Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

-A A +A

One down and the other to follow

একজন গেছেন, আরেক জনের পালা

সৈয়দ মাহ্মুদ জামান: বেশ কিছুদিন আগে এক রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেছিলেন, 'আমি জানতাম হাসিনা কখনোই শুনবেন না, আমি আসলে বুঝতে পারিনি উনি কানে শুনতেই পান না।' বিষয়টি ঠাট্টার ছলে বলা হলেও এখন সেটাই হযেছে হাসিনার মুক্তির মূল ইসু্য। কানের চিকিৎসার জন্য আওয়ামী নেত্রী শেখ হাসিনা মুক্তি পেয়েছেন।
১/১১ এর নতুন সরকার দেশের রাজনৈতিক ভুল শুধরানোর জন্য কাজ শুরু করার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে 'মাইনাস টু ফর্মুলা' বিষয়টি সামনে এসেছে। এখন আবারো বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। দেশ থেকে হাসিনার বিদায় আসলে প্রথম ধাপ, মূল বিষয়টি হলো 'একজন গিয়েছে, আরেক জনের পালা'। তবে যারা রাজনীতি সচেতন তারা জানেন, বিষয়টি অতো সহজ নয়।
বিশ্লেষকদের মনে প্রশ্ন উঠতেই পারে এ চলে যাওয়া বিদায় না পলায়ন হিসেবেই ধরা হবে। কারণ হাসিনাকে বিদেশ গমনের উদ্দেশ্য দেখানো হয়েছে তার কানের চিকিৎসা জন্য। তার কানে সমস্যা ছিল এটা পুরোনো কথা, কিন' সে চিকিৎসা দেশে সম্ভব নয় এটা অনেকেই মানতে নারাজ।
উপদেষ্টাদের মূল কথা মোটামুটি পরিস্কার। যে কোনো উপায়ে রাজনৈতিকদলগুলোকে সংলাপে এবং নির্বাচনে আনা। আর এক্ষেত্রে হাসিনাকে মুক্তি দিয়ে তাকে বিদেশ পাঠিয়ে দৃশ্য থেকে সরিয়ে দেয়াই ছিল মূল উদ্দেশ্য। হাসিনাকে মুক্ত করা, বিদেশ পাঠানোরজন্য কাগজপত্র তৈরি সব কিছু অত্যনত্দ দ্রুততার সঙ্গে করেছে বর্তমান সরকার।
দুর্নীতি দুরিকরণ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে ১/১১ এ ক্ষমতায় আসে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। 'আপোষ' বলে কিছু তারা শুনতে চাননি। অথচ এই শব্দটিই এখন তাদের কাজের মূল শব্দ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকার একটি রক্ষণাত্দক পথ অবলম্বন করছে এবং রাজনৈতিক দলগুলো এখন তাদের কথা বলবেন।
এখন আওয়ামী লীগকে যেই পরিচালিত করুক না কেন তার মূল চাবিকাঠি থাকবে শেখ হাসিনার হাতে। এবং এখন তার ছেলে সজীব উঠে আসবেন। এখন পর্যনত্দ তাকে তেমন কোনো কথা বলতে শোনা যায় নি। সম্ভবত তিনি এমনই একটি সময়ের জন্য অপেক্ষা করছিলেন।
হাসিনার দেশ ত্যাগ এবং খালেদ জিয়ার বিদেশ যাওয়ার প্রস'তি নিয়ে অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেছন, 'একজন গিয়েছে, আরেক জনের পালা'। কিন' আসলেই কি হাসিনা 'গিয়েছেন' আর খালেদা 'যাচ্ছেন'? আপাতত সরকার এভাবেই চিনত্দা করতে চায়। হাসিনা কি ভাবছেন তা চিনত্দার বিষয় নয়। সরকারের নিজস্ব কিছু চিনত্দাধারা রয়েছে, সহজে তাকে তার পথ থেকে সরানো সম্ভব হবে না।
কয়েকজন বিশ্লেষক আবার বিষয়টিকে দেখছেন অন্য দিক থেকে। ১/১১-এর পর আওয়ামী লীগের ওপর তেমন আঘাত আসেনি। হাসিনার জন্য ছিল শুধু ঘর বদল। সুধাসদন থেকে শেরে বাংলা নগরের সাব জেল। যদিও তার দলের ওপর আঘাত এসেছে তারপরও তার ঘর ছিল সম্পূর্ণ সুরক্ষিত। আর তাই এ সরকারের পতি তার নিজস্ব কোনো ক্ষোভ বা ঘৃণা নেই
খালেদা জিয়ার জন্য বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তার দল এবং ঘর দুটাই আঘাতপ্রাপ্ত। দুই ছেলে কারাগারে। তাদের শারিরীক অবস্থা দিন দিন অবনতি হচ্ছে। দল ভেঙেছে এবং খুব কাছের সহযোগীরাও একের পর এক বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। যেখানে হাসিনা তার মেয়ের কাছে উড়ে যেতে পারেন, খালেদার তেমন কোনো স্থান নেই। তার দু ছেলেই তার সম্বল। এ ধরনের পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সমঝোতা করা একটু কষ্টকর। তিনি তার নীতিতে অটল রয়েছে। বিদেশে চিকিৎসার জন্য যেতে রাজি নন। দেশের মাটিতেই চিকিৎসা চান। সরকারের শরীরে আপাতত তিনি একটি বড় কাঁটা হয়ে বিধে রয়েছেন। তার দলের নেতারা তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করলেও সমর্থক ও কমর্ীরা এখনও তার প্রতি আগের মতোই বিশ্বসত্দ।
তবে খালেদা জিয়া শুধু নেত্রী নন একজন মাও। তিনি তার দু ছেলেকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠাতে চান এমনকি নিজে দেশে থাকলেও। সরকার তার সঙ্গে সমঝোতায় আসতে চাক না কেন তিনি বিদেশে যাচ্ছেন না। তিনি তার আদর্শচু্যত হবেন না। এক্ষেত্রে সরকার নরম হতে পারে এবং তার দুই ছেলেকে বিদেশ পাঠাতে রাজি হতে পারে। কারণ তাদের আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে কিছুটা হলেও সমতা রাখতে হবে নইলে তাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠতে পারে।
সব শেষে, সব কিছুর কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে দেশের জনগণ। তারাই সবকিছু নিয়ন্ত্রন করবেন। তারা দেশের ভবিষ্যত ঠিক করে দেবেন।
ইংরেজি সাপ্তাহিক 'প্রোব'-এর চলতি সংখ্যায় প্রকাশিত প্রতিবেদন 'ওয়ান ডাউন, ওয়ন টু গো?' অবলম্বনে
সম্পাদনা: দুলাল আহমদ চৌধুরী

Post new comment

CAPTCHA
Required to prevent spam.
Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla