পলাতক লীগ বাহিনী...

Submitted by WatchDog on Tuesday, October 13, 2026

নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি এয়ারপোর্টে ডক্টর মোহম্মদ ইউনুসকে হেনস্তা করেছে কতিপয় আওয়ামী লীগার। হেনস্তা না বলে প্রতিবাদ করার চেষ্টা বললে হয়ত শুদ্ধ শোনাবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে আমেরিকায় মত প্রকাশের স্বাধীনতার পরিসর ছিল বিশাল। ইদানিং এ স্বাধীনতা কিছুটা খর্বিত হলেও এয়ারপোর্টে গিয়ে প্রতিবাদ জানানোর স্বাধীনতা এখনো এ দেশের মানুষ চর্চা করতে পারছে (ই*স*রা*য়ে*ল বাদে)। সে বিবেচনায় জেএফকে'তে ডক্টর মোহম্মদ ইউনুসের সাথে যা ঘটে গেল তা নিয়ে বিচলিত হওয়ার মত তেমন কোন কারণ আছে বলে মনে হয়না। স্বাধীন দেশে এসব প্রতিবাদ প্রতিরোধ বৈধ। শেখ হাসিনা যখন প্রধানমন্ত্রী তখন আজকের ক্ষমতাসীন দল বিএনপিও একই কাজ করেছে।

'ডক্টর মোহম্মদ ইউনুস বিশ্ব বাটপার' শব্দগুলো আওয়ামী ঘরণায় এখন বেশ জনপ্রিয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকটা শেয়াল দলের লিডারের কায়দায় কেউ একজন উচ্চারণ করলে পঙ্গপালের মত বাকিরা 'আমিন' বলে নিজেদের সমর্থন ব্যক্ত করে যায়। শুনলে মনে হবে লন্ডন অথবা নিউ ইয়র্ক ফিলারমোনিতে কোন অর্কেস্ট্রা পারফর্ম করছে।

বিশ্ববাটপারের পরের লাইনেই থাকে...দেশটাকে ধ্বংস করে গেছেন...সহ আরও কিছু টিপিক্যাল আওয়ামী বাক্য।
তবে ডক্টর মোহম্মদ ইউনুস ঠিক কার সাথে বাটপারি করে এ তকমা আয় করেছেন তার কোন উদাহরণ থাকেনা অভিযোগে।

স্যারের বয়স ৮০ বছরের উপর, নিশ্চয় এ বয়সে বাটপারি করে পলাতক কোন নেতার স্ত্রীকে বিছানয় নিয়ে যাননি? আর দেশকে ধ্বংস করার সংজ্ঞা যদি হয় গুম, খুন আর লুটপাটের মহারানী খুনি এক স্বৈরাচারের ১৭ বছরের সোনার সংসার তচনচ করে দেয়া এখানেও হতাশ হবেন আওয়ামী পঙ্গপালের দল। ২৪'এর জুলাই আগস্টে কথিত এই বাটপার দেশেই ছিলেন না। দেশকে হাসিনামুক্ত করার পবিত্র কাজটা করেছে মাহফুজ হাসনাত গং। রক্তে প্লাবিত তাদের কৃতিত্ব হরণ করে ইউনুস মাস্টারকে দেয়া হবে অনেকটা ৭১'সালে পাকিস্তানি মেহমানদারি হতে ফেরত আসা শেখ মুজিবকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার একক সৈনিক হিসাবে স্বীকৃতি দেয়া।

আওয়ামী লীগের অনেক কষ্ট তা বুঝতে অসুবিধা হয়না। তারা স্বপ্নেও ভাবেনি কোনদিন কোলকাতার অলিগলিতে বেওয়ারিশ লাশ হয়ে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের অপেক্ষায় থাকতে হবে। এক কালের শান শওকতে চক চক করা আওয়ামী লীগে এখন শাজাহানপুর বস্তির ছায়া। বর্ষীয়ানদের অনেকে পরপারের ডাকে সাড়া দিচ্ছেন। অনেকের স্ফীত পকেট চুপষে যাচ্ছে। এ অবস্থায় আরও ২/৩ বছর পার করা গেলে এই দলকে দাফন করার কেউ থাকবেনা।

ইউনুস স্যারকে এয়ারপোর্টে হেনস্তা করাকে বিশাল বিজয় হিসাবে দেখছে বাকশাল সৈনিকেরা। এ নিয়ে আনন্দ উচ্ছাসের শেষ নেই। নিউ ইয়র্কের বিভিন্ন হোটেলে আহার পানাহারের মাধ্যমে সেলিব্রেট করছে স্মরণকালের এ 'মহান বিজয়'।

ওদিকে এয়ারপোর্ট হতে বেরিয়ে স্যার হয়ত যোগ দিয়েছেন আর্ন্তজাতিক কোন ফোরামের আলোচনা সভায়। হয়ত সভার প্রধান অতিথিও ছিলেন তিনি। একই সভায় বিশ্বব্যাংকের প্রধান, জাতিসংঘের প্রধান সহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট উপস্থিত থেকে থাকলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবেনা।
একই সময় দিল্লীর কোন এক দুর্গে হাজার বছরের সেরা স্বৈরাচার তিলে তিলে ধুকতে থাকবেন...তার উজির নাজিরের দল কোলকাতার নিউ মার্কেট আর সদর রোডের অলিগলিতে উদ্বাস্তূর মত ভাসতে থাকবে... আর আউরাবে একই মন্ত্র... ...বিশ্ববাটপার...বিশ্ববাটপার...দেশকে ধ্বংসকারী...মব রাজ...।
তাতে স্যারের বালটাও ফেলনো যাবেনা।
আর জেএফকেতে হাজির হওয়া আওয়ামী পংগপালের দল ঘরে ফিরে চালিয়ে যাবে তাদের মা'কে বৌ বানিয়ে আমেরিকায় আনার ইমিগ্রেশন বাটপারি, মেডিকেইড বাটপারি, সোশ্যাল সিকিউরিটি বাটপারি...ইন্সুরেন্স বাটপারি...!

ভালো লাগলে শেয়ার করুন