Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

৩৯ বছরের স্বাধীনতা বনাম স্বাধীনতার ৩৯ বছর

প্রকৃতির সাথে মানুষের চিরন্তন লড়াইয়ে অপর নাম যদি বিবর্তন হয়, সে বিবর্তনে জাতি হিসাবে আমাদের প্রাপ্তি কতটুকু তা দাঁড়িপাল্লায় দাঁড় করানোর মত সময় হয়েছে নিশ্চয়। দেখতে দেখতে ৩৯টা বছর পার করে দিয়েছি আমরা। বয়স বাড়ছে আমাদের, এবং সামনে আছে আরও ’৩৯ হাজার’ বছর। কি আছে আমাদের জমা খাতায়, কোন পুঁজির উপর আবর্তিত হবে আমাদের ভবিষ্যৎ, কি রেখে যাচ্ছি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যে, প্রশ্নগুলো কেন জানি বিচলিত করে না আমাদের। কারণ, শুধু ভবিষ্যৎ নয়, বর্তমানও ঠাঁই পাচ্ছে না আমাদের চিন্তা-ভাবনার তালিকায়। আমরা বাস করছি আমাদের অতীতে। কে পিতা, কে ঘোষক, কে লড়াই করল, কে বিরোধিতা করল, কোন গলিতে কে কয়টা গুলি ছুড়ল, কে শহীদ আর গাজী হল, আমাদের স্বাধীনতার প্রয়োজনীয়তা এবং এর প্রাপ্তি এসবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছি ধীরে ধীরে। পৃথিবীতে আমরাই কি একমাত্র জাতি যাদের স্বশস্ত্র লড়াই করে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হয়েছিল? মার্কিনি গোলায় বিধ্বস্ত ভিয়েতনামিদের মাঠ এখনো তেমন ঠান্ডা হয়নি। অথচ সেই তপ্ত মাটিতেই ওরা বুনে চলছে স্বাধীনতার আসল বীজ, অর্থনৈতিক মুক্তির বীজ। আমাদের স্বাধীনতার মূল উদ্দেশ্য কি এমনটাই ছিল না? সমসাময়িক বাস্তবতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালে আমরা কি জোড় গলায় বলতে পারবো আমরা স্বাধীন? পাকিস্তানী ২২ পরিবার ও তাদের সেবাদাস সামরিক জান্তার শোষণ হতে মুক্তি পেয়ে আমরা কি নব্য দুই পরিবারের খপ্পরে আটকে যাইনি? এমন কিছু সাধারণ প্রশ্নের উত্তর চাওয়ার স্বাধীনতাও নিশ্চিত করা হয়েছে আমাদের গণতন্ত্রে?

প্রতিদিন ঘটছে ঘটনাগুলো। একটা সময় ছিল যখন এ সবের ব্যাপ্তি ছিল কেবল নষ্ট জনপদে। কিন্তু সে দিন এখন অতীত। শুধু রাজধানী অথবা বড় বড় শহরগুলোতে নয়, এসব এখন ঘটছে বাংলাদেশের সর্বত্র। দেখেও দেখি না, পড়েও মনে রাখছি না, অথচ ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো প্রতিদিন উঠে আসছে সংবাদ মাধ্যমে। আসলেই যদি দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ না থাকি তাহলে কিভাবে হজম করে যাচ্ছি নীচের ঘটনা গুলোঃ

- এক ইভটিজারকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে ছাত্রলীগের কর্মীরা। এ সময় ছাত্রলীগ কর্মীদের হামলায় আহত হন পুলিশের এক সাব-ইন্সপেক্টর। তার অবস্থা গুরুতর।

- সহায়ক পাঠ্যবইয়ের আড়ালে জনগণের কাছ থেকে এবারও প্রায় সাড়ে ৫শ’ কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রকাশক চক্র। আর এ অর্থ লুটপাটের সুযোগ করে দিচ্ছে স্বয়ং সরকারি প্রতিষ্ঠান জাতীয় পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।

- যশোরে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ সমন্বয়ে গঠিত 'ভাইয়া গ্রুপ' একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করছে। জেলা থেকে উপজেলা পর্যন্ত সকল প্রশাসনে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য, টিআর, কাবিখা ও কাবিটা এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হওয়ায় দলীয় নেতাকর্মীরা এবং এক উপজেলার চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ভাইয়া গ্রুপ ভাগাভাগি করে নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

- স্থানঃ বরিশালের গৌরনদী। ৫০ বছর বয়স্কা রওশান আরা বেগম পেটের পীড়ার আক্রান্ত হয়ে ডাক্তারের দ্বারস্থ হন চিকিৎসার জন্যে। ডাক্তার সমীর কুমার চাকলাদার রোগীকে নিজস্ব ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে পাঠান বিভিন্ন পরীক্ষার জন্যে। পরীক্ষার ফলাফলে বলা হয় রোগীর অবস্থা ভয়াবহ এবং তাৎক্ষনিক সার্জারির ব্যবস্থা না করলে ক্যান্সার অবধারিত। শেষ পর্যন্ত ১৪ হাজার টাকায় রফা হয় সার্জারির। ডাক্তারের পূর্বাভাস নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রুগীর পরিবার নতুন এক ল্যাবে টেস্ট করায়, এবং তাতেই বেরিয়ে আসে ডাক্তার চাকলাদারের আসল উদ্দেশ্য, ভয় দেখিয়েই রোগীদের পকেট খালি করা।

খন্ড খন্ড ছবি গুলো এক করলেই বেরিয়ে আসবে আমাদের আসল চেহারা। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি যদি প্রকাশ্য পেটানোর ঘোষনা দিয়ে সমাজে মাথা উঁচু করে ঘুরে বেড়াতে পারেন, আমাদের ধরে নিতে হবে গলদ অন্য কোথাও। কোটি টাকার নির্বাচন পাহারা দেয়ার কাজে দৈনিক ২৫ টাকা খোরাকির পুলিশ (চট্টগ্রামের মেয়র নির্বাচন), এমন একটা করুণ ও ভয়াবহ বাস্তবতা কেবল আমাদের মত ডিসফাংশনাল সমাজেই সম্ভব। ডাক্তার চাকলাদার আমাদের শিক্ষিত সমাজের প্রতিনিধি। রুগি নিতে উনি যা করেছেন তাতে গোটা সমাজের চেহারাটাই ফুটে উঠেছে কেবল। এক অর্থে দেশটার মূল চালিকা শক্তিই বোধহয় এই ফিয়ার ফ্যাক্টরে আক্রান্ত। প্রধানমন্ত্রী ভয় দেখান বিরোধী নেত্রীকে, বিরোধী নেত্রী ভয় দেখান সরকার প্রধান সহ গোটা প্রশাসনকে, ছাত্রদের ভয়ে ভীত দেশের ব্যবসা-বানিজ্য, মন্ত্রীদের ভয়ে তটস্থ সাংবাদিক, ডাক্তারের ভয়ে বিপন্ন রোগীর জীবন, ইত্যাদি ইত্যাদি। রাজনীতির নষ্ট জরায়ুতে জন্ম নেয়া এসব পাপাচারের পুজা করার অপর নাম বাংলাদেশের রাজনীতি। এভাবে চলতে থাকলে ৩৯ বছর কেন, ৩৯ হাজার বছরেও আমাদের প্রাপ্তির খাতায় নতুন কিছু যোগ করা সম্ভব হবেনা।

Comments

হুইপের নির্দেশে রগ কাটা রোগীর চিকিৎসা বন্ধ

হুইপের নির্দেশে রগ কাটা রোগীর চিকিৎসা বন্ধ
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন যুবদল নেতা শফিকুল ইসলাম শফির চিকিৎসা বন্ধ করে দিয়েছে কর্তব্যরত চিকিৎসক। কেবল চিকিৎসা বন্ধই নয়, শফির নাম কেটে দেয়াসহ ছাড়পত্র প্রদানের পরপরই হাসপাতাল ত্যাগের নির্দেশও দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এমতাবস্থায় শফির গোটা পরিবার এখন চরম হতাশা ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

যুবদল নেতা শফিকুল ইসলাম শফির পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে শফির চলাফেরার শক্তি নেই। রগ কেটে দেয়ায় দুই পা আর হাতসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে রয়েছে ব্যান্ডেজ। সিলিং করে বাম হাত ঝোলানো গলায়। হাতুড়ি পেটায় থেঁতলানো পা আর শরীরে দগদগে ক্ষত চিহ্ন। বন্ধ স্বাভাবিক খাওয়া দাওয়া। হাসপাতালের বিছানায় শুয়েই মলমূত্র ত্যাগ করছে শফি। পরিবারের অভিযোগ, এমন গুরুতর অসুস্থ রোগীকে কেমন করে চিকিৎসক সুস্থ ঘোষণা করে নাম কেটে দেয় সেটা তাদের অজানা। তারা আরও জানান, চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকাল ১১টায় শফিকুলের নাম কেটে দেন অর্থোপেডিক্স বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ মুসাহিদ উদ্দিন এবং নাম কাটার পর পরই দুপুর ২টার মধ্যে ধরিয়ে দেয়া হয় ছাড়পত্র। সেই সঙ্গে হাপসাতাল ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। হাপসাতাল কর্তৃপক্ষের এমন আচারনে তারা রীতিমতো হতাশ। পরে যদিও রোগীর আত্মীয়-স্বজনের আকুতি-মিনতিতে আরও দুই দিন তাকে হাসপাতালে থাকার মৌখিক অনুমতি দেন অর্থোপেডিক্স বিভাগের সহকারী রেজিস্টার ডাঃ জাহিদুল ইসলাম। তবে এর কোনো রেকর্ড থাকবে না হাসপাতালের কাগজপত্রে। হয়তো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কোনো সহযোগিতাও পাবে না শফি।

শফিকুলের বোন কানিজ ফাতেমা জানান, কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের কোনো কথারই পাত্তা দেননি। উল্টো তাদেরকে ধমক দিয়েছেন। এরপর কয়েক ঘণ্টা ধরে চিকিৎসকদের কাছে কাকুতি-মিনতি করলে ২ দিন থাকার অনুমতি দেন সহকারী রেজিস্টার ডাঃ জাহিদুল। শফিকের ভাই আবদুল হক বলেন, শফিক এখনও নড়াচড়া করতে পারে না। পায়খানা-প্রসাব বিছানায় করে। এরকম পরিস্থিতিতে তার নাম কাটার পেছনে ক্ষমতাসীন দলের শক্তি কাজ করছে বলে তিনি জানান। তার অভিযোগ, হুইপ আ.স.ম ফিরোজের ইশারায়ই শফিকের নাম কেটে দেয়া হয়েছে। হঠাৎ ছাড়পত্র দেয়ার কারণ জানতে ডাঃ মোসাহিদ উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অর্থোপেডিক্স বিভাগের সহকারী রেজিস্টার জাহিদুল ইসলাম বলেন, সার্জারি বিভাগ থেকে শফিকে তাদের কাছে পাঠানো হয়। হাত-পাসহ শরীরের কয়েকটি স্থানে হাড়ে ডিজলোকেশন ছিল। তারা সেগুলো ঠিক করে দিয়েছে। বর্তমানে তার তেমন কোনো সমস্যা নেই। সার্জারির কোনো সমস্যা আছে কি না তা তিনি বলতে পারেন না। মোসাহিদ সাহেবের সিদ্ধান্তের সাথে তার কোনো দ্বিমত নেই বলে তিনি জানান। এ ব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ আব্দুর রশিদ জানান, গুরুতর অসুস্থ রোগীর নাম কাটার বিষয়টি তার জানা নেই। তবে তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে উল্লেখ করেন। এদিকে হুইপ আ.স.ম ফিরোজ তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে যুবদল নেতা শফিকুল ইসলাম শফিকে উদ্দেশ করে বলেন, ওরা বিএনপি করে। শফি এলাকায় চাঁদাবাজিসহ নানাবিধ অপকর্ম করে আসছিল। এজন্য এলাকার লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর করেছে। অপকর্ম যারা করবে তাদেরকে শায়েস্তা করা তার কাজ নয়, এজন্য প্রশাসনই যথেষ্ট। শেবাচিম হাসপাতাল থেকে শফির নাম কাটা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শফির নাম কাটার বিষয়টি তো একটা তুচ্ছ ব্যাপার। এত ছোট কাজের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

উল্লেখ্য, বাউফলের বগা ইউনিয়নের শাফলাখালী গ্রামের কালু মৃধার ছেলে ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম-সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিকে গত ৩০ অক্টোবর বিকেলে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোতালেব হাওলাদারের নির্দেশে তার কতিপয় অনুসারীরা বাড়ির সামনে থেকে ধরে নিয়ে হালিম মোল্লা নামের এক ব্যক্তির ঘরের মধ্যে আটকে রেখে কুপিয়ে ও পিটিয়ে ডান হাত ও দু’ পায়ের রগ কেটে দেয়। এছাড়া হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে তার পাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ থেঁতলে দেয়। খবর পেয়ে ওইদিন রাত ৯টায় বাউফল থানা পুলিশ হালিম মোল্লার ঘর থেকে তাকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে বাউফল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে।
http://www.gournadi.com/news/politics/2052-%E0%A6%B9%E0%A7%81%E0%A6%87%E...

great

you are great...........

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla