Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

A Cunning Fox is jumping over the edge...

হাসিনার বিদেশে যাওয়া প্রায় নিশ্চিত ॥ সন্ধ্যায় বিশেষ আদালত: মামলা চলাকালে আসামির সশরীরে

প্রথম আলো: সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া এখন অনেকটাই নিশ্চিত। তবে অপর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিদেশে যেতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাঁর ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর বিদেশে যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

গতকাল রোববার আদালতে শেখ হাসিনা চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে সম্মতি জানালেও বেগম খালেদা জিয়া সরাসরি অস্বীকৃতি জানান। এদিকে শেখ হাসিনার পাসপোর্ট আদালতের নির্দেশে জব্দ রয়েছে। আগামী ১২ জুন এ বিষয়ে আদালতে শুনানির কথা রয়েছে। আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শেখ হাসিনাকে বিদেশে যেতে ওই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে কথা বলে ধারণা করা যায়, রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমেই তাঁর মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। এখন শেখ হাসিনা বিদেশে গেলেই তাঁর দল সংলাপে অংশ নেবে এবং এর পরই পুরোদমে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু হবে।

সন্ধ্যায় আদালত: বিদেশে যাওয়ার পথে বাধা দুর করতে গতকাল সন্ধ্যায় তড়িঘড়ি করে বিশেষ আদালত বসে। বিশেষ আদালত-১-এ ভাসমান বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে দুর্নীতির মামলা চলাকালে শেখ হাসিনার সশরীরে হাজিরা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করা হয়। ফৌজদারি কার্যবিধি ৫৪০(এ) ধারায় আদালত এ আবেদন গ্রহণ করে সরকারপক্ষের বক্তব্য জানতে চান। সরকারপক্ষের আইনজীবীরা এতে আপত্তি না দেওয়ায় বিচারক এ বিষয়ে আজ সোমবার সকালে আদেশ দেবেন বলে জানানো হয়।

এর আগে মামলার বিচারকাজ স্থগিত রাখার আবেদনও জানানো হয়। হাসিনার পক্ষে করা আবেদনে বলা হয়, আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা অসুস্থ। ইতিমধ্যে তাঁর চিকিৎসার জন্য সরকারের গঠিত মেডিকেল বোর্ড বিদেশে গিয়ে তাঁর চিকিৎসা নিতে বলেছে। এ জন্য হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার কার্যক্রম স্থগিত করা প্রয়োজন। আদালত মামলার কার্যক্রম স্থগিতসংক্রান্ত আবেদনটি গ্রহণ করেননি। এর আগে দুপুরের পর আকস্মিকভাবে শেখ হাসিনার তিন আইনজীবী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, সাহারা খাতুন ও ফজলে নুর তাপস বিশেষ আদালতে শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রায় আধা ঘণ্টা তাঁরা শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বিকেলে বিশেষ আদালত-১-এ এসে তাঁর পক্ষে আবেদন করেন। এ সময় সরকারপক্ষের আইনজীবী শহীদুল ইসলাম সরকারও আদালতে আসেন। তিনি এ আবেদনের বিরোধিতা করেননি।

বিচারক মো. ফিরোজ আলম শেখ হাসিনার আইনজীবীদের আবেদন গ্রহণ করেন। আজ সোমবার সকাল সাড়ে নয়টায় এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেওয়ার কথা উপস্থিত সাংবাদিকদের জানানো হয়।

শেখ হাসিনার আইনজীবীরা নাইকো দুর্নীতি মামলায় আদালতে গিয়ে একই আবেদন জানানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু এ আদালতের বিচারক অফিস ত্যাগ করায় শুনানি হতে পারেনি।

ব্রিফিং:
সন্ধ্যার পর শেখ হাসিনার আইনজীবীরা সংসদ ভবনের খেজুর বাগান গেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, শেখ হাসিনার জন্য সরকার উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছে। ওই বোর্ড ইতিমধ্যে চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। সে পরিপ্রেক্ষিতেই এ আবেদন করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শফিক আহমেদ বলেন, শেখ হাসিনার বিদেশে চিকিৎসার বিষয়টি সরকার সহানুভুতির সঙ্গে বিবেচনা করছে। নাইকো মামলা সম্পর্কে জানতে চাইলে জনাব শফিক বলেন, এ মামলায় তাঁর জামিনের প্রয়োজন নেই। সরকারের নির্বাহী আদেশে তিনি মুক্তি পেতে পারবেন। শেখ হাসিনার এ বিদেশে যাওয়ার প্রক্রিয়া রাজনৈতিক সমঝোতার ফল কি না, জানতে চাইলে শফিক আহমেদ বলেন, "আমরা আইনগতভাবে সবকিছু মোকাবিলা করছি। রাজনৈতিক সমঝোতা করার দায়িত্ব আমাদের নয়।"

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তৎপরতা: গতকাল সকাল থেকে রাত আটটা পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শেখ হাসিনা ও কোকোর সাময়িক মুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া শেষ করে। যেকোনো মুহুর্তে তাঁদের সাময়িক মুক্তির আদেশ জারি হতে পারে−এই সম্ভাবনা প্রবল থাকায় রাত অবধি সংবাদকর্মীরা ভিড় করেন সেখানে।

সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, আওয়ামী লীগের সভানেত্রীকে কোন প্রক্রিয়ায় মুক্তি দেওয়া হবে, তা নিয়ে শেষ মুহুর্তে নীতিনির্ধারক মহলে আলোচনা চলছে। যদি আদালতের মাধ্যমে জামিন পেয়ে শেখ হাসিনা বিদেশে যান, তাহলে সরকারের খুব বেশি ভুমিকা রাখার প্রয়োজন হবে না বলে কেউ কেউ মত দিয়েছেন। আবার জামিনের দীর্ঘ প্রক্রিয়া বাদ দিয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির সংশ্লিষ্ট ধারার সুযোগ নিয়ে সাময়িক মুক্তির আদেশ দেওয়ার পক্ষেও বলেছেন কেউ কেউ।

বিশেষ কারাগারে নিরাপত্তা:
সন্ধ্যায় দ্বিতীয় দফা আদালত বসার পর শেখ হাসিনার বিদেশে যাওয়ার খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর সংবাদকর্মী ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা সেখানে ভিড় করেন। রাত সাড়ে আটটার দিকে ওই এলাকায় হঠাৎ পুলিশের উপস্িথতি বাড়ানো হয়। দুই বাসভর্তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়। শেখ হাসিনা যে গাড়িতে করে আদালতে যাতায়াত করেন, সেই গাড়িটিও এনে রাখা হয়। শেখ হাসিনা মুক্তি পাচ্ছেন শুনে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ধানমন্ডির সুধা সদনে ভিড় করেন। রাতে শেখ হাসিনার ফুফু ও ফুফাতো বোন বিশেষ কারাগারে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। প্রায় সোয়া ঘণ্টা সাক্ষাৎ শেষে তাঁরা বেরিয়ে যাওয়ার সময় সংবাদকর্মীদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি।

ভাসমান বিদ্যুৎকেন্দ্র মামলা
সুপ্রিম কোর্ট প্রতিবেদক জানান, চিকিৎসার জন্য শেখ হাসিনা বিদেশে যাবেন। গতকাল রোববার ভাসমান বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে দুর্নীতির মামলার শুনানি শেষে আইনজীবীদের মাধ্যমে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

মামলার শুনানি শেষে শেখ হাসিনার আইনজীবী আবদুল মান্নান খান সাংবাদিকদের বলেন, শেখ হাসিনা গুরুতর অসুস্থ। তাঁর কানে ব্যবহার করা শ্রবণযন্ত্র ইতিমধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। সেটি এখন আর কাজ করছে না। ফলে শেখ হাসিনা কানে শুনছেন না। তাঁর বাঁ চোখ দিয়ে সব সময় পানি ঝরছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনার আইনজীবীরা বলেন, চিকিৎসা করার জন্য শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন।

এর আগে গতকাল সকালে শেখ হাসিনাকে সংসদ ভবনের বিশেষ জজ আদালত-১-এ হাজির করা হয়। এ সময় সাবেক সচিব ড. তৌফিক-ই-ইলাহীকেও হাজির করা হয়। ভাসমান বিদ্যুৎকেন্দ্র মামলায় গতকাল তিনজন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়। পরে বিচারক ফিরোজ আলম আগামী ১২ জুন পর্যন্ত মামলার শুনানি মুলতবি রাখার আদেশ দেন। গতকাল পর্যন্ত এ মামলায় ছয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া শেষ হয়।

গতকাল সকালে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক এনামুল হককে শেখ হাসিনার পক্ষের আইনজীবীরা জেরা করেন। জেরার জবাবে এনামুল হক বলেন, তাঁর দপ্তর থেকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একজন উপপরিচালক ২৯ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ দলিল মামলার তদন্ত চলাকালে জব্দ করেন। তবে ২৯টি দলিলের বর্ণনা তিনি দিতে পারেননি। এমনকি জেরায় তিনি কী কী আলামত জব্দ করেছেন বা কত পৃষ্ঠার আলামত জব্দ করেছেন, তাও বলতে পারেননি।

আইনজীবীদের জেরার জবাবে এনামুল হক বলেন, যেসব আলামত জব্দ করা হয়েছে, তা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ দলিল বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন দপ্তরে থাকে, নাকি একই স্থানে সংরক্ষণ করা হয়, সে সম্পর্কে তাঁর ধারণা নেই বলে সাক্ষী আদালতকে জানান। কিছুক্ষণ পরে আরেক প্রশ্নের জবাবে সাক্ষী বলেন, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংরক্ষণের জন্য আলাদা একটি দপ্তর রয়েছে। তবে এই সাক্ষী আলামতগুলো জব্দ করার আগে তা কোথায় ছিল, সে সম্পর্কে করা প্রশ্নের জবাব দিতে পারেননি। বলেছেন, হালিম নামের এক কর্মকর্তা এগুলো উপস্থাপন করেছেন।

এরপর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নিম্নমান সহকারী নুরুন্নাহার ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের কম্পিউটার অপারেটর মোতালেব হোসেন সাক্ষ্য দেন। শেখ হাসিনার পক্ষের আইনজীবীরা তাঁদের জেরা করেন।

নুরুন্নাহারকে রাষ্ট্রপক্ষ টেন্ডার ঘোষণা করেন (আগের সাক্ষীর হুবহু বক্তব্য)। আসামিপক্ষে তাঁকে জেরা করা হয়নি। অপরদিকে মোতালেব হোসেন বলেন, তাঁর সামনে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দলিল জব্দ করেছেন। তবে জেরার জবাবে তিনি কতগুলো বা কী কী আলামত জব্দ করা হয়েছে, তা বলতে পারেননি।

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla