ইউনুসের খবর নাই! ইউনুসের খবর নাই!!

Submitted by WatchDog on Saturday, October 17, 2026

১৯৬৯ সালের ঘটনা। গন-অভ্যুত্থানের উত্তেজনায় কাঁপছে দেশ। গোটা দেশ অচল হয়ে গেছে মিটিংয়ে মিছিলে। টান টান উত্তেজনা সর্বত্র। শিরোনাম হয়ে প্রতিদিন খবরের কাগজের একটা বড় অংশজুড়ে থাকছে মাওলানা ভাসানীর নাম। তিনিই যেন সেন্টার অব দ্যা গ্রাভিটি।
ঢাকার শান্তিনগর বাজারে ঢুকার একটা গলি আছে ভিআইপি রোড হতে। গলির মুখের বটগাছটার নীচে বসে হকাররা হরেক রকম পণ্য বিক্রি করতো। তালিকায় সংবাদপত্রও ছিল। আন্দোলনের চরম মুহূর্তের একদিন সকালে বের হয়ে ঐ গলিটার কাছে যেতেই শুনলাম অল্প বয়স্ক এক হকার চীৎকার করছে...মাওলানা ভাষানীর খবর নাই...কোন খবর নাই...!
পাশে দাঁড়ানো আমার মত অনেকেই ভাবল হয়ত মাওলানা সাহেবকে গুম করেছে পশ্চিম পাকিস্তানিরা।
ডান-বাম না ভেবে দ্রুত একটা পত্রিকা নিয়ে খুঁজতে শুরু করলাম মাওলানার খবর...প্রথম পাতা, শেষের পাতা, মাঝখানে... তন্ন তন্ন করে খুঁজলাম সবখানে। কিন্তু কোথাও কোন খবর পেলাম না।
পাশে দাঁড়ানো অনেকে একই কাজ করছে। এবং পত্রিকার পাতা উলটে কোথাও ভাষানীর খবর না পেয়ে হতাশ হল। একজন রেগে গিয়ে রীতিমত তেড়ে গেল হকারের দিকে...
...শালা, তুই বললি ভাসানী নিখোঁজ, তার কোন খবর নাই। কিন্তু কোন দৈনিকের কোথায় সে সংবাদ?
হকার উলটো তার গ্রাহকের দিকে আঙ্গুল তুলে বলল...ভাইজান, আমি তো ঠিকই বলছি। আপনিও পড়তে ভুল করেননি। আসলেই তো আজকের পত্রিকায় কোথাও ভাষানীর কোন খবর নাই। আপনি শুনতে ভুল না করেলও বুঝতে ভুল করেছেন...

আজকের অনেকগুলো দৈনিক ঘাঁটলাম। কিন্তু কোথাও ডক্টর মোহম্মদ ইউনুসের কোন খবর দেখলাম না। চকিতে মনেপরে গেলে ১৯৬৯'এর ঘটনাটা। ভাবলাম ইউনুস স্যার কি গুম হয়ে গেলেন!
সোশ্যাল মিডিয়া চোখ রাখতে ভুল ভেঙ্গে গেল! তিনি গুম হননি। চলাফেরায় হুইলচেয়ারও ব্যবহার করেননি। সুস্থ একজন মানুষ হাজির হয়েছেন ওয়াশিংটনস্থ জর্জ টাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের গেস্টন হলে। ওখানে উপস্থিত অনেক মার্কিন হোমরা চোমরা। যার মধ্যে আছেন দেশটার প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রেসিডেন্টশিয়াল পদপ্রার্থী হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটন। দারিদ্র বিমোচন, ক্ষুদ্র ঋণের প্রসার ও নারীর ক্ষমতায়নের উপর দেয়া হিলারি ক্লিনটন এ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করছেন ডক্টর মোহম্মদ ইউনুস। খোদ হিলারি ক্লিনটন বলেছেন বাংলাদেশের গ্রামীণ ব্যাংকের আদলে গড়ে তোলা মার্কিন ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্প গুলোর কথা। স্মৃতিচারণ করেছেন বাংলাদেশ ভ্রমণ করতে গিয়ে দেখা গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রম।
ইউনুস স্যার সাবলীল ভাষায় বলছেন নিজের লম্বা কর্মজীবন নিয়ে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ২৫টি দেশের রাষ্ট্রদূত, উদ্যোক্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সহ প্রায় ৪০০ জন অতিথি।

এ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের ভিডিও দেখতে গিয়ে চকিত মনেপরে গেল জেএফকে বিমানবন্দরে জনৈক আওয়ামী ভ্রাতার ইউনুস স্যারকে করা একটি প্রশ্ন...ইউ টেরোরিস্ট, হোহাই কাম দিস কান্ট্রি?
আশাকরি ভদ্রলোক উত্তর পেয়ে গেছেন নিজ প্রশ্নের।

পাঠকদের আশাকরি মনে আছে জোসেফ বাইডেনের সাথে বাসার ফ্রিজে বিশাল বিশাল পাঙ্গাশ মাছ ফেলে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনা ও তার সার্টিফিকেট জালিয়াতি করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় চাকরি পাওয়া কন্যা সায়মা পুতুলের সেলফির কথা?
সেলফির সেই ছবি বাংলাদেশের এমন কোন পত্রিকা নেই যার প্রথম পাতায় আসেনি। এমনকি সাপ্তাহিক চটি পত্রিকার হেডলাইনেও ছিল এ খবর...হাসিনা ও পুতুলের আমেরিকা জয়!

ডক্টর মোহম্মদ ইউনুস কি স্বদেশী মিডিয়ার ভায়রা ভাই যে তার নাম মুখে আনা হারাম! জর্জ টাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে পুরস্কার নেয়া ইউনুস নিশ্চয় ট্রান্সকম সহ বাকি অনেক মিডিয়ার পুক্কি চুলকানির কারণ যার কারণে এ নিয়ে কোন খবর তারা প্রকাশ করেনি। একই ইউনুসকে যখন বিমান বন্দরে হেনস্তা করা হয় সে-কি খবর! যেন গণভবনের সরোবর হতে সদ্য ধরে আনা তাজা খবর।

https://www.facebook.com/reel/2099758310658439

ভালো লাগলে শেয়ার করুন