Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

শামীম, নিজাম ও ইলিয়াস...একই জরায়ুতে জন্ম নেয়া কজন জারজ সন্তান!!!

Bangladesh
পরিচিত একজনের স্ট্যাটাসে তথ্যটা পড়ে যার পর নাই অবাক হলাম। নিজকে ধিক্কার দিলাম জন-গুরুত্বপূর্ণ এমন একটা তথ্য জানা নেই বলে। বিহারী ক্যাম্পে পুড়িয়ে মারা দশজনের সবাই নাকি গোলাম আজমের বংশধর এবং তাদের জীবন্ত পুড়িয়ে মারার ভেতর অন্যায় কিছু নেই। ইনিয়ে বিনিয়ে তিনি যা বলতে চেয়েছেন তা হল এ হত্যা ৭১’এর হত্যারই প্রতিশোধ। প্রথমে ভেবেছিলাম নিহত দশজনের সবাই ছিল রাজাকার এবং ৭১’এর গণহত্যার সক্রিয় অংশগ্রহণকারী। রক্তের বদলা রক্ত, এ নতুন কোন ঘটনা নয়। সভ্যতা বিবর্তনের অলিগলি ঘাঁটলে ভুরি ভুরি উদাহরণ পাওয়া যাবে এ ধরনের প্রতিশোধের। কৌতূহলী হয়ে নিহতদের বিস্তারিত জানার চেষ্টা করলাম। এবং খুঁজে পেলাম উপরের ছবিটা। অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন না হলে এ শিশুর রাজাকার হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। অবশ্য গোলাম আজমের বংশধর বলতে কেবল রাজাকার বুঝানো হয়েছে তাও নয় নিশ্চয়। হতে পারে বৃদ্ধ গোলাম আজমের সাথে শিশুটির মার অবৈধ সম্পর্ক ছিল অথবা হতে পারে জনাব আজমের ধর্ষণের ফসল এই শিশু। অথবা তার মা-বাবা গোলাম আজমকে দীক্ষা গুরু হিসাবে মানতেন এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নস্যাতের কাজে শিশুটিকে ব্যবহার করতেন। এসব তত্ত্বের পক্ষে এ পর্যন্ত কেউ সাক্ষী প্রমাণ নিয়ে জাহির হননি। স্বভাবতই ধরে নেব শিশুটি যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত রাজাকার নয়, এবং কোন বিবেচনায়ই গোলাম আজমের বংশধর না। এতদিন জানতাম শিশু কেবল শিশুই, নিরপরাধ, ইনোসেন্ট এবং সব পরিচয়ের ঊর্ধ্বে। চেতনার ভায়াগ্রা খেয়ে যারা জাতির পশ্চাৎ-দেশে নুর হোসেন আর আরিফ-তারিক নামক পতিতাদের ঢুকাতে ব্যস্ত, তাদের জন্য একবিংশ শতাব্দীর শিশু বিংশ শতাব্দীর রাজাকার হবে, খুব একটা অবাক হইনা।

ইলিয়াস মোল্লা। অবৈধ নির্বাচনের আরও এক জারজ ফসল। ৫ই জানুয়ারি দেশের বিভিন্ন এলাকায় জন্ম নেয়া তিনশ জারজ সন্তানদের একজন। অবশ্য নিজকে দাবি করেন মিরপুর এলাকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসাবে। নারায়ণগঞ্জের শামীম, ফেনীর নিজাম, কক্সবাজারের বদির মত এই জারজ সন্তানের জন্মও একই মায়ের জরায়ুতে। ভৌগলিক সীমা ও কাপড়ের পতাকাই যদি একটা দেশ ঘোষণার উপকরণ হয়ে থাকে বাংলাদেশ নিশ্চয় একটা দেশ। তবে মনুষ্যত্বের আরও কিছু চাহিদা ও দাবি থাকে যা পূরণে অক্ষম একটা জাতিকে জাতি বলা যায়না। আজকের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ তেমনি একটা দেশ। অক্ষম জাতির টিকে থাকার আবাসভূমি। ইলিয়াস মোল্লার জন্ম, উত্থান এবং আজকের অবস্থান নারায়ণগঞ্জের নুর হোসেনেরই কার্বন কপি। মাথায় ভাসানী টুপি, ক্লিন শেভ মুখ এবং ঠোঁটে দেলোয়ার হোসেন সায়েদী কায়দায় মুক্তিযুদ্ধের প্রলাপের আড়ালে লুকিয়ে আছে খুন, গুম, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজী, দখল, উৎখাত সহ শত শত অপরাধের লৌমহর্ষক কাহিনী। একদল ক্ষুধার্ত খুনিদের নিয়ে চলাফেরা করেন। তাদের ভরন পোষণ করেন প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য। মিরপুরের প্রতিবেশী দুটি বস্তি। একটা কালসী। প্রতিবেশী বস্তিতে বিদ্যুৎ নেই। অসুবিধা কি, আছে ছাত্রলীগ, যুবলীগ। অবৈধ সাংসদ ইলিয়াস মোল্লা তার ক্যাডারদের অতিরিক্ত আয়-রোজগারের ব্যবস্থা হিসাবে কালসী বস্তি হতে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দেন প্রতিবেশী বস্তিতে। কিন্তু তাতে বাধ সাধে কালসী বস্তির বৈধ গ্রাহকরা। কারণ সরবরাহকৃত বিদ্যুৎ এক বস্তির জন্যই যথেষ্ট ছিলনা। স্বভাবতই লোড সেডিং বাড়তে শুরু করে ঐ বস্তিতে। ইলিয়াস মোল্লার সশস্ত্র ক্যাডারদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ায় বস্তিবাসী। দুয়েক জনকে ধোলাই দিতেও পিছপা হয়নি তারা। রঙ্গমঞ্চে আবির্ভূত হন খোদ গডফাদার ইলিয়াস মোল্লা। আদেশ দেন অবৈধ সরকারের জারজ এমপি যা বলবে তাই এ দেশের আইন। তাতেও দমে যায়নি প্রতিবাদকারীরা। প্রতিবাদের এক পর্যায়ে হেনস্তা করে প্রফেশনাল মার্ডারর এই অবৈধ সাংসদকে। ঘটনাস্থল ত্যাগ করার আগে হুমকি দিয়ে যান দুদিনের ভেতর দেখে নেয়ার।

এবং কথা রাখেন ইলিয়াস মোল্লা। দুদিনের ভেতর বস্তিতে হাজির হয় সোহেল রানা। মন্ত্রীর ডান হাত। স্থানীয় যুবলীগের নেতা এবং প্রফেশনাল খুনি। এক পরিবারের সবাইকে জীবন্ত পুড়িয়ে বীর-দর্পে ফিরে যান রক্ষকের ডেরায়। তা ছাড়া রক্ষক ইলিয়াস মোল্লার অনেকদিনের চোখ বস্তির দিকে। জায়গাটা তার চাই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার জরায়ুতে বলি দিতে চান বস্তির মাটি। তাইতো হত্যার অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে জারজ সাংসদ জানালেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করার জন্যই নাকি এসব অভিযোগ।

কালসী অথবা মিরপুরের বাকি বস্তির বাসিন্দাদের পরিচয়ে কোন রাখঢাক নেই। ওরা আটকে পড়া পাকিস্তানি। জাতিসংঘের শরণার্থী আইনে বাস করছে এ দেশে। নিজদের পরিচয়ের সাথে পাকিস্তানী গন্ধ মিশে আছে দিবালোকের মত। কিন্তু এ দেশকে পাকিস্তান বানানোর মিশন নিয়ে এ বস্তিতে গেরিলা গ্রুপ জন্ম নিয়েছে এমন সাক্ষী কেউ দিতে পারবেনা। ওরা খেটে খায়। কেউ আমাদের চুল কাটে, কেউবা জুতা সেলায়। দিনান্তে আর দশটা বাংলাদেশির মতই ঘরে ফিরে যায়। তবে সে ঘর আমার আপনার মত সাধারণ ঘর নয়, বস্তি। প্রজন্মের পর প্রজন্ম বেড়ে উঠছে এসব বস্তিতে। ’৭১ এ দেশের স্বাধীনতায় যে সব বিহারী পাকিস্তানের পক্ষ নিয়ে গণহত্যায় অংশ নিয়েছিল তাদের প্রায় সবাইকে প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যা করা হয়েছিল স্বাধীনতার পর পর। আমরা স্বীকার করতে না চাইলেও এর পক্ষে বাজারে অনেক প্রমাণ বিক্রি হচ্ছে। স্বাধীনতার ৪৩ বছর পর একই অভিযোগে শিশুদের জ্ব্যান্ত পুড়িয়ে মেরে উল্লাস করার ভেতর সততা নেই, আছে পশুত্ব, আছে অসুস্থতার লক্ষণ।

কালসী বস্তির এ শিশুটির অপরাধ সে আটকে পরা পাকিস্তানী। তার আসল দেশ তাকে গ্রহণ করতে অস্বীকার করছে। কেবল মাত্র এই অপরাধে শিশুটির পৈশাচিক খুনের বৈধতা দেয়াও অপরাধ। আমাদের বর্তমান জারজ প্রধানমন্ত্রীও জীবনের অনেকটা সময় নিজ দেশে অবাঞ্ছিত ছিলেন। আশ্রয়ের সন্ধানে পৃথিবীর দেশে দেশে ঘুরে বেরিয়েছেন। বৈধ আয়ের বদলে আশ্রয়দাতার দয়ার উপর বেচে ছিলেন। ইলিয়াস মোল্লাদের এসব ইতিহাস জানা থাকার কথা। না জানলে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে জানানো উচিৎ।

Comments

এসআই জাহিদের হাতে সাত মাসে তিন খুন!

রাজধানীর মিরপুর থানা থেকে সদ্য প্রত্যাহার হওয়া উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদুর রহমান খানের হাতে চলতি বছরেই তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ গত শনিবার গভীর রাতে রাজধানীর শংকর এলাকা থেকে আটক করা মাহাবুবুর রহমান ওরফে সুজন (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে তিনি পিটিয়ে মেরেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মাহাবুবুরের স্বজনেরা বলছেন, চাহিদামতো চাঁদা না দেওয়ায় এসআই জাহিদ এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।

পুলিশের তালিকায় মাহাবুবুর সন্ত্রাসী ছিলেন।
আলোচিত এই এসআই এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে মো. জনি নামের এক বিহারি যুবককে পিটিয়ে হত্যা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। তিনি তখন পল্লবী থানায় কর্মরত ছিলেন। ওই ঘটনার পরে পল্লবী থানা থেকে তাঁকে প্রত্যাহার করা হয়। জনি হত্যার তদন্ত এখনো চলছে, এর মধ্যেই তিনি মিরপুর মডেল থানায় যোগ দিয়েছেন। গত রোববার মাহাবুবুরকে হত্যার অভিযোগ ওঠার পর আবারও তাঁকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
গত জানুয়ারিতে জাভেদ হোসেন নামের এক যুবককে পায়ে গুলি করেন এসআই জাহিদ। পরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে জাভেদের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদার দাবিতে আরও অনেককে ধরে এনে নির্যাতন, মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়, পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

জনি হত্যার তদন্ত এখনো চলছে: পুলিশ ও স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, গত ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে মিরপুরের ইরানি ক্যাম্পের একটি বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে মো. জনি, তাঁর ছোট ভাই ইমতিয়াজ হোসেন, ফয়সাল, রাজন, টিটুসহ আটজনকে ধরে নিয়ে যায় এসআই জাহিদের নেতৃত্বে পল্লবী থানার পুলিশের একটি দল। এরপর জনি, রকিসহ অন্যদের থানায় ব্যাপক মারধর করেন এসআই জাহিদ। পরদিন সকালে জনি মারা যান। নিহত জনির ছোট ভাই ইমতিয়াজ গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, বিয়েবাড়িতে সুমন নামের এক পুলিশের সোর্সকে চড় মেরেছিলেন জনি। সুমন মদ খেয়ে মাতলামি করছিলেন। সেই ঘটনার জের ধরে সুমন এসআই জাহিদকে ডেকে এনে জনিকে ধরিয়ে দেন। ইমতিয়াজ বলেন, ‘জেলে গিয়া সাইফুল ও দুর্জয় নামে এই এলাকার আরও দুজনের সঙ্গে দেখা হয়। ওদেরও পা পিটায়া ভাঙছে জাহিদ স্যারে।’
জনির মৃত্যুর ঘটনায় মিরপুর থানার এসআই শোভন কুমার একটি মামলা করেন। সেই মামলায় বলা হয়, বিয়েবাড়িতে মারামারির ঘটনায় জনিসহ কয়েকজনকে আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জনি মারা যান। পরে জনির মা খুরশিদা আক্তার এসআই জাহিদের বিরুদ্ধে থানায় একটি এজাহার দিলে সেটি পুলিশের সম্পূরক এজাহার হিসেবে গৃহীত হয়। ওই মামলার তদন্ত এখনো চলছে। জনি হত্যার পর এসআই জাহিদকে প্রত্যাহার করে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়। ঘটনা তদন্তে পুলিশ সদর দপ্তর ও ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তর থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। কিন্তু কোনো কমিটিই এখন পর্যন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়নি।

মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার ইমতিয়াজ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, জনির মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ সদর দপ্তর ও ডিএমপি সদর দপ্তর এখনো তদন্ত করছে। জনির ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পুলিশের হাতে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে যে ‘হার্ট অ্যাটাকে’ তাঁর মৃত্যু হয়েছে। স্বাভাবিক মৃত্যু হওয়ায় জাহিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে দায়িত্বে অবহেলার জন্য বিভাগীয় মামলা চলছে।
জাভেদকে গুলি করে হত্যা: এসআই জাহিদ গত ২৪ জানুয়ারি জাভেদ হোসেন নামের এক যুবককে ধরে পায়ে গুলি করেন বলে অভিযোগ। চার দিন পরে সেই যুবক পঙ্গু হাসপাতালে মারা যান। তখন পুলিশের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডাকাতির প্রস্তুতি নেওয়ার সময় মিরপুরের সিরামিক এলাকা থেকে ধারালো অস্ত্র ও দুটি ককটেলসহ জাভেদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জাভেদের এক আত্মীয় গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় জাভেদ তাঁদের বলেছেন যে কুর্মিটোলা ক্যাম্প থেকে তাঁকে গাড়িতে তোলেন এসআই জাহিদ। গাড়িতে তুলে বলেন, ‘রংধনু ক্লাবটা দেখিয়ে দিবি।’ কিছুদূর নিয়ে যাওয়ার পরেই কালো কাপড়ে জাভেদের চোখ বাঁধা হয়। সিরামিক এলাকায় নিয়ে গিয়ে তাঁর পায়ে গুলি করে পুলিশ। এ বিষয়ে পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি। মিরপুরের উপকমিশনার ইমতিয়াজ আহমেদ গতকাল বলেন, বিষয়টি তিনি মনে করতে পারছেন না।

মাহাবুবুরের স্ত্রীকেও নির্যাতনের অভিযোগ: গত রোববার নিহত মাহাবুবুরের স্ত্রী মমতাজ সুলতানা প্রথম আলোকে বলেন, শনিবার রাতে পুলিশ বাসায় এসে মাহাবুবুরকে ধরে চোখ বেঁধে রড দিয়ে মারা শুরু করে। বাধা দিতে গেলে তাঁকে চুল ধরে সরিয়ে দেয়। আধা ঘণ্টার মতো বাসায় মারধরের পর মাহাবুবুরসহ তাঁকে (মমতাজকে) ও তাঁদের পাঁচ বছরের ছেলে মোশাররফকে গাড়িতে তোলে পুলিশ। রোববার সকাল ১০টার দিকে পুলিশ জোর করে তাঁর কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয়। এরপর তিনি জানতে পারেন মাহাবুবুর মারা গেছেন। নিহত মাহাবুবুরের ভাই মাকসুদুর রহমান বলেন, এসআই জাহিদ প্রতি মাসে এক লাখ টাকা করে তাঁকে দিতে বলেছিলেন। নইলে ভাইয়ের ঝুট ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছিলেন। এ কারণেই হত্যা বলে পরিবারের দাবি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গ সূত্র জানিয়েছে, নিহত মাহাবুবুরের সারা শরীরে অসংখ্য মারের চিহ্ন রয়েছে। তাঁর মাথা-হাত-পায়ে অসংখ্য দাগ পাওয়া গেছে। তিনজন চিকিৎসকের একটি দল মাহাবুবুরের ময়নাতদন্ত করেছেন।

সাংসদের ক্ষোভ: স্থানীয় সাংসদ ইলিয়াস মোল্লা গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘জনি হত্যার এক সপ্তাহ আগেই আমি পুলিশের ডিসি সাহেবরে বললাম এসআই জাহিদ অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে, ব্যবসা-বাণিজ্য ছাড়া তার কোনো হিসাব নাই। তারে সরান। আপনারও সম্মান রক্ষা হোক, আমারও হোক। তিনি বললেন দেখতাছি। এক সপ্তাহ পরে তো জনিরে মারল। জনি হত্যার পরে আমি ডিসি সাহেবকে বললাম, ঘটনা তো একটা ঘটে গেল। জনির বাবা-মা যেন মামলা করতে পারে, সেই ব্যবস্থা নেন। পুলিশ সেটাও করল না।’ এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য এসআই জাহিদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে দিনভরই তা বন্ধ পাওয়া যায়। থানায় গিয়েও তাঁর দেখা মেলেনি। থানা থেকে জানানো হয়, তাঁকে রাজারবাগে প্রত্যাহার করে নেওয়ায় তিনি থানায় আসছেন না। তাঁর বাসার ঠিকানাও দেওয়া হয়নি।
http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article/268180/%E0%A6%8F%E0%A6%B8%...

ইলিয়াস মোল্লার পরশে তারাও এখন ‘রাজা’

সিনেমার গল্পকেও হার মানানো তাঁদের জীবন। প্রায় সবারই কখনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চৌকাঠ মাড়ানোর দরকার হয়নি। কেউ ছিলেন বাসের শ্রমিক, নির্মাণ শ্রমিক, আবার কেউ লেগুনা স্ট্যান্ডের চাঁদা আদায়কারী। গত পাঁচ বছরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির ছত্রচ্ছায়া তাঁদের জীবন পাল্টে দিয়েছে। রাস্তার মলিন জীবন তাঁরা পাল্টে নিয়েছেন দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতির কল্যাণে। এখন তাঁদের রয়েছে আলিশান বাড়ি, তৈরি পোশাক কারখানা, দামি গাড়ি, নামে-বেনামে প্লট-ফ্ল্যাট, মার্কেটসহ সম্পদের পাহাড়। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ পুলিশের তালিকায় শীর্ষ সন্ত্রাসীও। শূন্য থেকে কোটিপতি বনে যাওয়া তাঁরা সবাই ঢাকা মহানগর, মিরপুর, পল্লবী থানা ও রূপনগর থানা আওয়ামী লীগ বা যুবলীগের নেতা। আর তাঁদের সবচেয়ে বড় পরিচয়, তাঁরা সবাই ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লার ঘনিষ্ঠ সহযোগী।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাস্তা থেকে উঠে এসে ‘রাজা’ বনে যাওয়া এই নেতারা সরকারি জমি ও জলাভূমি দখল করে বস্তি বানিয়েছেন; মসজিদ পাল্টে বানিয়েছেন বাণিজ্যিক মার্কেট; এমনকি বধ্যভূমির জায়গাও তাঁরা ছাড় দেননি। আর এসব চলেছে প্রশাসনের চোখের সামনেই। তাঁদের বিরুদ্ধে কারো সাহস নেই টুঁ শব্দ করার।

হাজি রজ্জব হোসেন : অতীত ঘেঁটে জানা যায়, বাবা ফজলুল হকের হাত ধরে ফরিদপুর থেকে মিরপুরের ১১ নম্বর সেকশনে সরকারের বি/৩/২২/১০ নম্বর একটি পরিত্যক্ত বাসায় ওঠেন হাজি রজ্জব হোসেন। এরপর কখনো ফেরিওয়ালা, আবার কখনো গণপরিবহনের শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছেন। কিন্তু একসময়ের নিঃস্ব রজ্জব এখন হাজার কোটি টাকার সম্পদের মালিক। রয়েছে আলিশান বাড়ি, ফ্ল্যাট, বহুতল গার্মেন্ট, একাধিক মার্কেটসহ দুটি ব্র্যান্ড নিউ প্রাডো গাড়ি। প্রভাব খাটিয়ে কয়েকটি স্কুল ও মার্কেটের সভাপতিও হয়েছেন। রয়েছে তাঁর নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী, যাদের দিয়ে বস্তি, ফুটপাত, অবৈধ স্ট্যান্ড থেকে নিয়মিত চাঁদা উঠিয়ে থাকেন। আর রাস্তার মোড়ে মোড়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লার সঙ্গে ছবিসংবলিত বিলবোর্ড দিয়ে নিজেকে রাজধানীর রূপনগর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি দাবি করেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, হাজি রজ্জবের হাত ধরেই কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসীর উত্থান ঘটে মিরপুর এলাকায়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, হাজি রজ্জব হোসেন বতর্মানে পল্লবী থানার ১১ নম্বর সেকশনের ‘সি’ ব্লকের ১১ নম্বর সড়কের

‘আকাশ দ্বীপ’ নামের বাড়ির তৃতীয় তলায় একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে থাকেন। এ ছাড়া আরামবাগ এলাকার ৬ নম্বর রোডের ‘ই’ ব্লকের ৩১ নম্বর ৯ তলা আলিশান বাড়িটিও তাঁর। রয়েছে পল্লবীর ৭ নম্বর সেকশনের ৩ নম্বর প্লটে ‘রিও ফ্যাশন লিমিটেড’ নামের একটি ১০ তলা গার্মেন্ট, ১১ নম্বর সেকশনের জল্লা ক্যাম্পের পাশে ‘সবুজ বাংলা মার্কেট’ ও ব্র্যান্ড নিউ প্রাডো ভি-৬ মডেলের দুটি গাড়ি। এ ছাড়া রজ্জব হোসেন একাধারে পূরবী সুপার মার্কেট, ১১ নম্বর কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড মসজিদ, ৭ নম্বর সেকশন আল-আরাবিয়া মসজিদ মার্কেট, ১১ নম্বর নিউ সোসাইটি মার্কেটের সভাপতি। মিরপুর শহীদ স্মৃতি স্কুলের স্বঘোষিতভাবে সভাপতির দায়িত্বও নিয়েছেন তিনি। ১১ নম্বর সেকশনে রাব্বানী হোটেল-সংলগ্ন রাস্তার ওপর রজ্জব একটি মার্কেট বানিয়ে বিক্রি করে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। রাস্তা ও বিহারিদের খেলার মাঠ দখল করে এ মার্কেট নির্মাণ করেন তিনি।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড মসজিদটি আমূল পরিবর্তন করে বাণিজ্যিক ভবনে পরিণত করেছেন হাজি রজ্জব। এখন আর এটি মসজিদ নেই, এটি এখন বাণিজ্যিক ভবনে পরিণত হয়েছে। এই ভবনে দোকান ও হাসপাতাল ভাড়া দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অঙ্কের টাকা। সরকারি জায়গায় ৬ নম্বর ঝিলপাড় বস্তিতে প্রায় ২০০ ঘর তুলে ভাড়া দিয়েছেন। সেখানে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সংযোগ দিয়েছেন রজ্জব। এ বস্তিতে তাঁর হয়ে ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছেন জিতু ও মোন্তাজ নামের দুই ব্যক্তি।

আল-আরাবিয়া মসজিদ মার্কেটের এক দোকান মালিক অভিযোগ করেন, হাজি রজ্জব এ মার্কেটের সভাপতি হওয়ার পরপরই প্রায় আড়াই শ দোকান থেকে এক লাখ করে আড়াই কোটি টাকা চাঁদা তুলেছেন। এ ছাড়া পূরবী সুপার মার্কেটের সামনের ফুটপাতে প্রায় ১৫০টি দোকান রয়েছে। এখান থেকেও ‘ঝুট বাপ্পি’র মাধ্যমে প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের টাকা তোলেন রজ্জব। আর দুয়ারীপাড়ায় জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের ৪৭৪টি প্লট দখলের পেছনেও রয়েছে রজ্জবের বড় ভূমিকা। ব্যবসায়ী আসলাম হত্যা মামলার আসামি হাজি রজ্জব নিজে ও তাঁর অনুসারীদের নিয়ে বেশ কিছু মার্কেট, মসজিদ ও স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির পদ আঁকড়ে রেখেছেন।

এসব অভিযোগের ব্যাপারে বক্তব্য জানতে চাইলে হাজি রজ্জব হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যারা আপনাদের কাছে এ ধরনের তথ্য দিয়েছে তাদের আমার সামনে নিয়ে আসেন, দেখি বলতে পারে কি না। দুয়ারীপাড়া সরকারি প্লট দখলের ব্যাপারে আমার কোনো সম্র্পৃক্ততা নেই। এখানে আমির হোসেন মোল্লা শুরু থেকেই লুটেপুটে খাচ্ছে।’

পূরবী সুপার মার্কেটের সামনে থেকে তাঁর ও ঝুট বাপ্পির চাঁদা ওঠানোর ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাপ্পি তো এ ধরনের কাজ করতেই পারে না। এসব অভিযোগ মিথ্যা।’ একইভাবে উল্লিখিত নানা অভিযোগ সঠিক নয় বলে তিনি দাবি করেন।

ঝুট বাপ্পি : তাজুল ইসলাম বাপ্পি ওরফে ঝুট বাপ্পি কখনো স্কুলে যায়নি, তবে বর্তমানে যুবলীগের পল্লবী থানার সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন। পাঁচ বছর আগেও তিনি মিরপুর আরামবাগ থেকে পূরবী সিনেমা হল পর্যন্ত যে লেগুনা চলাচল করত, তা থেকে চাঁদা তুলতেন। যুবলীগের নেতা পরিচয়ে গত পাঁচ বছরে শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। বাপ্পির বাবা ‘ঝুট মন্টু’ পল্লবী এলাকার ত্রাস ছিলেন। ওই অঞ্চলে গড়ে ওঠা তৈরি পোশাক কারখানা থেকে প্রতি মাসে যে ঝুট বের হতো তা থেকে নিয়মিত চাঁদা নিতেন তিনি। ঝুট ব্যবসার দ্বন্দ্বে শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদত বাহিনীর হাতে নিহত হন ঝুট মন্টু। তবে এখন বাবার খুনি শাহাদত বাহিনীর ছত্রচ্ছায়ায় ঝুট বাপ্পি ঘোরাফেরা করেন। জানা গেছে, গত পাঁচ বছরে সরকারি দলের প্রভাব খাটিয়ে হাজার কোটি টাকার সম্পদ তৈরি করেছেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে পল্লবীর ৭ নম্বর সেকশনের মিল্ক ভিটা রোডের মোড়ে ৩৩/জে নম্বরে আট কাঠার ওপর তিনতলা গার্মেন্ট, মিরপুরের মল্লিকা আবাসিক এলাকায় প্লট, বর্ধিত পল্লবীতে ছয় কাঠার দখল করা একটি প্লট, উত্তরায় তিন কাঠার দুটি প্লটের ওপর দুটি বাড়ি, বাগেরহাটে একটি চিংড়ি ঘের। এ ছাড়া মিরপুরের পূরবী সুপার মার্কেটের সামনের ফুটপাতে ১৫০টি অবৈধ দোকান থেকে প্রতি মাসে পৌনে এক কোটি টাকা করে চাঁদা তোলেন তিনি। বাপ্পির নিয়ন্ত্রণে পল্লবীর ৭ নম্বর সেকশনের পল্লবী প্লাজার আন্ডারগ্রাউন্ডে রয়েছে মাদকের হাট। পল্লবী থানার তৈরি পোশাক কারখানাগুলোর একটি বড় অংশের ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণও করেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে ইপিলিয়ান গ্র“প, ডেকো গ্র“প, আজমত গ্র“পের অন্তত ১৫টি তৈরি পোশাক কারখানা। বাপ্পির একাধিক গাড়ি রয়েছে। তবে তিনি নিজের জন্য ব্যবহার করেন দামি একটি পাজেরো। বাপ্পির নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী রয়েছে। এর সদস্য হলেন কানাপট্টির সোহাগ, সাগর ও সোহেল।

কাডো খোকন : এলাকায় তাঁকে কাডো খোকন হিসেবে চেনে সবাই। কাডো বা খাটো খোকনের মূল নাম নূর আলম খোকন। রূপনগর থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ পেয়েছেন তিনি। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও অর্থ তৈরিতে কোনো বাধা হয়নি তাঁর।

জানা গেছে, গত পাঁচ বছরে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে মল্লিকা আবাসিক এলাকায় দোতলা একটি ডুপলেক্স বাড়ি, পল্লবীর ৭ নম্বর সেকশনের ৫ নম্বর রোডে পৌনে দুই কাঠার ওপর একটি টিনশেড বাড়ি, পল্লবীর আরামবাগে রাস্তা দখল করে দোকান বানিয়েছেন ১৪টি। একেকটি দোকান ৩০ লাখ টাকার বেশি জামানত নিয়ে ভাড়া দিয়েছেন। দুটি গাড়ি ব্যবহার করেন। তবে নিজের জন্য হাল ফ্যাশনের একটি নোয়া মাইক্রো ব্যবহার করেন।

আশিক : ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সহসভাপতি আশিকুল ইসলাম আশিক পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। গত পাঁচ বছরে শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবে যুবলীগের এ নেতা। পল্লবীর ৯ নম্বর সেকশনে কামাল আহমেদ সেতুর পাশে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের বেগুনটিলার জমি দখল করে অবৈধ বস্তি বানান তিনি। এ স্থানটিতে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ ১১ হাজার ৭০০টি ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেয়। সরকার প্রকল্পটির অনুমোদনও দিয়েছে। তবে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা সম্ভব হচ্ছে না। এখানে বস্তি বানিয়ে অন্তত তিন হাজার ঘর থেকে নিয়মিত ভাড়া নিচ্ছেন আশিক। এ বস্তিতে অবৈধ গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের সংযোগ থেকে মাসে বিপুল টাকা আসে তাঁর। মিরপুর মুসলিম বাজার বধ্যভূমির একটি বড় অংশ দখল করে আশিক বানিয়েছেন ঘর। ইতিমধ্যে তা ভাড়াও দিয়ে দিয়েছেন। বধ্যভূমি সংকুচিত হয়ে এসেছে। তাঁর ক্যাডারদের মধ্যে রয়েছে কদম আলী, জলিল চিশতি প্রমুখ।

রুহুল আমিন : ঢাকার ৯২ ওয়ার্ডের যুবলীগের সিনিয়র সহসভাপতি রুহুল আমিন পাঁচ বছর আগেও নির্মাণ শ্রমিক ছিলেন। তবে যুবলীগের নেতা হওয়ায় খুলে গেছে তাঁর ভাগ্য। এখন তিনি কয়েক শ কোটি টাকার মালিক। তাঁর সম্পদের মধ্যে রয়েছে- পল্লবীর ফোরকানিয়া মাদ্রাসার পাশে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের তিন কাঠার একটি প্লট দখল করে সেখানে ১২টি দোকান বসিয়েছেন। তিনি একটি সবুজ রঙের প্রাইভেট কার ব্যবহার করেন।
http://www.amadershomoys.com/newsite/2014/06/21/36635.htm

৩০ লাখ?

.......টেস্ট কেস হিসেবে ব্যক্তিগত উদ্যোগে মাঠপর্যায়ে কর্মী নামিয়ে আমার জেলার একটি তালিকা করার চেষ্টা করেছি, যার ৯৯ ভাগই সঠিক, এক ভাগ নিয়ে বিতর্ক থাকতেও পারে। এই তথ্য সংগ্রহে কেউ আমাকে কোনো অর্থ দেয়নি কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠানও এর সাথে জড়িত নয়। স্থানীয়ভাবে সহযোগিতা করেছেন আমার ‘সাপ্তাহিক জয়’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক অ্যাডভোকেট আখতারুজ্জামান, তাকে কৃতজ্ঞতা জানাই।

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আগেও প্রচুর কাজ করেছি, তালিকাটা আমার সর্বশেষ আইডিয়া। অনুসন্ধানের কাজে হাত দিয়ে মনে হলো তালিকা করার পদ্ধতি এত সহজ হলে ওরা কেন ৪৩ বছর বস্তে ৩৪ বছর প্রবাসী হওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, লাখো কণ্ঠে রবীন্দ্রসঙ্গীত দিয়ে পয়সা নষ্ট করার বদলে সংখ্যা বিতর্কের অবসান ঘটালে ভালো হতো। প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায়ে এখন পর্যন্ত চাুষ ব্যক্তি আছেন, যারা বলতে পারবেন এলাকার শহীদদের নাম-ঠিকানা। সরকারের উচিত এদের দিকে দৃষ্টি দেয়া, কারণ এটাই শেষ সুযোগ। ওরা চলমান ইতিহাস, অবিলম্বে যা ধরে রাখার ব্যবস্থা নিতে হবে, হলোকাস্ট এবং অন্যান্য গণহত্যার আর্কাইভ এভাবেই তৈরি হয়েছে। অন্তত এটুকু ১/১১-এর সরকার দেখিয়েছে, ঘরে ঘরে ভোটার আইডি করা যায়। ফলে শহীদের আইডিও করা যাবে। ভোটার আইডির তুলনায় শহীদের আইডি করা অনেক সহজ। আমার এলাকার আয়তন এবং শহীদের সংখ্যা, দুটোই দিয়েছি, সে মাফিক মনে হয়, দেশে গড় শহীদের সংখ্যা ৫০ হাজার থেকে এক লাখ হতে পারে। এ ছাড়াও স্থানীয় এমপিদের মাধ্যমে বহু আগেই শহীদের তথ্য সংগ্রহ করা উচিত ছিল। মতিয়া চৌধুরীর একটি এলাকার নাম সোহাগপুর গ্রাম, এক রাতে ১৮১ জন পুরুষকে গুলি করে হত্যা করলে নাম হলোÑ ‘বিধবাপল্লী’। এক দশক আগে দুইবার গিয়ে বিধবাদের সাথে সারা দিন কাটিয়ে কিছু ভিডিও করলেও সেগুলো অগোছালো। বিধবাদের মানবেতর জীবনের কথা কী লিখব! এটা তো একটি উদাহরণ, এ রকম ভূরি ভূরি। আমার বিশ্বাস, মতিয়া চৌধুরীর এলাকার ১৮১ জনের নাম-ঠিকানার পূর্ণ তালিকা করে তাদের দেখভাল করছেন। কিন্তু আমার এই বিশ্বাসের ওপর ৪৩ বছর পরও কি আস্থা রাখতে পেরেছি? পারিনি, বরং মুক্তিযুদ্ধের নামে দুষ্কৃতকারীরা বারবার আমাকে বিস্মিত করেছে।

মুজিবের বক্তব্য সত্য হলে ‘৭১-এর জনসংখ্যা অনুযায়ী প্রতি ১৫ জনে একজন শহীদ (ইকোনমিস্টের তথ্য)। কিন্তু আসলেই কি তা হয়েছে? কিছু ভুলভ্রান্তি থাকতেও পারে, কিন্তু এই রিপোর্টটি একটি টেস্ট কেস, চাইলে অনেকেই নিজ নিজ জেলার তালিকা করে বিতর্কের অবসান ঘটাতে পারেন। সামাজিক মাধ্যমেও উদ্যোগটি আসতে পারে। ১০ হাজার মাইল দূরে বসে কাজটি করার মাধ্যমে প্রমাণ করতে চেয়েছি, এটি সম্ভব। তবে শুধু তালিকা না করার জন্য নয়, ক্রেস্টের স্বর্ণ চুরির ঘটনায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে যখন চুরির সমর্থনে বক্তব্য আসে, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কোনো কোনো অন্যায়কারীরেে ত্র ‘হু ইজ হি’ বিবেচনায় আর কতকাল বিব্রত হবেন আদালত? অথচ কথায় কথায় আদালত অবমাননার কূলকিনারা নেই।

আমি বিশ্বাস করি, শহীদের সম্মানে ক্রেস্টের স্বর্ণ চুরিই নয়, তদন্ত প্রভাবিত করার মতো বক্তব্যের জন্য ভিভিআইপি’কেও আমলে নিয়ে আদালতের উচিত ব্যবস্থা নেয়া। অন্যথায় বিচারব্যবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে। ‘হু ইজ হি’ আদালতের বিবেচ্য নয়, বরং আইনের চোখ সবার জন্য সমান। অন্যথায় ৩০ লাখ বিতর্ক থাকবে অনন্তকাল। আমরাও চাই ধোয়ামোছা শেষে পরিচ্ছন্ন একটি বাংলাদেশ।
মিনা ফারাহ : নিউ ইয়র্ক প্রবাসী
http://www.amadershomoys.com/newsite/2014/06/17/33824.htm#.U5-cNNbWmJY

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla