Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

সমীপেঃ জনাবা শেখ হাসিনা,

Sheikh Hasina

জনাবা শেখ হাসিনা,

মাননীয়া সম্বোধন করে আপনাকে সন্মান দেখাতে পারছিনা বলে দুঃখিত। প্রথমত, বিশ্ব হতে উপনিবেশবাদ অনেক আগেই বিদায় নিয়েছে। ব্রিটিশ প্রভুদের কায়দায় কথায় কথায় মাননীয়া জাতীয় শব্দ ব্যবহার করে নিজকে দুইশত বছর আগের দাস যুগে ফিরিয়ে নিতে চাইনা। খোদ ব্রিটিশরাও এখন আর এ জাতীয় শব্দ ব্যবহারে অভ্যস্ত নয়। বারাক ওবামা আমার দত্তক নেয়া দেশের প্রেসিডেন্ট। পৃথিবীর সবচাইতে শক্তিধর প্রেসিডেন্টকে আমি জনাব প্রেসিডেন্ট বলতেই অভ্যস্ত। এ নিয়ে খোদ ওবামা যেমন অভিযোগ করেননি, তেমনি তার দল ডেমোক্রেটরাও আমাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর চেষ্টা করেনি। আপনাকে নিশ্চিত করতে পারি হাজার ব্যস্ততার মাঝেও প্রেসিডেন্ট ওবামা আমার মত একজন সাধারণ সমর্থক ও নির্বাচনী কর্মীর সাথে নির্বাচন উত্তর যোগাযোগ রাখতে ভুল করেন না। দ্বিতীয়ত, আপনি বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকার প্রধান নন। আপনি দলীয় প্রশাসন ও বন্দুকের নলের মুখে অনির্বাচিত সরকারের প্রধান। তাই আমাদের সংস্কৃতিতে স্বীকৃত ও প্রাপ্য সন্মান দেখাতে পারছিনা বলেও দুঃখিত। আইনগত ভাবে আপনি কোনটারই দাবিদার হতে পারেন না। আপনি জারজ সরকারের অবৈধ প্রধানমন্ত্রী। চাইলে দলীয় চামচা ও প্রশাসনের ভাড়াটিয়া বাহিনী পাঠিয়ে আমাকে শায়েস্তা করার চেষ্টা করতে পারেন। কিন্তু আপনাকে নিশ্চিত করতে পারি আমি যা বলতে যাচ্ছি তার সবটুকু বলা সম্ভব না হলেও কেউ না কেউ একদিন এসব কথা মুখ ফুটে বলতে শুরু করবে। বাংলাদেশের ১৫ কোটি মানুষের সবাইকে ভয়, সন্ত্রাস ও পেশী শক্তির কাছে জিম্মি রেখে, গায়ের জোরে ক্ষমতার সিংহাসন আলোকিত করার নিশ্চয়তা কেউ আপনাকে দিতে পারবেনা। সময় আসবে এবং আপনার প্রতি সেকেন্ড কর্মকাণ্ডের জবাবদিহিতার দাবি উঠবে। এবং তা হবে সভ্যতার দাবি। সময়ের চাহিদা।

জনাবা হাসিনা,

ঘটনা হাজার রজনীর আরব্য উপন্যাস হতে নেয়া নয়। ৬০-৭০’এর দশক এখনো ইতিহাসের পাতায় সমাহিত হয়নি। আমরা যারা বেঁচে আছি তারা ভুলে যাইনি কেন এবং কোন প্রেক্ষাপটে এ দেশের মানুষ সংযুক্ত পাকিস্তানকে লা-কুম দিনু-কুম জানিয়েছিল। স্বৈরাচারী সামরিক জান্তা ও তাদের পোষ্য ২২ পরিবারের শোষণ, পিষণ ও সন্ত্রাসের নাগপাশ হতে মুক্তি পাওয়ার ভ্রূণেই জন্ম নিয়েছিল বাংলাদেশ নামক দেশের স্বপ্ন। সে স্বপ্ন অঙ্কুরিত হয়ে পল্লবিত হয়েছিল ৭০’এর দশকে। ফলশ্রুতিতে মানুষ অস্ত্র হাতে নিয়েছিল এবং ইতিহাসের অমেঘো পরিণতিতে সংযুক্ত পাকিস্তান ঠাঁই নিয়েছিল আস্তা-কুঁড়ে। আজ আমরা নিজেদের স্বাধীন এবং সার্বভৌম বলে দাবি করি। আসলেই কি তাই? আপনার অভিধানে স্বাধীনতার সংজ্ঞা কি আমাদের জানা নেই। তবে আমাদের অভিধানে এ সংজ্ঞা কেবল আপনার বাবাকে দেবতার আসনে বসিয়ে পূজা অর্চনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। স্বাধীনতা ২২ পরিবারের খপ্পর হতে বেরিয়ে ১ পরিবারের রাজতন্ত্র কায়েম করাও নয়। স্বাধীনতা একটি চলমান প্রক্রিয়া। ভৌগলিক দিয়ে শুরু হলেও এর শেষ ঠিকানা অর্থনৈতিক মুক্তি তথা সামাজিক নিরাপত্তায়। জাতিকে আপনি অথবা আপনারা কি দিয়েছেন ভেবে দেখেছেন কি? গোটা দেশ পরিণত হয়েছে মাফিয়া স্বর্গরাজ্যে। লুটপাট-তন্ত্র রাজত্ব করছে সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্র। খুন, লাশ, গুম পরিণত হয়েছে দৈনিক ডাল ভাতে। মানুষ মরছে জলে, স্থলে, অন্তরীক্ষে, শয়নকক্ষে। লাশ হয়ে ভেসে বেড়াচ্ছে নদী-নালা, খাল-বিল, ডোবায়। আতংকের কালো ছায়া গ্রাস করে নিয়েছে মানুষের দৈনন্দিন জীবন। বলতে বাধ্য হচ্ছি জনাবা, সবকিছু হচ্ছে আপনার নেতৃত্বে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আপনাদের পারিবারিক সম্পত্তি। এর অঙ্গ সংগঠন সমূহ আপনার পেশিশক্তি। এদের যৌথ প্রযোজনায় যে পশুশক্তি জন্ম নিয়েছে তার কাছে অসহায় হয়ে পরেছে গোটা জাতি। গোটা দেশের মালিকানা চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নেয়ার লালসায় দেশের সবকটা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে আপনি তচনচ করেছেন। কেড়ে নিয়েছেন নাগরিকদের ভোট দেয়ার অধিকার। দুমড়ে মুচড়ে তক্তা বানিয়েছেন কথা বলার স্বাধীনতা।

জনাবা হাসিনা,

মুক্তিযুদ্ধ আপনার বাবা অথবা পরিবারের পৈত্রিক সম্পত্তি নয় যা দিয়ে আজীবন ব্যবসা করে যাবেন। যুদ্ধের কোন ফ্রন্টেই আপনাদের কারও কোন অবদান ছিলনা। আপনারা কেউ যুদ্ধে যাননি। দখলদার বাহিনীর নিরাপদ আশ্রয়ে নিজেদের চামড়া বাঁচিয়েছিলেন কেবল। চাপাবাজি আর পেশি শক্তির উপর ভর করে মুক্তিযুদ্ধ তথা স্বাধীনতাকে বানিয়েছেন ক্ষমতা কুক্ষিগত করার লাভজনক পণ্য, প্রতিপক্ষ নির্মূল করার ধারালো হাতিয়ার। শেখ পরিবারে আজীবন দাসত্ব করার জন্য বাংলাদেশের জন্ম হয়নি। এ দেশের জন্ম হয়েছিল বুক ভরে নিশ্বাস নেয়ার জন্য, স্বাধীনভাবে কথা বলার জন্য, অন্ন,বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা সহ মৌলিক অধিকার সমূহের নিশ্চয়তা পাওয়ার জন্য। আজ কোথায় এসব? স্বাধীনতাকে আপনি কবর দিয়েছেন শীতলক্ষ্যার পানিতে। বর্গা দিয়েছেন র‌্যাব, পুলিশ ও ছাত্রলীগের পদতলে। ওরা জাতির গলা চিপে শ্বাস বের করে আনছে এবং পৈশাচিক উল্লাসে আনন্দ করছে। আপনি গণভবনের চার দেয়ালে বসে মুচকি হাসছেন এবং মিথ্যাচারের গর্ভে জন্ম দিচ্ছেন নতুন এক দশ। অচল ও বিকলাঙ্গ বাংলাদেশ।

জনাবা হাসিনা,

ক্ষমতার স্বাদ খুবই সুস্বাদু। সহজে কেউ ভুলতে পারেনা। আপনি পারবেন না। কিন্তু সময় আসবে এবং আপনার স্বপ্নের তখত তাউসে আগুন লাগবে। সে আগুনে আর কেউ জ্বলবে না,জ্বলবেন আপনি এবং আপনার পরিবার। অযোগ্যতাই হবে আপনার পতনের মুল কারণ। বাংলাদেশের মত জটিল আর্থ-সামাজিক দেশ পরিচালনা করার ন্যূনতম যোগ্যতা নেই আপনার। তাই জাতির কাছে ক্ষমা চেয়ে বিদায় নিন। ইতিহাসকে আপন গতিতে চলতে দিন। এ দেশের মানুষ গোলাম হয়ে জন্ম নিয়ে গোলাম হয়ে মরতে অভ্যস্ত নয়। তারা ঘুরে দাঁড়াতে জানে।

Comments

আমিরাতে জনশক্তি রফতানি কেন

আমিরাতে জনশক্তি রফতানি কেন হুমকির মুখে
আমাদের সময়.কম : ১৮/০৫/২০১৪
ওশঃধফধৎইকতেদার আহমেদ : আরব উপদ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে পারস্য উপসাগরের উপকূলে অবস্থিত দুবাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি আমিরাত বা রাজা শাসিত রাষ্ট্র। দুবাইসহ অপর ৬টি আমিরাত যথা আবুধাবি, আজমান, ফুজাইয়া, রাশ আল-খাইমা, শারজা এবং উম আল-কোয়াইন সমন্বয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত নামক সংবিধিবদ্ধ রাষ্ট্রটি গঠিত। প্রতিটি আমিরাত বংশানুক্রমিক আমির দ্বারা শাসিত। আমিরাতে একটি কেন্দ্রীয় সুপ্রিম কাউন্সিল রয়েছে, যে কাউন্সিল আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো প্রদান করে থাকে। আমিরাতের পূর্বদিকে ওমান ও দক্ষিণে সৌদি আরব। কাতার, ইরান ও পাকিস্তানের সঙ্গে আমিরাতের সমুদ্রসীমানা রয়েছে। ১৯৭১ সালের ২ ডিসেম্বর আমিরাত ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। ৭টি আমিরাতের আমীরদের মধ্য থেকে একজন আমীর সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। আবুধাবি সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী হলেও দুবাই হল প্রধান সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র। দুবাইকে বলা হয় বিশ্বনগর এবং নিকট অতীতে এটিকে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার প্রবেশদ্বার বলা হলেও বর্তমানে এটি বিশ্বের সব অঞ্চলের প্রবেশদ্বারে পরিণত হওয়ার পর্যায়ে রয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এবং রাষ্ট্রভাষা আরবি। ইংরেজি দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃত। এ দেশটির আয়তন ৩২ হাজার বর্গমাইলের বেশি এবং সে দেশের সর্বশেষ আদমশুমারি অনুযায়ী জনসংখ্যা ৯২ লক্ষাধিক। এ জনসংখ্যার মাত্র ১৩ ভাগ স্থানীয় অধিবাসী। জনসংখ্যার এক বিরাট অংশ ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে আগত। এদের সংখ্যা ৬০ ভাগের কাছাকাছি। একজন ব্যক্তি একনাগাড়ে দেশটিতে ২০ বছর বসবাস করলে তাকে দেশটির নাগরিকত্ব দেয়া হয়। তাছাড়া কেউ ব্যবসায় একটি নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করলে অথবা সেখানে ভূ-সম্পত্তি ক্রয় করলে তাকে প্রথমত আবাসিক সনদ ও পরে নাগরিকত্ব দেয়া হয়।
প্রয়াত শেখ বিন জায়েদ দেশটির প্রথম প্রেসিডেন্ট। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য তেল সম্পদকে কাজে লাগানোর স্বপ্নদ্রষ্টা। তিনিই প্রথম তেল থেকে আহরিত রাজস্ব ব্যাপকভাবে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ করেন, যা এখনও অব্যাহত আছে। দেশটিতে পৃথিবীর সপ্তম বৃহত্তম তেল ও ১৭তম বৃহত্তম গ্যাস মজুদ রয়েছে। ইসলাম আবির্ভাব-পরবর্তী পঞ্চদশ শতকের গোড়ার দিক থেকে উনবিংশ শতাব্দীর সপ্তম দশকে স্বাধীনতা লাভের আগ পর্যন্ত দেশটি পর্তুগিজ, সৌদি ও ব্রিটিশদের দ্বারা শাসিত হয়। বর্তমানে সৌদি আরবের পর এ দেশটি আরব বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তি।
দুবাই বিমানবন্দর পৃথিবীর আধুনিকতম বিমানবন্দরের মধ্যে অন্যতম। এ বিমানবন্দরের কর্মযজ্ঞ দিন দিন বেড়ে চলেছে। দুবাইয়ের এমিরেটস এয়ারলাইন্সের বহরে রয়েছে শত শত বৃহদাকৃতির যাত্রীবাহী ও মালবাহী বিমান। এ ছাড়া এ দেশটিতে আরও কয়েকটি সংস্থা আন্তর্জাতিক পরিম-লে বিমান ব্যবসা পরিচালনা করছে। এ সংস্থাগুলো হল- এয়ার এরাবিয়া, ইতিহাদ, ফ্লাই দুবাই ইত্যাদি। দুবাই বিমানবন্দরে বর্তমানে ৩টি টার্মিনাল রয়েছে। একটি টার্মিনাল থেকে অপর টার্মিনালে যেতে হলে ট্রেনের সাহায্য নিতে হয়। নবীন কোনো যাত্রীকে দুবাই বিমানবন্দরে ট্রানজিট প্যাসেঞ্জার হিসেবে এক টার্মিনাল থেকে অপর টার্মিনালে যেতে হলে বেশ বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।
বর্তমানে দুবাই শহরে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকা- চলছে। এর পেছনে যে কারণটি রয়েছে তা হল, ২০২০ সালে দুবাই শহরে বিশ্ব বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হবে। এ বাণিজ্য মেলায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের স্বনামধন্য কোম্পানিগুলো অংশগ্রহণ করবে এবং এ বাণিজ্য মেলা সংশ্লেষে দুবাই শহরে লাখ লাখ যাত্রীর আগমন ঘটবে।
দুবাই শহরের বিভিন্ন ব্যবসা ও নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশী দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। দুবাইয়ের অনুরূপ সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্যান্য শহরেও বাংলাদেশীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।
বাংলাদেশে ২০০৯ সালে মহাজোট সরকার ক্ষমতাসীন হলে কোনো এক অজানা কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ হয়ে গেলেও দুবাই তথা সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্ষেত্রে কোনো ছেদ পড়েনি।
পৃথিবীর যে কোনো দেশের যাত্রী দুবাই বিমানবন্দরে ট্রানজিট যাত্রী হিসেবে অবতরণ করলে এবং তার যাত্রা বিরতিকাল ৬ ঘণ্টার অধিক হয়ে থাকলে তাকে অবতরণ পরবর্তী ট্রানজিট ভিসা দেয়ার প্রথা চালু আছে। তাছাড়া অনেক দেশের যাত্রী দুবাই সফর করতে চাইলে অবতরণের পর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে তাদের ১৫-৩০ দিনের ভিসা দেয়া হয়ে থাকে। এর আগে ট্রানজিট যাত্রী হিসেবে আমি একাধিকবার দুবাই বিমানবন্দরে অবতরণের পর প্রবেশ ভিসা ও হোটেল সুবিধা পেয়েছি। এবার দুবাইয়ের এমিরেটস এয়ারলাইন্সে মদিনা থেকে দুবাই হয়ে ঢাকা ফেরার সময় আমার সফরসঙ্গী ছিলেন সুইডেন প্রবাসী বাংলাদেশী সিআইপি কাজী শাহ আলম, যাকে আমরা ঝুনু ভাই বলে ডেকে থাকি। দুবাই বিমানবন্দরে আমাদের উভয়ের যাত্রাবিরতি ছিল ৬ ঘণ্টারও বেশি। দুবাই থেকে পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমার ঢাকায় ফিরে আসার কথা আর ঝুনু ভাইয়ের সুইডেন চলে যাওয়ার কথা। দুবাই বিমানবন্দরে অবতরণের পর ঝুনু ভাইকে যথারীতি ট্রানজিট ভিসা ও হোটেল সুবিধা দিয়ে দেয়া হল, কিন্তু আমার ক্ষেত্রে হল ব্যতিক্রম। এমিরেটস এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে বলা হল, আমাকে যেহেতু প্রবেশ ভিসা দেয়া হবে না, তাই হোটেলে আবাসনের সুবিধা দেয়ার সুযোগ নেই। আমিসহ অন্য বাংলাদেশীদের প্রবেশ ভিসা দেয়া কেন বন্ধ করা হয়েছে- এর কারণ অনুসন্ধানে যা জানা গেল তা হল আমাদের পররাষ্ট্রনীতির ব্যর্থতা।
২০২০ সালে দুবাই শহরে যে বিশ্ব বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হবে, তা আয়োজনের জন্য প্রতিযোগী দেশ ছিল ৪টি। এ চারটি দেশ হল সংযুক্ত আরব আমিরাত, রাশিয়া, তুরস্ক ও ব্রাজিল। বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রের ভোটে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই সর্বাধিক ভোট পেয়ে বিশ্ব বাণিজ্য মেলা আয়োজনের বিরল সম্মান লাভ করে। ভোটগ্রহণ পর্ব অনুষ্ঠানের আগে আমিরাত সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভ্রাতৃপ্রতিম মুসলিম দেশ হিসেবে বিশ্ব বাণিজ্য মেলার আয়োজনে বাংলাদেশের ভোট পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। তারা বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করে আরও বলেন যে, বাংলাদেশের সমর্থন তাদের অনুকূলে হলে বিশ্ব বাণিজ্য মেলা সংশ্লেষে উন্নয়ন অবকাঠামো নির্মাণে যে বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের প্রয়োজন হবে, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশ থেকে নেয়া হবে। কিন্তু সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্মকর্তাদের কথায় আশ্বস্ত না হয়ে কোনো এক অজানা কারণে বাংলাদেশ রাশিয়ার পক্ষে ভোট প্রদান করে। বাংলাদেশের একাধিক শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিক অভিমত ব্যক্ত করেন, ভোট পর্বটি গোপন ব্যালটের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হওয়ায় আনুষ্ঠানিক ভোটগ্রহণের আগে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে রাশিয়ার পক্ষাবলম্বন অনুচিত হয়েছে এবং এটিকে কূটনৈতিক ব্যর্থতা ছাড়া অন্য কিছু বলার সুযোগ নেই। কূটনীতিকদের অভিমত, বাংলাদেশ কাকে ভোট দেবে এ বিষয়টি প্রকাশ না করলে এখন যেভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের বিরাগভাজন হয়েছে, এভাবে হয়তো বিরাগভাজন হতে হতো না।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, আমাদের সার্কভুক্ত পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র নেপাল হিন্দু রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও নির্বাচন পূর্ববর্তী ভোট প্রদান বিষয়ে আরব আমিরাতের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করে তিন লক্ষাধিক শ্রমিক নিয়োগের প্রতিশ্র“তি আদায় করে। বাংলাদেশ ভ্রাতৃপ্রতিম মুসলিম রাষ্ট্র হওয়ায় এবং বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক শ্রমজীবী সেখানে দক্ষতার সঙ্গে বিভিন্ন কর্মে নিয়োজিত থাকায় ভোট প্রদানের আশ্বাস দেয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ ওই দেশে কর্মসংস্থান এবং আমাদের দেশে ওই দেশের বিনিয়োগ বিষয়ে একটি ভালো সুযোগ গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের দাবি, এ ব্যর্থতার দায় তাদের নয়। কারণ তারা বিভিন্নভাবে আমাদের ভ্রমণপিপাসু সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন যে, সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ভোট দেয়া হবে কী হবে না সেটা গোপন বিষয় বিধায় এ বিষয়ে প্রকাশ্যে অবস্থান গ্রহণ সমীচীন নয়। কিন্তু অর্বাচীন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এক কথা- ‘রাশিয়াকে ভোট না দিলে ভারত নাখোশ হবে, তাই ভোট প্রদানের বিষয়টিকে লাভ-ক্ষতি না ভেবে ভারতের সন্তুষ্টিই আমাদের মুখ্য, যাতে যে কোনো প্রতিকূল পরিবেশে ভারতের অবস্থান তার দলের অনুকূলে থাকে।’
সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বলগাহীন আচরণের কারণে আজ সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের শ্রমিক নিয়োগ সম্পূর্ণ বন্ধ, ট্রানজিট ভিসা প্রাপ্তিতে বাংলাদেশীরা বৈষ্যম্যের শিকার এবং সে দেশে কর্মরত শ্রমিক- যাদের ভিসা মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে- তাদের ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে।
ভোটারবিহীন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের তথাকথিত বিজয় হলেও প্রধানমন্ত্রীর একান্ত বিশ্বস্ত হিসেবে বিবেচিত হামবড়া সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মন্ত্রিসভায় ঠাঁই দেয়া হয়নি। কিন্তু তাতে তার ব্যক্তিগত ক্ষতি হলেও দেশের অর্থনীতি ও ভাবমূর্তি যে ক্ষতির মধ্যে পড়েছে, তা থেকে কি উত্তরণ সম্ভব হয়েছে? আর সম্ভব না হয়ে থাকলে এ ধরনের অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই দিয়ে দেশের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও ভাবমূর্তি যেন আরও বিপর্যয়ের মধ্যে না পড়ে, সেটিই হওয়া উচিত দেশের প্রধান নির্বাহীর বিবেচ্য। যুগান্তর
ইকতেদার আহমেদ : সাবেক জজ, সংবিধান, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক

রানাসহ র্যাব কর্মকর্তাদের ফাঁসি দাবি, জুতা নিক্ষেপ

র্যাবের সাবেক কর্মকর্তা এম এম রানার রিমান্ডের শুনানি চলাকালে গতকাল কানায় কানায় ছিল ঠাসা নারায়ণগঞ্জের এজলাস। ভেতরে বাইরে আইনজীবিরা রানাসহ অন্যদের ফাঁসীর দাবিতে সেস্নাগান দিচ্ছিলেন। শুনানির এক পর্যায়ে আদালত এম এম রানার কাছে জানতে চান তিনি কিছু বলবেন কিনা? নীল জিন্স ও খয়েরী গেঞ্জি পরিহিত এবং দুই হাতে হাতকড়া লাগানো রানা কাঠগড়ার পেছন থেকে সামনের দিকে এগিয়ে আসেন। এসময় বিচারককে উদ্দেশ্য করে রানা বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই, আমার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। আমি নির্দোষ। যেখানে ঘটনা ঘটেছে বলে বলা হচ্ছে সেই এলাকা আমার এলাকার মধ্যে পড়ে না। এটা র্যাব সদরদপ্তরের এলাকা। বিকালে এম এম রানাকে আদালতে নেয়ার পর থেকেই আদালতের বাইরে একদল লোক জুতা হাতে নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। তারা রানাসহ তিন র্যাব কর্মকর্তা এবং নূর হোসেন ও তার সহযোগীর ফাঁসির দাবি করেন। শুনানী শেষে রানাকে বের করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ লোকজন তাকে লক্ষ্য করে জুতা ছুড়ে মারে। পুলিশের গাড়িতে তোলার পরও লোকজন পুলিশের গাড়িতেও জুতা মারতে থাকে। পর পুলিশ দ্রুত রানাকে নিয়ে আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করে।

মূল খুনিরা গ্রেফতার : আরো মামলা

ইনকিলাব রিপোর্ট : অপহরণ, গুম আর চাঁদা আদায়ের বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন র‌্যাবের সাবেক সিও লে. কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদসহ র‌্যাবের সাবেক ৩ কর্মকর্তা। সাত খুনের ঘটনায় খুলনার এরশাদ সিকদারের নির্মম নৃশংস কাহিনীর কথা আবারো দেশের মানুষের মানসপটে ভেসে উঠছে। গণসাক্ষীকে অপহরণ ও পরে সাতজনকে হত্যার বর্ণনা দিচ্ছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। আগে ভুক্তভোগীরা নানা অপকর্মের প্রতিবাদ করতে সাহস না পেলেও র‌্যাবের ওই তিন কর্মকর্তা গ্রেফতারের পর সারাদেশেই র‌্যাবের বিভিন্ন ইউনিটের কতিপয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মারাত্মক সব অভিযোগ করা হচ্ছে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে। এরই মধ্যে লাকসাম বিএনপির দুই নেতা গুমের ঘটনায় তারেক সাঈদসহ র‌্যাবের ৫ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কুমিল্লার আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। র‌্যাবের বিরুদ্ধে স্বামীকে গুমের অভিযোগ এনেছেন বেনাপোল পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও শার্শা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তারিকুল আলম তুহিনের স্ত্রী ছালমা খাতুন। সাত খুনের ঘটনায় সর্বশেষ গ্রেফতারকৃত সাবেক র‌্যাব কর্মকর্তা এম এম রানাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। মামলার প্রধান আসামি পলাতক নূর হোসেনের অন্যতম ঘনিষ্ঠজন সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলর জান্নাতুল ফেরদৌস নীলাকে আটকের পর ছেড়ে দেয় পুলিশ। খুনের ঘটনায় র‌্যাবের সাবেক দুই কর্মকর্তাকে হত্যা মামলায় গ্রেফতার না দেখানোর কারণ জানতে চেয়ে তদন্ত কর্মকর্তাকে শোকজ করেছে আদালত। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ ম-লকে ওই দুই কর্মকর্তার রিমান্ড শেষে হাজিরার দিন এ সংক্রান্ত জবাব দিতে বলা হয়েছে। র‌্যাবের সাবেক কর্মকর্তা লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মাদ ও মেজর আরিফ হোসেনকে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে গতকাল পর্যন্ত হত্যা মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনসহ এজাহারভুক্ত কোন আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ ও গোয়েন্দারা। নারায়ণগঞ্জে এবার আরো দুজন ব্যবসায়ীকে হত্যার পর লাশ নদীতে ফেলে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে র‌্যাবের বিরুদ্ধে। এর আগে র‌্যাবের বিরুদ্ধে কাঁচপুর এলাকার যুবলীগ নেতা ইসমাইলকে অপরহন এবং মুক্তিপনের জন্য ২ কোটি টাকা দাবি করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন অপহৃত ইসমাইলের পরিবার। নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার গতরাতে দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, মামলার এজাহারভুক্ত কোন আসামি গ্রেফতার না হলেও তদন্তে অগ্রগতি রয়েছে। গ্রেফতারকৃত র‌্যাবের ৩ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য মিলেছে।
রানা ৭ দিনের রিমান্ডে
৭ খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাবেক র‌্যাব কর্মকর্তা লে. কমান্ডার এমএম রানাকে ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (ডিবির ওসি) মামুনুর রশীদ ম-ল গতকাল রোববার বিকেল ৪টা ৪৭ মিনিটে তাকে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কেএম মহিউদ্দিনের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে চাকরিচ্যুত ও পলাতক র‌্যাব কর্মকর্তা লে. কমান্ডার এমএম রানাকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে শনিবার রাত দেড়টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ গ্রেফতার করে। একই আদালতে সেভেন মার্ডারের ঘটনায় সন্দেহজনকভাবে গ্রেপ্তারকৃত মহিবুল্লাহ রতন নামের একজনকেও ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে একই আদালত তার ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। রিমান্ড শেষে রানাকে পুলিশ লাইনে নেয়ার সময় বিক্ষুব্ধ আইনজীবী ও বিভিন্ন সময়ে অপহৃত ও নিখোঁজ ব্যক্তির স্বজনেরা তাকে লক্ষ্য করে জুতা নিক্ষেপ করে। তবে এদিন রানাকে আগে থেকেই হ্যান্ডক্যাপ পরিয়ে আদালতে আনা হয়।
শনিবার দিনগত গভীর রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকা থেকে রানাকে গ্রেফতার করে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রানাকে গ্রেপ্তারের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে তাদের নারায়ণগঞ্জের মাসদাইরে পুলিশ লাইনে আনা হয়। বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে সেখান থেকেই কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে মাথায় হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকট পরিহিত অবস্থায় জেলার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে জনাকীর্ণ আদালতে রিমান্ড শুনানি হয়। তখন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির ওসি মামুনুর রশিদ ম-ল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এম এম রানাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বিকেল ৫টায় রানাকে আবারো কঠোর নিরাপত্তায় পুলিশ লাইনে নেয়া হয়। আদালতে রানা বেশ স্বাভাবিক ছিলেন। অপর দু’জনের মতো রানাও নিজেকে একেবারে নির্দোষ দাবি করেন আদালতে। আগে থেকেই নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় আইনজীবীরা ঘোষণা দিয়েছিল ৭ খুনের ঘটনায় অভিযুক্তদের পক্ষে কোনো আইনি সহায়তা দেবে না। রোববার আদালতে র‌্যাবের চাকরিচ্যুত এম এম রানাকে হাজির করা হলেও শুনানির সময়ে বিবাদী পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।
আদালতে এম এম রানা নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ১০ দিনের রিমান্ড শুনানির পক্ষে অনেক যুক্তি তুলে ধরেন আইনজীবীরা।
রানাকে গ্রেফতারের পর রোববার বিকেলে সাড়ে ৫টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদউদ্দিন এক সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, মামলাটি সুষ্ঠুভাবেই তদন্ত চলছে। সুষ্ঠু তদন্তের জন্য যাকে প্রয়োজন তাকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যে হাইকোর্টের আদেশ পালন করা হয়েছে তিনজনকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে।
রানাকে আদালত প্রাঙ্গণে জুতা ও থুথু নিক্ষেপ
গতকাল রোববার বিকালে ৭ খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে গ্রেফতারকৃত র‌্যাব ১১ এর সাবেক লে. কমান্ডার এম এম রানাকে আদালত প্রাঙ্গণে আনা হলে উপস্থিত জনতা ও আইনজীবীগণ উত্তেজিত হয়ে ধিক্কারসহ ফাঁসির দাবিতে বিভিন্ন সেøাগান দিতে থাকে। পুলিশ রানাকে নিয়ে আদালত থেকে বের কয়ে প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতা ও আইনজীবীরা রানাকে লক্ষ্য করে পায়ের জুতা-স্যান্ডেল নিক্ষেপ করে এবং অনেকে থুথু নিক্ষেপ করে।
তারেক ও আরিফকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে
গ্রেফতারকৃত তাকের ও আরিফকে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে তদন্তের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে গতকাল পর্যন্ত হত্যাকা-ের ব্যাপারে কোনো তথ্য পায়নি পুলিশ। পুলিশ সাত খুনের প্রধান আসামি নূর হোসেনসহ এজাহারভুক্ত অপর আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছে। তবে পুলিশের অভিযান ঢিলেভাবে চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর আগে গ্রেফতারকৃত র‌্যাব-১১ ব্যাটালিয়নের অপর দুই কর্মকর্তা অধিনায়ক তারেক সাঈদ মোহাম্মদ ও আরিফ হোসেনকে আগের দিন পাঁচ দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ। হাই কোর্টের আদেশের ৬দিন পর গত শুক্রবার গভীর রাতে ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার জামাতা লে. কর্নেল তারেক ও মেজর আরিফ হোসেনকে ঢাকা সেনানিবাস এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরের দিন রাত দেড়টার দিকে একই এলাকা থেকে রানাকেও গ্রেফতার করা হয়। গত ২৭ এপ্রিল কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজন একসঙ্গে অপহৃত হলে তা নিয়ে সারাদেশে আলোচনা ওঠে। তিন দিন বাদে শীতলক্ষ্যা নদীতে তাদের লাশ পাওয়ার পর নজরুলের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম অভিযোগ তোলেন নূর হোসেনের কাছ থেকে ৬ কোটি টাকা নিয়ে র‌্যাব এই হত্যাকা- ঘটিয়েছে। নিহত কাউন্সিলর নজরুলের স্বজনরা বলে আসছেন, র‌্যাবের এই কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলেই এই হত্যাকা-ের সব রহস্য উদ্ঘাটিত হবে। এরপর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এই হত্যাকা-ের তদন্তে কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়ার পাশাপাশি আরেকটি বেঞ্চ গত ১১ মে র‌্যাবের এই তিন কর্মকর্তাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। এর আগেই র‌্যাব-১১ থেকে তারেক, আরিফ হোসেন ও রানাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে সরিয়ে সামরিক বাহিনীতে ফেরত পাঠানো হয়। সেনাবাহিনী তারেক ও আরিফকে অকালীন অবসরে পাঠায়। আর লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রানাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায় নৌবাহিনী। নারায়ণগঞ্জের এই হত্যাকা-ের পর এই পর্যন্ত ২২ জনকে আটক করেছে পুলিশ, তবে তার মধ্যে মামলার এজাহারভুক্ত কোনো আসামির কেউ নেই।
নূর হোসেনের ঘনিষ্ঠ নারী কাউন্সিলর আটকের পর ছেড়ে দেয় পুলিশ
নূর হোসেনের অন্যতম ঘনিষ্ঠজন সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলর জান্নাতুল ফেরদৌস নীলাকে আটকের পর ছেড়ে দেয় পুলিশ। গতকাল রোববার বিকেল ৬টায় নারায়ণগঞ্জ শহরের হাজীগঞ্জ এলাকার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সামনে থেকে তাকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি টিম আটক করে। এর আগে বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সংলগ্ন জেলা প্রশাসনের সার্কিট হাউজে সুশীল সমাজের লোকজনদের গণশুনানিতে অংশ নেয় নীলা। সেখান থেকে বেরিয়ে একটি মাইক্রোবাসে সিদ্ধিরগঞ্জ যাওয়ার পথে তাকে আটক করা হয়।
নীলা এর আগে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, নূর হোসেন তাকে রক্ষিতা বানাতে চেয়েছিল। তাকে বিভিন্ন সময়ে ৩৫ লাখ টাকা মূল্যের গাড়ি উপহার দেয়া হয়। এ ছাড়া নূর হোসেনের কারণে নীলা তার স্বামীকেও ডিভোর্স দেন।
রানা যা বলেন
র‌্যাবের সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এম এম রানা নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। আদালতে তিনি বলেছেন, ঘটনার দিন তিনি নারায়ণগঞ্জে ছিলেন না। গতকাল রোববার বিকেলে রানাকে সাত দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ বিচারিক হাকিম কে এম মহিউদ্দিন।
শুনানি চলাকালে রানার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আইনের রক্ষক হয়ে সে পেশাদার খুনির মতো টাকার বিনিময়ে সাতজন মানুষের লাশ ফেলে দিয়েছে।
৭ খুনে তারেক-আরিফ কেন গ্রেফতার নয়, তদন্ত কর্মকর্তাকে শোকজ
র‌্যাবের সাবেক দুই কর্মকর্তাকে হত্যা মামলায় গ্রেফতার না দেখানোর কারণ জানতে চেয়ে তদন্ত কর্মকর্তাকে শোকজ করেছে আদালত। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ ম-লকে ওই দুই কর্মকর্তার রিমান্ড শেষে হাজিরার দিন এ সংক্রান্ত জবাব দিতে বলা হয়েছে। অপহরণের পর হত্যার শিকার আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারের জামাতার করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কে এম মহিউদ্দিনের আদালত এ আদেশ দেয়।
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন বলেন, র‌্যাবের সাবেক দুই কর্মকর্তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হলেও তদন্ত কর্মকর্তা তাদের সঠিকভাবে হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখাননি। এতে আমরা ক্ষুব্ধ হয়েছিলাম।
আদালত আদেশে বলেছে, এ মামলায় যেসব তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে এতে আসামিদের সংশ্লিষ্টতা আছে বলে প্রতীয়মাণ হয়। ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে যে প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে তাতেও আসামিদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। সুতরাং কেন তাদের হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো না তা রিমান্ড শেষে হাজিরার দিন আদালতকে জানাতে হবে।
র‌্যাবের বিরুদ্ধে বেনাপোল প্যানেল মেয়রকে গুমের অভিযোগ
এবার র‌্যাবের বিরুদ্ধে স্বামীকে গুমের অভিযোগ আনলেন গত ১৪ মাস ধরে নিখোঁজ বেনাপোল পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও শার্শা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তারিকুল আলম তুহিনের স্ত্রী। গতকাল রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় নিখোঁজ তুহিনের নিজ বাড়িতে জনাকীর্ণ এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তুহিনের স্ত্রী ছালমা খাতুন। সংবাদ সম্মেলন চলে দুপুর ২টা পর্যন্ত।
সংবাদ সম্মেলনে ছালমা খাতুন বলেন, বর্তমান পৌর মেয়র আশরাফুল আলমের সহযোগিতায় র‌্যাবই আমার স্বামীকে অপহরণ করেছে। তাদের আটক করলেই এর রহস্য উদ্ঘাটন করা যাবে। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রন্ত্রীর কাছে আমার একটাই অনুরোধ আমার অবুঝ সন্তান আর বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়ির মুখের দিকে চেয়ে আমার স্বামীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারের ব্যবস্থা করুন। আমার স্বামীকে আমি জীবিত ফেরত চাই।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ২০১৩ সালের ৭ মার্চ বেলা সাড়ে ১১টায় তার স্বামী তুহিন ঢাকার শেরে বাংলা নগরে ন্যাম ফ্লাটের শার্শা আসনের এমপি শেখ আফিল উদ্দিনের বাসভবন থেকে বের হয়ে ফার্মগেট অভিমুখে যাওয়ার সময় নিখোঁজ হন। পরে ১৩ মার্চ ঢাকার শেরে বাংলা নগর থানায় একটি মামলা করা হয়। পরবর্তীতে ব্যাপক তদন্তের জন্য মামলাটি ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়।
আরও দু’জনকে হত্যার অভিযোগে মানববন্ধন
এবার আরো দু’জন ব্যবসায়ীকে হত্যার পর লাশ নদীতে ফেলে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে র‌্যাবের বিরুদ্ধে। রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনের গেইটে রূপগঞ্জের জমি ব্যবসায়ী ইমান হোসেন শওকত ও সোনারগাঁও এলাকার ক্লিনিক ব্যবসায়ী তাজুল ইসলামের পরিবারের সদস্যরা মানববন্ধন করে এ হত্যার অভিযোগ করেন। এ নিয়ে র‌্যাবের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন সরকারসহ ৭ জনকে অপরহণের পর হত্যার অভিযোগসহ মোট ৯ জনকে টাকার বিনিময়ে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর আগে র‌্যাবের বিরুদ্ধে কাঁচপুর এলাকার যুবলীগ নেতা ইসমাইলকে অপরহণ এবং মুক্তিপণের জন্য ২ কোটি টাকা দাবি করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন অপহৃত ইসমাইলের পরিবার। মানববন্ধন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন, রূপগঞ্জের মুড়াপাড়া ব্রাহ্মণগাঁও এলাকার জমি ব্যবসায়ী ইমান হোসেন শওকতের সদ্য বিবাহিত স্ত্রী শাহেরা, শওকতের মা হেলেনা আক্তার, বড় বোন শিল্পী, মিজান, সোনারগাঁও এলাকার ক্লিনিক ব্যবসায়ী তাজুল ইসলামের বৃদ্ধ বাবা হাজি জহিরুল হক মোল্লা, বন্ধু কবির হোসেনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় দুই পরিবারের সদস্যরাই তাদের স্বজন হারানোর বেদনায় কান্নায় ভেঙে পড়েন। সেই সাথে তারা তাদের স্বজনদের হত্যার সাথে র‌্যাব-১১ এর মেজর আরিফকে দায়ী করে তার ফাঁসির দাবি জানান।
রূপগঞ্জের জমি ব্যবসায়ী শওকতকে গত ২৬ সেপ্টেম্বর র‌্যাব-১১ এর মেজর আরিফ মুখে কালো কাপড় বেঁধে সাদা রঙের কালো গ্লাসের একটি গাড়িতে করে তুলে নিয়ে যায়। এরপর শওকতের ব্যবসায়ের অংশীদার আলমাছ জানায় ১ কোটি টাকা দিলে র‌্যারেব মেজর আরিফ শওকতকে ছেড়ে দিবেন। পরে গ্রামের অনেক লোকের উপস্থিতিতে র‌্যাবের কথা বলে আলমাছ শওকতের পরিবারের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা নিয়ে যায়। এরপরও শওকতকে মুক্তি না দেয়ায় শওকতের বাবা আবদুল লতিফ র‌্যাবের আদমজি কার্যালয়ে গিয়ে নিজের ছেলেকে ধরে আনার কথা জানতে চাইলে র‌্যাব তাকে জানায় তারা শওকত নামের কাউকে ধরে আনেনি। এরপর ১১ অক্টোবর রূপগঞ্জের কাঞ্চন ব্রিজের নিচ থেকে শওকতের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় শওকতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করতে গেলে আলমাছের সন্ত্রাসী বাহিনী তাদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এ সময় তারা শওকতের ছোট ভাইকে বেধড়ক মারধর করে রক্তাক্ত জখম করে। তার মাথায় আঘাত করার কারণে এখন পর্যন্ত সে ঠিক মতো কথা বলতে পারে না।
এর পর শওকতের পরিবার তাদের বাড়িঘর ছেড়ে সোনারগাঁওয়ের পেরাবো এলাকায় আত্মগোপনে চলে যায়। সেখানের র‌্যাব পরিচয়ে তাদের বাড়ি ঘরে হামলা চালিয়ে সেখান থেকে শওকতের আরেক ছোট ভাই মোহাম্মদ আলীকে আটক করে নিয়ে যায় র‌্যাব। এসময় র‌্যাবের মেজর আরিফ বলেন, শওকতের মতো মোহাম্মদ আলীরও লাশ পাওয়া যাবে বলে জানান, শওকতের মা হেলেনা আক্তার। পরে ৯ লাখ টাকা দিয়ে র‌্যাবের হাত থেকে মোহাম্মদ আলীকে ছাড়িয়ে আনা হয় অভিযোগ করেন হেলেনা আক্তার।
এদিকে সোনারগাঁওয়ের ব্যবসায়ী তাজুল ইসলামের বাবা জহিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তার ছেলের মালিকানাধীন রয়েল স্পেশালাইজড হাসপাতালের চেম্বারে বসা নিয়ে তাজুলের সাথে তার ফুফাতো ভাই ডাক্তার কামরুজ্জামানের সাথে ঝামেলা চলছিল। এ ঘটনার জের ধরে কামরুজ্জামান গত ২০১৩ সালের ২০ নভেম্বর তাজুল ইসলামকে র‌্যাব দিয়ে ধরিয়ে নিয়ে তার কাছ থেকে জোর করে এক্সিম ব্যাংকের সোনারগাঁও শাখার একাউন্ট নাম্বার ৬০১১১০০০১১২৪৭ থেকে ৩৫ লাখ ৩৫ হাজার ২০ টাকার একটি চেকে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। চেক নং ৯৬৫০৪৫২। সে সাথে একশ টাকার স্ট্যাম্পে লিখিত রাখে এবং তাকে হুমকি দেয়া হয় এ ব্যাপারে কাউকে জানালে তাকে মেরে ফেলা হবে। পরে এ ঘটনায় তাজুল ইসলাম ২৩ নভেম্বর বন্দর ও সোনারগাঁও থানায় পৃথক দুটি সাধারণ ডায়রি করেন। কিন্তু সে তার চেক ও স্ট্যাম্প ফিরে না পেয়ে তাজুল ইসলাম আদালতে একটি পিটিশন করেন। যেটা তাজুলের লাশ উদ্ধারের পর মামলা গৃহীত হয়। এরপর গত ১৭ ডিসেম্বর সোনারগাঁওয়ের নয়াপাড়া এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে তাজুল ইসলামকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় ১৯ ডিসেম্বর বন্দর থানায় একটি অপরহণ মামলা করা হয়। তাজুলের বাবা জহিরুল ইসলাম ২১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সদ্য গ্রেফতারকৃত র‌্যাব-১১ এর সাবেক সিও লে কর্নেল তারেক সাঈদ ও মেজর আরিফের সাথে সাক্ষাৎ করতে সিদ্ধিরগঞ্জ আদমজী র‌্যাব-১১ এর অফিসে যান। সে সময় র‌্যাবের তারেক সাঈদ বলেন, আমাদের কাছে আসছ কেন। যাদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করছো তারাই তোর ছেলেকে ফেরত দেবে। এ সময় পিতা জহিরুলরে সাথে যাওয়া তার মেয়েকে দেখে জিজ্ঞাসা করেন তার নাম কি। বলেন হাসিনা। এ কথা বলতেই অট্টহাসি দিয়ে তারেক সাঈদ বলেন, ওর নাম হাসিনা ওই তো দেশের মালিক। আমার কাছে কেন। তোর ছেলের কাছে কামরজ্জামান টাকা পায় দেস না কেন। এ সময় তিনি উত্তরে বলেন, টাকার বিষয়টা এলাকার চেয়ার‌্যমান ও মেম্বার দায়িত্ব নিছে। আপনার কাজ কি টাকা তুলে দেয়া নাকি। এ কথা বলতেই উত্তেজিত হয়ে পড়েন তারেক সাঈদ। বের করে দেন অফিস থেকে। র‌্যাবে তুলে নিয়ে যাওয়ার এ অভিযোগ তিনি দ্বারে দ্বারে করেছেন। এর মধ্যেই গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর নিখোঁজের ১৭ দিন পর চলতি বছরের ২ জানুয়ারি সোনারগাঁও মেঘনা উপজেলার রামপ্রসাদের চর এলাকার মেঘনা নদী থেকে অপহ্নত ব্যবসায়ী তাজুল ইসলামের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
গণশুনানিতে সুশীল সমাজের তালিকায় প্রহরী, বেয়ারা
গতকাল নারায়ণগঞ্জ সার্কিট হাউজে চতুর্থ দিনের মতো গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। গণশুনানিতে সুশীল সমাজের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হবে বলা হলেও একটি ক্লাবের প্রহরী, বেয়ারা ও আইনজীবীদের সহযোগীরাও সাক্ষ্য প্রদান করে। সাক্ষ্য দিয়েছেন সেভেন মার্ডারের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি পলাতক কাউন্সিলর নূর হোসেনের ‘বান্ধবী’ হিসেবে পরিচিত সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলর জান্নাতুল ফেরদৌস নীলা। তা ছাড়া সুশীল সমাজের বিভিন্ন স্তরের লোকজন এদিন তদন্ত কমিটির কাছে সাক্ষ্য দিয়েছেন। অনেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি করেন। তারা বলেন, এত বড় ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত না হলে নারায়ণগঞ্জে অপরাধ বাড়বে। বিকেল ৩টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সার্কিট হাউজে গণশুনানি শুরু হয়। যা চলে রাত পর্যন্ত। এতে ২৫ জন নাম অন্তর্ভুক্ত করলেও সাক্ষ্য দেন মাত্র ১৭ জন। গণশুনানি চলাকালে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা, অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু, নারায়ণগঞ্জ রাইফেলস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক খালেদ হায়দার খান কাজল, সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান নাজিমউদ্দিন, নারী ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা মনির, জেলা ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি চন্দন শীল, ইব্রাহিম চেঙ্গিস, পরিবহন নেতা মোক্তার হোসেন, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদল, নগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। উপরোক্ত নেতাদের সকলের সঙ্গে নূর হোসেনের সখ্যতা ও সম্পর্ক ছিল। অনেক অনুষ্ঠানে তাদের একসঙ্গে দেখা গেছে। এছাড়া গার্মেন্ট মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ যার সভাপতি শামীম ওসমানের ভাই সেলিম ওসমানের ঘনিষ্ঠজনসহ সভাপতি এম এ হাতেম, নারায়ণগঞ্জ চেম্ব^ার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক মঞ্জুরুল হক, অপর পরিচালক জিএম ফারুক, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শংকর সাহা, হিন্দু-বৌদ্ধ- খিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি কমান্ডার গোপিনাথ দাসও গণশুনানির সময়ে উপস্থিত ছিলেন।
নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি এবি সিদ্দিক বলেন, নারায়ণগঞ্জে এত বড় একটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের প্রয়োজন। আমরা আগে থেকেই বলে আসছিলাম নারায়ণগঞ্জের গডফাদারদের ধরতে না পারলে নারায়ণগঞ্জে হত্যা-গুম বন্ধ হবে না। সেটাই এখন হয়েছে।
গণশুনানিতে যারা অংশ নেন তাদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন, মুদি দোকানদার মোহাম্মদ কামাল, তিনজন আইনজীবী সহকারী মোছাম্মদ আখি বেগম, ছালেহা বেগম ও কোহিনূর, যুবদল নেতা সাদেক, নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়াতে অবস্থিত রাইফেল ক্লাবের দারোয়ান খোকন, পিয়ন আহাদ, বেয়ারা রিপন, সালাউদ্দিন, আবু হানিফ প্রমুখ।

অসম্ভব নয়!

- সুকুমার রায়

এক যে ছিল সাহেব, তাহার
গুণের মধ্যে নাকের বাহার।
তার যে গাধা বাহন, সেটা
যেমন পেটুক তেমনি ঢ্যাঁটা।
ডাইনে বল্‌লে যায় সে বামে
তিন পা যেতে দুবার থামে ।
চল্‌তে চল্‌তে থেকে থেকে
খানায় খন্দে পড়ে বেঁকে।
ব্যাপার দেখে এম্নিতরো
সাহেব বললে "সবুর করো-
মাম্‌দোবাজি আমার কাছে?
এ রোগেরও ওষুধ আছে।"
এই না বলে ভীষন ক্ষেপে
গাধার পিঠে বস্‌ল চেপে
মুলোর ঝুটি ঝুলিয়ে নাকে
আর কি গাধা ঝিমিয়ে থাকে?
মুলোর গন্ধে টগবগিয়ে
দৌড়ে চলে লম্ফ দিয়ে -
যতই ছোটে "ধরব" ব'লে

গণতন্ত্রে ডেথ স্কোয়াডের কোনে জায়গা নেই : এইচআরডব্লিউ

বিগত কয়েক বছরে র‌্যাবের বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, জোরপূর্বক গুম এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন সংক্রান্ত কাজের জন্য সুষ্ঠু বিচার করতে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আহবান জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

বুধবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর পাঠানো একটি খোলা চিঠির মাধ্যমে র‌্যাবের মানবাধিকার লঙ্ঘন বিষয়ে এই আহবান জানানো হয়।

চিঠির প্রতিপাদ্য বিষয়ে জোর দিয়ে এইচআরডব্লিউ’র এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্র্যাড এডামস বলেন, শুধুমাত্র নারায়ণগঞ্জ নয় বরং প্রতিটি ঘটনার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে পদক্ষেপ নিতে হবে এবং প্রতিটি ঘটনার জন্য স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে।

নিউইয়র্ক ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাটি বরাবরের ন্যায় এবারও র‌্যাব বাহিনী বিলুপ্ত করার আহবান জানায়। সেই সাথে অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণে র‌্যাবের পরিবর্তে নতুন বাহিনী গঠন করার আহবান জানানো হয়েছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে এমন একটি বাহিনী গঠন করার কথা বলা হয়েছে যারা প্রতিটি কাজের জন্য জবাবদিহিতা করতে সক্ষম হবে।

চিঠিতে নারায়ণগঞ্জের ঘটনার বিষয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনার ব্যাপারেও কথা বলা হয়েছে। এদিকে র‌্যাব ও নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে সংঘটিত নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সেভেন মার্ডারের ঘটনার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন যে ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারাধীন করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঘটনার পর উচ্চ আদালত সুষ্ঠু তদন্ত করার জন্য স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করার নির্দেশ দেন। সেই সাথে অপহরণ ও খুনের ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে তিন র‌্যাব কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেন।

এই বিষয়ে ব্র্যাড এডামস বলেন, বিগত কয়েক বছরে শত অভিযোগের সত্ত্বেও সরকার র‌্যাবের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে অনিহা প্রকাশ করে। কিন্ত নারায়ণগঞ্জ হত্যাকাণ্ডের পর সরকার তার কৌশল পরিবর্তন করে এবং দ্রুত পদক্ষেপ গঠন করে। সরকারের এমন দ্রুত পদক্ষেপের কারণে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনিয়ম রোধে বেশ কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশা দেখা যাচ্ছে।

চিঠিতে বলা আরও বলা হয়েছে, অনেক আগে থেকেই সংস্থাটির পক্ষ থেকে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য র‌্যাবকে দায়ী করা হয়েছে।

এছাড়া সাম্প্রতিক এইচআরডব্লিউ তথ্যে ৫ জানুয়ারির সাধারণ নির্বাচনের আগে ও পরে ১১ জন বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের খুনের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছিল। এই ঘটনাগুলোর বিষয়ে বাংলাদেশের গণমাধ্যমে বেশ কয়েকটি রিপোর্ট প্রকাশ প্রসঙ্গেও বলা হয়েছে। সংস্থাটির তথ্যে বলা হয়েছে যে এই ধরনের ছয়টি ঘটনায় দেখা গেছে যে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা প্রথমে আক্রান্তদের আটক করে এবং পরবর্তীতে আটককৃতদের গুলি করে হত্যা করা হয়। সুতরাং বর্তমান প্রেক্ষাপট অনুযায়ী র‌্যাব বাহিনীকে বিলুপ্ত করার সঠিক সময় এসেছে।

তথ্যে আরও বলা হয়েছে যে এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া অপরাধ ও জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণের জন্য র‌্যাব গঠন করেছিলেন। র‌্যাবের কার্যক্রম দেখে খালেদা জিয়াও এখন র‌্যাব বাহিনী বিলুপ্ত করার জন্য সরকারকে আহবান জানিয়েছেন।

সুতরাং দীর্ঘসময় ধরে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো বন্ধ করার জন্য সঠিক সময় এসে গেছে। র‌্যাব বিলুপ্ত করে আলাদা একটি বাহিনী গঠন করা দরকার, যে বাহিনীটি আইনকানুন মেনে চলবে এবং জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবে। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় ডেথ স্কোয়াডের কোনে জায়গা থাকতে পারে না।
http://www.amadershomoys.com/newsite/2014/05/14/10620.htm

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla