Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

কাকু, আব্বু, আমি এবং বাকি ত্রিশ লাখ!

Bangladeshi

খবরে প্রকাশ নতুন করে আদমশুমারী করতে যাচ্ছে সরকার। শীঘ্রই এ ব্যাপারে লোকবল ও অর্থ বিনিয়োগ সংক্রান্ত ঘোষনা দেয়া হবে। যে কোন উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত হচ্ছে সঠিক পরিসংখ্যান। হোক তা উন্নত বিশ্বে অথবা বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশে। আমাদের পরিসংখ্যান খাত বাকি দশটা খাতের মতই দুর্নীতির মহামারিতে আক্রান্ত। বিনিয়োগকৃত অর্থ পকেটস্থ করার উদ্দেশ্যে অনেক পরিসংখ্যানই জন্ম নেয় টেবিলে। গরু ঘাস খায়, গাধা ঘাস খায়, সুতরাং গরু = গাধা, এ ধরনের উদ্ভট ম্যাথমেটিক্যাল মডেলিং কায়দায় সমাধান করা হয় পরিসংখ্যান বিষয়ক সমীকরণ। যার দরুন দেশের মোট জনসংখ্যা নিয়ে রয়েছে বহুমুখি সন্দেহ। লিমিট মডেলিংয়ে সংখ্যাটার উপরের ভ্যালু পনের হলে নীচেরটা হবে সতের। অর্থাৎ পনের কোটি হতে সতের কোটির মধ্যে হাবুডুবু খাচ্ছে দেশের মোট জনসংখ্যা। আমদানী নির্ভর একটা দেশের অর্থনীতির জন্য এ ধরণের উঠানামা খুবই ভয়ংকর যা বিশ্ব অর্থনীতির সমসাময়িক বাস্তবতায় খাদ্য ও জ্বালানী নিরাপত্তায় ডেকে আনতে পারে নজিরবিহীন বিপর্যয়। এসব নিয়ে ক্ষমতাসীনদের আদৌ কোন মাথাব্যথা আছে বলে মনে হয়না। বাস্তবতা হল, এখানে রাজনীতিকে অর্থনীতি ডমিনেট করেনা, বরং তার উল্টোটাই বাংলাদেশের বেলায় প্রযোজ্য। তারও আছে বহুবিধ কারণ। যেমন, ক্ষমতা ধরে রাখা অথবা ফিরে পাওয়ায় এ দেশে অর্থনীতির কোন ভূমিকা নেই। সকাল-সন্ধ্যা বিরামহীন ব্যক্তি বন্দনাই মসৃণ করে ক্ষমতার সিঁড়িঁ । আদমশুমারী সংক্রান্ত সরকারের নতুন সিদ্ধান্তের পেছনেও হয়ত রয়ে গেছে ব্যক্তি বিশেষের নতুন ইচ্ছা অথবা অভিপ্রায় বাস্তবায়নের নীলনকশা। এটাই আমাদের রাজনীতি, এটাই আমাদের অর্থনীতি। এবং এমনটাই আমাদের নিয়তি। আদমশুমারী নামক গৌরি সেনের টাকায় নতুন শ্রাদ্ধের সাথে চাইলে নতুন একটা ইস্যু যোগ করা যায়। এর জন্য নতুন কোন বাজেটের যেমন দরকার হবেনা, তেমনি দরকার হবেনা অতিরিক্ত কোন লোকবল অথবা বাহুবলের। মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে নিহত ত্রিশ লাখ শহীদ ও তিন লাখ ধর্ষিতা বীরাঙ্গনার একটা তালিকা। সে প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে আসুন পরিসংখ্যান নিয়ে আরও কিছুটা সময় ব্যায় করি।

১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ হতে ১৬ই ডিসেম্বর। মাসের হিসাবে ৮ মাস ২৩ দিন। দিনের হিসাবে ২৬৭দিন। ঘন্টার হিসাবে ৬৬৭৫ ঘন্টা, মিনিটের হিসাবে ৪,০০০,৫০০ মিনিট এবং সেকেন্ডের হিসাবে মোট ২,৪০,৩০,০০০ সেকেন্ড। বলা হয় ২৬৭ দিনের যুদ্ধে পাকিস্তানিরা মোট ৩০,০০,০০০ বাংলাদেশিকে হত্যা করেছিল। এবার আসুন যোগ বিয়োগ, পুরন ভাগ দিয়ে সংখ্যাটার একটা ফ্রিকোয়েন্সি দাঁড় করানোর চেষ্টা করি। যা বেরিয়ে আসবে তাতে দেখা যায় পাকিস্তানিরা প্রতিদিন মোট ১১,২৩৬ জন বাংলাদেশিকে হত্যা করেছিল। ঘন্টার হিসাবে তা হবে ঘন্টায় ৪৫০জন, মিনিটে ৭.৫ জন এবং সেকেন্ডের হিসাবে ০.১২ জন। এবার আসুন এই ত্রিশ লাখ শহীদের লাশের একটা বিহিত করার চেষ্টা করি। বলা হয় প্রতিটা মুসলমানকে দাফন করতে মোট সাড়ে তিন হাত মাটির প্রয়োজন হয়। এ হিসবে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ ১,০৫,০০০,০০ হাত জায়গার প্রয়োজন হয়েছিল ত্রিশ লাখ দাফনের জন্য। আমরা যদি গজের হিসাবে দুই হাত সমান এক গজ ধরি তা দাঁড়াবে ৫২,৫০,০০০ গজে। যদি ভুল না হয় ৫,২৮০ গজ সমান এক মাইল। এ হিসাবে মোট গজকে মাইলে নিয়ে গেলে তা হবে ৯৯৪ মাইল। এবং কিলোমিটারের হিসাবে ১৫৯০ কিলোমিটার। ৫৪ হাজার বর্গমাইল আয়তনের একটা দেশে ত্রিশ লাখ লাশ দাফন করতে কত বর্গমাইল জায়গার দরকার তা বের করার দায়িত্বটা পাঠকদের উপরই ছেড়ে দিলাম। অনেকে বলবেন ত্রিশ লাখের সবাইকে দাফনের ব্যবস্থা করা গেছে এমনটা নয়। অনেকে আবার প্রশ্ন তুলবেন শহীদদের অনেকেই ছিল অমুসলিম এবং স্বভাবতই তাদের দাফন করার প্রশ্ন আসেনি। খুবই যুক্তিপূর্ণ প্রশ্ন। এটাও সত্য ত্রিশ লাখ শহীদদের কাউকেই বাংলাদেশের বাইরে হত্যা করা হয়নি। দাফন না করা গেলে তাদের মৃতদেহ কোথাও না কোথাও ঠাঁই পেয়েছিল। যদি স্বতন্ত্রভাবে সবাই দাফন করা সম্ভব না হয়ে থাকে প্রশ্ন উঠবে শত শত গণকবরের। হিন্দুদের ব্যাপারটা খুব সোজা। ৭১সালে বাংলাদেশের কোথাও কোন চিতায় আগুন জ্বলেনি। পাকিস্তানিরা জ্বলতে দেয়নি। তাদের লাশও কংকাল হয়ে বাংলাদেশের মাটিতে কোথাও না কোথাও ঠাঁই পেয়েছে। পরিসংখ্যান গুলো একত্র করলে একটা প্রশ্ন জন্ম নিতে বাধ্য, আট মাস তেইশ দিনে আসলেই কি সম্ভব ছিল ত্রিশ লাখ হত্যা করার? নিশ্চয় অসম্ভব কিছু নয়। আমরা যদি সমসাময়িক সময়ে আফ্রিকার রুয়ান্ডায় ঘটে যাওয়া গণহত্যার দিকে চোখ ফেরাই তাহলে একবাক্যে স্বীকার করবো বাংলাদেশেও সম্ভব ছিল। ১০০ দিনের গৃহযুদ্ধে ১০ লাখ রুয়ান্ডান প্রাণ হারিয়েছিল, যা ছিল দেশটার মোট জনসংখ্যার শতকরা ২০ ভাগ। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ড গোটা পৃথিবীর সামনে ঘটেছে। লাশের মিছিল ট্রাকে করে ময়লা আবর্জনার মত গণকবর দেয়া হয়েছে। যুদ্ধ শেষে সে সব গণকবরের সন্ধান করে দেশটার সরকার তথা গোটা বিশ্ব নিহতদের প্রতি সন্মান প্রদর্শন করেছে।

৭১’এ পাকিস্তানিরা এ দেশে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। সংখ্যা এদিক ওদিক করে এ অপরাধ লঘু করার কোন উপায় নেই। বর্বরদের বর্বরতা ইতিহাস কোনদিন ক্ষমা করেনা, আমারাও করবো না। কিন্তু এখানে একটা প্রশ্ন উঠতে বাধ্য, এই যে ত্রিশ লাখের কথা বলছি তার কোন তালিকা তৈরীর কেন চেষ্টা করছিনা? নাকি খুঁজতে গেলে পাওয়া যাবেনা এ সংখ্যা? পরিচিত এক আওয়ামী নেতা আমাকে বলেছিলেন মৃতদের নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করলে নাকি পাপ হয়। আত্মারা অভিশাপ দেয়। আপাদমস্তক একজন চোরের মুখে হঠাৎ করে পাপের কথা শুনলে শিউরে উঠতে হয়। আমি অবশ্য অবাক হয়নি, বরং চমকিত হয়েছি। লাশের সংখ্যাকে রাজনৈতিক উপাদান বানিয়ে ক্ষমতার বাজারে মুনাফা লোটা খুব সোজা। বিশেষ করে ৭১ সালে যারা মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি তাদের জন্য এ সংখ্যা ঈশ্বরের ওহী বাণীর মত কাজ করতে বাধ্য। যার প্রতিফলন দেখা যায় আজকের সোস্যাল মিডিয়ায়। ত্রিশ লাখ সংখ্যার প্রবর্তক আওয়ামী লীগ জেনশুনে কাজটা করে থাকলে সাধুবাদ জানাতে হয় তাদের সুদুরপ্রসারী চিন্তাভাবনার জন্য। জাতিকে একটা বিশেষ পরিবারের সেবাদাস বানাতে এর চাইতে ভাল অস্ত্র দলটা হাতে পাবে বলে মনে হয়না। একবার ভেবে দেখুন, প্রতিবেশী একটা দেশের পানি আগ্রাসনে আমাদের নদী গুলো এখন সর্বশান্ত। নদী তীরের জীবন এখন ইতিহাস। খা খা করছে ফসলের মাঠ। ওরা সীমান্ত হতে আমাদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে। পশু পাখির মত হত্যা করছে, পাশবিক নির্যাতন চালাচ্ছে। যাকেই দরকার নিজেদের গোয়েন্দা বাহিনী দিয়ে খোদ রাজধানী হতে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। অসম বানিজ্যিক ভারসাম্যের বোঝা কাধে চাপিয়ে জাতিকে করেছে বিকলাঙ্গ। ড্রাগ এবং অস্ত্রের পাশাপাশি উন্মুক্ত তথ্য প্রবাহের সুযোগ নিয়ে নিজেদের বিকৃত সংস্কৃতি দিয়ে লন্ড ভন্ড করে দিচ্ছে আমাদের সামাজিক ভারসাম্য। এসব নিয়ে প্রশ্ন তুললে ত্রিশ লাখ শহীদের মায়াকান্নায় সমাহিত করে দিচ্ছে আজকের বেচে থাকা। লুটেরার দল দেশ লুটছে, খুন করছে, গুম করছে, করছে ভোট ডাকাতি। এবং দিন শেষে পাপ মোচন হিসাবে ব্যবহার করছে ত্রিশ লাখ শহীদের লাশ।

বাস্তবতা হচ্ছে ৭১’এ ত্রিশ লাখ মানুষ প্রাণ হারায়নি এ দেশে। কোনভাবেই সম্ভব ছিলনা এ ধরণের পাইকারি হত্যা। মিনিটে ৭ জনের লাশ পরেনি এ দেশে। অন্তত আমরা যারা ৭১’এ দেশে ছিলাম এমনটা দেখিনি। মাটি খুঁড়লেও পাওয়া যাবেনা এত লাশ। হাজার হাজার লাশের গণকবরও নেই আমাদের দেশে। কারও সন্দেহ থাকলে আসুন নিজের পরিবার হতে শুরু করি এর যাচাই। কজন প্রাণ হারিয়েছিল আপনার পরিবারে? গ্রামে অথবা শহরে? সাড়ে সাত কোটি জনসংখ্যার ত্রিশ লাখ মানে শতকরা প্রায় ৪ ভাগ। অর্থাৎ প্রতি ১০০ জন বাংলাদেশির ৪জন করে প্রাণ হারিয়ে ছিল সে যুদ্ধে। সে হিসাবে আমাদের প্রত্যেকের হাতে থাকার কথা স্বজন হারানোর তালিকা। আছে আপনার হাতে? তাহলে প্রকাশ করুন। এ সংখ্যার ফয়সালা জরুরি পাকিদের পাপ হাল্কা করার জন্য নয়, বরং একদল ক্ষমতালোভী রাক্ষসদের লাশ বানিজ্য বন্ধ করার জন্য। সোস্যাল মিডিয়া হতে পারে এ শুরুর আসল প্ল্যাটফর্ম। আসুন ৭১’এর মুক্তিযুদ্ধে নিহত প্রতিটা লাশের পরিচয় লিপিবদ্ধ করি। এ সংখ্যা যদি ত্রিশ লাখে দাঁড়ায় সেটাই হবে আমাদের আসল সংখ্যা। শ্রদ্ধাভরে সন্মান জানবো সে সংখ্যাকে। কিন্তু আমরা প্রত্যেক শহীদের নাম জানতে চাই। জানতে চাই তার যাপিত জীবনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ। এ দেশের রাস্তাঘাটের নাম দেখতে চাই এ সব শহীদদের নামে। এক শেখ মুজিবের নাম গোটা বাংলাদেশের রাস্তা-ঘাট, নদী-নালা, মুতখানা, লঙ্গরখানা কভার করার জন্য যথেষ্ট নয়। চাই আরও নাম। যুদ্ধের প্রথম প্রহরে যে ব্যক্তি শত্রু ক্যাম্পের মেহমান হয়ে নিজের রাজনৈতিক চামড়া বাচাতে সচেষ্ট ছিলেন তার নামের বন্যায় গোটা দেশ ভেসে যাবে, আর বাকি ত্রিশ লাখ কেবল মায়াকান্নার উপাদান হিসাবে রয়ে যাবে তা হতে পারেনা।

এবারের আদমশুমারী হতে পারে শহীদ সংখ্যা তালিকাভুক্ত করার মোক্ষম মাধ্যম। শুমারির কাজে সরকারী লোকজন দেশের প্রত্যেকটা দুয়ারে কড়া নাড়বে। মাথা গুনবে মোট জনসংখ্যা নির্ধারণের অংশ হিসাবে। একই লোকজন পাশাপাশি আরেকটা তথ্য বের করে আনতে পারে, আর তা হল ৭১’এর শহীদদের নাম, ধাম ও পরিচয়। মনে আছে হুমায়ুন আহমেদের ’বহুব্রীহি’ নাটকের শেষ পর্বের কথা? আবুল হায়াত গরুর গাড়িতে চড়ে অজানার পথে বেরিয়ে পরছেন নতুন এক দায়িত্ব নিয়ে। সে দায়িত্ব ছিল ত্রিশ লাখ শহীদের পরিচয় উদ্বারের দায়িত্ব। কাউকে না কাউকে নিতে হবে এ দায়িত্ব।

Comments

সবাই চুপ, সবাই আতঙ্কে

আট কিলোমিটার লম্বা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে দিনে-রাতে যান চলাচলের কোনো বিরাম নেই। দিনদুপুরে এই ব্যস্ত রাস্তা থেকে উধাও হয়ে গেল দুটি গাড়িসহ সাতজন মানুষ। পরে দুটি গাড়ি পরিত্যক্ত অবস্থায় মিললেও লোকগুলোর খোঁজ মেলেনি ২৪ ঘণ্টায়ও। এক গাড়িতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ পাঁচজন। আরেক গাড়িতে আইনজীবী চন্দনকুমার ও তাঁর গাড়িচালক। এই রাস্তার পাশেই নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালত, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, কারাগারসহ গুরুত্বপূর্ণ সব কার্যালয়। প্রকাশ্য রাস্তায় ঘটনাটি ঘটলেও কেউ তা দেখেছে বলেও স্বীকার করছে না। সবাই চুপ, সবার মধ্যে আতঙ্ক।

গত রোববার দুপুরে এই অপহরণের ঘটনা ঘটে। গতকাল সোমবার সারা দিন এই এলাকায় ঘুরে বহু মানুষের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে পুলিশের দপ্তরেও ঢুঁ মারতে হয়েছে। কিন্তু বিকেলে এসে যা তথ্য দাঁড়াল তা হলো—অপহরণের ঘটনাস্থলটি ঠিক শনাক্ত করা গেল না। লিংক রোড বলা হলেও এর কোন জায়গা থেকে লোকগুলো অপহূত হলো, তা নির্দিষ্ট করা গেল না। কারণ, কেউ কথা বলছে না এ বিষয়ে। সবচেয়ে নিরাশ হওয়ার মতো তথ্য দিয়েছে পুলিশ। তারা বলছে, প্রত্যক্ষদর্শী না পাওয়ায় অপহরণের বিষয়টিই তারা নিশ্চিত নয়। এখন নিখোঁজ ধরে নিয়েই তদন্ত চলছে। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, তাঁর গাড়িচালক জাহাঙ্গীর, তাজুল ইসলাম, মনিরুজ্জামান স্বপন ও লিটন নামে পাঁচজন গাড়িসহ ‘নিখোঁজ’ হন। ওই দিন রাতেই নজরুলের গাড়িটি গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রায় একই সময়ে একই রাস্তা থেকে গাড়িসহ ‘নিখোঁজ’ হন জেলার জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ষাটোর্ধ্ব চন্দনকুমার সরকার ও তাঁর গাড়িচালক ইব্রাহিম। এই ‘নিখোঁজ’দের আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-সহকর্মী ও অনুসারীরা গতকাল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন।

নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলামের অভিযোগ, নজরুলের প্রতিপক্ষ আরেক কাউন্সিলর নূর হোসেন তাঁকে অপহরণ করিয়েছেন। অপহরণকারীরা র‌্যাব পরিচয়ে সহযোগীসহ তাঁর স্বামীকে অপহরণ করেছেন।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা আছে। সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কাউন্সিলর নূর হোসেনের সঙ্গে নজরুলের বিবাদ দীর্ঘদিনের। এলাকার চাঁদাবাজি, কাঁচপুর সেতুর নিচে নদী দখল করে নির্মাণসামগ্রীর ব্যবসাসহ বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে এই বিরোধ বলে সূত্রগুলো দাবি করছে। তবে নূর হোসেন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তিনি সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগের জবাব দেবেন বলে গতকাল জানিয়েছেন। আর আইনজীবী চন্দন সরকারের ‘নিখোঁজ’ হওয়ার বিষয়ে পরিবার কোনো কিছুই ধারণা করতে পারছে না। জেলার পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলছেন, তাঁরা বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালাচ্ছেন। তদন্ত চলছে। তবে চন্দন সরকারের
http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article/204550/%E0%A6%B8%E0%A6%AC%...

দেশজুড়ে অপহরণ আতঙ্ক

দেশজুড়ে গত ক’দিনে রাজনৈতিক দলের নেতা, জনপ্রতিনিধি, আইনজীবী ও শিক্ষকসহ বেশ কয়েকজনকে অপহরণ করা হয়েছে। ঢাকায় অপহরণের পর যুবদল নেতা সামছুল ইসলাম সোলায়মানের লাশ পাওয়া গেছে লক্ষ্মীপুরে। রোববার নারায়ণগঞ্জে অপহরণ করা হয়েছে সিটি প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনকে। একই দিন জেলার এক প্রবীণ আইনজীবী চন্দন সরকার গাড়িচালকসহ নিখোঁজ হয়েছেন। গতকাল ভোরে গাজীপুরে দুই সহোদরকে অপহরণের পর রাতে উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই দিনে ময়মনসিংহের ভালুকায় অপহরণ করা হয়েছে দুই স্কুল শিক্ষককে। এর আগে অপহরণের ১৩৫ ঘণ্টা পর ফিরে এসেছেন পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) রিজওয়ানা হাসানের স্বামী এবি সিদ্দিক।

এরকম একেকটি ঘটনা নিয়ে নানা রকম প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে জনমনে। গত দু-আড়াই বছরে অপহরণের মামলাসংক্রান্ত পরিসংখ্যানে উল্লেখযোগ্য ওঠানামা নেই। তবে মামলার পরিসংখ্যানের বাইরে অপহরণের ঘটনা রয়েছে অনেক বেশি। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে অপহরণের কৌশল ও অপহৃত ব্যক্তিদের পরিণতি অনেক পাল্টে গেছে। মুক্তিপণ বা সমঝোতায় মুক্তি মিলছে না অপহৃত ব্যক্তিদের। কারো লাশ মিলছে, আবার কেউ কেউ নিখোঁজই থেকে যাচ্ছেন। আর এসব অপহরণের বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ঘটনার শিকার পরিবার দুষছে র‌্যাব ও পুলিশকে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বারবার নিজেদের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করলেও কমছে না সন্দেহের মাত্রা। সব মিলিয়ে অপহরণ নিয়ে এক ধরনের গোলকধাঁধায় রয়েছে সাধারণ মানুষ।

মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে অপহরণের শিকার হয়েছেন ১৬ জন। তাঁদের মধ্যে সাতজনের লাশ পাওয়া গেছে। অপহৃত ১৬ জনের মধ্যে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের ছয়জন, জামায়াত-শিবিরের তিনজন, ছাত্রলীগের তিনজন এবং অরাজনৈতিক চারজন। ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের মার্চ পর্যন্ত সারা দেশে ২৬৮ জন অপহৃত হন বলে আসকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তাঁদের মধ্যে ৪৩ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। অপহরণের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে ২৪ জনকে। পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে ১৪ জনকে। কিন্তু ১৮৭ জনের এখন পর্যন্ত কোনো খোঁজ নেই।

পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্র মতে, সারা দেশে গত বছর অপহরণসংক্রান্ত মামলা হয়েছিল ৮৭৯টি। এসবের মধ্যে ঢাকা রেঞ্জে ছিল ১৪৯, চট্টগ্রাম রেঞ্জে ছিল ১৩০টি। ২০১২ সালে অপহরণসংক্রান্ত মামলা ছিল ৮৫০টি। এসবের মধ্যে ঢাকা রেঞ্জে ছিল ১৫৬, চট্টগ্রাম রেঞ্জে ছিল ১২২টি। চলতি বছর জানুয়ারি মাসে অপহরণ ঘটনায় মামলা হয়েছে ৬২টি, ফেব্রুযারি মাসে ৫৫টি এবং মার্চ মাসে ৭৯টি। এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন থানায় জানুয়ারি মাসে অপহরণ মামলা হয়েছে ১৭টি, ফেব্রুয়ারিতে ১৮টি ও মার্চে ১৫টি। আগের বছর ডিসেম্বর মাসে অপহরণসংক্রান্ত মামলা ছিল চারটি, নভেম্বরে ১৫টি, অক্টোবরে ১২টি, সেপ্টেম্বরে ২৩টি, আগস্টে ১৮টি, জুলাইয়ে ১৪টি, জুনে ১২টি, মে মাসে আটটি, এপ্রিলে ১৪টি, মার্চে ১৫টি, ফেব্রুয়ারিতে ১৪টি ও জানুয়ারিতে ১৭টি। বছর ও মাসের ব্যবধানে এসংক্রান্ত পরিসংখ্যানে উল্লেখযোগ্য ওঠানামা নেই বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান। তবে মামলার বাইরে অপহরণের ঘটনা রয়েছে কয়েক গুণ বেশি। বেশির ভাগই থানায় সাধারণ ডায়েরি হিসেবে নথিভুক্ত।

পাল্টাচ্ছে ধরন: মুক্তিপণ আদায়ের জন্য অপহরণের কৌশল অনেক পুরনো। পুলিশ ও গোয়েন্দারা জানান, অপরাধীরা মুক্তিপণের বাইরে নানা উদ্দেশ্যে এখন অপহরণ করছে বেশি। আর একই সঙ্গে অপহরণের কৌশলেও পরিবর্তন এনেছে অপরাধীরা। নির্জন নয়, বরং জনবহুল এলাকাকে বেছে নিচ্ছে অপহরণকারীরা, যা প্রচলিত অপরাধ কৌশলের বিপরীত ও ঝুঁকিপূর্ণ। দিনদুপুরে প্রকাশ্যে অপহরণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মত, ঘটনার মাধ্যমে আতঙ্ক ছড়াতেই এ কৌশল। অন্যদিকে র‌্যাব-পুলিশের পোশাকে ও পরিচয়ে অপহরণ বিষয়ে অনেক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, টার্গেট করা ব্যক্তিকে অপহরণের মুহূর্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় দিলে পারিবারিক ও সামাজিক বাধা কমে যায়। সে ক্ষেত্রে অপহরণকাজটা হয়ে যায় সহজ। আর তাই অপহরণকারীরা এ ধরনের পরিচয় দিয়ে থাকে। একই সঙ্গে অপহরণের মোটিভ ও অপরাধী নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করতেও এ ধরনের চেষ্টা চালানো হয়ে থাকতে পারে।

রহস্যময় নীরবতা: সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত অপহরণসংক্রান্ত বিভিন্ন ঘটনার ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, অপহৃত ব্যক্তি ফিরে আসার পরও অপহরণকারীদের শনাক্ত করতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ফলে ঘটনাগুলোর রহস্য থেকে যাচ্ছে আড়ালেই। শুরুতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করলেও অপহৃত ফেরার পর এ-সংক্রান্ত কোনো তথ্য দিচ্ছে না অনেকে। এমনকি বিভ্রান্তিকর নানা তথ্য দেওয়ায় অপরাধী সম্পর্কে কোনো ধারণা মিলছে না।

আতঙ্ক চারদিকে: রাজধানীসহ সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নামে রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের অপহরণের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। আর তা নিয়েই বাড়ছে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও আতঙ্ক।

সূত্র: দৈনিক কালের কণ্ঠ

3 Million death?

The fact was, Sheikh Mujibur Rahman did not know the difference between 3 million and 3 Lakh. When he was interviewed by David Frost, Mujibur translated 3 Lakhs to 3 million since Frost did not understand what Lakh was.

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla

JUST VIEWED

Last viewed: