Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

-A A +A

ঋণখেলাপি ও দন্ডিতরা আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না ॥ প্রধান উপদেষ্টা

ঋণখেলাপি ও দন্ডিতরা আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না ॥ প্রধান উপদেষ্টা
June 29, 2008 - 6:20am BDT
Fakruddin, the Chief Advisor

প্রথম আলো: তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদ বলেন, ঋণখেলাপি, আদালতে দোষী সাব্যস্ত, দুর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসীরা আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। সৎ ও যোগ্য লোকদের নির্বাচনে জয়ী করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিত্ব শক্তিশালী হলে জাতীয় পর্যায়েও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।

গতকাল শনিবার সকালে চন্দনাইশ উপজেলার কাসেম মাহবুব উচ্চবিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত গ্রামীণ সংলাপ অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা এ কথা বলেন। এটাই প্রথম গ্রামীণ সংলাপ। দুই ঘণ্টা স্থায়ী এ সংলাপে শিক্ষা ও বাণিজ্য উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আরও তিন উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ, মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম কাদের ও আনোয়ারুল ইকবাল উপস্থিত ছিলেন। "গণতান্ত্রিক উত্তরণে সংলাপ" শীর্ষক এ সংলাপে স্বাগত বক্তব্য দেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. আশরাফ শামীম।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে উপজেলা নির্বাচন হবে। তিনি বলেন, "নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরাও আশা করি, উপজেলা নির্বাচনই প্রথমে হবে।" তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন দেশের চারটি সিটি করপোরেশন ও নয়টি পৌরসভা নির্বাচনের যে তফসিল ঘোষণা করেছে, তাতে জনগণের ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী এসব নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি এ নির্বাচনে ব্যাপকভাবে অংশ নেওয়ার জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকার কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিপক্ষ নয়। এ সরকারের কেউ নির্বাচনে অংশ নেবে না। বর্তমান সরকার একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর চায়।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন কমিশন সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় সারা দেশে আট কোটি ভোটারের নির্ভুল তালিকা প্রণয়ন করেছে। সুশাসন, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি এবং অভিভাবকদের চেষ্টার ফলে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় সারা দেশে শিক্ষার্থীরা ভালো ফল করতে সক্ষম হয়েছে।

বর্তমান সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার কথা স্নরণ করে ড. ফখরুদ্দীন আহমদ বলেন, "দেশে তখন একটি নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি চলছিল। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর নানা প্রতিকুলতা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছি। দেশের আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ও অর্থনীতি চাঙা হয়েছে। সিডর ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ কাটিয়ে এ দেশের মানুষ ঘুরে দাঁড়িয়েছে।"

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনের আগে জরুরি আইন শিথিল হবে, নির্বাচনে প্রচারের জন্য মাইক ব্যবহার থেকে শুরু করে যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা পাবেন প্রার্থীরা। বর্তমান সরকার নির্বাচনের যে উদ্যোগ নিয়েছে তা অব্যাহত থাকবে। ভোটকেন্দ্রে কোনো নৈরাজ্য হবে না। জনগণ নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবে। তিনি বলেন, স্বাধীন নির্বাচন কমিশনারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কোনো উপদেষ্টা কিংবা সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেউ নির্বাচনে অংশ নেবেন না।
স্থানীয় প্রতিনিধিদের মধ্যে বক্তব্য দেন মুক্তিযোদ্ধা জাফর আলী, ব্যবসায়ী উদয় শংকর, পটিয়া সমিতির সভাপতি এনাম বকস, সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. আলমগীর, কৃষক প্রতিনিধি কামরুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান প্রমুখ। সংলাপে বিভিন্ন পেশার ৩১৮ জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

সংলাপে স্থানীয় প্রতিনিধিরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ইউপিসহ সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান। তাঁরা বলেন, সংসদ নির্বাচনের পর স্থানীয় নির্বাচন হলে সৎ ও যোগ্য লোকের পরিবর্তে তা রাজনৈতিক দলের ক্যাডারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। সরকারকে বর্তমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য তাঁরা আহ্বান জানান। সংলাপে চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেললাইনের আধুনিকায়ন এবং এটিকে কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণ, বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান এবং মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ানোর দাবি জানানো হয়।

প্রধান উপদেষ্টা সকালে হেলিকপ্টারে করে চন্দনাইশের দক্ষিণ হাশিমপুরে অবতরণ করেন। এরপর সড়কপথে সংলাপস্থলে উপস্থিত হন।

Post new comment

CAPTCHA
Required to prevent spam.
Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla