রসের গুড় পিঁপড়ায় খায়!

ভাবছিলাম রাজনীতি নিয়ে লেখালেখিতে ক’টা দিন বিরতি দেব। অনেক লিখেছি, মাঝে মধ্যে এ নিয়ে লিখ্তে গেলে নিজের কাছেই নিজকে অপরাধী মনে হয়। আমি যাদের সমালোচনা করছি তাদেরকেই তো দেশের জনগণ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করছে, দেব-দেবীর মত পূঁজা করছে, এমনকি জীবন পর্য্যন্ত উৎসর্গ করতে দ্বিধা করছেনা কেউ কেউ। আমি কি এমন হরিদাস পাল যে তাঁদেরকে অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড় করাব? কিন্তূ প্রতিদিনের দৈনিকগুলো পড়তে গেলে এমন সব খবরে চোখ আটকে যায় যা নিয়ে দু’কলম না লিখলে দিনটাই অসম্পূর্ণ লাগে। অস্থিরতার কথা না হয় বাদই দিলাম।
এঞ্জিনীয়ারিং পড়ার সময় কুতুব নামে আমার এক বন্ধু ছিল। আমি ছিলাম ইলেকট্রিকেলে, ও ছিল সিভিলে। প্রথম বর্ষ শেষ করে দ্বিতীয় বর্ষের শুরুতে রুশ মেয়ের প্রেম ও তাকে বিয়ে করে সংসার শুরু করে দেয় মনের সূখে । বছর না ঘুরতে ফুটফুটে কন্যা সন্তান লাভের মধ্য দিয়ে পরিপূর্ণতা লাভ করে কুতুবের সংসার। সে সূখী, তার সূখে আমরাও সূখী। তবে সব সূখ কাহিনীরই বোধহয় কোথাও না কোথাও শেষ আছে। কুতুবের বেলায়ও এর ব্যতিক্রম হলনা। লেখাপড়া শেষ করে দেশে ফিরে গেল সে। স্ত্রীকে কথা দিয়ে গেল কাগজপত্র ঠিক হলেই নিয়ে যাবে তাদের। স্ত্রী আর কন্যা অপেক্ষার দিন গুনতে থাকে। শীত পেরিয়ে বসন্ত আসে, বসন্ত শেষে গ্রীষ্মের পালা। কুতুবের কাগজ তৈরী আর শেষ হয়না। কোন এক ভরা সন্ধ্যায় কুতুবের স্ত্রী আমাদের হলে এসে উপরের আকাশ মাটিতে নামিয়ে চীৎকার শুরু করে দেয়। তার মতে স্বামী ও কন্যার জনক কুতুবকে লুকিয়ে রেখেছি আমরা। প্রায় প্রতিদিন হাংগামা করতে থাকে প্রতিটা বাংলাদেশীর রুমে গিয়ে। ত্যক্ত বিরক্ত সবাই, শেষ পর্য্যন্ত খবর নিতে বাধ্য হলাম বন্ধু কুতুবের। কুতুব দেশে ফিরে ভাল একটা চাক্রী পেয়েছে ও ভাল অংকের যৌতুক নিয়ে বিয়ে করে রীতিমত সূখের সংসার করছে। সেই হতে কুতুব নামটা শুনলে কেমন একটা অবিশ্বাষ ও সন্দেহ দানা বেধে উঠে মনের অজান্তেই (no offense to any other Kutub)।
তেমনি এক কুতুবের কাহিনী পড়লাম আজকের দৈনিক প্রথম আলোতে। মায়ের চল্লিশায় ২৫টা তড়তাজা গরু জবাই করে ১৭৫ মন চালের ভাত দিয়ে ৩০ হাজার অতিথি আপ্যায়ন করেছেন। ভূমি মন্ত্রনালয়ের প্রোটকল অফিসার কুতুব উদ্দিনের বাড়ি শরিয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার নাগেরপারা ইউনিয়নের ছয়গাঁও গ্রামে। সর্বসাকুল্যে অনুষ্ঠানটি সমাধা করতে ব্যয় হয় ৫০ লাখ টাকা। উল্লেখ থাকে এই সেই কুতুব উদ্দিন যাকে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে অবৈধ সম্পদ আয়ের জন্যে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করা হয়েছিল চাকরী হতে। ১৬ মাস জেল খাটার পর মামলার উপর হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ জারি করানোর মধ্য দিয়ে ২০০৯ সালে গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে জামিনে বেরিয়ে আসেন, এবং ফিরে পান হারানো চাকরী। একজন প্রোটকল অফিসারের মাসিক কত টাকা আয় হলে মার চল্লিশায় ৫০ লাখ টাকা ব্যায় করতে পারেন তা হিসাব করার ভার পাঠকদের উপরই ছেড়ে দিলাম। রাজনীতির এমনি এক বিগ ফিশকে চিনতাম যিনি জীবিতাবস্থায় মাকে খরপোষ দেয়া দূরে থাক শারীরিক অত্যাচার পর্য্যন্ত করতেন। সেই মায়ের মৃত্যুর পর তিনি আয়োজন করেছিলেন চোখ ধাঁধাঁনো এক চল্লিশা। আশাকরি প্রোটকল অফিসার কুতুব উদ্দিন এ দিক হতে পরিস্কার ছিলেন।
দ্বিতীয় একটা খবরও সরকারী টাকা পয়সা সংক্রান্ত। অন্য এক ব্লগে জনৈক ব্লগার জানাচ্ছেন নবম জাতীয় সংসদের প্রথম বছরে বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন ৩ দিন জাতীয় সংসদে উপস্থিত থেকে আয় করেছেন ৩০ লাখ টাকা। অর্থাৎ দিনে ১০ লাখ টাকা। জনাবা জিয়ার আয়ের হিসাবটা এ রকমঃ মাসিক পরিতোষক হিসাবে ১ বছরে ১৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। আপ্যায়ন খরচ ১০ লাখ টাকা। বছরের ঐচ্ছিক খরচ ১ লাখ টাকা, ভ্রমন ভাতা ৫০ হাজার টাকা। এ ছাড়াও আছে জ্বালানি ও চিকিৎসা ভাতা খরচ। দেশ বিক্রীর সংসদে কথা বলতে দেয়া হয়না, এমন একটা আজুহাতে সংসদে না গেলেও বেতন-ভাতা সহ যাবতীয় সূবিধা নিতে কোথাও কিছু বিক্রীর অভিযোগ না তুলেই সানন্দে নিয়ে গেছেন ৩০লাখ টাকা। এ না হলে আর দেশনেত্রী!
রসের গুড় পিঁপড়ায় খায়! বাংলাদেশের সরকারী খাঞ্জানীখানাও তেমনি এক রস, যা রাজনীতিবিদ এবং তাদের সেবাদাসের দল পিঁপড়ার মত খাচ্ছেন দিনের পর দিন বছরের পর বছর।
- Tag this post:
- WatchDog's blog
- 154 reads
-
JUST VIEWED
Last viewed:
- Bangladesh Photo Gallery
- দ্যা ডে আফটার
- একজন আবু বকরের মৃত্যু ও কিছু প্রাসংগিক কথা...
- কালো টাকা সাদা এবং ১০% শুভংকরের ফাকি...
- বাবর আলীর কাহিনী
- Country Comparison : Electricity - production
- লাশ শাহ্রিয়ারকে নিয়ে এ লেখা
- চট্টগ্রামে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পুলিশসহ গ্রেপ্তার ৭
- Mujib's killers must hang: SC
- News Archive
- ভারতের টিপাইমুখ বাঁধ : আরেক ফারাক্কা অভিশাপ
- নববর্ষে ডঃ মোহম্মদ ইউনুসের বানী - ২০১০ সাল হোক দিনবদলের বছর
- সিয়ার্স টাওয়ারের ১০৩ তলায় কাঁচের বারান্দা দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত।
- রাজার দেশে দুই রাজপুত্র...
- ভবিষৎ টেন্ডারবাজীর আগাম প্রস্তূতি
Latest Blogs
- রাজার দেশে দুই রাজপুত্র...
- US State Department warned Mujibur about possible assassination
- Hope of a Nation
- Haves and Have-nots
- While Bangladeshis fight, Vietnam gets Billion $ Intel
- ডিজিটাল বিপ্লব না পারিবারিক বনভোজন?
- একজন কণিকা রহমানের কাহিনী...
- পার্বত্য চট্টগ্রাম, যে ছবি কথা বলে...
- জন হিংঙ্কলে, আকতার হামিদ পবন ও দু'টা অসফল নাটকের ইতিকথা
- মার্ডার অন দ্যা ওরিয়েন্ট/বিডিআর এক্সপ্রেস!
Recent Comments
- জয়কে এখনই সক্রিয় রাজনীতিতে দেখতে চান না শেখ হাসিনা
10 hours 14 min ago - Driving force behind Globalization – a Bangladesh case study
3 days 12 hours ago - A sad legacy
3 days 12 hours ago - Fragmented population and Bangladesh
3 days 12 hours ago - Begums' gift to Bangladesh
3 days 12 hours ago - Charting Bangladesh’s economic prosperity
3 days 12 hours ago - My 7 days in NYC
3 days 13 hours ago - Bangladesh will not prosper economically in near future
3 days 13 hours ago - Economic rise of a nation does not happen by accident
3 days 13 hours ago - BD’s barrier to prosperity
3 days 13 hours ago





Comments
২৫ গরু দিয়ে ভূরিভোজ!
শরীয়তপুর | তারিখ: ০৭-০২-২০১০
প্রথম আলো রিপোর্ট
হূষ্টপুষ্ট ২৫টি গরু জবাই করা হয়। রান্না করা হয় ১৭৫ মণ চালের ভাত। আরও কয়েক পদের উপাদেয় খাবারে ভূরিভোজ হয় প্রায় ৩০ হাজার মানুষের। গতকাল শনিবার সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এই ভোজের আয়োজন চলে শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার নাগেরপাড়া ইউনিয়নের ছয়গাঁও গ্রামে; ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রটোকল কর্মকর্তা কুতুব উদ্দিনের বাড়িতে। শরীয়তপুর সদর, ডামুড্যা উপজেলা, মাদারীপুরের কালকিনি ও বরিশালের মুলাদী উপজেলা থেকে অতিথিরা এসে যোগ দেন। এটি ছিল কুতুব উদ্দিনের মায়ের কুলখানির অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে এক বসায় দুই হাজার মানুষের খাওয়ার আয়োজন করা হয়েছে। এ জন্য গোসাইরহাট, নাগেরপাড়া ও কালকিনি উপজেলার খাসেরহাট বাজারের সব ডেকোরেটরের দোকান ভাড়া করা হয়েছে। আলী হোসেন বাবুর্চির নেতৃত্বে ৭০ জন কর্মী গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় রান্নার কাজ শুরু করেন। খাবার পরিবেশন ও পরিচ্ছন্নতার কাজে লাগানো হয় ৩০০ জন কর্মী। নাগেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদারদের নেতৃত্বে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকেন ২০০ জন স্বেচ্ছাসেবক কর্মী।
গরু জবাইয়ের কাজে নিয়োজিত কসাই হাসেম মিয়া বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাত থেকে শনিবার বিকাল পর্যন্ত ২৫টি গরু জবাই করা হয়েছে। একেকটি গরুর দাম ৯০ থেকে ৯৫ হাজার টাকা। প্রতিটি গরু জবাই করে মাংস তৈরি করতে তিন হাজার টাকা মজুরি দেওয়া হয়। আমরা ১০ জন কর্মী কাজ করছি।’ বাবুর্চি আলী হোসেন বলেন, ‘আমি ৭০ জন কর্মী নিয়ে বৃহস্পতিবার কাজ করেছি। শনিবার দুপুর পর্যন্ত ৩০ হাজার মানুষের খাবার রান্না করেছি। এ কাজের জন্য আমাকে এক লাখ টাকা পারিশ্রমিক দেওয়া হবে।’
খাবার পরিবেশনে নিয়োজিত শহীদুল বলেন, সকাল ১০টা থেকে ১৫টি বৈঠকে খাবার পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ফজলুল হক শিকদার বলেন, ‘কুতুব উদ্দিনের খরচে অনুষ্ঠানটি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে থেকে এলাকার মানুষকে দাওয়াত দেওয়া শুরু করি। অনুষ্ঠানে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয় হবে।’ কালকিনির আকাল বরিশ গ্রামের সোলায়মান বলেন, ‘পাঁচ দিন আগে এই দাওয়াত পেয়েছি। সপরিবারে এসেছি।’ নাগেরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এত বড় ভোজের অনুষ্ঠান এর আগে কখনো দেখিনি। হাজার হাজার মানুষ আসছে, খাচ্ছে। খাবারের কোনো কমতি নেই।’
নাগেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বলেন, ‘সামাজিক অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করা উচিত। তাই আমার ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চৌকিদার ও স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে এখানে কাজ করাচ্ছি।’ এ ব্যাপারে কুতুব উদ্দিন বলেন, ‘আপনারা জানেন, আমি একটি বড় ধরনের বিপদ থেকে মুক্ত হয়েছি। আল্লাহ আমাকে সামর্থ্য দিয়েছেন, তাই খরচ করছি।’ অনুষ্ঠানের ব্যয়ের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘বড় ধরনের পারিবারিক অনুষ্ঠান করতে হলে স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি নিতে হয়। এ অনুষ্ঠানটির ক্ষেত্রে তা করা হয়নি। এ ব্যাপারে আমাদের কাছে কেউ কোনো অভিযোগও করেননি।’
বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় কুতুব উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার পর তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ১৬ মাস কারাগারে থাকার পর ২০০৮ সালে হাইকোর্ট মামলার কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেন। ২০০৯ সালে তিনি জামিনে মুক্তি পান। পরে চাকরিতেও বহাল হন।
Post new comment