Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

"বাকশালীদের দিন শেষ, তারেক জিয়ার বাংলাদেশ"

ভিন্ন জনের ভিন্ন কারণ থাকতে পারে, আমার জন্য আওয়ামী বিরোধিতার মূল কারণ ডক্টর মোহম্মদ ইউনূস। বিশ্বায়নের যুগে বাংলাদেশের মত জনসংখ্যাবহুল তৃতীয় বিশ্বের দেশকে অর্থনৈতিক ভিত্তির উপর দাঁড়াতে চাইলে চাই উন্নত বিশ্বের সার্বিক সহযোগীতা। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার দাবিদার বৈরী দুটি রাজনৈতিক দল এ কাজে কতটা সফল তার প্রমাণ আমাদের হাতে আছে। দাতা গুষ্টির কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে বিদেশ হতে দয়া দাক্ষিণ্য এনে বার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন একটা উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারেনা। তার জন্য চাই উচ্চাকাক্ষী এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। যারা সুদকে অভিশাপ আখ্যা দিয়ে ক্ষুদ্র ঋণ ব্যবস্থা নিয়ে আহাজারি করছেন তাদের বেশির ভাগই দলকানা নেত্রীদাস অথবা নেত্রীকানা দলদাসের সদস্য। নেত্রী সুদখোর বলেছেন বিধায় এসব দাসদের মুখেও সুদখোরের গিবত। অবস্থা রাতারাতি পালটে যাবে যদি আগামীকাল একই নেত্রী ডক্টর মোহম্মদ ইউনূসকে অন্যভাবে আখ্যায়িত করেন। এমনটাই আজকের বাস্তবতা। গোটা বিশ্বের অর্থনীতি চলে সুদের উপর। আমাদের ব্যবসা বানিজ্য, বিনিয়োগ, দৈনন্দিন জীবন, রিটায়ারমেন্ট সহ সবকিছু এখন ব্যাংক ভিত্তিক। ব্যাংক মানেই সুদ। তাই সুদ নিয়ে রাজনীতি করার রাস্তা সীমিত। নেত্রীরা বিদেশ হতে অল্প সুদে ঋণ এনে দেশে বেশি সুদে লগ্নি খাটান এবং তাতে যা লাভ হয় তা দিয়ে সরকার চালান। মন্ত্রি, প্রধানমন্ত্রী সে সরকারেরই অংশ। এ অর্থে তারা সবাই সুদখোর। ডক্টর মোহম্মদ ইউনূসকে সুদখোর বলে সুদকে অবজ্ঞা করা এক ধরণের হিপোক্রেসি এবং নোংরা রাজনীতি। আর্ন্তজাতিক স্বীকৃতির প্রতি আমাদের প্রধানমন্ত্রীর দুর্বলতা অনেক পুরানো রোগ। এ কাজে লবিং করার জন্য দেশে অলিখিত মন্ত্রনালয় কাজ করে থাকে। আগের টার্মে আজকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ম খা আলমগীরের নেত্রীত্বে সরকারী অর্থায়নে গোটা এক বাহিনী নিয়োজিত ছিল পদক যোগারের কাজে। গোটা দশেক পিএইচডি সে মিশনেরই বাই-প্রোডাক্ট। এ টার্মে পদক আহরণে ভাটা লাগে মূলত ডক্টর মোহম্মদ ইউনূসের কারণে। এবং এখানেই শুরু ইউনূস সাগা। গ্রামীন ব্যাংকের সাথে যৌথভাবে নোবেল পাওয়াটা যেন ছিল বেচারার জন্য রাষ্ট্রীয় অপরাধ। পাশাপাশি আর্ন্তজাতিক ভাবে স্বীকৃত চোর আবুল হোসেনকে দেশপ্রেমিক আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী কেবল নিজের অযোগ্যতাই প্রমাণ করেননি বরং প্রমাণ করেছেন রাষ্ট্রীয় চোরদের আসল অভিভাবক তিনি নিজে। ইউনূস দেবতা নন। তিনি নিজেও তা দাবি করেন না। তাকে দেবতার আসনে বসানোর কাজে গোপন কোন মিশনও কাজ করছেনা। বরং উন্নত বিশ্ব সহ বাকি বিশ্বের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা ই ডক্টর মোহম্মদ ইউনূসকে কাছে টানছেন এবং আগ্রহ প্রকাশ করছেন ক্ষুদ্রঋণ এবং সামাজিক ব্যবসায়। আজকে ডক্টর মোহম্মদ যে আসনে বসে আছেন তার কাছাকাছি পৌঁছতে শেখ হাসিনাকে হিমালয় পাড়ি দিতে হবে। এমনটা বুঝতে পেরেই হয়ত ইউনূসের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছেন রাষ্ট্রের সবকটা ইনস্টিটিউশনকে। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য শেখ হাসিনা ইদানিং যা করছেন তা নিয়ে যারা চিন্তিত তাদের ভাল করেই জানা আছে দেশীয় রাজনীতির দুই রাজনৈতিক শক্তি একে অপরের পরিপূরক, মুদ্রার এ পীঠ ও পীঠ। দুই মহিলার একজনকে ক্ষমতায় দেখতে চাইবো অথচ হরতাল, জ্বালাও, পোড়াও দেখতে চাইব না এ অলীক ও অবাস্তব চাওয়া। রাজপথের লাশ নিয়ে আজকে যারা আহাজারি করছেন তারা আসলে মৃতদের জন্য আহাজারি করছেন না, করছেন লাশকে পুঁজি বানিয়ে নির্বাচনী মুনাফার জন্য। এতটাই রুগ্ণ আমাদের রাজনীতি এবং এর সাথে জড়িত দলদাসের দল।

তারেক জিয়ার অর্থপাচার সংক্রান্ত মামলার রায় বেরিয়েছে। অনেকের জন্য এ রায় ছিল বিনা মেঘে বজ্রপাতের মত। হয়ত খোদ তারেক জিয়ার আইনজীবীরাও এমনটা আশা করেননি। যার প্রমান রায়ের আগে বিবাদী পক্ষের প্রতিবাদের প্রস্তুতি। বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা এবং এর উচ্চ নিম্ন আদালত সরকারের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সরকার প্রধান এবং উনার লেফটেন্যান্টদের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার কাজে আদালত ক্ষমতাসীনদের সাথে কাঁধে কাঁধ রেখে কাজ করে থাকে। তাই সবাই আশা করছিল তারেক জিয়াকে শাস্তি প্রধানের মাধ্যমে আদালত আরও একজন শত্রু নিধনে সরকার প্রধানকে সহযোগীতা করবে। ঠিক যেমনটা করা হয়েছিল ডক্টর মোহম্মদ ইউনূসের বেলায়। কি এমন ঘটল যার দরুন নিম্ন আদালতের বেতনভুক্ত কর্মচারী বিচারক মহাশয় সরকারকে হতাশ করলেন? এখানে দুটি সম্ভাবনা থাকতে পারে। এক, এ রায় সরকারের নতুন কোন মিশনের অংশ; দুই, বিচারক মহাশয় নির্বাচনী হাওয়া অনুভব করছেন এবং আগ বাড়িয়ে নিজের পদোন্নতি নিশ্চিত করার জন্যে এ রায় দিয়েছেন। সন্দেহ নেই বিএনপি ক্ষমতা ফিরে পেলে এই বিচারকের স্থান হবে উচ্চ আদালতে। বিচার ব্যবস্থার এই কলঙ্কিত অধ্যায় ধারাবহিকভাবে অবদান রেখে যাচ্ছে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতায়। সরকারের হাতে আরও ১৩ মামলার অস্ত্র আছে যা দিয়ে তারেক জিয়াকে ঘায়েল করা যাবে। হতে পারে অর্থ পাচার মামলার রায় সরকারের রাজনৈতিক কৌশলের অংশ যার মূল আর্কিটেক্ট আমারের প্রতিবেশী। তবে একটা বাস্তবতা এখানে উল্লেখ না করলে তারেক জিয়া গংদের প্রতি অবিচার করা হবে। খাম্বা মামুনের মাধ্যমে জিয়া পরিবারের দুর্নীতির যে চিত্র আমাদের সামনে তুলে ধরা হয়েছিল তা অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে বর্তমান সরকারের লুটপাটের কাছে। সরকারের অর্থমন্ত্রী বলছেন লুট হয়ে যাওয়া ৪০০০ কোটি টাকা এমন কোন অংক নয় যা নিয়ে সময় ব্যায় করতে হবে। স্টক মার্কেট এবং কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্রকল্পের মাধ্যমে যে টাকা পকেটস্থ করা হয়েছে তার তুলনায় খাম্বা মামুনদের খাম্বা চুরি মহাসমুদ্রে এক ফোটা বৃষ্টি মনে হতে বাধ্য। তারেক জিয়াকে দুর্নীতির দায়ে জেলে নিতে সরকারের কালো বিড়ালদের ক্ষমতা হারানোর পরবর্তী বাস্তবতাও চিন্তা করতে হবে। হতে পারে এটাও একটা কারণ।

বাংলাদেশের রাজনীতি ও রাজনৈতিক ক্ষমতা দুটি পরিবারের জন্য সংবিধিবদ্ধ সম্পত্তি। পাকিস্তান আমলে যা ছিল ২২ পরিবারের তা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে এসে ঠেকেছে দুইয়ে। ছাগলের ৩নং বাচ্চা হিসাবে আমরা ১৪ কোটি ৯৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৮ জন নাগরিক চাইলে এ নিয়ে গর্ব করতে পারি। 'বাকশালীদের দিন শেষ, তারেক জিয়ার বাংলাদেশ...'আদালতে শত শত শিক্ষিত আইনজীবীদের এই একটা স্লোগানই নির্ধারন করে আমাদের গন্তব্য। অন্তত আগামী পাচ বছরের জন্য।

Comments

যে কারণে ইউনূসের বিরুদ্ধে

যে কারণে ইউনূসের বিরুদ্ধে হাসিনা

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিহিংসার কারণেই গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে দ্বিতীয় দফায় বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে ভারতের বহুল প্রচারিত ইংরেজি দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়ার একটি নিবন্ধে। বৃহস্পতিবার পত্রিকাটির অনলাইন সংস্করণে এর 'টিওআই কন্ট্রিবিউটর' রাশিদুল বারি 'দ্য নেভার-এন্ডিং ট্রায়াল অব মুহাম্মদ ইউনূস' নামে এ নিবন্ধটি লিখেছেন।

এতে ইউনূসের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার নেতিবাচক আচরণের তিনটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। নিবন্ধে বলা হয়, "মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের পর থেকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসই হচ্ছেন প্রথম ব্যক্তি, যিনি নোবেল পুরস্কার, মার্কিন প্রেসিডেনশিয়াল মেডেল, মার্কিন কংগ্রেসনাল মেডেলের মতো 'ট্রিফেক্টা' (তিনটি পুরস্কার) লাভ করেছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে ঠিকই দ্বিতীয়বারের মতো বিচারের মুখোমুখি করাচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, ড. ইউনূস সরকারের যথাযথ অনুমতি ছাড়া তিনি বিভিন্ন আয় করেছেন। এর মধ্যে নোবেল পুরস্কার এবং তার বই বিক্রি করে উপার্জিত আয়ও রয়েছে। কিন্তু নতুন করে এ বিচারের কথা শুনে হতবুদ্ধি হয়ে পড়েছে পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ। এর মধ্যে গ্রামীণ ব্যাংকের ৮৩ লাখ দরিদ্র নারী থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও রয়েছেন। এ অবস্থায় প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে কে সঠিক। ড. ইউনূসের নিজ দেশের নেতা সঠিক, নাকি যিনি মুক্ত পৃথিবীর নেতা তিনি সঠিক? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে ইউনূসের বিরুদ্ধে প্রথম বিচারের বিষয়টির দিকে তাকাতে হবে।"

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইউনূসের বিরুদ্ধে প্রথম বিচার শুরু করেছিলেন ২০১০ সালে। যখন ওই বছরের ৩০ নভেম্বর নরওয়ের টেলিভিশন সে দেশের টম হেনিম্যান নামে এক ব্যক্তির তৈরি ক্ষুদ্রঋণবিষয়ক একটি ডকুমেন্টারি প্রচার করেছিল। এর এক মাস পরই শেখ হাসিনা ড. ইউনূসকে বিচারের মুখোমুখি করান। ওই প্রামাণ্যচিত্রে অভিযোগ করা হয়েছিল, ড. ইউনূস ১৯৯৬ সালে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলার অবৈধভাবে স্থানান্তর করেছিলেন। শেখ হাসিনা এ অস্ত্রটিই ইউনূসের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেন এবং তিনি তাকে 'রক্তচোষা' হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এরপর শেখ হাসিনা তাকে চাকরিবিধি অনুযায়ী ৬০ বছরের বেশি বয়স্ক বলে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত করেন। এর পর থেকে অনেকেই ভেবেছিলেন হয়তো ইউনূসের বিরুদ্ধে অ্যাকশন এখানেই শেষ। কিন্তু শেখ হাসিনা গ্রামীণ ব্যাংকের বিরুদ্ধেও তার আক্রমণ অব্যাহত রাখেন। তিনি ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের ওপরও চাপ অব্যাহত রাখেন এবং এর ক্ষমতা খর্ব করার চেষ্টা চালিয়ে আসেন আর ব্যাংকটি ভেঙে ১৯ টুকরা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু এ বছরের সেপ্টেম্বরে এসে দেখা গেল শেখ হাসিনার মিশন স্বয়ং ইউনূসকেই ধ্বংস করা। তিনি সিদ্ধান্ত নেন ইউনূসকে আবারো বিচারের মুখোমুখি করার।

ড. ইউনূসও তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ চ্যালেঞ্জ করেন এবং দাবি করেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন, রাজনৈতিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ওবামা প্রশাসনও প্রধানমন্ত্রীকে ইউনূসের ব্যাপারে ন্যায় ও স্বচ্ছ আচরণের আহ্বান জানান।''

এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিহিংসার মধ্য দিয়ে সেই বিখ্যাত আর্কিমিডিস-জেনারেল মারসিলাস দ্বন্দ্বই আধুনিক যুগে উপস্থাপিত হলো। রোমান সৈনিকরা গণিতবিদ আর্কিমিডিসকে হত্যা করেছিল। কারণ তার অপরাধ ছিল, তিনি জেনারেল মারসিলাসের সঙ্গে বৈঠক করতে অস্বীকার জানিয়েছিলেন এবং তিনি বলেছিলেন, 'আমার সার্কেলের (বৃত্ত) ক্ষতি করো না। একই প্রতিক্রিয়াশীল চেতনা কাজ করছে ইউনূসের বেলায়।”

লেখক রাশিদুল বারি প্রশ্ন তোলেন, “রোমান সৈনিকরা গণিতের জনককে হত্যা করেছিল, কারণ তারা মূর্খ ছিল। তারা ভেবেছিল, একটি জ্যামিতির সমস্যার সমাধানের চেয়ে জেনারেল মারসিলাসের সঙ্গে বৈঠক করাই অধিক গুরুত্বপূর্ণ। এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আচরণ কি সেই অজ্ঞতারই প্রতিচ্ছবি? মূলত তিনটি ঘটনা শেখ হাসিনাকে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে প্ররোচিত করেছে। আর তা হলো নোবেল পুরস্কার, হিংসা ও রাজনীতি।”

রাশিদুল বারির মতে, “প্রথমবার ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নোবেল পুরস্কার বিজয়কে মেনে নিতে পারেননি শেখ হাসিনা। কারণ তার ধারণা ছিল, নরওয়েজিয়ান নোবেল শান্তি পুরস্কার কমিটি তাকেই এ পুরস্কার দেবে বলে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল। ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি পুরস্কার পাওয়ার জন্যই তিনি এমনটা আশা করেছিলেন। দ্বিতীয়ত, শেখ হাসিনার হিংসা। কারণ ইউনূস ক্রমেই বিখ্যাত এবং অনেক পুরস্কার অর্জন করতে থাকেন। হাসিনার ভয়, ইউনূসের এই খ্যাতি তার বাবা শেখ মুজিবকে ছাড়িয়ে যাবে। তৃতীয়ত, রাজনীতিতে ইউনূসের যোগদানের চেষ্টা।”

ড. ইউনূস স্বর্গর্ থেকে আসা কোনো ব্যক্তি নন এবং তিনি ভুলেরও ঊর্ধ্বে নন মন্তব্য করে লেখক রাশিদুল বারি বলেন, “আমি সঠিক জানি না, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিভাবে এই বিচার বন্ধ করবেন। তবে আমি এই আশা করতে পারি যে তিনি কখনোই তার সৈন্যদের আর লেলিয়ে দেবেন না, মারসিলাস যেভাবে আর্কিমিডিসের পেছনে সৈন্যদের লেলিয়ে দিয়েছিলেন।” সূত্র: কালের কণ্ঠ।

গ্লোবাল ভিশনারি অ্যাওয়ার্ড

গ্লোবাল ভিশনারি অ্যাওয়ার্ড পেলেন ড. ইউনূস
শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৩

নিউ ইয়র্ক থেকে এনা: ২০৩০ সালের পর কেমন বিশ্ব চাই আমরা- সেই আলোকে নানা কর্মকৌশল নিচ্ছে বিভিন্ন সংস্থা- গোষ্ঠী এবং দেশ। ব্যক্তি ইউনূস তার পরিকল্পনার কথা অনেক আগেই জানিয়ে দিয়েছেন এবং সেটি হচ্ছে ২০৩০ সালের পর একজন গরিব মানুষও থাকবে না এবং নিরাপদ বিশ্বের যাবতীয় শর্ত সে সময় পূরণ হয়ে যাবে। দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচিতে ক্ষুদ্রঋণের অবিস্মরণীয় ভূমিকার পাশাপাশি ড. ইউনূসের সামাজিক ব্যবসার নতুন চিন্তাধারাও আজ বিশ্বসভায় সমাদৃত হচ্ছে। আর এজন্যেই নিউ ইয়র্ক সিটি ইউনিভার্সিটির পৌনে ৩ লাখ ছাত্র-ছাত্রীর কাছে ‘সামাজিক ব্যবসার’ নিগূঢ় তথ্য উপস্থাপন করলেন তার জাদুকরি বক্তব্যে। এ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ক্ষুদ্রঋণের পর সামাজিক ব্যবসায় মানবতার কল্যাণ সাধনের যে ধারণা উদ্ভাবন করেছেন সেজন্যে নিউ ইয়র্ক সিটি ইউনিভার্সিটি (কিউনি) নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ‘গ্লোবাল ভিশনারি এওয়ার্ড’ দিলো। ২১শে নভেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকাল) নিউ ইয়র্ক সিটির চায়না টাউনে বর্ণাঢ্য এক অনুষ্ঠানে বিপুল করতালির মধ্যে ড. ইউনূসকে এ এওয়ার্ড হস্তান্তর করেন কিউনি বোর্ড অব ট্রাস্টির ভাইস চেয়ারপার্সন ড. ফিলিপ এ বেরি এবং কিউনিতে এশিয়ান আমেরিকান রিসার্চ ইন্সটিটিউটের নির্বাহী পরিচালক জয়েস ময়। নিউ ইয়র্ক সিটির বিভিন্ন স্থানে এই ইউনিভার্সিটির ২৪টি ক্যাম্পাসে মোট ২ লাখ ৬৯ হাজার ছাত্র-ছাত্রী অধ্যয়ন করছেন। এর মধ্যে ৬ সহস্রাধিক বাংলাদেশীসহ ৬৫ হাজার এশিয়ান-আমেরিকান। এই রিসার্চ ইন্সটিটিউটের দ্বাদশ বার্ষিক অনুষ্ঠানে এ এওয়ার্ড প্রদান করা হলো। এ সময় প্রদত্ত ২৫ মিনিটের এক জাদুকরি বক্তব্যে ড. ইউনূস ২৭ ডলারের তহবিল নিয়ে ১৯৭৩ সালে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের ইতিহাস থেকে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গরিবের চেয়েও গরিব মানুষদের সব্জি চাষে উদ্বুদ্ধ, সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ, মোবাইল ফোনের ব্যবসায় সম্পৃক্ত করার পর সামাজিক ব্যবসায় সর্বসাধারণ কীভাবে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে তা বিবৃত করেন। উপস্থিত দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবক তন্ময় হয়ে তা শোনেন। ড. ইউনূস বলেন, নতুন প্রজন্মে উদ্ভাবনী শক্তি রয়েছে এবং তাকে কাজে লাগাতে হবে সমস্যা জর্জরিত এ বিশ্বকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে। সামাজিক ব্যবসার সমপ্রসারণের কাহিনী বিবৃতকালে ড. ইউনূস বলেন, ২০১০ সালের ভূমিকম্পে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হাইতি ভ্রমণ করেছি। ৫ হাজার এনজিও হাইতি পুনর্বাসনে কাজ করছে। সকলেই দান-খয়রাত করছে। স্থায়ী কোন প্রকল্প নেই। একইভাবে ১৯৯৮ সালে হাইতির মোট এলাকার ২৫% এ ছিল গাছপালা। কয়েক মাস আগে দেখেছি ২% গাছও নেই। গাছ কেটে রান্নার লাকড়ি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। একটি রেস্টুরেন্টে গিয়ে যা খেলাম তার সবকিছুই আমদানি করা হয়েছে চীন থেকে। লবণ, মাছ এবং অন্যান্য তরিতরকারীও চীনের। আমি অবাক হয়েছি।’ ইউনূস বলেন, ‘হাইতির প্রশাসনে ঊর্ধ্বতন কয়েকজনের সঙ্গে মিলিত হলাম একান্তভাবে। তাদের বললাম যে, বৃক্ষরাজি না থাকলে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটবে আরও দ্রুত। আরও বললাম যে, খাল-নদীতে মাছের চাষ করো না কেন? সব্জির উৎপাদন হচ্ছে না কেন? বৃক্ষরোপণ অভিযান শুরু করা উচিত অবিলম্বে।’ ‘আমার কথায় ওইসব কর্মকর্তা অবাক হলেন। এসব সম্ভব নয়। আমি বললাম, ‘এনজিও কর্মকর্তাদের আমি কনভিন্স করবো বৃক্ষরোপণ অভিযানে প্রয়োজনীয় তহবিল প্রদান করার জন্য। চারা গাছ বেড়ে উঠা পর্যন্ত তার তদারকিও করতে হবে এলাকাবাসীকে। এনজিও কর্মকর্তারা আমার প্রস্তাবে রাজি হয়েছেন। গত সেপ্টেম্বর মাসে নিউ ইয়র্কে ‘ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিসিয়েটিভ’ সম্মেলনে বড় কয়েকটি এনজিও’র সঙ্গে হাইতির ওইসব পরিকল্পনার ব্যাপারে চুক্তি হয়েছে।’ ইউনূস বলেন, মানুষ এখন লবণ চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছে। মাছের চাষেও ক্রমান্বয়ে আগ্রহী হচ্ছেন হাইতির লোকজন।’
ড. ইউনূস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে গ্রামীণ আমেরিকার যাত্রা শুরু হয়েছে ২০০৮ সালে। বর্তমানে নিউ ইয়র্কেই এর ৬টি শাখায় ১৮ হাজার গ্রাহক এবং তারা নিয়মিতভাবে ঋণ নিচ্ছেন ও পরিশোধ করছেন। গরিব ইমিগ্র্যান্টরা ক্ষুদ্রঋণের অর্থে ছোটখাটো ব্যবসা কিংবা সেলাইয়ের কাজ করছেন। ইউনূস বলেন, ‘সকলের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের স্ল্লোগানে গত অক্টোবর থেকে ওবামাকেয়ার চালু হয়েছে এবং তা নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। এ ব্যবস্থা যদি বাস্তবায়িত হতে পারে তারপরও ইমিগ্রেশনের স্ট্যাটাসসহ নানাবিধ কারণে ২৩ মিলিয়ন তথা ২ কোটি ৩০ লাখ আমেরিকান স্বাস্থ্যবিমা পাবেন না। এইসব আমেরিকানের পাশে দাঁড়াতে চায় গ্রামীণ আমেরিকা। নিউ ইয়র্কে ইতিমধ্যেই সে ব্যবস্থা চালু হয়ে গেছে। ক্রমান্বয়ে তা সমপ্রসারিত হবে গরিব আমেরিকানদের মধ্যে।’
২২শে নভেম্বর শুক্রবার সকালে (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাতে) ঢাকার উদ্দেশে নিউ ইয়র্ক ত্যাগ করেন ড. ইউনূস। ১৯শে নভেম্বর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। ২০ নভেম্বর রাতে হোয়াইট হাউসে ‘প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব গোল্ড’ এওয়ার্ড বিতরণ কর্মসূচির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ডিনার পার্টি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে যোগদানের আমন্ত্রণ পেয়েই এসেছিলেন ড. ইউনূস।

দীপু মনি কেন বিতর্কিত: প্রায়

দীপু মনি কেন বিতর্কিত: প্রায় পাঁচ বছর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনকালে দীপু মনি যথেষ্ট বিতর্কিত ছিলেন। সরকারের সঙ্গে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সম্পর্কের অবনতির পেছনে দীপু মনিকে দায়ী করেন আওয়ামী লীগেরই বড় বড় নেতা। আওয়ামী লীগে একটি কথা ব্যাপকভাবে প্রচারিত আছে যে, মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে পারিবারিকভাবে দীপু মনির সম্পর্ক খারাপ থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে সরকারের শীর্ষ পর্যায়কে তিনি কাজে লাগিয়েছেন। এতে সরকার ও দলগতভাবে আওয়ামী লীগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করেন দলের নেতারা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দীপু মনি সবচেয়ে বেশি দেশ ভ্রমণ করেছেন। গত প্রায় পাঁচ বছরে তাঁর বিদেশ সফরের সংখ্যা ১৮০। এ সময় তিনি প্রায় ৬০০ দিন দেশের বাইরে ছিলেন। যেসব কর্মসূচিতে কোনো কর্মকর্তা গেলেই যথেষ্ট ছিল, সেখানে তিনি নিজেই গেছেন।

এ ছাড়া বিদেশি কূটনৈতিক মহলেও তাঁর গ্রহণযোগ্যতা দিন দিন কমছিল। একপর্যায়ে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বেড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানির মতো দেশের কূটনীতিকদের দীপু মনির ব্যাপারে জোরালো আপত্তি ছিল। এমনকি ভারতের রাজনৈতিক মহলেও তাঁর ব্যাপারে অসন্তুষ্টি ছিল।

রাজনৈতিকভাবেও দীপু মনি বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠতে পারেননি। তাঁর নির্বাচনী এলাকা চাঁদপুর-৩ আসনে ক্ষমতাসীন দল উপদলীয় কোন্দলে বিপর্যস্ত। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর তিনজন সদস্য গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীপু মনি এলাকায় জনপ্রিয়তার দিক থেকে খুব খারাপ অবস্থানে রয়েছেন। এ ছাড়া মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্র বিজয় উপলক্ষে তিনি চাঁদপুরে সংবর্ধনা নিয়েছেন। সরকারের সাফল্য ব্যক্তিগত সাফল্য হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করায় দলের শীর্ষ পর্যায় তাঁর ওপর অসন্তুষ্ট হন বলে জানা গেছে। দলের অনেকেই মনে করছেন, দীপু মনির ওপর শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থা আর আগের মতো নেই।

দীপু মনির বাদ পড়া প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর একজন সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, তাঁকে আগে বাদ দিলে হয়তো হইচই পড়ত। যেহেতু নির্বাচনকালীন সরকার ছোট হবে, তাই তাঁকে বাদ দিয়ে এলাকায় কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article/79840/%E0%A7%A9%E0%A7%A6_%...

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla