Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

A valid question raised...

সাজাপ্রাপ্তরা দুই দলেই বহাল

June 22, 2008 - 12:46pm BDT

সাজাপ্রাপ্ত কেউ আওয়ামী লীগের সদস্যও থাকতে পারেন না

প্রথম আলো: আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রের অঙ্গীকারনামা অংশের নয় নম্বর ধারায় সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের কথা বলা হয়েছে। একইভাবে দলের ঘোষণাপত্রের নীতি ও কর্মসুচি অংশের ১০ নম্বর ধারায় বলা আছে, ‘ক্ষমতার অপব্যবহার, অবৈধ পন্থায় সম্পদ গড়ে তোলা, রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎ করাসহ দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির দায়ে আদালতে অভিযুক্তদের বিচারকাজ ত্বরান্বিত করা এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি বিধানে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্রের উপরিউক্ত নির্দেশনা সম্পর্কে দলের বেশ কয়েকজন নীতিনির্ধারক মন্তব্য করেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্রে এ রকম সুস্পষ্ট অবস্থান থাকায় দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত কেউ দলের কোনো পদে থাকতে পারেন না। গঠনতান্ত্রিকভাবেই দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

গত বছরের ৯ অক্টোবর সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য মোহাম্মদ নাসিম অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের দায়ে ১৩ বছরের কারাদন্ডে দন্ডিত হন। এর পরও দলীয় পদে বহাল আছেন মোহাম্মদ নাসিম। দল থেকে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শুধু তিনিই নন, বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয়সহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় দেড় ডজন নেতা দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন। দুর্নীতি ও কর ফাঁকিসহ নানা অভিযোগে তাঁরা সাজা পেয়েছেন। তবে দলীয়ভাবে তাঁদের কারও বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো উদ্যোগ নেই।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নীতিনির্ধারকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে তাঁরা বলেন, সাজাপ্রাপ্ত নেতারা দুর্নীতির দায়ে শাস্তি পাওয়ায় তাঁদের নৈতিক স্থলন ঘটেছে। নৈতিকভাবেই তাঁরা আর দলে থাকতে পারেন না। তবে বর্তমান সময়ে এঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব না হলেও নির্বাচনের আগে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এমনকি সাজাপ্রাপ্ত নেতাদের দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনাও নেই বলে তাঁরা জানিয়েছেন।

প্রথম আলোর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ−টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্রে দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান থাকা সত্বেও শুধু টাকার জন্য এ ধরনের লোকদের অতীতে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। সুতরাং তারা দলের গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্রে থাকা বক্তব্য মানবে না, এটাই স্বাভাবিক। তিনি বলেন, অনেক ডানপন্থী-বামপন্থী দলেও এরকম সমস্যা আছে। রাজনৈতিক দলের অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা না আসা পর্যন্ত দুর্নীতিবাজ লোকদের বিরুদ্ধে তারা কোনো ব্যবস্থা নেবে বলে মনে হয় না।

আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রের ২৪(ছ) উপধারায় বলা আছে, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের যেকোনো সদস্য বিনা কারণে বা সন্তোষজনক কারণ ব্যতিরেকে পর পর তিনটি সাধারণ সভায় অনুপস্িথত থাকলে তাঁর নাম কার্যনির্বাহী সংসদের তালিকা থেকে খারিজ করা হবে এবং নিয়মানুযায়ী শুন্যপদ পূরণ করা হবে।’

দলীয় নেতাদের মতে, সাজাপ্রাপ্ত নেতারা দুর্নীতির দায়ে শাস্তি পাওয়ায় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে তাঁদের অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি সন্তোষজনক কারণ হতে পারে না। কারণ তাঁরা কেউ রাজনৈতিক কারণে শাস্তি পাননি। দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে তাঁদের নৈতিক স্থলন ঘটেছে।

রাজধানীতে ঘরোয়া রাজনীতি চালু হওয়ার পর আওয়ামী লীগের কম করে হলেও ২০টি কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠকে অনুপস্থিত থাকায় সাজাপ্রাপ্ত নেতাদের কারোর দলীয় পদ থাকার কথা নয়।

অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে সাজা: অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে আদালত আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে ১০ বছর কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন। বিচারক তাঁর রায়ে অবৈধ উপায়ে অর্জিত ড. মহীউদ্দীনের তিন কোটি ৩০ লাখ ৫৬ হাজার ৬০৭ টাকা মূল্যের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করারও নির্দেশ দেন। আয়বহির্ভুত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াকে ১৩ বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি বর্তমানে ভারতে পলাতক।

সাবেক চিফ হুইপ, বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসানাত আবদুল্লাহকে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপন করার দায়ে ১৩ বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। তিনিও ভারতে পালিয়ে আছেন বলে জানা যায়। কর ফাঁকি দেওয়ার অপরাধে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহকে আরও নয় বছরের সশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়।

অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য দেওয়ার দায়ে দলের কেন্দ্রীয় সদস্য, সাবেক হুইপ এস এম মোস্তফা রশিদী সুজার ১৩ বছরের কারাদন্ড হয়েছে। এ সম্পদ অর্জনে সুজাকে সহযোগিতা করার অপরাধে তাঁর স্ত্রী খোদেজা রশিদীকেও তিন বছর বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি স্ত্রীসহ পলাতক। অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ হেলাল উদ্দিনকে ১৩ বছর কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতিতে সহযোগিতা করার দায়ে তাঁর স্ত্রী রূপা চৌধুরীরও তিন বছরের কারাদন্ড হয়েছে। তিনিও স্ত্রীসহ পালিয়ে আছেন। এ ছাড়া চাঁদাবাজির একটি মামলায়ও সাত বছরের কারাদন্ড হয়েছে শেখ হেলালের।

সম্পদের তথ্য গোপন ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ পলাতক মকবুল হোসেন, হাজী সেলিম ও ডা. এইচ বি এম ইকবালের ১৩ বছর করে কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। অবৈধ সম্পদ অর্জনে সহযোগিতা করার দায়ে তাঁদের স্ত্রীদের তিন বছর করে কারাদন্ড হয়েছে।

আয়কর ফাঁকি ও সম্পদের তথ্য গোপনের দায়ে সাজা: আয়কর ফাঁকি এবং সম্পদের তথ্য গোপন করার অপরাধে সাবেক সাংসদ ও নারায়ণগঞ্জের গডফাদার এ কে এম শামীম ওসমানকে আট বছরের সশ্রম কারাদন্ড, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথকে ১৩ বছর এবং তাঁর স্ত্রীকে ছয় বছর কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। তা ছাড়া সাবেক সাংসদ রফিকুল আনোয়ারের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ১০ বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।

দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে পরিচিত ব্যক্তি বিএনপির সদস্যপদে অযোগ্য বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭(ঙ) ধারায় বলা হয়েছে, ‘সমাজে দুর্নীতিপরায়ণ বা কুখ্যাত বলে পরিচিত ব্যক্তি বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল, জাতীয় নির্বাহী কমিটি, জাতীয় স্থায়ী কমিটি বা যেকোনো পর্যায়ের নির্বাহী কমিটির সদস্যপদের কিংবা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী পদের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।’

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে গত ৪ এপ্রিল সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদাকে ১২ বছরের সাজা দিয়েছেন আদালত। সাজা হওয়ার পরও দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহসভাপতি পদে বহাল আছেন নাজমুল হুদা। দল তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। অথচ বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাঁর দলীয় সদস্যপদ থাকার কথা নয়।

শুধু নাজমুল হুদাই নন, এ রকম অন্তত দুই ডজনের বেশি নেতা আছেন যাঁরা দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, কর ফাঁকি, অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য দখলে রাখা, জঙ্গিবাদে মদদ দেওয়াসহ সুস্পষ্ট মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়েও দলীয় পদে বহাল আছেন। বিএনপি তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দুরে থাক, উল্টো এখন দলের মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন আটক সব নেতারই মুক্তি দাবি করছেন।

এ ব্যাপারে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘যাঁরা দুর্নীতিগ্রস্ত বা রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট করেছেন, তাঁদের দায়িত্ব দল কোনোভাবেই নেবে না। কিন্তু সর্বোচ্চ আদালতে তো অনেকে নির্দোষ প্রমাণিত হতেও পারেন। তাই সবাইকে সর্বোচ্চ আদালতে যাওয়া পর্যন্ত সুযোগ দেওয়া উচিত। এরপর দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিশিষ্ট আইনবিদ ড. এম জহির প্রথম আলোকে বলেন, দলের যে লোক দুর্নীতির দায়ে শাস্তিপ্রাপ্ত হন, তার কোনো পদে থাকা উচিত নয়। নিজে থেকেই পদত্যাগ করা উচিত। অথবা দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অনেক নেতার বিরুদ্ধে মামলা হয়। অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়। আবার অনেকে পলাতক। তাঁদের অনুপস্িথতিতে বিচারকাজ সম্পন্ন হয়।

এর মধ্যে রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর সহযোগী ১৭০ জনের দুই মামলায়, সাবেক মন্ত্রী আমিনুল হকের সহযোগী ২৩ জন, রাজশাহীর মেয়র মিনুর সহযোগী ১০ জন ও চট্টগ্রাম বিএনপির নেতা দস্তগীর চৌধুরীর সহযোগীরাও সাজা পেয়েছেন। আলোচিত রাজনীতিবিদদের স্ত্রীরাও রয়েছেন সাজাপ্রাপ্তদের তালিকায়।

সম্পত্তির হিসাব না দেওয়ায় শাস্তি: সম্পত্তির হিসাব না দেওয়ায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব পলাতক হারিছ চৌধুরীর তিন বছরের কারাদন্ড হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার ও ড্যাবের নেতা ডা. ফিরোজ মাহমুদ ইকবালকেও একই অভিযোগে তিন বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয়। অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের দায়ে গত ১৩ মে তাঁর ১০ বছরের কারাদন্ড হয়েছে।

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের জন্য সাজা: এ-সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলায় আমানউল্লাহ আমান, মীর মো. নাছিরউদ্দিন, টিঅ্যান্ডটির সিবিএর সভাপতি ও শ্রমিক দলের সহসাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মিয়া, সোনালী ব্যাংক সিবিএর নেতা ও শ্রমিক দলের যুগ্ম সম্পাদক বি এম বাকির, বিএনপির সাবেক সাংসদ আলী আসগার লবী, ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে ১৩ বছর করে কারাদন্ড দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে আমান বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, মীর নাছির দলের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক, লবী জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি।

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগে খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ ভুঁইয়াকে ২০ বছর, সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নয় বছর, জামালপুর জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সাংসদ রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে আট বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয়।

গত ১৪ মে সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমরকে ১৩ বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয়। তিনি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। এ ছাড়া গত ১৫ মে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। তাঁর বিরুদ্ধে নয় কোটি ৬৬ লাখ ৫৪ হাজার টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভুতভাবে অর্জনের অভিযোগ আছে।

কর ফাঁকি: কর ফাঁকির অপরাধে সাবেক পূর্তমন্ত্রী মির্জা আব্বাস, সাবেক সাংসদ আলী আসগার লবী, সাবেক পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী শাজাহান সিরাজ, মির্জা আব্বাসের ছোট ভাই ওয়ার্ড কমিশনার মির্জা খোকন, চলচ্চিত্র অভিনেতা ও বিএনপির ওয়ার্ড কমিশনার মনোয়ার হোসেন ডিপজল, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জিয়াউল হক জিয়া, খালেদা জিয়ার ভাগ্নে শাহরিন ইসলাম তুহিনকে ভিন্ন মামলায় আট বছর করে কারাদন্ড দেওয়া হয়।

এ ছাড়া কর ফাঁকির অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী শাজাহান সিরাজের স্ত্রী রাবেয়া হায়দারকে আলাদা চারটি মামলায় ৩২ বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয়। তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য।

চাঁদাবাজি: চাঁদাবাজির অভিযোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি আদালত সাবেক সাংসদ ও জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক শাহজাহান মিয়াসহ তিনজনকে পাঁচ বছর করে, রামগড় পৌরসভার চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন ভুঁইয়াসহ (ওয়াদুদ ভুঁইয়ার ভাই) পাঁচজনকে পাঁচ বছর করে, সাবেক সাংসদ নাদিম মোস্তফাকে ১০ বছর, রাজশাহীর মেয়র মিজানুর রহমান মিনুসহ ১১ জনকে ১৩ বছর, ঢাকার ওয়ার্ড কমিশনার চৌধুরী আলমকে ১০ বছর, আরেক মামলায় চৌধুরী আলম ও তাঁর স্ত্রী হাসিনা চৌধুরীকে ১০ বছর করে, সিলেটের একটি আদালত সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের ছেলে নাছের রহমানকে নয় বছর, বরগুনার একটি আদালত সাবেক সাংসদ বিএনপির নেতা মতিয়ার রহমান তালুকদারকে ১৭ বছর কারাদন্ড দেন।

অস্ত্র: অবৈধ অস্ত্র দখলে রাখার দায়ে সাবেক সাংসদ শহিদুল আলম তালুকদারকে ১০ বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয়। একই অভিযোগে আট বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে যুবদলের সহসভাপতি সাবেক সাংসদ আবুল হোসেন খানকে।

বিএনপির ওয়ার্ড কমিশনার মনোয়ার হোসেন ডিপজল, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, যুবদলের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক নবী সোলায়মানকে ১৭ বছর করে কারাদন্ড দেওয়া হয়।

অন্যান্য: প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে নাদিম মোস্তফাকে পাঁচ বছরের কারাদন্ড দেন রাজশাহীর একটি আদালত।

সাবেক উপমন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ও তাঁর ভাই আতিকুর রহমান তালুকদারকে বাড়ি পোড়ানোর একটি মামলায় আট বছর করে এবং আরও ৮৭ জনের প্রত্যেককে সাত বছর করে কারাদন্ড দেওয়া হয়। জঙ্গিবাদে মদদ দেওয়ার অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী আমিনুল হক এবং রাজশাহী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শীষ মোহাম্মদসহ ২৫ জনের প্রত্যেককে ৩১ বছর ছয় মাস করে কারাদন্ড দেন রাজশাহীর একটি আদালত।

নাটোরের আদালত বাড়ি পোড়ানোর মামলায় সাবেক উপমন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুকে ১২ বছরের কারাদন্ড দেন।

হারিছ চৌধুরীকে অবৈধভাবে বিদেশি মুদ্রা রাখার অপরাধে তিন বছর ও গাড়িসংক্রান্ত দুর্নীতির মামলায় ৫৯ বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয়। ত্রাণের টিন আত্মসাতের দায়ে সাবেক সাংসদ মোসাদ্দেক আলী ফালুর পাঁচ বছর ও নুরুল ইসলাম মনিসহ চারজনের ১৪ বছর করে কারাদন্ড হয়েছে। মনি বরগুনা জেলা বিএনপির সভাপতি। নিজ বাসায় অবৈধ ওয়্যারলেস টাওয়ার স্থাপনের দায়ে সাবেক সাংসদ ও বিএনপির নেতা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালুকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদন্ড দেন বগুড়ার একটি আদালত। এক কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার দায়ে সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সাত বছরের সশ্রম কারাদন্ড হয়। সালাহউদ্দিনকে সম্প্রতি আরেকটি মামলায় ১৩ বছরের কারাদন্ড হয়েছে। তিনি কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি।

গত ৩০ মে চাঁদাবাজির মামলায় সাত বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে খুলনার মেয়র ও বিএনপির কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক তৈয়েবুর রহমানকে। গত ২৬ মে বিএনপির অঙ্গসংগঠন ড্যাবের সাধারণ সম্পাদক ডা. জাহিদকে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের দায়ে ১৩ বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয়।

কিন্তু সাজাপ্রাপ্ত এসব নেতার বিরুদ্ধে বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হচ্ছে না। এ ব্যাপারে দলের একজন সাবেক সাংসদ বলেন, দলের মহাসচিব সব নেতার মুক্তি দাবি করছেন−এটা দুঃখজনক। তিনি বলেন, দুর্নীতির দায়ে যাঁরা সাজা পাচ্ছেন, দল কেন তাঁদের নৈতিক স্থলনের দায়িত্ব নেবে। প্রয়োজনে তদন্ত করে দোষীদের গঠনতন্ত্র মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তা হলে জনসমক্ষে বিএনপি সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হবে। না হলে ঢালাও সবার মুক্তি চাইলে মনে হবে, বিএনপি আবার দুর্নীতিবাজদের প্রশ্রয় দিতে আগ্রহী।

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla