Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

ভ্যালা রে প্রধানমন্ত্রী, বেঁচে থাকুন চিরকাল

Awami terrorism

দুই নেত্রীকে আলোচনার টেবিলে বসাতে দেশী বিদেশি অনেকেই দৌড়ঝাঁপ দিচ্ছেন। এ দৌড়ে সর্বশেষ যুক্ত হয়েছেন সদ্য নির্বাচিত মার্কিন পররাষ্ট্র সেক্রেটারি জনাব জন ফরবস্‌ কেরি। জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেল সহ আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায়ের অনেক উঁচু মাপের নেতারা বার্তা পাঠাচ্ছেন, প্রতিনিধি পাঠিয়ে নিশ্চিত করতে চাইছেন আলোচনার মাধ্যমেই যেন মিমাংসা হয় বাংলাদেশের সমস্যা। আমরা যারা দেশীয় ম্যাঙ্গো এবং দৌড় আগরতলা হয়ে চৌকির তলা পর্যন্ত তাদের ধারণা করতে অসুবিধা হয়না দেশ নিয়ে বিদেশিদের এসব শর্ট টার্ম দৌড় কোথায় গিয়ে হোচট খাবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী কোন অবস্থাতেই ব্যক্তিগত পছন্দ এবং সিদ্ধান্ত হতে সরে আসবেন না। ব্যাপারটা প্রায় প্রতিদিন খোলাসা করছেন তিনি। নির্বাচন হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেত্রীত্বে এবং বহাল থাকবে বর্তমান মন্ত্রীসভা, সংসদ এবং ক্ষমতাসীন দলের গোপালগঞ্জীয় প্রশাসন। এতসব প্যাচালে না গিয়ে সোজা বাংলায় বলতে পারি, ক্ষমতা ছাড়ছেন না জনাবা শেখ হাসিনা।

’নন্দের ভাই কলেরায় মরে দেখিবে তারে কেবা!
সকলে বলিল, ‘যাও না নন্দ করো না ভায়ের সেবা’
নন্দ বলিল, ভায়ের জন্য জীবনটা যদি দিই-
না হয় দিলাম, -কিন্তু অভাগা দেশের হইবে কি?
বাঁচাটা আমার অতি দরকার ভেবেদেখি চারিদিক’

দ্বিজেন্দ্র লাল রায়ের বিখ্যাত নন্দলাল কবিতাখানি কি পাঠকদের মনে আছে? উপরের লাইন গুলো একই কবিতা হতে নেয়া। সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে নন্দের আসনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বসিয়ে দিলে কোথায় যেন একটা সমান্তরাল খুঁজে পাওয়া যায়। দেশের নব্বই ভাগ মানুষ বলছে নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাই। প্রায় ৯৯ ভাগ রাজনৈতিক দল বলছে তত্ত্বাবধায়ক না দিলে নির্বাচনে যাবো না। দেশের সুশিল সমাজ আশংকা করছে তত্ত্বাবধায়কের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলে ভয়াবহ নৈরাজ্যে ডুবে যাবে দেশ। কে শোনে কার কথা! বোনের মেয়ের বিয়েতে বিলাত গিয়ে প্রধানমন্ত্রী আবিস্কার করলেন ওখানে তত্ত্বাবধায়ক নেই, তাই গো ধরলেন আমাদের কেন! গণতন্ত্রের জন্য উনার মায়াটা বোধহয় একটু বেশিই। তাই অনির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে অপরাগ। হয়ত এতে জড়িয়ে আছে একধরনের দায়বদ্ধতা! বাকশাল দিয়ে উনার পিতা গণতন্ত্রের যে মহান যাত্রা শুরু করেছিলেন কন্যা হিসাবে তা ধরে রাখা নিশ্চয় পবিত্র কর্তব্য। তাই গোটা দেশ কলেরায় ডুবে গেলেও মহান গণতন্ত্রের কারণে তিনি নির্বাচিত সরকার বলি দিতে রাজি নন। আসলেই কি তাই? উন্নয়নের যেসব ফিরিস্তি বিলবোর্ড এবং দলীয় মিডিয়াতে ঘুরপাক খাচ্ছে তা বিশ্বাস করলে কেবল সামনের নির্বাচন কেন, আগামী একশ বছরের সবকটা নির্বাচনে শেখ হাসিনার জয় লাভ করার কথা। তাহলে নিরপেক্ষ নির্বাচনে ভয়টা কোথায়? ১৭৩ দিনের হরতাল, গান পাউডার দিয়ে বাসে আগুন লাগিয়ে মানুষকে জীবন্ত কবর দেয়া, লগি-বৈঠার তান্ডবে প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যা করে লাশের উপর ব্রাজিলিয়ান সাম্বা নাচ, বঙ্গ ভবনের পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেশের প্রেসিডেন্টকে ভাতে মারার হুমকি, এসব কি তাহলে হাজার বছর আগের আরব্য উপন্যাস হতে নেয়া? জাতি হিসাবে আমরা কি এতটাই পঙ্গু যে এত তাড়াতাড়ি এসব ভুলে যাব? নাকি কেবল শেখ হাসিনার প্রয়োজনে মনে করব, আবার শেখ হাসিনার প্রয়োজনেই তা ভুলে যাব? কোনটা? দল হিসাবে আওয়ামী লীগ যদি ব্যাপার গুলো খোলাসা করে দেয় আমার মত স্মরণশক্তি সমস্যাযুক্ত নাগরিকদের বুঝতে সুবিধা হবে।

সংবাদপত্রের অনলাইন সংস্করণে দেখলাম সরকার নাকি তার নিয়ন্ত্রণাধীন চার ব্যাংককে বিশ্বব্যাংকের হাতে ছেড়ে দিচ্ছে। এ অনেকটা এয়ার এম্বুলেন্স ভাড়া করে দেশের রাষ্ট্রপতিকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর পাঠানোর মত। দুর্নীতি, ঋণ কেলেংকারি এবং ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের গণধর্ষণের শিকার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এসব ব্যাংক এখন মুমূর্ষু রুগী। ১৭ হাজার কোটি টাকার মূলধন ঘাটতি নিয়ে মৃত্যু পথযাত্রী ব্যাংক গুলোর জন্যে বিশ্বব্যাংক ইতিমধ্যে প্রেসক্রিপশন ইস্যু করেছে। প্রথম দাওয়াই, নতুন মূলধন সংগ্রহ, যা শর্টটার্ম দাওয়াই হিসাবে বিবেচিত হবে এবং দ্বিতীয় দাওয়াই, আমূল সংস্কার, যা হবে লং টার্ম চিকিৎসা। বলা হচ্ছে এসব ব্যাংক আর্থিকভাবে এতটাই দুর্বল বিশ্ব বাজারে এসব ব্যাংকের ঋণপত্র অসম্মান করা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। এসব ব্যাংক হতে লুটপাট এখন অনেকটা রাজনৈতিক ইস্যু। জনগণও হয়ত মেনে নিয়েছে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের টাকা নির্বাচনী ম্যান্ডেটের আওতায়। অর্থাৎ যারা ক্ষমতায় আসবে তাদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে ব্যাংকের ভোল্ট। চার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ যদি সরকারের অর্থমন্ত্রীর বিচারে তেমন কোন ব্যাপার নয় তাহলে আমরা ধরে নিতে পারি এ ধরণের হরিলুট সত্যায়িত হয় অতি উঁচু মহল হতে।

একই পত্রিকার অন্য এক খবরে প্রকাশ গ্রামীন ব্যাংকে অনিয়ম এবং কর ফাঁকি দেয়ার অভিযোগে নোবেল লরিয়েট ডক্টর মোহম্মদ ইউনূসকে বিচারের আওতায় আনা হবে। চার চারটি মুমূর্ষু সরকারী ব্যাংককে বাঁচানোর তাগিদে ’এয়ার এম্বুলেন্সে’ করে বিদেশ পাঠানো হচ্ছে, অথচ শতকরা ৯৯ ভাগ ঋণ আদায়ে সক্ষম এবং প্রায় একক প্রচেষ্টায় বেড়ে উঠা লাখ লাখ বিশ্বস্ত গ্রাহক সহ গ্রামীন ব্যাংককে নেয়া হচ্ছে ছাত্রলীগের আওতায়। সংগত কারণে আশা করা যায় আগামী টার্মে সফল এই ব্যাংককে বিদেশ পাঠাতে জাম্বো জেট ভাড়া করার প্রয়োজন পরবে। সরকার প্রধানের বোধহয় জনগণের মুখের ভাষা পড়তে কষ্ট হচ্ছে। তা না হলে নিশ্চয় বুঝতে পারতেন সময়টা এখন উনার নয়। অপকর্ম যা করার তা ইতিমধ্যে করা হয়ে গেছে। ডক্টর মোহম্মদ ইউনূসকে শাস্তি দেয়ার অপকর্ম কেবল ভোটের সংখ্যা কমাতে সাহায্য করবে। ক্ষমতা শেষ মঞ্জিলটার দূরত্ব মাত্র ৩/৪ মাস। এ সময়টা পার হলেই বদলে যাবে দৃশ্যপট। ডক্টর মোহম্মদ ইউনূস নন, জেলখানার চৌহদ্দিতে ততদিনে ভীড় বাড়তে থাকবে নতুন আসামীর পদভারে। কে জানে সে মিছিলে হয়ত লতিফ সিদ্দীকি অথবা শেখ হাসিনার মত গণতন্ত্রের পূজারীদেরও দেখা যেতে পারে। তাই উপদেশ থাকবে শেষবেলায় সরকার যেন দেশের জেল-হাজত গুলো মেরামতের দিকে নজর দেন। কে জানে কাকে কতদিন থাকতে হয়!

Comments

এবার সাউথ-সাউথ অ্যাওয়ার্ড

এবার সাউথ-সাউথ অ্যাওয়ার্ড পাননি শেখ হাসিনা : এটি একটি রিকগনিশন ক্রেস্ট : সাউথ-সাউথ নিউজ কর্তৃপক্ষ
মাহাবুবুর রহমান, নিউইয়র্ক থেকে
« আগের সংবাদ
244
পরের সংবাদ»

