A Bangladeshi girl in the White House....a reality?
বাংলাদেশের কালো মেয়েটি কি হোয়াইট হাউজে ঢুকতে পারবে মোজাম্মেল হোসেন মিন্টু বৈচিত্র্যময় বর্ণাঢ্য ঘটনাবহুল জীবনের অধিকারী রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জন সিডনী ম্যাককেইন থাও ১৯৩৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার সম্পর্কে বিসত্দারিত কিছু জানার আগে বাংলাদেশ থেকে নেয়া তার দত্তক কন্যা ব্রিজেট সম্পর্কে আমরা কিছু কথা জেনে নেই।
আমেরিকার সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট জন ম্যাককেইনের নামের সাথে বাংলাদেশের কালো মেয়েটির ভাগ্যও জড়িত। ব্রিজেটির নামের সাথে এখন বাংলাদেশের নামটিও উচ্চারিত হচ্ছে শুধু আমেরিকায় নয়, সারা বিশ্বজুড়ে। ব্রিজেট নিজেও এখন বাংলাদেশ সম্পর্কে নিশ্চয়ই উৎসাহিত হয়ে উঠেছে। কারণ সে জানে এটাই তার আসল পরিচয় নয়। তার শিকড়ের সন্ধান করতে গেলে বাংলাদেশের নামটি অবশ্যই চলে আসবে। কারণ তার আসল বাবা-মা বাংলাদেশেরই মানুষ। সাদা ম্যাককেইনের পরিবারের মাঝে কালো মেয়েটির গায়ের রঙই সর্বপ্রথম তার মনে প্রশ্ন তুলেছে তার আসল পরিচয় কি? একটু বোঝার বয়স হওয়ার পর নানা অপ্রিয় কথা তার কানে এসেছে। একটি সাদা চামড়ার প্রভাবশালী পরিবারে একটি কালো সনত্দান আমেরিকার কট্টর বর্ণবাদীদের কাছে নিশ্চয়ই পছন্দের নয়। ম্যাককেইন দম্পতি পরিবারের ভেতরে বাইরে দত্তক নেয়া এই কালো মেয়েটির জন্য নিন্দিত, সমালোচিত হয়েছেন। আবার শ্বেতাঙ্গদের মাঝেও অনেক উদার, মুক্ত মনের মানুষের কাছে প্রশংসিতও হয়েছেন এমন একটি অসহায় অসুস্থ পরিত্যক্ত শিশুকে নিজের সনত্দানের ন্যায় মানুষ করার জন্য। জন ম্যাককেইন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার পর বাংলাদেশসহ ব্রিজেটের নানা ছবি ও নানা তথ্য সংগ্রহের জন্য আনত্দর্জাতিক মিডিয়া মাধ্যমগুলোও উৎসাহিত হয়ে উঠেছে। জন ম্যাককেইন প্রথম বিয়ে করেন পেনসেলভেনিয়ার মডেল কন্যা ক্যারল শেপকে। ক্যারলের আগের পৰের দুই সনত্দানকে ম্যাককেইন নিজের করে নেন। পরে তাদের একটি কন্যা সনত্দান জন্ম নেয়। নাম সিডনী। জন ম্যাককেইন যখন ভিয়েতনাম যুদ্ধে আহত হয়ে কারাবন্দী, সেই সময় ১৯৬৯ সালের ডিসেম্বর মাসে ক্যারল এক গাড়ী এ্যাকসিডেন্টে প্রায় পঙ্গু হয়ে পড়েন। তাছাড়া ভিয়েতনাম যুদ্ধে ম্যাককেইন প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর আটক থাকার ফলে স্ত্রী ক্যারলের সাথে তার সম্পর্কের কিছুটা অবনতিও ঘটে। যদিও ম্যাককেইন ১৯৭৩ সালে ভিয়েতনাম যুদ্ধ থেকে ফেরার পর স্ত্রী ক্যারল ও সনত্দানদের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক গড়ে উঠে। যুদ্ধ বন্দী ম্যাককেইন ভিয়েতনাম থেকে দেশে ফিরে রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে পড়েন। ১৯৭৯ সালে ফিনিস্ক-এর সিনডি লো হেনসলি নামে এক টিচারের সাথে জন ম্যাককেইন পরিচিত হন এবং তাদের মধ্যে বিয়ে বহিভর্ূত মধুর সম্পর্ক গড়ে উঠে। সিনডি শিৰক হলেও বিশাল ভূ-সম্পত্তির মালিক। তিনি হেনসলি এন্ড কোম্পানির একমাত্র উত্তরাধিকার।
জন ম্যাককেইন স্ত্রী ক্যারল সেপকে ডিভোর্স দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। দু'জনের মধ্যে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে ১৯৮০ সালের এপ্রিল মাসে জন ম্যাককেইন ও ক্যারলের মাঝে বিচ্ছেদ কার্যকর হয়। বিষয় সম্পত্তিসহ দুজনেই ভবিষ্যতে সুসম্পর্ক রাখার অঙ্গীকার করেন। ১৯৮০ সালের ১৭ই মে ম্যাককেইন হেনসলীকে বিয়ে করেন। এর পর-পরই ১৯৮১ সালে ম্যাককেইন নেভী ত্যাগ করেন। নেভীতে ম্যাককেইনের পিতা ও পিতামহ দুজনই উচ্চপদে আসীন ছিলেন। জন ম্যাককেইনেরও নেভী ত্যাগ করার সময় তার রিয়ার এডমিরাল হওয়ার প্রস্তাব ছিল। সে সম্ভাবনাকে উপেৰা করে ম্যাককেইন রাজনীতিতে উৎসাহী হন এবং কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যেয়ে বলেন। ...সালে ম্যাককেইন ও স্ত্রী সিডনীর প্রথম কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। নাম রাখেন মেঘান। পরে তাদের দুটি পুত্র সন্তানও জন্ম নেয়। ১৯৯১ সালে ম্যাককেইনের স্ত্রী সিডনী বাংলাদেশ সফরে আসেন। সেই সময় তেজগাঁওয়ের তেজকুনী পাড়ায় মাদার তেরেসা পরিচালিত একটি এতিমখানা সিডনী পরিদর্শনে আসেন। এতিম খানা পরিদর্শনের সময় দুটি মুমূর্ষ শিশুকে দেখতে পান। সঙ্গের চিকিৎসকরা সিডনীকে অবহিত করেন শিশু দুটির অবনতিশীল শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে। একটি শিশুর আবার হার্টের সমস্যা। সিডনী দুটি শিশুকেই আমেরিকা নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন। শিশু দুটোর মধ্যে একজনকে ম্যাককেইন দম্পতি দত্তক নেয়ার সিদ্ধানত্দ নেন। অন্য শিশুটিকে তাদেরই এক বন্ধুকে দেওয়া হয়। ম্যাককেইন দম্পতি নেয়া দত্তক শিশুটির নাম রাখা হয় ব্রিজেট। প্রয়াত মাদার তেরেসা পরিচালিত মিশনারীজ অব চ্যারিটি নামের এতিমখানা থেকে আনা এতিম, অনাথ শিশুটি আমেরিকার ধনাঢ্য প্রভাবশালী পরিবারে লালিত-পালিত হয়ে আজ বড় হয়েছে। সে এখন আরিজোনার প্রাইভেট হাইস্কুলের ছাত্রী। পড়াশুনা ছাড়াও বাস্কেটবল, ভলিবল খেলে তার অবসর সময় কাটে। সম্প্রতি ড্যাডম্যাগ নামে একটি পত্রিকাকে সাৰাৎকার দেয়ার সময়, ব্রিজেটের ড্যাড জন ম্যাককেইন বলেন, ব্রিজেটের উপস্থিতি আমাদের পরিবারকে সমৃদ্ধ করেছে। আমি তাকে কন্যা হিসেবে পেয়ে অত্যনত্দ খুশী। সে চমৎকার একটি মেয়ে। সে এখন আমার পরিবারের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আপনার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা তাকে কি ভাবে দেখে? সাংবাদিকের এ প্রশ্নের উত্তরে ম্যাককেইন বলেন, সবার কাছেই সে অত্যনত্দ প্রিয়। পিতা-মাতার কাছে সব সনত্দানই সমান আদরের হয়। তবে ছোট সনত্দানটিই সবচেয়ে বেশি আদরের হয়। ব্রিজেট আমাদের সবারই অত্যনত্দ আদরের কিন্তু দুঃখ হয় যখন এই আদরের সনত্দানটির রং কালো বলে মিডিয়া ও বিভিন্ন মহলে নানা অপপ্রচার হয়। রিপাবলিকান পার্টির প্রেসিডেন্ট হিসেবে মনোনয়ন পাবার পর সাউথ ক্যারোলিনায় প্রচারাভিযানের সময় কালো ব্রিজেটকে নিয়ে নানা অপ্রিয় প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি এসব নোংরামি থেকে আমার কন্যাটির মন মানসিকতা যেন কোনক্রমেই কালিমালিপ্ত বা বিষাধাচ্ছন্ন না হয়। বিভিন্ন সাৰাৎকারের মাধ্যমে এটা আজ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে বাংলাদেশের কালো মেয়েটি পরিবারের সবার মন জয় করেছে। বিশেষত: মা সিডনীর অত্যনত্দ প্রিয় সনত্দান ব্রিজেট। ১৪৬ বছর আগে প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন ঐতিহাসিক ঘোষণার মাধ্যমে দাসত্ব ও বর্ণবাদের বিলোপ ঘোষিত হলেও বর্ণবাদের কালো থাবা থেকে আমেরিকা এখনও পুরোপুরি মুক্ত হতে পারেনি। মাঝে মাঝেই মুখোশ পরিহিত সমাজের কদর্য রূপ বেরিয়ে পড়ে। ডেমোক্রেটিজ পার্টির বারাক ওবামাও এই কট্টর বর্ণবাদীদের আক্রোশের স্বীকার। ওবামাকেও কালো ও আফ্রিকান বংশোদ্ভূত মুসলমান পিতার সনত্দান হওয়ার সুবাদে বিরূপ সমালোচনার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। রিপাবলিকান পার্টির প্রেসিডেন্ট পদপ্রাথর্ী জন ম্যাককেইন ও ডেমোক্রেটিক পার্টির বারাক ওবামার ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নিয়ে আলোচনা করা হলে হয়তোবা একটু অনুমান করা যেতে পারে, কার জন্য কতখানি হোয়াইট হাউজের দরজা উন্মুক্ত?
আমেরিকার গৌরবময় ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সাথে একটু অনুজ্জ্বল ভিয়েতনাম যুদ্ধ জড়িত। এই ভিয়েতনাম যুদ্ধের সাথে জন ম্যাককেইনের জীবনের একটি গুরম্নত্বপূর্ণ অংশ জড়িয়ে আছে। দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছর ভিয়েতনামে উনি যুদ্ধবন্দী ছিলেন। লেফটেন্যান্ট কমান্ডার থাকাকালীন ১৯৬৭ সালে যুদ্ধ বিমানে আগুন লেগে উনি প্রায় মারা যাবার উপক্রম হয়েছিল। জ্বলনত্দ বার্নিং জেটে ম্যাককেইন আরেকজন পাইলটকে সাহায্য করার সময় বোমা বিস্ফোরিত হয়। ম্যাককেইনের পায়ে ও বুকে বোমার স্পস্নীন্টারের আঘাতে উনি ভীষণ আহত হন। ১৯৬৮ সালের মধ্যভাগে ম্যাককেইনের পিতাকে ভিয়েতনামে আমেরিকান বাহিনীর সর্বাধিনায়ক বা কমান্ডার হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নর্থ ভিয়েতনামিজরা প্রোপাগাণ্ডার ও যুদ্ধবন্দী প্রত্যার্পণের চুক্তিতে ম্যাককেইনের অগ্রিম মুক্তির প্রসত্দাব দেয়। কিন্তু জন সে প্রসত্দাব প্রত্যাখ্যান করে বলেন, তিনি একা নন সবাইকে একসঙ্গে মুক্তি দিলেই তিনি প্রসত্দাব গ্রহণ করবেন। প্রসত্দাব প্রত্যাখ্যানের ফলে ম্যাককেইনের উপর অত্যাচারের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। অত্যাচারের মাত্রা বাড়িয়ে তাকে আমেরিকাবিরোধী স্বীকারোক্তিমূলক প্রচারণায় বাধ্য করে। যদিও ম্যাককেইন বুঝতে পারেন, এই কনফেসন আমেরিকার জন্য অপমানজনক। পরে উনি লিখেন, আমি এটা শিখেছি, প্রত্যেক মানুষের সহ্যের সীমা থাকে। আমার সহ্যের ৰমতা অতিক্রম করে ফেলেছিলাম। ভিয়েতনাম যুদ্ধে আমেরিকার ভূমিকা অনুজ্জ্বল হলেও ১৯৭৩ সালে বন্দীদশা থেকে মুক্ত হয়ে জন ম্যাককেইন নিজের মুখ উজ্জ্বল করেই দেশে ফিরেন। শেষে উনি অনেকটা সেলেব্রিটির মর্যাদাই পান। ম্যাককেইন নেভী ছেড়ে রাজনীতিতে যোগ দেন। কংগ্রেস ও সিনেটে একে একে সাফল্যের সিঁড়ি অতিক্রম করেন। ইরাক যুদ্ধে তার ভূমিকা অত্যনত্দ স্পষ্ট। আসলে বৈদেশিক ব্যাপারে রিপাবলিকান পার্টি বরাবরই একটু বেশি আগ্রহী ও আগ্রাসী। প্রবীণ, অভিজ্ঞ ম্যাককেইন তার পূর্বসূরীদের পথ ধরেই চলতে চান। ডেমোক্রেটিক পার্টির তরম্নণ ওবামা কিন্তু পুরাতনের নীতি-নিদের্শনা ভেঙ্গে পরিবর্তনের পৰে। ওবামা তরম্নণ ও পরিবর্তনের পৰের শক্তিকে সাথে নিয়ে আমেরিকান বর্তমান নীতির কিছু সংস্কার ও চেঞ্জ আনতে চান। জন ম্যাককেইনের পৰের প্রধান শক্তি হচ্ছে আমেরিকার রৰণশীল, ধনী, বয়স্ক, সাদা সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী। ওবামার শক্তি আমেরিকার উদার-মুক্ত মনের মানুষ, তরম্নণ যুবসমাজ ও কালো সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী। জনপ্রিয়তা বা ভোটের পালস্না দু'দিকেই সমান সমান হলেও দেশের অভ্যনত্দরীণ ব্যাপারে জন ম্যাককেইনের কিছুটা দুর্বলতা থাকলেও পররাষ্ট্র নীতিতে তার বিশাল অভিজ্ঞতা বা কুশলতার সামনে অনভিজ্ঞ ওবামা কতখানি কুশলী হতে পারবেন সেটাই দেখার বিষয়।
- Forums:
JUST VIEWED
Last viewed:
- Help us to catch him....
- She is Flying....a State Thief...
- Independence...my independence
- বিএমএ নেতা ডা. জাহিদের ১৩ ও স্ত্রীর ৩ বছর জেল
- দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া
- বস্তা পঁচা খবর
- সীমান্তের এপার ওপার (পত্মীতলার ডায়েরী) - পর্ব ৩
- Politics heats up ahead of Bangladesh anniversary
- News Links
- Funny
- বিচারপতি হাবিবুর রহামানের কবিতা
- MUA and FUA’s surgical precision
- Thanks guys...
- Scientists Think Big Object Whacked Mars
- Message from Hillary Clinton
Latest Blogs
- আমেরিকার রুক্ষ্ম পশ্চিমের গল্প...
- মৃত্যুর আগাম শোক...
- হাতে রক্ত, আঙ্গিনায় লাশ আর মুখে গণতন্ত্র...পাকিস্তানি ভণ্ডামির আওয়ামী সংস্করণ!
- দ্যা ডে আফটার
- ক্যু আর্কিটেক্টদের মোবারকবাদ
- ছ্যারছ্যার আলীর দিনরাত্রি ও একটি খুনের গল্প
- ডিজিটাল কফিনে দিন বদলের দাফন। তথ্যই কথা বলে...
- Theory of সিম্পল লিভিং এন্ড হাই থিংকিং...
- দেবতা বনাম উর্দিওয়ালা...নতুন পর্ব!
- একজন বিচারক ও এক রাতে ১ কোটি আয়ের কেচ্ছা!
Recent Comments
- মুহূর্তেই ছিন্ন স্নেহের বাঁধন...
3 days 13 hours ago - আমিও
2 weeks 4 days ago - about canada immigration
3 weeks 4 days ago - ঘুষ না পেয়ে মুক্তি দেননি বিচারক
3 weeks 6 days ago - কোটি কোটি রুহুল আমিন কী চায়?
3 weeks 6 days ago - হুম!
4 weeks 2 days ago - ধন্যবাদ...
4 weeks 2 days ago - Its really a great invention.
4 weeks 4 days ago - গুপ্ত হত্যার শেষ শিকার..., একটি রম্য রচনা
5 weeks 3 days ago - Not fair!
5 weeks 4 days ago





Post new comment