মিষ্টি পাগল স্বদেশী!

পেটপুরে মিষ্টি খাওয়া হয়না অনেকদিন। কলেজ জীবনে পলটন মোড় হতে নিউমার্কেটগামী বাসটা ধরে ঢাকা কলেজের সামনে নামতেই হাতের ডানে পরত মরণচাঁদ মিষ্টান্ন ভান্ডারটা। প্রিয় জায়গাটায় ঢুঁ মারতে শনি মংগলবারের প্রয়োজন হতনা। সকালের নাস্তাতেও মিষ্টি যোগ করতাম অনেকটা বাধ্য হয়ে। বিদেশে মিষ্টি পাওয়া যায়না এমন একটা তথ্য দিয়ে পাঠকদের বিভ্রান্ত করতে চাইনা, কিন্তূ মাছির ভন ভন সূরে কোলাহলপূর্ণ ময়রার দোকানে বসে মিষ্টি খাওয়ার ভেতর কি যে তৃপ্তি তা কি আর বিদেশের ছিমছাম, সাহেবী কায়দায় মিষ্টি খাওয়ার ভেতর পাওয়া যায়! এ জন্যেই বোধহয় যথেষ্ট খেলেও বিদেশী মিষ্টিতে পেটপুরেনা!
দেশের এই মিষ্টি কালচারটাকে খুব মিস করি। শিশুর জন্ম, সন্তানের পরীক্ষা পাশ, চাকরীতে প্রমোশন, বিয়ের কথাবার্তা; উপলক্ষ ছাড়াও সময় অসময় মিষ্টি আদান-প্রদান আমাদের সমাজে একটি স্বীকৃত কালচার, যার শেকড় টানলে আমাদের হয়ত ফিরে যেতে হবে হাজার বছর আগে। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বদলেছে মিষ্টির প্রয়োজনীয়তা, গ্রহনযোগ্যতা ও এর ব্যবহার। গত কয়েক দশকে মিষ্টির রাজত্ব কতটা প্রসারিত হয়েছে তার একটা উদাহরন পাঠকদের সাথে ভাগাভাগি না করে শান্তি পাচ্ছিনা। দেশে গেছি বেশ ক’বছর পর। ঢাকা হতে নারায়ণগঞ্জ যাচ্ছি ছোট বোনের বাসায় বেড়াতে, হাতে বেশ ক’প্যাকেট বনফুলের মিষ্টি। বাস ফতুল্লার কাছাকাছি আসতেই বুঝতে পারলাম খেলা ফাইনাল! ট্রাফিক আর মানুষের সমুদ্রে সায়লাব যতদূর চোখ যায়! নিশ্চয় ভাংচুরের শিকার হতে যাচ্ছি, এমনটা মনে হতে ডিফেন্সিভ মুডে গিয়ে মনে মনে প্রস্তূতি নিলাম সম্ভাব্য আভিজ্ঞতার। কিন্তূ কিছুই হচ্ছেনা দেখে একটু দমে গেলাম। ব্যাপারটা জানতে বাস হতে বেরুতেই দেখি একদল মানুষ উল্লাস করছে, শ্লোগান দিচ্ছে আর চারদিকে বয়ে যাচ্ছে মিষ্টি বিতরনের বন্যা। কেমন যেন নন-বাংলাদেশী মনে হল পুরো দৃশ্যটা, অন্তত আমার কাছে। আসল ঘটনাটা জেনে একটু আর্শ্চয্য হলাম। আগের রাতে এলাকার দুই ’সন্ত্রাষী’ নিহত হয়েছে র্যাবের ’ক্রসফায়ারে’। স্বস্তির বন্যা বয়ে যাচ্ছে এলাকায়। সন্ত্রাষীদ্বয় যে দোকান হতে নিয়মিত চাঁদা আর বিনা পয়সায় মিষ্টি খেত তাঁরাও আজ আনন্দিত, এ কারণেই খুলে দিয়েছে তাঁদের মিষ্টির ভান্ডার। আমার এই ওয়াচডগী মগজে ব্যাপারটা মেনে নিতে কেমন যেন কষ্ট হল।
মিষ্টি প্রসংগটা হঠাৎ করেই মাথায় আসেনি, আসছি সে প্রসংগে। আজকের একটা দৈনিকে দেখলাম যাত্রাবাড়ি এলাকার বিশেষ রাজনৈতিক দলের অতি বিশেষ একটা অংশ গতকাল দিনভর উল্লাস করেছে, রাস্তায় নৃত্য করেছে এবং সাথে বয়ে গেছে মিষ্টি বিতরনের বন্যা। কারণটা শুনে খুশি হব না দুঃখ পাব বুঝে উঠতে বেশ সময় লেগে গেল। জনৈক ’দৌঁড়‘ সালাউদ্দিন নামের রাজনীতিবিদ্কে বেয়াদবীর কারণে দল হতে বহিস্কার করেছেন উনার পরম পূঁজনীয় নেত্রী। আর যায় কোথা! নির্বাচনী মাঠে স্বদলীয় প্রতিপক্ষের শিবিরে এ ধরনের বহিস্কার বয়ে যায় আনন্দের বন্যা। দৌঁড়াদৌঁড়ি আর নৃত্যের খবর আমাকে সাধারণ আকৃষ্ট করেনা, আমার চোখ ঘুরে বেড়ায় এক মিষ্টিকে কেন্দ্র করেই, অভ্যাস! একই দিনে আরও একটা চমকপ্রদ খবর একটু হলেও আমাকে বিভ্রান্ত করেছে, মুজিব হত্যার পাঁচ আসামীর লাশ ফাঁসিমঞ্চ হতে কবরস্থান পর্যন্ত যাত্রা পথে অনেকেই জুতা ও থু থু ছুঁড়ে নিজদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। খবরটা নিশ্চিত করতে আমার এক ভাইকে দেশে ফোন করতেই পাওয়া গেল মিষ্টি বিষয়ক আরও একটা খবর, আমাদের ছোট জেলা শহরটার ময়রার দোকানগুলোতে গতকাল মিষ্টি বিক্রীর ঝড় বয়ে গেছে। অনেকের কাছে শুনেছি '৭৫ সালে মুজিব হত্যার পরও নাকি শালা ময়রা গুষ্টি চুটিয়ে ব্যবসা করেছিল!
মিষ্টি শিল্পের এতটা বহুমূখী প্রসার ঘট্বে জানা থাকলে এ শিল্পে বিনিয়োগ করেই হয়ত ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে ফেলতে পারতাম! কেন যে কষ্টের জীবন নিয়ে বিদেশে পরে আছি হঠাৎ করে তার সমীকরন মেলাতে কষ্ট হচ্ছে! ফ্রী মিষ্টি, তাও আবার মৃত্যু সেলিব্রেশনের! আই মিস মাই কান্ট্রি!!!!!!
বিদ্রঃ বানান ভুলের জন্যে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
- Tag this post:
- WatchDog's blog
- 846 reads
-
JUST VIEWED
Last viewed:
- Return to Innocence...
- The Bangali Genocide, 1971 The Bangali Holocaust
- এক মাঘে শীত যায়না জনাবা...শীত যায়না!
- How to invest $1,000
- Wazed Miah is dead
- The Concert for Bangladesh: Images
- Great shame for us
- মৃত্যুর আগাম শোক...
- বাংলা ইউনিকোড
- Google Search Result
- ২১শে ফেব্রুয়ারি নিয়ে কিছু প্রাসংগিক ভাবনা
- News Links
- Join Ami Bangladeshi
- ১০ টাকা কেজির চাল চাইনা, আপনি 'কুত্তা' সামলান
- Language of Bangladesh Police
Latest Blogs
- লুটের টাকায় বেশ্যা নাচে...
- আমেরিকার রুক্ষ্ম পশ্চিমের গল্প...
- মৃত্যুর আগাম শোক...
- হাতে রক্ত, আঙ্গিনায় লাশ আর মুখে গণতন্ত্র...পাকিস্তানি ভণ্ডামির আওয়ামী সংস্করণ!
- দ্যা ডে আফটার
- ক্যু আর্কিটেক্টদের মোবারকবাদ
- ছ্যারছ্যার আলীর দিনরাত্রি ও একটি খুনের গল্প
- ডিজিটাল কফিনে দিন বদলের দাফন। তথ্যই কথা বলে...
- Theory of সিম্পল লিভিং এন্ড হাই থিংকিং...
- দেবতা বনাম উর্দিওয়ালা...নতুন পর্ব!
Recent Comments
- মুহূর্তেই ছিন্ন স্নেহের বাঁধন...
1 week 2 days ago - আমিও
3 weeks 3 days ago - about canada immigration
4 weeks 3 days ago - ঘুষ না পেয়ে মুক্তি দেননি বিচারক
4 weeks 5 days ago - কোটি কোটি রুহুল আমিন কী চায়?
4 weeks 5 days ago - হুম!
5 weeks 1 day ago - ধন্যবাদ...
5 weeks 1 day ago - Its really a great invention.
5 weeks 3 days ago - গুপ্ত হত্যার শেষ শিকার..., একটি রম্য রচনা
6 weeks 1 day ago - Not fair!
6 weeks 3 days ago





Comments
৭৫'এর মিষ্টি বনাম ১০'এর মিষ্টি
হুইপ ফিরোজকে নিয়ে বরিশালে তোলপাড়
আকতার ফারুক শাহিন, বরিশাল ব্যুরো
বরিশাল-পটুয়াখালী এবং রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বিলি হওয়া একটি ভিডিও সিডি নিয়ে তোলপাড় চলছে। সিডিতে দেয়া তথ্যচিত্র অনুযায়ী, ’৭৫-র ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর বরিশাল শহরে বের হওয়া প্রথম আনন্দ মিছিলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন জাতীয় সংসদের বর্তমান হুইপ বাউফলের এমপি আসম ফিরোজ। এই মিছিল থেকেই হামলা হয় বরিশালের আওয়ামী লীগ অফিসে। বিভিন্ন সরকারি দফতরে ঢুকে বঙ্গবন্ধুর ছবি নামিয়ে ভাংচুর করে মিছিলকারীরা। হত্যার প্রতিবাদে বের হওয়া মিছিলেও হামলা চালায় তারা। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার প্রেক্ষাপটে আলোচ্য ভিডিওচিত্রে ফিরোজসহ সেসময়কার অন্য বেঈমানদের বিচার দাবি করেছেন স্থানীয় এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতারা। এদিকে পুরো ঘটনাটিকে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন হুইপ আসম ফিরোজ। ছাত্রজীবনের রাজনীতিতে সৃষ্ট বিরোধের জের এবং তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করার জন্য এরকম অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
ভিডিওচিত্রটি কে বা কারা প্রকাশ করেছে তা জানা যায়নি। ভিডিও তথ্যের সত্যতা নিয়ে কোনরকম সংশয় প্রকাশ করেননি স্থানীয় বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা। তথ্যচিত্রটিতে রয়েছে দু’জন সিনিয়র আওয়ামী লীগ নেতার সরাসরি সাক্ষাৎকার। তারা হলেন বঙ্গবন্ধু হত্যার পর বরিশালে প্রতিবাদ মিছিল করার অপরাধে প্রথম কারাবরণকারী তৎকালীন ছাত্রনেতা বর্তমানে কৃষক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি সাবেক বাকসু ভিপি খান আলতাফ হোসেন ভুলু এবং সেই সময়কার আরেক ছাত্রনেতা বর্তমানে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ বরিশাল জেলা শাখার সহ-সভাপতি ডা. পীযূষকান্তি দাস। তারা দু’জনই ক্যামেরার সামনে অকপটে বলেছেন সবকিছু। খান আলতাফ হোসেন ভুলু বলেন, ‘১৫ আগস্ট সকালে হত্যাকাণ্ডের খবর জানার পর একে একে সদর রোডের আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে জড়ো হতে থাকি আমরা। এ সময় সেখানে আসেন বর্তমান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা তরুণ কুমার দেব, আওয়ামী লীগ নেতা মুনছুরুল আলম মন্টু, তৎকালীন ছাত্রনেতা ডা. পীযূষ কান্তি দাস এবং শহিদ খান। অফিসে এসে পাই আরেক আওয়ামী লীগ নেতা কেশবদা’কে। আমরা কয়েকজন মিলে হত্যার প্রতিবাদে মিছিল বের করি। মিছিলটি বিবিরপুকুর এলাকা অতিক্রমকালে বিপরীত দিক থেকে একটি মিছিল নিয়ে আসেন তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা বর্তমানে জাতীয় সংসদের হুইপ আসম ফিরোজ। মিছিলে তিনি ছাড়াও নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন মোশতাক সরকারের পক্ষে থাকা আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল ইসলাম মঞ্জুর ছোট ভাই। মূলত মঞ্জুর বগুড়া রোডস্থ বাসা থেকেই বের হয় ওই মিছিল। এর আগে সেখানে আনন্দ উল্লাস আর মিষ্টি বিতরণ করেন ফিরোজসহ অন্যরা।’ ডা. পীযূষ কান্তি দাস তার সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আসম ফিরোজের নেতৃত্বাধীন মিছিল থেকে ধাওয়া করা হলে আমরা দ্রুত সদর রোড সংলগ্ন একটি গলির ভেতরে ঢুকে পড়ি। এরপর আনন্দ মিছিলকারীরা অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে থাকা আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা চালায়। সেখানে মিছিলকারীরা বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাংচুর ও পদদলিত করে। এরপর একে একে নগরীর বিভিন্ন সরকারি দফতরে ঢুকে বঙ্গবন্ধুর ছবি নামিয়ে ফেলা এবং ভাংচুর করা হয়। বিএম কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ এমদাদুল হক মজুমদারকেও লাঞ্ছিত করে তারা। বঙ্গবন্ধুর প্রিয়ভাজন হওয়াই ছিল তার একমাত্র অপরাধ।’ ভিডিওচিত্রে দু’জনের দেয়া এ সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গে আলাপকালে বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের একাধিক সিনিয়র নেতা যুগান্তরকে বলেন, ‘সেদিনের সেই দৃশ্য বহু মানুষ স্বচক্ষে দেখেছে। কেবল ভাংচুরই নয়, পা দিয়ে মাড়িয়ে ভাংচুর করা হয় জাতির জনকের ছবি। এ ঘটনার প্রতিবাদে ১৯ আগস্ট বিক্ষোভ মিছিল করার সিদ্ধান্ত নেয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ। বিষয়টি টের পেয়ে শুরু হয় দমন অভিযান। ইতিমধ্যে বরখাস্ত করা হয় বরিশালের তৎকালীন এসপিকে। ১৭ আগস্ট সদর রোড থেকে গ্রেফতার হন আলতাফ হোসেন ভুলু। এরপর একে একে গ্রেফতার করা হয় বর্তমান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, বিপ্লবী দেবেন্দ নাথ ঘোষ, অ্যাডভোকেট মানবেন্দ বটব্যাল, হরনাথ বাইন, কাজী মোখলেছুর রহমান, হোসেন চৌধুরী, আকতার উদ্দিন দারোগা, আলেকান্দার নুরু, শ্রমিক নেতা রুস্তম সরদার এবং ছাত্রনেতা সাজুসহ আরও অনেককে। দমন পীড়নের মুখে থমকে যায় প্রতিবাদ।’ ভিডিওচিত্রে সাক্ষাৎকার দেয়া স্বাচিপ নেতা ডা. পীযূষ কান্তি দাস বলেন, সে সময় এদের গ্রেফতার এবং নির্যাতনে সহায়তা করেন তৎকালীন বিএম কলেজের এমএ শেষ বর্ষের ছাত্র বর্তমান হুইপ আসম ফিরোজ। আওয়ামী লীগের নুরুল ইসলাম মঞ্জু গ্র“পের নেতা হিসেবে এসব কাজ করেন তিনি। পরে মোশতাক সরকারের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই হয় মঞ্জুর।’ ক্ষোভের সুরে আলতাফ হোসেন ভুলু যুগান্তরকে বলেন, ‘ক্ষমতার লোভে বঙ্গবন্ধুকে অপমান করা ফিরোজ এখন জাতীয় সংসদের হুইপ। এর আগে পরপর ৪ বার তাকে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এই লজ্জা আমরা রাখব কোথায়? আজ বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে দাবি উঠেছে, এসব বেঈমানেরও বিচার হোক।’
হুইপ ফিরোজের বক্তব্য
পুরো বিষয়টি সম্পর্কে আলাপকালে হুইপ আসম ফিরোজ যুগান্তরকে বলেন, ‘বিএম কলেজে আমার অন্যতম রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আলতাফ হোসেন ভুলু। ছাত্র সংসদ নির্বাচনে আমার কাছে পরাজিত হন তিনি। সে সময় বরিশালের সবকটি কলেজের ছাত্র সংসদে জয়ী হয় আমার সমর্থকরা। এ নিয়ে তখন থেকেই আমার সঙ্গে ভুলু সাহেবের বিরোধ চলছে। আওয়ামী লীগের রাজনীতি প্রশ্নে আমি নুরুল ইসলাম মঞ্জু গ্র“পের সমর্থক ছিলাম। অন্যদিকে আমাদের বিপক্ষে ছিলেন হাসানাত আবদুল্লাহসহ অন্যরা। মঞ্জু গ্র“পের সমর্থক হলেও ১৫ আগস্ট সকালের ওই আনন্দ মিছিলে আমি অংশ নেইনি। কোনরকম আনন্দ উল্লাসও করিনি। দল যখন বিরোধী দলে থাকে তখন আমার বিরুদ্ধে কোন কথা ওঠে না। কিন্তু দল ক্ষমতায় এলেই একটি মাফিয়া চক্রের মদদে ভুলু সাহেবরা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে মেতে ওঠেন। কেননা আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় আমার কিছু পাওয়ার সুযোগ হয়। তাদের মদদ দেয়া মাফিয়া চক্রটি আমাকে সরিয়ে বাউফলের নির্বাচনী আসনে মনোনয়ন পাওয়ার আশাতেই এসব করছে। অথচ যে অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে তোলা হচ্ছে তার বিন্দুমাত্র সত্যতা নেই। ১৯৭৮ সালে ঢাকায় আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে আমি বরিশালের প্রতিনিধিত্ব করেছি। বঙ্গবন্ধুর মাজারে ফুল দিয়েছি। আমার বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগের তদন্ত পর্যন্ত হয়েছে। বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ ছিলেন সেই তদন্ত কমিটির প্রধান। তদন্তে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। দক্ষিণাঞ্চলে একমাত্র আমিই ৫ বার এমপি নির্বাচিত হয়েছি। ’৮৬-তে স্বতন্ত্র হিসেবেও আমাকে নির্বাচিত করে বাউফলের জনগণ। বহুবার লোভ দেখানো এবং মন্ত্রিত্বের আমন্ত্রণ সত্ত্বেও কখনও আওয়ামী লীগ ছেড়ে যাইনি। দলের প্রতি বিশ্বস্ততা ও ভালোবাসা না থাকলে অনেক আগেই পতাকা ওড়ানো গাড়িতে উঠতে পারতাম।’
Post new comment