এবার সাউথ-সাউথ অ্যাওয়ার্ড পাননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি অ্যাওয়ার্ড প্রদানকারী সহযোগী প্রতিষ্ঠান সাউথ-সাউথ নিউজ থেকে ‘রিকগনিশন ক্রেস্ট’ নিয়েছেন। অনুসন্ধানে পাওয়া যায়, ২০১৩ সালের অ্যাওয়ার্ডের সঙ্গে শেখ হাসিনার প্রাপ্ত ক্রেস্টের কোনো সম্পর্কই নেই। তার ‘অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তির রেকর্ড’ ভারী করতে জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের বিশেষ লবিংয়ে তাত্ক্ষণিক এই ক্রেস্টের ব্যবস্থা করা হয়। সাউথ-সাউথ অ্যাওয়ার্ড দেয়ার ক্ষমতাও নেই শেখ হাসিনাকে ক্রেস্ট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সাউথ-সাউথ নিউজের। নিউইয়র্কে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে গিয়ে অনুসন্ধান চালালে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়।
সাউথ-সাউথ নিউজের প্রেসিডেন্ট ফ্রান্সিস লোরেনজোর সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে চাইলে তিনি অ্যাওয়ার্ড প্রদানকারী মূল প্রতিষ্ঠান সাউথ-সাউথ কো-অপারেশনের প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট ম্যাথিউ ম্যাককালেবের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। ম্যাথিউর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, আপনারা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ২০১৩ সালের সাউথ-সাউথ অ্যাওয়ার্ড দিয়েছেন। কিন্তু আপনাদের ওয়েবসাইটে তার নাম কোথাও উল্লেখ করেননি কেন? তিনি নিজের ডেস্কে গিয়ে কম্পিউটারে অ্যাওয়ার্ডের ফোল্ডার দেখলেন। এরপর ডেস্কে রাখা ফাইলগুলো দেখে নিলেন। পরে জবাবে বললেন, ‘নো, শেখ হাসিনা ডিড নট গেট দ্য অ্যাওয়ার্ড দিস ইয়ার। সি হ্যাজ গট ইট অ্যাট ২০১১।’ (অর্থাত্ না, শেখ হাসিনা এ বছর অ্যাওয়ার্ড পাননি। তিনি ২০১১ সালে এটি পেয়েছিলেন।)
‘গত ২৪ সেপ্টেম্বর এই অফিসেই শেখ হাসিনাকে সাউথ-সাউথ নিউজের প্রেসিডেন্ট ফ্যান্সিস লোরেনজো একটি ক্রেস্ট তুলে দিয়েছেন বলে উল্লেখ করতেই ম্যাথিউ জবাব দিলেন—হ্যাঁ, সেটা ছিল একটি রিকগনিশন ক্রেস্ট। সেটা কোনো অ্যাওয়ার্ড নয়।’
এদিকে সাউথ-সাউথ অ্যাওয়ার্ড না পেয়েও দেশ-বিদেশে ব্যাপক মিথ্যা প্রচারণা চালানোয় নিউইয়র্কে বাংলাদেশী প্রবাসীরা লজ্জিত। প্রকৃত তথ্য তুলে ধরে সোমবার দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদটি ছিল বাঙালি পাড়ায় টক অব দ্য ডে। জ্যাকশন হাইট, জ্যামাইকা, ম্যানহাটন ডাউন টাউন, ব্রুকলেনে এটি ছিল সবার মুখে মুখে।
আর ‘শেখ হাসিনার সাউথ সাউথ অ্যাওয়ার্ড’ প্রাপ্তির খবর মিডিয়ায় প্রচারিত হচ্ছে জানালে সাউথ-সাউথ নিউজের এক কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘ইটস্্ ইওর রং। ইউ ডোন্ট আন্ডারস্ট্যান্ড দ্য ফ্যাক্ট। ইটস্্্ এ পলিটিক্যাল ম্যাটার।’ (অর্থাত্, এটা তোমাদের ভুল। তোমরা বিষয়টি বুঝতে পারনি। এটা একটি রাজনৈতিক ব্যাপার।)
সাউথ-সাউথ কো-অপারেশনের প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট ম্যাথিউ ম্যাককালেব আরও জানালেন, ২০১১ সালে শেখ হাসিনা সাউথ-সাউথ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিলেন। রিকগনিশন ক্রেস্ট প্রদানের বিষয়টি কোনো শিডিউলে ছিল না। এটা হঠাত্ করেই ব্যবস্থা করা হয়েছে।
গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিউইয়র্ক সফরের সবচেয়ে বড় আলোচিত বিষয় ছিল এই ‘সাউথ-সাউথ অ্যাওয়ার্ড’। এজন্য স্থানীয় সময় ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে হোটেল হিল্টনে কোটি টাকা খরচ করে সংবর্ধনা দেয় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ। জাতিসংঘে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণে শেখ হাসিনাও সাউথ-সাউথ অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তির কথা উল্লেখ করেন। ওইদিন এক প্রেস কনফারেন্সে তিনি বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের মুখ বিশ্বদরবারে উজ্জ্বল হয়। আর বিএনপি এলে ব্যর্থ রাষ্ট্রের দিকে ধাবিত হয় বাংলাদেশ। এবারের সাউথ সাউথ অ্যাওয়ার্ডকে প্রধানমন্ত্রী জনগণের প্রতি উত্সর্গ করেন। এমনকি সোমবার ঢাকায় ফিরলে দলের নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা গণসংবর্ধনা দেয়।
এমন আকাশচুম্বী আলোচনার মধ্যেও ২০১৩ সালের সাউথ-সাউথ অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তদের তালিকায় শেখ হাসিনার নাম উল্লেখ না থাকার সন্দেহ থেকেই আমার দেশ অনুসন্ধান শুরু করে। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে প্রকৃত তথ্য। ‘গ্লোবাল গভর্ন্যান্স লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ শিরোনামের এই সাউথ-সাউথ অ্যাওয়ার্ড এবার দেয়া হয় কোস্টারিকার প্রেসিডেন্ট লরা শিলশিলা মিরান্ডা, বাইরাইনের প্রধানমন্ত্রী খলিফা বিন সালমান আল খলিফা এবং ফিজির প্রধানমন্ত্রী জোসাইয়া বরেক বাইনিমারামাকে। এছাড়া টেকসই উন্নয়ন ও তথ্যপ্রযুক্তিতে অবদান রাখার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলা, তার স্ত্রী গ্রাসা ম্যাশেল এবং আমেরিকার সঙ্গীতশিল্পী ডেভিড পাইচকেও এই পুরস্কার দেয়া হয়।
গত ১২ ও ১৯ সেপ্টেম্বর দুই দফায় প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীতদের নাম প্রকাশ করা হয়। গত ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের ওয়ালডর্ফ অ্যাস্টোরিয়ায় একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অ্যাওয়ার্ড তুলে দেয়া হয়।
এমডিজি অর্জনে সাফল্য অর্জনকারী দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান, রাজনীতিক, অর্থনীতিবিদ এবং বেসরকারি খাতের বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে উত্সাহিত করার জন্যই ‘গ্লোবাল গভর্ন্যান্স লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ শিরোনামে সাউথ-সাউথ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। আফ্রিকার দেশ এন্টিগুয়া অ্যান্ড বারবুডার জাতিসংঘের স্থানীয় মিশন, আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন, জাতিসংঘের লোকপ্রশাসন নেটওয়ার্ক (ইউএনপ্যান), দ্য ইন্টারন্যাশনাল অরগানাইজেশন ফর সাউথ-সাউথ কোঅপারেশন (আইওএসএসসি), জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থা এবং সাউথ-সাউথ নিউজের আয়োজনে ২০১০ সালে সাউথ সাউথ অ্যাওয়ার্ড প্রবর্তন করা হয়। জাতিসংঘের এমডিজি লক্ষ্য অর্জনের লক্ষ্যে গড়ে তোলা সাউথ-সাউথ কো-অপারেশন ফ্রেমওয়ার্ক হলো এই অ্যাওয়ার্ড প্রদানের প্রধান সমন্বয়ক। আর ইভেন্ট বাস্তবায়নে গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট কাজগুলো করে থাকে এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান সাউথ-সাউথ নিউজ। পুরস্কার প্রদানের অনুষ্ঠান আয়োজনে সহায়তা করে থাকে জাতিসংঘে তৃতীয় বিশ্বের কয়েকটি দেশের স্থায়ী মিশন। এর মধ্যে রয়েছে মালাউই, ডমিনিকান প্রজাতন্ত্র, জাম্বিয়া, তাজিকিস্তান, এল সালভাদর ও হন্ডুরাস।
২০১৩ সালের অ্যাওয়ার্ড প্রদানের একদিন পর নিউইয়র্কে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ম্যানহাটনের সেকেন্ড এভিনিউতে অবস্থিত সাউথ-সাউথ নিউজের কার্যালয় থেকে একটি ক্রেস্ট গ্রহণ করেন। দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে যাওয়ার স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এই রিকগনিশন ক্রেস্ট দেয়া হয় বলে জানান আইওএসএসসি’র প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট ম্যাথিউ ম্যাককালেব। শেখ হাসিনার নাম সাউথ-সাউথ অ্যাওয়ার্ড ২০১৩-এর স্মরণিকা, ওয়েবসাইট এমনকি কর্তৃপক্ষের অ্যাওয়ার্ড ফাইলেও অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
এ বিষয়ে জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তড়িঘড়ি করে রিকগনিশন ক্রেস্ট ম্যানেজ করতে প্রাণান্তকর চেষ্টা করেছেন মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. আবদুল মোমেন। বলা যায়, এটা নিউইয়র্কে ড. মোমেনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি একটি বিশেষ গিফট। এজন্য বড় ধরনের অর্থ খরচেরও অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তবে এ অভিযোগ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ড. আবদুল মোমেনের নিউইয়র্কের নম্বরে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2013/10/02/219074#.Ukt6F4aTjeI

ডিআইজির মেয়ের বিলাসী জন্মোৎসব

মেয়ে শিশুটির জন্মবার্ষিকী ও কান ফোঁড়ানো অনুষ্ঠানের জন্য ভাড়া নেওয়া হয়েছিল গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার পুরো ‘রাঙামাটি ওয়াটার ফ্রন্ট’। এতে অতিথিদের খাবারের পেছনেই খরচ হয়েছে অন্তত আট লাখ টাকা।
এটি ছিল পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এস এম মাহফুজুল হক নূরুজ্জামানের একমাত্র মেয়ের অনুষ্ঠান। নামীদামি উপহার নিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দেন ঢাকা রেঞ্জের অধীন প্রায় সব পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) অন্য কর্মকর্তারা।
রাঙামাটি ওয়াটার ফ্রন্ট ও পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, ডিআইজি নূরুজ্জামান অনুষ্ঠান সফল করতে ওয়াটার ফ্রন্টের বিশাল সম্মেলনকক্ষ, অতিথিদের বিশ্রামের জন্য নয়টি ভিআইপি কটেজ ও সুইমিং পুল ভাড়া করেন। সন্ধ্যায় ছিল তারকা কণ্ঠশিল্পীদের নিয়ে গানের অনুষ্ঠান।
ওয়াটার ফ্রন্ট কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, পার্কের সম্মেলনকক্ষের ভাড়া ৮০ হাজার টাকা। আর আট হাজার টাকা করে নয়টি কটেজের ভাড়া ৭২ হাজার টাকা। চটপটি-ফুচকা খাওয়ার জন্য বরাদ্দ ছিল ৮০ হাজার টাকা। দুপুরের খাবার ও সন্ধ্যায় নাশতা বাবদ জনপ্রতি বরাদ্দ করা হয় দেড় হাজার টাকা। ৫০০ অতিথির পেছনে ব্যয় হয় সাড়ে সাত লাখ টাকা।
গতকাল বিকেল সাড়ে পাঁচটায় কালিয়াকৈরের রাঙামাটি গ্রামে অবস্থিত ওই বিনোদনকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ফটকের বাইরে জেলার সব থানার ওসির গাড়ি। ভেতরে ডিআইজিসহ অতিথিদের গাড়ি। বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন কালিয়াকৈর থানার পুলিশ সদস্যরা। সম্মেলনকক্ষে চলছিল কেক কাটা ও সংগীতানুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানের এক বাবুর্চি বললেন, তাঁকে শ্রীপুর থেকে আনা হয়েছে। দুপুরের খাবার ও সন্ধ্যার নাশতায় ১৮টি পদ করা হয়েছে। এতে খরচ পড়েছে জনপ্রতি প্রায় দেড় হাজার টাকা।
রাঙামাটি ওয়াটার ফ্রন্টের বিপণন ব্যবস্থাপক মো. ময়নুদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, পার্কের ব্যবসা করতে গিয়ে অনেক বিপদের সম্মুখীন হতে হয়। এ জন্য পুলিশের অনুষ্ঠান থেকে কোনো টাকা-পয়সা নেওয়া হয়নি।
এসব ব্যাপারে জানতে চাইলে ডিআইজি নূরুজ্জামান গতকাল রাতে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘অনুষ্ঠানে পাঁচ শ নয়, দেড় শ থেকে দুই শ অতিথি ছিলেন। খাবারের ১৮ পদ নয়। দুপুরের খাবারে কাচ্চি বিরিয়ানি, রোস্ট ও সালাদ ছিল। আর অনুষ্ঠানের জন্য পার্ক কর্তৃপক্ষের ভাড়া পরিশোধ করেছেন আমার এক বোন।’
ডিআইজি আরও বলেন, ‘আমার পাঁচ ভাই-বোন যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। অনুষ্ঠানের সব খরচ তাঁরাই দিয়েছেন। আমার এক টাকাও খরচ হয়নি।’
http://www.prothom-alo.com/national/article/47280/%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%...

ঠিক বলেছেন ভাই, বাঙ্কি মুন আর

ঠিক বলেছেন ভাই, বাঙ্কি মুন আর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যত ক্ষমতা কেবল দুর্বল বিএনপির উপরে। আওয়ামী লীগের কাজে হস্তক্ষেপ করার মত কোমরের জোর এনাদের নাই। কি আর করা যাবে? জনগণের কাজই হল অত্যাচারী শাসকের অত্যাচার সহ্য করা

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla