Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

তুতসি হুতুদের রুয়ান্ডা ও শহবাগ সরকারের বাংলাদেশ

sheikh hasina and rajakar
তুতসি হুতুদের কাহিনী যাদের জানা নেই তাদের উচিৎ হবে আধুনিক সভ্যতার এই ট্রাজেডি নিয়ে কিছুটা সময় ব্যয় করা। অনেক কিছু শেখার আছে নির্মম এ অধ্যায় হতে। পূর্ব আফ্রিকার ছোট দেশ রুয়ান্ডা। যুগ যুগ ধরে চলে আসা জাতিগত দাঙ্গার বিস্ফোরণ ঘটে ১৯৯৪ সালে। ১০০ দিনের চলমান সহিংসতায় প্রাণ হারায় প্রায় ১০ লাখ মানুষ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী এ সংখ্যা দেশটার মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ। সংখ্যালঘু তুতসিরা শতাব্দি ধরে নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল সংখ্যাগুরু হুতুদের। ষাট দশকের শুরুর দিকে বিদ্রোহের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে নেয় হুতুরা। এবং গোলমালের শুরু এখানেই। তুতসি জনসংখ্যার একটা বিরাট অংশ আশ্রয় নিতে বাধ্য হয় প্রতিবেশী দেশ উগান্ডায়। ১৯৯০ সালে রুয়ান্ডান পেট্রিয়টিক ফ্রন্ট নামের তুতসিদের একটা দল উত্তর রুয়ান্ডায় হামলা চালায়। তাদের অধিকাংশই ছিল শরনার্থী। এই গ্রুপের পেছনে ছিল সমর্থন ছিল উগান্ডা ও ফ্রান্সের। তাদের ছিল স্ব স্ব স্বার্থ। আক্রমনের প্রেক্ষাপটে ক্ষমতাসীন হুতু সরকার দেশটার সংখ্যাগুরুদের বুঝাতে সক্ষম হয় তুতসি নিধন ছাড়া জাতিগত আধিপত্য চিরস্থায়ী করা সম্ভব হবেনা। হুতুরা লুফে নেয় নেতাদের এই আহ্বান। এবং রাষ্ট্রের স্পনসরে পৈশাচিক উন্মত্ততায় ঝাঁপিয়ে পরে তুতসিদের উপর। একই চামড়ার, একই চেহারার স্বদেশিদের কচুকাটা করে ছুড়ে ফেলে বর্য পদার্থের মত। কুকুর আর শকুনের দল খুলে খাবলে খেতে শুরু করে লাশের পাহাড়। হুতুরা নাকি তেলাপোকা। ওরা বলতো আমরা মানুষ মারছি না, মারছি তেলাপোকা।

রুয়ান্ডান হুতুদের সাথে কোথায় যেন মিল পাওয়া যায় বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের। হুতুদের মতই প্রতিপক্ষ তাদের কাছে তেলাপোকা। অর্থাৎ রাজাকার। আফ্রিকার হিংস্র দানবদের মত আওয়ামী নেতারাও দেশের যুব সমাজকে উস্কে দিয়েছে রাজাকার নিধনের উন্মাদনায়। গোটা দেশ নাচছে খুনের নেশায়। দলীয় ব্লগার, সংবাদ মাধ্যম ও বুদ্ধিজীবীদের সহায়তায় দেশকে চূড়ান্ত ভাবে বিভক্ত করতে সক্ষম হয়েছে ক্ষমতাসীন দল। দেশ এখন রক্তাক্ত জনপদ। চারদিকে লাশের মিছিল। যে যেখানে পারছে খুন করছে এবং দুদিনের ব্যবধানে লাশ পরেছে শতাধিক। জাতি উল্লাস করছে এ হত্যায়। আনন্দে নাচছে, মিষ্টি বিতরণ করছে। দলীয় পুলিশ, বিজিবি এমনকি সেনাবাহিনীকেও ব্যবহার করা হচ্ছে ফ্রি লাইসেন্স হত্যাকাণ্ডে। মিডিয়া বলছে মানুষ মরছে না, মরছে রাজাকার। ওরা ’৭১ এর দানব, তাই ওদের মারায় উল্লাস আছে, আছে মাদকতা। মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস যে শিশু পৃথিবীর মুখ দেখেনি তার লাশও ঠাঁই পাচ্ছ রাজাকারের তালিকায়। দেশ এখন চূড়ান্ত ভাবে বিভক্ত; এক পক্ষ আওয়ামী লীগ ও অন্য পক্ষ রাজাকার। খোলা চোখের সাধারণ হিসাবে দেশে এত রাজাকার থাকার কথা নয়। প্রশ্ন হচ্ছে, এল কোত্থেকে?

শতকরা ৯৯ ভাগ জনসমর্থন নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের নেত্রীত্ব দিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ। অংকের হিসাবে সাড়ে সাত কোটি জনসংখ্যার সাত লাখের কিছু বেশি মানুষ সমর্থন করেনি দলটাকে। এখানেও প্রশ্ন উঠবে, সাড়ে সাত কোটির সবাই কি ভোটার ছিল? অথবা, যারা আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়নি তাদের সবাই কি রাজাকারের খাতায় নাম লিখিয়েছিল? স্বাধীনতা উত্তর প্রথম দিকের নির্বাচনেও হেরফের হয়নি এ সংখ্যার। ৪২ বছর পর আমাদের জনসংখ্যা এখন দ্বিগুন, ১৫ কোটি। সরল নিয়মে রাজাকার না হোক এন্টি আওয়ামী লীগারদের সংখ্যা হওয়া উচিৎ ছিল ১৫ লাখ। বাস্তবে কি তাই? কোথায় গেল পাহাড় সমান জনসমর্থন? কোথায় গেল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা? হিসাব মতে আজকের বিশ বছর বয়সী রাজাকারের পিতা মাতাও ছিল আওয়ামী লীগের। স্বাধীনতার ৪২ বছরের ভেতর দেশের অর্ধেকেরও বেশি জনগণ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, অর্থাৎ, নাম লিখিয়েছে রাজাকারের খাতায়। এখানে কিছুই কি শেখার ছিলনা আওয়ামী লীগের? রাজাকার বিচারের মাদকতায় আজ যারা নেশাগ্রস্ত ৭০ দশকে তাদের অনেকেরই জন্ম হয়নি। ক্ষমতার মসনদে তখনও আওয়ামী লীগ। ৯৯ ভাগ জনসমর্থনও নিয়েও সন্তুষ্ট ছিলেন না সদ্য স্বাধীনতা প্রাপ্ত দেশটার নেতা শেখ মুজিব। হরেক রকম বাহিনী সৃষ্টির মাধ্যমে সমাজে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার উদ্দেশ্যে। শেষ পর্যন্ত বাকশালের পথে পা বাড়িয়ে দেশকে পারিবারিক সম্পত্তি হিসাবে আজীবনের জন্য ইজারা নিতে চেয়েছিলেন। বিপদজনক ছিল সে পথ, এবং তিনি তা জানতেন এবং তার জন্য চরম মূল্য দিয়েছেন। একই পথে কি হাঁটছেন না মুজিব তনয়া?

আজকের জামাতী জঙ্গী তত্ত্বের জন্মও কি আওয়ামী ঔরসে নয়? দেশকে লুটপাটের ভাগার বানিয়ে অপশাসন ও কুশাসনের অভয়ারণ্য বানালে তা হতে বাই-প্রোডাক্ট জন্ম নিতে বাধ্য। আজকের ২০ বছর বয়সী রাজাকারের দল তেমনি কিছু বাই-প্রোডাক্ট। লগি-বৈঠার তান্ডব ও লাশের উপর পৈশাচিক নাচ হতে শিক্ষা নিয়ে ওরা আজ হায়েনার মত হিংস্র। খুব কি অপরিচিত মনে হচ্ছে জামাত-শিবিরের তান্ডব? ভিডিও ক্যামেরার স্লো মোশনে ধারণ করা বিকাশ হত্যার ইতিহাস কি আমরা ভুলে গেছি? উন্মত্ত পশুর মত কলেজ ছাত্রাবাস জ্বালিয়ে দেয়ার ঘটনা কি জাদুঘরের স্মৃতি? কজনের বিচার হয়েছে, কজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে? কজন ছাত্রলীগ নামের পশুকে গোয়াল ঘরে ফেরৎ পাঠানো হয়েছে? থাবা বাবার হত্যাকারীদের সপ্তাহ না ঘুরতেই ধরা হল, অথচ সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড থেকে গেল তিমিরে। আইনী শাসনের এসব হিপোক্রেসি আজ অজগর হয়ে ছোবল হানছে, দায়ী কি কেবল জামাতিরা?

কথা ছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে। সে উদ্দেশ্যে ট্রাইবুনাল বসানো হল। বিচারক নিয়োগ দেয়া হল। ঢাক ঢোল পিটিয়ে শুনানির আয়োজন করা হল। মাসের পর মাস চললো সে শুনানি। অথচ রায়ের জন্য বসানো হল শাহবাগী সরকার। আদলতকে জিম্মি করে রায় বের করার নাম আর যাই হোক বিচার হতে পারেনা। এ শ্রেফ ভাওতাবাজি, এক অর্থে রাজনৈতিক ক্রসফায়ার। সাইদী, নিজামীদের আসল ক্রসফায়ারে মারতে চাইলে জনগণ বিরোধীতা করবে এমনটা ভাবার কারণ ছিলনা। তাতে সহজ হয়ে যেত সমীকরণ। প্রয়োজন পরত না পাখির মত গুলি করে মানুষ মারার। এখানেই ফুটে উঠে সরকারের আওয়ামী চরিত্র। কাদের মোল্লার কাধে বন্দুক রেখে বিরোধী দল নিধন করার কুট কৌশলের জন্যই ব্যবহার করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক আদালত। রায় রায় খেলা নির্বাচন পর্যন্ত ঠেলে নিতে পারলে দেশের মাটি হতে নিশ্চিহ্ন করা যাবে বিরোধী দল, এবং বাস্তবায়ন করা যাবে শেখ মুজিবের অবাস্তবায়িত স্বপ্ন, বাকশাল। দেশকে পারিবারিক সম্পত্তি হিসাবে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নিতে চাইলে বাকশাল কায়েম এ মুহূর্তে খুবই জরুরি। বিশেষ করে শেখ হাসিনা ও তার ঔরশদের জন্য।

Comments

টেলিটকে ডিজিটাল দুর্নীতি

হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে

সমকাল প্রতিবেদক
রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটক নানাভাবে সরকারের দিক থেকে সুবিধা পেলেও ডিজিটাল দুর্নীতিতে মজেছেন এখানকার শীর্ষ কর্মকর্তারা। অবস্থা এমন পর্যায়ে গেছে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) হরহামেশা টেলিটক অফিসে হানা দিচ্ছে। সাত বছরের কোম্পানিটিতে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। প্রমাণ পাওয়া দুষ্কর এমন দুর্নীতির পরিমাণ আরও বেশি বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। কেনাকাটা থেকে শুরু করে নিয়োগ, পছন্দের কোম্পানিকে কাজ দেওয়া, পুরনো পদ্ধতির এসব লুটপাট তো রয়েছেই। সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে নির্দিষ্ট কোম্পানির কাছ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার যন্ত্রপাতি আমদানি কমিশন ও বিটিএস স্থাপনে বাড়ি ভাড়ার অনিয়ম। কাগজে-কলমে কেনা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে নেই; স্ক্র্যাচ কার্ড এবং ক্যাশ কার্ডের হিসাবে এমন কোটি কোটি গরমিলের প্রমাণ মিলেছে। নির্দিষ্ট কিছু সিমের মাধ্যমে বৈধ কায়দায় অবৈধ আয়ের সুযোগ করে দেওয়ার বিষয়টি দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে রীতিমতো আলোড়ন তুলেছে।

অনানুষ্ঠানিক আলাপে কোনো কোনো দুর্নীতি ও অনিয়মের কথা স্বীকারও করেন টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমান। তবে তিনি এর দায় চাপান বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ওপর। তিনি দাবি করেন, কর্তৃপক্ষ যেসব অনিয়ম ও দুর্নীতি ধরেছে সেগুলোই তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারি অডিটে অন্তত ৬০০ কোটি টাকা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, অডিটে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার অনিয়মের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু এমন একটি অঙ্ক মেনে নেওয়া যায় না। এটি তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলেও মনে করেন তিনি। মুজিবুর বলেন, টেলিটকের ভেতর থেকেই ষড়যন্ত্রমূলক নানা অভিযোগ করা হচ্ছে। অডিট দলকে খুশি করতে না পারার কারণেও অভিযোগের তালিকা লম্বা হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

রাষ্ট্রায়ত্ত এ অপারেটরটির বিরুদ্ধে অবৈধ পন্থায় বৈদেশিক টেলিফোন কল টার্মিনেশনের (ভিওআইপি) অভিযোগ সবচেয়ে বেশি। প্রমাণও মিলেছে। বিদেশ থেকে যত কল আসছে, তার প্রায় অর্ধেকটার মাধ্যম এ টেলিটক। সম্প্রতি গ্রামীণফোন আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে সরকার এবং বিটিআরসিসহ নানা পর্যায়ে এ অভিযোগও করেছে যে টেলিটকের অবৈধ কার্যক্রমের জন্য তাদের আয়ের সুযোগ নষ্ট হচ্ছে। বিটিআরসিও নানা অভিযোগ করছে। সরকারি কোম্পানি হওয়ায় তারাও টেলিটকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে না। জাতীয় সংসদের টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির অবৈধ ভিওআইপি বিষয়ক একটি উপ-কমিটিও এ বিষয়ে টেলিটককে দোষারোপ করে। ওই উপ-কমিটির আহ্বায়ক মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, টেলিটকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ থাকলেও তারা এ বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো বক্তব্য বা প্রমাণ হাজির করতে পারেনি। এতে প্রমাণ হয় তাদের মধ্যে গাফিলতি আছে। সংসদীয় কমিটির অপর এক সদস্য সমকালকে বলেন, সরকারের অপর কোম্পানি বিটিসিএলের অনেক কর্মকর্তা এমনকি এমডির বিরুদ্ধে ভিওআইপি-সংক্রান্ত মামলা হলেও টেলিটকের ক্ষেত্রে তা হয়নি। অথচ দুই কোম্পানির বিরুদ্ধেই সমান অভিযোগ। বিল জেনারেট করে কোটি কোটি টাকা নিজেদের অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়ার মতো অভিনব ঘটনা বাংলাদেশে টেলিটকই প্রথম দেখিয়েছে। ২০১০ সালের ডিসেম্বর থেকে বেশ কিছুদিন পর্যন্ত টেলিটকের কয়েকজন কর্মকর্তা মিলে কয়েক হাজার গ্রাহককে প্রতি মাসে তিনশ' টাকা নিয়ে তাদের অবিরাম কথা বলার সুযোগ দেন। এতে টেলিটক কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমোদন ছিল না। এর মাধ্যমে অন্তত ১৬ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। দুদক বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে। তবে এর মধ্যে গত সাত বছরের যে অডিট সরকারের পক্ষ থেকে হয়েছে সেখানে দাবি করা হয়েছে, বিল জেনারেটিংয়ের মাধ্যমে ক্ষতি ১৫ কোটি ৩৫ লাখ ৫৭ হাজার টাকার কিছু বেশি। ওই অডিট প্রতিবেদন সমকালের হাতে রয়েছে। এ বিষয়ে টেলিটক এমডির বক্তব্য_ এমন দুর্নীতির বিষয়টি তারাই তদন্ত করে বের করেছেন। যারা এমন কাজ করেছেন তারা ইতিমধ্যে বেশ কিছু টাকা ফিরিয়েও দিয়েছেন।

অডিট প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, কাগজপত্রে থাকলেও বাস্তবে টেলিটকের ভাণ্ডারে কোটি কোটি টাকার সিম কার্ড এবং স্ক্যাচ কার্ডের হদিস নেই। টেলিটকের লেজার এবং অন্যান্য হিসাবে মজুদ দুই ধাপে ৩১ কোটি টাকার বিভিন্ন মূল্যমানের স্ক্র্যাচ কার্ড এবং ক্যাশ কার্ড ঘাটতি রয়েছে। একইভাবে ৪৩ হাজার ২৭১টি সিম কার্ডে মজুদ ঘাটতির ফলে কোম্পানি ক্ষতির পরিমাণ আরও ৩ কোটি ৮৯ লাখ ৪৪ হাজার ৪৯ টাকা। এ বিষয়ে টেলিটকের সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা নেই। অভিযোগ রয়েছে, সর্বশেষ টেলিযোগাযোগমন্ত্রীর সময় মুজিবুর রহমান মন্ত্রী-সচিবকে খুশি করে ইচ্ছা মতো কাজ করেছেন। সচিব পদাধিকার বলে একই সঙ্গে টেলিটক বোর্ডের চেয়ারম্যান হওয়ায় তাকে নানাভাবে সন্তুষ্ট করা হয়েছে। এক মেয়াদের দায়িত্ব শেষ করার পর একাধিকবার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়েও যখন আরও এক দফা তিন বছরের জন্য নিয়োগ পান তখন মুজিবুর অযাচিত ও নিয়মবহির্ভূতভাবে সচিবকে ১ কোটি ৯৭ লাখ টাকায় গাড়ি কিনে দেন। অডিটে বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছে। একই সময় কোটি টাকার লেনদেন হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তাছাড়া তখনকার মন্ত্রীর কথা মতো টেলিটকে লোক নিয়োগ দিতে গিয়ে দিনের লিখিত পরীক্ষার পরেও আবার রাতে উত্তরপত্র নতুন করে তৈরি করা হয়েছে। টেলিটক এবং টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র একই খবর নিশ্চিত করেছে। সম্প্রতি এ সম্পর্কিত একটি অভিযোগও বর্তমান টেলিযোগাযোগমন্ত্রীর কানে তোলা হয়েছে। অনিয়ম-দুর্নীতি এবং স্বজনপ্রীতির কারণে টেলিটক তাদের কর্মীদের আন্দোলনেই উত্তাল হয়ে পড়ে। গত বছর এপ্রিলে টেলিটকের কর্মীরা দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে থ্রিজি প্রকল্প নিয়ে টেলিটকের সবচেয়ে বেশি অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। চায়নার এক্সিম ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়া এবং নির্দিষ্ট দুটি কোম্পানির কাছ থেকে কেবল পণ্য কেনার ক্ষেত্রে বেশি অনিয়ম হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব বিষয়ে টেলিটকের ভেতর থেকেই মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ রয়েছে। 'টেলিটক কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন থ্রিজি প্রকল্পের দুর্নীতির শ্বেতপত্র' শিরোনামের ওই অভিযোগেরই উত্তর চাইলে ফিরতি উত্তর টেলিটক মন্ত্রণালয়ে দেয় না বলেও জানা গেছে। তাছাড়া এক্ষেত্রে গ্রাহকদের সঙ্গেও নানাভাবে প্রতারণা করা হয়েছে। থ্রিজির কারণে খরচ অনেক বেড়ে গেছে। থ্রিজির সুবিধা ভোগ না করেও তাদের বাড়তি বিল গুনতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অনেকে।

টেলিটকের ক্ষেত্রে আরেকটি বড় অভিযোগ হলো_ বিটিসিএলের অনেক কর্মকর্তা ইচ্ছেমাফিক লিয়েন নিয়ে টেলিটকে কাজ করতে যান। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তারাই সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিপরায়ণ হন বলে অতীতে দেখা গেছে। সম্প্রতি এসব কর্মকর্তার লিয়েন বাতিল হলেও তাদের কেউ বিটিসিএলে ফেরেননি। তাছাড়া ঢাকার মধ্যে সরকারের দুটি বড় কোম্পানিতে কাজ করেও লিয়েনের নামে তারা বাড়তি ভাতা নিচ্ছেন। অডিটেও এ-সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বিজ্ঞাপন প্রচারের ক্ষেত্রেও সবচেয়ে বেশি দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। কোনো স্থান নির্ধারণ না করেই যত্রতত্র নির্বিচারে সাইনবোর্ড-বিলবোর্ড দিয়ে বিপণন বিভাগের কর্মকর্তারা ১০ কোটি টাকা এবং বিজ্ঞাপন প্রচার খাতের প্রায় ৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন প্রদানের ক্ষেত্রে সীমাহীন পক্ষপাতিত্বের আশ্রয় নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
http://www.shamokal.com/

মানবাধিকার পদক নিতে গিয়ে

মানবাধিকার পদক নিতে গিয়ে প্রতিবাদের মুখে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা: বাংলাদেশে মানবাধিকার রক্ষায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন পদক-২০১৩’ নিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দীন খান আলমগীর এক মানবাধিকার কর্মীর প্রতিবাদের মুখে পড়েছেন। শনিবার সকালে রাজধানীতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনে’র উদ্যোগে মানবাধিকার কর্মীদের জাতীয় মহাসমাবেশে এই ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠানে এক বিক্ষুব্ধ মানবাধিকার কর্মী মহিউদ্দীন খান আলমগীরকে পদক দেয়ার প্রতিবাদে চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই অনবরত মানবাধিকার লঙ্ঘন করে চলেছেন। তাকে কেন মানবাধিকার রক্ষায় পদক দেয়া হবে?’ পরে মানবাধিকার সংগঠনটির কর্মকর্তারা এসে উত্তেজিত এই কর্মীকে নিবৃত্ত করেন।

এদিকে, অনুষ্ঠানটিতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমানসহ আরও কয়েকজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে মানবাধিকার কমিশন পদক দেয়া হয়। এ নিয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত মানবাধিকার ও সংবাদকর্মীরা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। মাহফুজুর রহমান তার প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিক অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত মেহেরুন রুনি এবং তার স্বামী মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ারের খুনের ব্যাপারে অশোভন বক্তব্য দেয়ায় দেশে-বিদেশে কঠোরভাবে সমালোচিত।

এছাড়া সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, জাতীয় প্রেসক্লাব ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি রুনি ও সাগর হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মাহফুজুর রহমানকে বছর খানেক ধরে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে আসছে।

মানবাধিকার কর্মীদের মহাসমাবেশ ও মানবাধিকার পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের মহাসচিব ড. সাইফুল ইসলাম দিলদার। এতে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের সমন্বয়করা বক্তব্যে রাখেন।
http://www.rtnn.net//newsdetail/detail/1/3/60099#.UTrqPBypwuF

কৃষি ব্যাংকে হাজার কোটিটাকার

কৃষি ব্যাংকে হাজার কোটিটাকার জালিয়াতি
দৈনিক ইত্তেফাক : ০৯/০৩/২০১৩
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে ভয়াবহ জালিয়াতি হয়েছে। প্রধান কার্যালয়ের অনুমতি ছাড়া ঋণ দেয়া, অনাদায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ ফোর্সড লোন পরিশোধের মেয়াদ বৃদ্ধি, জামানত ছাড়া ঋণ দেয়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা লঙ্ঘন, ভুয়া চুক্তিপত্র তৈরিসহ নানা কৌশলে কয়েকজন অসাধু ব্যবসায়ী ৯৬৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আর এ কাজে তাদের সহযোগিতা করেছে ব্যাংকেরই কিছু কর্মকর্তা। ব্যাংকের স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়সহ সাত শাখায় এসব জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। কৃষি ব্যাংকের উপর পরিদর্শন চালিয়ে এসব অনিয়ম পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক ।

ব্যাংক ও গ্রাহকের পারস্পারিক যোগসাজশে জামানত ছাড়া ঋণ দেয়া হয়েছে বলে পরিদর্শন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আর জামানত ছাড়া দেয়া ঋণগুলোর উপর ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেই। ফলে এসব ঋণ আদায় অনিশ্চিত। এজন্য ওইসব ঋণ বিতরণের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের সনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও ব্যাংক ব্যবস্থাপনাকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

প্রতি বছরই অন্যান্য ব্যাংকের মত কৃষি ব্যাংকের উপরও বিশদ পরিদর্শন পরিচালনা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত বছরে ব্যাংকের ৩৬টি শাখার (মোট শাখা ৯৮৫) উপর পরিদর্শন পরিচালনা করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির বিতরণ করা ১৩ হাজার ৯৯৯ কোটি টাকার মধ্যে খেলাপি ঋণ চার হাজার ৮৭০ কোটি টাকা। যা বিতরণকৃত মোট ঋণের ৩৪ দমমিক ৭৯ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে যা ছিল ২৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। ডিসেম্বর শেষে প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৩শ ৯৪ কোটি টাকা।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ব্যাংকের স্থানীয় মুখ্য কার্যালয় থেকে পদ্মা ফেব্রিক্স লিমিটেডের মেয়াদোত্তীর্ণ বকেয়া বিল অফ এক্সচেঞ্জ দাঁড়িয়েছে সাড়ে ১৩ কোটি টাকা। এছাড়া ব্যাক টু ব্যাক ঋণপত্রের পরিমাণ ৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা। প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন ছাড়াই সীমাতিরিক্ত সুবিধা দেয়া হয়েছে। যা গুরুতর অনিয়ম। এছাড়া ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমতি ছাড়াই পদ্মা ব্লি¬চিং এন্ড ডাইং লিমিটেডের ৩ কোটি ১৬ লাখ টাকার অনাদায়ী পাওনা ফোর্সড ঋণ সৃষ্টি করা হয়েছে। যদিও এ প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির নিকট পাওনা ১৪০ কোটি টাকা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

একই শাখার এসবি এক্সিম বাংলাদেশের মেয়াদোত্তীর্ণ বকেয়া ১৫১ কোটি টাকা যা অনুমোদিত সীমার চেয়ে ৩ কোটি টাকা বেশি। গ্রাহকের মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ থাকার পরও ঋণ নবায়ন করা হয়েছে। একই প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী শাহজাহান বাবলু পাট ব্যবসার নামে ১০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে তা অন্য খাতে স্থানান্তর করেন। শাখার নিয়ন্ত্রণ না থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১০ কোটি টাকা নিম্নমানে খেলাপি করেছে। এছাড়া মিমটেক্স নিটিংকে অনুমতি ছাড়াই অতিরিক্ত ঋণপত্র খোলার সুবিধা দেয়া হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানটি ব্যাংক থেকে ১৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা ঋণ নিলেও তার বিপরীতে জামানত রাখা হয় মাত্র দুই কোটি টাকা।

ব্যাংকের কাওরান বাজার শাখা থেকে ফেয়ার ইয়ার্ন ৪২০ কোটি টাকা, আহমেদ মোবাইল গার্ডেন সাত কোটি টাকা, কেয়া ইয়ার্ন মিলস ৬৮ কোটি টাকা ও রোজবার্গ ইন্ডাস্ট্রিজ ১৮ হাজার কোটি টাকা অবৈধভাবে বের করে নিয়েছে। যেগুলোর বেশিরভাগই খেলাপি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। শুধুমাত্র ইয়ার্ন প্রসেসিংয়ের জন্য ফেয়ার ইয়ার্ন ডাইংয়ের বিপরীতে যে বিপুল পরিমাণ ঋণ মঞ্জুর করা হয়েছে তাকে উদ্দেশ্যমূলক বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বনানী শাখা থেকে মেসার্স ফিয়াজ গ্রুপকে এলসি ও এলটি বাবদ ১৫ কোটি টাকা অর্থ সুবিধা দেয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ শাখা থেকে জেবি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, মা এয়ার জেট স্পিনিং, ওশিন স্পিনিং মিলস, মারহাবা স্পিনিং, স্টার কুটির শিল্প জেকি নিট, এঞ্জেল ওয়্যার হাউস, এইচ এইচ টেক্সটাইল, এ্যাবা টেক্সটাইল ও নিট পারজোয়ার টেক্সটাইল আইবিপি মাধ্যমে ২০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কয়েকটি বন্ধ হয়ে গেছে।

প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, খুলনা করপোরেট শাখা থেকে মেসার্স এ্যাকোয়া রিসোর্সেস ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে পাঁচ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। একই শাখা থেকে মা বাণিজ্য ভান্ডারকে বিধি ভেঙ্গে ঋণ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে, ৩০ আগস্ট যার অসমন্বিত অর্থের পরিমাণ প্রায় ১৮ কোটি টাকা। এছাড়া মেসার্স সুন্দরবন বারবার অনিয়ম ও শর্ত ভঙ্গ করার পরও এক কোটি ৩১ লাখ টাকা ঋণ দেয়া হয়। পরে প্রতিষ্ঠানটি চালু না থাকা সত্ত্বেও রুগ্ন শিল্পের তালিকাভুক্ত করা হয়। কুষ্টিয়া শাখায় ৮টি হিসাবের বিপরীতে ২১ কোটি টাকা ক্ষতিজনক মানে ও ৫টি হিসাবের বিপরীতে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ক্ষতিজনক মানে শ্রেণিকরণ করা হয়েছে। আগ্রাবাদ করপোরেট শাখায় প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে সাড়ে ২৫ কোটি টাকা।

এসব অনিয়ম ছাড়াও ব্যাংকের অধিকাংশ শাখায় ১০ বছর বা তার বেশি সময় ধরে অদাবিকৃত যেসব আমানত রয়েছে, সেগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেয়ার কথা থাকলেও তা জমা দেয়নি কৃষি ব্যাংক। তাছাড়া ব্যাংকের হিসাব (অ্যাকাউন্ট) খোলার ক্ষেত্রে যেসব কাগজপত্র জমা দিতে হয় এবং যেসব ফরম পূরণ করতে হয় তা যথাযথভাবে করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla