Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

বিশ্ববেহায়া হতে থুতু এরশাদ...অভিনন্দন হোসেইন মোহম্মদ এরশাদকে!!!

Hussain Muhammad Ershad

হোসেন মোহম্মদ এরশাদকে অভিনন্দন না জানালে তার প্রতি অন্যায় করা হবে। বাংলাদেশের কর্দমাক্ত রাজনীতির মাঠে অনেক বড় বড় খেলোয়াড় খেলেতে গিয়ে ঘায়েল হয়েছেন। বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই আহত নিহত হয়ে মাঠ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। শেখ মুজিবের মত আজন্ম রাজনীতিবিদও নিজেকে নিরাপদ রেখে খেলেতে পারেননি। জিয়ার মত জাদরেল জেনারেলকেও বিদায় নিতে হয়েছে অত্যন্ত করুণ ভাবে। সে তুলনায় জেনারেল এরশাদ অনেকটাই সফল। অন্তত গদি হতে বিদায় পর্বে পূর্বসূরিদের ভাগ্য বরণ করে বিদায় নিতে হয়নি। জেনারেলের ভরা যৌবন ও ভাটা পর্বের প্রায় সবটা সময় দেশে ছিলাম। তাই তার শাসনামলের অটোপসি জানতে ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট খোর স্বদেশি মিডিয়ার সাহায্য নিতে হয়না। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা একটা দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান শর্ত। এ অর্থে এরশাদ আমলকে দুভাগে ভাগ করা যায়। প্রথমত, স্বৈরতান্ত্রিক উপায়ে হোক আর যেভাবেই হোক তার আমলের কটা বছর দেশ রাজনৈতিক ঝামেলামুক্ত ছিল। ফলশ্রুতিতে ক্ষুদ্র শিল্পের একটা ভিত্তি গড়ে উঠার প্রবণতা শুরু হয়েছিল। দ্বিতীয়ত, তার আমলের অন্তিম লগ্নেই বপিত হয় ক্ষমতা পালাবদলের নতুন বীজ, ক্যান্সার। গাজী গোলাম মোস্তফাকে দুর্নীতির আদি পিতা বললে বোধহয় খুব একটা অন্যায় হবেনা। কারণ রেডক্রসের প্রধান হয়ে কম্বল চুরির মাধ্যমে এই নেতাই দেশে দুর্নীতি নামক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছিলেন। পরবর্তীতে এ অধ্যায় শাখা প্রশাখা বিস্তার করে গোটা বাংলাদেশকে নিয়ে গিয়েছিল হিমালয়ের চূড়ায়। আজকের পদ্মা সেতুর আবুল ও রেলের কালো বিড়াল সুরঞ্জিত গাজি গোলাম মোস্তফার কম্বল চুরিরই ’গর্বিত’ সন্তান। এ লাইনে মোহম্মদ এরশাদ হোসেনের সাফল্য ছিল অনেকটা নীরব বিপ্লবের মত। বলতে গেলে গাজীর বপিত বীজ হতে এরশাদ বিশাল এক বটগাছের জন্ম দিয়েছিলেন। এবং এ বটের ছায়ায় রাজনৈতিক চোরের দল অনেকটা নীরবে নিঃশব্দে রূপান্তরিত হয়েছিল রাষ্ট্রীয় ডাকাত দলে।

Hussain Muhammad Ershad

এরশাদ মন্ত্রিসভার অনেকের সাথে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ভাবে জানা শোনা ছিল। গৃহপালিত এসব মন্ত্রিদের মুখ হতেই শোনা জেনারেলের দুর্নীতির লোমহর্ষক উপাখ্যান। এরশাদ নিজ হাতে অর্থকড়ি নিতেন না। টাকা পয়সা দুই উপায়ে জমা হত তার ভাণ্ডারে। এক, রওশন এরশাদ। সরকারী সূতিকাগারে জন্ম নেয়া কোন প্রকল্পই রওশন এরশাদকে বাইপাস করার সুযোগ পেতনা। বাকিতে কাজ করতে অভ্যস্ত ছিলেন না এই মহিলা। এমনকি দলের মন্ত্রীরাও ব্যক্তিগত প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রাথমিক পর্বে রওশনের পাওনা পরিশোধ করতে বাধ্য ছিলেন। এর হেরফের হলে মধ্যরাতে সক্রিয় হতেন স্বামী এরশাদ। মন্ত্রিদের ফোন করে ঘুম ভাঙ্গাতেন এবং মনে করিয়ে দিতেন মিসেসের গোস্বার কথা। ঐ আমলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সবটাই নির্ভর করত রওশন এরশাদের গোস্বা দূরীকরণের উপর। অবাধ্য মন্ত্রীদের শায়েস্তা করার জন্য জেনারেল নিজেই মিডিয়ার সাথে যোগাযোগ করতেন এবং তাদের হাতে তুলে দিতেন মন্ত্রীদের নাম ও তাদের দুর্নীতির বিবরণ। জেনারেল এরশাদের মূল আয় ছিল বিদেশ ভিত্তিক কমিশন। আর্ন্তজাতিক দরপত্র ও বিদেশি পণ্য দেশীয় বাজারে বিপনন করতে চাইলে এরশাদের বিদেশি একাউন্টের স্বাস্থ্য স্ফীত করা ছিল জরুরি। মন্ত্রিদের মতে স্ত্রী রওশন এরশাদকে অর্থকড়ি আদায়ের স্বাধীনতা দিতেন বিশেষ কিছু কারণে। তার অন্যতম নিজ রক্ষিতাদের ভোগ করার মূল্য। রক্ষিতাদের সংখ্যাও নেহায়েত কম ছিলনা। এদের পিছনেও রাষ্ট্রকে অনেক অর্থ ব্যায় করতে হত। পরবর্তীতে যারা এরশাদকে স্বৈরাচার আখ্যা দিয়ে উৎখাত করার আন্দোলনে নেমেছিলেন তাদের প্রায় সবাই গোপনে জেনারেলের অনুকম্পায় নিজেদের ভাগ্য গড়েছিলেন। এদের তালিকায় এমন কিছু নাম আছে যা প্রকাশ পেলে চমকে উঠতে হবে।

হোসেন মোহম্মদ এরশাদ জাতিকে আবারও চমক উপহার দিয়েছেন। সদলবলে মহাজোটের মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়ে নতুন করে প্রমান করেছেন বাংলাদেশের রাজনীতির প্রায় সবটাই বেশ্যাবৃত্তি এবং এ লাইনের তিনি সফল দালাল। এরশাদ কোন দলে যোগ দেবেন, কার সঙ্গে জোট বাঁধবেন আর কার সঙ্গ ত্যাগ করবেন তা একান্তই তার নিজস্ব ও দলীয় ব্যাপার। এসব সিদ্ধান্ত নেয়ার মাঠ রাজনীতিবিদদের জন্য কেউ বন্ধ করেনি। কিন্তু এ পথে হাঁটার জন্য এরশাদ যে পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন তা একান্তই একজন দেহপসারিনী দালালের পথ। বিশ্ব বেহায়া উপাধি হতে অনেকটাই নিরাপদে ছিলেন নিজের পার্টনার-ইন-ক্রাইম শেখ হাসিনার কারণে। কিন্তু এ যাত্রায় ’থুথু এরশাদ’ উপাধি বলতে গেলে নিজেই নিজের কপালে এঁটে দিলেন। এরশাদকে থুতু আখ্যা দিলে আমি বলবো থুতু কে অপমান করা হবে। থুতুর একটা রং আছে, পরিচয় আছে, ধর্ম আছে। কিন্তু হোসেন মোহম্মদ এরশাদ তার ধারে কাছেও নেই। এরশাদের মত একজন প্রফেশনাল মহিলাবাজ, রাষ্ট্রীয় ডাকাত অন্য একজন নির্লজ্জ ক্ষমতালিপ্সু দস্যুর সাথে আঁতাত করবে এতে যারা অবাক হয়েছেন তাদের উচিৎ হবে দেশীয় রাজনীতির ধারাপাত পড়ে দেখা। এরশাদকে আমি অভিনন্দন জানাই, কারণ ১৫ কোটি জনগণের ৩০ কোটি খোলা চোখের সামনে এ ধরণের বেশ্যাবৃত্তি করাও এক ধরনের সাফল্য।

Comments

দরপত্র ছাড়াই কাজ দিয়ে শত কোটি

দরপত্র ছাড়াই কাজ দিয়ে শত কোটি টাকা লোপাট করেছে তৌফিক-মনসুর

ডেস্ক রিপোর্ট : দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে কোন ধরনের টেন্ডার ছাড়া ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকার ১০টি কূপ খনন প্রকল্প একটি বিদেশী কোম্পানির হাতে তুলে দিয়ে শত কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে পেট্রোবাংলার বিরুদ্ধে। এক্ষেত্রে গডফাদারের ভূমিকায় ছিলেন, সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী ও পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হোসেন মনসুরের নেতৃত্বে গড়া একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। অভিযোগ রয়েছে, এই দুই গডফাদার কোনো ধরনের অভিজ্ঞতা না থাকার পরও ১০টি কূপ খননের জন্য রাশিয়ান কোম্পানি গ্যাজপ্রমের সঙ্গে ১৯৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তি করে। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, মূলত ডেকে এনে কার্যাদেশ ধরিয়ে দেয়া হয়েছিল গ্যাজপ্রমকে। কূপ খনন সংক্রান্ত গ্যাজপ্রমের আগের কোনো অভিজ্ঞতাও ছিল না। খনন কাজ সংক্রান্ত তাদের নিজস্ব কোনো যন্ত্রপাতিও নেই। তারপরও তাদের কার্যাদেশ দেয়া হয় শুধু হোসেন মনসুর ও তৌফিক-ই-ইলাহীর অতি আগ্রহের কারণে। জানা গেছে, কার্যাদেশ পেয়ে গ্যাজপ্রম এখন অন্য কোম্পানির মাধ্যমে (আউটসোর্সিং) খনন কাজ চালাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এ ধরনের অনভিজ্ঞ একটি কোম্পানিকে এত বড় একটি প্রকল্পের কার্যাদেশ দেয়ার পেছনে বড় ধরনের আন্ডারহ্যান্ড ডিলিং হয়েছে। করা হয়েছে শত শত কোটি টাকার কমিশন বাণিজ্য। এতে রাষ্ট্রেরও শত শত কোটি টাকা গচ্চা গেছে। যার কারণে দুপক্ষের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তিতে কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত শর্ত রাখা হয়নি, যা একটি দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

জানা গেছে, দেশবিরোধী এই চুক্তির বিরুদ্ধে খোদ তৎকালীন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি তীব্র ভাষায় আপত্তি জানালেও ড. হোসেন মনসুর ও ড. তৌফিক-ই-ইলাহী সিন্ডিকেট সেটা পাত্তা দেয়নি। সংসদীয় কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দেশবিরোধী চুক্তিটি করার জন্য এই দুই গডফাদার খোদ প্রধানমন্ত্রীকে পর্যন্ত মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন। চুক্তি সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির কোনো সুপারিশ ও সিদ্ধান্তই তারা মানেনি। সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান হোসেন মনসুরকে এক বৈঠকে বলেছিলেন, মাগুরছড়া, নাইকোতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটার পরও গ্যাজপ্রমের সঙ্গে করা চুক্তিতে ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত ক্লজ না রাখার বিষয়টি রহস্যজনক। এটি সঠিক হয়নি। একই সঙ্গে তিনি চুক্তি সংশোধন করে ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত শর্তটি অন্তর্ভুক্ত করার জন্যও পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যানকে অনুরোধ জানান। উত্তরে পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান ড. হোসেন মনসুর সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছেন, গ্যাসের চাহিদা মেটানোর জন্য যেসব লোকেশন থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস দেয়া সম্ভব তা তিতাসকে দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে বাড়িঘর থাকায় তারা কাজ করতে রাজি হয়নি। এ কারণে গ্যাজপ্রমকে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছিল। কাজেই এখন যদি ক্ষতিপূরণের কথা বলা হয়, তাহলে হয়তো কাজ না করেই গ্যাজপ্রম দেশ ছেড়ে চলে যাবে। এ কারণে চুক্তির শর্তে কোনো ক্ষতিপূরণের চুক্তি রাখা হয়নি। হোসেন মনসুর আরও বলেছিলেন, গ্যাজপ্রম বিশ্বের একটি বড় কোম্পানি। এত বড় কোম্পানিকে হাতছাড়া করলে কূপ খননের জন্য আর কাউকে পাওয়া যাবে না। উত্তরে শেখ ফজলে নূর তাপস তখন বলেছিলেন, মাগুরছড়ায় অক্সিডেন্টাল কাজ করছে। তাদের সঙ্গে চুক্তি করার সময় বলা হয়েছিল, অক্সিডেন্টাল বিশ্বের সবচেয়ে বড় কোম্পানি! টেংরাটিলায় কাজ করছে নাইকো। তাদেরও বিশ্বের বড় কোম্পানি বলে অনুমোদন দেয়া হয়েছিল! এখন গ্যাজপ্রমকে বলা হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কোম্পানি! আসলে বড় কে? তিনি এসব আন্তর্জাতিক চুক্তি রহস্যজনক বলেও বৈঠকে জানান। এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত চুক্তি রাখলে গ্যাজপ্রম কূপ খনন না করে চলে যাবে বলে হোসেন মনসুর যে তথ্য সংসদীয় কমিটিকে দিয়েছিলেন, সেটি সম্পূর্ণ রহস্যজনক ও মিথ্যা। মূলত আন্ডারহ্যান্ড ডিলিংয়ের কারণে চুক্তিতে এ ধরনের কোনো শর্ত রাখা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, এটি করে শত কোটি টাকার বেশি ঘুষ ও আন্ডারহ্যান্ড ডিলিং হয়েছে সিন্ডিকেটের। এর সঙ্গে হোসেন মনসুর ও তৌফিক-ই-ইলাহী জড়িত বলেও তাদের ধারণা। বিশেষজ্ঞরা গ্যাজপ্রমের সঙ্গে ১৯৩ মিলিয়ন ডলারের ১০টি কূপ খননের চুক্তিটি দুর্নীতি দমন কমিশনকে দিয়ে স্বাধীনভাবে তদন্ত করানোরও দাবি জানান। এতে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে বলেও ধারণা করছেন তারা।

সংসদীয় কমিটির ৩৭তম বৈঠকে জানানো হয়, গ্যাজপ্রমের সঙ্গে ১০টি কূপ খনন সংক্রান্ত চুক্তিতে কোনো দুর্ঘটনায় গ্যাসক্ষেত্র, গ্যাসক্ষেত্রের গ্যাস, সম্পদ, মানুষ, আনুষঙ্গিক স্থাপনা বা পরিবেশের কোনো ক্ষতি হলে বাংলাদেশ কিভাবে ক্ষতিপূরণ পাবে, কত টাকা ক্ষতিপূরণ পাবে কিংবা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য কোনো মামলা-মোকদ্দমা করা যাবে কিনা সে সংক্রান্ত বিধান রাখেনি পেট্রোবাংলা। ওই বৈঠকে কমিটির সদস্য ইসরাফিল আলম বলেছেন, গ্যাজপ্রমের সঙ্গে করা পেট্রোবাংলার চুক্তিতে যথেষ্ট মূল্য নির্ধারণের সুযোগও রাখা হয়নি। এখানে কমপেটেটিভ টেন্ডার প্রক্রিয়ার সুযোগ দেয়া হয়নি। অনুসরণ করা হয়নি ইন্টারন্যাশনাল বিডিং প্রক্রিয়া। এজন্য পুরো প্রকল্পটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তিনি বলেন, যদি আন্তর্জাতিক বিডিং প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হতো তাহলে বড় অংকের টাকা সাশ্রয় হতো। ওই বৈঠকে তিনি বলেছিলেন, কূপ খননের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্থানীয় প্রযুক্তি ও জনবলের দক্ষতা থাকার পরও তাদের কার্যাদেশ দেয়া হয়নি। এতে বিপুল অংকের টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেছেন, গ্যাস উত্তোলনের চেয়ে গ্যাস প্রাপ্যতা যাচাইয়ের কাজটি যথেষ্ট ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। কিন্তু এক্ষেত্রে পেট্রোবাংলা গ্যাস প্রাপ্যতা যাচাইয়ের কাজটি স্থানীয় কোম্পানির মাধ্যমে করালেও রহস্যজনক কারণে সহজ কাজটি তুলে দিয়েছে বিদেশী গ্যাজপ্রমের হাতে। ওই বৈঠকে তিনি আরও বলেছিলেন, পেট্রোবাংলা গ্যাজপ্রমের সঙ্গে করা চুক্তির অনেক গুরুত্বপূর্ণ শর্ত গোপন করেছে। এমনকি সংসদীয় কমিটির সদস্যদের পর্যন্ত অনেক তথ্য জানানো হয়নি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, যেহেতু এ জাতীয় চুক্তি করা হয়ে থাকে রাষ্ট্রের কর্মচারীদের মাধ্যমে। তাই রাষ্ট্রের মালিক পক্ষ যারা জনপ্রতিনিধি তাদের কাছে কোনো কিছু গোপন করা ঠিক হয়নি পেট্রোবাংলার।

এদিকে কূপ খনন সংক্রান্ত কার্যাদেশ দেয়ার আগে পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে প্রতিটি কূপ যে পরিমাণ গ্যাস থাকার কথা বলা হয়েছিল, এখন দেখা যাচ্ছে কিছু কিছু কূপ সে পরিমাণ তো দূরের কথা কোথাও অর্ধেক, কোথাও চার ভাগের এক ভাগও গ্যাস নেই। এ প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, মূলত এটি ছিল হোসেন মনসুর ও তৌফিক-ই-ইলাহীর এক ধরনের অপকৌশল। বিশেষ করে যখনই হোসেন মনসুরের মেয়াদকাল শেষ হয়ে যায় তার আগে হঠাৎ করে তিনি সংবাদ সম্মেলন ডেকে বড় ধরনের গ্যাস পাওয়ার তথ্য ফলাও করে প্রচার করেন। কিন্তু বাস্তবে তার কিছুই পাওয়া যায়নি। এ প্রসঙ্গে বলা যায়, সংবাদ সম্মেলন করে ড. হোসেন মনসুর সুনেত্রা গ্যাসক্ষেত্র থেকে বিপুল পরিমাণ গ্যাস আবিষ্কারের তথ্য ফলাও করে প্রচার করেন। এ কাজে তিনি ১০০ কোটি টাকার বেশি অর্থ খরচও করেন। কিন্তু খনন শেষে দেখা গেছে, সুনেত্রা গ্যাসশূন্য। অভিযোগ, এটা জানার পরও রাষ্ট্রীয় অর্থ গচ্চা দেয়ার জন্য আরও খনন ও সার্ভে অব্যাহত রাখা হয়েছে। গ্যাজপ্রমের সঙ্গে চুক্তিতে ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত শর্ত না রাখা প্রসঙ্গে পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান ড. হোসেন মনসুর সংসদীয় কমিটির এক বৈঠকে ক্ষোভের সঙ্গে বলেছিলেন, পিএসসি চুক্তি আর ঠিকাদারের মধ্যে চুক্তিতে পার্থক্য আছে। পার্থক্য হচ্ছে কোনো ব্লকের একটিতে গ্যাস পাওয়া গেল অন্যটিতে পাওয়া গেল না- সেক্ষেত্রে সব খরচ যেটিতে পাওয়া গেছে তা থেকে পুষিয়ে নেয়া যাবে। কারও পকেট থেকে নগদ অর্থ দেয়া লাগে না। কিন্তু গ্যাসপ্রমের সঙ্গে ১০টি কূপ খনন সংক্রান্ত চুক্তি অনুযায়ী তারা ১০টি কূপ খনন করে দেবে বিনিময়ে ১৯৩ মিলিয়ন ডলার নিয়ে যাবে। এখন ব্লো-আউটের ক্ষতিপূরণ তো ১৯৩ মিলিয়নের বেশি হতে পারে না। এ সময় সংসদীয় কমিটির সদস্য ইসরাফিল আলম জানান, এর আগে ব্লো-আউটের জন্য প্রকৃতি ও মানুষের ক্ষতি হয়েছে কিন্তু ক্ষতিপূরণ সঠিকভাবে দেয়া হয়নি। তারপরও গ্যাজপ্রম চুক্তিতে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি গুরুত্ব দেয়া হয়নি। চুক্তির কাগজের মধ্যে গরমিলও রয়েছে। তিনি চুক্তির পূর্ণাঙ্গ কপি সংসদীয় কমিটির কাছে উত্থাপনের জন্য পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যানকে জানালেও চেয়ারম্যান গুরুত্ব দেননি। এ সময় চেয়ারম্যান ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, চুক্তির সাইলেন্ট ফিচারগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু শর্ত অনুযায়ী চুক্তির পূর্ণাঙ্গ কপি দেয়া সম্ভব নয়। এ সময় সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম জানান, বাংলাদেশের যে কোনো চুক্তি সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করতে হবে। রাষ্ট্রপতি সেটি সংসদে পেশ করার ব্যবস্থা করবেন। বিশেষজ্ঞদের ধারণা মূলত চুক্তিতে বড় ধরনের গরমিল থাকায় তারা চুক্তির পূর্ণাঙ্গ কপি সংসদীয় কমিটির কাছে উত্থাপন করতে ভয় পেয়েছিলেন।

এদিকে শুধু গ্যাজপ্রমের চুক্তিই নয়, তৌফিক-মনসুর সিন্ডিকেট দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে বিদেশীদের পক্ষে আরও অসংখ্য রাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী চুক্তি করেছেন। বিনিময়ে তারা ব্যাপকভাবে লাভবানও হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, বিদেশী কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে এক্ষেত্রে তারা কোটি কোটি টাকা ঘুষও নিয়েছেন। সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহীর বিরুদ্ধে শেভরন কেলেঙ্কারিরও অভিযোগ উঠেছিল। জানা গেছে, উপদেষ্টা থাকাকালীন তৌফিক-ই-ইলাহী মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানি শেভরনকে ৫৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের (৩৭০ কোটি টাকা) একটি গ্যাস কম্প্রেসর কেনার কাজ পাইয়ে দিয়ে মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়েছেন। তৌফিক-ই-ইলাহীর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে লিখিত এ অভিযোগ করেন পেট্রোবাংলার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষে জনৈক আবু সিদ্দিকী। প্রধানমন্ত্রী অভিযোগটি তদন্তের নির্দেশ দেন। জ্বালানি মন্ত্রণালয় পেট্রোবাংলার কাছে তদন্তের ভার দিলেও পেট্রোবাংলা কোনো তদন্ত না করে মন্ত্রণালয়ের কাছেই তা ফিরিয়ে দেয়। পরবর্তী সময়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয় তদন্তের দায়িত্ব নেয়। তবে তৎকালীন জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ মোহসিনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ থাকায় এ তদন্তের কোনো ফল আজও প্রকাশিত হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এনামুল হক, সচিব মোহাম্মদ মোহসিন পারস্পরিক যোগসাজশে আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানি শেভরনকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্রায় ৩৭০ কোটি টাকার সমান ৫২ দশমিক ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে কম্প্রেসর স্টেশন বসানোর কাজ পাইয়ে দেয়। অভিযোগে বলা হয়, কাজটি শেভরনকে পাইয়ে দেয়ার জন্য তৌফিক-ই-ইলাহী পাঁচ মিলিয়ন ডলার (৩৫ কোটি টাকা) ঘুষ নিয়েছেন।

অনলাইন মিডিয়া উইকিলিকসের ফাঁস করা গোপন তারবার্তা থেকেও শেভরনের গ্যাস কম্প্রেসর কেনার সঙ্গে তৌফিক-ই-ইলাহীর সংশ্লিষ্টতার বিষয় জানা যায়। ২০১০ সালের ২১ ডিসেম্বর ফাঁস হওয়া উইকিলিসের এক গোপন তারবার্তায় বলা হয়, চলমান জ্বালানি সংকট থেকে উত্তরণের একটা উপায় হতে পারে বাংলাদেশের প্রধান সরবরাহ লাইনে কম্প্রেসর যুক্ত করা। কম্প্রেসর যুক্ত করলে শেভরনের বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস সরবরাহ বাড়বে। তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী জবাবে জানান, বাংলাদেশ শেভরনকে তিনটি কম্প্রেসরের মধ্যে একটি বসানোর অনুমোদন প্রদানের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে।

উইকিলিকসে ফাঁস হওয়া গোপন তারাবার্তার সূত্র ধরে দেশের জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শেভরনের কাছ থেকে একটি কম্প্রেসর কেনার ব্যাপারে আগেই তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে কথা দিয়েছিলেন তৌফিক-ই-ইলাহী। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই কম্পেসার কেনার পুরো বিষয়টিও হয়েছিল অনিয়মের মধ্য দিয়ে। বলা হয়েছে, যদি নতুন একটি কম্প্রেসর মেশিন কেনা হয়, তাহলে তার বাজারমূল্য হতো ৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সেখানে পুরনো কম্প্রেসর মেশিন শেভরনের কাছ থেকে কেনা হয়েছে প্রায় ৫৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। যেহেতু এটা পুরনো মেশিন, তাই এটার দাম ৩৫ মিলিয়ন ডলারও নয়।
এছাড়া বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তৌফিক-ই-ইলাহী জ্বালানি সচিবের দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে কানাডিয়ান কোম্পানি নাইকো রিসোর্সকে ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে কাজ পাইয়ে দেয়ার অভিযোগ ওঠে। এ অভিযোগে গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দায়ের হওয়া নাইকো মামলায় তৌফিক-ই-ইলাহীকে গ্রেফতার করা হয় ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর। নাইকো মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় যে, তার মাধ্যমে বিনা দরপত্রে নাইকোকে গ্যাসক্ষেত্র বরাদ্দ দেয়ার ফলে রাষ্ট্রের বিপুল ক্ষতিসাধিত হয়েছে। উল্লেখ্য, একটি অভিজ্ঞতাহীন কোম্পানি নাইকো রিসোর্সকে টেংরাটিলায় গ্যাস উত্তোলনের কাজ দেয়া হয়। পরে ওই কূপটিতে আগুন লেগে সাড়ে সাতশ’ কোটি টাকার গ্যাস পুড়ে যায়। অভিযোগ আছে, আগুন লাগার পেছনে নাইকোরই হাত রয়েছে।

মৌলভীবাজার জেলার মাগুরছড়ায় ১৯৯৭ সালে মার্কিন কোম্পানি অক্সিডেন্টাল আগুন ধরিয়ে দিলে ভয়াবহ ক্ষতিসাধিত হয় গ্যাসকূপ ও চারপাশের এলাকায়। এ কারণে বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার মতো ক্ষতিসাধিত হয়। অক্সিডেন্টাল থেকে ক্রমান্বয়ে হাতবদল হয়ে এলাকাটি বর্তমানে শেভরনের হাতে। তবে প্রধানমন্ত্রীর সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টার সুপারিশে এ ক্ষতিপূরণ মাফ করে দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি থেকে শেভরনকে রেহাই দেয়া হয়েছে। যুগান্তর
http://www.amadershomoi.com/content/2013/12/01/middle0224.htm

ভিত্তিপ্র¯ত্মর আর উদ্বোধনের

ভিত্তিপ্র¯ত্মর আর উদ্বোধনের হিড়িক

ডেস্ক রিপোর্ট : প্রধানমন্ত্রী ১১ নভেম্বর খাগড়াছড়ির রামগড় ৫০ শয্যা হাসপাতাল, এক হাজার মেট্রিক টন খাদ্যগুদাম, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ ভবনসহ বিভিন্ন নবনির্মিত অবকাঠামো উদ্বোধন করেন। ছবি: পিআইডিপ্রধানমন্ত্রী ১১ নভেম্বর খাগড়াছড়ির রামগড় ৫০ শয্যা হাসপাতাল, এক হাজার মেট্রিক টন খাদ্যগুদাম, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ ভবনসহ বিভিন্ন নবনির্মিত অবকাঠামো উদ্বোধন করেন। ছবি: পিআইডিনির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কিছু দিন আগে পর্যন্ত নতুন প্রকল্প অনুমোদন এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের হিড়িক পড়ে গিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী গত অক্টোবর ও চলতি নভেম্বর মাসে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ১৯৩টি প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ১২১ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন বলে জানা গেছে। প্রকল্প উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের সাফল্যের কথা তুলে ধরে এসব প্রকল্পকে এলাকাবাসীর জন্য তাঁর সরকারের উপহার হিসেবে উল্লেখ করেন। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য আওয়ামী লীগকে আবারও ক্ষমতায় বসাতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সরকারের মেয়াদের শেষ সময়ে এসে সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এসব প্রকল্পের উদ্বোধন নিয়ে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সরকারের রুটিন কাজ হলেও নৈতিকতার দিক থেকে এটাকে দৃষ্টিকটু হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। এর মাধ্যমে নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরির পথ বন্ধ হয়ে যায় বলে মনে করেন তাঁরা।

প্রধানমন্ত্রী ১৯ নভেম্বর বরগুনায় সরকারি মহিলা কলেজ ভবন, জেলা সার্ভার স্টেশনসহ বিভিন্ন নবনির্মিত অবকাঠামো উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে তিনি বরগুনা সদর হাসপাতালকে ৫০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, তালতলী উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, আমতলী থানা ভবনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ছবি: পিআইডিসবশেষ গত ১৯ নভেম্বর ঢাকার বাইরে পটুয়াখালীর কলাপাড়া পায়রা বন্দর এলাকায় সারোয়ার জাহান পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে জনসভায় কলাপাড়া পায়রা সমুদ্রবন্দর, পটুয়াখালী মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, পটুয়াখালী শিশু একাডেমী কমপ্লেক্স, উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন কলাপাড়া শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু, পটুয়াখালী আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়, বাউফল থানা ভবন, বানৌজা শের-ই-বাংলা নৌঘাঁটির। ওই দিনই বরগুনার তালতলী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে বসে উদ্বোধন করেন বরগুনা জেলা সার্ভার স্টেশন, তালতলী উপজেলার দক্ষিণ ঝাড়াখালী এসইএসডিপি নতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভবন, বরগুনা সরকারি মহিলা কলেজের একাডেমিক ভবন নির্মাণ ও ট্যাংরাগিরি সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ইকো-ট্যুরিজম সুযোগ বৃদ্ধিকরণ কাজের। সেখানে বসেই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন নতুন করে তৈরি তালতলী উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন, বরগুনা সদর হাসপাতালকে ৫০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, বরগুনা-তালতলী-সোনাকাটা সড়কের বরগুনা জেলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বরগুনা জেলার আমতলী থানা ভবন, গোলবুনিয়া প্রতিরক্ষামূলক কাজের আমতলী-তালতলী-সোনাকাটা সড়কের ৮২০০ মিটার চেইনেজে ৬৬ মিটার (কচুপাত্রা) গার্ডার ব্রিজ, ইসিআরআরপির আওতায় দক্ষিণ সওদাগরপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেন্টার, আমতলী চৌরাস্তা বক্স কালভার্ট ও আমতলী উপজেলাধীন লোচা প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেন্টারের।

প্রধানমন্ত্রী ১৯ নভেম্বর পটুয়াখালীতে পায়রা সমুদ্রবন্দর, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ও শিশু একাডেমী কমপ্লেক্স উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে বানৌজা শের-ই-বাংলা নৌঘাঁটি, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ও বাউফল থানা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ছবি: পিআইডিএ ছাড়া নভেম্বর মাসে রাজবাড়ী, নওগাঁ, মৌলভীবাজার, খাগড়াছড়ি, মাদারীপুরের শিবচর, গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া বাগেরহাটের মংলা, রামপাল, গাজীপুরের কাশিমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ৬৩টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং ৭৬টি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। আর গত অক্টোবরে করেছেন ১১৭টি প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ৫৮টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন।
এদিকে গত ৫ নভেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন হয়েছে ৪ হাজার ৭৯৬ কোটি টাকার ১৫টি প্রকল্প। এর আটটিকেই নির্বাচনমুখী বলে উল্লেখ করেছেন পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। স্থানীয় সরকার, যোগাযোগ, শিল্প, স্বাস্থ্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এসব প্রকল্প উদ্দেশ্যমূলকভাবেই নেওয়া হয়েছে বলে তাঁরা মন্তব্য করেন। বাস্তবে এর সুফল পাওয়া যাবে না বলেই তাঁদের ধারণা। এদিকে ১২ নভেম্বরের পরের বৈঠকে অনুমোদন হয়েছে ৪ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকার ১৭টি প্রকল্প। এর কয়েকটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।

প্রধানমন্ত্রী ৩১ অক্টোবর গাজীপুরে ভাওয়াল বদরে আলম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মাঠে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক, সাসেক সড়ক সংযোগ মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ, দ্বিতীয় কাঁচপুর, দ্বিতীয় মেঘনা ও দ্বিতীয় গোমতী সেতু নির্মাণ এবং বিদ্যমান সেতু পুনর্বাসন প্রকল্প, টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়াম, টঙ্গী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল প্রকল্পসহ অন্যান্য স্থাপনা উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে গাজীপুর ৫০০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালসহ অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ছবি: পিআইডি২৭ অক্টোবর থেকে নির্বাচনী আবহাওয়া চলে আসায় এরপর প্রধানমন্ত্রীর নতুন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিয়ে যে নির্বাচনী প্রচার করছেন, সেটাকে নেতিবাচকভাবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আকবর আলি খান এ বিষয়ে প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, নির্বাচনের সময়সীমা নির্ধারণ হয়ে গেলে নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে এমন কোনো কাজ করা ঠিক না। সাধারণভাবে নির্বাচনের সময়সীমার বিষয়টি নির্ধারিত হয় সংসদ ভেঙে দিলে কিংবা সংসদের পাঁচ বছর পূর্তির ৯০ দিন আগে। এই সময়ে যেসব উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন হচ্ছে বা হয়েছে সেগুলোর বিষয়ে কথা বলা উচিত নির্বাচন কমিশনের এবং যাঁরা নির্বাচন করবেন তাঁদের। এখন পর্যন্ত কারও কাছ থেকে আপত্তির কথা শোনা যায়নি। তিনি আরও বলেন, এই সময়ে এমন কোনো রুটিন বা নীতিনির্ধারণী কাজ করা ঠিক না, যা নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে বা পরবর্তী সরকার অগ্রাহ্য করতে পারে। এ বিষয়ে আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকলেও নৈতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেও এই রীতি নীতি মেনে চলা হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছিলেন, ২৭ অক্টোবর থেকে নির্বাচনী কাউন্ট ডাউন শুরু। সে সময়ের পরও প্রধানমন্ত্রী নতুন নতুন প্রকল্পের উদ্বোধন করে প্রকাশ্যে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। দলের জন্য ভোট চাইছেন। নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে কেন পদক্ষেপ নিল না, আমার মাথায় আসে না। নির্বাচনকালীন সরকারের কাজ হলো “নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড” বা সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরিতে নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করা। কিন্তু এটা তৈরির জন্য যে সময় ছিল, তার অর্ধেকটাই চলে গেছে।’ এখন যে আচরণবিধি রয়েছে, তা দিয়ে কতটা সমান সুযোগ করা সম্ভব তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন সাবেক এই নির্বাচন কমিশনার।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে এটাকে নেতিবাচক বলা যাবে না। কিন্তু রাজনৈতিক এবং নৈতিক অবস্থান থেকে এটা অগ্রহণযোগ্য। নির্বাচনকে সামনে রেখে এটাকে ভোট চাওয়ার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা অনৈতিক ও দৃষ্টিকটু। তিনি আরও বলেন, নৈতিকতা ও স্বার্থের দ্বন্দ্ব বিবেচনায় রাষ্ট্রীয় অবস্থান ব্যবহার করে উদ্বোধনের সংস্কৃতি গণতন্ত্রের জন্য সুখকর নয়। এ ক্ষেত্রে শুধু প্রধানমন্ত্রী নন, বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে পাওয়া সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে একই সময়ে রাজনৈতিক জনসভা এবং ভোট চাওয়া নৈতিকতার দিক থেকে গ্রহণযোগ্য নয় বলে উল্লেখ করেন ইফতেখারুজ্জামান। প্রথম আলো্

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla