Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

ওরা মারে, ওরা মরে...ওরা শীতলক্ষ্যার পানিতে ভাসে!

Bangladesh

সিদ্ধিরগঞ্জ। আর দশটা জনপদের মত বাংলাদেশের আরও একটা জনপদ। পালাবদলের সাথে এখানেও বদল হয় ভগবানদের চেহারা। সাথে বদল হয় তাদের দোসর থানা পুলিশ, এসপি, ডিসি, আইন, আদালত ও বিচারক। রাষ্ট্র ও সরকারের সর্বোচ্চ পদে বসে অপরাধ ও অপরাধীদের লালন করার অভয়ারণ্য আমাদের জন্মভূমি। এখানে দস্যুবৃত্তির মাধ্যমে যেমন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কুক্ষিগত করা যায়, তেমনি ক্ষমতার ছত্রছায়ায় প্রতিপক্ষকে ঠান্ডা মাথায় খুন করে পোক্ত করা যায় লুটে পাওয়া সে ক্ষমতা। সিদ্বিরগঞ্জও এর বাইরে নয়। এখানেও ভগবান আছেন। তারা নিরাকার। খালি চোখে দেখা যায়না। কেবল ঘাড়ের কাছে তাদের নিশ্বাস অনুভব করা যায়। শিমরাইল টেক পাড়া এলাকার মৃত হাজি বদরুদ্দিনের ছেলে নুর হোসেন। কর্মজীবন শুরু করেন সিদ্ধিরগঞ্জ ইকবাল ট্রাক গ্রুপের হেল্পার হিসাবে। ১৯৮৯ সালে একই এলাকার ট্রাক চালক ও হেল্পার ইউনিয়নের নেতা বনে যান গায়ের জোর। ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাক চালক দাইমুদ্দিনকে উচ্ছেদ করে দখল নেন ইউনিয়নের এবং ক্ষমতাসীন দল জাতীয় পার্টিতে যোগদান করে পোক্ত করে নেনে অবৈধ দখল। ১৯৯১ সালে সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে নাম লেখান বিএনপির রাজনীতিতে। ক্ষমতার সিঁড়ি টপকানোর শুরুটা হয় এখানেই। এরপর তরতর করে পদানত করেন ইউপি চেয়ারম্যানের মসনদ। ’৯৬ সালে জয়ী হন দ্বিতীয় টার্মেও। বিএনপি ছেড়ে হাত মেলান শামীম ওসমানের সাথে। বনে যান আওয়ামী নেতা। ২০০২ সাল পর্যন্ত সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ক্ষমতার ছত্রছায়ায় শিমরাইল মোড়ে গড়ে তোলেন চাঁদাবাজীর সিন্ডিকেট। ভগবানের চরণে নিয়মিত পূজা দিয়ে আবিস্কার করতে থাকেন সম্পদ আহরণের নতুন নতুন দিগন্ত। পরবর্তী স্টপেজ নারায়ণগঞ্জ ৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদ। ক্ষমতার সিঁড়ি বাংলাদেশে কখনোই মসৃণ হয়না। নুর হোসেনের বেলায়ও ব্যতিক্রম হয়নি। নজরুল ইসলাম একই এলাকার বাসিন্দা এবং ক্ষমতার সিঁড়ি টপকানোতে নুর হোসেনের প্রবল প্রতিপক্ষ। জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদে গিয়ে থামতে হয় নজরুল ইসলামকে। নুর হোসেনের সাথে নজরুল ইসলামের রেশারেশি ক্ষমতার রুটি হালুয়া নিয়ে। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদক সিন্ডিকেট, বেশ্যালয় সহ শত শত অবৈধ ব্যবসার মালিকানা নিয়ে শুরু হয় রক্তক্ষয়ী লড়াই। ১৭ বছর একনাগাড়ে চলতে থাকে এ লড়াই।

১৯৯৭ সালের ১৭ই জুলাই। মাগরিব নামাজের পর মিজমিজি চৌধুরী পাড়া এলাকায় নজরুলের ক্যাডারদের হাতে খুন হন সাইফুদ্দিন নামের এক ভদ্রলোক। পরে বের হয় ভুল টার্গেট ছিল এই সাইফুদ্দিন। নামের গোলমালে প্রাণ দিয়ে হয় তাকে। ২০০০ সালের ১৭ই আগষ্ট। নুর হোসেনের সমর্থক জহিরুল ইসলাম নামের এক সব্জি বিক্রেতা নির্বাচনী পোস্টার লাগানোর দায়িত্ব পালন করছিলেন। নজরুলের উপস্থিতিতে তার ক্যাডাররা খুন করে জহিরুল ইসলামকে। এর প্রতিদান ফিরিয়ে দিতে দেরি করেনি নুর হোসেন। তার ক্যাডাররা ১লা অক্টোবর স্থানীয় আওয়ামী লীগ অফিসে ঢুকে খুন করে নজরুলের সমর্থক যুবলীগ নেতা আবদুল মতিনকে। তারও আগে ১৯৯৬ সালে শিমরাইল মোড়ে নিহত হন আওয়ামী লীগ কর্মী আলী হোসেন। নুর হোসেনকে আসামী করা হলেও ভগবানের হাত ধরে অব্যাহতি পান মামলা হতে। নজরুলে ক্যাডার শিপন, রনি ও ফারুখ ২০০১ সালের ৩১শে মার্চ শিল্পী নামের এক তরুনীকে মাথায় গুলি করে হত্যা করে। তার অপরাধ, বিয়ের প্রস্তাবে অনিচ্ছা প্রকাশ। ২০০০ সালের ৩রা মার্চ ধানমন্ডির ১৫ নং সড়কের ১৬নং বাড়িতে খুন হন এডভোকেট বাবর এলাহি। তদন্তে প্রকাশ পায় নজরুল ভাড়াটে খুনি দিয়ে খুন করায় তাকে। খুনের মূল্য ছিল ৫ লাখ টাকা। দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল ২০০৪ সালে নজরুলকে মৃত্যুদণ্ডে দন্ডিত করে। পরোয়ানা মাথায় নিয়ে পালিয়ে যান এই নেতা। এবং ফিরে আসেন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরে আসার বছর। হাইকমান্ডের নির্দেশে হাইকোর্টের আওয়ামী বিচারকগণের হাত ধরে খালাস পান খুনের মামলা হতে। ২০০৯ সালের ১৩ই অক্টোবর মিজমিজি পূর্বপাড়ার নিজ বাড়ির সামনে খুন হন বাংলাদেশ চুন প্রস্তুতকারক সমিতির সহ-সভাপতি জনাব আবু তালেব। তদন্তে পাওয়া যায় নজরুলের সংশ্লিষ্টতা।

২০১৪ সালের ৩০শে এপ্রিল। বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের শান্তিনগর এলাকা। এলাকার বুক চিড়ে বহমান শীতলক্ষ্যা নদীর উপর ভাসমান কটা লাশ দেখে উৎসুক হয়ে উঠে স্থানীয় জনগণ। খবর দেয় স্থানীয় পুলিশকে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে খবর দেয় আত্মীয়দের। লাশের মিছিলে খুঁজে পাওয়া যায় নজরুলের লাশ। সনাক্ত করেন তার স্ত্রী। অবশ্য ততদিনে নজরুলের পরিচয়ে কিছু উপাধি যুক্ত হয়ে হয়ে গেছে; যেমন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল চেয়ারম্যান। প্যানেল চেয়ারম্যান নজরুলকে একা ভাসতে দেখা যায়নি শীতলক্ষ্যা নদীর ঠান্ডা পানিতে। সাথে ছিল তার তিন সহযোগী। সাথে কো-ল্যাটারাল ড্যামেজ হিসাবে প্রাণ হারায় এক এডভোকেট ও তার ড্রাইভার। তাদের অপরাধ এখনো পরিষ্কার নয়। তবে সন্দেহ করা হচ্ছে সাংবাদিক সাগর-রুনির মত তারাও স্বাক্ষী হয়েছিল ভগবানদের বড় কোন অপরাধের।

পাঠক, এবার আসুন নজরুল ও নুর হোসেনদের কাপড় খুলে উন্মোচন করি তাদের লজ্জাশীন অঙ্গ সমূহ। অনেকের মত নজরুল-নুর গংদের জন্ম ক্ষমতার ঘরজামাই, বিশ্ব বেশ্যা সমিতির আজীবন চেয়ারম্যান জনাব হোমো এরশাদের জরায়ুতে। বেশ্যা ভোগের মত বেগম জিয়ার বাহিনীও ভোগ করে গেছে তাদের সার্ভিস। লগিবৈঠা বাহিনীর প্রধান ও ক্ষমতার জারজ কন্যা শেখ হাসিনা কেবল উপভোগই করেই ক্ষান্ত হননি, বরং জাতির গলায় ঝুলিয়ে দিয়েছেন পচনশীল মহামারী হিসাবে। দেশের উচ্চ আদালতে নিয়োগপ্রাপ্ত ছাত্রলীগ-যুবলীগ ক্যাডার কাম বিচারকরাও বাইরে থাকেননি এ সিন্ডিকেটের। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামীকে বেকসুর খালাস দিয়ে প্রমান করেছেন তারাও ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট খোর। চেতনার যোনিপথে ফিল্টার লাগিয়ে যারা মুক্তিযুদ্ধের সাথে সহবাস করছেন তাদের হীমশীতল নীরবতা এসব দানবদের উত্থানে ফার্টিলাইজার হিসাবে কাজ করেছে মাত্র। যে দেশে সরকার তার নাগরিকদের রাতের অন্ধকারে খুন করে ক্ষমতার পথ মসৃণ করার জন্য, সে দেশে নুর হোসেন তথা শামীম ওসমানরা নজরুল গংদের শীতলক্ষ্যার গভীর পানিতে সমাহিত করবে এটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশের বাতাসে এখন লাশের গন্ধ। এ গন্ধ বিচ্ছিন্ন কোন গন্ধ নয়। বরং এ গন্ধের মাথা আছে, মগজ আছে, হাত-পা আছে। গন্ধের সূত্র চাইলে তা শীতলক্ষ্যার গভীর পানিতে নয়, বরং সন্ধান করতে হবে ভগবানদের দরবারে।

Comments

অপহৃত ব্যবসায়ীসহ ঢাবির ৬ ছাত্রলীগ কর্মী গ্রেফতার

রাজধানীর ফকিরাপুল এলাকা থেকে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে চাঁদা দাবি করায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের জগন্নাথ হলের ৬ ছাত্রলীগ কর্মীসহ ৭ জনকে আটক করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ। রমনা থানা সূত্র জানায়, আটকদের মধ্যে রয়েছে জগন্নাথ হলের ৬ জন। এছাড়া শহীদ মিনার এলাকা থেকে ১ জনকে আটক করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ। তবে তাদের পরিচয় তাত্ক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে তারা সবাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং ছাত্রলীগের নেতাকর্মী বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র। জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে রাজধানীর ফকিরাপুল এলাকা থেকে ফরহাদ ইসলাম নামে এক ফ্লেক্সিলোড ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ঢাবির জগন্নাথ হলে রাখা হয়। এরপর তার পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। গতকাল শুক্রবার দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় ফরহাদের পরিবারের সঙ্গে টাকা লেনদেনের সময় আরফান নামে একজন হাতেনাতে ধরা পড়ে। পরে তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী ফরহাদকে জগন্নাথ হলের একটি কক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় ৬ ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করে শাহবাগ থানা পুলিশ।
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2014/05/10/243551

সেদিন যা ঘটেছিল

ডেস্ক রিপোর্ট : বন্দর গুদারাঘাট থেকে হঠাৎ উধাও নৌকা দুটি। প্রায় চার বছর ধরে এগুলো এ ঘাটেই বাঁধা ছিল। গতকাল বুধবার সকালে সেখানে এগুলো আর দেখা যায়নি। নারায়ণগঞ্জের মানুষের কাছে এ নৌকাগুলো ছিল আতঙ্কের। মাঝেমধ্যে রাতের বেলা চোখবাঁধা লোককে তোলা হতো এসব নৌকায়।
বন্দর এলাকার মানুষের ধারণা, নারায়ণগঞ্জের ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলামসহ সাতজনকে অপহরণ করে হত্যার পর ইটবাঁধা লাশগুলো নদীতে ডোবাতে এ নৌকা দুটিই ব্যবহার করা হয়েছিল। সে কারণেই এগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নৌকা দুটি সরকারি বাহিনীর লোকজন ব্যবহার করতেন। এদিকে লাশের সুরতহালের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, লাশের সঙ্গে যে বস্তায় ইট বাঁধা ছিল, সেই বস্তাগুলো সরকারি রেশনের জন্য ব্যবহার করা। বস্তায় সরকারি রেশনের সিলও রয়েছে। আর ওই বস্তায় যে ইটগুলো ভরা ছিল, সেই একই ধরনের ইট পাওয়া গেছে একটি বাহিনীর কার্যালয়ের পাশের নির্মাণাধীন ভবনে।

নারায়ণগঞ্জের ১ নম্বর বন্দর গুদারাঘাটে পাশাপাশি বাঁধা আছে বিভিন্ন সংস্থার নৌকা। পুলিশেরও তিনটি নৌকা আছে। একই সারিতে ছিল র‌্যাবের দুটি বড় নৌকা। নৌকা চলাচলের জন্য সেখানে ছোট একটি নিয়ন্ত্রণকক্ষও আছে। গতকাল সকালে সেটিও বন্ধ দেখা যায়। বন্দরের ইজারাদার ইকবাল জানান, নিয়ন্ত্রণকক্ষটি ২৪ ঘণ্টা খোলা ছিল। এখন নৌকাও নেই, কক্ষও বন্ধ। র‌্যাবের নৌকার খোঁজ করতে শহরের ভেতরের কার্যালয়ে এলে সেখান থেকে জানানো হয়, ওই কার্যালয়ে কোনো কর্মকর্তা নেই। তিন কর্মকর্তা চাকরি হারানোর পর সব কর্মকর্তা এখন ঢাকায়। নারায়ণগঞ্জ শহরে এখন বলতে গেলে র‌্যাবের কোনো কার্যক্রম নেই।

র‌্যাবের কার্যক্রম আপাতত না থাকলেও এ বাহিনীর বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভের অন্ত নেই। নিহত নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম গতকাল প্রথম আলোর কাছে অভিযোগ করেন, র‌্যাব তাঁর স্বামীকে অপহরণ করেছে। কিন্তু তাঁকে মেরে ফেলতে নূর হোসেনের সহায়তা নিয়েছে। লাশের ধরন দেখে তিনি এ ধারণা করেন বলে জানান। এ কথা বলার সময় স্থানীয় সাংবাদিকেরাও উপস্থিত ছিলেন। নজরুলের জীবনযাপন সম্পর্কে সেলিনা ইসলাম বলেন, সন্ত্রাসী নূর হোসেন দেড় মাস আগে নজরুলকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন। এ হুমকির পর থেকে নজরুল খুব ভয়ে ভয়ে চলতেন। নজরুল তাঁকে বলতেন, র‌্যাব-পুলিশ নূর হোসেনের কেনা। প্রাণের ভয়ে তিনি মিজমিজির বাসা ছেড়ে ঢাকায় বসবাস শুরু করেন। দেড় মাস ধরে ঢাকাতেই ছিলেন। মামলার হাজিরার জন্য ২৭ এপ্রিল তিনি নারায়ণগঞ্জে আদালতে এসেছিলেন। আসার আগের দিন শামীম ওসমানকে তিনি বলেছিলেন, ‘ভাই, একটু দেইখেন।’

সেলিনা জানালেন, নজরুল ১৭-১৮ জনের দল নিয়ে চলতেন। রাস্তার মোড়ে মোড়ে তাঁর লোক থাকতেন। প্রতি পাঁচ মিনিট পরপর তাঁরা যোগাযোগ রাখতেন। ওই দিন আদালতে তাঁর সঙ্গে এসব লোক ছিল। সেলিনার অভিযোগ, র‌্যাব সদস্যরা আগে থেকেই নজরুলকে নজরে রাখছিলেন। আদালতের ভেতরে র‌্যাবের একজন সদস্য সাদাপোশাকে অস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করার সময় নজরুলের লোকজন তাঁকে সন্দেহবশত আটক করেন। ফতুল্লা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, র‌্যাবের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর লোকটিকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে পুলিশের কোর্ট পরিদর্শক তাঁকে জানিয়েছিলেন। নজরুলের স্ত্রী আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জ আদালত থেকে বের হয়ে স্টেডিয়াম পার হয়ে একটু দূরে গিয়ে নজরুল তাঁকে ফোন করে ঢাকায় যাওয়ার কথা জানান। এর পাঁচ মিনিট পর মনির নামের এক যুবক জানান, নজরুলসহ পাঁচজনের ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। পরে তিনি পাহারায় থাকা নজরুলের কয়েকজন সহযোগীকে সেখানে পাঠান। তাঁরা ফিরে এসে জানান, র‌্যাবের তিনটি গাড়ি এসে নজরুলের গাড়িটি গতিরোধ করে। তাঁরা প্রথমে গাড়ির সবাইকে মারধর করেন। এরপর জোর করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যান। এ সময় নজরুলের কাছে দুটি অস্ত্রও ছিল। ঘটনাস্থলে থাকা বালুশ্রমিকেরা এ দৃশ্য দেখেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বালুশ্রমিক প্রথম আলোকে বলেন, নজরুলকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর তিনি দেখেন, সামনে একটি গাড়ি সাইরেন বাজিয়ে যাচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ আদালতের একজন আইনজীবী প্রথম আলোকে বলেন, নজরুলকে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে ফেলেন আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার। তিনি কোনো কথা না বলে অপহরণকারীদের গাড়ির পিছু নেন। একপর্যায়ে তাঁর গাড়ি অপহরণকারীদের তিনটি গাড়ির একটির সামনে এসে পড়ে। তখন পেছন থেকে একটি গাড়ি চন্দনের গাড়িতে সজোরে ধাক্কা দিয়ে থামিয়ে দেয়। চন্দন গাড়ি থেমে নামলে চালকসহ তাঁকে ওই গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। সবগুলো গাড়িই চলে যায় নারায়ণগঞ্জ শহরের দিকে। সেলিনা জানান, এ ঘটনা শুনে তিনি প্রথমে শামীম ওসমানের কাছে যান। শামীম ওসমান সব শুনে বলেন, নূর হোসেন এ কাজ করতেই পারে না। এভাবে তিনি অনেক সময় কাটান। তবে এ সময় শামীম ওসমান র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসানের সঙ্গে কথা বলেন। সেলিনা মনে করেন, শামীম ওসমান ভালো করে নূর হোসেনকে বললে নজরুলের মৃত্যু হতো না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কর্নেল জিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ওই দিন শামীম ওসমান তাঁকে বলেন, নজরুলকে র‌্যাব-১১-এর সদস্যরা ধরে নিয়ে গেছেন। এ কথা শুনে তিনি শামীম ওসমানের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, তিনি এটা কী করে জানলেন যে র‌্যাবই তাঁদের নিয়ে গেছে? জবাবে শামীম ওসমান বলেন, আদালতের লোকজন তাঁকে জানিয়েছেন, র‌্যাব-১১-এর লোকজন নজরুলসহ সবাইকে ধরে নিয়ে গেছেন।
পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, সবাইকে একটি ‘টর্চার সেলে’ নেওয়ার পর ইনজেকশন দিয়ে অজ্ঞান করা হয়। এরপর মুখে গামছা ঢুকিয়ে দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। লাশের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনেও শ্বাসরোধের প্রমাণ মিলেছে। ওই সূত্রটি জানায়, সাতজনকে ওই দিনই মেরে ফেলা হয়। এরপর রাতের বেলা বড় নৌকায় করে লাশগুলো নেওয়া হয় শীতলক্ষ্যা নদীর নির্জন স্থানে। সেখানে নেওয়ার পর বুক-পেট চিরে প্রতিটি লাশের সঙ্গে ১৬টি করে ইট বেঁধে পানিতে ডুবিয়ে দেওয়া হয়। আর এ দলে ছিলেন ২০ জনের মতো। এঁদের মধ্যে সরকারি বাহিনীর সদস্যও ছিলেন বলে শোনা যাচ্ছে।
প্রথম আলো
স্থানীয় সময় : ০৯৪০ ঘণ্টা, ০৮ মে ২০১৪

এবি সিদ্দিক ও সাত গুমের নায়ক র‌্যাব

এবি সিদ্দিক ও সাত গুমের নায়ক র‌্যাব

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ ৭ জনকে র‌্যাবই অপহরণ করেছিল। ঘটনার পর যে দুটি আলামত প্রকাশ পায় তাতে পুলিশের কাছে র‌্যাবের সম্পৃক্ততার বিষয়টি দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। একইভাবে বেলার নির্বাহী পরিচালক রিজওয়ানা হাসানের স্বামী এবি সিদ্দিককেও র‌্যাব অপহরণ করেছিল। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকারসহ পুলিশের উধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত র‌্যাব এবং পুলিশের মধ্যে এ বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুস্পষ্ট আলামত পেয়েও কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি। তবে এসব তথ্য সরকারের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে জানানো হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে পুলিশের একজন দায়িত্বশীল পদস্থ কর্মকর্তা চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য জানিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে মঙ্গলবার রাতে আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার যুগান্তর কে বলেন, বিষয়টি খুবই গুরুতর । এনিয়ে তদন্ত চলছে। এ অবস্থায় কোনো মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। তবে ঘটনার সঙ্গে যেই জড়িত থাক তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

নারায়ণগঞ্জে সাতজনকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনা প্রসঙ্গে এ কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম আদালত থেকে জামিনে বের হওয়ার আগ মুহূর্তে র‌্যাব-১১ এর এক সদস্যকে অস্ত্রসহ আদালত চত্বর থেকে আটক করেছিল সেখানে কর্তব্যরত পুলিশের দুই কনস্টেবল। মাথায় টুপি-পাগড়ি, মুখে দাড়ি ও পাঞ্জাবি পরা ওই লোকটি সে সময় রফিক ও ওমর ফারুক নামে পুলিশের দুই কনস্টেবলের কাছে নিজেকে র‌্যাব পরিচয় দেন। এ সময় পুলিশ সদস্যরা তার পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তিনি জানান, পরিচয়পত্র সঙ্গে নেই। তবে লোকটি নিজের মোবাইলে তোলা র‌্যাবের পোশাক পরিহিত তার ছবি দেখান। এ সময় তিনি পুলিশকে আরও জানান, আদালত এলাকায় একটি অপারেশনে এসেছেন। কিন্তু লোকটি র‌্যাবের সদস্য বলে নিশ্চিত হতে না পেরে পুলিশ সদস্যরা তাকে অস্ত্রসহ আটক করে পিপি’র কক্ষে নিয়ে যান। এর মধ্যে সেখানে মোস্তফা কামাল নামে র‌্যাবের একই ব্যাটালিয়নের অপর এক সদস্য পোশাক পরা অবস্থায় উপস্থিত হন। তিনি বিজিবির হাবিলদার থেকে র‌্যাবে এসেছেন। তিনি দাড়ি-টুপি পরিহিত লোকটিকে তার সহকর্মী পরিচয় দিয়ে ছাড়িয়ে নেন। ২৭ এপ্রিল বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। একই সময় প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম আদালত থেকে বের হয়ে ঢাকার দিকে রওনা হন। পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, ঘটনার দিন বিকাল ৩টার দিকে নারায়ণগঞ্জের তৎকালীন পুলিশ সুপার নুরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ কয়েকজন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে মাদক ধ্বংসের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। এ সময় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি আবদুল মতিন এসপি নুরুল ইসলামকে ফোন করে জানান, প্যানেল মেয়র নজরুলকে তুলে নিয়ে গেছে র‌্যাব। আদালত চত্বরেই তিনি র‌্যাবের নজরদারির মধ্যে ছিলেন। কিন্তু কোথা থেকে তাকে তুলে নেয়া হয় সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য জানাতে পারেননি ওসি। পরে জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানতে পারেন নারায়ণগঞ্জের লামাপাড়া নামক স্থান থেকে তাদের র‌্যাবের সদস্যরা তুলে নিয়ে গেছেন। গাড়িতে তুলে নেয়ার সময় বেতের লাঠি দিয়ে তাদের পেটানো হয়। এ সময় তাদের গাড়িও নিয়ে যাওয়া হয়। এসপিকেও এ তথ্য জানানো হয়েছিল। ঘটনা শুনেই এসপি ঘটনাস্থল লামাপাড়ার দিকে ছুটে যান। তিনি সেখানে লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন। পরদিন ২৮ এপ্রিল পুরো ঘটনা পুলিশের মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকারকে জানানো হয়।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ তদন্তের জন্য র‌্যাবের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে আদালত চত্বর থেকে অস্ত্রসহ আটক র‌্যাবের ওই সদস্য এবং তাকে শনাক্তকারী র‌্যাব সদস্য মোস্তফা কামালকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আইজিপি আরও কয়েকদিন বিষয়টি মনিটরিং করতে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেন। এরপর বিষয়টি গোপনেই তদন্ত করা হচ্ছিল। সাক্ষাৎকারের শেষ পর্যায়ে পুলিশ কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, এ ঘটনার পেছনে পুলিশ প্রাথমিকভাবে যেসব তথ্য পেয়েছে তাতে নজরুলসহ ৭ জনকে অপহরণ ঘটনার সঙ্গে র‌্যাবের সম্পৃক্ততার বিষয়টি দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার ধারণা একইভাবে রিজওয়ানা হাসানের স্বামী এবি সিদ্দিককেও তুলে নেয় র‌্যাব।’ উল্লেখ্য, “পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তার দেয়া সাক্ষাৎকারের রেকর্ড যুগান্তরের কাছে সংরক্ষিত আছে।”
http://www.jugantor.com/first-page/2014/05/07/95860

ডিসি-এসপির টাকার মেশিন

নূরের কব্জায় এক ডজন অস্ত্র

নূর হোসেন চেয়ারম্যানের কব্জায় রয়েছে এক ডজন অস্ত্র। এসব অস্ত্র নানা তুচ্ছ ঘটনায় ব্যবহার হয়েছে। প্রভাব-প্রতিপত্তি আর তার দুর্দান্ত প্রতাপ তাকে খ্যাতি এনে দেয় সন্ত্রাসের গডফাদার হিসাবে। সামান্য ট্রাক হেলপার থেকে আজ কোটিপতি নূর। চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে সন্ত্রাসের সব পথেই পা মাড়িয়েছেন তিনি। তার এসব কাজে সরাসরি সহযোগিতা করেছেন নারায়ণগঞ্জের ডিসি-এসপি। তারা নূরকে প্রশ্রয় দিয়ে নিজেরা হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। এক কথায় সাবেক জেলা প্রশাসক মনোজ কান্তি বড়াল ও পুলিশ সুপার নুরুল ইসলামের টাকার মেশিন ছিল আলোচিত নুর হোসেন। যাত্রা, মাদক, জুয়া থেকে শুরু করে সব ধরনের ব্যবসার মাসিক মাসোহারা পেতেন স্থানীয় প্রশাসনের এই দুই কর্তাব্যক্তি। নুর হোসেনের বেশ কয়েকটি ব্যবসার গোপন পার্টনারও ছিলেন তারা। এ সবের বিনিময়ে সরাসরি প্রশাসনিক সহায়তা পেতেন নুর হোসেন। প্রশাসনের অন্যান্য স্তরের কর্মকর্তাদের স্যার সম্বোধন করলেও ডিসি-এসপিকে ভাই বলে ডাকতেন কয়েকবার দল বদল করা পলাতক এই নেতা। নুর হোসেন ও তার সহযোগীদের এক ডজন অস্ত্রের লাইসেন্স রয়েছে। ২ বছর ৪ মাস ক্ষমতায় থাকার সময়ে ৬টি অস্ত্রের লাইসেন্স দিয়েছেন সাবেক জেলা প্রশাসক। নিয়ম অনুযায়ী শটগানের লাইসেন্স দেয়ার এখতিয়ার রয়েছে ডিসির। তবে পিস্তলের লাইসেন্স পেতে হলে ডিসির অনুমোদন লাগে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নুর হোসেন সে অনুমোদনও পেয়েছেন এই ডিসির কাছ থেকে। এ সবের বিনিময়ে উৎকোচ হিসেবে পেয়েছেন প্রায় কোটি টাকা। স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা মানবজমিনকে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, মাত্র দুই বছরে প্রায় শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন সাবেক ওই ডিসি। এর আগে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। তাই সহজেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার কার্যালয়ের নাম ভাঙাতেন। অপহরণ ঘটনার পর গত বুধবার জেলা প্রশাসক মনোজ কান্তি বড়ালকে প্রত্যাহার করা হয়। তাকে দেয়া হয় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব পদ। একই দিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোর কমিটির বৈঠকে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার, র‌্যাব ১১-এর সিও এবং ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ ৫ জনকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়। স্থানীয় প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, সিদ্ধিরগঞ্জ ট্রাক স্ট্যান্ডে সারা বছর যাত্রা, জুয়া পরিচালনা করতেন নুর হোসেন। এ থেকে প্রতিদিন দুই লাখ টাকা দিতে হতো ডিসিকে। সকাল ১০টার মধ্যে ডিসির বাসা অথবা অফিসে এ টাকা লোক মারফত পৌঁছে দিতেন নুর হোসেন। এ হিসেবে মাদক ব্যবসার জন্য আলাদা একটি অঙ্ক নিয়মিত পেতেন মনোজ কান্তি বড়াল। তিনি বলেন, রাজস্ব প্রশাসন ছিল ডিসির আয়ের আরেকটি আয়ের সোর্স। এখানকার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়মিত বদলির মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। আড়াই বছরে প্রায় ২শ’ কর্মচারীকে বদলি করেছেন তিনি। এ খাত থেকে তার আয় হয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টরা জানান, নুর হোসেন ছিলেন রাজনৈতিক নেতা। আর জেলা প্রশাসক ছিলেন জেলার অভিভাবক। মূলত ডিসির প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ও আশকারায় নুর হোসেন ছিলেন বেপরোয়া। তার কাছ থেকে ডিসি মাসোহারা নিলেও এর কোন প্রমাণ রাখেননি বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেন, গোপনে বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন মনোজ কান্তি বড়াল। নুর হোসেন এসব ব্যবসায় সরাসরি সহযোগিতা করতেন। ডিসি বড়াল উত্তরা ৩য় পর্যায়ের প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কোটায় একটি তিন কাঠা আয়তনের প্লট বরাদ্দ পেয়েছেন। ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে তিনি প্লটটি ৫ কাঠায় রূপান্তর করেন। এদিকে শনিবার নারায়ণগঞ্জ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেন আলোচিত ওই ডিসি। রেওয়াজ অনুযায়ী বিদায়বেলায় স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগ থেকে গিফট দেয়া হয়। সে প্রস্তুতি নেয়াও হয়েছিল। তবে সাবেক ওই ডিসি ব্যক্তিগত সহকারীর মাধ্যমে কোন ধরনের গিফট না দেয়ার অনুরোধ জানান। গিফটের পরিবর্তে তিনি মোটা খামের টাকা দাবি করেন। স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলেন, ডিসির এ অনুরোধের কারণে জেলার ৫ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ২০ হাজার করে এক লাখ টাকা দেন। অপরদিকে ভূমি অফিস থেকে ৩০ হাজার করে দেড় লাখ টাকা দেন। এসব প্রসঙ্গে মনোজ কান্তি বড়াল গতকাল টেলিফোনে মানবজমিনকে বলেন, নুর হোসেন ছিলেন নারায়ণগঞ্জের কাউন্সিলর। সব কাউন্সিলরের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল, আছে থাকবে। ঠিক আছে, ভাল থাকবেন। একথা বলেই তিনি ফোনের লাইন কেটে দেন। প্রায় একই অভিযোগ রয়েছে জেলার সাবেক পুলিশ সুপার নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। জেলা প্রশাসকের পাশাপাশি তিনিও নুর হোসেনের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা পেতেন। বিনিময়ে প্রশাসনিক সহায়তা দেয়া হতো তাকে। প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা বলেন, পুলিশ সপ্তাহের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্রায় সব শিল্প প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চাঁদা তুলেছেন। এ খাতে তিনি আয় করেছেন প্রায় কোটি টাকা।
নূরের ক্বজায় এক ডজন অস্ত্র
সামান্য ট্রাক হেলপার থেকে চালক হয়ে তার কর্মজীবন শুরু হয়। পরবর্তীকালে ইউপি চেয়ারম্যান থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর। জাতীয় পার্টি ও বিএনপি করে একযুগেরও বেশি সময় ধরে আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি। কর্মময় আর রাজনৈতিক জীবন বাদ দিলে বর্তমানে তার পরিচয় ভয়ঙ্কর প্রভাশালী ‘এক কর্তা’ হিসেবে। পূর্বাঞ্চলের ৩৪টি জেলার যানবাহন রাজধানীতে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হলো শিমরাইল মোড়। এজন্য তার গুরুত্বও অনেক। রয়েছে বিশাল এক বাহিনী। যাদের কাছে লাইসেন্স করা অস্ত্রই আছে ১১টি। যেদিকে যান অস্ত্রধারী ওই বাহিনী তাকে আগে পিছে গার্ড দেয়। গাড়ি-বাড়ি অর্থবিত্তে ফুলে ফেঁফে ওঠা নুর হোসেন নিয়মিত মাসোহারা দিতেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অসাধু কর্মকর্তাদের। বাদ যেতেন না রাজনৈতিক নেতারাও। সুবিধাভোগী ওই রাজনৈতিক নেতাদের শেল্টার ও আর্শীবাদ নূর হোসেনকে বেপোয়ারা করে তুলেছে। ফলে গত দুই বছর কাউকেই পরোয়া করেননি শিমরাইল মোড়ের ‘কর্তা’ হোসেন চেয়ারম্যান। র‌্যাব সদস্য, ট্রাফিক পুলিশ, ইন্ড্রাস্ট্র্রিয়াল পুলিশ পর্যন্ত তার বাহিনীর হাতে পিটুনি খেয়েছেন। বাদ যায়নি প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক নেতাকর্মী। ১৯৯১ সাল থেকে এ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ২২টি। এরমধ্যে একটি হত্যা মামলাও আছে।
অস্ত্রের লাইসেন্স যাদের নামে
হাজী নূর হোসেনের নিজের নামে দুটি অস্ত্র একটি বাইশ বোর রাইফেল ও একটি এনপিবি পিস্তল রয়েছে (২২ বোর রাইফেল, লাইসেন্স নং ১২২/১২, এনপিবি পিস্তল, লাইসেন্স নং ২৮৫/১৩-তারিখ-৫ই মার্চ ২০১৩)। ভাতিজা শাহজালাল বাদল (৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর) এর নামে একটি শর্টগান ও একটি এনপিবি পিস্তল (শটগান নং-৬০৩২৫৫৯/৩০৩৬২৫২, এনপিবি পিস্তল, লাইসেন্স নম্বর ৩০০/১৩)। ছোট ভাই নূরুদ্দিন মিয়ার (লাইসেন্স নম্বর ৫২৮/১৩) নামে একটি শর্টগান, বডিগার্ড শাহাজান (লাইসেন্স নম্বর ৫১৭/১৩-তারিখ ৩১শে ডিসেম্বর ২০১৩), আলী মোহাম্মদ (লাইসেন্স নম্বর ৫৩২/১৩), ছানা উল্লা (লাইসেন্স নম্বর ৫৩৩/), জামাল উদ্দিনের (লাইসেন্স নম্বর ৫১৮/১৩-৪ঠা সেপ্টেম্বর ২০১৩) নামে একটি করে ৪টি শর্টগান আছে। এছাড়া শিমরাইল পিকআপ ও কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির সভাপতি আরিফুল হক হাসানের নামে রয়েছে একটি শর্টগান ও একটি পিস্তল (লাইসেন্স নম্বর ১৬৬/১৩ (তারিখ ২৬শে নভেম্বর ২০১৩), ৫১১/১৩ (তারিখ ২৭শে নভেম্বর ২০১৩)।
কে এই নূর
সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল টেশপাড়া এলাকার হাজী বদর উদ্দিনের ৬ ছেলের মধ্যে নূর হোসেন তৃতীয়। ৮০ দশকে সিদ্ধিরগঞ্জের ইকবাল গ্রুপের ট্রাকের হেলপার পরে চালক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন নূর হোসেন। দীর্ঘদিন দেশের বিভিন্ন জেলায় ট্রাক চালাতে গিয়ে ট্রাক শ্রমিকদের সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ’৮৭ সালের দিকে বাংলাদেশ আন্তঃজেলা ট্রাক চালক শ্রমিক ইউনিয়ন শিমরাইল শাখার কার্যক্রম শুরু করে দাইমুদ্দিন নামে এক ট্রাক চালক। পরবর্তীতে দাইমুদ্দিনকে সরিয়ে শিমরাইল ট্রাক চালক শ্রমিক ইউনিয়নের দায়িত্ব নেয় নূর হোসেন। ওই সময় সে জাতীয় পার্টির রাজনীতি শুরু করে। ১৯৯২ সালে সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে শহীদুল ইসলাম কন্ট্রাক্টর (প্যানেল মেয়র নিহত নজরুল ইসলামের শ্বশুর) এর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন নূর হোসেন। নির্বাচনে নূর হোসেন বিজীয় হন। ১৯৯৮ সালের ১০ই জুন বিরোধী দলীয় নেত্রীর লংমার্চ কাঁচপুরে আটকে দেয়ার পেছনে শামীম ওসমানের নির্দেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন নুর হোসেন। রাতের বেলা ট্রাক বাস এলোপাথাড়িভাবে সড়কের ওপর ফেলে রেখে চাকা পাংচার করে দেয়া হয়। একই বছর তথা ৯৮-এর বন্যায় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সিদ্ধিরগঞ্জের কাঁচপুরে অস্থায়ী লঞ্চঘাট করা হয়। ওই ঘাটে ব্যাপক চাঁদাবাজি করে নূর হোসেন বাহিনী।
শিমরাইল ট্রাক চালক মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি নূর হোসেনের দোদ- প্রতাপে পরিবহন মালিকরা ভীত হয়ে উঠেন। শুরু হয় পরিবহন সেক্টরে নিয়মিত চাঁদাবাজি। এবং পরিবহন সেক্টরে নূর হোসেন চেয়ারম্যান তার একটি শক্তিশালী বলয় তৈরি করেন। অনেককে চাঁদা লাগলেও নূর হোসেন কোন প্রকার চাঁদা ছাড়াই সায়েদাবাদ থেকে একাধিক রুটে তার দূরপাল্লার বাস সার্ভিস চালু করেন।
২০০১ সালের নির্বাচনের পর দেশ ছেড়ে পালান হোসেন চেয়ারম্যান ও তার বাহিনী। মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশে ফিরে আসেন নুর হোসেন। বাহিনী সুসংগঠিত করে গোপনে সোনারগাঁও থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালামের মাধ্যমে ওই সময়ের আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি কায়সার হাসনাতের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন নূর হোসেন। বিনিময়ে নূর হোসেন তার অবৈধ আয়ের উৎস প্রসারিত করেন। এমপির সরাসরি শেল্টার থাকায় স্থানীয় প্রশাসন নূর হোসেনকে কিছু বলত না। বরং সিদ্ধিরগঞ্জ থানার তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীর তালিকা থেকে নূর হোসেন তার নাম বাদ করিয়ে নিয়েছেন।
২০১০ সালে একটি হরতালে বাধা দিতে গেলে ইসলামী আন্দোলন (চরমোনাই) এর নেতাকর্মীরা শিমরাইল ট্রাক স্ট্যান্ডে হামলা চালায়। নূর হোসেন হামলার শিকার হন। ভাঙচুর করা হয় তার কার্যালয়। এ ঘটনায় শিমরাইল ট্রাক স্ট্যান্ডে বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেন নূর হোসেন। বর্তমান নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানসহ একাধিক মন্ত্রী ওই প্রতিবাদ সমাবেশে উপস্থিত হয়ে নূর হোসেনের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানান। এ ঘটনার স্থানীয় প্রশাসনের নেক নজরে আসেন নূর হোসেন। দলীয় কোন পদপদবি না থাকলেও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা টাকার জন্য বসে থাকতেন নূর হোসেনের কাছে।
২০১১ সালের ৩০শে অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে কয়েক গুণ শক্তিশালী হয়ে উঠেন নূর হোসেন। তার ক্ষমতার পরিধি বেড়ে যায়। দুই হাতে টাকা উপার্জন করেন নূর হোসেন। নাসিকের ১নং প্যানেল মেয়র পদের জন্য কোটি টাকা খরচ করেন নূর হোসেন। যদিও এক ভোটে হেরে যান তিনি। কিন্তু তার প্রভাব এক ইঞ্চিও কমেনি। বরং বেড়েছে। ধীরে ধীরে তিনি পুরো শিমরাইল এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। ফুটপাট থেকে শুরু করে প্রতিটি সেক্টরে তার বাহিনী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। শিমরাইল ট্রাক টার্মিনালে চালু করা যাত্রার নামে নগ্ন নৃত্য, হাউজি, জুয়া, নিরাপদে মাদক বিক্রি ও সেবনের নিরাপদ আখড়া। প্রকাশ্যে কাউন্টার বসিয়ে ফেনডিল ও ইয়াবা বিক্রি করা হতো। প্রতিদিন মাদক বিক্রি ও জুয়া, হাউজি থেকে তার আয় ছিল প্রায় ১০ লাখ টাকা। এই টাকার ভাগ পেতেন জেলা প্রশাসক ও জেলা প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অসাধু কর্মকর্তারা। গত বছর আড়াই হাজারে প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় লোক সমাগম ঘটনোর জন্য ওই এলাকার এমপি নূর হোসেনের দারস্থ হন। শোনা যায়, ওই এমপিকে মোটা অঙ্কের টাকা দেয়ার পাশাপাশি নূর হোসেন কয়েক হাজার লোক সাপ্লাই দেন। বিনিময়ে নূর হোসেন প্রধানমন্ত্রীর মঞ্চে ওঠার সুযোগ পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর মঞ্চে নূর হোসেনকে দেখার পর প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে চাউর হয় নূর হোসেনের ক্ষমতা নিয়ে। ফলে উচ্চ পর্যায়ের প্রশাসনও কখনও নুর হোসেনের বিরুদ্ধে কথা বলেনি।
নূর হোসেন সর্বশেষ সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতির পদ বাগিয়ে নেন। এখন তিনি বিশাল আওয়ামী লীগ নেতা। থানার শীর্ষ নেতারা তার পিছনে ঘুরেন। শুধু টাকার জন্য। ফলে নূর হোসেনের বিরুদ্ধে তারা কখনো প্রতিবাদ করেননি। নূরের বাহিনীতে শাহাজাহান ওরফে কালা শাহাজাহান ওরফে বরিশাইল্লা শাজান, আলী মোহাম্মদ, ছানা উল্লাহ ছানা, তারছিল, শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল, সালাউদ্দিন, জামাল উদ্দিন, আজাহার, নাছির ওরফে কালা নাছির, আক্কেল আলী, আসাবউদ্দিন, সালাউদ্দিন ওরফে লাদেন, সেলিম, আমান প্রমুখ ক্যাডাররা রয়েছে। এরমধ্যে শাহাজাহান ওরফে কালা শাহাজাহান ওরফে বরিশাইল্লা শাজান, আলী মোহাম্মদ, ছানা উল্লাহ ছানা, তারছিল, জামাল উদ্দিন নূর হোসেনের বডিগার্ড হিসেবে কাজ করে। তাদের নেতৃত্বে রয়েছে ২ শতাধিক ছোট বড় সন্ত্রাসী। নূর হোসেনের ৭-৮টি গাড়ি দিয়ে এই ক্যাডার বাহিনী চলাচল করতো। এবং নুর হোসেন যেখানে যেতো তারা সার্বক্ষণিক তার সঙ্গে থাকতো।
http://mzamin.com/details.php?mzamin=MjE5NTU=&s=Mg==

‘নূর হোসেন ও র‌্যাবের অসাধু কর্মকর্তা এইটা করছে’

সাক্ষাৎকারে প্যানেল মেয়র নজরুলের শ্বশুর

শহীদুল ইসলাম ওরফে শহীদ চেয়ারম্যান। সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান (বর্তমান পৌরসভা) তিনি। নারায়ণগঞ্জে অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার ৭ জনের একজন প্যানেল মেয়র ‘নজরুল ইসলাম’র শ্বশুর শহীদুল ইসলাম। সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজির বাসায় শনিবার কথা হয় শহীদ চেয়ারম্যানের সঙ্গে।

দ্য রিপোর্টের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে খোলামেলা অনেক কথা বলেছেন শহীদ চেয়ারম্যান।

আপনার মেয়ের স্বামী নজরুল ইসলামের গুম ও খুনের ঘটনা সম্পর্কে আপনি কী জানেন বা কাদেরকে সন্দেহ করেন?

এইটা করাইছে নূর হোসেন আর র‌্যাবের অসাধু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা...

র‌্যাবের কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত?

আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এক মন্ত্রীর মেয়ের স্বামী র‌্যাব-১১’র অসাধু এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ কয়েকজন সদস্য এর সঙ্গে জড়িত। নূর হোসেনের মাধ্যমে তারা এটা করছে। ওরা সাপোর্ট দিছে, র‌্যাব ১১’র ভিতরে নিয়া মারছে। যে গাড়িগুলো নিয়া মারছে সেই গাড়িও পাওয়া গেছে। গাড়ির ভেতরে রক্ত জমা ছিল এবং অ্যাডভোকেট চন্দন শীলের (সরকারের) মোবাইল পাওয়া গেছে। নূর হোসেন র‌্যাবকে ছয় কোটি টাকা দিছে। এ ছয় কোটি টাকার জন্য আমার জামাতাকে (মেয়ের স্বামী) হত্যা করা হইছে।

র‌্যাবের ওই অসাধু কর্মকর্তাকে ধরলে সব তথ্য পাওয়া যাবে। তাদেরকে অনতিবিলম্বে গ্রেফতার করার জন্য আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি।

মামলায় তো তাদের নাম নেই

আমি মামলা করতে চেয়েছি। থানার ওসি মামলা নেয় না। বলে র‌্যাব কর্মকর্তাদের নামে মামলা করলে মামলা বাতিল হয়ে যাবে।

কোন থানার ওসি

ফতুল্লা থানার ওসি।

ওসির নাম কী?

নাম মনে নাই।

এরপর?

তারপর দুই দিন ঘুইরা ছয় জনের নামে মামলা করছি। আমি ১৩ জনকে আসামি করেছিলাম।

বাদ দেওয়া হয়েছে কাদের নাম?

বাদ দেওয়া হইছে র‌্যাব ১১- ওই কর্মকর্তাসহ শাহজাহান, নূর উদ্দিন (নূর হোসেনের ভাই), জামাল উদ্দিন, আলিম, মোহাম্মদ সানাউল্লাহ, আরিফুল হাসান এদের নাম।

নূর হোসেনের সঙ্গে নজরুল ইসলাম সাহেবের বিরোধ কখন থেকে?

২০০০ সাল থেকে শত্রুতা শুরু হয়। সে সময়ে নজরুলকে মারার জন্য গুলি করছিল নুর হোসেনের লোকজন। সেই গুলিতে যুবলীগ (সিদ্ধিরগঞ্জ) নেতা মতিন মারা যায়। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগ অফিসের ভেতরে ঘটনাটা ঘটছিল। ওই ঘটনায় থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি গুরুতর আহত হইছিল।

র‌্যাব নজরুল ইসলাম সাহেবকে হত্যা করতে চাইবে কেন?

টাকার কারণে। এ দেশের আইন তো নিজস্ব গতিতে চলে না, টাকার গতিতে চলে। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে প্রধানমন্ত্রীর জনসভার স্টেজে শামীম ওসমান উঠতে পারে না। সেইখানে সন্ত্রাসী নূর হোসেন প্রধানমন্ত্রীর পিছনে দাঁড়াইয়া থাকে।

সন্ত্রাসীর কোনো দল নাই। সে জাতীয় পার্টি করত, বিএনপির আমলে বিএনপি করছে, আওয়ামী লীগের আমলে আওয়ামী লীগ করে। নূর হোসেন সুবিধাবাদী লোক।

আপনি যে র‌্যাবের নামে অভিযোগ করছেন আপনার কাছে কোনো প্রমাণ আছে?

যেখান থেকে অপহরণ করা হইছিল সেখানে আমি গিয়েছিলাম। ঐখানে কিছু শ্রমিক বালুর কাজ করছিল। তারা বলেছে র‌্যাব ধরে নিয়ে গেছে। এরপর লোকজন নিয়া আমি র‌্যাব-১১ এর পুরান কোর্ট ঘেরাও করি। তখন র‌্যাবের ওই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তারেক আমাদেরকে গোপন কথা আছে বলে আমার মেয়েসহ আমাদের নিয়ে যায়। এরপর আমাদেরকে প্রায় ছয়টা ঘণ্টা বসাইয়া রাখে। এ সুযোগে ওদেরকে মেরে লাশ শীতলক্ষ্যায় ফেলে দেয়।

র‌্যাবের ওই কর্মকর্তা আপনাদের কোথায় নিয়ে গিয়েছিল?

র‌্যাবের ওই কর্মকর্তা তার অফিসে নিয়ে গিয়েছিল।

র‌্যাব কর্মকর্তা আপনাদের কী বলেছে?

নানান কিছু জিজ্ঞাসা করছে। আর র‌্যাবের ওই কর্মকর্তা বলছে ‘এ হত্যা করছে শামীম ওসমান, আমরা করি নাই।’

র‌্যাবের কোন অফিসে নিয়েছিল আপনাদের?

আদমজীতে, র‌্যাবের হেড অফিসে।

যে সব বালু শ্রমিকদের কাছ থেকে শুনেছেন যে র‌্যাব নজরুল ইসলামকে তুলে নিয়ে গেছে তারা কি র‌্যাবের পোশাক দেখেছিল?

পোশাক দেখে নাই। গাড়িতে নাকি র‌্যাব লেখা ছিল।

পুলিশ বলছে প্রত্যক্ষদর্শী কাউকে পাওয়া যায়নি। আপনারা কি ঐ বালু শ্রমিকদের সাক্ষী রেখেছেন?

পরে গিয়ে আর তাদেরকে পাওয়া যায়নি।

ওই শ্রমিকদের চিনতেন?

না।

চেহারা মনে আছে?

হ্যাঁ, দেখলে চিনব।

ঘটনা ঘটার কতক্ষণ পরে গিয়েছিলেন সেই জায়গায়?

আনুমানিক ঘণ্টা দেড়েক পরে। অপহরণ হয়েছে পৌনে দুইটার দিকে। আমি গেছি তিনটা সাড়ে তিনটার দিকে।

কার কাছ থেকে জেনেছেন?

নজরুলের কেইস পার্টনারদের কাছ থেকে।

আপনি যে র‌্যাব কর্মকর্তাসহ র‌্যাব সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে গেলে তো সাক্ষী লাগবে ...

অপহরণের সময় র‌্যাব অফিসে অন্য যারা ডিউটি করছে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই পাওয়া যাবে। সিপাইরা তো আর টাকা খায় নাই। টাকা খাইছে বড় অফিসাররা।

আপনি কি নিশ্চিত যে র‌্যাব অফিসের ভিতরে ...

আমি নিশ্চিত র‌্যাব অফিসের ভিতরেই এদেরকে মারছে। আমি ১০০ ভাগ নিশ্চিত।

এসব বিষয় কি আপনি নতুন এসপি সাহেবকে জানিয়েছেন?

হ্যাঁ জানাইছি, মন্ত্রী সাহেবেরে জানাইছি।

কোন মন্ত্রী?

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে।

কবে জানিয়েছেন?

লাশ উদ্ধার হওয়ার আগে।

এখন প্রশাসন যেভাবে কাজ করছে তাতে কি আপনি সন্তুষ্ট?

হ্যাঁ, আমি খুব সন্তুষ্ট। বিশেষ করে বর্তমান এসপি সাহেবের কথা আমার ভালো লেগেছে। তিনি বলছেন, অপরাধ বিষয়ে তার অনেক পড়াশোনা আছে। এর আগে তিনি নরসিংদীর লোকমান হত্যা মামলা নিয়ে কাজ করছেন। এ (সাত মার্ডার) হত্যাকাণ্ডের রহস্যও উদঘাটন করবেন।

পুলিশ প্রশাসনের অনেক আশ্বাসের পরও দেশব্যাপী অনেক চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন হয়নি। এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশের দেওয়া আশ্বাসে কি আপনি আশ্বস্ত?

সারাদেশে কি হচ্ছে সেটা আমি জানি না। তবে এ এসপি (ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন) সাবের প্রতি আমার বিশ্বাস আছে। আশা করি তিনি পারবেন।
http://www.thereport24.com/?page=details&article=37.31482#sthash.QYStP4u...

উল্লাপাড়ায় কিডনি কেটে শিশু

উল্লাপাড়ায় কিডনি কেটে শিশু হত্যা চক্রের প্রধান গ্রেপ্তার
ইসরাইল হোসেন বাবু, সিরাজগঞ্জ থেকে | ৩ মে ২০১৪, শনিবার, ১২:০৯ | মতামত: ৪ টি
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় শিশু হারুন অপহরণের পর কিডনি কেটে হত্যার ঘটনার প্রধান আসামি জাহাঙ্গীর হোসেন চাদকে (২৭) পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। শুক্রবার ভোরে ঝিনাইদহ থেকে গ্রেপ্তারের পর তাকে উল্লাপাড়া থানায় আনা হয়। সে উল্লাপাড়া উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়নের তরফবাইড়া গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে। এর আগে এ চক্রের আরেক সদস্য একই গ্রামের খলিল (২২) গ্রেপ্তারের পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে চাদকে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে শনাক্ত করেন। উল্লাপাড়া থানার উপ-পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবদুল জলিল জানান, ঘটনার পরই জাহাঙ্গীর হোসেন চাদ এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। মোবাইল ট্যাকিংয়ের মাধ্যমে তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর ঝিনাইদহ জেলার ডাকবাংলো এলাকায় নিকটাত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। থানায় রেখে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আগামীকাল তাকে আদালতে হাজির করা হবে। এদিকে, শিশু হারুনের পরিবারের কান্না যেন এখনও থামছে না। মা হাফিজা খাতুন ছেলের কথা মনে হলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন। ঘটনার পর থেকে এলাকার শিশু-কিশোরদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়ায় আশপাশের ৪-৫টি গ্রামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অর্ধেকে নেমে এসেছে। এ নিয়ে অভিভাবকরাও রয়েছে দুশ্চিন্তায়। বুধবার বিকালে সরজমিন শিশু হারুনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার মা হাফিজা খাতুন ছেলের কথা মনে হলেই বুক চাপড়ে বিলাপ করছে আর বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন। ৬ বছর বয়সী ছেলে হারুনকে হারিয়ে একমাত্র ৮ বছর বয়সী মেয়ে হাসিকে শেষ সম্বল ভেবে বুকে নিয়ে আদর করছেন বারবার। আর আল্লাহু’র কাছে অপরাধীদের বিচার প্রার্থনা করছেন। আর দিনমজুর বাবা আবদুল হান্নান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, সুন্দর ও স্বাস্থ্যবান ছেলে হারুনকে খুব আদর করতাম। আমার সেই সোনার ছেলেকে ওরা কিডনি কেটে নিয়ে মেরে ফেলেছে। আর কোন বাবার বুক যেন খালি না হয়। আমি প্রশাসনের কাছে অপহরণকারী ও সাভার থেকে ডাক্তারদের শাস্তি চাই। অন্যথায় ওই চক্রটি আরও মায়ের বুক খালি করবে। এক বছর বয়সের সময়ে তোলা শিশু হারুনের একটি ছবিই যেন এখন তার কাছে ছেলের শেষ স্মৃতি। এ প্রতিবেদক এলাকায় গেলে ওই ছবিই বারবার সাংবাদিকদের দেখায় হান্নান। এসময় শিশু হাসিও ভাই হত্যার বিচার দাবি করেন। অপরদিকে, এ ঘটনার পর থেকে এলাকার শিশু-কিশোরদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়ায় অনেকে স্কুলে যাচ্ছে না। অভিভাবকরাও রয়েছে দুচিন্তায়। স্থানীয় তেবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবদুস সামাদ জানান, হারুন তার স্কুলের শিশু শ্রেণীর ছাত্র ছিল। ঘটনার পর থেকে অপহরণ ভীতির কারণে তার স্কুলে ছাত্রছাত্রী উপস্থিতির সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। অভিভাবকরাও তাকে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। পার্শ্ববর্তী আগদিগল দাখিল মাদরাসার সহকারী শিক্ষক আলহাজ আবু ইউনুছ সরকার তার মাদরাসায় শিক্ষার্থী উপস্থিতির হার কমের কথা জানিয়ে বলেন, শুধু শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে তা নয়। তেবাড়িয়া, তরফবাইড়া, আগদিগলসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে সন্ধ্যার আগেই শিশু-কিশোর ঘরে ঢুকে যাচ্ছে। আলাদা ঘরে পড়তে বসতেও তাদের মধ্যে অপহরণ ভীতি কাজ করছে। আগদিগল গ্রাম সিনিয়র মাদরাসার সহকারী শিক্ষক আবুল কাশেম বলেন, ২ বছর আগে নিহত হারুনের পাশের গ্রাম তরফবাইড়া গ্রামের আলীমুদ্দি’র নাতি সায়েমকে একইভাবে কিডনী কেটে নিয়ে হত্যা করা হয়। সে সময় ওই গ্রামের মোক্তার হোসেন ও তার স্ত্রী লাইলী বেগম জেলে গেলেও বর্তমানে জামিনে আছে। কিন্তু পুলিশ তার ছেলেকে আজও গ্রেপ্তার করতে পারেনি। দুই বছরের ব্যবধানে একই ঘটনা আমাদের চিন্তায় ফেলেছে। আবার কার মায়ের বুক খালি হবে এ চিন্তায় আমরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। নিহত শিশু হারুনের দাদা শাহজাহান আলী জানান, অপহরণের ঘটনার কয়েক দিন আগে মাঝে মধ্যেই পাশের গ্রামের মতিন, চাদ ও দেলু বাড়ির সামনের দোকানে আসতো। ঘটনার দিনও তারা মটরসাইকেল ফাকে রেখে দোকানের সামনে এসে বসে ছিল। কিন্তু বুঝতে পারিনি তারা আমার নাতির এ সর্বনাশ করবে। লাশ উদ্ধারের পর থেকে তারা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। আর খলিল সংসারের কিছু ব্যবহারিক সামগ্রী নিয়ে ২৭শে এপ্রিল গভীর রাতে পালিয়ে যাবার সময় উল্লাপাড়া ও পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী মুন্ডুমালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে সন্দেহ হলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে। পরে তাকে পুলিশে সোর্পদ করা হয়। তার মালগুলো এখনও আমাদের হেফাজতে রয়েছে। স্থানীয় সমাজসেবক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সাত্তার বলেন, উধুনিয়া চলনবিল অধ্যুষিত একটি ইউনিয়ন। পাশেই পাবনার ভাঙ্গুড়ার সীমানা। ইচ্ছে করলেই প্রশাসন জনগণকে নিরাপত্তা দিতে এখানে দ্রুত আসতে পারে না। যে কারণে অপরাধীরা সহজেই অপরাধ করে পার পেয়ে যায়। তিনি মনে করেন, কিডনি কেটে নেয়ার বিষয়টি যেহেতু অনেকটা রহস্য উন্মোচিত হয়েছে এবং অপরাধীরা চিহিৃত হয়েছে। সেহেতু প্রশাসনের উচিত উচ্চপর্যায়ের মনিটরিং এর মাধ্যমে অপরাধীদের সমূলে নির্মূল করা। অন্যথায় এ অঞ্চলের মানুষ শান্তি পাবে না। আতঙ্ক তাদের পিছু তারা করে বেড়াবে। এ বিষয়ে উল্লাপাড়া থানা উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবদুুল জলিল জানান, এ পর্যন্ত কিডনি কর্তন চক্রের ২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চাদ এ ঘটনার প্রধান পরিকল্পনাকারী। আশা করছি তার কাছ থেকে এ চক্রের বাকি সদস্য ও সাভার থেকে আসা ডাক্তারদের সর্ম্পকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। আর অপরাধীরা আইনে আওতায় আসলেই এলাকার মানুষের মন থেকে ভীতি দূর হবে। প্রসঙ্গত, ২২শে এপ্রিল বিকালে ৬ বছর বয়সী ছেলে শিশু হারুন নিখোঁজ হয়। ২৬শে এপ্রিল সন্ধ্যায় পার্শ্ববর্তী ফইলার বিলের একটি ডোবার কচুরীপানার নিচ থেকে কিডনি বিহীন অবস্থায় শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির চাচা আবদুল মান্নান পার্শ্ববর্তী তরফবাইড়া গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে চাদ আলী (২৫), মন্টু প্রমাণিকের ছেলে মতিন (৩০) ও দুলালের ছেলে দেলোয়ার হোসেনের নামে সন্দেহজাজন আসামি করে থানায় মামলা করেন। ২৭শে এপ্রিল রাতে খলিলকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২৯শে এপ্রিল দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোহিনুর আরজুমানের আদালতে হাজির করা হলে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দিতে সে জানায়, সুস্বাস্থ্য ও সুন্দর চেহারার কারণে শিশু হারুনকে অন্তত ১৫ দিন আগে ঢাকার সাভার থেকে আসা ডাক্তাররা তাকে পছন্দ করে কিডনি ক্রয়ের জন্য ১০ লাখ টাকায় চুক্তিবন্ধ হয়। আর সেই মোতাবেক শিশুটিকে অপহরণ করার পর অজ্ঞান অবস্থায় রাতের বেলায় উধুনিয়া ব্রীজের নিচে তার দেহ থেকে ২টি কিডনি কেটে নেয় ডাক্তাররা।
http://mzamin.com/details.php?mzamin=MjE2NjQ=&s=Mw==

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla