Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

একজন ফেরেশতা বনাম দন্তহীন দুদক, মহিউদ্দিন খান আলমগীর উপাখ্যান...

DUDK in Bangladesh
প্রজাতন্ত্রের এক কালের বেতনভুক্ত চাকর মহিউদ্দিন খান আলমগীরের যেন আর তর সইছে না। খালেদা জিয়া এবং উনার সহযোগী বাকি ৪০ চোরের সবার সাথে গলায় গলা মিলিয়ে এক কালের এই ঝানু আমলা ঘন ঘন হুমকি দিচ্ছেন বিদায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোকে। দুর্নীতি দমন কমিশন উনার অন্যতম প্রধান টার্গেট। গতকালও এর ব্যতিক্রম হয়নি। দুদক এবং এর সাথে জড়িত সবাইকে তত্ত্বাবধায়ক আমলের কর্মকান্ডের জন্যে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এই আমলা। এটাই প্রথম নয়, জেল হতে বের হয়েই তিনি বলতে শুরু করেছেন দেশের অন্যতম প্রধান দুর্নীতিবাজ হচ্ছে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান ফখরুদ্দিন আহমদ ও তৎকালীন সেনা প্রধান মইনুদ্দিন আহমদ। গতকাল এক ঘোষণায় এই তালিকায় যোগ করলেন টিআইবি ট্রাষ্ট্রি বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোজাফর আহমদের নাম। দেরীতে হলেও জাতিকে এত বড় দুর্নীতিবাজদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্যে ধন্যবাদ পাওয়ার দাবি রাখেন এই ফেরেশতা। উনার মত গন্ডায় গন্ডায় ফেরেশতাদের বিনা অপরাধে আটক পূর্বক শাস্তি দিয়ে আহমদ গংরা যে অপরাধ করেছে তার জন্যে আমাদের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা হাজার বছরের জন্যে ব্যহত হয়েছে। কথাটা আমার নয়, আওয়ামী লীগের নেতা মহিউদ্দিন খান আলমগীর ও আলী বাবা ৪০ চোরাই দলের প্রধান চোর খালেদা জিয়ার। আমরা যারা রাজনীতির ম্যাংগোবিদ তাদের বিশ্বাস করার কারণ আছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে জন্ম-মৃত্যুর মত সত্য-মিথ্যারও থাকতে হয় রাজনৈতিক পরিচয়, এবং এ পরিচয়ের অপর নাম ছলা-কলা ও কৌশল। সরকারী ভৃত্যগীরি হতে প্রমোশন পেয়ে ব্যাক্তিগত ভৃত্যগীরিতে নাম লেখানো আলমগীর সাহেবের মনিব নিজেই এ ব্যাপারে মুখে কুলুপ এটে চেপে যাচ্ছেন প্রসঙ্গটা। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, উনি কথা বলছেন প্রতিপক্ষের ভাষায় আর তাদের মুখে তুলে দিচ্ছেন সরকারকে অস্থির করার লোভনীয় আহার। এই সেই প্রতিপক্ষ যাদের ক্ষমতাচ্যুত করার জন্যে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হয়েও তিনি অচল করে দিয়েছিলেন সচিবালয়। যতদূর জানি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়েই ক্ষমতায় এসেছিল ঐ প্রতিপক্ষ। গণতন্ত্রকে ধর্ষণ করার উর্দিওয়ালাদের যেমন অধিকার নেই, তেমনি নেই প্রজাতন্ত্রের চাকরদেরও। জনাব আলমগীর রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিলেন যা ছিল দণ্ডযোগ্য অপরাধ।

খান সাহেবের আহাজারির কারণ বুঝতে খুব যে একটা অসুবিধা হয় ব্যাপারটা তেমন নয়। উনার হুমকি ধামকির ভেতরে ঢুকলে একটা বাস্তবতা সহজেই প্রতীয়মান হবে, খালেদা জিয়ার বর্তমান অবস্থার সাথে এই বিপ্লবীর অবস্থার খুব একটা তফাৎ নেই। উভয়ই ঢাল নাই তলোয়ার নাই নিধিরাম সর্দারের অবস্থার মত। পার্থক্য একটা আছে অবশ্য, খালেদা জিয়ার দল ক্ষমতায় নেই, খান সাহেবের দল এখন ক্ষমতার ভরা যৌবনে। এ বিবেচনায় আমলার কষ্টটা আরও একটু বেশি হওয়ার কথা। এত কাছে অথচ ধরা ছোঁয়ার এত বাইরে! ক্ষমতা নামের সোনার হরিণ যা বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের ফকির হতে বাদশাহ বানায়, আসমানের চাঁদ মাটিয়ে নামিয়ে আনে, বঙ্গোপসাগরের পানি আঙিনায় বইয়ে দেয়, সে ক্ষমতা হারিয়ে মহিউদ্দিন খান আলমগীরের মত প্রফেশনাল চোর হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলবেন তাতে ম্যাংগোবিদ্‌দের অবাক হওয়ার কিছু নেই। খান সাহেব একটা সত্য মনে করতে নিশ্চয় সময় পান না, বাংলাদেশ দুর্নীতিবাজদের প্রতিযোগীতায় পরপর ৪ বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। আর তাতে খান আলমগীর আর তেনার মনিবদের অবদান খাটো করার কোন ফাঁক ফোকর নেই। দুই আহমদ আর এক মোজাফরের কারণে বাংলাদেশ এ ’সন্মান’ অর্জন করেনি, এ সম্মানের মাঠ প্রসারিত টেকনাফ হতে তেতুলিয়া পর্যন্ত, যার আসল আর্কিটেক্ট আলমগীর সাহেবের মত ধূর্ত শিয়ালের দল। দুদককে অবশ্যই জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে, তবে তা আলমগীর সাহেবদের মত ’ফেরেশতাদের’ বন্দী করার জন্যে নয়, বরং এদের মত সমাজিক ক্যান্সারদের স্বাধীনভাবে বিচরণ করতে দেয়ার জন্যে।

সাংবাদিকরা খান সাহেবকে প্রশ্ন করেছিলেন দুদক না থাকলে দুর্নীতি দমন করবে কে? এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন চুড়ান্ত পর্যায়ে দুর্নীতি দমিত হবে জনতার আদালতে। ফিলসফিক্যাল উত্তর! বাংলা ভাইও কিন্তু নিজের আদালতকে জনতার আদালত বলতেন। মুরগির মত হাত- পা বেধে উলটো করে গাছে ঝুলিয়ে নির্মম অত্যাচারের মাধ্যমে রায় কার্যকর করা হতো সে আদালতে। আলমগী সাহেবের উচিৎ হবে জনতার আদালতের একটা প্রাথমিক ধারণা আগ বাড়িয়ে তৈরী করে রাখা। বলা যায়না, এই জনতার আদালতই হয়ত একদিন দুদকের ১০ গুন ক্ষমতা নিয়ে তাড়া করতে পারে চোর, বাটপার আর রাষ্ট্রদ্রোহীদের।

Comments

দুদক...

উদ্বেগ প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রীর কাছে উন্নয়ন সহযোগীদের চিঠি
দুদকের ক্ষমতা কমানোর বিপক্ষে দাতাগোষ্ঠী

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ক্ষমতা ক্ষুণ্ন হওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। কারণ, দুদকের ক্ষমতা কমে গেলে দুর্নীতি রোধের প্রয়াস ব্যাহত হবে। বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বার্থে দুর্নীতি দমনের পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার বিকল্প নেই। তাই দুদককে শক্তিশালী করতে হবে। দুর্নীতি দমনে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে তৈরি আছে উন্নয়ন সহযোগীরা।
সম্প্রতি সরকারের কাছে দেওয়া এক চিঠিতে এ অভিমত জানিয়েছে উন্নয়ন সহযোগী বা দাতাগোষ্ঠীর জোট হিসেবে পরিচিত লোকাল কনসালটেটিভ গ্রুপ (এলসিজি)। কূটনৈতিক সূত্রগুলো প্রথম আলোকে জানিয়েছে, এলসিজির নির্বাহী কমিটির প্রধান ক্রিস অস্টিন গত মার্চে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে এ চিঠি দেন। এ ছাড়া ১১ মে এলসিজির এক বৈঠকেও দুদক আইন সংস্কারের বিষয়ে উন্নয়ন সহযোগীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ডিএফআইডির (ডিপার্টমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট) প্রধান ক্রিস অস্টিন বর্তমানে এলসিজির সাত সদস্যবিশিষ্ট নির্বাহী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
অর্থসচিব, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব এবং ঢাকাভিত্তিক দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থাসহ ৩৯টি সংস্থা নিয়ে এলসিজি গঠিত।
এলসিজির সাম্প্রতিক এক বৈঠকে দেশের আর্থসামাজিক পরিস্থিতিসহ সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। ১১ মে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে দুদক ছাড়াও বিচারব্যবস্থার বিষয়টি প্রাধান্য পায়। দুদক আইন সংস্কারের বিষয়ে তারা নেতিবাচক মত দেয়। বৈঠকে বলা হয়, দুদকের ক্ষমতা ক্ষুণ্ন করার অর্থ হচ্ছে দুর্নীতি রোধের ব্যাপারে সরকার তাঁর নির্বাচনী অঙ্গীকার থেকে পিছু হটছে। সরকারের পদক্ষেপ শুধু দুর্নীতি দমনের অঙ্গীকার থেকেই পিছু হটাই নয়, এর ফলে প্রশাসনসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের জবাবদিহি প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। ফলে সাধারণ মানুষ দুর্ভোগের শিকার হবে।
উল্লেখ্য, দুদক আইন সংস্কারের কিছু প্রস্তাব এরই মধ্যে মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে। ওই প্রস্তাব কার্যকর হলে দুদকের স্বাধীনভাবে কাজ করার অধিকার খর্ব হবে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের রূপকল্প ২০২১-এ দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। এতে বলা হয়, দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ সুশাসনেরও অন্যতম পূর্বশর্ত। স্বাধীন ও শক্তিশালী দুর্নীতি দমন কমিশনসহ দুর্নীতি দমনে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর করে গড়ে তোলা হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
অর্থমন্ত্রীর কাছে উন্নয়ন সহযোগীদের চিঠিতে বলা হয়, গণমাধ্যমে জানা যাচ্ছে, দুদকের ক্ষমতা খর্ব করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কারণ, দুর্নীতি রোধ করতে হলে দুদককে শক্তিশালী করতে হবে। সে ক্ষেত্রে সাম্প্রতিককালে দুদকের ক্ষমতা কমার খবরটি সুখপ্রদ নয়।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা এলসিজির চিঠি পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘উন্নয়ন সহযোগীরা প্রায় সময়ই বিভিন্ন বিষয়ে সুপারিশ দিয়ে এ ধরনের চিঠি লিখে থাকে। অনেক সময় আমরা তাদের সুপারিশ বিবেচনা করে থাকি। তবে তাদের সব সুপারিশ মানতেই হবে, তার কোনো মানে হয় না।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কূটনীতিক মনে করেন, দুদককে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তা না হলে দুর্নীতি রোধের প্রয়াস সফল হবে না, বরং ব্যাহত হবে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। এ ছাড়া দুদক যেমন দুর্নীতির তদন্ত করবে নিরপেক্ষভাবে, তেমনি আইনি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগকেও স্বাধীনভাবে কাজ করতে হবে। তা না হলে দুর্নীতি দমনের প্রয়াস মাঝপথে থমকে যাবে।
ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত স্টিফেন ফ্রোইন ৮ মে ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে দুদকের ক্ষমতা খর্ব করার বিষয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখান। তিনি বলেন, দুদককে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত একটি নিরপেক্ষ সংস্থা হতে হবে। পাশাপাশি বিচার বিভাগকেও স্বাধীন হতে হবে।
গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের (বিডিএফ) বৈঠকে সামগ্রিকভাবে দুর্নীতি দূরীকরণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বারবার এসেছে। উন্নয়ন সহযোগীরা বিশেষ করে উন্নয়ন প্রকল্পের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় যাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়, সে বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। তা ছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নে গুণগত মান নিশ্চিত করার ব্যাপারে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, সে প্রসঙ্গটিও এসেছে।
এদিকে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ধীরগতির বিষয়েও উন্নয়ন সহযোগীরা সরকারের কাছে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। কূটনীতিক সূত্রে জানা গেছে, গত ডিসেম্বরে ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান হিসেবে সুইডেনের রাষ্ট্রদূত ব্রিট এফ হ্যাগস্টর্ম অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে লেখা চিঠিতে তাঁদের উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরেন। চিঠিতে বলা হয়, যে পদ্ধতিতে এডিপির বাস্তবায়ন হচ্ছে, তা সন্তোষজনক নয়। এভাবে এডিপির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া চলতে থাকলে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য পূরণ হবে না। এ ছাড়া সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত আইন ও বিধি সংশোধনীর সমালোচনা করে চিঠিতে বলা হয়, এ আইন আন্তর্জাতিক মানের হওয়া বাঞ্ছনীয়।
http://prothom-alo.com/detail/news/64502

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla