Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

-A A +A

আলু, ড. ইউনূস এবং বাংলাদেশের এনজিও - নাঈমুল ইসলাম খান

বাংলাদেশে এনজিওরা সৃজনশীল কাজ জন্য এবং দারিদ্র্য বিমোচনে তাদের ভূমিকার জন্য দেশে-বিদেশে প্রচুর প্রশংসা পাচ্ছে। কিন্তু সেই এনজিওগুলোকে দেশের দৈব দুর্বিপাক অথবা হঠাৎ করে আসা কোনো জাতীয় সংকট এমন কি সম্ভাবনার ক্ষেত্রেও কোনো ইতিবাচক উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে দেখা যায়নি।

উপর্যুপরি বন্যা এবং তারপর আবারো সিডরাঘাতে বিপর্যস্ত খাদ্য পরিস্থিতির মধ্যে যখন বাংলাদেশের অনেক কৃষক হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে বাম্পার আলু ফলালো তখন এনজিওগুলো সেই আলুর বাম্পার সর্বোচ্চ লাভজনক সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে চোখে পড়ার মতো কোনো ভূমিকা রাখতে আমরা দেখিনি।

সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদ সেই আলু নিয়ে প্রচণ্ড উৎসাহ দেখালে আমাদের মতো কিছু অভদ্র, উন্ন্যাসিক সুশীল নাগরিক নিষ্ঠুর তামাশার মতো প্রতিক্রিয়ায় মেতে উঠেছিল। কেউ কৃষকের এ আলু যেন তার জীবনে কাল না হয় সেটা নিশ্চিত করতে কোনো উদ্যোগ তো নেনইনি, উল্টো আলু নিয়ে তীব্র রঙ্গরস করেছেন। সেনাপ্রধান সরকারের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে এবং দেশে তথাকথিত তীব্র খাদ্য সংকট চলার প্রচারণা থাকার প্রেক্ষাপটে আমাদের খাদ্যাভাসে বৈচিত্র্য আনা এবং একটু বেশি করে আলু খাওয়ার অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত কৃষকদরদী এবং দেশপ্রেমসুলভ আহ্বানও নিষ্ঠুর ও নির্মমভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে সরকার কথিত ব্যর্থতা আড়াল করার অপপ্রয়াস হিসেবে।

এসময় ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ অপরাপর এনজিও নেতৃবৃন্দ সকলেই যার যার সংগঠনের মাধ্যমে দেশের আলু উৎপাদন এলাকাগুলোতে আলু সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে দু’তিন মাসের জন্য যদি কৃষককের পাশে সুপরিকল্পনা নিয়ে দাঁড়াতেন তাহলে আলু চাষী সেই সফল কৃষকরা শুধু বিপদ থেকেই বেঁচে যেতেন না সামাজিক ও সরকারি সমর্থনে পরিপুষ্ট হয়ে আগামীতে আরো বেশি বেশি ফলনের জন্য কনফিডেন্টলি (আত্মবিশ্বাস নিয়ে) মাঠে নেমে পড়তে উৎসাহিত হতো।

ড. ইউনূসের মতো ব্যক্তিত্ব যদি একটু বেশি বেশি করে আলু খাওয়ার যৌক্তিকতা দেখিয়ে দেশের নির্দিষ্ট এলাকাগুলোতে ঘুরে ঘুরে ২/৩ দিন মানুষকে উদ্ধুদ্ধ করার জন্য কিংবা উদ্যোগী করার জন্য ঘুরে ঘুরে কাজ করতেন তাহলে আলুর অধিক উৎপাদন কৃষকের জন্য কাল হতো না এবং অনেক শ্রম, ঘাম ও অর্থ ব্যয়ে পাওয়া এই উৎপাদিত ফসল পচে পচে মানুষের সর্বনাশ হতো না।

আমি কখনোই বুঝতে পারিনি দেশের এরকম বিশেষ প্রয়োজনের সময়গুলোতে তারা দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ান না কেন? আজকের বিশ্বপুরুষ ড. ইউনূস বাংলাদেশের মানুষের অনেক কষ্টের টাকায় লালিত-পালিত বর্ধিত হয়েছেন। শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়ে দেশে দেশে ঘুরে বিদেশিদের নানা বিষয়ে উৎসাহ দেবেন আর বোঝাবেন কিন্তু নিজ দেশের সংকটকে বা দেশের প্রতি তার দায়িত্বকে আন্তর্জাতিক ভূমিকার ওপর অগ্রাধিকার দেবেন না, এটাতো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

বাংলাদেশের এনজিওগুলো দেশি অথবা বিদেশি তহবিল না পেলে নিজস্ব জনভিত্তি ও শক্তির ওপর ভরসা করে যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মানুষের জরুরি প্রয়োজনে সাড়া দিতে পারবেন না অথবা পাশে দাঁড়াতে পারবেন না, তাহলে তো বলতে হবে গোটা এনজিও সেক্টরের গোড়ায় বিরাট গলদ আছে। তাহলে তো বলতে হয়, তাদের তথাকথিত সৃজনশীলতা আসলে অন্যের সাহায্য নির্দেশনা নির্ভর। মোটেই হোম গ্রোন ও স্বতঃপ্রণোদিত বা স্বতঃস্ফূর্ত নয়।

বাংলাদেশের বিভিন্ন দৈব দুর্বিপাকে অর্থাৎ অভাব দুর্যোগ সংকটের সময় যেমন এনজিওরা অপরের মুখাপেক্ষী না হয়ে উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারে না, এখন দেখা যাচ্ছে অপরের মুখাপেক্ষী না হয়ে তারা ইতিবাচক এবং সম্ভাবনাময় কোনো উদ্ভূত পরিস্থিতিতেও দ্রুত সাড়া দিতে সক্ষম হন না। আলু নিয়ে এনজিওরা কেবল যে কৃষকের সাহায্যে আসতে পারতেন তা নয়, তারা চাইলে সৃজনশীল উদ্যোগে বিভিন্ন এলাকায় আলু সংগ্রহ ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে কৃষককে সংকট থেকে পরিত্রাণ দেয়ার পাশাপাশি নিজেদের সংগঠনের জন্যেও কিছু আয়ও করতে পারতেন।

বাংলাদেশের সুশীল সমাজ ও সাংবাদিকদের একটা বদ্ধমূল ধারণা মনের অগোচরে কথিত হয়ে আছে যে, জনকল্যাণের চিন্তা ও উদ্যোগ মূলত সরকারের দায়িত্ব। এ ধারণা যে কত স্বার্থপর ও নিষ্ঠুর সেটা যতদিন আমরা উপলব্ধি না করবো ততদিন সাধারণ মানুষের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করার স্বপ্ন পূরণ সুদূরপরাহতই থেকে যাবে।

Post new comment

CAPTCHA
Required to prevent spam.
Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla