Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

They are our leaders!!!!

এঁরাই আমাদের "জাতীয় নেতা"! - মতিউর রহমান
June 12, 2008 - 12:08pm BDT | Posted by editor

আজকাল পত্রিকায় ও টেলিভিশনের খবরে একজন "জাতীয় নেতা"র সরব কন্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে প্রতিদিন। বক্তৃতা-বিবৃতিতে ভাবখানা এমন, তিনি যেন "জাতির কন্ঠস্বর"! তিনি হলেন বেগম খালেদা জিয়ার মনোনীত বিএনপির মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন। তিনি এখন বিএনপির স্বীকৃত প্রধান নেতা। প্রায় প্রতিদিনই দেশ-জাতির উদ্দেশে বক্তৃতা দিচ্ছেন। আর তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য তাঁর বাসায় গিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীরা লাইন দিচ্ছেন প্রতিদিন। আমরা নিকট-অতীতে গিয়ে এই "জাতীয় নেতা"র কর্মকান্ডের কিছু চিত্র খুঁজে দেখতে পারি।

১.
২০০৬ সালের ১৩ মার্চ প্রথম আলোর এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বিগত চারদলীয় জোট সরকারের চিফ হুইপ খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের বাসার চাল-ডাল থেকে শুরু করে প্রায় সব ধরনের বাজার যেত জাতীয় সংসদ ভবনের ভিআইপি ক্যাফেটেরিয়া থেকে। এমনকি বাসায় অতিথি আপ্যায়নের জন্য নগদ টাকাও নিয়েছেন সেখান থেকে। জোট সরকারের প্রথম সাড়ে চার বছর প্রায় প্রতি মাসে চিফ হুইপের কার্যালয় থেকে তাঁর ব্যক্তিগত সহকারীর সই করা বাজারের বিশাল দুটি ফর্দ আসত ক্যান্টিনের ব্যবস্থাপকের হাতে। একই দিনে দুটি বাসার জন্য দুটি বাজারের তালিকাও পাঠাতেন চিফ হুইপ। আলাদা ব্যবস্থায় পৃথক দুই বাসায় এসব বাজার যেত, যার একটি তাঁর নিজের বাসা; আরেকটি ফর্দের বাজার যে বাসায় যেত, সেই ঠিকানাটি প্রথম আলোর ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি, যদিও এ সম্পর্কে তথ্য জানা ছিল।

পাঠকের জ্ঞাতার্থে এখানে ২০০৫ সালের ১৪ এপ্রিল পাঠানো দুটি ফর্দ নমুনা হিসেবে উল্লেখ করা হলো। একটিতে আড়াই মণ কাটারিভোগ চাল, ৩০ কেজি পোলাওয়ের চাল, ৩০ কেজি আটা, ৩৫ লিটার সয়াবিন তেল, তিন কেজি ঘি, ১৫ কেজি মসুর ডাল, সাড়ে সাত কেজি বুটের ডাল, সাড়ে সাত কেজি মুগের ডাল, ১৫ কেজি পেঁয়াজ, সাড়ে সাত কেজি রসুন, সাত কেজি আদা, ১৫ কেজি চিনি, পাঁচ কেজি সুজি, ১৪ কেজি চিঁড়া-মুড়ি, পাঁচ কেজি চানাচুর, ১৬ প্যাকেট নুডলস, ডানো বড় তিনটি, ট্যাং (শরবত) বড় দুটি, ওভালটিন দুটি, মালটোভা দুটি, আমের আচার তিনটি, তিনটি করে আপেল এবং কমলার জুস, সাত কৌটা দুধ (কনডেন্সড), টোস্ট বিস্কুট ছয় কেজি, ডাইজেস্টিভ বিস্কুট এক কার্টন, ডায়াবেটিক সুগার (বড়) একটি, চা-পাতি পাঁচ প্যাকেট, কেচাপ (টমেটো ও চিলি) ছয়টি, ডায়েট স্প্রাইট, পেপসি, কোক নয়টি, জিরা আধা কেজি, গরম মসলাসহ ৩৭ রকমের মাল পাঠানো হয়। অন্য বাসার ঠিকানায় একই দিনের আরেক ফর্দে ৩০ কেজি কাটারিভোগ চালসহ প্রায় একই ধরনের ২৭ রকমের পণ্যদ্রব্য পাঠানো হয়।
জাতীয় সংসদের ইতিহাসে কোনো দায়িত্বশীল নেতার বাসায় আপ্যায়নের জন্য সংসদ থেকে চাল-ডাল নেওয়ার কথা আমরা আগে কখনো শুনিনি।
সংসদের এক হিসাবে দেখা গেছে, ২০০৪-০৫ অর্থবছরে চিফ হুইপ ও হুইপদের জন্য বছরে আপ্যায়ন ভাতা বরাদ্দ ছিল প্রায় ২৭ লাখ টাকা। এর অর্ধেকই খরচ করেছেন খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন বাজার খরচ বাবদ। এর পরের অর্থবছরের (২০০৫-০৬) প্রথম আট মাস পর্যন্ত তিনি একাই আপ্যায়ন ভাতা নিয়েছেন আট লাখ টাকার বেশি।

এ সংক্রান্ত খবরটি প্রথম আলোয় প্রকাশের পরদিন খোন্দকার দেলোয়ার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আপ্যায়নের জন্য চাল-ডাল, টাকা নিয়ে তিনি কোনো অন্যায় করেননি। সংসদের ক্যাফেটেরিয়া থেকে নগদ টাকা নেওয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, জিনিসপত্রের দাম বেশি থাকায় আমি অনেক সময় তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা নিই। পরে সেই টাকা দিয়ে বাইরে থেকে মালামাল কিনি।

খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন ওই খবরের লিখিত প্রতিবাদ করেছিলেন। সেটা আমরা ছেপেও ছিলাম। এরপর তিনি প্রথম আলোর সম্পাদক, প্রকাশক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খানকে আসামি করে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মানহানির মামলা করেন। এম হাফিজউদ্দিন খান চিফ হুইপের বাজার নিয়ে একটি উপসম্পাদকীয় লিখেছিলেন বলে তাঁকে আসামি করা হয়। সব আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হয়। আদালত থেকে আমাদের জামিন নিতে হয়। বেশ কয়েকবার আদালতে হাজিরা দিতে হয়েছে। অবশ্য এ সংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণ হাজির ও দুই পক্ষের আইনজীবীদের সওয়াল-জবাবের পর ওই বছরের ৫ নভেম্বর খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন অভিযুক্তদের উপস্থিতিতে মাননীয় আদালত রায় দিয়ে মামলাটি সরাসরি বাতিল করে দেন। অর্থাৎ আদালতের রায়ে প্রমাণিত হয়েছে প্রথম আলোর প্রতিবেদন সঠিক ছিল।

২.
এটা তো "মাননীয়" চিফ হুইপ ও বিএনপির বর্তমান প্রধান নেতার লোভের সামান্য নমুনা। খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের "গুণধর" পুত্রদের "কীর্তি"ও কম নয়। জোট সরকারের প্রায় পুরোটা সময় তাঁর দুই পুত্র পবন ও ডাবলু ছিলেন বহুল আলোচিত। গত ৩১ মার্চ ঢাকার মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনালে একটি অস্ত্র মামলার রায়ে ছোট ছেলে পবন ও তাঁর চার সহযোগীর ১৭ বছর করে সশ্রম কারাদন্ড হয়েছে। এ রায় শুনে ওই দিন আদালতে পবন উত্তেজিত হয়ে বিচারককে উদ্দেশ করে গালিগালাজ করেন।

খোন্দকার দেলোয়ারের প্রশ্রয়ে বেপরোয়া হয়ে ওঠা দুই ছেলে পবন ও ডাবলু বেশ আলোচিত ছিলেন রাজধানীর হাতিরপুলে মোতালিব প্লাজায় দখল, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে। এসব কারণে পবন-ডাবলুর বিরুদ্ধে তখন দ্রুত বিচার আইনে চারটি মামলাও হয়।
এ ছাড়া পবন বাহিনীর সন্ত্রাস, চাঁদাবাজিতে পুরান ঢাকার আরমানিটোলা ও মিটফোর্ড এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ ছিল অতিষ্ঠ। তাঁরা ওই এলাকায় নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলে চাঁদাবাজি, মাদকব্যবসাসহ অপরাধজগৎ নিয়ন্ত্রণ করতেন। চিফ হুইপের ছেলে হওয়ায় তখন পুলিশও তাঁদের সমীহ করে চলত। ওই এলাকায় গোলাগুলি করার দায়ে ২০০৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পবন গ্রেপ্তার হন। তিনি সর্বশেষ গ্রেপ্তার হন ২০০৬ সালের ৭ জুন একটি চোরাই গাড়িসহ। আগের বছর মতিঝিলে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অস্ত্রের মুখে গাড়িটি ছিনতাই করে নম্বরপ্লেট বদল করে পবন চালাচ্ছিলেন।

শুধু ঢাকায়ই নয়, খোন্দকার দেলোয়ারের পরিবার নিজ জেলা মানিকগঞ্জেও সন্ত্রাস ও দখলের মাধ্যমে নানা "কীর্তি"র স্বাক্ষর রেখেছে। খোন্দকার দেলোয়ার, তাঁর স্ত্রী বেগম সাহেরা হোসেন ও ছোট ছেলে পবন উপস্থিত থেকে ২০০২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি শিবালয় থানার মহাদেবপুর বাজারে ব্যক্তিমালিকানাধীন ও সরকারি খাসজমিতে নির্মিত বিভিন্ন মানুষের ৩১টি চালু দোকান উচ্ছেদ করেন এবং ৩০ শতাংশ জমি দখল করে নেন। (সুত্র: প্রথম আলো, ১ মার্চ ২০০২)
ওই জেলার ঘিওর-শিবালয় উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল পবনের বাহিনীর চাঁদাবাজি। তাদের চাঁদাবাজির ব্যাপকতা সম্পর্কে শিবালয়ের তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুল কাশেম প্রথম আলোকে বলেছিলেন, "সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে নিয়মিত চাঁদা চাওয়া হচ্ছে; সেখানে সাধারণ মানুষের অবস্থা কী পর্যায়ে, বুঝতে কষ্ট হয় না। ...অদৃশ্য শক্তি সবার মুখে কুলুপ এঁটে রেখেছে। আমরা কী করব?" (প্রথম আলো, ২ মার্চ ২০০২)। পবনের বিরুদ্ধে হত্যার হুমকি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের জেলা কমান্ডার গোলাম মহিয়ার খান সিপার ২০০৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছিলেন।

বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা থেকে খোন্দকার দেলোয়ার ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নানা সন্ত্রাসী ও অন্য কর্মকান্ড সম্পর্কে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অবহিত করা হয়েছিল। তখন খালেদা জিয়া চিফ হুইপকে বাদ রেখে সন্ত্রাসীপুত্রদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে বলেছিলেন বলে জানা গেছে।

৩.
গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গ্রেপ্তার হওয়ার পরপর আদালত চত্বর থেকে দলের মহাসচিব পদ থেকে আবদুল মান্নান ভুঁইয়াকে বহিষ্ককার এবং খোন্দকার দেলোয়ারকে নতুন মহাসচিব নিযুক্তির ঘোষণা দেন। এ প্রসঙ্গে খোন্দকার দেলোয়ার বলেছেন, "বায়ুমন্ডলে যেমন শুন্যতা থাকে না, তেমনি রাজনৈতিক অঙ্গনেও শুন্যতা থাকে না। বিএনপিতেও নেই। এখানে কেউ মারা গেলে বা বহিষ্ককৃত হলেও শুন্যতা হবে না।" (সুত্র: ইত্তেফাক, ৬ সেপ্টেম্বর ২০০৭)। এর পর থেকে বিএনপির একাংশের এই নেতা গণমাধ্যমে "গরম" বক্তৃতা ও দেশ-জাতিকে গণতন্ত্রের সবক দিয়ে যাচ্ছেন।

৪.
বিএনপির আরেক অংশের নেতা, সংস্কারপন্থী বলে পরিচিত এবং তথাকথিত স্থায়ী কমিটির মনোনীত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন সাইফুর রহমানের দশাও খোন্দকার দেলোয়ারের চেয়ে খুব একটা ভালো নয়। সাইফুরের বড় ছেলে নাসের রহমান ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা হয়েছে। এর মধ্যে নাসের রহমানের দুটি মামলায় সাজা হয়েছে। তিনি এখন জেলে; তাঁর স্ত্রী জামিনে মুক্তি পান। সাইফুর রহমানের আরেক ছেলে শফিউর রহমান বাবু পলাতক। বাবু ও তাঁর বোন সাইফার স্বামী আমের সিদ্দিকীর বিরুদ্ধেও দুর্নীতির মামলা রয়েছে।

সাইফুরের "গুণধর" পুত্র-কন্যাদের চাঁদাবাজি, উন্নয়নকাজের দরপত্র ছিনিয়ে নেওয়া, "তদবির" ও "কমিশন-বাণিজ্যে"র কথা এখন আর লুকোছাপা নেই। শুধু তা-ই নয়, ছেলে শফিউর রহমান বাবু ও জামাতা আমের সিদ্দিকী চোরাচালানেও জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। তাঁরা মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চোরাচালানের পণ্য আনতেন, সেটা বিগত জোট সরকারের আমলে সিআইডির এক তদন্তে ধরাও পড়েছিল। সিআইডির কর্মকর্তারা জানান, তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০০৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত অর্থমন্ত্রীর ছেলে ও জামাতার প্রতিষ্ঠানের আমদানি করা ২৩ কনটেইনার পণ্য ছাড় করা হয়, যার প্রতিটি চালানেই চোরাই পণ্য ছিল। শুল্ক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে আমদানি করা এসব পণ্য কোনো রকম বাধা ছাড়াই কমলাপুর আইসিডি থেকে খালাস করা হয়। অর্থমন্ত্রীর ভয়ে কেউ কিছু বলার সাহস পায়নি তখন, যা ১১ জানুয়ারির পরিবর্তনের পর ফাঁস হয়। (সুত্র: প্রথম আলো, ২৩ জুন ২০০৭ ও ইত্তেফাক, ২৫ জুন ২০০৭)। এখন তো সাবেক অর্থমন্ত্রীর জামাতা ও পুত্রদের বিপুল ও বেপরোয়া দুর্নীতির বিষয়টি দিবালোকের মতো পরিষ্ককার।

এই সাইফুর রহমানই প্রথমে সংস্কারপন্থী ও পরে হঠাৎ "বিপ্লবী" হয়ে ওঠেন। খোন্দকার দেলোয়ারপন্থীরা খালেদা জিয়াকে না ছাড়লে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেওয়ার পর গত ২৫ এপ্রিল সাইফুর রহমান বলেন, খালেদা জিয়া নির্বাচনে না গেলে আমরা হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারি না। কোনো ব্যক্তির জন্য নির্বাচন বা উন্নয়ন থেমে থাকতে পারে না।" (ইত্তেফাক, ২৬ এপ্রিল ২০০৮)। এই "মহান" নেতাই কদিন পর ভিন্ন কথা বলেন। গ্যাটকো মামলার অভিযোগপত্র দাখিলের দুই দিন আগে গত ৮ মে তাঁর নিজের নেতৃত্বাধীন কথিত সংস্কারপন্থীদের আক্রমণ করে গণমাধ্যমে বক্তৃতা দেন। তিনি বলেন, "বেগম জিয়া নিজেই বড় এক সংস্কারের উদাহরণ। ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় তিনি অনেক সংস্কার করেছেন।" তিনি আরও বলেন, আজকে যাঁরা সংস্কারপন্থী, তাঁদের অনেকে বেগম জিয়ার প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় উন্নয়নকাজে বাধা দিতেন। এই বক্তৃতার পর কিছু পত্রিকায় লেখালেখিতে তাঁকেও "মহান" নেতা বানানোর চেষ্টা চলে। অথচ চারদলীয় জোট সরকারের আমলেই অনেক মন্ত্রী বলতেন, বিভিন্ন বড় ধরনের উদ্যোগ বা পরিবর্তনে অর্থমন্ত্রীই ছিলেন বড় বাধা।
গ্যাটকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগপত্র দেওয়ার আগের দিন সাইফুর রহমান চিকিৎসার উদ্দেশ্যে সিঙ্গাপুর যান। তিনি এই মামলার আসামিও। তিনি বর্তমানে মালয়েশিয়ায় ছোট ছেলে শফিউর রহমান বাবুর (দুর্নীতির মামলায় পলাতক আসামি) সঙ্গে একই ফ্ল্যাটে আছেন বলে বিশ্বস্ত সুত্রে জানা গেছে।

৫.
বিশ্বব্যাংকের সাবেক এক ভাইস প্রেসিডেন্ট ঢাকায় প্রথম সফরে এসেই খুব আশাবাদী হয়ে বলেছিলেন, অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানকে তিনি পিতার মতো মনে করেন। তাঁকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে। কয়েকবার ঢাকা আসা-যাওয়ার পর "পিতার মতো" অর্থমন্ত্রী ও তাঁর সন্তানদের কর্মকান্ড জেনে তিনি গভীরভাবে ব্যথিত হয়েছিলেন। তা তিনি সাইফুর রহমানকেও বলেছিলেন। বিশ্বব্যাংকের ওই কর্মকর্তার অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণ করতে তাঁকে সাইফুর রহমান বাসায় নিয়ে সন্তানদের সঙ্গে পরিচয় ও আলোচনার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। কিন্তু এত সব করেও সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্টের মত বদলানো যায়নি।

বিশ্বব্যাংকের সেই ভাইস প্রেসিডেন্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর বড় ছেলে তারেক রহমানের বহুমুখী দুর্নীতির কথাও বলেছিলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী সেদিন তাঁর ছেলের পক্ষে অনেক সাফাই গেয়েছিলেন। বলেছিলেন, এসব মিথ্যা প্রচার। কিন্তু সেই ভাইস প্রেসিডেন্ট তাঁর কথা বিশ্বাস করেননি। বিভিন্ন সময়ে ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় বিশ্বব্যাংকের এই সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে আমরা এসব কথা জেনেছিলাম।
শুধু তাই নয়, যে সাইফুর রহমান অর্থমন্ত্রী থাকাকালে কালো টাকার বিরুদ্ধে সবচেয়ে সরব ছিলেন, সেই তিনিই বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বিশেষ সুযোগ দেওয়ার পর কালো টাকা সাদা করেছেন।
এ-ই তো আমাদের নেতা-নেত্রীর চেহারা। তা দেশ-বিদেশে কারও অজানা নেই। এখন বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তাঁর শাসনামলকে "স্বর্ণযুগ" বলছেন! অথচ তাঁর শাসনামলে পর পর চারবার বাংলাদেশ শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি পেয়েছিল।

৬.
দেশের দুই প্রধান দলের একটি বিএনপি। এর দুই অংশের এখনকার দুই শীর্ষ নেতার এই হচ্ছে দশা। এত কিছুর পরও এই নেতারাই আমাদের রাজনীতির কর্ণধার, ভবিষ্যতে হয়তো তাঁরাই আবার দেশ চালাবেন, সেই রকমই প্রস্তুতি।

কারও আঙ্গুলে বা হাতে যদি ক্যান্সার হয়, তাহলে হাত কেটে রক্ষা পাওয়া যায়। আর পাকস্থলী বা ফুসফুসে যদি ক্যান্সার হয়, সেটা মেনে নিয়ে নির্মম কষ্টের মধ্য দিয়ে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করাটা নিয়তি হয়ে দাঁড়ায়। ঠিক তেমনিভাবে দুর্বৃত্তায়ন, ক্ষমতায় গিয়ে নিজে দুর্নীতি করা বা সন্তানদের দুর্নীতিতে সায় দেওয়া এবং কোনো না কোনোভাবে আবার ক্ষমতায় ফিরে আসা−ভয়াবহ ক্যান্সারের মতো বাংলাদেশের রাজনীতির এই অসুখ চলছে দশকের পর দশক ধরে।

মতিউর রহমান: সম্পাদক, প্রথম আলো।

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla