Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

টিক্কা খানের আসনে আওয়ামী লীগ

Awami League

কাদের মোল্লার ফাঁসির তাবিজ গলায় ঝুলিয়ে ডেডিকেটেড আওয়ামী একটিভিষ্টরা অনলাইনে যেসব গান গাইছে তা এখন লাশ নিয়ে গোরস্তানে যাওয়ার গানের মত শোনাচ্ছে। মিহি সুরের এসব গানে আগের মত প্রাণ নেই। গলায়ও নেই তেমন জোর। অন্যায়, অবিচার ও অত্যাচারকে ডিফেন্ড করার বাংলা শব্দের ভান্ডার খুব ধনী নয়। লম্বা সময় ধরে এসব সীমিত শব্দের ব্যবহার খেই হারিয়ে ফেলার সম্ভাবনা তৈরী করে মাত্র। ছাগল, ছাগু ও পাকি, এই তিন শব্দের কীর্তন এ মুহূর্তে নেতিয়ে পরা চেতনা উজ্জীবিত করার জন্য যথেষ্ট হবে বলে মনে হচ্ছেনা। কারণ আওয়ামী লীগ এখন ইয়াহিয়া খান, টিক্কা খানের আসনে। আর আপনারা যারা এদের নিয়ে নাচতে গিয়ে অন্তর্বাস খুলে ফেলছেন তারা বসেছেন কাদের মোল্লা, আমিনি, নিজামীদের চেয়ারে। অন্যায়, অবিচার আর অত্যাচারের কোন দেশ, কাল, পাত্র থাকেনা। সব দেশে সব কালে এরা খুনি, তস্কর ও লুটেরা হিসাবেই চিহ্নিত হয়ে থাকে। আওয়ামী লীগের জন্য এ মুহূর্তে নতুন কোন সংজ্ঞা তৈরী হবে তার সম্ভাবনাও কম। আপনাদের লীগ এখন মরা হাতী। যারা কাকের মত কা কা সুরে এই হাতির ঘুম ভাঙ্গাতে চাইছেন তাদের চেষ্টা সফল হওয়ার সম্ভাবনা একবারেই শূন্য। মরা হাতী এক সময় লায়াবিলিটি হয়ে চারদিকে দুর্গন্ধ ছড়াবে এবং শেষ পর্যন্ত কেউ না কেউ উদ্যোগ নিয়ে ছুড়ে ফেলবে ভাগাড়ে। আরও কটা দিন হয়ত হাতে রাইফেল নিয়ে পুলিশের তাফালিং চলবে, অন্ধকারে চোখে কালো চশমা লাগিয়ে র‌্যাব নিজেদের র‌্যাম্বো ভাবতে থাকবে, সেনাবাহিনীর কামানে চড়ে হানিফ, লতিফ, ইনু, হাসানদের টেংরা মাছের নাচ অব্যাহত থাকবে।

৭১’এ কাদির কসাইরাও একই নাচ নেচেছিল। কিন্তু হায়, নাচের সমুদ্র এক সময় নদী হয়ে যায়, নদী হয় পুকুর এবং পুকুর রূপান্তরিত হয় ডোবায়। ডোবার টেংরা মাছ অক্সিজেনের অভাবে চিতপটাং দিয়ে নেচে নেয় শেষ নাচ এবং বিদায় নেয় ইহজগৎ হতে। ৭৫ সালে ক্ষমতার দাপট এবং তা চিরস্থায়ী করার লিপ্সা হতে শেখ মুজিব যে ভুল করেছিলেন দল হিসাবে সে ভুলের মাশুল আওয়ামী লীগকে গুনতে হয়েছিল অনেকদিন। এবং অনেক গুলো বছর। ২০১৩’তে এসে শেখ হাসিনা যে ভুল করলেন তার মূল্য দল হিসাবে আওয়ামী লীগকেই শোধ করতে হবে। অথচ এমনটা হওয়ার কথা ছিলনা। আওয়ামী ছিল জনগণের দল। সাধারণ মানুষের ভাগ্যের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে ছিল তাদের ভাগ্য। পাকিস্তানী সামরিক স্বৈরশাসক, ৭১’এর ইয়াহিয়া-টিক্কা চক্র, এরশাদ চক্রের নয় বছর হতে মুক্তির লড়াইয়ে আওয়ামী লীগ ছিল অগ্রপথিক। কিন্তু একজন মহিলা তছনছ করে দিল এ ঐতিহ্য। নিজের ইচ্ছা, পারিবারিক স্বার্থ আর প্রতিবেশী দেশের তাবেদারি করতে গিয়ে খেয়াল খুশিমতো দলকে ব্যবহার করলেন এবং টেনে আনলেন এমন একটা অবস্থায় যেখান হতে দলীয় পরিচয়ে নেতা কর্মীরা জনগণের কাছে যেতে ভয় পাচ্ছে। কারণ তাদের জন্য দেশের অলিগলিতে পাতা আছে মৃত্যু ফাঁদ। এ ফাঁদ কেবল জামাতি ফাঁদ নয়, সাধারণ জনগণেরও ফাঁদ। বন্দুকের নলের মুখে দেশ শাসন ইয়াহিয়া টিক্কা খানদের শোভা পায়, আওয়ামী লীগের মত জনগণের দলকে নয়।

জামাতি, পাকি আর রাজাকার বচন হয়ত ক্ষণিকের আনন্দ দেয়, উল্লাস করতে খোরাক যোগায়। কিন্তু তা ক্ষতির জায়গায় ইট-সুরকি সিমেন্ট বসাতে সহায়তা করেনা। রাজনীতি করতে নেতা-নেত্রীর পাশাপাশি জনগণ লাগে। এ মুহূর্তে আওয়ামী লীগের সব আছে। আছে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, সেনাবাহিনী, একদল নেত্রীকানা দলদাস। কেবল নেই জনগণ। প্রমান চাইলে সব ছেড়েছুড়ে নির্বাচনে গিয়ে নিজেদের জনপ্রিয়তা যাচাই করে আসুন। দুঃখ পাবেন, কষ্ট লাগবে। জান নিয়ে পালিয়ে আসতে পারলে নিজেদের ভাগ্যবান মনে করবেন।

Comments

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla