Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

-A A +A

মাহমুদুর রহমান, a slave of his own destiny

Mahmudur Rahman
বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টিতে ঈশ্বরের কেন দুই গোলার্ধের প্রয়োজন ছিল তা তিনিই ভাল বলতে পারবেন। পেয়ারের বান্দাদের সাথে যোগাযোগ বন্ধ যেহেতু তাই চাইলেও বোধহয় পাওয়া যাবে না এ প্রশ্নের উত্তর। বাস্তবতা হল, চাই বা না চাই, পৃথিবীটা দুই গোলার্ধে বিভক্ত এবং এটাই এর অন্যতম অলংকার। শীতের পিঠে গ্রীষ্ম, দিনের পিঠে রাত, আলোর পিঠে অন্ধকার, এভাবেই আবর্তিত হচ্ছে মা বসুমতির জীবন। পৃথিবীটা ঘুরছে, সাথে ঘুরছি আমরাও। ঈশ্বরের নির্ধারিত কক্ষপথে আমাদের সাথে আমাদের এত সাধের রাজনীতি ঘুরবে এটাই বোধহয় স্বাভাবিক। অবশ্যই ঘুরছে। রাজপথ হতে সিংহাসন, সিংহাসন হতে রাজপথ, মা বসুমতির কায়দায় চক্কর দিচ্ছে ক্ষমতার কক্ষপথও। এমনটাই বোধহয় ঈশ্বরের লিখন। না হলে মাহমুদুর রহমান নামের এমন জাঁদরেল আদম কে কেন জেলখানায় থাকতে হবে, তাও আবার বিবস্ত্র হয়ে?

আদলতে হাজিরা দিতে এসে সর্ব জনাব মাহমুদুর কি বললেন আসুন তার নিজের মুখ হতেই শোনা যাকঃ

’৯ই জুন আমাকে ক্যান্টনমেন্ট থানায় রিমান্ডে নেয়া হয়। ঔ দিন রাতে পাঁচ-ছয়জন লোক গিয়ে প্রথমে আমার চোখ বাধে। তারপর শুরু হয় নির্যাতন। আপনি একজন নারী, তাও বলতে হচ্ছে আই ওয়াজ আনড্রেসড। কনুইয়ের আঘাতে বসিয়ে দিয়ে খুলে ফেলা হয় আমার প্যান্ট। আমাকে বিবস্ত্র অবস্থায় হ্যাঁচকা টান দিয়ে মারতে থাকে তারা। এক পর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলি আমি। সম্ভবত এর প্রায় দুই ঘন্টা পর যখন জ্ঞান ফেরে তখন আমি দেখি থানার সেকেন্ড অফিসারের রুমে আমাকে শুইয়ে রাখা হয়েছে। তারা আমাকে কোন প্রশ্ন করেনি, শুধু টর্চার করল। পরের দিন বেলা পৌনে ১টার দিকে আবার আমার চোখ বাঁধা হল। আমি জিজ্ঞেস করলাম আমি একটা জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, চোখ বাধলেন কেন? তারা বলল রিমান্ডে নাকি এটাই নিয়ম। পুলিশ বাদি হয়ে মামলা করে। কোন স্বাক্ষী নেই। তবু মামলা করা মাত্র আপনারা রিমান্ডে দেন। কিন্তু রিমান্ডের নামে আমাদের উপর যে অত্যাচার হয় তা দেখার কেউ নেই। আল্লাহ আছেন তিনি সবই দেখছেন।‘

আল্লাহ নিশ্চয় সব দেখেন। কারণ এটাই যে উনার কাজ। টেপ রেকর্ডারের মত আল্লাহর ডকুমেন্ট গুলো যদি রিওয়াইন্ড করা যায় আমরা নিশ্চয় স্বাক্ষী হব একই আদালতে অন্য এক আমলার বক্তব্য। পার্থক্য শুধু সময় এবং গদির। আসুন মহিউদ্দিন খান আলমাগীরের মুখেই শুনা যাক উনার নিজের ভাষ্যঃ

‘দিন গেল। রাত এল। থানা হাজতে আমি একা। হঠাৎ ঝনাৎ করে তালা খোলার শব্দে সচেতন হয়ে দাঁড়ালাম। তিনজন কালো মুখোশ পরা লোক আমার সামনে দাঁড়িয়ে। জানতে চাইলাম তারা কে, কারা তাদেরকে পাঠিয়েছে আর আমাকে দিয়ে কি করতে চান তারা। বলল, নামের দরকার নেই, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরও উপরের হুকুমে তারা এসেছে। আমাকে ছেড়ে দেয়া হবে ৩ শর্তে; বিএনপিতে যোগ দিতে হবে, বলতে হবে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে আর বিদেশ হতে ম্যাডামের জন্যে পিএইচডি ডিগ্রী এনে দিতে হবে। ...... উত্তর শুনে তারা খেপা কুকুরের মত চীৎকার করে উঠল। অশ্রাব্য গালি দিয়ে লোকটি এগিয়ে এল এবং মুখে সজোরে ঘুসি মারল। কিল-ঘুষি মুখে, পাঁজরের দুপাশে, বুকে, পিঠে ও ঘাড়ে মারতে লাগল। ... তাদের লাথি পরল আমার তলপেটে, হাঁটুতে আর গোড়ালিতে। আমি বাধা দিলাম। একজন কালো ব্যাগ হতে প্লাস্টিকের বোতল বের করে আমার পায়ুপথে ঢুকাতে চাইল।‘

আমাদের রাজনীতি এ জন্যেই অনন্য, এ জন্যেই মহান কারণ এতে আছে পরিবর্তনের ছন্দ, আছে ঈশ্বরের আঁকা কক্ষপথে আনাগোনা। এ পথেই রাজা হয় ফকির আর ফকির হয় রাজা। যখন সময় ছিল মাহমুদুর রহমান ছিলেন গোলার্ধের রাজা। ছিল আদেশ দেয়ার ক্ষমতা। ছিল কারও পায়ুপথে বোতল ঢুকানোর মনমানসিকতা। ঈশ্বর হয়ত সৃষ্টির সেরাদের নিয়ে খেলতে অন্যরকম আনন্দ পান। তা না হলে এই মাহমুদুর রহমানকে কেনই বা আবার জেল-হাজতে পাঠাবেন! সবই তার ইচ্ছা।

’ইটটি মারলে পাটকেলটি খেতে হয়’। এতবড় সাংবাদিক কাম বিজ্ঞ লোকের এমনটা তো জানার কথা ছিল। জানা না থাকলে আশাকরি ইতিমধ্যে জেনে গেছেন। একটা হাফ-সভ্য, হাফ-গণতান্ত্রিক দেশেও রাজনীতিবিদ্‌দের ভাগ্য এভাবে বিবর্তিত হওয়ার কথা নয়। আমাদের দেশে তা হয়। এবং এমনটা একেবারেই অপ্রত্যাশিত নয়। রিমান্ডের যাঁতাকলে দলিত মথিত মাহমুদুর রহমান নিশ্চয় চোয়াল শক্ত করে ভাবতে থাকেন সামনের দিন গুলোর কথা। ভাবেন প্রতিশোধের কথা। মহিউদ্দিন আর মাহমুদ রহমানের দল আমাদের যাই বুঝান না কেন, আসলে এসব রাজনীতি নয়, গনতন্ত্র নয়, দেশ নামের একটা মরা গরুর ভাগাভাগি নিয়ে দুই শকুনের কামড়া কামড়ি মাত্র। এখানে টিকে থাকবে তারা, যাদের থাবার জোড় যত বেশি। টিকে থাকবে তারা, যারা অন্যের পাছায় প্লাস্টিক বোতলের বদলে কাচের বোতল ঢুকানোর ক্ষমতা রাখবে।

মিঃ মাহমুদুর রহমান, ইউ আর দ্যা স্লেইভ অব ইউর ওউন ডেস্টিনি। এনজয় ইউর টাইম।

Comments

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক শিক্ষকের তারেক-বন্দনা

‘দেশের আকাশ-বাতাসসহ প্রতিটি কণা আজ “আমি তারেক জিয়া বলছি” ডাকটি শুনতে চায়।’ বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এভাবেই বন্দনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন আবুল বাশার।
গতকাল শুক্রবার নীলক্ষেতের আইসিএমএবি মিলনায়তনে তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় অধ্যাপক বাশার এ কথা বলেন। ঢাকা ইউনিভার্সিটি টিচার্স ফর ন্যাশনাল ইন্টারেস্টর নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানজুড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি ও জামায়াতপন্থী সাদা দলের শিক্ষকেরা তারেক রহমান সম্পর্কে নানা স্তুতিবাক্য করেন।
বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেপ্তার হওয়ার পর তারেক রহমান উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে ২০০৮ সালের এই দিনে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান। বিএনপি দিনটিকে তারেকের কারামুক্তি দিবস হিসেবে পালন করে।
প্রধান আলোচক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, ‘তারেক রহমান জিয়াউর রহমানের সুযোগ্য পুত্র হওয়ায় তাঁকে ভালোবাসি। তাঁকে ভালোবাসি, কারণ, তিনি একজন সুযোগ্য নেতার কাছ থেকে শিক্ষা পেয়েছেন।’
কলা অনুষদের ডিন সদরুল আমিন বলেন, ‘আমরা চাই, তারেক জিয়া আমাদের মাঝে ফিরে আসুন। তাঁর বিরুদ্ধে যেসব মামলা রয়েছে, তা দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে সরকার তুলে নেবে বলে আমরা আশা করি।’
বিজ্ঞান অনুষদের ডিন তাজমেরী এস এ ইসলাম বলেন, ‘ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে তারেক রহমানের সুদৃঢ় অবস্থান নিশ্চিত জেনেই তারা উৎকণ্ঠিত হয়ে পড়েছে। তারেক রহমান দেশের বাইরে বসে আত্মসমালোচনা ও আত্মবিশ্লেষণ করছেন।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘তারেক রহমান তারুণ্যের অহংকার। তাঁর দেহে দেশপ্রেম ও স্বাধীনচেতার রক্ত বইছে। জনগণ তাঁকে দেশের নেতৃত্বে দেখতে চায়।’
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘তারেক রহমান কোনো ব্যক্তি নন, তিনি একটি রাজনীতির ধারক। একজন সেনানায়ক হয়েও জিয়া জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বপ্ন দেখানো শুরু করেন, আর তারেক সেই চেতনার ধারক।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহ-উপাচার্য আ ফ ম ইউসুফ হায়দারের সভাপতিত্বে আলোচনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক আবুল হাসনাত, অধ্যাপক আকতার হোসেন, অধ্যাপক আবদুল আজিজ, আবদুস সাত্তার, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ফরিদ আহমদ, জহুরুল হক হলের প্রাধ্যক্ষ জাহিদুল ইসলাম, মামুন আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।
বিএনপির কর্মসূচি: দিবসটি উপলক্ষে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতারা শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এরপর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন, সুষ্ঠু তদন্ত হলে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং আরাফাত রহমান কোকো নির্দোষ প্রমাণিত হবেন। এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির এই নেতা বলেন, বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়ে একমত। অথচ জনস্বার্থে কোনো কর্মসূচি পালন করতে গেলেই সরকার বলছে, বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাধাগ্রস্ত করতে চায়।
http://prothom-alo.com/detail/date/2010-09-04/news/91744

Post new comment

CAPTCHA
Required to prevent spam.
Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla