Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

'যেদিন পরবে না মোর পায়ের চিহ্ন...'

Bangladeshi
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অবসর প্রাপ্ত একজন সেনা অফিসারের সাথে দেশ নিয়ে কথা বলছিলাম। মেরুকরণের সুনামিতে ভেসে এই জেনারেল কোন বন্দরে ঠাঁই নিয়েছেন কথা বার্তায় কিছুটা হলেও আন্দাজ করা গেছে। বিত্ত বৈভবের সমুদ্রে ভাসছেন তিনি। কেবল দেশে নয়, বিদেশেও জমিয়েছেন সম্পদের পাহাড়। সরকারের সুনজর ছাড়া বাংলাদেশের একটা তেলাপোকাও অতিরিক্ত তেল শিকার করতে অক্ষম, এমনটাই আজকের বাস্তবতা। জেনারেলদের জন্য বলতে গেলে দেশকে বিবস্ত্র করে দেয়া হয়েছে। যে যেভাবে পারছে শ্লীলতাহানি করছে। ডেসটিনি ও তার আড়ালে কতিপয় জেনারেলের আসমান সমান লুট তারই নির্লজ্জ উদাহরণ। এই জেনারেল আমাকে আশ্বস্ত করলেন ক্ষমতার মসনদ হতে শেখ হাসিনা কিছুতেই পিছু হটছেন না। তার মতে কেবল হেফাজত নয়, প্রয়োজনে গোটা বাংলাদেশকে মতিঝিল বানাতেও কার্পণ্য করবেন না তিনি। তার বহুমুখী কারণ দেখালেন।

এক; তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে গেলে দল হিসাবে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হবে। এটা জানা হয়ে গেছে শেখ কন্যা সহ আওয়ামী লীগের বাঘা বাঘা নেতাদের। তবে এ মুহূর্তে ক্ষমতা হারানোর শোকের চাইতে এর পরে যা ঘটবে তা নিয়ে চিন্তিত সবাই। অবৈধ অর্থের ভান্ডার খুলে সেনাবাহিনীর সব অফিসারকে যে সন্তুষ্ট করা যায়নি এমনটা নেত্রীও বুঝেন। বিডিআর হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতে এখনো অনেক অফিসার অন্ধ গলিতে হন্যে হয়ে আলোর সন্ধান করেন। এবং সুযোগ পেলে ১৫ই আগষ্টের চাইতেও নির্মম কিছু ঘটাতে প্রস্তুত তারা। নেত্রীর ভয়, যে রাতে নির্বাচনের ফলাফল বেরুবে সে রাতেই বিদ্রোহ করবে সেনাবাহিনী।

দুই; প্রতিবেশী উলফা নেতাদের ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিয়ে প্রণব বাবুকে খুশি করা গেলেও খুশি করা যায়নি আসামের এই জঙ্গী গ্রুপকে। তারা হায়েনার ক্ষুধা নিয়ে অপেক্ষা করছে শিকারের আশায়। আওয়ামী লীগের ভয়, নির্বাচনে ভরাডুবি হলে নতুন সরকার তাৎক্ষনিকভাবে সরিয়ে নেবে শেখ হাসিনার সরকারী নিরাপত্তা এবং আন্ধা ও বোবার কায়দায় উপভোগ করবে জঙ্গিদের পৈশাচিক উন্মত্ততা।

তিন; সদ্য গজিয়ে উঠা হেফাজতে ইসলামের কিলিং স্প্রী নেই। এসব করার মত ট্রেনিং অথবা মনমানসিকতা কোনটাই নেই কওমি মাদ্রাসা ভিত্তিক হুজুরদের। খালি মাঠ পেলে তারাও পশু হয়ে উঠতে পারে এবং প্রতিশোধ নিতে ধাওয়া করতে পারে আওয়ামী লীগের মাঠ পর্যায়ের নেতাদের পর্যন্ত। হেফাজতী ও জামাতি ফ্রন্টে লড়াই করতে গিয়ে আওয়ামী লীগ ভুলে গেছে ভয়াবহ এক সাপের কথা, হরকাতুল জেহাদ। এই জেহাদিদের অভিধানে মার্সি বলে কোন শব্দ নেই। দল হিসাবে আওয়মী লীগের চাইতেও নির্মম ও হিংস্র তাদের প্রতিশোধপরায়ণতা। নতুন সরকার চোখ বন্ধ করে রাখবে এবং দুয়ার খুলে আহ্বান জানাবে প্রতিশোধের হিসাবনিকাশে ভারসাম্য আনতে।

চার; খালেদা জিয়া। এই মহিলার প্রতিশোধের তালিকা এত লম্বা তার কিয়দংশ বাস্তবায়ন করতে গেলে শেখ পরিবারে শোকের মাতম চিরস্থায়ী হতে বাধ্য। ৪০ বছরের পাতানো সংসার দুমড়ে মুচড়ে উপড়ে ফেলা, বাড়ি হতে টেনে হিঁচড়ে উচ্ছেদ করা, দুই সন্তানকে দেশছাড়া, মামলা দিয়ে ব্যতিব্যস্ত রাখা, স্বামী জিয়াউর রহমানের নাম নিশ্চিহ্ন¡ করার চেষ্টা। কোন কিছু ভুলে যাওয়ার মানুষ নন এই নেত্রী। সময় এবং সুযোগ পেলে কড়ায় গণ্ডায় তা ফিরিয়ে দেবেন এ নিয়ে কারও কোন সন্দেহ নেই। ক্ষমতা পাওয়ার অতি অল্প সময়ে বাংলাদেশের মাঠ, ঘাট, শহর, বন্দর, শৌচাগার হতে খসে পরবে শেখ পরিবারের নামকরণ মহামারী। প্রতিশোধের তালিকায় নাম আসবে ধানমন্ডির ৩২নং বাড়ি। তারপর বাকি সব। এখানেও প্রশ্ন আসবে প্রতিশোধ ভারসাম্যের।

পাচ; নগ্নভাবে উন্মোচিত হবে পাচ বছরের পারিবারিক লুটপাটের কালো অধ্যায়। পদ্মা সেতুতে আবুল হোসেনকে বলি বানিয়ে শেখ রেহানার ২%, সজিব ওয়াজেদ জয়ের ১%, সায়েমা ওয়াজেদ পুতুলের ১% সহ ভিওআইপি ব্যবসা, কুইক রেন্টাল কমিশন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট প্রকল্প কমিশন, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড ও ইলিয়াস আলী গুমে শেখ পরিবারের সংশ্লিষ্টতা সহ বেরিয়ে আসবে শত শত অজানা কাহিনী। সাময়িক ভাবে হলেও এসব কাহিনী কবর রচনা করবে শেখ পরিবারের রাজনৈতিক অধ্যায়ে।

কেবল ক্ষমতা ধরে রাখা নয়, প্রাণে বেচে থাকতে চাইলে শেখ হাসিনাকে নির্বাচনে জিততে হবে। তাই জাতিসংঘ দূতের আগমন উপলক্ষে আলোচনার আহ্বান জানালেও প্রতিপক্ষের সাথে কোন আলোচনায় বসার পরিকল্পনা নেই প্রধানমন্ত্রীর। কারণ একটাই, রাজনীতির মিঠা পানিতে ক্ষমতা শিকার বুমেরাং হয়ে ফিরে আসবে, তাই প্রয়োজন ঘোলা পানির। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি যত অবনতি হবে ততই লাভবান হবে আওয়ামী লীগ। প্রয়োজনে মতিঝিলের মত রক্তের নতুন নদী খনন করা হবে, খালেদা জিয়ার পায়েও ডান্ডাবেড়ি পরানো হবে, তবুও ক্ষমতা হারানো যাবেনা, এমনটাই নাকি নেত্রীর সিদ্ধান্ত।

পদটীকাঃ ক্ষমতার পাগলা ঘোড়ায় চড়ে শেখ মুজিবের পিত্তের পাথর অপসারণ দিবস পর্যন্ত পালন করছেন অনেকে। আর কেউ মনে রাখুক শেখ হাসিনা নিশ্চয় ভুলে যাননি উনার পিতার মৃত্যুতে এদেশের একটা পাখি পর্যন্ত বাসা ছেড়ে বেরিয়ে আসেনি। শেখ পরিবারের বাকি সবার পতন হলে এ দেশের কেউ রাস্তায় এসে প্রতিবাদ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে সে আশা একেবারেই দুরাশা। দুঃখজনক বাস্তবতা হল শেখ হাসিনারও পতন হবে। মানুষ হত্যা করে কেউ কোনদিন ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে পারেনি, শেখ হাসিনাও পারবেন না। সভ্যতার এ অমোঘ বাস্তবতা এড়ানোর ভাগ্য নিয়ে আজ পর্যন্ত কোন স্বৈরশাসক জন্ম নেয়নি।

Comments

মৃত্যুর প্রহর গুনছে

মৃত্যুর প্রহর গুনছে তিস্তা
দৈনিক ইত্তেফাক : ১৮/০৬/২০১৩

ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারের ফল

তিস্তার নদীর পানির প্রবাহ দিনে দিনে অচিন্তনীয় অস্বাভাবিক মাত্রায় কমে আসছে। উজানে ভারতের বাঁধের বাধায় পানি প্রবাহ কমে আসায় তিস্তা সেচ প্রকল্প প্রতিবছর মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, এখন বর্ষার শুরুতে তিস্তার পানি প্রবাহ মাত্র ৫ থেকে ৬ হাজার কিউসেক এবং এ বছর শুষ্ক মৌসুমে প্রবাহ ছিল গড়ে মাত্র তিন হাজার কিউসেক। কিন্তু সরেজমিনে তিস্তা তীরবর্তী অঞ্চল ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কথারও সত্যতা মেলে না। কেননা এই বর্ষার শুরুতে তিস্তার বুকজুড়ে জেগে আছে ধু-ধু চর। মানুষ হেঁটে নদী পার হচ্ছেন।

ঐতিহাসিকভাবে তিস্তায় শুষ্ক মৌসুমে গড় পানি প্রবাহ ১০ থেকে ১৫ হাজার কিউসেক। কিন্তু ভারত গজালডোবায় বাঁধ নির্মাণ করার পর থেকে বাংলাদেশ অংশে তিস্তা নদীতে পানি প্রবাহ একেবারে কমে এসেছে। উজানের বাধায় প্রবাহ এভাবে দিন দিন কমে আসায় তিস্তা ধু-ধু বালুচরে পরিণত হতে শুরু করেছে। উজানে জেগে উঠেছে বিশাল বিশাল বালুচর। এভাবে পানি কমে আসায় তিস্তা ব্যারাজ সত্ত্বেও উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে প্রতিবছর বোরো আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কোন বছরই সেচ প্রকল্পের পুরো এলাকায় পানি সরবরাহ করা সম্ভব হয় না।

৩১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ খরস্রোতা তিস্তা নদী ভারতের সিকিম রাজ্যে উৎপত্তি হয়ে পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং-জলপাইগুড়ি হয়ে বাংলাদেশের লালমনিরহাট দিয়ে প্রবেশ করে ব্রহ্মপুত্রে মিলিত হয়েছে। বাংলাদেশে এর দৈর্ঘ্য ১শ’ ১২ কিলোমিটার। এটি শুধু স্বতন্ত্র একটি নদী মাত্র নয়, তিস্তা বাংলাদেশেরও নদী এবং তা ব্রহ্মপুত্রের পানি প্রবাহেরও অন্যতম উৎস। উজানে তিস্তার প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া মানেই ভাটিতে বাংলাদেশে তিস্তার অপমৃত্যু এবং সেইসঙ্গে ব্রহ্মপুত্র তথা যমুনার প্রবাহ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া। এই নদীর অস্তিত্বের সঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ নির্ভরশীল। অথচ বর্তমানে তিস্তার অবস্থা দাঁড়িয়েছে মরা খালের মত। এখানে তিস্তায় ২০ হাজার কিউসেকের কম প্রবাহ হলে বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষিকাজে ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হয়। গত কয়েকদিন ধরে তিস্তার নদীপাড় সংলগ্ন বির্ভিন্ন গ্রামে ঘুরে স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে পানি সংকটের কথা জানা যায়। তার বলছেন, বৃষ্টি যে বছর বেশি হয় সে বছর ঢলের পানি কিছুটা আসে। তবে গ্রীষ্মে নদীর স্রোত থাকে না একেবারেই। ফেব্র“য়ারি-মার্চে আবাদের মৌসুমে পানির হাহাকার সবচেয়ে বেশি। তখন নদী একেবারেই শুকনো, খটখটে।

তিস্তা ব্যারাজের নক্শা করা হয়েছে সাত লাখ ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে কৃষিকাজের লক্ষ্য নিয়ে। যার মধ্যে পাঁচ লাখ ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে পানি সরবরাহ করা হবে। আর এ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে এক লাখ ৫৪ হাজার ২৫০ হেক্টর এলাকায় পানি সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। অথচ পানির অভাবে প্রতি বছর পানি উন্নয়ন বোর্ড ৬৫-৭০ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে সেচ দিতে পারছে না। পানির অভাবে তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পের দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম শুরুই করা যাচ্ছে না।

এ প্রসঙ্গে পানি বিশেষজ্ঞ ও ওয়ারপো’র সাবেক মহাপরিচালক ম. ইনামুল হক বললেনঃ তিস্তায় এই শুষ্ক মৌসুমে সাধারণত ৪ হাজার ৫০০ কিউসেক থেকে ৫ হাজার কিউসেক পানি আসে। এই পানির ওপরেই আমাদের ওই অঞ্চলের মানুষের বোরো আবাদ নির্ভর করে। এখন পানি প্রবাহ কমে আসার মানে হচ্ছে, ভারত গজালডোবা ব্যারাজ দিয়ে পানি প্রত্যাহার করে খালের মাধ্যমে মহানন্দা নদী দিয়ে বিহারের মেতী নদীতে নিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে তিস্তার পানি অস্বাভাবিক কমে আসে। তিনি বলেন, সরকারের উচিত ভারতকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি করার বিষয়ে চাপ দেয়া। তা না হলে ভারত এভাবে পানি প্রত্যাহার করে যাবে। আর বাংলাদেশের তিস্তা অববাহিকার মানুষ ও দেশের কৃষি আবাদ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।

যৌথ নদী কমিশনের একজন মুখপাত্র ‘দৈনিক ইত্তেফাক’কে বলেনঃ ভারত ও বাংলাদেশ তিস্তা নদীকে অবলম্বন করে যে সেচ প্রকল্প করেছে তা দিয়ে পুরো প্রকল্পে পানি সরবরাহ করা সম্ভব নয়। তিস্তা নদী প্রবাহে এত পানি থাকে না। তবে তিস্তা চুক্তি হলে আমরা কতটুকু পানি পাবো এ বিষয়ে একটি পরিষ্কার ধারণা থাকবে। সেই মোতাবেক তখন আমরা সেচের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে পারবো। এখন কয়েক বছরের গড় পানিপ্রবাহ দেখে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।

কামরানের স্ত্রী দাবিদার

কামরানের স্ত্রী দাবিদার ডালিয়াকে নিয়ে সিলেটে তোলপাড়

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের স্ত্রী দাবিদার ডালিয়া সুলতানা হেপীকে নিয়ে সিলেটে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কামরান। এ ব্যাপারে তিনি যুগান্তরকে জানান, ডালিয়া নামের কোন মহিলাকে তিনি চেনেন না। কেউ বললেই তার স্ত্রী দাবি করতে পারে না। বিয়ের কাবিনসহ প্রমাণ করতে হবে। এসব তার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ অপপ্রচার বলে দাবি করে তিনি বলেনÑ এ সব কিছু মিথ্যা ও বানোয়াট। বৃহস্পতিবার নির্বাচনী প্রচারণাকে ছাড়িয়ে ডালিয়ার বিষয়টি ছিল নগরজুড়ে আলোচনায়। দীর্ঘদিন ধরে গোপন থাকা কামরানের দ্বিতীয় স্ত্রীর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় কামরানসহ তার পরিবারের সদস্যরা এ নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন। ঢাকায় কামরানের আরেক স্ত্রী আছেন এমন সংবাদ প্রায় সময় শোনা গেলেও স্ত্রীর সন্ধান কেউ পায়নি। অবশেষে ঢাকায় একটি দূর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার একটি জাতীয় দৈনিক ও স্থানীয় একটি অনলাইনে বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ায় সকাল থেকেই লোকজনের মুখে মুখে আলোচিত হয় বিষয়টি। এ ব্যাপারে জানতে অনেকে ফোন করেন সাংবাদিকদের কাছে। জানা যায়, বুধবার সকালে ঢাকার মহাখালী পুলিশ বক্সের কাছে একটি গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-গ-৩৫-০১৫৮) অপর একটি গাড়িকে ধাক্কা দেয়। এ নিয়ে দুই গাড়ি চালকের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা শুরু হলে ঘটনাস্থলে আসেন বনানী থানার এসআই জাকির। তিনি বিষয়টি জেনে ঢাকা মেট্রো-গ-৩৫-০১৫৮ গাড়িটি থানায় নিয়ে যেতে চাইলে চালক জানান, এই গাড়িটির মালিক সিলেটের মেয়রের স্ত্রী ডালিয়া সুলতানা হেপী। এসআই জাকির যুগান্তরের কাছে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তবে মেয়র কামরান সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি গাড়ির মালিকও নন বলে দাবি করেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ডালিয়া সুলতানা হেপী সদ্য বিদায়ী মেয়র কামরানের দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রায় ১০ বছর আগে কামরান প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়ে এক সন্তানের জননী ডালিয়াকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে তিনি হেপীকে আদর করে ইতি বলে ডাকতেন। ডালিয়া ঢাকার ওয়ারীর ৮ র‌্যাংকিং রোডের ফরচুন টাওয়ারের সাউথ ভবনের ৬ বি ফ্ল্যাটে মেয়েকে নিয়ে থাকেন। ফ্ল্যাটটি কামরান তাকে কিনে দিয়েছেন। ঢাকায় ডালিয়ার নামে দোকান, প্লট ছাড়াও বিপুল পরিমাণ অর্থ রয়েছে বলে জানা গেছে। কামরান যখনই ঢাকায় যান বেশিরভাগ সময় ওয়ারীতে ডালিয়ার বাসায় ওঠেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে দলীয় কয়েকজন নেতা, কামরানের ঘনিষ্ঠ একাধিক ব্যবসায়ী এ বিষয়টি জানেন। তাদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথাও বলেন ডালিয়া। ওয়ান ইলেভেনের সময় কামরান গ্রেফতারের পর তার প্রথম স্ত্রী আসমা কামরান বিষয়টি জানতে পারেন। এ নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিন মনোমালিন্য চলে কামরানের। কামরানের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, ডালিয়ার গ্রামের বাড়ি দোহার উপজেলায়। তার পিতাও একজন আওয়ামী লীগ নেতা ছিলেন। এর আগে ডালিয়ার একটি বিয়ে হয়েছিল। ১৫ বছর বয়সের তার একটি মেয়ে রয়েছে। প্রথম স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর ‘ঘটনাচক্রে’ কামরানের সঙ্গে পরিচয় হয় ডালিয়ার। এরপর তাদের ঘনিষ্ঠতা বাড়লে একপর্যায়ে ডালিয়াকে বিয়ে করতে বাধ্য হন কামরান। সূত্রমতে, ডালিয়া একাধিকবার সিলেট এসেছেন। একবার সিটি কর্পোরেশনেও যান ডালিয়া। সে সময় আসমা কামরান লন্ডনে ছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্পোরেশনের একজন কর্মকর্তা বিষয়টির সত্যতাও স্বীকার করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নগর আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ঢাকায় কামরানের একজন স্ত্রী আছেন এটা তো ‘ওপেন সিক্রেট’ ব্যাপার। বিষয়টি কামরানের পরিবারের সদস্যরাও জানেন। কিন্তু লোকলজ্জার ভয়ে এবং রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের কথা ভেবে কেউ কিছু বলেন না।
http://www.jugantor.com/~jugantor/last-page/2013/06/07/3274

স্যার এক কোটি টাকার নিচে ঘুষ

স্যার এক কোটি টাকার নিচে ঘুষ খান না (ভিডিও)

আহমাদ আলী : হুমকি দিয়ে ১ কোটি টাকা লুটে নেয়ার অভিযোগে এস আই হাসনাত ও ডিবির ডিসি মোল্লা নজরুলকে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক থেকে উত্তোলিত টাকার ভিডিও ফুটেজ ফাঁস করে দিলো একুশে টিভি!!! সেই সাথে সাথে জিহাদী বই, বোমা, আর্মস, গ্রেনেড, আর মিডিয়া দিয়ে ক্রিমিনাল আটকের ভূয়া কনসেপ্টের একাউন্টিবিলিটি যতটুকু ছিলো, †সটা ফাঁস করে দিয়েছে ভূক্তভোগী সেই ব্যাক্তি। এরকম করেই নাকি তাকে ফাঁসাতে চেয়েছিলো ওরা বলে মিডিয়াকে সাক্ষাৎকার দিয়ে জানালেন!

সর্বশেষে জানা গেছে, এই সুদক্ষ কর্মকর্তাদের নাকি শুধু বদলী করা হয়েছে শাস্তি হিসেবে।

প্রসঙ্গত, এক ব্যবসায়ীকে আটক করে ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে ১ কোটি টাকা চাঁদা আদায় করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোল্লা নজরুল ইসলাম। সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন তার টিমের এসআই হাসনাত। চাঞ্চল্যকর এমন অভিযোগ করেছেন নড়াইল থেকে নির্বাচিত সরকারি দলের সংসদ সদস্য কবিরুল হক। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের সঙ্গে দেখা করে সম্প্রতি তিনি এ অভিযোগ দেন। লিখিত অভিযোগের সঙ্গে চাঁদা গ্রহণের প্রমাণস্বরূপ ভিডিও ফুটেজ, অডিও রেকর্ড ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট জমা দিয়েছেন। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আবিদুল ইসলামও ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে পুলিশ বাহিনীর একটি বিশেষ ব্যাটালিয়নের কাছে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী যা বললেন

ব্যবসায়ী আবিদুল ইসলাম গত সোমবার বলেন, ৬ এপ্রিল রাত ৩ টায় ডিবির একটি দল তার ফ্ল্যাটে হানা দেয়। অভিযানে অংশ নেয়া ডিবির এসআই (উপ-পরিদর্শক) হাসনাত তার ফ্ল্যাটে ঢুকেই অস্ত্রের মুখে তাকে বলেন, দশ কোটি টাকার কালো ব্যাগটি কোথায়? তিনি তাকে বলেন এ ফ্ল্যাটে দশ কোটি টাকার ব্যাগ থাকার কথা নয়। তখন ডিবির লোকজন উত্তেজিত হয়ে তার স্ত্রীর গহনার বাক্স নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে এবং তার হাতে হাতকড়া লাগিয়ে দেয়। একপর্যায়ে আবিদুল ইসলাম জানতে চান, তার বিরুদ্ধে কি অভিযোগ? কে তাদের পাঠিয়েছে? তখন এসআই হাসনাত তাকে বলেন, ডিবির ডিসি মোল্লা নজরুল ইসলামের নির্দেশে তারা এ অভিযান চালাচ্ছেন। আবিদুল তখন এসআই হাসনাতকে বলেন, নজরুল ইসলামের বাড়ি আর তার বাড়ি একই এলাকায় এবং মোল্লা নজরুল তাকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন। এ কথা শোনার পর এসআই হাসনাত তাৎক্ষণিক মোবাইল ফোনে মোল্লা নজরুলের সঙ্গে কথা বলেন। কথা শেষ করে এসআই হাসনাত আবিদুল ইসলামকে বলেন ‘স্যার (মোল্লা নজরুল) বলেছেন ১০ কোটি টাকা দিলে তোকে ছেড়ে দিতে। স্যার ১ কোটি টাকার নিচে ঘুষ খান না।’ তা না হলে গ্রেফতার করে নিয়ে যেতে বলেছেন। আবিদুল ইসলাম বলেন, টাকা না দিলে তাকে হিজবুত তাহরির সাজিয়ে ক্রসফায়ারে দেয়া হবে বলে ভয় দেখানো হয়। ওই অভিযানে ৭/৮ জন সাদা পোশাকের ডিবি সদস্য অংশ নেয়। তিনি জানান, তাদের মধ্যে এসআই হাসনাত, ইন্সপেক্টর আজাহারকে চিনতে পেরেছেন। অভিযানে একজন সহকারী পুলিশ কমিশনার ছিলেন, যার নাম তিনি জানতে পারেননি তবে দেখলে চিনবেন। এছাড়া আরও কয়েকজন কনস্টেবল অভিযানে অংশ নেয়। তারা সাদা রঙের একটি মাইক্রোবাস ব্যবহার করে যেটির গায়ে একটি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির নাম লেখা ছিল। আটক হওয়ার পর ডিবি কার্যালয়ে তাকে একবার তার মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেয়া হয়। তখন তিনি তার এলাকার এমপি কবিরুল হককে ফোন করে সাহায্য চান। কবিরুল হক ওই রাতেই মোল্লা নজরুলকে ফোনে অনুরোধ করেন যেন আবিদুলকে হয়রানি বা নির্যাতন করা না হয়। গতকাল বুধবার কবিরুল হক এমপি বলেন, তিনি অন্তত ১০ বার মোল্লা নজরুলকে ফোন করেছেন। কিন্তু তার ফোন পাওয়ার পরও নজরুল কোটি টাকা ঘুষ নিতে ভয় পাননি।

ভিডিও ফুটেজ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী যে ভিডিও ফুটেজ জমা দিয়েছেন তার একটি কপি সাংবাদিকদের হাতে এসেছে। ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ৭ এপ্রিল বেলা ২টা ৩২ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডে ব্যবসায়ী আবিদুল ইসলামে সঙ্গে ব্র্যাক ব্যাংকে ঢুকছেন এসআই হাসনাত ও আজ্জাদুর রহমান মিঠু। আবিদুল ইসলাম চেক জমা দিচ্ছেন এবং কাউন্টার থেকে টাকা বুঝে নেয়ার সময় অনেক টাকার বান্ডিল আজ্জাদুর রহমান মিঠু ব্যাগে ভরে নিচ্ছেন। ব্যাগে টাকা ঢোকাতে তাকে সহায়তা করছেন এসআই হাসনাত। এরপর একইভাবে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের শান্তিনগর শাখা থেকে দুই লাখ, ব্র্যাক ব্যাংকের শান্তিনগর শাখা থেকে ৪৩ লাখ ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের শান্তিনগর শাখা থেকে ৫ লাখ (মোট ৫০ লাখ) টাকা তোলার সময় ব্যাংকের সিসি ক্যামেরায় একই ব্যক্তিদের দেখা যায়। অভিযোগপত্রের সঙ্গে ওই সময় তিনটি ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের ব্যাংক স্টেটমেন্টও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া এসআই হাসনাতের নির্দেশ অনুযায়ী আবিদুল ইসলামের স্ত্রী তার ব্যাংক হিসাব থেকে ৫০ লাখ তুলে ডিবি কার্যালয়ে দিয়ে যান। আবিদুলের স্ত্রী ৭ এপ্রিল ওই টাকা তোলেন ইউসিবিএল ব্যাংকের মিরপুর শাখার ডিপিএস ভেঙে ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ও ব্র্যাক ব্যাংকের গুলশান-১ শাখা থেকে ৩৭ লাখ ২০ হাজার টাকা (মোট ৫০ লাখ)। আবিদুল ইসলাম বলেন, টাকা বুঝে নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা দু’জনই মোল্লা নজরুলকে মোবাইল ফোনে আপডেট জানান। এরপর আবিদুলকে আবারও ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এসআই হাসনাত ও মিঠু একটি ব্যাগে ও তোয়ালেতে জড়িয়ে টাকাগুলো মোল্লা নজরুলের কক্ষে দিয়ে আসেন। এরপর এসআই হাসনাত তাকে বলেন, ‘যে এক কোটি টাকা দিলেন তা তো স্যারের ভাগের। ওই টাকায় আমার কোন ভাগ নেই। আমাকে ৭ লাখ টাকা না দিলে ডিবির হাত থেকে ছাড়া পাবেন না।’ একদিন পর হাসনাতের কাছে ৫ লাখ টাকা পৌঁছে দেয়ার প্রতিশ্র“তি দিয়ে তিনি ডিবি কার্যালয় থেকে ছাড়া পান। পরদিন এসআই হাসনাতকে তিনি আরও ৫ লাখ টাকা পৌঁছে দেন।

আরও তিন ব্যবসায়ীর ৪ কোটি টাকা

ওদিকে এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ডিবির একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে আরও ৪ কোটি টাকা চাঁদাবাজির তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এসব ব্যবসায়ী এতদিন ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাননি। এদের মধ্যে রয়েছেন- মিরপুরের বাসিন্দা আবদুল কাইয়ুম, গুলশানের ব্যবসায়ী বিল্লাল ও বনানী এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী জিয়া। বৃহস্পতিবার আবদুল কাইয়ুম বলেন, গত বছর ১৬ ডিসেম্বর রাতে তার মিরপুর ৬ নং সেকশনের ১১/১ নম্বর হোল্ডিংয়ের ৭ তলা বাড়ির ৪ তলার ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় ডিবি। তার কাছেও ১০ কোটি চাঁদা চাওয়া হয়। টাকা না পেয়ে তাকে আটক করে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়। এরপর ওই প্রভাবশালী কর্মকর্তার কক্ষে ডেকে নিয়ে সরাসরি জানিয়ে দেন, ‘পুরো টাকা না দিলে তোকে প্রাণে বাঁচানো মুশকিল হবে’। একদিন ডিবি কার্যালয়ে আটকে রেখে নগদ ৮৬ লাখ টাকা দেয়ার পর তিনি ছাড়া পান। আবদুল কাইয়ুমের সঙ্গে রিপন নামের এক ব্যবসায়ীকেও ওই রাতে আটক করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফোনে তাকে ছেড়ে দেয় ডিবি। আবদুল কাইয়ুম আরও জানিয়েছেন, ১০ কোটি টাকার নিচে ডিবির এই দাপটশালী কর্মকর্তা কোনভাবে তাকে ছাড়তে রাজি হচ্ছিলেন না। একপর্যায়ে ঢাকা মহানগর যুবলীগের একজন শীর্ষ নেতার মধ্যস্থতায় তিনি ছাড়া পেতে সক্ষম হন।

এছাড়া সরব আইটি লিমিটেডের মালিক বিল্লাল হোসেনও ডিবির একই সদস্যদের হাতে জিম্মি হয়ে ৪১ লাখ টাকা দিয়ে মুক্তি পান। তাকে ডিবি কার্যালয়ে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় ১৭ এপ্রিল রাত ১টায়। এরপর তার কাছ থেকে নগদ ৩০ লাখ টাকা ও দুটি ২০ লাখ টাকার চেক নিয়ে ১৮ এপ্রিল রাত সাড়ে ১২টায় ছেড়ে দেয়া হয়। বিল্লাল হোসেন থাকেন ১৫২/১ তেজকুনি পাড়ায়। তিনি বলেন, কোন অভিযোগ ছাড়াই গভীররাতে তার বাসায় হানা দেয় ডিবি পুলিশ। ডিবির এসআই হাসনাত, মোখলেসুর রহমান তাকে আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। তিনি জানান, ডিবি কার্যালয়ে তাকে হাজতখানায় রাখা হয়নি। তাকে রাখা হয় এসআই হাসনাতের কক্ষে। সেখানেই হাসনাত তাকে বলেন, ‘দ্রুত টাকা দে, স্যার কাল দুবাই চলে যাবেন। টাকা না পেলে স্যারের মাথা খারাপ হয়ে যাবে কিন্তু’। পরদিন ১৮ এপ্রিল নগদ ৩০ লাখ টাকা ও ১০ লাখ করে দুটি ২০ লাখ টাকার চেক নিয়ে ডিবি কার্যালয়ে যান বিল্লালের মামা আবদুল হাই হিরা। এরপর রাত সাড়ে ১২টায় তাকে ছাড়া হয়। ব্যবসায়ী বিল্লাল জানান, এসআই হাসনাত গত সপ্তাহে আবারও ৫ লাখ টাকা দাবি করে তাকে বলেন, ‘টাকা না দিলে আবারও ঝামেলায় পড়বি।’ এছাড়া মার্চ মাসে জিয়া নামের আরও এক ব্যবসায়ীকে আটকে রেখে ৩ কোটি টাকা চাঁদা আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ব্যবসায়ী জিয়া ডিজিটেক লিমিটেড নামের এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক। তার প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় বনানীতে। গতকাল জিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেছেন, ঘটনার পর থেকে তিনি আতংকিত। যারা টাকা নিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়ার সাহস তার নেই।
http://www.amadershomoy2.com/content/2013/06/03/middle0491.htm

হামলাকারীরা ছাত্রলীগ কর্মী

হামলাকারীরা ছাত্রলীগ কর্মী প্রমাণ পাননি তদšত্ম কর্মকর্তা

সাদ্দাম হোসেন : বিশ্বজিৎ দাস হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলায় আজ রোববার ২১জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। ১৩ই জুন থেকে এই মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে। এদের মধ্যে ৮জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও বাকিরা পলাতক রয়েছেন এবং তাদের অনুপস্থিতিতেই এই বিচার শুরু হচ্ছে।

গত বছরের ৯ ডিসেম্বর বিরোধী দলীয় জোটের এক অবরোধ কর্মসূচী চলার সময় অবরোধ বিরোধীদের একটি মিছিলের কর্মীরা দর্জির দোকানি বিশ্বজিৎ দাসকে টেলিভিশন ক্যামেরার সামন্যে ধাওয়া করে কুপিয়ে হত্যা করে। আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের ৬মাস পরে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। রোববার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ অভিযোগ গঠনের পর সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৩ই জুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

এই মামলাটিতে ৬০ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে জানিয়ে সরকারি কৌঁসুলি আব্দুল্লাহ আবু বলেন, আসামীদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হয়েছে। যারা অনুপস্থিত আছে তাদের অনুপস্থিতেই বিচার হবে এবং এরজন্যে এক্সট্রা ডিফেন্স নিয়োগ করা হবে। যারা পলাতক তাদের বিরুদ্ধে এক্সট্রা ডিফেন্স মামলা পরিচালনা করবে।

এর আগে এই পলাতক আসামীদের সম্পত্তি জব্দ করার একটি আদেশ হয়েছিল- সেটি কি বা¯ত্মবায়িত হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে আবু বলেন, না- এটি এখনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। চেষ্টা করা হচ্ছে আসামীদের গ্রেপ্তার করার জন্যে। এ পর্যšত্ম ৮জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বাকিরা পলাতক রয়েছে।

এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমগুলোতে বলা হয়- বিশ্বজিৎ দাসের ওপর হামলাকারীরা সবাই ক্ষমতাসীন দলের একটি সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কর্মী। ফলে ঘটনাটি দেশে বিদেশে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। তবে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারা এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন।

মামলাটির তদšত্মকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক তাজুল ইসলাম বলেন, পলাতকদের গ্রেপ্তারে তারা চেষ্টা করছেন। তবে হামলাকারীরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হলেও তারা ছাত্রলীগের কর্মী এ রকম কোনো প্রমাণ তিনি পাননি। তিনি বলেন, ঐদিন বিএনপির কর্মসূচী থাকায় মিডিয়া বলেছে হামলাকারীরা ছাত্রলীগ কর্মী।

তাজুল বলেন, আসামীরা বিভিন্ন নামে আত্মগোপন করে আছে। আসামীরা একেক সময় একেক মোবাইল ব্যবহার করছে। একবার যেটা ব্যবহার করছে সেটা দ্বিতীয়বার ব্যবহার করছে না। তাদের গ্রেপ্তার করতে আমরা ব্যাপক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তিনি বলেন- গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৪জন আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে যে, অবরোধবিরোধী মিছিল করার সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছেই একটি ককটেল বিস্ফোরন ঘটে। ঐ বিস্ফোরণের জন্য বিশ্বজিৎ দাসকে সন্দেহ করে তারা (আসামী) তাকে ধাওয়া করে হামলা করেন।

বিশ্বজিৎ দাসের বড় ভাই উত্তম দাস বলেন, যারা গ্রেপ্তার হয়েছে তাদের এখন ঠিকমতো বিচার হলেই হলো। আমাদের আশা ছিল যে, আরও হয়তো গ্রেপ্তার করা হবে। কিন্তু না। এখন বিচার যতক্ষণ পর্যšত্ম না হবে ততক্ষণ পর্যšত্ম কোনো আশা রাখতে পারছি না- এমন শঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি।

এ ব্যাপারে কেউ যোগাযোগ করে কি-না? জবাবে উত্তম বলেন, না- কেউ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে না। আমরা সাধারণ মানুষ হিসেবে টিভিতে যা দেখার তাই দেখছি। উল্লেখ্য, বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার ২১ আসামির মধ্যে ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি ১৩ জন পলাতক রয়েছে। গত ১১ ডিসেম্বর সূত্রাপুর থানার ৪২৭ নং জিডির ভিত্তিতে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছেন।

চার্জশিটভুক্ত ২১ আসামি হলেন- ছাত্রলীগ ক্যাডার রফিকুল ইসলাম শাকিল (চাপাতি শাকিল), মাহফুজুর রহমান নাহিদ, এমদাদুল হক এমদাদ, জিএম রাশেদুজ্জামান শাওন, এইচ এম কিবরিয়া, কাইউম মিয়া টিপু, সাইফুল ইসলাম, রাজন তালুকদার, খন্দকার মো. ইউনুস আলী, আজিজুল হক, তারিক বিন জোহর তমাল, গোলাম মোস্তফা, আলাউদ্দিন, ওবায়দুর কাদের তাহসিন, ইমরান হোসেন ইমরান, আজিজুর রহমান আজিজ, মীর মো. নূরে আলম লিমন, আল-আমিন শেখ, রফিকুল ইসলাম, মনিরুল হক পাভেল, কামরুল হাসান ও মোশারফ হোসেন। এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এ মামলায় জেলহাজতে থাকা যে ৪ জনকে অব্যাহতি দেয়ার সুপারিশ করা হয়। তারা হলেন- মামুন অর রশিদ, ফারুক হোসেন, কাজী নাহিদুজ্জামান তুহিন ও মোসলেহউদ্দীন মোসলেম।প্রসঙ্গত, গত বছরের ৯ ডিসেম্বর ১৮ দলের অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে রাজধানীর পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্রলীগ ক্যাডারদের হাতে নির্মমভাবে নিহত হন দর্জি দোকানি বিশ্বজিৎ দাস।ওইদিন রাতেই অজ্ঞাতনামা ২৫ জনকে আসামি করে সূত্রাপুর থানায় মামলা দায়ের করেন সংশ্লিষ্ট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জালাল আহমেদ। গত ১৩ ডিসেম্বর সুপ্রিমকোর্টের এক আইনজীবী বাদী হয়ে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। বিবিসি
http://www.amadershomoy2.com/content/2013/06/03/news0190.htm

তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে শেখ

তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে শেখ হাসিনা যা বলেছিলেন

জাকির হোসেন: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এখন তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার বিপক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। অথচ ’৯০-এর গণআন্দোলনে এরশাদের পতন এবং ’৯১ সালের সাধারণ নির্বাচনে পরাজয়ের পর তিনি এবং তার দল তত্ত্বাবধায়ক সরকার দাবিতে ’৯৪, ’৯৫ এবং ’৯৬ সালে লাগাতার সভা-সমাবেশ, হরতাল, অবরোধ, অসহযোগ আন্দোলন করেছিলেন। শেখ হাসিনা বলেছিলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও বিরোধীদল বিহীন কোনো নির্বাচন জনগণ মেনে নেবে না। নির্বাচনের নামে যে কোনো প্রহসনের নির্বাচন জনগণ প্রতিরোধ করবে”। একই সঙ্গে তিনি তত্ত্ববধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় পার্টিকে নিয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। এই তিন দলের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল পাশ এবং বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাফল্য কামনা করে বলেছিলেন, জনগণের অপরিসীম ত্যাগ ও তিন দলের আন্দোলনের ফলে বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার দাবি মানতে বাধ্য হয়েছে। বাঙালি জাতি আর একবার প্রমাণ করেছে জনতার ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের কাছে কোনো স্বৈরাচারী শক্তি টিকে থাকতে পারে না। ন্যায্য ও সত্যের সংগ্রাম সব সময় জয়ী হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন চলাকালে (৯৩-৯৬) আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত সমাবেশে কয়েক শ’বার এ কথা বলেছিলেন যে, “জনগণের ভাত ও ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে তার দল আন্দোলনে নেমেছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে জনগণ আজ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ। তত্ত্বাবধায়ক সররকার ছাড়া অন্য কোনো ফর্মুলা গ্রহণযোগ্য হবে না। বিএনপি সরকারকে ক্ষমতায় রেখে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। কারণ বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে ভোটারদের জীবনের নিরাপত্তা থাকবে না। তাই একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি করছি। আমাদের সংগ্রাম একটি মৌলিক অধিকারের সংগ্রাম। অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার কায়েম করতে চাই। একমাত্র তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতেই জনগণের ভোটাধিকার নিরাপদ হতে পারে”।

আর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা ঘোষণাকালে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম লক্ষ্য ছিল একটি অবাধ সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কায়েম করা। এ লক্ষ্য অর্জন করার জন্য দেশের আপামর জনসাধারণ বার বার বিভিন্ন পর্যায়ে আন্দোলন করে অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে। গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার একটি অন্যতম পূর্বশর্ত হলো অবাধ সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করা এবং প্রতিনিধিত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক একটি সংসদ ও সরকার প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু আমাদের দেশে গণতন্ত্র এবং গণতান্ত্রিক চর্চা যেহেতু এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে সেহেতু গণতন্ত্রকে সুসংহত এবং সপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য একটি সাংবিধানিক ব্যবস্থা প্রণয়ণ করার তাগিদ এখন একটি জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে।

ওই সময় অর্থাৎ বিগত বিএনপি সরকারের আমলে (৯১-৯৬) তত্তাবধায়ক সরকারসহ বিভিন্ন দাবিতে বিরোধীদল আওয়ামী লীগ ১৭৩ দিন হরতাল কর্মসূচি পালন করে। এর মধ্যে শুধু তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে ’৯৪, ’৯৫ ও ’৯৬ সালের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি এবং জামায়াত ইসলামী অভিন্ন কর্মসূচি হিসেবে মোট ৯৬ দিন হরতাল, অবরোধ এবং অসহযোগ কর্মসুচি পালন করে। এর মধ্যে ৭০ দিন হরতাল অবরোধ এবং ২৬ দিন অসহযোগ। এসব কর্মসূচিতে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের পাশাপাশি একটি লাগাতার ৯৬ ঘন্টা, ২টি ৭২ ঘন্টা এবং ৫টি ৪৮ ঘন্টার হরতাল ডাকা হয়।

’৯৬ সালের ৩ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আয়োজিত এক জনসভায় বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ভেবেছেন রোজার মাসে হরতাল হবে না। ইচ্ছেমতো ভোট চুরি করে একদলীয় নির্বাচন করিয়ে নেবেন। কিন্তু তিনি জানেন না রোজার মাসেও যুদ্ধ হয়েছিল।

আন্দোলনের এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে টার্গেট করে হরতালের কর্মসূচি দিয়েছিল আওয়ামী লীগ ও জামায়াত। এক্ষেত্রে ’৯৬ সালের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া যেখানেই নির্বাচনী সফরে গিয়েছিলেন সে জেলাতেই হরতাল ডেকেছিল আওয়ামী লীগ, জামায়াত ও জাতীয় পার্টি । এসব কর্মসূচিতে ব্যাপক ভাংচুর, বোমাবাজী, ককটেল নিক্ষেপ, অগ্নিসংযোগ এবং গোলাগুলির ঘটনা ঘটে এবং সহিংসতায় নিহত হয় অর্ধশতাধিক মানুষ- আহত হয় সহস্রাধিক। ’৯৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি দৈনিক সংবাদে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু মাত্র ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের দিন হরতাল ও গণকারফিউ কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে ১৫ জন নিহত এবং আহত হয় আরো ছয় শতাধিক মানুষ।

এসব ঘটনা ওই সময়ের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়। এ বিষয়ে তৎকালীন জাতীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদন এবং ৯৪, ৯৫ ও ৯৬ সালে আওয়ামী লীগ, জামায়াত ও জাতীয় পার্টির অভিন্ন কর্মসূচি হিসেবে পালিত হরতাল অবরোধ ও অসহযোগ বিষয়ে প্রাপ্ত কিছু তথ্য তুলে ধরা হলো-

** দৈনিক বাংলা: ১৭ নভেম্বর ১৯৯৫ -

‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ছাড়া অন্য ফর্মুলা মানব না: হাসিনা’

নিজস্ব সংবাদদাতা: গাইবান্ধা ১৬ নভেম্বর।- জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জনগণের ভাত ও ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে তার দল আন্দোলনে নেমেছে। সন্ত্রাস ও দুর্নীতির কারণে দেশের অর্থনীতি আজ পর্যুদস্ত। তিনি আজ গাইবান্ধার পলাশবাড়ি থানা সদরে এসএম হাই স্কুল মাঠে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় বক্তৃতা দিচ্ছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, দুর্নীতি ও ভোট ডাকাতির কারণে এরশাদ সরকারকে ক্ষমতা থেকে হটিয়ে দেওয়া হয়েছে। জনগণ আশা করেছিল তাদের ভোটে নির্বাচিত বিএনপি সরকার গণতন্ত্রে বিশ্বাসী হবে। কিন্তু এই সরকার কখনো ভোট ডাকাতি এবং কখনো ভোট চুরি করে সেই বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করেছে। এই সরকারের হাতে গণতন্ত্র নিরাপদ নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে জনগণ আজ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ। অন্য কোনো ফর্মুলা গ্রহণযোগ্য হবে না।

** দৈনিক ইনকিলাব: ৩০ ডিসেম্বর শনিবার, ১৯৯৫ -

‘বিরোধী দলবিহীন নির্বাচন জনগণ মেনে নেবে না- শেখ হাসিনা’

স্টাফ রিপোর্টার: মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় গতকাল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও বিরোধীদল বিহীন কোনো নির্বাচন জনগণ মেনে নেবে না। নির্বাচনের নামে যে কোনো প্রহসনের নির্বাচন জনগণ প্রতিরোধ করবে। আমি একটি অর্থবহ নির্বাচন চাই।

তিনি বলেন, এক ব্যক্তির ক্ষমতার মোহই দেশকে সংঘাত ও সন্ত্রাসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ভোট চুরি আমরা বরদাশত করতে পারি না। জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই আমরা নিরপেক্ষ নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবি করছি। এই দাবি মেনে না নিয়ে যদি দেশে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় তবে তার দায় ভার সরকারকেই নিতে হবে। দাবি না মানলে প্রধানমন্ত্রীর যে পরিণতি হবে তার জন্য আওয়ামী লীগ দায়ী থাকবে না। শেখ হাসিনা আজকের অবরোধ কর্মসূচি ও আগামী ৩ ও ৪ জানুয়ারি ৪৮ ঘন্টার হরতালকে সফল সফল করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দাবি আদায় না করে ঘরে ফিরবেন না। সবাই মাঠে নেমে পড়ুন, যে কোনো ত্যাগ স্বীকারের জন্য প্রস্তুত থাকুন।
তিনি বলেন, বিরোধী দলের আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত কেউ যদি মোনাফেকী করে সরকারের সঙ্গে নির্বাচনে যায়- তবে তার সম্পর্কে আপনারা যা খুশি তাই ব্যবস্থা নেবেন। শেখ হাসিনা বিরোধী দলের দাবি নিয়ে জনগণের কাছে যাবার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন এবং বলেন, কেন আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাই, সরকার কিভাবে বিরোধী দলের দাবি নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে তা জনগণকে বঝাতে হবে। মহিলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ নেতৃবৃন্দকেও জনগণের কাছে যেতে হবে।

** দৈনিক সংবাদ: ১২ সেপ্টেম্বর: ১৯৯৪ -

‘কেয়ারটেকার সরকারের দাবি মেনে নিন: জনসভায় শেখ হাসিনা’

স্টাফ রিপোর্টার: আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা কেয়ারটেকার সরাকারের দাবি নেনে নেয়ার আহ্বাণ জানিয়ে বলেছেন যে, যে মুহুর্তে কেয়ারটেকার সরকারের দাবি মেনে নেয়া হবে সেই মুহুর্ত থেকে বাংলাদেশে আর কোনো হরতাল, ঘেরাও, অবরোধ আহ্বান করা হবে না। তিনি বলেন, কেয়ারটেকার সরকারের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কোনো কর্মী রাজপথ থেকে ঘরে ফিরে যাবে না। এবং লাঠিচার্জ, বুলেট, গরম পানি দিয়ে এই দাবি দমন করা যাবে না। রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এ কথা বলেন। রোবার ঢাকায় অর্ধদিবস হরতাল পালনের পর জনসভা আয়োজন করা হয়।

** দৈনিক বাংলা: ১৬ সেপ্টেম্বর ১৯৯৪ -

কূটনীতিক সমিতির মধ্যাহ্ন ভোজে হাসিনা

নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য কেয়ারটেকার সরকার দরকার

বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার বলেছেন, বিএনপি সরকারকে ক্ষমতায় রেখে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি তারা করে আসছেন। খবর ইউএনবি’র। স্থানীয় একটি হোটেলে কূটনৈতিক সমিতি আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সংগ্রাম একটি মৌলিক অধিকারের সংগ্রাম। অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার কায়েম করতে চাই।

** দৈনিক বাংলা: ১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৯৪-

‘কেয়ারটেকার সরকার চাই: সিলেটের জনসভায় হাসিনা’

স্টাফ রিপোর্টার: সিলেট, ১৮ সেপ্টেম্বর।- জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেত্রী ও আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে ভোটারদের জীবনের নিরাপত্তা থাকবে না। একমাত্র তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতেই জনগণের ভোটাধিকার নিরাপদ হতে পারে

** দৈনিক বাংলা: ৭ ডিসেম্বর ১৯৯৩-

আওয়ামী লীগের জনসভায় ভাষণ

‘তত্ত্ববধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চাই: শেখ হাসিনা’

স্টাফ রিপোর্টার: আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও সংসদে বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা নিরপেক্ষ তত্ত্ববধায়ক সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচন দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, তত্ত্ববধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আওয়ামী লীগ জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনী বিল আনবে। বিএনপি যাতে এই বিল পাশ করতে বাধ্য হয় এ জন্য তিনি আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান। স্বৈরাচারের পতন ও গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে সোমবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক জনসভায় তিনি বক্তৃতা করছিলেন।

** দৈনিক বাংলা: ২৮ জুন, ১৯৯৪ -

আওয়ামী লীগ জাপা জামায়াতের প্রেস ব্রিফিং

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা ঘোষণা

স্টাফ রিপোর্টার

আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামীসহ সংসদের পাঁচটি বিরোধী দল সোমবার সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেত্রীর সম্মেলন কক্ষে রাত পৌণে দশটায় নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা ঘোষণা করেছে।.. তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা ঘোষণাকালে শেখ হাসিনা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম লক্ষ্য ছিল একটি অবাধ সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কায়েম করা। এ লক্ষ্য অর্জন করার জন্য দেশের আপামর জনসাধারণ বার বার বিভিন্ন পর্যায়ে আন্দোলন করে অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে। গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার একটি অন্যতম পূর্বশর্ত হলো অবাধ সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করা এবং প্রতিনিধিত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক একটি সংসদ ও সরকার প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু আমাদের দেশে গণতন্ত্র এবং গণতান্ত্রিক চর্চা যেহেতু এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে সেহেতু গণতন্ত্রকে সুসংহত এবং সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য একটি সাংবিধানিক ব্যবস্থা প্রণয়ণ করার তাগিদ এখন একটি জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে।

** হরতাল, অবরোধ এবং অসহযোগ..

তত্ত্ববাধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠায় আওয়ামী লীগ, জামায়াত ও জাতীয় পার্টির অভিন্ন কর্মসূচি হিসেবে ’৯৪, ৯৫ ও ৯৬ সালে ডাকা হরতাল, অবরোধ এবং অসহযোগের কিছু চিত্র-

১৯৯৪ সাল: ২৬ এপ্রিল ( হরতাল), ১০ সেপ্টেম্বর (অবরোধ), ১১, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর (হরতাল), ২৭ সেপ্টেম্বর (অবরোধ) ৩০ নভেম্বর (অবরোধ), ৭ ও ৮ ডিসেম্বর (হরতাল), ২৪ ডিসেম্বর অবরোধ, ২৯ ডিসেম্বর (অবরোধ)।

১৯৯৫ সাল: ২, ৩ ও ৪ জানুয়ারি (হরতাল)। ১৯ জানুয়ারি (অবরোধ)। ২৪ ও ২৫ জানুয়ারি (হরতাল)। ১২ ও ১৩ মার্চ(লাগাতার ৪৮ ঘণ্টা হরতাল)। ২৮ মার্চ (ঢাকা অবরোধ)। ৯ এপ্রিল ( ৫ বিভাগে হরতাল)। ২ ও ৩ সেপ্টেম্বর (লাগাতার ৩২ ঘন্টা হরতাল)। ৬ সেপ্টেম্বর (সকাল-সন্ধ্যা হরতাল)। ১৬, ১৭, ১৮ সেপ্টেম্বর ( লাগাতার ৭২ ঘন্টা হরতাল)। ৭ এবং ৮ অক্টোবর (পাঁচ বিভাগে লাগাতার ৩২ ঘন্টা হরতাল)। ১৬, ১৭, ১৮ এবং ১৯ অক্টোবর (লাগাতার ৯৬ ঘন্টা হরতাল)। ৬ নভেম্বর (ঢাকা অবরোধ) ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫ এবং ১৬ নভেম্বর ( প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা হরতাল)। ৯, ১০ এবং ১১ ডিসেম্বর (লাগাতার ৭২ ঘন্টা হরতাল)। ১৭ ডিসেম্বর (সকাল সন্ধ্যা হরতাল)। ৩০ ডিসেম্বর ( দেশব্যাপী অবরোধ)।

১৯৯৬ সাল: ৩ ও ৪ জানুয়ারি (লাগাতার ৪৮ঘন্টা হরতাল), ৮ ও ৯ জানুয়ারি (লাগাতার ৪৮ঘন্টা হরতাল)। ১৭ জানুয়ারি (সকাল-সন্ধ্যা হরতাল)। ২৪ জানুয়ারি (সিলেটে ১১ ঘন্টা হরতাল)। ২৭ জানুয়ারি (খুলনায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল)। ২৮ জানুয়ারি (খুলনায় অর্ধদিবস হরতাল)। ২৯ জানুয়ারি (ঢাকায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল)। ৩০ জানুয়ারি (চট্টগ্রামের বাশখালীতে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল)। ১ ফেব্রুয়ারি (বিশ¡বিদ্যালয় এলকায় হরতাল)। ৩ ফেব্রুয়ারি (অর্ধদিবস হরতাল)। ৭ ফেব্রুয়ারি ফেনীতে ( সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত হরতাল)। ৮ ফেব্রুয়ারি ( ফেনীতে হরতাল)। ১০ ফেব্রুয়ারি (রাজশাহীতে হরতাল)। ১১ ফেব্রুয়ারি (সিরাজগঞ্জে হরতাল)। ১৩ ফেব্রুয়ারি ( দেশব্যাপী অবরোধ)। ১৪ এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি ( দেশব্যাপী ৪৮ ঘণ্টা লাগাতার হরতাল)। ২৪, ২৫, ২৬ ও ২৭ ফেব্রুয়ারি লাগাতার অসহযোগ)। ৯ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত লাগাতার ২২ দিন অসহযোগ। সৌজন্যে: আমাদের বুধবার
http://www.amadershomoy2.com/content/2013/06/02/middle0407.htm

বিদেশে পালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে মন্ত্রী-এমপি-আমলারা

আহমাদ আলী ঃ প্রভাবশালী ব্যক্তি, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, আমলা,ব্যবসায়ী এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ক্যাডারসহ ১৪দলীয় জোটের পাঁচ হাজারেরও বেশি নেতাকর্মী বিদেশে পালানোর আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সাত থেকে নয় মাসের মধ্যে চার-পাঁচ ধাপে এসব ব্যক্তির অধিকাংশই কৌশলে বিদেশে পাড়ি দিতে পারে। বাকীরা সরকারের মেয়াদপূর্তির ১৫ থেকে ২০ দিন আগেই পালিয়ে যেতে পারে। এদের অধিকাংশই ওমরাহ পালন,উন্নত চিকিৎসা,ব্যবসা,বিদেশে অবস্থানরত নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে সাক্ষাৎসহ বিভিন্ন অজুহাতে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে দেশ ছাড়তে পারেন বলে শীর্ষ গোয়েন্দাসংস্থাগুলো আগাম আভাস দিয়েছে।সূত্রমতে,ওইসব সন্দেহভাজনসহ বেশ কিছু দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিকে কৌশলে বিদেশে যেতে সহায়তার করবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। কিন্তু পরবর্তীতে তাদেরকে সহসাই আর দেশে ফিরতে নাও দেয়া হতে পারে।

গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তালিকা অনুযায়ী সম্ভাব্য পলাতকদের তালিকায় পর্যায়ক্রমে রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডার,হোমরা চোমড়া, অসৎ ও দুর্নীতিবাজ রাজনীতিক এবং ক্ষমতার অপব্যবহারকারী দলীয় নেতাকর্মীরা। শেষের দিকে পালোনোর যাদের সম্ভাবনা রয়েছে,তাদের মধ্যে রয়েছেন এক শ্রেণীর দুর্নীতিবাজ আমলা, বিরোধীদলের নেতা এবং বেশ কয়েকজন এমপি ও মন্ত্রী। গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে,ক্ষমতার পালাবদলের সন্ধিক্ষণে দেশত্যাগের প্রস্তুতি নিতে পারেন এমন সন্দেহভাজন ভিআইপিদের একটি খসড়া তালিকা এরই মধ্যে তৈরি করা হয়েছে। আরেকটি সুত্রমতে,তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা অন্য একটি সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই এ তালিকার বেশ ক’জন ভিআইপি এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর সম্ভাবনা রয়েছে।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সূত্রগুলো আরও জানায়,সন্দেহভাজন তালিকাভুক্ত ভিআইপি এবং ক্ষমতাসীন দলের এক শ্রেণীর প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তাদের সাঙ্গপাঙ্গদের বিরুদ্ধে বিরোধী দলের নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনতার উপর ব্যাপক নির্যাতন-নিবর্তন,রাজনৈতিক হয়রানি,ক্রসফায়ারে হত্যার হুমকি,দুর্নীতি- স্বেচ্ছাচারিতা, দস্যুতাসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যা,জঙ্গিদের মদদসহ রাষ্ট্রদ্রোহিতার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। গত ৪ বছরের ক্ষমতাবলয়ে নিরাপদে থাকার কারণে এসব প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে র‌্যাবসহ পুলিশও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি।

আইন প্রয়োগকারীসংস্থাসহ গোয়েন্দাসূত্রগুলো জানিয়েছে,মূলত ক্ষমতা হস্তান্তরের পর পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে তীব্র জনরোষ,গ্রেফতার এমনকি ক্রসফায়ারের মতো কঠিন পরিণতির হাত থেকে রেহাই পাওয়ার জন্যই ১৪ দলীয় জোট সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বিদেশে পালিয়ে যেতে কঠোর গোপনীয়তার সঙ্গে আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সূত্রমতে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা অর্ন্তবতীকালীন সরকার বা ভিন্ন কোনো সরকার গঠনের পর দেশের রাজনৈতিক চালচিত্র যাচাই করেই পলাতক এসব প্রভাবশালীরা ফের দেশে প্রত্যাবর্তনের নতুন সিদ্ধান্ত নেবেন।

সূত্রগুলো আরো জানায়,সম্ভাব্য পালানোর পথ হিসেবে গুটিকয়েক প্রভাবশালী বৈধ উপায়ে আকাশ ও স্থলপথ বেছে নিতে পারেন। কেউ কেউ সীমান্ত অতিক্রম করে ভারত,ভূটান,মিয়ানমার হয়ে অন্যত্র পালানোর সুযোগ নেবেন। বাকিরা সমুদ্রপথে অবৈধ প্রক্রিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার চিন্তাভাবনা করছেন। এক্ষেত্রে অনেকেই ভিনদেশি পাসপোর্ট ব্যবহারের কথাও ভাবছেন। পালানোর পরবর্তী গন্তব্যে আগেই টাকা পাঠিয়ে আপদকালীন মজুদ করে রেখেছেন বলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ গোয়েন্দারা আভাস দিয়েছেন।
http://www.amadershomoy2.com/content/2013/05/21/middle0997.htm

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla