু নেই, শুধু মাইলের পর মাইল সবুজ মাঠ, সাথে নেংটা পাহাড়ের ভৌতক স্তব্দতা। হাইওয়ে আই-৪০ খুবই ব্যস্ত রাস্তা, এ পথ ধরেই যেতে হয় নেভাদা অংগরাজ্যের লাস ভেগাস শহর এবং ক্যালিফোর্নিয়ার লস্ এঞ্জেলস্। ৪০ মিনিট পেরুতেই দেখা মিল্ল দ্বিতীয় ক্যাসিনোর। স্কাই সিটি ক্যাসিনোতে থামতে বাধ্য হলাম লাঞ্চের কারণে। পরবর্তী বিশ্রাম এলাকা ১০০ মাইল পর তাই রিস্ক নিতে সাহষ হল না।
ঈদের আগাম শুভেচ্ছা সহ ডালাস হতে বন্ধুর ফোন পেলাম। গ্রান্ড ক্যানিয়ন যাচ্ছি শুনতেই জিজ্ঞেষ করল পথে Arizona Petrified Forest National Park’এ থামছি কি না। GPS’এ লোকেশনটা চেক করতেই অবাক হলাম, নিউ মেক্সিকো বর্ডার হতে মাত্র ১ ঘন্টার ড্রাইভ। পার্কটার কথা আগেই শুনেছি, কিন্তূ এত কাছে তা জানতাম না। ২২৫ মিলিয়ন (সাড়ে বাইশ কোটি) বছর আগে আগ্নেয়গিরীর অগ্নুৎপাতের শিকার হয়ে পুরো ২৮ মাইল এলাকা তলিয়ে যায় জ্বলন্ত লাভার নীচে। সময়ের পরীক্ষায় পার্কের গাছগুলো রূপান্তরিত হয় পাথরে, যা দেখতে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত হতে লাখ লাখ ট্যুরিষ্ট ভিড় জমায়। সাড়ে বাইশ কোটি বছর আগের কোন কিছু এত কাছ হতে দেখতে পাব ভাবতেই ভেতরে এক ধরনের উত্তেজনা অনুভব করলাম।

- চলবে
- Tag this post:
- WatchDog's blog
- 886 reads
-
JUST VIEWED
Last viewed:
- News Archive
- Immigration to Canada - Now, processing time 6-12 Months
- The educated Hasina's story
- দারিদ্র বিমোচন - A Phantom of the Opera বাংলাদেশ ষ্টাইল!
- দিন বদলের শপথ এবং দেশের স্বার্থ।
- এন্ডিস পর্বতমালার বাঁকে বাঁকে - ১৬তম (শেষ) পর্ব
- একজন সালাউদ্দিন কাদের চৌধূরীর দিনরাত্রি
- খালেদা জিয়ার জন্মদিনঃ ডকুমেন্ট
- আউলা ঝাউলা বাউলা চিন্তা - ২য় পর্ব
- হাতে রক্ত, আঙ্গিনায় লাশ আর মুখে গণতন্ত্র...পাকিস্তানি ভণ্ডামির আওয়ামী সংস্করণ!
- ছ্যারছ্যার আলীর দিনরাত্রি ও একটি খুনের গল্প
- রাজনীতি ও তার 'সন্মানিত' চোরের দল
- এন্ডিস পর্বতমালার বাঁকে বাঁকে - ১১তম পর্ব
- ডিজিটাল কফিনে দিন বদলের দাফন। তথ্যই কথা বলে...
- আউলা ঝাউলা বাউলা চিন্তা!
Latest Blogs
- লুটের টাকায় বেশ্যা নাচে
- আমেরিকার রুক্ষ্ম পশ্চিমের গল্প...
- মৃত্যুর আগাম শোক...
- হাতে রক্ত, আঙ্গিনায় লাশ আর মুখে গণতন্ত্র...পাকিস্তানি ভণ্ডামির আওয়ামী সংস্করণ!
- দ্যা ডে আফটার
- ক্যু আর্কিটেক্টদের মোবারকবাদ
- ছ্যারছ্যার আলীর দিনরাত্রি ও একটি খুনের গল্প
- ডিজিটাল কফিনে দিন বদলের দাফন। তথ্যই কথা বলে...
- Theory of সিম্পল লিভিং এন্ড হাই থিংকিং...
- দেবতা বনাম উর্দিওয়ালা...নতুন পর্ব!
Recent Comments
- মুহূর্তেই ছিন্ন স্নেহের বাঁধন...
1 week 3 days ago - আমিও
3 weeks 4 days ago - about canada immigration
4 weeks 4 days ago - ঘুষ না পেয়ে মুক্তি দেননি বিচারক
4 weeks 6 days ago - কোটি কোটি রুহুল আমিন কী চায়?
4 weeks 6 days ago - হুম!
5 weeks 2 days ago - ধন্যবাদ...
5 weeks 2 days ago - Its really a great invention.
5 weeks 4 days ago - গুপ্ত হত্যার শেষ শিকার..., একটি রম্য রচনা
6 weeks 2 days ago - Not fair!
6 weeks 4 days ago





Comments
Post new comment